ভগবদ্গীতা ১১.২৯ — বিশ্বরূপে মৃত্যুর অনিবার্য আকর্ষণ
যথা প্রদীপ্তং জ্বলনং পতঙ্গা
বিশন্তি নাশায় সমৃদ্ধবেগাঃ।
তথৈব নাশায় বিশন্তি লোকা-
স্তবাপি বক্ত্রাণি সমৃদ্ধবেগাঃ।। ১১.২৯।।
অনুবাদঃ পতঙ্গগণ যেমন দ্রুত গতিতে ধাবিত হয়ে মরণের জন্য জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করে, তেমনই এই লোকেরাও মৃত্যুর জন্য অতি বেগে তোমার মুখবিবরে প্রবেশ করছে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায়ের ঊনত্রিশতম শ্লোকে অর্জুনের সামনে প্রকাশিত বিশ্বরূপের এক গভীর ও ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। কৃষ্ণের বিশ্বরূপ দর্শন করতে করতে অর্জুন দেখছেন যে কুরুক্ষেত্রের অসংখ্য যোদ্ধা প্রবল বেগে কৃষ্ণের অগ্নিময় মুখসমূহের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সেই দৃশ্যকে কৃষ্ণের বিশ্বরূপের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, যেমন প্রদীপ্ত জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে পতঙ্গেরা নিজেদের বিনাশের জন্য প্রবল বেগে প্রবেশ করে, তেমনই এই সকল লোকও প্রবল বেগে কৃষ্ণের মুখসমূহে প্রবেশ করছে। এই একটি উপমার মধ্যে মৃত্যু, কাল, নিয়তি, মানবীয় আকর্ষণ, অজ্ঞতা, অহংকার এবং বিশ্বজগতের অনিবার্য পরিবর্তনের এক গভীর দর্শন একত্রিত হয়েছে।
শ্লোকটির শুরুতেই রয়েছে প্রদীপ্তং জ্বলনং। প্রদীপ্ত শব্দটি সংস্কৃত দীপ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। দীপ্ ধাতুর মধ্যে জ্বলা, দীপ্ত হওয়া এবং আলো ছড়ানোর ভাব রয়েছে। এর সঙ্গে প্র উপসর্গ যুক্ত হয়ে প্রদীপ্ত শব্দে তীব্রতা ও প্রবলতার ভাব সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রদীপ্ত বলতে সাধারণভাবে জ্বলন্ত নয়, বরং বিশেষভাবে প্রজ্বলিত, অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তীব্রভাবে জ্বলছে এমন কিছু বোঝায়। জ্বলনং শব্দটি জ্বল্ ধাতু থেকে এসেছে এবং এর মধ্যে জ্বলা, দহন করা ও উত্তাপ সৃষ্টি করার ভাব রয়েছে। তাই প্রদীপ্ত জ্বলনং বলতে এমন এক অগ্নিকে বোঝানো হয়েছে যা কেবল আলো দেয় না, বরং যার মধ্যে প্রবল দহনশক্তিও রয়েছে। কৃষ্ণের বিশ্বরূপের মুখসমূহকে এই প্রদীপ্ত অগ্নির সঙ্গে তুলনা করার ফলে বিশ্বরূপের মধ্যে সৃষ্টির পাশাপাশি সংহারশক্তির উপস্থিতিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এরপর এসেছে পতঙ্গা শব্দটি। পতঙ্গ বলতে সাধারণভাবে উড়ন্ত কীটপতঙ্গকে বোঝানো হলেও সংস্কৃত সাহিত্যে এই শব্দটি এমন পতঙ্গের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে যারা আগুনের আলোতে আকৃষ্ট হয়ে তার দিকে ধাবিত হয়। এই কারণে পতঙ্গ এখানে নিছক একটি পোকা নয়। এটি মানুষের একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার প্রতীক। পতঙ্গ আগুনের বিপদকে উপলব্ধি করে না। সে আগুনের আলো দেখে আকৃষ্ট হয় এবং সেই আকর্ষণ তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। মানুষের জীবনেও এমন অনেক আকর্ষণ রয়েছে যা প্রথমে আলো, সৌন্দর্য, সাফল্য কিংবা আনন্দের মতো মনে হয়, কিন্তু তার অন্তরে বিপদের সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকতে পারে। ক্ষমতার আকর্ষণ, প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা, অতিরিক্ত অহংকার, অন্ধ ভোগলালসা কিংবা ক্ষণিক সাফল্যের মোহ মানুষকে অনেক সময় এমন পথে নিয়ে যায় যার শেষ পরিণতি কল্যাণ নয়।
বিশন্তি শব্দটির অর্থ প্রবেশ করে বা ভিতরে যায়। কিন্তু এই শ্লোকে শুধু প্রবেশের সাধারণ অর্থ যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে সমৃদ্ধবেগাঃ শব্দটি যুক্ত হওয়ায় প্রবেশের মধ্যে প্রবল গতি ও অপ্রতিরোধ্যতার ভাব সৃষ্টি হয়েছে। সমৃদ্ধবেগ শব্দটি সমৃদ্ধ এবং বেগ এই দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত। সমৃদ্ধের মধ্যে পূর্ণতা ও প্রবলতার ভাব রয়েছে এবং বেগ অর্থ গতি বা দ্রুত চলন। ফলে সমৃদ্ধবেগ বলতে প্রবল বেগে অগ্রসর হওয়াকে বোঝায়। শ্লোকে এই শব্দটির পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমে পতঙ্গেরা প্রবল বেগে আগুনের দিকে যাচ্ছে এবং পরে লোকেরাও প্রবল বেগে কৃষ্ণের মুখের দিকে যাচ্ছে। কবি এই পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে পতঙ্গ এবং মানুষের গতিকে একই মানসিক ও মহাজাগতিক কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করেছেন।
নাশায় শব্দটি এই শ্লোকের অন্যতম গভীর শব্দ। নাশ শব্দের অর্থ বিনাশ, ধ্বংস, বিলয় বা পার্থিব অস্তিত্বের অবসান। নাশায় বলতে বিনাশের জন্য বা বিনাশের উদ্দেশে বোঝানো হয়েছে। এখানে একটি আশ্চর্য বিষয় লক্ষ্য করা যায়। পতঙ্গেরা আগুনে প্রবেশ করছে এবং সেই প্রবেশের পরিণতি হচ্ছে নাশ। মানুষের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। তারা কৃষ্ণের মুখসমূহের দিকে প্রবল বেগে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সেই প্রবেশের পরিণতি হচ্ছে তাদের পার্থিব অস্তিত্বের বিনাশ। অর্থাৎ শ্লোকটি শুধু মৃত্যুর দৃশ্য দেখায় না। এটি গতি এবং পরিণতির মধ্যে একটি গভীর সম্পর্কও স্থাপন করে। মানুষ কোথায় যাচ্ছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন পরিণতির দিকে যাচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
লোকাঃ শব্দের অর্থ মানুষ, জীবসমষ্টি, লোকসমাজ বা জগতের অধিবাসী। কুরুক্ষেত্রের প্রেক্ষাপটে এটি মূলত সেইসব যোদ্ধাকে বোঝায় যারা যুদ্ধে প্রবেশ করেছে। কিন্তু গীতার বৃহত্তর দর্শনের মধ্যে লোক শব্দটি আরও ব্যাপক তাৎপর্য ধারণ করে। মানুষ নিজেকে পৃথক ব্যক্তি হিসেবে অনুভব করলেও সে বৃহত্তর জগতের অংশ। তার জন্ম, কর্ম, সংগ্রাম, সাফল্য ও মৃত্যু সবকিছুই একটি বৃহত্তর বিশ্বপ্রক্রিয়ার মধ্যে সংঘটিত হয়। বিশ্বরূপ দর্শনের সময় অর্জুন সেই বৃহত্তর সত্যটিকেই প্রত্যক্ষ করছেন।
বক্ত্রাণি শব্দটি বক্ত্র থেকে এসেছে এবং এর অর্থ মুখসমূহ। কিন্তু কৃষ্ণের বিশ্বরূপের মুখকে সাধারণ মানুষের মুখ হিসেবে বোঝা যায় না। এখানে মুখ একটি মহাজাগতিক প্রতীক। এই মুখের মধ্যে সৃষ্টি ও সংহারের দুই শক্তিই নিহিত। পরবর্তী শ্লোকগুলিতে কৃষ্ণের মুখসমূহের মধ্যে যোদ্ধাদের প্রবেশ এবং তাদের দহন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই এই মুখকে কাল বা সময়ের মুখ হিসেবেও প্রতীকীভাবে উপলব্ধি করা যায়। সময় যেমন সমস্ত রূপকে নিজের মধ্যে গ্রহণ করে, তেমনি কৃষ্ণের বিশ্বরূপও সমস্ত জীবনের উদয় ও বিলয়ের আধার হয়ে ওঠে।
এই শ্লোকের সবচেয়ে শক্তিশালী সাহিত্যিক সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে এর উপমায়। পতঙ্গ যেমন প্রদীপ্ত আগুনের দিকে ছুটে যায়, তেমনই মানুষ কৃষ্ণের মুখের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখানে পতঙ্গ হলো উপমান এবং যুদ্ধরত লোকসমূহ হলো উপমেয়। আগুন যেমন পতঙ্গকে গ্রাস করে, তেমনই বিশ্বরূপের কালশক্তি পার্থিব জীবনের রূপকে গ্রাস করে। এই উপমার মাধ্যমে কৃষ্ণের বিশ্বরূপকে শুধু ভয়ংকর হিসেবে নয়, অনিবার্য হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। পতঙ্গের জন্য আগুনের দিকে যাওয়া যেন একটি স্বাভাবিক আকর্ষণ। কিন্তু সেই আকর্ষণের অন্তরালে রয়েছে ধ্বংস। একইভাবে মানুষও নিজের কর্ম, আকাঙ্ক্ষা ও অহংকারের মধ্যে এগিয়ে যেতে যেতে কখনও কখনও এমন পরিণতির দিকে পৌঁছে যায় যা সে আগে থেকে উপলব্ধি করতে পারে না।
এই শ্লোকের মধ্যে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্যও রয়েছে। মানুষ প্রায়ই যে জিনিসের প্রতি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয় তার অন্তর্নিহিত বিপদটি দেখতে পায় না। পতঙ্গ আগুনের উজ্জ্বলতা দেখে কিন্তু তার দহনশক্তি দেখে না। মানুষও অনেক সময় ক্ষমতার আলো দেখে কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে আসা অহংকার ও পতনের সম্ভাবনা দেখতে পায় না। সে সাফল্যের বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে কিন্তু তার জন্য দিতে হতে পারে এমন মূল্যকে উপেক্ষা করে। এই অর্থে পতঙ্গ মানুষের অন্ধ আকর্ষণের প্রতীক এবং আগুন সেই আকর্ষণের অন্তর্নিহিত পরিণতির প্রতীক।
শ্লোকটির দার্শনিক অর্থ আরও গভীর। গীতার বিশ্বদর্শনে মানুষ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো সত্তা নয়। সে প্রকৃতি, কর্ম, কাল এবং বৃহত্তর বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। কুরুক্ষেত্রের যোদ্ধারা নিজেদের সিদ্ধান্ত ও কর্মের মাধ্যমে যুদ্ধ করছে, কিন্তু বিশ্বরূপ দর্শনের মুহূর্তে অর্জুন উপলব্ধি করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত কর্মের পেছনে একটি বৃহত্তর কালপ্রবাহও কাজ করছে। মানুষের দৃষ্টিতে সে হয়তো নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে, কিন্তু মহাজাগতিক দৃষ্টিতে সে সময়ের বৃহত্তর প্রবাহের একটি অংশ। এই উপলব্ধি মানুষের অহংকারকে ভেঙে দেয় এবং তাকে নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করে।
অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের আরেকটি তাৎপর্য রয়েছে। ব্যক্তি নিজেকে পৃথক সত্তা হিসেবে অনুভব করলেও পরম সত্যের দৃষ্টিতে সমস্ত বহুত্ব একটি বৃহত্তর ঐক্যের মধ্যে অবস্থিত। জন্ম ও মৃত্যু পার্থিব প্রকাশের অংশ। দেহের বিনাশকে আত্মার চূড়ান্ত বিনাশ হিসেবে দেখা যায় না। তাই এখানে নাশ শব্দটিকে পার্থিব দেহ ও ব্যক্তিগত জীবনের পরিণতি হিসেবে বোঝা অধিক যুক্তিসঙ্গত। গীতার পূর্ববর্তী শিক্ষায় আত্মাকে অবিনশ্বর বলা হয়েছে। সেই কারণে বিশ্বরূপের এই ভয়াবহতা মূলত দেহধারী জীবনের অনিত্যতা এবং কালশক্তির অপরিহার্যতাকে প্রকাশ করে।
এই শ্লোককে ভাগ্যবাদের শিক্ষা হিসেবেও দেখা উচিত নয়। গীতা মানুষকে কর্ম থেকে পালিয়ে যেতে বলে না। বরং মানুষকে কর্তব্যের পথে স্থির হতে শেখায়। বিশ্বরূপে যোদ্ধাদের বিনাশ দেখতে পাওয়ার অর্থ এই নয় যে মানুষের কোনো কর্তব্য নেই বা মানুষের কোনো সিদ্ধান্তের মূল্য নেই। বরং এর অর্থ হলো মানুষকে নিজের কর্ম করতে হবে, কিন্তু নিজের অহংকারকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না যেখানে সে নিজেকে সমগ্র বিশ্বপ্রক্রিয়ার একমাত্র নিয়ন্ত্রক মনে করে। কর্ম করতে হবে, কিন্তু কর্মের ফলের ওপর নিজের অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করা যাবে না।
সমৃদ্ধবেগ শব্দটির মধ্যে আধুনিক জীবনের জন্যও একটি অসাধারণ শিক্ষা রয়েছে। দ্রুত এগিয়ে যাওয়া নিজে কোনো মহৎ গুণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ভুল পথে অত্যন্ত দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সঠিক পথে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে। একজন মানুষ যদি ক্ষমতা, অর্থ, খ্যাতি বা প্রতিযোগিতার পেছনে প্রবল বেগে ছুটতে থাকে কিন্তু নিজের গন্তব্য নিয়ে চিন্তা না করে, তাহলে সে পতঙ্গের মতো হয়ে উঠতে পারে। তার গতি যত বাড়বে, তার পতনের সম্ভাবনাও তত দ্রুত সামনে আসতে পারে। তাই এই শ্লোক আমাদের গতি নয়, দিক সম্পর্কে সচেতন হতে শেখায়।
ইতিহাসের ক্ষেত্রেও এই উপমা গভীর অর্থ বহন করে। সাম্রাজ্য, রাজবংশ, ক্ষমতাশালী ব্যক্তি এবং সভ্যতা একসময় নিজেদের স্থায়ী বলে মনে করেছে। কিন্তু সময় তাদের কাউকেই স্থায়ী হতে দেয়নি। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সেই চিরন্তন পরিবর্তনের একটি প্রতীক। মানুষ ইতিহাস সৃষ্টি করে, কিন্তু ইতিহাসও মানুষকে নিজের প্রবাহে বহন করে নিয়ে যায়। যে রাজা আজ শক্তিশালী, কাল সে ইতিহাসের একটি অধ্যায়। যে সাম্রাজ্য আজ অপরাজেয় মনে হয়, সময়ের কাছে তারও সীমা রয়েছে। এই কারণেই কৃষ্ণের বিশ্বরূপকে কালরূপে উপলব্ধি করা যায়।
এই শ্লোকের আরেকটি গভীর শিক্ষা হলো আকর্ষণ এবং কল্যাণ এক জিনিস নয়। যে আলো সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে সেটিই কখনও কখনও সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। পতঙ্গের কাছে আগুন প্রথমে আলো। তার কাছে আগুনের দহনশক্তি উপলব্ধ নয়। মানুষের জীবনেও একই ঘটনা ঘটে। কোনো আকাঙ্ক্ষা প্রথমে আনন্দ দেয়, কোনো ক্ষমতা প্রথমে সম্মান দেয়, কোনো প্রতিশোধ প্রথমে তৃপ্তি দেয়, কিন্তু তার পরিণতি হয়তো দীর্ঘমেয়াদি অশান্তি। তাই গীতার এই শ্লোক আমাদের বাহ্যিক আকর্ষণের বাইরে গিয়ে পরিণতিকে দেখার শিক্ষা দেয়।
সবশেষে বলা যায়, প্রদীপ্তং জ্বলনং পতঙ্গা শ্লোকটি কেবল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুর একটি ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা নয়। এটি মানুষের অস্তিত্ব সম্পর্কে এক গভীর দার্শনিক উপলব্ধি। প্রদীপ্ত জ্বলন্ত আগুন এখানে মহাশক্তির প্রতীক। পতঙ্গ অন্ধ আকর্ষণের প্রতীক। প্রবল বেগ মানুষের অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষা ও কর্মপ্রবাহের প্রতীক। নাশ অনিত্যতার প্রতীক। আর কৃষ্ণের মুখ হয়ে ওঠে সেই মহাকালের প্রতীক যেখানে সমস্ত পার্থিব রূপ একদিন বিলীন হয়। এই শ্লোক তাই আমাদের ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং জাগিয়ে তোলার জন্য। এটি প্রশ্ন করতে শেখায় আমরা কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি এবং আমাদের দ্রুতগতির জীবনের প্রকৃত গন্তব্য কোথায়। মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু পতন নয়, পতনের দিকে এগিয়ে গিয়েও সেটিকে অগ্রগতি বলে মনে করা। সেই অন্ধতার বিপরীতে গীতার এই শ্লোক আমাদের জ্ঞান, বিবেক, কর্তব্যবোধ এবং অনিত্যতার সত্যকে উপলব্ধি করে জীবনকে দেখার আহ্বান জানায়।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!