সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১১.৪০ — বিশ্বরূপে সর্বদিকব্যাপী কৃষ্ণ

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
নমঃ পুরস্তাদধ পৃষ্ঠতস্তেনমোহস্তু তে সর্বত এব সর্ব। অনন্তবীর্যামিতবিক্রমস্ত্বংসর্বং সমাপ্নোষি ততো…
নমঃ পুরস্তাদধ পৃষ্ঠতস্তে
নমোহস্তু তে সর্বত এব সর্ব। 
অনন্তবীর্যামিতবিক্রমস্ত্বং
সর্বং সমাপ্নোষি ততোহসি সর্বঃ।।৪০।।

অনুবাদঃ হে সর্বাত্মা! তোমাকে সম্মুখে পশ্চাতে ও সমস্ত দিক থেকেই নমস্কার করছি। হে অনন্তবীর্য! তুমি অসীম বিক্রমশালী। তুমি সমগ্র জগতে ব্যাপ্ত, অতএব তুমিই সর্ব-স্বরূপ।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায়ের চল্লিশতম শ্লোকটি বিশ্বরূপদর্শনের এক গভীরতম মুহূর্তকে ধারণ করে আছে। অর্জুন যখন কৃষ্ণের বিশ্বরূপ প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তাঁর পরিচিত জগতের সমস্ত সীমা যেন ভেঙে গেল। যাঁকে তিনি এতদিন বন্ধু, সখা ও আপনজন হিসেবে দেখেছেন, সেই কৃষ্ণই তাঁর সামনে অসংখ্য রূপ, শক্তি, দেবতা, জীব ও সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করে থাকা এক অসীম সত্তা হিসেবে প্রকাশিত হলেন। এই অভিজ্ঞতার অভিঘাতে অর্জুনের হৃদয়ে যে বিস্ময়, ভক্তি, ভয়, শ্রদ্ধা ও আত্মসমর্পণের জন্ম হয়েছিল, তারই এক অসাধারণ প্রকাশ এই শ্লোক। তিনি বলছেন, সামনে তোমাকে প্রণাম, পিছনেও তোমাকে প্রণাম। সর্বদিক থেকেই তোমার প্রতি প্রণাম। তুমি অনন্ত শক্তির অধিকারী, তোমার পরাক্রম অপরিমেয়। তুমি সমস্তকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছ। তাই তুমিই সর্বস্বরূপ।

এই শ্লোকের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো নমঃ। সংস্কৃত নমঃ শব্দটির উৎস নম্ ধাতু। নম্ ধাতুর মূল অর্থ নত হওয়া, ঝুঁকে পড়া, মাথা অবনত করা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণতি জানানো। কিন্তু গীতার এই প্রসঙ্গে নমঃ কেবল বাহ্যিক প্রণামের অর্থ বহন করে না। এটি অহংকারের অবনত হওয়ার প্রতীক। মানুষ যখন মনে করে তার জ্ঞান সম্পূর্ণ, তার শক্তি যথেষ্ট এবং তার নিজের ইচ্ছাই সবকিছুর নিয়ামক, তখন তার মধ্যে অহংকার জন্মায়। কিন্তু বৃহত্তর সত্যের প্রত্যক্ষ উপলব্ধি হলে সেই অহংকারের সীমা প্রকাশ পায়। তখন মানুষ বলে ওঠে নমঃ। অর্থাৎ আমি নত হচ্ছি। আমি স্বীকার করছি যে আমার সীমিত বোধের বাইরে এমন এক বিশাল বাস্তবতা আছে, যার সামনে আমার ব্যক্তিগত অহংকার ক্ষুদ্র। এই অর্থে নমঃ একটি আধ্যাত্মিক শব্দ। এটি পরাজয়ের প্রতীক নয়। এটি নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে অসীমের সামনে বিনয়ী হয়ে দাঁড়ানোর প্রতীক।

এরপর অর্জুন বলেন পুরস্তাত্। পুরস্তাত্ শব্দের অর্থ সামনে বা সম্মুখে। তারপর তিনি বলেন পৃষ্ঠতঃ। পৃষ্ঠতঃ এসেছে পৃষ্ঠ শব্দ থেকে, যার অর্থ পিছন বা পশ্চাৎদেশ। এই দুটি শব্দ পাশাপাশি ব্যবহারের মধ্যে গভীর কাব্যিক এবং দার্শনিক তাৎপর্য রয়েছে। মানুষ সাধারণত নিজের সামনে যা দেখতে পায় তাকেই গুরুত্ব দেয়। ভবিষ্যৎ তার সামনে থাকে এবং অতীত থাকে তার পিছনে। কিন্তু অর্জুনের বিশ্বরূপদর্শনের অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছে যে পরম সত্য কোনো একটি দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই সামনে যেমন কৃষ্ণ, পিছনেও তেমন কৃষ্ণ। যে দিকে তাকানো যায়, সেদিকেই সেই একই পরম সত্তার উপস্থিতি। এই উপলব্ধি ধীরে ধীরে স্থানিক সীমা অতিক্রম করে সর্বব্যাপী ঈশ্বরের ধারণায় পৌঁছে যায়।

নমোস্ত তে কথাটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নমঃ এবং অস্তু শব্দের সন্ধির ফলে নমোস্তুরূপ তৈরি হয়েছে। নমঃ অর্থ প্রণাম এবং অস্তু অর্থ হোক। তে অর্থ তোমার প্রতি বা তোমাকে। ফলে নমোস্ত তে অর্থ দাঁড়ায় তোমার প্রতি প্রণাম হোক। কিন্তু এই প্রণাম এখানে আনুষ্ঠানিক কোনো আচরণ নয়। এটি অর্জুনের অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তি। তিনি বিশ্বরূপ দেখে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে তাঁর পুরনো পরিচিতির ভাষা যথেষ্ট নয়। তাই তাঁর ভাষা হয়ে উঠেছে প্রণামের ভাষা।

এরপর আসে সর্বত এব সর্ব। সর্বতঃ অর্থ সর্বদিক থেকে বা সর্বত্র। এব অর্থ নিশ্চয়ই বা একেবারেই। আর সর্ব অর্থ সকল বা সর্বস্বরূপ। ফলে অর্জুন যেন বলছেন, হে সর্বস্বরূপ, আমি সর্বদিক থেকেই তোমাকে প্রণাম করছি। এখানে সর্ব শব্দটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু অনেক বা সবকিছুর অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। এটি কৃষ্ণের সর্বব্যাপী স্বরূপের দিকে নির্দেশ করছে। সামনে তুমি, পিছনে তুমি, চারদিকে তুমি। দৃশ্যমান জগতে তুমি, অদৃশ্য অস্তিত্বের অন্তরেও তুমি। এই উপলব্ধির মধ্যেই বিশ্বরূপদর্শনের দার্শনিক শক্তি নিহিত।

শ্লোকটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদ অনন্তবীর্য। অনন্ত শব্দটি গঠিত হয়েছে এমন একটি ভাব থেকে যার কোনো অন্ত নেই। অন্ত অর্থ সীমা বা শেষ এবং তার সঙ্গে নিষেধাত্মক ভাব যুক্ত হয়ে অনন্তের অর্থ হয়েছে যার শেষ নেই, যার সীমা নেই। বীর্য শব্দের অর্থ শক্তি, বল, সামর্থ্য ও পরাক্রম। তাই অনন্তবীর্য অর্থ এমন এক সত্তা যাঁর শক্তির কোনো সীমা নেই। এখানে শক্তি বলতে কেবল শারীরিক শক্তি বোঝানো হয় না। এর মধ্যে সৃষ্টিশক্তি, ধারণশক্তি, পরিচালনাশক্তি, নিয়ন্ত্রণশক্তি এবং মহাজাগতিক কার্যক্ষমতার ধারণা অন্তর্ভুক্ত। অর্জুন বুঝতে পারছেন যে কৃষ্ণের শক্তিকে কোনো মানবীয় মাপকাঠিতে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অমিতবিক্রম শব্দটি। অমিত অর্থ যাকে মাপা যায় না। বিক্রম শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত ক্রম ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে, যার মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া, অগ্রসর হওয়া এবং শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাওয়ার ভাব রয়েছে। সেই সূত্রে বিক্রমের অর্থ হয়েছে পরাক্রম, বীরত্ব ও অসাধারণ শক্তির প্রকাশ। অমিতবিক্রম অর্থ এমন পরাক্রম যার কোনো পরিমাপ নেই। অনন্তবীর্য এবং অমিতবিক্রম একসঙ্গে কৃষ্ণের শক্তির দুটি দিক প্রকাশ করে। তাঁর শক্তির সীমা নেই এবং তাঁর কার্যক্ষম পরাক্রমও মানুষের পরিমাপের বাইরে।

এরপর অর্জুন বলেন ত্বং। অর্থাৎ তুমি। এই ছোট্ট সর্বনামটির মধ্যেও গভীর ভক্তির অনুভূতি রয়েছে। পরম সত্য এখানে কোনো দূরবর্তী বিমূর্ত ধারণা নয়। অর্জুন তাকে তুমি বলে সম্বোধন করছেন। তাঁর কাছে পরম সত্য এখন প্রত্যক্ষ। তিনি সেই সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাকে উদ্দেশ করে কথা বলছেন। ভারতীয় ভক্তি দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এখানেই। পরম সত্য কেবল চিন্তার বিষয় নয়। তাকে অনুভব করা যায়, তাকে সম্বোধন করা যায় এবং তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ করা যায়।

শ্লোকটির সবচেয়ে গভীর অংশগুলোর একটি হলো সর্বং সমাপ্নোষি। সর্বং অর্থ সমস্তকিছু। সমাপ্নোষি শব্দটির সঙ্গে সংস্কৃত আপ্ ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে, যার মধ্যে লাভ করা বা পৌঁছানোর ভাব আছে। সমগ্রতার ভাব যুক্ত হয়ে এর অর্থ দাঁড়ায় সমস্তকিছুর মধ্যে পৌঁছে থাকা, পরিব্যাপ্ত করা বা সর্বত্র বিস্তৃত থাকা। তাই এই অংশের গভীর অর্থ হলো তুমি সমস্তকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছ। এখানে ঈশ্বরের সর্বব্যাপী স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কেবল জগতের কোনো একটি অংশে অবস্থান করছেন না। সমস্ত অস্তিত্ব তাঁর দ্বারা পরিব্যাপ্ত।

এই উপলব্ধির চূড়ান্ত ঘোষণা হলো ততোস্তি সর্বঃ। ততঃ অর্থ অতএব বা সেই কারণে। অসি অর্থ তুমি আছ। সর্বঃ অর্থ সর্ব বা সর্বস্বরূপ। অর্থাৎ তুমি সমস্তকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছ, তাই তুমিই সর্ব। এই বক্তব্য শ্লোকটির সমগ্র দার্শনিক ভাবনাকে এক জায়গায় নিয়ে আসে। অর্জুন প্রথমে প্রণাম করছেন। তারপর তিনি কৃষ্ণের সর্বদিকের উপস্থিতি উপলব্ধি করছেন। এরপর তাঁর অসীম শক্তি ও অপরিমেয় পরাক্রম উপলব্ধি করছেন। তারপর বুঝছেন যে তিনি সমস্ত অস্তিত্বকে পরিব্যাপ্ত করে আছেন। সেই উপলব্ধির পরিণতিতেই অর্জুন ঘোষণা করছেন, তুমিই সর্ব।

দার্শনিকভাবে এই বক্তব্যকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। অদ্বৈত ভাবনার আলোকে এটি বহুত্বের অন্তরালে এক পরম বাস্তবতার উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়। মানুষ জগতে অসংখ্য পৃথক পৃথক বস্তু, প্রাণী ও ব্যক্তিকে দেখতে পায়। কিন্তু গভীরতর সত্যের অনুসন্ধানে প্রশ্ন ওঠে, এই বহুত্বের অন্তরে কি কোনো একক অস্তিত্ব রয়েছে। গীতার বিশ্বরূপদর্শনের প্রসঙ্গে অর্জুন যেন সেই একত্বের মহিমান্বিত প্রকাশ দেখতে পাচ্ছেন। অন্যদিকে বিশিষ্টাদ্বৈত ভাবনায় ঈশ্বর সর্বব্যাপী এবং সমগ্র জগত ও জীব তাঁর সঙ্গে গভীর অস্তিত্বগত সম্পর্কে যুক্ত। ভক্তির দৃষ্টিতে এই শ্লোকের কেন্দ্র হলো আত্মসমর্পণ। ঈশ্বর যত অসীম বলে উপলব্ধ হন, মানুষের অহংকার তত ক্ষুদ্র হয়ে আসে। তাই নমঃ থেকে সর্বঃ পর্যন্ত যাত্রাটি আসলে ব্যক্তিগত অহংকার থেকে সর্বব্যাপী সত্যের দিকে একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা।

এই শ্লোকের একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক অর্থও রয়েছে। মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা হলো নিজের ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীকে বিচার করা। সে ভাবে তার জ্ঞানই যথেষ্ট, তার পরিকল্পনাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে এবং তার ইচ্ছাই বাস্তবতার চূড়ান্ত নির্ধারক। কিন্তু জীবনের অভিজ্ঞতা মানুষকে বারবার দেখায় যে তার নিয়ন্ত্রণ সীমিত। প্রকৃতি, সময়, অন্য মানুষের সিদ্ধান্ত, পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ অনেক কিছুই তার হাতে নেই। নমঃ সেই সীমাবদ্ধতার সচেতন স্বীকৃতি। এর অর্থ নিজের মর্যাদা হারানো নয়। বরং নিজের অবস্থানকে বৃহত্তর বাস্তবতার মধ্যে যথাযথভাবে উপলব্ধি করা।

সাহিত্যিক দৃষ্টিতেও শ্লোকটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে নির্মিত। প্রথমে আসে পুরস্তাত্ এবং পৃষ্ঠতঃ। অর্থাৎ সামনে ও পিছনে। তারপর আসে সর্বতঃ। অর্থাৎ সমস্ত দিক। এরপর আসে অনন্ত এবং অমিত। অর্থাৎ সীমাহীনতা এবং অপরিমেয়তা। সবশেষে আসে সর্ব। ভাষার এই বিস্তার যেন অর্জুনের চেতনার বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যায়। তাঁর দৃষ্টি একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে শুরু হয়ে সর্বদিক অতিক্রম করে অসীম শক্তির দিকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সর্বব্যাপী পরম সত্যে এসে পৌঁছায়।

এই শ্লোককে মানবজীবনের একটি সুন্দর উপমার মাধ্যমেও বোঝা যায়। একটি মানুষ যদি সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে একটি ঢেউ দেখে, সে সেই ঢেউকে সমুদ্রের একটি অংশ হিসেবে দেখতে পারে। কিন্তু যদি সে সমগ্র সমুদ্রকে উপলব্ধি করতে পারে, তখন বুঝতে পারে যে একটি ঢেউ সমুদ্র থেকে আলাদা কোনো স্বাধীন সত্তা নয়। একইভাবে মানুষ নিজের ব্যক্তিগত জীবন, পরিচয়, সাফল্য ও ব্যর্থতাকে সম্পূর্ণ বাস্তবতা বলে মনে করে। কিন্তু বৃহত্তর আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে সে বুঝতে পারে যে তার জীবন একটি অনেক বৃহৎ অস্তিত্বের অংশ। অর্জুনের বিশ্বরূপদর্শন সেই সীমাবদ্ধ দৃষ্টিকে ভেঙে দেয়।

এই কারণে শ্লোকটি শুধু একটি ধর্মীয় প্রার্থনা নয়। এটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের একটি প্রতীক। সামনে যা আছে তার মধ্যেও সত্যকে দেখতে হবে। পিছনে যা চলে গেছে তার মধ্যেও সত্যের উপস্থিতি উপলব্ধি করতে হবে। চারপাশের জগতের মধ্যেও সেই বৃহত্তর অস্তিত্বকে দেখতে হবে। নিজের শক্তির সীমা বুঝতে হবে এবং নিজের অহংকারকে বৃহত্তর সত্যের সামনে নত করতে হবে। এই অর্থে শ্লোকটি আজও মানুষের জন্য গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।

শ্লোকটির শুরুতে আছে নমঃ এবং শেষে আছে সর্বঃ। এই দুটি শব্দের মধ্যেই যেন সমগ্র আধ্যাত্মিক যাত্রাটি সংক্ষেপে ধরা আছে। নমঃ হলো আমি নত হচ্ছি। সর্বঃ হলো তুমিই সর্ব। প্রথমে আছে ব্যক্তিগত আমি এবং শেষে আছে সর্বব্যাপী তুমি। প্রথমে আছে সীমাবদ্ধতার স্বীকৃতি এবং শেষে আছে অসীমতার উপলব্ধি। প্রথমে আছে প্রণাম এবং শেষে আছে পরম সত্যের উপলব্ধি।

অতএব নমঃ পুরস্তাদথ পৃষ্ঠতস্তে শ্লোকটির গভীরতম শিক্ষা হলো পরম সত্যকে কোনো একটি দিক, রূপ বা সীমার মধ্যে আবদ্ধ না করা। সামনে তিনি, পিছনে তিনি, সর্বদিকে তিনি। তাঁর শক্তির কোনো অন্ত নেই এবং তাঁর পরাক্রমের কোনো পরিমাপ নেই। তিনি সমস্তকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছেন। তাই অর্জুনের চূড়ান্ত উপলব্ধি হলো তুমিই সর্ব। এই উপলব্ধির মধ্যে ভাষাবিদ্যের সূক্ষ্মতা, দর্শনের গভীরতা, সাহিত্যের সৌন্দর্য এবং ভক্তির আত্মসমর্পণ একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। মানুষের সীমিত আমি যখন অসীমের সামনে নত হয়, তখনই তার দৃষ্টির একটি নতুন দরজা খুলে যায়। এই শ্লোক সেই নতুন দৃষ্টিরই এক অনন্য ঘোষণা।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 21, 2026 August 21, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি