সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১১.৪২ — কৃষ্ণের কাছে অর্জুনের ক্ষমাপ্রার্থনা

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যচ্চাবহাসার্থমসৎকৃতোহসিবিহারশয্যাসনভোজনেষু। একাহথবাপ্যচ্যুত তৎসমক্ষং তৎ ক্ষাময়ে ত্বামহমপ্রমেয়ম্…
যচ্চাবহাসার্থমসৎকৃতোহসি
বিহারশয্যাসনভোজনেষু। 
একাহথবাপ্যচ্যুত তৎসমক্ষং 
তৎ ক্ষাময়ে ত্বামহমপ্রমেয়ম্।।৪২।।

অনুবাদঃ তোমার মহিমা না জেনে, সখা মনে করে তোমাকে আমি প্রগলভভাবে “হে কৃষ্ণ”, “হে সখা,” বলে সম্বোধন করেছি। প্রমাদবশত অথবা প্রণবশত আমি যা কিছু করেছি তা তুমি দয়া করে ক্ষমা কর। বিহার, শয়ন, উপবেশন ও ভোজনের সময় কখন একাকী এবং কখন বন্ধুদের সমক্ষে আমি যে তোমাকে অসম্মান করেছি, হে অচ্যুত! আমার সে সমস্ত অপরাধের জন্য তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায়ের ৪২তম শ্লোকটি অর্জুনের হৃদয়ের এক গভীর পরিবর্তনের মুহূর্তকে প্রকাশ করে। বিশ্বরূপ দর্শনের পর অর্জুন আর কৃষ্ণকে শুধু তাঁর প্রিয় বন্ধু হিসেবে দেখতে পারছেন না। এতদিন যাঁর সঙ্গে তিনি হাসি ঠাট্টা করেছেন, একসঙ্গে বসেছেন, খেয়েছেন, বিশ্রাম নিয়েছেন এবং অত্যন্ত আপনজনের মতো কথা বলেছেন, সেই কৃষ্ণই যে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধিষ্ঠাতা এবং অসীম পরম সত্তা, বিশ্বরূপ দর্শনের মাধ্যমে অর্জুন তা প্রত্যক্ষ করেছেন। ফলে তাঁর মনে একদিকে যেমন বিস্ময় ও ভক্তির জন্ম হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি নিজের অতীত আচরণের কথা মনে পড়ে গভীর বিনয় ও অনুশোচনা জেগে উঠেছে। এই অবস্থাতেই তিনি বলেন যে বিহার, শয়ন, আসন ও ভোজনের সময় পরিহাসের উদ্দেশ্যে তিনি যদি কখনো কৃষ্ণকে যথাযথ সম্মান না দিয়ে থাকেন, তবে সেই অপরাধের জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

এই শ্লোকের একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো অবহাসার্থম্। অবহাস অর্থ পরিহাস, হাস্য বা ঠাট্টা এবং অর্থম্ এখানে উদ্দেশ্য বা জন্য অর্থ প্রকাশ করে। তাই অবহাসার্থম্ বলতে বোঝায় পরিহাসের উদ্দেশ্যে বা ঠাট্টা করে। এই শব্দের মধ্যে অর্জুনের সঙ্গে কৃষ্ণের গভীর বন্ধুত্বের একটি মানবিক ছবি ফুটে ওঠে। তাঁদের সম্পর্ক এমন ঘনিষ্ঠ ছিল যে অর্জুন কখনো কৃষ্ণের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দূরত্ব বজায় রাখতেন না। বন্ধুর সঙ্গে যেমন স্বাভাবিকভাবে হাসি ঠাট্টা করা যায়, তেমনই তিনি কৃষ্ণের সঙ্গেও করেছেন। কিন্তু বিশ্বরূপ দর্শনের পরে তাঁর উপলব্ধি বদলে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, যে ব্যক্তিকে তিনি কেবল বন্ধুর পরিচয়ে গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর প্রকৃত সত্তা সেই সীমিত পরিচয়ের বহু ঊর্ধ্বে।

অসত্কৃতোऽসি শব্দটির মধ্যেও রয়েছে গভীর আত্মসমালোচনার সুর। অসত্কৃত শব্দটি অ, সৎ এবং কৃত এই ভাবগত উপাদানের সঙ্গে সম্পর্কিত। সৎ অর্থ উত্তম, যথাযথ বা সম্মানযোগ্য এবং কৃত অর্থ করা বা সম্পন্ন করা। সেই অর্থে অসত্কৃত বলতে বোঝায় যথাযথ সম্মান না করা বা অসম্মান করা। অর্জুন এখানে নিজের আচরণকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বিচার করছেন। তিনি বলছেন না যে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কৃষ্ণকে অপমান করা। বরং বন্ধুত্বের স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতায় কখনো যদি এমন আচরণ হয়ে থাকে যাতে কৃষ্ণের প্রকৃত মর্যাদার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রকাশ পায়নি, তার জন্য তিনি ক্ষমা চাইছেন। এই আত্মস্বীকৃতির মধ্যে বিনয়ের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত রয়েছে। সত্যিকার জ্ঞান মানুষকে অন্যের ছোট ভুল খুঁজতে শেখায় না, বরং নিজের সীমাবদ্ধতা দেখতে শেখায়।

বিহারশয্যাসনভোজনেṣu শব্দবন্ধটি শ্লোকটির মানবিক সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে। বিহার বলতে আনন্দ বিনোদন বা অবসরযাপন বোঝায়। শয্যা শোয়া বা বিশ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত। আসন বসার অবস্থা এবং ভোজন আহার গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ অর্জুন জীবনের সেই সমস্ত সাধারণ ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কথা স্মরণ করছেন যখন কৃষ্ণ তাঁর কাছে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন সঙ্গী ছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রের গুরুগম্ভীর পরিবেশ নয়, বরং জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলিই এখানে স্মরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি মানুষের জীবনের শুধু আনুষ্ঠানিক মুহূর্তকে পরিবর্তন করে না। এটি অতীতের সাধারণ ঘটনাগুলোকেও নতুন অর্থে দেখতে শেখায়।

এরপর অর্জুন বলেন একোऽথবাপ্যচ্যুত তৎসমক্ষং। অর্থাৎ একান্তে অথবা অন্যদের সামনে। এখানে তৎসমক্ষং অর্থ কারও সামনে বা উপস্থিতিতে। অর্জুনের ক্ষমাপ্রার্থনা তাই শুধু ব্যক্তিগত মুহূর্তের জন্য নয়। একান্তে তিনি যেমন বন্ধুর মতো আচরণ করে থাকেন, তেমনই অন্যদের সামনেও যদি কোনো পরিহাস বা অসম্মান হয়ে থাকে, তার জন্য তিনি ক্ষমা চাইছেন। এই স্বীকারোক্তি মানুষের নৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য প্রকাশ করে। আমরা অনেক সময় নিজের আচরণকে উদ্দেশ্য দিয়ে বিচার করি। কিন্তু আমাদের আচরণ অন্যের মর্যাদাকে কীভাবে স্পর্শ করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও অসাবধানতা কখনো কখনো অসম্মানের কারণ হতে পারে।

এই শ্লোকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সম্বোধনগুলোর একটি হলো অচ্যুত। অচ্যুত শব্দটি অ এবং চ্যুত এই দুই অংশের সমন্বয়ে গঠিত। চ্যুত অর্থ পতিত বা বিচ্যুত এবং অচ্যুত অর্থ যিনি কখনো পতিত হন না বা স্বরূপ থেকে বিচ্যুত হন না। কৃষ্ণের জন্য অচ্যুত নামের ব্যবহার এখানে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অর্জুন নিজেকে ভুলকারী হিসেবে স্বীকার করছেন এবং কৃষ্ণকে বলছেন অচ্যুত। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে ভুল ও বিচ্যুতি থাকতে পারে, কিন্তু পরম সত্য নিজের স্বরূপ থেকে বিচ্যুত হয় না। অর্জুনের সীমাবদ্ধতা এবং কৃষ্ণের অচ্যুত স্বরূপের মধ্যে এখানে একটি গভীর দার্শনিক পার্থক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শেষে অর্জুন কৃষ্ণকে অপ্রমেয় বলে সম্বোধন করেন। অপ্রমেয় শব্দটি অ এবং প্রমেয়ের সমন্বয়ে গঠিত। প্রমেয় বলতে যা জ্ঞান বা নির্ণয়ের বিষয় হতে পারে তাকে বোঝায়। এর আগে অ যুক্ত হয়ে অপ্রমেয় অর্থ দাঁড়ায় যা সাধারণ পরিমাপ বা নির্ণয়ের সীমায় আবদ্ধ নয়। কৃষ্ণকে অপ্রমেয় বলা মানে তাঁকে এমন এক পরম বাস্তবতা হিসেবে স্বীকার করা যাঁকে সীমিত মানববুদ্ধি দিয়ে সম্পূর্ণভাবে পরিমাপ করা যায় না। এই একটি শব্দের মধ্যে ভারতীয় দর্শনের জ্ঞানতাত্ত্বিক একটি গভীর প্রশ্ন নিহিত রয়েছে। সীমিত জ্ঞান কি অসীম সত্যকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারে। অর্জুনের উপলব্ধি হলো মানুষের বুদ্ধি যতই শক্তিশালী হোক, পরম সত্তাকে সম্পূর্ণভাবে নিজের ধারণার মধ্যে আবদ্ধ করা সম্ভব নয়।

এই উপলব্ধির কারণেই শ্লোকটি শুধু ক্ষমাপ্রার্থনার শ্লোক হয়ে থাকে না। এটি মানুষের জ্ঞান থেকে আত্মজ্ঞান এবং আত্মজ্ঞান থেকে বিনয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা। মানুষ যখন কাউকে খুব কাছের মানুষ হিসেবে দেখে, তখন অনেক সময় সেই ব্যক্তির গভীরতা ও মর্যাদাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়। অর্জুনও কৃষ্ণের ক্ষেত্রে তেমনই করেছিলেন। তিনি কৃষ্ণের সঙ্গে বন্ধুর মতো কথা বলেছেন, হাসি ঠাট্টা করেছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন। কিন্তু বিশ্বরূপ দর্শনের পর তিনি উপলব্ধি করলেন যে তাঁর বন্ধুত্বের পরিচয়ের অন্তরালে এমন এক সত্তা রয়েছেন, যাঁর মধ্যে সমগ্র জগতের প্রকাশ।

এই শ্লোকের মধ্যে সখ্যভাব ও ভক্তির এক অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। কৃষ্ণ অর্জুনের কাছে শুধু দূরের কোনো দেবতা নন। তিনি বন্ধু। কিন্তু সেই বন্ধুত্বের অন্তরেই রয়েছে ঈশ্বরত্ব। বিশ্বরূপ দর্শনের পরে অর্জুনের সখ্যভাব বিলীন হয়ে যায়নি। বরং তা আরও গভীর হয়ে উঠেছে। আগে তিনি কৃষ্ণকে নিজের বন্ধু হিসেবে দেখতেন। এখন তিনি উপলব্ধি করছেন যে তাঁর বন্ধু সেই পরম সত্তা, যিনি সমগ্র অস্তিত্বের আধার। ফলে বন্ধুত্বের পরিচয় এখন ভক্তি ও শ্রদ্ধার আলোয় নতুন অর্থ লাভ করেছে।

মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও এই শ্লোকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের মন পরিচিত মানুষকে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখে। কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করলে তার প্রতি আমাদের আচরণও বন্ধুত্বের স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হয়। কিন্তু কোনো এক গভীর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যদি সেই ব্যক্তির সম্পূর্ণ নতুন একটি মাত্রা আমাদের সামনে প্রকাশিত হয়, তখন অতীতের আচরণগুলোও নতুনভাবে বিচার করতে শুরু করি। অর্জুনের ক্ষেত্রে বিশ্বরূপ দর্শন এমনই এক অভিজ্ঞতা। তাঁর চোখের সামনে কৃষ্ণের এমন একটি রূপ প্রকাশিত হয়েছে যা তাঁর পূর্ববর্তী ধারণাকে সম্পূর্ণ অতিক্রম করেছে। তাই অতীতের হাসি ঠাট্টাও তাঁর কাছে নতুন অর্থ পেয়েছে।

প্রতীকী অর্থে বিহার, শয্যা, আসন ও ভোজন মানুষের জীবনের সাধারণ চারটি অবস্থাকে নির্দেশ করে বলে ভাবা যায়। বিহার জীবনের আনন্দ ও বিনোদনের প্রতীক। শয্যা বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতীক। আসন সামাজিক সম্পর্ক ও সহাবস্থানের প্রতীক। ভোজন জীবনধারণ ও পারস্পরিক অংশীদারিত্বের প্রতীক। অর্জুন যেন বলছেন, জীবনের এই সাধারণ মুহূর্তগুলোতেও যদি আমি তোমার প্রকৃত মর্যাদা উপলব্ধি করতে না পেরে থাকি, তবে আমাকে ক্ষমা করো। এর মাধ্যমে একটি গভীর আধ্যাত্মিক সত্য প্রকাশিত হয়। ঈশ্বরচেতনা কেবল পূজা বা ধ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের সাধারণ কাজকর্মের মধ্যেও শ্রদ্ধা, সচেতনতা ও পবিত্রতার বোধ জাগ্রত হতে পারে।

এই শ্লোক আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। ঘনিষ্ঠতা যেন কখনো অসম্মানের কারণ না হয়। কাউকে খুব কাছের মানুষ বলে তাঁর মর্যাদা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করার মধ্যেও মহত্ত্ব রয়েছে। অর্জুন একজন মহাবীর এবং মহান যোদ্ধা হয়েও নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে দ্বিধা করেননি। তিনি নিজের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য ভুলকে আড়াল করেননি। বরং সত্যকে স্বীকার করেছেন। এখানেই তাঁর চরিত্রের মহত্ত্ব। নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের অহংকারকে অতিক্রম করার শক্তির লক্ষণ।

শ্লোকটির সাহিত্যিক সৌন্দর্যও অসাধারণ। প্রথমে আসে অবহাসের কথা। সেখানে রয়েছে হাসি, পরিহাস ও বন্ধুত্বের স্বাভাবিকতা। তারপর আসে বিহার, শয্যা, আসন ও ভোজনের মতো সাধারণ জীবনের দৃশ্য। এরপর হঠাৎ কৃষ্ণকে বলা হয় অচ্যুত। শেষে বলা হয় অপ্রমেয়। ফলে বক্তব্যটি ধীরে ধীরে সাধারণ মানবিক সম্পর্ক থেকে অসীম আধ্যাত্মিক উপলব্ধির দিকে উঠে যায়। যেন অর্জুনের ভাষার মধ্য দিয়েই একটি অন্তর্জাগরণের পথ তৈরি হয়। পরিচিত বন্ধু থেকে অচ্যুত এবং অচ্যুত থেকে অপ্রমেয় পরম সত্তা হয়ে ওঠেন কৃষ্ণ।

এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর শিক্ষা সম্ভবত মানুষের নিজের জ্ঞানের সীমা উপলব্ধি করা। অজ্ঞতার একটি লক্ষণ হলো নিজের জ্ঞানকে সম্পূর্ণ মনে করা। কিন্তু সত্যিকারের জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী করে। অর্জুন যখন কৃষ্ণকে অপ্রমেয় বলছেন, তখন তিনি শুধু কৃষ্ণের মহত্ত্ব ঘোষণা করছেন না। নিজের সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে যাঁকে এতদিন নিজের বন্ধুত্বের পরিচয়ে চিনেছেন, তাঁর প্রকৃত সত্তাকে তাঁর সীমিত বুদ্ধি দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করা সম্ভব নয়।

অতএব গীতার এই শ্লোকটি কেবল একটি ব্যক্তিগত ক্ষমাপ্রার্থনা নয়। এটি মানুষের অহংকার থেকে বিনয়ের দিকে, পরিচিতির সীমা থেকে গভীর উপলব্ধির দিকে এবং বন্ধুত্ব থেকে ভক্তির গভীরতর স্তরে যাত্রার এক অনন্য দলিল। অর্জুনের কণ্ঠে এখানে যে ক্ষমাপ্রার্থনা শোনা যায়, তা আসলে একজন মানুষের সীমিত সত্তার পক্ষ থেকে অসীমের সামনে নত হওয়ার ভাষা। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে কৃষ্ণ তাঁর বন্ধু, কিন্তু শুধু বন্ধু নন। তিনি অচ্যুত, যিনি কখনো সত্য থেকে বিচ্যুত হন না। তিনি অপ্রমেয়, যাঁকে সীমিত বুদ্ধি ও মাপের মধ্যে আবদ্ধ করা যায় না। তাই অর্জুনের এই ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্যে কেবল অনুশোচনা নেই। এর মধ্যে রয়েছে জ্ঞানের পরিণতি, অহংকারের অবসান, সম্পর্কের পবিত্রতা এবং পরম সত্যের সামনে মানুষের বিনম্র আত্মসমর্পণ। এই কারণেই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ১১.৪২ শ্লোক মানবসম্পর্ক ও আধ্যাত্মিকতার এক গভীর শিক্ষা বহন করে। মানুষ যত গভীরভাবে সত্যকে উপলব্ধি করে, তত গভীরভাবে সে নিজের সীমাবদ্ধতাকে চিনতে শেখে। আর সেই আত্মজ্ঞান থেকেই জন্ম নেয় প্রকৃত বিনয়, শ্রদ্ধা ও ভক্তি।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 21, 2026 August 21, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি