ভগবদ্গীতা ১১.৫৪ — অনন্য ভক্তিতেই ঈশ্বরকে জানা ও লাভ করা যায়
ভক্ত্যা ত্বনন্যয়া শক্য অহমেবংবিধোহর্জুন।
জ্ঞাতুং দ্রষ্টুং চ তত্ত্বেন প্রবেষ্টুং চ পরন্তপ।।৫৪।।
অনুবাদঃ হে অর্জুন! হে পরন্তপ! অনন্য ভক্তির দ্বারাই কিন্তু এই প্রকার আমাকে তত্ত্বত জানতে, প্রত্যক্ষ করতে এবং আমার চিন্ময় ধামে প্রবেশ করতে সমর্থ হয়।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায়ের চুয়ান্নতম শ্লোকটি বিশ্বরূপ দর্শনের পর শ্রীকৃষ্ণের একটি গভীর আধ্যাত্মিক ঘোষণা। অর্জুন যখন কৃষ্ণের অসীম বিশ্বরূপ প্রত্যক্ষ করেন, তখন তাঁর সামনে ঈশ্বরের এমন এক রূপ প্রকাশিত হয় যা সাধারণ মানবচক্ষু বা সাধারণ বুদ্ধির সীমার বাইরে। সেই অভিজ্ঞতার পর কৃষ্ণ বলেন, ভক্ত্যার ত্বনন্যয়া শক্য অহমেবংবিধোর্জুন জ্ঞাতুং দ্রষ্টুং চ তত্ত্বেন প্রবেষ্টুং চ পরন্তপ। অর্থাৎ হে অর্জুন, অনন্য ভক্তির দ্বারাই এইরূপ আমাকে তত্ত্বত জানা, দেখা এবং আমার মধ্যে প্রবেশ করা সম্ভব। এই শ্লোক তাই শুধু ভক্তির প্রশংসা নয়। এটি মানুষের ঈশ্বর উপলব্ধির প্রকৃতি সম্পর্কে একটি গভীর দার্শনিক সত্য প্রকাশ করে।
এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ভক্ত্যা। ভক্ত্যা শব্দটি এসেছে ভক্তি থেকে এবং ভক্তি শব্দের মূল ধাতু হলো সংস্কৃত √ভজ্। এই ধাতুর মধ্যে ভাগ করা, অংশ গ্রহণ করা, সেবা করা, আশ্রয় গ্রহণ করা এবং সম্পর্ক স্থাপনের অর্থ নিহিত রয়েছে। তাই ভক্তি কেবল ঈশ্বরের সামনে মাথা নত করা বা কিছু আচার পালন করার নাম নয়। ভক্তি হলো ঈশ্বরের সঙ্গে একটি গভীর অস্তিত্বগত সম্পর্ক স্থাপন করা। যেখানে মানুষ নিজের জীবনকে ঈশ্বরের সত্য, ইচ্ছা ও আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। সেই কারণে গীতার ভক্তি কেবল আবেগ নয়। এটি প্রেম, বিশ্বাস, আত্মসমর্পণ, স্মরণ, সেবা এবং অন্তরের একাগ্রতার সমন্বিত অবস্থা।
এরপর এসেছে অনন্যয়া শব্দটি। অনন্য শব্দটি গঠিত হয়েছে অ এবং অন্য এই দুই অংশের সমন্বয়ে। অ অর্থ নয় এবং অন্য অর্থ দ্বিতীয় বা পৃথক। তাই অনন্য অর্থ হলো যেখানে অন্য কোনো দ্বিতীয় আশ্রয় নেই। অনন্য ভক্তি বলতে এমন ভক্তিকে বোঝায় যেখানে ঈশ্বর মানুষের জীবনের চূড়ান্ত আশ্রয় ও পরম লক্ষ্য হয়ে ওঠেন। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ সংসারের সম্পর্ক, দায়িত্ব বা কাজ পরিত্যাগ করবে। বরং সংসারের সমস্ত কাজের মধ্যেও তার অন্তরের সর্বোচ্চ নির্ভরতা থাকবে পরম সত্যের ওপর। মানুষের জীবনে যখন অসংখ্য আকর্ষণ, ভয়, আশা, লোভ ও দ্বন্দ্ব তাকে বিভিন্ন দিকে টেনে নিয়ে যায়, তখন অনন্য ভক্তি সেই বিচ্ছিন্ন মনকে একটি কেন্দ্রে স্থাপন করে।
শ্রীকৃষ্ণের বক্তব্যে তু শব্দটিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তু অর্থ কিন্তু বা তবে। বিশ্বরূপ দর্শনের পর কৃষ্ণ যেন একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নির্দেশ করছেন। অসাধারণ কোনো দর্শন পাওয়া এবং ঈশ্বরকে সত্যরূপে উপলব্ধি করা এক বিষয় নয়। বাহ্যিক চোখে কোনো মহৎ দৃশ্য দেখা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু সেই দৃশ্যের অন্তর্নিহিত সত্য উপলব্ধি করা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। তাই কৃষ্ণ বলছেন, অনন্য ভক্তির মাধ্যমেই এই বিশেষ ঈশ্বরীয় স্বরূপকে প্রকৃতভাবে জানা ও উপলব্ধি করা সম্ভব।
শ্লোকের শক্য শব্দটি এসেছে √শক্ ধাতু থেকে। এর অর্থ সক্ষম হওয়া বা সম্ভব হওয়া। এখানে কৃষ্ণ জানিয়ে দিচ্ছেন যে ঈশ্বরের এই অসীম স্বরূপকে জানা, দেখা এবং তাঁর মধ্যে প্রবেশ করা মানুষের জন্য সম্ভব। তবে সেই সম্ভাবনার পথ হলো অনন্য ভক্তি। অর্থাৎ ঈশ্বর উপলব্ধি কোনো কল্পনাতীত বা সম্পূর্ণ অসম্ভব বিষয় নয়। মানুষের অন্তরের একটি বিশেষ পরিশুদ্ধ অবস্থার মাধ্যমে সেই উপলব্ধি সম্ভব।
অহম্ শব্দের অর্থ আমি। কিন্তু গীতার এই প্রসঙ্গে এই আমি সাধারণ ব্যক্তিগত অহংকারের আমি নয়। কৃষ্ণ এখানে নিজেকে সেই পরম ঈশ্বরীয় সত্তা হিসেবে প্রকাশ করছেন যিনি সমগ্র বিশ্বজগতের অন্তর্নিহিত সত্য। একাদশ অধ্যায়ে অর্জুন যে বিশ্বরূপ দেখেছেন সেখানে কৃষ্ণ আর কেবল তাঁর পরিচিত বন্ধু বা রথচালক নন। তিনি হয়ে উঠেছেন অসীম বিশ্বসত্তার প্রকাশ। তাই অহম্ শব্দটি এখানে ব্যক্তিগত পরিচয়কে অতিক্রম করে পরম অস্তিত্বের দিকে নির্দেশ করে।
এবংবিধ শব্দটির অর্থ এইরূপ বা এই ধরনের। এখানে এইরূপ বলতে কৃষ্ণের সেই বিশ্বরূপ বোঝানো হয়েছে যা অর্জুন একাদশ অধ্যায়ে প্রত্যক্ষ করেছেন। সেই রূপ ছিল সীমাহীন, সর্বব্যাপী এবং অসংখ্য দেবতা, প্রাণী, শক্তি ও অস্তিত্বকে নিজের মধ্যে ধারণকারী। তাই কৃষ্ণ যখন বলেন অহমেবংবিধঃ, তখন তিনি বোঝাচ্ছেন যে অর্জুন যে অসীম ঈশ্বরীয় রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন, সেটিই তাঁর এক বিশেষ প্রকাশ।
এরপর আসে জ্ঞাতুম্ শব্দটি। এর মূল ধাতু হলো √জ্ঞা, যার অর্থ জানা বা উপলব্ধি করা। কিন্তু গীতায় জানা বলতে কেবল তথ্য সংগ্রহ বোঝানো হয় না। একজন মানুষ ঈশ্বর সম্পর্কে অনেক বই পড়তে পারে, বহু শাস্ত্র মুখস্থ করতে পারে এবং ঈশ্বরের নানা গুণ সম্পর্কে আলোচনা করতে পারে। তবুও তার ঈশ্বর উপলব্ধি নাও হতে পারে। কারণ তথ্য জানা এবং সত্যকে উপলব্ধি করা এক বিষয় নয়। কৃষ্ণের জ্ঞাতুম্ শব্দের মধ্যে তাই এমন জ্ঞানের ইঙ্গিত রয়েছে যা অন্তরের পরিবর্তন ঘটায়।
এরপর এসেছে দ্রষ্টুম্ শব্দটি। এটি √দৃশ্ ধাতু থেকে এসেছে এবং এর অর্থ দেখা বা দর্শন করা। এখানে জানা এবং দেখার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এক ধরনের অভিজ্ঞতা, আর সেই সত্যকে প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করা অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা। একজন মানুষ সমুদ্র সম্পর্কে বই পড়ে তার গভীরতা, বিস্তার এবং শক্তি সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তার অসীম বিস্তার অনুভব করার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা। তেমনি ঈশ্বর সম্পর্কে জ্ঞান এবং ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ উপলব্ধির মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে।
এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর শব্দগুলোর একটি হলো তত্ত্বেন। তত্ত্ব শব্দটি গঠিত হয়েছে তৎ এবং ত্ব থেকে। তৎ অর্থ সেই এবং ত্ব অর্থ সেই হওয়ার প্রকৃতি। তাই তত্ত্ব বলতে কোনো কিছুর প্রকৃত স্বরূপ বা সত্য প্রকৃতি বোঝায়। তত্ত্বেন অর্থ তত্ত্বত, প্রকৃত সত্যরূপে বা যথার্থভাবে। কৃষ্ণ শুধু বলেননি যে তাঁকে দেখা যাবে। তিনি বলেছেন তাঁকে তত্ত্বত দেখা যাবে। অর্থাৎ বাহ্যিক রূপ দেখা নয়, সেই রূপের অন্তর্নিহিত সত্য উপলব্ধি করাই আসল বিষয়।
একটি মানুষ আগুনকে দেখতে পারে কিন্তু আগুনের তাপ অনুভব নাও করতে পারে। একজন ব্যক্তি প্রেম সম্পর্কে অসংখ্য কবিতা পড়তে পারে কিন্তু প্রেমের গভীর অনুভূতি তার মধ্যে নাও জন্মাতে পারে। তেমনি ঈশ্বরের রূপ সম্পর্কে জানা বা কোনো দর্শন লাভ করাই চূড়ান্ত উপলব্ধি নয়। তত্ত্বত উপলব্ধি তখনই হয় যখন সেই সত্য মানুষের চিন্তা, অনুভূতি এবং জীবনকে পরিবর্তন করে দেয়।
এরপর এসেছে প্রবেষ্টুম্ শব্দটি। এর মূল ধাতু √বিশ্, যার অর্থ প্রবেশ করা। প্র উপসর্গের সঙ্গে এর অর্থ হয়েছে প্রবেশ করা বা গভীরে প্রবিষ্ট হওয়া। ঈশ্বরের মধ্যে প্রবেশ করা কোনো শারীরিক স্থান পরিবর্তনের কথা নয়। এটি আধ্যাত্মিক ভাষা। এর অর্থ হলো ঈশ্বরীয় সত্যের মধ্যে নিজের চেতনা, জীবন ও অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করা। মানুষ যখন কেবল বাইরে থেকে ঈশ্বরকে দেখতে থাকে, তখন ঈশ্বর তার কাছে একটি আলাদা সত্তা। কিন্তু যখন তার জীবন ঈশ্বরীয় সত্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়, তখন ঈশ্বর আর কেবল বাইরের কোনো বিষয় থাকেন না। তিনি তার জীবনের কেন্দ্র হয়ে ওঠেন।
এই তিনটি শব্দ জ্ঞাতুম্, দ্রষ্টুম্ এবং প্রবেষ্টুম্ একসঙ্গে শ্লোকটির আধ্যাত্মিক যাত্রাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রকাশ করে। প্রথমে আছে জানা। তারপর আছে দেখা। সবশেষে আছে প্রবেশ করা। অর্থাৎ প্রথমে মানুষ সত্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে। তারপর সেই সত্যকে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করে। শেষ পর্যন্ত সেই সত্য তার অস্তিত্বের অংশ হয়ে যায়। এটি শুধু ধর্মীয় সাধনার একটি ক্রম নয়। মানুষের জীবনের যেকোনো গভীর উপলব্ধির ক্ষেত্রেও এই তিনটি স্তর দেখা যায়।
শ্লোকের শেষ শব্দ পরন্তপ। পরন্তপ শব্দের অর্থ শত্রুকে দগ্ধকারী বা শত্রুদমনকারী। কৃষ্ণ অর্জুনকে এই নামে সম্বোধন করে তাঁর যোদ্ধা পরিচয়কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু এই শব্দের একটি গভীর অন্তর্নিহিত অর্থও রয়েছে। মানুষের প্রকৃত শত্রু শুধু বাহ্যিক কেউ নয়। মানুষের অন্তরের মোহ, ভয়, অহংকার, অজ্ঞতা, লোভ এবং দ্বিধাও তার শত্রু। যে মানুষ নিজের অন্তরের এই অন্ধকারকে জয় করতে পারে, প্রকৃত অর্থে সেই পরন্তপ।
এই শ্লোকের দার্শনিক গুরুত্ব এখানেই যে কৃষ্ণ জ্ঞান ও ভক্তিকে পরস্পরের বিরোধী হিসেবে দেখাচ্ছেন না। বরং ভক্তির মাধ্যমে জ্ঞান পরিশুদ্ধ হয় এবং জ্ঞান ভক্তিকে গভীরতা দেয়। শুধু আবেগ মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনকে স্থায়ী করতে পারে না। আবার শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানও হৃদয়কে পরিবর্তন করতে পারে না। ভক্তি যখন জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয় তখন ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা ধীরে ধীরে ঈশ্বর উপলব্ধির দিকে এগিয়ে যায়।
অদ্বৈত দর্শনের আলোকে এই শ্লোককে পড়লে অনন্য ভক্তি মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার একটি শক্তিশালী পথ। অহংকার ও পৃথকতার অনুভূতি ধীরে ধীরে ক্ষীণ হলে ব্যক্তি পরম সত্যের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক উপলব্ধি করতে পারে। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে ভক্তি হলো ঈশ্বরের প্রতি একনিষ্ঠ আশ্রয় এবং তাঁর সান্নিধ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ। দ্বৈত দর্শনে জীব ও ঈশ্বরের মধ্যে চিরন্তন পার্থক্য বজায় রেখেও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের পরম সান্নিধ্য ও আশ্রয় লাভ করা সম্ভব। দর্শনের ভিন্নতা থাকলেও সব ক্ষেত্রেই অনন্য ভক্তির গুরুত্ব স্পষ্ট।
আধুনিক জীবনের দৃষ্টিতেও এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আজকের মানুষ অসংখ্য তথ্য, আকর্ষণ এবং বিকল্পের মধ্যে বসবাস করে। তার মন একসঙ্গে বহু দিকে ছুটে চলে। কখনো অর্থের দিকে, কখনো খ্যাতির দিকে, কখনো সামাজিক স্বীকৃতির দিকে, কখনো ব্যক্তিগত সাফল্যের দিকে। ফলে জীবনের একটি স্থির কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। অনন্য ভক্তি মানুষের সেই বিচ্ছিন্ন মনকে একটি কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনে। এটি শেখায় যে জীবনের বাহ্যিক কাজ যতই পরিবর্তিত হোক, অন্তরের চূড়ান্ত আশ্রয় যেন অস্থির না হয়।
একজন ছাত্রের উদাহরণ ধরা যেতে পারে। সে শুধু পরীক্ষার বই পড়লেই জ্ঞানী হয়ে যায় না। তাকে পড়া বিষয় বুঝতে হয়, নিজের জীবনে তার প্রয়োগ করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই জ্ঞান তার চিন্তার অংশ হয়ে উঠতে হয়। ঈশ্বর উপলব্ধির ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। শাস্ত্র পড়া হলো জানা। সাধনা ও অন্তর্দর্শনের মাধ্যমে উপলব্ধি হলো দেখা। আর জীবনের প্রতিটি কাজের মধ্যে সেই সত্যকে ধারণ করা হলো প্রবেশ করা।
এই কারণে গীতা ১১.৫৪ কেবল একটি ধর্মীয় শ্লোক নয়। এটি মানুষের জ্ঞান অনুসন্ধান এবং আত্মিক পরিণতির একটি গভীর মানচিত্র। মানুষ প্রথমে প্রশ্ন করে। তারপর জানতে চায়। জ্ঞান অর্জনের পরে সত্যকে দেখতে চায়। আর সত্যের গভীরে পৌঁছানোর পরে নিজের জীবনকে সেই সত্যের সঙ্গে একীভূত করতে চায়। এই সম্পূর্ণ যাত্রার কেন্দ্র হলো অনন্য ভক্তি।
সবশেষে বলা যায়, ভক্ত্যা ত্বনন্যয়া শক্য অহমেবংবিধোর্জুন জ্ঞাতুং দ্রষ্টুং চ তত্ত্বেন প্রবেষ্টুং চ পরন্তপ শ্লোকটি মানুষের ঈশ্বর অনুসন্ধানের এক গভীর সত্যকে প্রকাশ করে। ঈশ্বরকে কেবল বুদ্ধি দিয়ে জানা যায় না, কেবল চোখ দিয়ে দেখা যায় না এবং কেবল বাহ্যিক উপাসনার মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায় না। সত্য উপলব্ধির জন্য প্রয়োজন এমন এক ভক্তি যা একনিষ্ঠ, গভীর এবং আত্মসমর্পিত। সেই ভক্তি জ্ঞানকে জীবন্ত করে, দর্শনকে অর্থপূর্ণ করে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষকে তার উপলব্ধ সত্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে। তাই এই শ্লোকের সারকথা হলো মানুষ যখন তার হৃদয়, জ্ঞান এবং জীবনকে এক পরম সত্যের দিকে একাগ্র করে, তখন ঈশ্বর তার কাছে শুধু জানার বিষয় থাকেন না। তিনি হয়ে ওঠেন জীবনের উপলব্ধ সত্য এবং অস্তিত্বের গভীরতম আশ্রয়।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!