ভগবদ্গীতা ১২.১ — ভক্তি ও অব্যক্ত উপাসনার শ্রেষ্ঠতা
অর্জুন উবাচ
এবং সততযুক্তা যে ভক্তাস্ত্বাং পর্যুপাসতে।
যে চাপ্যক্ষরমব্যক্তং তেষাং কে যোগবিত্তমাঃ।।১।।
অনুবাদঃ অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন-এভাবেই নিরন্তর ভক্তিযুক্ত হয়ে যে সমস্ত ভক্তেরা যথাযথভাবে তোমার আরাধনা করেন এবং যাঁরা ইন্দ্রিয়াতীত অব্যক্ত ব্রহ্মের উপাসনা করেন, তাঁদের মধ্যে কারা শ্রেষ্ঠ যোগী।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকে অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে মানুষের আধ্যাত্মিক সাধনার দুটি ভিন্ন পথ সম্পর্কে একটি অত্যন্ত গভীর প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, যারা সর্বদা তোমার সঙ্গে যুক্ত থেকে তোমার উপাসনা করেন এবং যারা অক্ষর ও অব্যক্ত পরম সত্যের উপাসনা করেন, তাঁদের মধ্যে যোগতত্ত্বে শ্রেষ্ঠ কারা। এই প্রশ্নের মধ্যে মানুষের চিরন্তন ঈশ্বর অনুসন্ধান, ভক্তি ও জ্ঞানের সম্পর্ক এবং ব্যক্ত ও অব্যক্ত পরম সত্যের রহস্য একসঙ্গে নিহিত রয়েছে। শ্লোকের প্রতিটি শব্দ তাই কেবল ভাষাগত অর্থ বহন করে না, বরং ভারতীয় দর্শনের একটি বিশাল আধ্যাত্মিক পরিসরকে ধারণ করে।
সততযুক্তা শব্দটির মধ্যে রয়েছে নিরন্তরভাবে যুক্ত থাকার গভীর ধারণা। সতত অর্থ সর্বদা, অবিরাম বা নিরবচ্ছিন্নভাবে এবং যুক্ত ভাবটির উৎস সংস্কৃত যুজ্ ধাতু, যার মধ্যে যোগ, সংযোগ ও নিবিষ্টতার ধারণা নিহিত। ফলে সততযুক্তা বলতে এমন সাধককে বোঝানো হয়েছে যাঁর মন ও চেতনা সাময়িকভাবে নয়, বরং সর্বক্ষণ ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে। এই যুক্ততা কেবল বাহ্যিক কোনো ধর্মীয় আচরণ নয়। একজন মানুষ পূজা বা প্রার্থনার নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কীভাবে জীবনযাপন করেন, কীভাবে কর্ম করেন, কীভাবে মানুষের সঙ্গে আচরণ করেন এবং সুখ ও দুঃখের মধ্যে তাঁর অন্তর কোথায় আশ্রয় নেয়, তার মধ্যেও এই ঈশ্বরসংযুক্ততার প্রকাশ ঘটে। এই কারণে সততযুক্তা শব্দটি আধ্যাত্মিক জীবনের ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে ওঠে।
ভক্ত শব্দটির উৎস সংস্কৃত ভজ্ ধাতুতে। ভজ্ ধাতুর মধ্যে সেবা করা, গ্রহণ করা, অংশগ্রহণ করা এবং উপাসনা করার ভাব রয়েছে। তাই ভক্ত কেবল এমন ব্যক্তি নন যিনি ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করেন বা কোনো ধর্মীয় আচার পালন করেন। প্রকৃত ভক্ত হলেন এমন একজন মানুষ যিনি নিজের হৃদয়ে ঈশ্বরকে জীবনের পরম আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ভালোবাসা, বিশ্বাস, সেবা ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন। এই কারণে ভক্তি কেবল একটি অনুভূতি নয়, এটি একটি জীবনদৃষ্টি। ভক্তের কাছে ঈশ্বর দূরের কোনো বিমূর্ত ধারণা নন। তিনি জীবনের কেন্দ্র, আশ্রয়, প্রিয়তম, পথপ্রদর্শক এবং অন্তরের অবলম্বন।
ত্বাম্ শব্দের অর্থ তোমাকে এবং এখানে এটি সরাসরি শ্রীকৃষ্ণকে নির্দেশ করছে। এই একটি শব্দের মধ্যেই গীতার ব্যক্ত ঈশ্বর ধারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশিত হয়। ঈশ্বর এখানে কেবল একটি নিরাকার নীতি বা মহাজাগতিক শক্তি হিসেবে উপস্থিত নন। তিনি এমন এক পরম সত্তা যাঁর সঙ্গে মানুষ ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। মানুষ তাঁকে ভালোবাসতে পারে, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে, তাঁকে স্মরণ করতে পারে এবং তাঁর সঙ্গে নিজের জীবনের সম্পর্ক অনুভব করতে পারে। এই ব্যক্তিগত ঈশ্বরচেতনা ভক্তির পথকে মানুষের হৃদয়ের কাছে সহজ ও স্বাভাবিক করে তোলে।
পর্যুপাসতে শব্দটির মধ্যেও গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। উপাসনা শব্দটির সঙ্গে উপ এবং আস্ এই দুটি ভাব যুক্ত। উপ অর্থ নিকটে এবং আস্ অর্থ বসা। আক্ষরিক অর্থে উপাসনা মানে নিকটে বসা। কিন্তু আধ্যাত্মিক অর্থে এটি ঈশ্বরের নিকটে নিজের চেতনাকে স্থাপন করার প্রতীক। বাহ্যিকভাবে কোনো দেবমূর্তির সামনে বসা উপাসনার একটি রূপ হতে পারে, কিন্তু অন্তরের দিক থেকে উপাসনা হলো নিজের মন, চিন্তা, অনুভূতি ও জীবনকে পরম সত্যের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। পর্যুপাসতে সেই উপাসনার সর্বাঙ্গীণ ও গভীর রূপকে নির্দেশ করে যেখানে ঈশ্বরকে জীবনের বিচ্ছিন্ন একটি অংশ হিসেবে নয়, বরং সমগ্র অস্তিত্বের কেন্দ্র হিসেবে অনুভব করা হয়।
এরপর আসে অক্ষর শব্দটি। অক্ষর শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত ক্ষর্ ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষর্ অর্থ ক্ষয় হওয়া, প্রবাহিত হওয়া বা বিলীন হওয়া। এর সঙ্গে অ নিষেধসূচক ভাব যুক্ত হয়ে অক্ষর অর্থ হয়েছে যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, যা বিনষ্ট হয় না এবং যা চিরস্থায়ী। পরিবর্তনশীল জগতের মধ্যে আমরা যা কিছু দেখি তার জন্ম আছে, বিকাশ আছে এবং বিলয় আছে। কিন্তু ভারতীয় দর্শন এমন একটি সত্যের সন্ধান করে যা এই পরিবর্তনের ধারার অতীত। অক্ষর সেই অবিনশ্বর বাস্তবতার প্রতীক। মানুষের শরীর পরিবর্তিত হয়, চিন্তা পরিবর্তিত হয়, সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়, সমাজ পরিবর্তিত হয় এবং প্রকৃতির রূপ পরিবর্তিত হয়। কিন্তু এই পরিবর্তনের অন্তরালে এমন একটি চিরস্থায়ী সত্য আছে কিনা, মানুষের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান মূলত সেই প্রশ্নের দিকে এগিয়ে যায়।
অব্যক্ত শব্দটি গঠিত হয়েছে অ এবং ব্যক্ত এই দুই ভাবের সমন্বয়ে। ব্যক্ত অর্থ প্রকাশিত, দৃশ্যমান, নির্দিষ্ট বা নাম ও রূপের মাধ্যমে উপলব্ধ। তাই অব্যক্ত অর্থ এমন যা সাধারণ ইন্দ্রিয়ের কাছে প্রকাশিত নয়। তবে অব্যক্তকে কেবল অদৃশ্য বলে বোঝা যথেষ্ট নয়। এর গভীর অর্থ হলো এমন এক বাস্তবতা যা সীমিত নাম, রূপ ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আবদ্ধ নয়। আমরা যে জগতকে চোখ দিয়ে দেখি তা ব্যক্ত জগত। তার পেছনে যে অপ্রকাশিত সম্ভাবনা ও পরম বাস্তবতার সন্ধান ভারতীয় দর্শন করে, অব্যক্ত শব্দ সেই গভীর স্তরকে নির্দেশ করে।
অক্ষর ও অব্যক্ত একসঙ্গে ব্যবহৃত হওয়ায় একটি বিশেষ দার্শনিক ভাব প্রকাশ পায়। এখানে এমন এক পরম সত্যের কথা বলা হচ্ছে যা অবিনশ্বর এবং সাধারণ নাম ও রূপের মাধ্যমে প্রকাশিত নয়। ব্যক্ত জগতের সবকিছু পরিবর্তনশীল হলেও অক্ষর অব্যক্ত সত্য পরিবর্তনের অতীত। এই ধারণা মানুষকে দৃশ্যমান জগতের সীমা অতিক্রম করে অস্তিত্বের গভীরতম ভিত্তি অনুসন্ধানের দিকে আহ্বান জানায়। যা দেখা যায় সেটিই সব নয় এবং যা চোখে দেখা যায় না সেটি যে অস্তিত্বহীন, এমন ধারণাও ভারতীয় আধ্যাত্মিক দর্শন গ্রহণ করে না।
যোগবিত্তমাঃ শব্দটি এই প্রশ্নের শেষ অংশকে ধারণ করে। যোগ অর্থ সংযোগ, ঐক্য, সাধনা এবং পরম সত্যের সঙ্গে চেতনার মিলন। বিদ্ ধাতুর অর্থ জানা। ফলে যোগবিদ্ হলেন যিনি যোগের প্রকৃত তত্ত্ব জানেন এবং যোগবিত্তমাঃ সেই জ্ঞানীর শ্রেষ্ঠত্বকে নির্দেশ করে। অর্জুনের প্রশ্ন তাই কেবল কে বেশি ধার্মিক সেই প্রশ্ন নয়। তিনি জানতে চাইছেন কোন সাধনাপথ পরম সত্য উপলব্ধির জন্য অধিক উৎকৃষ্ট এবং কোন সাধক যোগের প্রকৃত অর্থকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।
এই শ্লোকে একদিকে রয়েছে ব্যক্ত ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি এবং অন্যদিকে রয়েছে অক্ষর অব্যক্ত সত্যের সাধনা। ভক্তের পথ হৃদয়কে কেন্দ্র করে। তিনি ঈশ্বরকে ভালোবাসেন, স্মরণ করেন, সেবা করেন এবং নিজের অস্তিত্বকে তাঁর কাছে সমর্পণ করেন। জ্ঞান বা অব্যক্ত সাধনার পথ তুলনামূলকভাবে বিমূর্ত। সেখানে সাধক নাম ও রূপের সীমা অতিক্রম করে সেই পরম বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে চান যা সমস্ত প্রকাশের ভিত্তি। এই দুই পথ মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মানসিক প্রবণতার প্রতিফলন। কেউ ভালোবাসার মাধ্যমে সত্যের দিকে এগিয়ে যান এবং কেউ অনুসন্ধান, জ্ঞান ও ধ্যানের মাধ্যমে সত্যকে উপলব্ধি করতে চান।
এই কারণে শ্লোকটির দার্শনিক গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। এটি ভক্তি ও জ্ঞানকে কেবল বিরোধী দুটি পথ হিসেবে দাঁড় করায় না। বরং মানুষের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের বিভিন্ন মাত্রাকে সামনে আনে। অদ্বৈত ভাবনায় অক্ষর অব্যক্ত পরম ব্রহ্মের নিরাকার সত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সেখানে পরম সত্য নাম ও রূপের অতীত এবং আত্মা ও ব্রহ্মের ঐক্য উপলব্ধি জ্ঞানের পরিণতি। অন্যদিকে ভক্তিমূলক দর্শনে ব্যক্ত ঈশ্বরের সঙ্গে প্রেমময় সম্পর্কই সাধনার কেন্দ্র। সেখানে ঈশ্বর কেবল একটি বিমূর্ত সত্য নন। তিনি ভক্তের হৃদয়ের পরম প্রিয় এবং আশ্রয়।
সততযুক্তা শব্দটি মানবজীবনের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ প্রায়ই জীবনের বিভিন্ন অংশকে আলাদা করে দেখে। কাজ একদিকে, পরিবার অন্যদিকে, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা আরেকদিকে এবং আধ্যাত্মিক জীবন অন্যদিকে। ফলে তার মধ্যে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। গীতার সততযুক্তা ধারণা এই বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে একটি ঐক্যবদ্ধ জীবনের কথা বলে। মানুষ যদি নিজের কর্মকে কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করে, সম্পর্ককে ভালোবাসা ও সেবার ক্ষেত্র হিসেবে দেখে এবং অন্তরকে সত্যের অনুসন্ধানে নিয়োজিত রাখে, তাহলে জীবনের বিভিন্ন অংশের মধ্যে একটি গভীর সামঞ্জস্য সৃষ্টি হতে পারে।
এই ধারণাকে একটি নদীর সঙ্গে তুলনা করা যায়। নদীর জল প্রতিমুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। একই জল কখনো দ্বিতীয়বার একইভাবে ফিরে আসে না। তবুও নদীর একটি ধারাবাহিকতা থাকে। মানুষের জীবনও তেমন। শৈশব, যৌবন, বার্ধক্য, সুখ, দুঃখ, সাফল্য ও ব্যর্থতা সবই পরিবর্তিত হয়। কিন্তু অন্তরের কোনো একটি স্থায়ী সত্যের সঙ্গে যদি মানুষের সম্পর্ক অটুট থাকে, তাহলে পরিবর্তনের মধ্যেও তার জীবনে একটি গভীর ঐক্য বজায় থাকে। এই ঐক্যই সততযুক্ত হওয়ার ভাবকে বোঝাতে পারে।
অব্যক্ত সাধনাকে সমুদ্রের গভীরতার সঙ্গেও তুলনা করা যায়। সমুদ্রের উপরিভাগে ঢেউ প্রবল এবং পরিবর্তনশীল। কিন্তু যত গভীরে যাওয়া যায়, ততই বাহ্যিক অস্থিরতা থেকে দূরে যাওয়া যায়। ব্যক্ত জগতের নাম ও রূপ যেন সেই উপরিভাগের ঢেউ এবং অব্যক্ত সত্য যেন গভীর সমুদ্রের নীরবতা। আবার ভক্তির পথকে প্রিয়জনের স্মরণের সঙ্গে তুলনা করা যায়। একজন মানুষ যাকে সত্যিই ভালোবাসেন তাঁকে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে স্মরণ করেন না। তাঁর চিন্তা, কর্ম ও অনুভূতির মধ্যে সেই সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়। তেমনি প্রকৃত ভক্তের ঈশ্বরস্মরণ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের আচার নয়, বরং জীবনের অন্তর্নিহিত স্রোত।
এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সততযুক্তা হলো অবিচ্ছিন্ন চেতনার প্রতীক। ভক্ত হলো হৃদয়ের প্রেম, বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণের প্রতীক। উপাসনা হলো পরম সত্যের নিকটে অন্তরকে নিয়ে যাওয়ার প্রতীক। অক্ষর হলো চিরস্থায়ী সত্যের প্রতীক। অব্যক্ত হলো নাম ও রূপের অতীত রহস্যের প্রতীক। আর যোগ হলো বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে আত্মা, মন, কর্ম ও পরম সত্যের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক।
সবশেষে বলা যায়, এই শ্লোক মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন ও গভীর প্রশ্নগুলোর একটি সামনে নিয়ে আসে। পরিবর্তনশীল জীবনের মধ্যে অপরিবর্তনীয় সত্য কোথায় এবং মানুষ কীভাবে সেই সত্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কেউ সেই সত্যকে ব্যক্ত ঈশ্বর হিসেবে ভালোবাসেন এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। কেউ সেই সত্যকে অক্ষর অব্যক্ত ব্রহ্ম হিসেবে অনুসন্ধান করেন। ভাষাগতভাবে সততযুক্তা আমাদের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের কথা বলে, ভক্ত আমাদের প্রেম ও আত্মসমর্পণের কথা বলে, উপাসনা আমাদের অন্তরকে পরম সত্যের নিকটে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে, অক্ষর আমাদের অবিনশ্বর সত্যের কথা বলে এবং অব্যক্ত আমাদের নাম ও রূপের অতীত বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই সব ভাব একত্রে দেখলে বোঝা যায় যে গীতার এই প্রশ্ন কেবল দুটি উপাসনাপদ্ধতির তুলনা নয়। এটি মানুষের হৃদয়, বুদ্ধি ও অস্তিত্বের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে একটি অনুসন্ধান। মানুষের সাধনা যখন বিচ্ছিন্নতা অতিক্রম করে প্রেম, জ্ঞান, একাগ্রতা ও আত্মসমর্পণের মধ্যে একটি গভীর ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে, তখনই যোগের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধ হতে শুরু করে।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!