সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১২.২০ — ধর্মরূপ অমৃত অনুসরণকারী ভক্তই শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যে তু ধর্মামৃতমিদং যথোক্তং পর্যুপাসতে। শ্রদ্দধানা মৎপরমা ভক্তাস্তেহতীব মে প্রিয়াঃ।।২০।।
যে তু ধর্মামৃতমিদং যথোক্তং পর্যুপাসতে। 
শ্রদ্দধানা মৎপরমা ভক্তাস্তেহতীব মে প্রিয়াঃ।।২০।।

অনুবাদঃ যাঁরা আমার দ্বারা কথিত এই ধর্মামৃতের উপাসনা করেন, সেই সকল শ্রদ্ধাবান মৎপরায়ণ ভক্তগণ আমার অত্যন্ত প্রিয়।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ের শেষ শ্লোকটি ভক্তিতত্ত্বের এক অপূর্ব পরিণতি প্রকাশ করে। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, “যে তু ধর্মামৃতমিদং যথোক্তং পর্যুপাসতে। শ্রদ্দধানা মৎপরা ভক্তাস্তেহতীব মে প্রিয়াঃ।” অর্থাৎ যারা কৃষ্ণের দ্বারা কথিত এই ধর্মরূপ অমৃতকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে অনুসরণ করেন, যাঁদের জীবনের পরম লক্ষ্য ঈশ্বর এবং যাঁরা ভক্তিসম্পন্ন, তাঁরা কৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয়। এই শ্লোকটি শুধু দ্বাদশ অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, সমগ্র অধ্যায়ে বর্ণিত ভক্তির আদর্শের এক গভীর ও অর্থবহ উপসংহার।

এই শ্লোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ধর্মামৃত। ধর্মামৃত শব্দটি ধর্ম এবং অমৃত এই দুটি ধারণার সমন্বয়ে গঠিত। ধর্ম শব্দটি সংস্কৃত ধৃ ধাতু থেকে উদ্ভূত। ধৃ অর্থ ধারণ করা, ধরে রাখা বা স্থিতি প্রদান করা। সেই অর্থে ধর্ম হলো যা ব্যক্তি ও সমাজকে ধারণ করে, জীবনকে সঠিক পথে স্থিত রাখে এবং অস্তিত্বের গভীর সত্যের সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে। অন্যদিকে অমৃত শব্দের আক্ষরিক অর্থ মৃত্যুহীন বা মৃত্যুকে অতিক্রমকারী। তাই ধর্মামৃত বলতে এমন ধর্মকে বোঝায় যা কেবল বাহ্যিক আচার পালন নয়, বরং মানুষকে অজ্ঞতা, আসক্তি, অহংকার ও মৃত্যুভয়ের সীমা অতিক্রম করে চিরন্তন সত্যের দিকে নিয়ে যায়। এখানে অমৃত কোনো পার্থিব পানীয় নয়। এটি আত্মিক মুক্তি, চিরন্তন সত্য এবং ঈশ্বরসচেতনতার প্রতীক।

গীতার এই প্রসঙ্গে ধর্মামৃতের অর্থ আরও গভীর। দ্বাদশ অধ্যায়ের পূর্ববর্তী শ্লোকগুলিতে শ্রীকৃষ্ণ যে ভক্তের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, যেমন সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী ও করুণা, অহংকারহীনতা, সুখ ও দুঃখে সমভাব, ক্ষমাশীলতা, সন্তুষ্টি, আত্মসংযম, ঈশ্বরে মন ও বুদ্ধির নিবেদন এবং কারও প্রতি বিদ্বেষ না রাখা, সেই সমস্ত গুণের সমষ্টিগত জীবনধর্মই এখানে ধর্মামৃত নামে অভিহিত হয়েছে। অর্থাৎ ধর্মামৃত কোনো তাত্ত্বিক মতবাদ নয়। এটি এমন এক জীবনপদ্ধতি যার মাধ্যমে মানুষের অন্তর ধীরে ধীরে পরিশুদ্ধ হয় এবং তার জীবন ঈশ্বরমুখী হয়ে ওঠে।

শ্লোকে ব্যবহৃত যথোক্তম শব্দটিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যথা অর্থ যেমন বা যেভাবে এবং উক্ত অর্থ বলা হয়েছে। যথোক্তম অর্থ যেভাবে বলা হয়েছে বা পূর্বে যেভাবে নির্দেশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষ্ণ বোঝাচ্ছেন যে তিনি এখানে নতুন কোনো পথের কথা বলছেন না। দ্বাদশ অধ্যায়ে তিনি যে ভক্তির ধর্ম বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, সেটিই এখানে ধর্মামৃত হিসেবে পুনরায় নির্দেশিত হয়েছে। ফলে এই শেষ শ্লোকটি সমগ্র অধ্যায়ের পূর্ববর্তী শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

পর্যুপাসতে শব্দটির মধ্যেও গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। উপাসনা শব্দের মূল ভাব হলো নিকটে বসা বা সান্নিধ্য লাভ করা। এর মধ্যে এমন একটি ভাব রয়েছে যেখানে সাধক কেবল কোনো সত্যকে দূর থেকে স্বীকার করেন না, বরং সেই সত্যের নিকটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পর্যুপাসতে তাই শুধু ধর্ম পালন করা নয়। এর অর্থ হলো গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে সেই ধর্মকে অনুসরণ করা, নিজের জীবনকে তার আলোকে পরিচালিত করা এবং নিজের চিন্তা, কর্ম ও অনুভূতিকে সেই সত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। এই দৃষ্টিতে উপাসনা একটি বাহ্যিক আচার নয়, বরং অন্তরের অভিমুখ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া।

মানুষ অনেক সময় ধর্মকে কিছু নির্দিষ্ট আচার, অনুষ্ঠান বা সামাজিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখে। কিন্তু গীতার ধর্মের ধারণা তার চেয়ে অনেক গভীর। এখানে ধর্ম মানে এমন জীবনযাপন, যার মধ্যে সত্য, করুণা, সংযম, সমতা, অনাসক্তি এবং ঈশ্বরনিষ্ঠা একত্রিত হয়েছে। তাই পর্যুপাসতে বলতে বোঝায় সেই জীবনধর্মকে নিজের অস্তিত্বের অংশ করে নেওয়া। একজন মানুষ যখন ক্রোধের পরিবর্তে ক্ষমাকে, বিদ্বেষের পরিবর্তে করুণাকে, অহংকারের পরিবর্তে বিনয়কে এবং স্বার্থপরতার পরিবর্তে ঈশ্বরনিবেদিত কর্মকে বেছে নেন, তখনই তিনি প্রকৃত অর্থে ধর্মামৃতের উপাসনা করছেন।

শ্রদ্দধানা শব্দটি এই সাধনার অন্তর্গত মানসিক অবস্থাকে প্রকাশ করে। শ্রদ্ধা কেবল অন্ধ বিশ্বাস নয়। শ্রদ্ধা হলো কোনো গভীর সত্যের প্রতি অন্তরের আস্থা, গ্রহণশীলতা এবং সেই সত্যকে নিজের জীবনে উপলব্ধি করার আন্তরিক প্রস্তুতি। যে ব্যক্তি শ্রদ্ধাশীল, সে কেবল শাস্ত্রের কথা শুনে থেমে থাকে না। সে সেই শিক্ষাকে নিজের জীবনে পরীক্ষা করে, তার অর্থ উপলব্ধি করার চেষ্টা করে এবং ধীরে ধীরে তার চরিত্রে তা প্রকাশ করে। তাই শ্রদ্ধা হলো জ্ঞান ও জীবনের মধ্যে একটি সেতু।

এই শ্লোকের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো মৎপরা। মৎ অর্থ আমাকে এবং পরম অর্থ সর্বোচ্চ বা চূড়ান্ত। মৎপরা অর্থ যাঁদের কাছে আমি পরম, যাঁরা ঈশ্বরকেই জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই ধারণার মধ্যে ভক্তির মূল রহস্য নিহিত আছে। মানুষের জীবনে অনেক লক্ষ্য থাকে। অর্থ, সম্মান, সাফল্য, সম্পর্ক, ক্ষমতা ও সুখ মানুষকে বিভিন্ন দিকে টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু মৎপরা ব্যক্তি নিজের জীবনের চূড়ান্ত কেন্দ্র হিসেবে ঈশ্বরকে গ্রহণ করেন। তাঁর কাছে জাগতিক অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু সেগুলি চূড়ান্ত নয়। তাঁর জীবনের চূড়ান্ত অভিমুখ সত্য ও ঈশ্বরের দিকে।

এই মৎপরতার অর্থ সংসার ত্যাগ করা নয়। গীতার শিক্ষা অনুযায়ী একজন মানুষ সংসারে থেকেও ঈশ্বরকে জীবনের পরম লক্ষ্য করতে পারেন। তিনি নিজের কর্ম করবেন, কর্তব্য পালন করবেন, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু তাঁর অন্তরের কেন্দ্র থাকবে পরম সত্যে। তখন কর্ম আর কেবল ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম থাকে না। কর্ম হয়ে ওঠে সাধনা। সম্পর্ক হয়ে ওঠে সেবার ক্ষেত্র। জীবন হয়ে ওঠে ঈশ্বরস্মরণের একটি সুযোগ।

দার্শনিক দৃষ্টিতে এই শ্লোকের তাৎপর্য অত্যন্ত বিস্তৃত। অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে পরম সত্য এক এবং আত্মার প্রকৃত স্বরূপ সেই পরম সত্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই দৃষ্টিতে মৎপরা হওয়া মানে চেতনার সমস্ত ক্ষুদ্র ও অস্থায়ী কেন্দ্র অতিক্রম করে পরম সত্যকে জীবনের কেন্দ্র করা। ভক্তির মাধ্যমে মন একাগ্র ও নির্মল হলে অহংকারের আবরণ ক্রমে ক্ষীণ হয় এবং আত্মস্বরূপ উপলব্ধির পথ প্রসারিত হয়।

বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনের আলোকে মৎপরা হওয়ার মধ্যে ঈশ্বরের প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা ও প্রেম নিহিত থাকে। জীব ঈশ্বরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং ঈশ্বরের সেবাই তার জীবনের পরম অর্থ। দ্বৈত দর্শনের দৃষ্টিতে জীব ও ঈশ্বরের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে এবং ঈশ্বর সর্বোচ্চ প্রভু। সেখানে মৎপরা হওয়া মানে ঈশ্বরকে সর্বোচ্চ আশ্রয় ও পরম প্রভু হিসেবে গ্রহণ করা। দর্শনের বিভিন্ন ধারায় ব্যাখ্যার পার্থক্য থাকলেও একটি মৌলিক সত্য সর্বত্র প্রকাশিত হয়। মানুষের জীবন যখন নিজের ক্ষুদ্র অহংকারের কেন্দ্র থেকে সরে বৃহত্তর ও পরম সত্যের দিকে অগ্রসর হয়, তখনই তার আধ্যাত্মিক যাত্রা গভীর হয়।

এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত সুন্দর। ধর্মামৃত হলো এমন এক অমৃত যা মানুষের অন্তরকে মৃত্যুভয় ও অজ্ঞতার সীমা অতিক্রম করার শক্তি দেয়। উপাসনা হলো সেই অমৃতকে জীবনে ধারণ করার প্রতীক। শ্রদ্ধা হলো অন্তরের দরজা খুলে দেওয়ার প্রতীক। মৎপরতা হলো জীবনের কেন্দ্র পরিবর্তনের প্রতীক। আর প্রিয়তা হলো সেই সাধনার ঈশ্বরীয় স্বীকৃতির প্রতীক।

মানুষের সাধারণ জীবনকে একটি নদীর সঙ্গে তুলনা করা যায়। নদীর জল নিজের উৎস থেকে ক্রমাগত সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। তার যাত্রার একটি নির্দিষ্ট অভিমুখ থাকে। মানুষের জীবনও তেমন। যদি মানুষের মন কেবল নিজের ইচ্ছা, লাভ, ক্ষতি, সম্মান ও অপমানের চারপাশে ঘুরতে থাকে, তবে তার জীবন অস্থিরতার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন সে নিজের জীবনকে পরম সত্যের দিকে পরিচালিত করে, তখন তার জীবনে একটি গভীর উদ্দেশ্য জন্ম নেয়। মৎপরা হওয়া সেই অভিমুখ পরিবর্তনেরই নাম।

এই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি অপমানিত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে সংযম ও বিবেচনার আশ্রয় নেন, তবে তিনি ধর্মামৃতের চর্চা করছেন। কেউ যদি সাফল্য অর্জন করে অহংকারে ডুবে না গিয়ে সেটিকে ঈশ্বরপ্রদত্ত সুযোগ হিসেবে দেখেন, তবে তিনিও এই ধর্মের পথে আছেন। কেউ যদি ব্যর্থতার মধ্যেও নিজের অন্তরের শান্তি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে না ফেলেন এবং নিজের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত না হন, তবে তাঁর মধ্যেও এই ভক্তিধর্ম প্রকাশিত হচ্ছে। এইভাবে গীতার ধর্ম জীবনের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো তত্ত্ব নয়। এটি প্রতিদিনের চিন্তা, কথা, সম্পর্ক ও কর্মের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে।

শ্লোকটির শেষ অংশ ভক্তাস্তেহতীব মে প্রিয়াঃ বিশেষভাবে হৃদয়স্পর্শী। ভক্ত অর্থ যিনি ভক্তি করেন। কিন্তু গীতার ভক্তি কেবল আবেগ নয়। সত্যিকারের ভক্তি মানুষের চরিত্রকে পরিবর্তন করে। ভক্তের মধ্যে করুণা আসে, অহংকার কমে, অন্যের প্রতি বিদ্বেষ ক্ষীণ হয়, সুখ ও দুঃখে সমতা আসে এবং নিজের কর্মকে বৃহত্তর সত্যের কাছে নিবেদন করার মানসিকতা জন্ম নেয়। তাই কৃষ্ণ যখন বলেন যে এই ভক্তরা তাঁর অত্যন্ত প্রিয়, তখন তিনি ভক্তির অন্তর্গত গুণগুলির প্রতি ঈশ্বরীয় স্বীকৃতি প্রকাশ করছেন।

এখানে প্রিয় শব্দটিরও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। ভক্তের সাধনার চূড়ান্ত লক্ষ্য শুধু ঈশ্বরকে ভালোবাসা নয়, এমন একটি হৃদয় গড়ে তোলা যা ঈশ্বরের প্রিয় হয়ে ওঠে। যখন মানুষের অন্তর করুণাময় হয়, অহংকারহীন হয়, সত্যনিষ্ঠ হয় এবং সকল জীবের প্রতি মঙ্গলভাব ধারণ করে, তখন সেই অন্তর ঈশ্বরীয় গুণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সামঞ্জস্যই ভক্তির প্রকৃত সৌন্দর্য।

দ্বাদশ অধ্যায়ের শুরুতে অর্জুন জানতে চেয়েছিলেন নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা এবং ব্যক্তিরূপে ঈশ্বরের ভক্তির মধ্যে কোন পথ শ্রেষ্ঠ। কৃষ্ণ ধীরে ধীরে ভক্তির এমন একটি রূপ প্রকাশ করেছেন যেখানে ঈশ্বরকে ভালোবাসা মানে শুধু উপাসনা করা নয়, বরং নিজের চরিত্রকে ঈশ্বরমুখী করে তোলা। তাই দ্বাদশ অধ্যায়ের শেষ শ্লোকটি পূর্ববর্তী সব শিক্ষাকে একত্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ আধ্যাত্মিক আদর্শ নির্মাণ করে।

এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষের জীবনের কেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হবে সেই প্রশ্ন। যদি কেন্দ্র হয় অহংকার, তবে জীবন হয়ে ওঠে লাভ ও ক্ষতির হিসাব। যদি কেন্দ্র হয় ইন্দ্রিয়সুখ, তবে জীবন হয়ে ওঠে আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন প্রবাহ। কিন্তু যদি কেন্দ্র হয় পরম সত্য, তবে জীবনের সমস্ত কর্ম একটি বৃহত্তর অর্থ লাভ করে। তখন ধর্ম শুধু নিয়ম থাকে না, তা হয়ে ওঠে জীবনযাত্রার ভিত্তি। ভক্তি শুধু আবেগ থাকে না, তা হয়ে ওঠে চরিত্রের শক্তি। উপাসনা শুধু আচার থাকে না, তা হয়ে ওঠে প্রতিদিনের জীবনচর্চা।

সুতরাং “যে তু ধর্মামৃতমিদং যথোক্তং পর্যুপাসতে। শ্রদ্দধানা মৎপরা ভক্তাস্তেহতীব মে প্রিয়াঃ” শ্লোকটি মানুষের সামনে একটি গভীর আধ্যাত্মিক পথ উন্মোচন করে। এখানে ধর্ম হলো জীবনকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত করা, অমৃত হলো ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বের সীমা অতিক্রম করে চিরন্তনের সন্ধান, উপাসনা হলো সেই সত্যের নিকটে জীবনকে স্থাপন করা, শ্রদ্ধা হলো অন্তর দিয়ে তাকে গ্রহণ করা এবং মৎপরতা হলো ঈশ্বরকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য করে নেওয়া। এই সবকিছুর পূর্ণতা ঘটে ভক্তির মধ্যে। তখন মানুষ শুধু ঈশ্বরকে ভালোবাসে না, তার নিজের জীবনও ধীরে ধীরে এমন হয়ে ওঠে যা ঈশ্বরের কাছে প্রিয়।

এই কারণেই গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ের শেষ বাণীকে ভক্তিতত্ত্বের এক অপূর্ব সারমর্ম বলা যায়। মানুষ তার বাহ্যিক পরিচয় দিয়ে নয়, তার অন্তরের গুণ, তার শ্রদ্ধা, তার ঈশ্বরনিষ্ঠা এবং তার জীবনের আচরণের মাধ্যমে সত্যিকারের ভক্ত হয়ে ওঠে। ধর্মামৃত সেই জীবনপথের নাম যা মানুষকে নিজের ক্ষুদ্র সীমা অতিক্রম করে পরম সত্যের দিকে নিয়ে যায়। আর যে হৃদয় সেই পথে শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে অগ্রসর হয়, শ্রীকৃষ্ণের ভাষায় সেই হৃদয়ই তাঁর অত্যন্ত প্রিয়।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 22, 2026 August 22, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি