ভগবদ্গীতা ১২.৯ — অভ্যাসযোগের মাধ্যমে ঈশ্বরলাভ
অথ চিত্তং সমাধাতুং ন শক্নোষি ময়ি স্থিরম্।
অভ্যাসযোগেন ততো মামিচ্ছাপ্তুং ধনঞ্জয়।।৯।।
অনুবাদঃ হে ধনঞ্জয়! যদি তুমি স্থিরভাবে আমাতে চিত্ত সমাহিত করতে সক্ষম না হও, তা হলে অভ্যাস যোগের দ্বারা আমাতে প্রাপ্ত হতে ইচ্ছা কর।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ের নবম শ্লোকটি মানুষের আধ্যাত্মিক সাধনার একটি অত্যন্ত বাস্তব ও গভীর পথ নির্দেশ করে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, যদি সে নিজের চিত্তকে তাঁর মধ্যে স্থিরভাবে স্থাপন করতে সক্ষম না হয়, তাহলে অভ্যাসযোগের মাধ্যমে তাঁকে লাভ করার চেষ্টা করতে। শ্লোকটি হলো অথ চিত্তং সমাধাতুং ন শক্নোষি ময়ি স্থিরম্। অভ্যাসযোগেন ততো মামিচ্ছাপ্তুং ধনঞ্জয়।। এই বক্তব্যের মধ্যে মানুষের মন, তার অস্থিরতা, ঈশ্বরের প্রতি আকর্ষণ এবং নিয়মিত সাধনার মাধ্যমে চেতনার রূপান্তরের এক গভীর দর্শন নিহিত রয়েছে।
এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো চিত্তং। চিত্ত শব্দটি সংস্কৃত চিত্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। চিত্ অর্থ জানা, চেতনা করা বা উপলব্ধি করা। ভারতীয় দর্শনে চিত্ত কেবল সাধারণ অর্থে মন নয়। চিত্ত হলো মানুষের সেই অন্তর্জগত যেখানে চিন্তা, অনুভূতি, স্মৃতি, বাসনা, কল্পনা এবং মানসিক সংস্কার ক্রমাগত প্রবাহিত হয়। তাই চিত্তকে মানুষের অন্তর্লোকের একটি সক্রিয় ক্ষেত্র বলা যায়। কৃষ্ণ যখন চিত্তকে নিজের মধ্যে স্থির করার কথা বলেন, তখন তিনি মানুষের সমগ্র মানসিক প্রবাহকে ঈশ্বরমুখী করার কথা বলছেন।
সমাধাতুং শব্দটির মধ্যেও গভীর অর্থ নিহিত রয়েছে। এটি সম্, আ এবং ধা ধাতুর সমন্বিত অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। ধা অর্থ স্থাপন করা। সম্ অর্থ সম্পূর্ণভাবে বা একত্রে এবং আ নির্দিষ্ট স্থানের দিকে নির্দেশ করে। ফলে সমাধাতুং অর্থ কোনো কিছুকে যথাস্থানে সম্পূর্ণভাবে স্থাপন করা বা নিবিষ্ট করা। এই অর্থে সমাধি কেবল চিন্তা বন্ধ করার নাম নয়। বরং চিত্তকে একটি নির্দিষ্ট পরম আশ্রয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ধারণাই এর অন্তর্নিহিত অর্থ। এখানে সেই আশ্রয় হলেন কৃষ্ণ।
এরপর আসে ন শক্নোষি। শক্ ধাতু থেকে শক্নোষি শব্দটির উৎপত্তি এবং এর অর্থ হলো তুমি সক্ষম হও বা তুমি পারো। ন শব্দটি নিষেধ বোঝায়। ফলে ন শক্নোষি অর্থ তুমি পারছ না। এই কথার মধ্যে কৃষ্ণের শিক্ষাদর্শনের একটি অসাধারণ মানবিক দিক প্রকাশ পেয়েছে। তিনি অর্জুনকে তার অক্ষমতার জন্য নিন্দা করছেন না। তিনি স্বীকার করছেন যে মানুষের পক্ষে সবসময় সঙ্গে সঙ্গে মনকে সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরে স্থির করা সম্ভব নয়। এই স্বীকৃতির মধ্যেই আধ্যাত্মিক শিক্ষার বাস্তবতা রয়েছে। সাধক আজ যেখানে অবস্থান করছে, সেখান থেকেই তার পথ শুরু হতে পারে।
ময়ি শব্দের অর্থ আমার মধ্যে বা আমাতে। এটি মদ্ সর্বনামের সপ্তমী একবচন রূপ। এখানে কৃষ্ণ কেবল নিজের ব্যক্তিগত রূপের প্রতি মনোযোগ দিতে বলছেন এমন নয়। গীতার বৃহত্তর দর্শনের আলোকে কৃষ্ণ পরম সত্য, পরম চৈতন্য এবং ঈশ্বরসত্তার প্রতীক। তাই ময়ি শব্দটি মানুষের চিত্তকে একটি সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে স্থাপন করার আহ্বান বহন করে। মানুষের মন সবসময় কোনো না কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে থাকে। কখনও সম্পদ, কখনও সম্পর্ক, কখনও সম্মান, কখনও আকাঙ্ক্ষা এবং কখনও ভয়ের চারপাশে মন ঘুরতে থাকে। কৃষ্ণ সেই কেন্দ্রকে জাগতিক বিষয় থেকে পরম সত্যের দিকে স্থানান্তর করতে বলছেন।
স্থিরম্ শব্দের অর্থ স্থির, অচঞ্চল, দৃঢ় এবং অবিচল। চিত্তের স্বাভাবিক প্রকৃতি হলো এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে চলে যাওয়া। তাই স্থিরতা এখানে সাধনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এই স্থিরতা জোর করে তৈরি করার বিষয় নয়। এটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। মন যখন বারবার ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসে, তখন তার বিচ্ছিন্নতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং একাগ্রতার শক্তি বৃদ্ধি পায়।
এই অবস্থাতেই শ্লোকটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা অভ্যাসযোগেন সামনে আসে। অভ্যাস শব্দটির মধ্যে বারবার কোনো নির্দিষ্ট অবস্থায় ফিরে আসার ধারণা রয়েছে। যোগ শব্দটি যুজ্ ধাতু থেকে এসেছে এবং এর অর্থ যুক্ত হওয়া বা সংযুক্ত করা। তাই অভ্যাসযোগ বলতে বোঝায় নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে চিত্তকে পরম সত্যের সঙ্গে যুক্ত করার সাধনা। অভ্যাসযোগেন অর্থ অভ্যাসযোগের মাধ্যমে। এই একটি শব্দের মধ্যে গীতার সাধনাপদ্ধতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রহস্য নিহিত আছে। ঈশ্বরচিন্তা একদিনের আবেগ নয়। এটি এমন একটি ধারাবাহিক অনুশীলন যার মাধ্যমে মানুষের মানসিক প্রবাহ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়।
ততঃ অর্থ তখন বা সেই অবস্থায়। অর্থাৎ যদি সরাসরি ঈশ্বরে মন স্থাপন করা সম্ভব না হয়, তাহলে পরবর্তী পথ হলো অভ্যাস। এখানে কৃষ্ণ সাধনাকে একটি ধাপে ধাপে অগ্রসরমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি এমন কোনো আদর্শ চাপিয়ে দেননি যা সাধকের বর্তমান সামর্থ্যের বাইরে। বরং তিনি বলেছেন, যেখানে সরাসরি একাগ্রতা সম্ভব নয়, সেখানে অনুশীলনের মাধ্যমে সেই একাগ্রতার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
মাম্ শব্দের অর্থ আমাকে এবং আপ্তুম্ শব্দের অর্থ লাভ করতে বা প্রাপ্ত হতে। ইচ্ছ শব্দের অর্থ ইচ্ছা করো, চেষ্টা করো বা কামনা করো। ফলে মাম্ আপ্তুম্ অর্থ আমাকে লাভ করার জন্য চেষ্টা করা। এখানে ঈশ্বরলাভকে কোনো বাহ্যিক স্থান বা বস্তু অর্জনের মতো বোঝানো উচিত নয়। ঈশ্বরলাভ হলো চেতনার এমন এক পরিণতি যেখানে মানুষের অন্তর্জগত ঈশ্বরসত্তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়। যখন চিত্তের অস্থিরতা ধীরে ধীরে কমে এবং ঈশ্বরস্মরণ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তখন সাধক নিজের অস্তিত্বের গভীরে এক উচ্চতর সত্যকে উপলব্ধি করতে শুরু করে।
শ্লোকের শেষে ধনঞ্জয় সম্বোধনটিরও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। ধনঞ্জয় অর্থ ধন জয়কারী। অর্জুন বাহ্যিক জগতের বহু সংগ্রামে বিজয়ী। কিন্তু কৃষ্ণ যেন তাকে বোঝাচ্ছেন যে মানুষের প্রকৃত বিজয় শুধু বাহ্যিক সম্পদ বা শত্রু জয় করা নয়। নিজের মন, আসক্তি, ভয়, ক্রোধ এবং অহংকারকে জয় করাই আরও গভীর বিজয়। বাহ্যিক সম্পদ অর্জনের চেয়ে অন্তরের স্থিরতা অর্জন অনেক বেশি মূল্যবান। সেই দিক থেকে ধনঞ্জয় নামটি এখানে একটি প্রতীকী শিক্ষা বহন করে।
এই শ্লোকের সামগ্রিক অর্থ হলো, হে ধনঞ্জয়, যদি তুমি তোমার চিত্তকে আমার মধ্যে স্থিরভাবে স্থাপন করতে না পারো, তাহলে অভ্যাসযোগের মাধ্যমে আমাকে লাভ করার চেষ্টা করো। এর মধ্যে কোনো হতাশার শিক্ষা নেই। বরং রয়েছে আশার শিক্ষা। মানুষ আজ যেখানে আছে, সেখান থেকেই শুরু করতে পারে। তার মন যদি অস্থির হয়, তবুও সে সাধনা করতে পারে। তার মন যদি বারবার অন্যদিকে চলে যায়, তবুও সে আবার তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে। সেই ফিরে আসার ধারাবাহিকতাই অভ্যাস।
এই অভ্যাসের বিষয়টি বাস্তব জীবনের একটি সাধারণ উদাহরণ দিয়ে বোঝা যায়। একজন ছাত্র যখন প্রথম পড়তে বসে, তখন তার মন বারবার অন্যদিকে চলে যেতে পারে। কখনও মোবাইলের দিকে, কখনও বন্ধুর কথা, কখনও ভবিষ্যতের কল্পনা কিংবা অতীতের স্মৃতির দিকে। কিন্তু সে যদি প্রতিবার নিজের মনকে আবার বইয়ের দিকে ফিরিয়ে আনে, তাহলে ধীরে ধীরে তার মনোযোগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একইভাবে একজন সাধক যখন ধ্যানে বসে ঈশ্বরকে স্মরণ করতে চেষ্টা করে, তখন তার মন নানা চিন্তার দিকে চলে যেতে পারে। তাকে হতাশ না হয়ে আবার ঈশ্বরের দিকে মন ফিরিয়ে আনতে হবে। এই পুনরাবৃত্ত প্রত্যাবর্তনই অভ্যাসযোগের মূল চেতনা।
অভ্যাসকে একটি নদীর সঙ্গেও তুলনা করা যায়। একটি নদী যখন পাথরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন একদিনে পাথরের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না। কিন্তু বছরের পর বছর একই প্রবাহ চলতে থাকলে কঠিন পাথরের উপরেও চিহ্ন সৃষ্টি হয়। মানুষের চিত্তও তেমন। একদিনের সাধনা হয়তো মনের গভীরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে না। কিন্তু প্রতিদিনের সামান্য ঈশ্বরস্মরণ, ধ্যান, প্রার্থনা, আত্মপর্যবেক্ষণ এবং সৎকর্ম ধীরে ধীরে চেতনার গভীরে নতুন সংস্কার সৃষ্টি করতে পারে।
ভক্তির দৃষ্টিতে অভ্যাসযোগ হলো ঈশ্বরস্মরণের ধারাবাহিকতা। ভক্তি কেবল কোনো বিশেষ মুহূর্তের আবেগ নয়। প্রকৃত ভক্তি তখনই গভীর হয় যখন ঈশ্বরের স্মরণ মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে ওঠে। খাওয়া, কাজ করা, বিশ্রাম নেওয়া, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা এবং নিজের কর্তব্য পালন করার মধ্যেও যদি ঈশ্বরস্মরণ বজায় থাকে, তাহলে জীবন নিজেই সাধনার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এইভাবে অভ্যাস ধীরে ধীরে আচরণ থেকে চরিত্রে এবং চরিত্র থেকে চেতনার স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিণত হয়।
যোগদর্শনের দৃষ্টিতে মানুষের প্রধান সমস্যা হলো চিত্তের চঞ্চলতা। মন ক্রমাগত নানা বিষয়ের দিকে ছুটে যায়। অভ্যাস সেই বিক্ষিপ্ত প্রবাহকে ধীরে ধীরে একটি কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনে। এই অর্থে অভ্যাসযোগ হলো চিত্তকে প্রশিক্ষিত করার একটি পদ্ধতি। অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে আবার এই অভ্যাস মানুষের প্রকৃত আত্মস্বরূপের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যম হতে পারে। মানুষ যখন নিজেকে কেবল দেহ ও মন বলে মনে করে, তখন তার মধ্যে সীমাবদ্ধতার অনুভূতি জন্মায়। কিন্তু আত্মস্বরূপের অনুসন্ধান এবং ঈশ্বরচিন্তার ধারাবাহিকতা তাকে তার গভীরতর অস্তিত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এই শ্লোকের মনোবৈজ্ঞানিক তাৎপর্যও অত্যন্ত গভীর। মানুষ যে বিষয় নিয়ে বারবার চিন্তা করে, তার প্রতি তার মানসিক প্রবণতা শক্তিশালী হয়। তাই সচেতনভাবে কোনো উচ্চতর আদর্শের দিকে মনকে বারবার ফিরিয়ে আনা মানুষের চিন্তার ধরনকে পরিবর্তন করতে পারে। গীতার অভ্যাসযোগ এই মানসিক রূপান্তরকে আধ্যাত্মিক সাধনার সঙ্গে যুক্ত করেছে। মন একদিনে পরিবর্তিত হয় না। কিন্তু প্রতিদিনের পুনরাবৃত্তি তার প্রবণতা বদলাতে পারে।
এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থ আরও বিস্তৃত। মনকে একটি প্রশিক্ষণহীন অশ্বের সঙ্গে তুলনা করা যায়। অশ্ব যদি প্রশিক্ষিত না হয়, তাহলে সে নিজের ইচ্ছামতো ছুটতে পারে। কিন্তু নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাকে নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত করা যায়। মানুষের মনও তেমন। ইন্দ্রিয়, আকাঙ্ক্ষা, ভয়, স্মৃতি এবং কল্পনার টানে মন বিভিন্ন দিকে ছুটে বেড়ায়। অভ্যাস হলো সেই মনকে বারবার তার নির্বাচিত আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের দিকে ফিরিয়ে আনা।
এই শ্লোকের সবচেয়ে সুন্দর শিক্ষা হলো, সাধনায় ব্যর্থতা মানেই পরাজয় নয়। মন স্থির রাখতে না পারা কোনো চূড়ান্ত ব্যর্থতা নয়। বরং সেই অস্থিরতাকে উপলব্ধি করে পুনরায় মনকে ঈশ্বরের দিকে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই সাধনার প্রকৃত সূচনা। কৃষ্ণ মানুষের দুর্বলতাকে অস্বীকার করেননি। তিনি সেই দুর্বলতার মধ্য দিয়েই উত্তরণের পথ দেখিয়েছেন। তাই এই শ্লোক আধ্যাত্মিক জীবনে ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং আত্মবিশ্বাসের শিক্ষা দেয়।
অভ্যাসযোগের গভীরতম অর্থ তাই কেবল কোনো মন্ত্র, ধ্যান বা আচারের পুনরাবৃত্তি নয়। এর প্রকৃত অর্থ হলো মন যখনই সত্য থেকে বিচ্যুত হবে, তাকে আবার সত্যের দিকে ফিরিয়ে আনা। মন যখনই ঈশ্বরকে ভুলে যাবে, তখন আবার ঈশ্বরকে স্মরণ করা। মানুষ যখনই অহংকারে আবদ্ধ হবে, তখন নিজের প্রকৃত অবস্থানকে স্মরণ করা। যখনই আকাঙ্ক্ষা তাকে অস্থির করবে, তখন নিজের অন্তরের স্থিরতার দিকে ফিরে যাওয়া। এই প্রত্যাবর্তনের ধারাবাহিকতাই ধীরে ধীরে মানুষের চেতনাকে রূপান্তরিত করে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার এই শ্লোক তাই শুধু প্রাচীন আধ্যাত্মিক শিক্ষার একটি অংশ নয়। এটি মানুষের প্রতিদিনের জীবনের জন্যও একটি গভীর নির্দেশনা। জীবনে কোনো উচ্চতর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রথম দিনেই পূর্ণতা অর্জন করা জরুরি নয়। প্রয়োজন নিয়মিত চেষ্টা, বিচ্যুতির পর পুনরায় ফিরে আসা এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা। যে মন আজ অস্থির, সেই মনই আগামী দিনে স্থির হতে পারে। যে চেতনা আজ জাগতিক আকর্ষণে আবদ্ধ, সেই চেতনা ধীরে ধীরে ঈশ্বরমুখী হতে পারে। আর সেই রূপান্তরের মূল শক্তিই হলো অভ্যাস।
অতএব এই শ্লোকের সারমর্ম হলো, পরম একাগ্রতা যদি এখনই সম্ভব না হয়, তাহলে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মনকে বারবার ঈশ্বরের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতিটি সচেতন প্রত্যাবর্তন একটি সাধনা, প্রতিটি পুনরাবৃত্ত অনুশীলন চিত্তের একটি নতুন সংস্কার এবং প্রতিটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা মানুষকে তার অন্তর্নিহিত সত্যের আরও কাছে নিয়ে যায়। শ্রীকৃষ্ণের এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আধ্যাত্মিক পথ কোনো একদিনের অসাধারণ অভিজ্ঞতার পথ নয়। এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতন প্রত্যাবর্তনের পথ। অভ্যাসের মাধ্যমে অস্থির মন স্থির হয়, স্থির মন ঈশ্বরমুখী হয় এবং ঈশ্বরমুখী চিত্ত ধীরে ধীরে পরম সত্যের উপলব্ধির দিকে অগ্রসর হয়।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!