সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৩.১৪ — সর্বব্যাপী পরমসত্তা, সর্বত্র তাঁর হাত-পা ও চক্ষুর প্রতীকী প্রকাশ

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ সর্বতোহক্ষিশিরোমুখম্।সর্বতঃ শ্রুতিমল্লোকে সর্বমাবৃত্য তিষ্ঠতি।।১৪।।
সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ সর্বতোহক্ষিশিরোমুখম্।
সর্বতঃ শ্রুতিমল্লোকে সর্বমাবৃত্য তিষ্ঠতি।।১৪।।

অনুবাদঃ তাঁর হস্ত, পদ, চক্ষু, মস্তক ও মুখ সর্বত্রই এবং তিনি সর্বত্রই কর্ণযুক্ত। জগতে সব কিছুকেই পরিব্যাপ্ত করে তিনি বিরাজমান।

ভগবদ্গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের চতুর্দশ শ্লোকে বলা হয়েছে, “সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ সর্বতোহক্ষিশিরোমুখম্। সর্বতঃ শ্রুতিমল্লোকে সর্বমাবৃত্য তিষ্ঠতি।” এই শ্লোকটি পরমসত্তার সর্বব্যাপিতা এবং সর্বজ্ঞানময় স্বরূপকে এক অসাধারণ কাব্যিক ও দার্শনিক ভাষায় প্রকাশ করেছে। এখানে পরমাত্মার হাত, পা, চোখ, মাথা, মুখ এবং কর্ণের কথা বলা হলেও এগুলো কোনো সীমাবদ্ধ দৈহিক শরীরের অঙ্গ হিসেবে বোঝানো হয়নি। বরং মানুষের পরিচিত অঙ্গের মাধ্যমে এমন এক অসীম চৈতন্যকে বোঝানো হয়েছে, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিটি কর্ম, গতি, জ্ঞান, চিন্তা, দর্শন ও শ্রবণের অন্তর্নিহিত ভিত্তি হিসেবে বিরাজমান। তাই এই শ্লোকের প্রকৃত তাৎপর্য বাহ্যিক রূপের মধ্যে নয়, বরং সর্বত্র প্রকাশিত এক পরম চৈতন্যের উপলব্ধির মধ্যে নিহিত।

শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সর্বতঃ। সংস্কৃত সর্ব শব্দের অর্থ সমস্ত বা সব এবং তার সঙ্গে অব্যয়ধর্মী প্রত্যয় যুক্ত হয়ে সর্বতঃ শব্দের সৃষ্টি হয়েছে। এর অর্থ সর্বত্র, সবদিকে বা সমস্ত দিক থেকে। শ্লোকে এই শব্দটির পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে পরমসত্তাকে কোনো নির্দিষ্ট স্থান, দিক বা সীমার মধ্যে আবদ্ধ করা যায় না। মানুষ নিজের অস্তিত্বকে একটি নির্দিষ্ট শরীর ও নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে অনুভব করে। আমার হাত এখানে, আমার চোখ এখানে, আমার কান এখানে, আমার দেহ এখানে। কিন্তু পরমতত্ত্বের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নয়। তাঁর উপস্থিতি কোনো একটি স্থানে সীমিত নয়। যেখানে কর্ম আছে, যেখানে গতি আছে, যেখানে দর্শন আছে, যেখানে শ্রবণ আছে, যেখানে চেতনা আছে, সেখানেই তাঁর প্রকাশ অনুভূত হতে পারে।

পাণি শব্দের অর্থ হাত এবং পাদ শব্দের অর্থ পা বা চরণ। পাণি ও পাদ একত্রে মানুষের কর্ম ও গতির প্রতীক হয়ে ওঠে। হাত দিয়ে মানুষ গ্রহণ করে, দান করে, নির্মাণ করে, রক্ষা করে এবং কর্ম সম্পাদন করে। পা দিয়ে মানুষ চলাচল করে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে। তাই সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ কথাটির গভীর অর্থ দাঁড়ায় যে সমগ্র জগতের সমস্ত কর্মশক্তি ও গতিশীলতার অন্তরালে সেই এক পরম শক্তির প্রকাশ রয়েছে। তিনি নিজে কোনো নির্দিষ্ট হাত বা পায়ের অধিকারী নন, বরং অসংখ্য জীবের হাত ও পায়ের মাধ্যমে তাঁর কর্মশক্তি প্রকাশিত হচ্ছে। মানুষের দৃষ্টিতে কর্ম ব্যক্তিগত হলেও গীতার গভীর দর্শনে সেই কর্মক্ষমতার অন্তর্নিহিত শক্তি একটি বৃহত্তর চৈতন্যের সঙ্গে যুক্ত।

এরপর বলা হয়েছে সর্বতোহক্ষিশিরোমুখম্। এখানে অক্ষি শব্দের অর্থ চোখ, শিরঃ অর্থ মাথা এবং মুখম্ অর্থ মুখ। চোখ মানুষের দর্শন ও জ্ঞানের প্রতীক। মাথা চিন্তা, বুদ্ধি ও সিদ্ধান্তের প্রতীক। মুখ প্রকাশ, বাক্য ও যোগাযোগের প্রতীক। ফলে চোখ, মাথা ও মুখকে একত্রে রাখার মধ্যে মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও প্রকাশের সমগ্র প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করা হয়েছে। পরমসত্তার চোখ সর্বত্র অর্থাৎ তিনি কোনো একটি দৃষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। অসংখ্য জীবের অসংখ্য চোখের মাধ্যমে যে বিশ্বকে দেখা হচ্ছে, সেই দর্শনের অন্তর্নিহিত চৈতন্য এক পরম সত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই অর্থে ঈশ্বরকে কেবল কোথাও বসে থাকা একজন দর্শক হিসেবে নয়, বরং সমস্ত দর্শনের অন্তর্নিহিত চৈতন্য হিসেবে উপলব্ধি করা যায়।

শ্রুতিমৎ শব্দটিও অত্যন্ত গভীর। শ্রুতি শব্দটি সংস্কৃত শ্রু ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ শোনা। শ্রুতিমৎ অর্থ যার শ্রবণ আছে বা যিনি শ্রবণক্ষম। শ্লোকে বলা হয়েছে সর্বতঃ শ্রুতিমৎ। অর্থাৎ সর্বত্র তাঁর শ্রবণ। এর অর্থ এই নয় যে কোনো একটি দৈহিক সত্তার অসংখ্য কান রয়েছে। বরং অসংখ্য জীবের শ্রবণক্ষমতার অন্তরালে যে চৈতন্য কাজ করছে, তাকে এখানে পরমসত্তার সর্বব্যাপী শ্রবণশক্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। মানুষের কান শব্দ গ্রহণ করে, কিন্তু কান নিজে জানে না যে সে শুনছে। শ্রবণের অভিজ্ঞতার পেছনে যে সচেতনতা রয়েছে, সেই সচেতনতার দিকে তাকিয়েই ভারতীয় দর্শন আত্মতত্ত্বের অনুসন্ধান শুরু করে।

লোকে শব্দের অর্থ জগতে বা বিশ্বে। আর সর্বমাবৃত্য অর্থ সমস্তকে আবৃত করে বা পরিব্যাপ্ত করে। আবৃত্য শব্দটি সংস্কৃত বৃ ধাতুর সঙ্গে আ উপসর্গের সম্পর্কযুক্ত এবং এর মধ্যে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা বা পরিব্যাপ্ত করার ভাব রয়েছে। এখানে আবৃত করা বলতে কোনো বস্তুকে বাইরে থেকে ঢেকে দেওয়া বোঝানো হয় না। বরং এমন এক সর্বব্যাপী উপস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে যার মধ্যে সমগ্র বিশ্ব অবস্থিত। শেষ শব্দ তিষ্ঠতি এসেছে স্থা ধাতু থেকে এবং এর অর্থ অবস্থান করেন বা স্থিত থাকেন। এই দুটি শব্দ একত্রে শ্লোকটির গভীরতম ভাব প্রকাশ করে। তিনি সমস্তকে পরিব্যাপ্ত করে আছেন এবং সেই পরিব্যাপ্তির মধ্যেই স্থিত আছেন।

এই বক্তব্যের মধ্যে একটি গভীর দার্শনিক রহস্য রয়েছে। জগত সর্বদা পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষ জন্মগ্রহণ করছে, বেড়ে উঠছে, কাজ করছে, চিন্তা করছে এবং একসময় দেহত্যাগ করছে। প্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে, সভ্যতা পরিবর্তিত হচ্ছে, সময় এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সমস্ত অভিজ্ঞতার পেছনে যে চৈতন্য, ভারতীয় দর্শন তাকে সাক্ষী হিসেবে অনুসন্ধান করে। এই কারণে তিষ্ঠতি শব্দটি কেবল অবস্থান করার অর্থ বহন করে না। এটি স্থিতি, অবিচলতা এবং সাক্ষীস্বরূপ চৈতন্যের প্রতীক। জগতের পরিবর্তনের মধ্যে যে অপরিবর্তনীয় সত্যকে অনুসন্ধান করা হয়, এই শ্লোক সেই সত্যের দিকেই আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের অর্থ আরও গভীর। ব্রহ্ম কোনো সীমাবদ্ধ দেহ নয়। ব্রহ্ম সর্বব্যাপী চৈতন্য। তাই তাঁর হাত সর্বত্র বলা মানে অসংখ্য শারীরিক হাত থাকা নয়। বরং সমস্ত কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে তাঁর চৈতন্যশক্তির প্রকাশ রয়েছে। তাঁর চোখ সর্বত্র বলা মানে অসংখ্য চোখ থাকা নয়। বরং সমস্ত দর্শনের পেছনে চৈতন্যের উপস্থিতি রয়েছে। তাঁর কর্ণ সর্বত্র বলা মানে অসংখ্য শ্রবণেন্দ্রিয় থাকা নয়। বরং সমস্ত শ্রবণ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেই চৈতন্য বিরাজমান। এইভাবে মানুষের সীমাবদ্ধ অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করে গীতা অসীম ব্রহ্মতত্ত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনের দৃষ্টিতেও এই শ্লোকের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে জগত ও জীবকে ঈশ্বরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে দেখা হয়। সমগ্র জগত যেন তাঁর দেহ এবং তিনি তার অন্তর্যামী আত্মা। এই দৃষ্টিতে সর্বত্র হাত ও পা থাকার অর্থ হলো জগতের অসংখ্য জীবের কার্যকলাপ তাঁর সর্বব্যাপী অস্তিত্বের মধ্যে সংঘটিত হচ্ছে। তিনি জগতের বাইরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনো সত্তা নন। তিনি জগতের অন্তরে বিরাজমান এবং জগতকে ধারণ করে আছেন।

এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত গভীর। হাত কর্মের প্রতীক, পা গতির প্রতীক, চোখ জ্ঞানের প্রতীক, মাথা বুদ্ধির প্রতীক, মুখ প্রকাশের প্রতীক এবং কর্ণ গ্রহণের প্রতীক। অর্থাৎ মানুষের জীবনযাত্রার যে সমস্ত মৌলিক ক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটির অন্তরালে একটি বৃহত্তর চৈতন্যের উপস্থিতি অনুভব করা যায়। মানুষ সাধারণত বলে আমি দেখি, আমি শুনি, আমি চিন্তা করি এবং আমি কাজ করি। কিন্তু আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান প্রশ্ন করে এই আমি আসলে কে। চোখ দেখছে কিন্তু চোখ নিজে জানে না যে সে দেখছে। কান শুনছে কিন্তু কান নিজে জানে না যে সে শুনছে। মস্তিষ্ক চিন্তা করছে কিন্তু সেই চিন্তার অভিজ্ঞতা কে করছে। এই প্রশ্নের অনুসন্ধান মানুষকে আত্মজিজ্ঞাসার পথে নিয়ে যায়।

এই ধারণাটি বোঝার জন্য বিদ্যুতের একটি সহজ উপমা দেওয়া যায়। একটি ঘরে বিদ্যুৎ পাখাকে ঘোরায়, বাতিকে জ্বালায়, কম্পিউটার চালায় এবং অন্য যন্ত্রকে সক্রিয় করে। বিভিন্ন যন্ত্রে বিদ্যুতের প্রকাশ বিভিন্ন রকম হলেও শক্তির উৎস একই। তেমনি অসংখ্য জীবের চোখ আলাদা, হাত আলাদা, কান আলাদা এবং ব্যক্তিত্ব আলাদা হলেও তাদের চেতনার গভীরে যে জীবনীশক্তি ও সচেতনতার প্রকাশ, গীতার দৃষ্টিতে তার অন্তর্নিহিত ভিত্তি এক পরম চৈতন্য। আবার সমুদ্র ও তরঙ্গের উপমাতেও বিষয়টি বোঝা যায়। অসংখ্য তরঙ্গ পৃথক বলে মনে হলেও তাদের প্রকৃতি এক জল। তেমনি অসংখ্য জীব পৃথক বলে মনে হলেও তাদের অন্তর্নিহিত চৈতন্যের সত্য এক বৃহত্তর অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত।

এই উপলব্ধির একটি গভীর নৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। যদি মানুষ সত্যিই উপলব্ধি করতে পারে যে অন্য জীবের মধ্যেও সেই একই পরম চৈতন্যের প্রকাশ রয়েছে, তাহলে অন্যকে কেবল নিজের থেকে বিচ্ছিন্ন একজন অপর ব্যক্তি হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। সেখান থেকে সহমর্মিতা, দয়া, অহিংসা, সংযম ও অপরের প্রতি সম্মানের জন্ম হতে পারে। অন্যকে আঘাত করা তখন কেবল অন্য একজনকে আঘাত করা নয়, বরং একই বৃহত্তর জীবনের একটি প্রকাশকে আঘাত করার মতো অনুভূত হতে পারে। এই কারণে সর্বব্যাপী ঈশ্বরতত্ত্ব কেবল একটি ধর্মীয় ধারণা নয়, বরং মানবিক নৈতিকতারও একটি গভীর ভিত্তি হতে পারে।

শ্লোকটির সাহিত্যিক সৌন্দর্যও অসাধারণ। সর্বতঃ শব্দটির পুনরাবৃত্তি ধীরে ধীরে পাঠকের সামনে সীমাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে। প্রথমে বলা হয় সর্বত্র হাত ও পা, তারপর সর্বত্র চোখ, মাথা ও মুখ, তারপর সর্বত্র শ্রবণ এবং শেষে বলা হয় সমস্তকে পরিব্যাপ্ত করে তিনি অবস্থান করছেন। যেন দৃষ্টির ক্ষেত্র ক্রমশ বিস্তৃত হতে হতে সমগ্র বিশ্বকে ধারণ করে। একটি ছোট মানবদেহের পরিচিত অঙ্গ দিয়ে শুরু হয়ে ভাষা শেষ পর্যন্ত অসীম বিশ্বসত্তায় পৌঁছে যায়। এই কাব্যিক কৌশলই শ্লোকটির দর্শনকে সাধারণ পাঠকের কাছে অনুভবযোগ্য করে তোলে।

সবশেষে বলা যায়, সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ শ্লোকটি মানুষের সীমাবদ্ধ দৃষ্টিকে অতিক্রম করে সর্বব্যাপী চৈতন্যের দিকে তাকাতে শেখায়। এখানে হাত ও পা কর্মের প্রতীক, চোখ জ্ঞানের প্রতীক, মাথা চিন্তার প্রতীক, মুখ প্রকাশের প্রতীক এবং শ্রবণ গ্রহণের প্রতীক। পরমসত্তা কোনো একটি দেহে আবদ্ধ নন, বরং সমস্ত জীবনের কর্ম, জ্ঞান, গতি ও অভিজ্ঞতার অন্তরালে তাঁর উপস্থিতি অনুভূত হয়। তিনি সমগ্র জগতকে পরিব্যাপ্ত করে আছেন এবং সমস্ত পরিবর্তনের মধ্যেও নিজ স্বরূপে স্থিত আছেন। এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো বাহ্যিক বৈচিত্র্যের মধ্যে অন্তর্নিহিত ঐক্যকে উপলব্ধি করা। আমরা যতক্ষণ নিজেকে কেবল একটি সীমাবদ্ধ শরীর ও পৃথক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখি, ততক্ষণ বিভেদের অনুভূতি প্রবল থাকে। কিন্তু যখন উপলব্ধি করি যে সমস্ত জীবনের অন্তরে এক পরম চৈতন্যের প্রকাশ রয়েছে, তখন জগতকে দেখার দৃষ্টিই পরিবর্তিত হয়। তখন ঈশ্বরকে কোনো একটি স্থানে খোঁজার পরিবর্তে সর্বত্র তাঁর উপস্থিতি অনুভব করার সাধনা শুরু হয়। এই কারণেই “সর্বমাবৃত্য তিষ্ঠতি” কেবল একটি শ্লোকের শেষ বাক্য নয়, বরং সমগ্র শিক্ষার চূড়ান্ত ঘোষণা। পরম সত্য সমস্ত কিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছেন এবং সমস্ত অস্তিত্বের অন্তরে নীরবে, অবিচলভাবে ও সর্বব্যাপী চৈতন্যরূপে অবস্থান করছেন।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 22, 2026 August 22, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি