সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৩.১৭ — অবিভক্ত পরমসত্তার বহুরূপ প্রকাশ, সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
অবিভক্তং চ ভূতেষু বিভক্তমিব চ স্থিতম্।ভূতভর্তৃ চ তজজ্ঞেয়ং প্রসিষ্ণু প্রভবিষ্ণু চ।।১৭।।
অবিভক্তং চ ভূতেষু বিভক্তমিব চ স্থিতম্।
ভূতভর্তৃ চ তজজ্ঞেয়ং প্রসিষ্ণু প্রভবিষ্ণু চ।।১৭।।

অনুবাদঃ পরমাত্মাকে যদিও সমস্ত ভূতে বিভক্তরূপে বোধ হয়, কিন্তু তিনি অবিভক্ত। যদিও তিনি সর্বভূতের পালক, তবুও তাঁকে সংহার-কর্তা ও সৃষ্টিকর্তা বলে জানবে।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের সপ্তদশ শ্লোকটি পরম সত্যের একত্ব, সর্বব্যাপিতা, সৃষ্টির উৎস, জগতের ধারণ এবং লয়ের রহস্যকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর ভাষায় প্রকাশ করেছে। শ্লোকটি হলো “অবিভক্তং চ ভূতেষু বিভক্তমিব চ স্থিতম্। ভূতভর্তৃ চ তজ্জ্ঞেয়ং গ্রসিষ্ণু প্রভবিষ্ণু চ।” এর সহজ অর্থ হলো সেই জ্ঞেয় পরম তত্ত্ব সমস্ত সৃষ্ট জীবের মধ্যে অবিভক্ত হয়েও বিভক্তের ন্যায় অবস্থান করছেন। তিনিই সকল সত্তাকে ধারণ ও পালন করেন, তিনিই সমস্ত প্রকাশকে লয়ে গ্রহণ করেন এবং তিনিই সমস্ত সৃষ্টির উৎস। এই একটি শ্লোকের মধ্যে এক ও বহুর সম্পর্ক, সৃষ্টি ও লয়ের চক্র এবং জগতের অন্তর্নিহিত ঐক্যের এক গভীর দার্শনিক উপলব্ধি প্রকাশিত হয়েছে।

শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “অবিভক্তম্”। এই শব্দটি গঠিত হয়েছে “অ” এবং “বিভক্ত” থেকে। “অ” দ্বারা নিষেধ বা অনস্তিত্বের ভাব প্রকাশিত হয় এবং “বিভক্ত” এসেছে সংস্কৃত “ভজ্” ধাতু থেকে, যার অর্থ ভাগ করা, বণ্টন করা বা পৃথক করা। ফলে অবিভক্ত অর্থ এমন কিছু যা বাস্তবিকভাবে অংশে ভাগ করা যায় না। এখানে অবিভক্ত বলতে কোনো বড় আকারের বস্তু বোঝানো হয়নি, বরং এমন এক পরম অস্তিত্বকে বোঝানো হয়েছে যার মধ্যে প্রকৃত কোনো বিভাজন নেই। তিনি স্থান, কাল, নাম, রূপ বা ব্যক্তিগত সীমার দ্বারা আবদ্ধ নন। বহুর মধ্যে প্রকাশ পেলেও তাঁর মৌলিক স্বরূপ এক ও অবিচ্ছিন্ন।

এরপর এসেছে “ভূতেষু” শব্দটি। “ভূত” শব্দের উৎস সংস্কৃত “ভূ” ধাতু, যার অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা প্রকাশিত হওয়া। সেই অর্থে ভূত বলতে যা অস্তিত্ব লাভ করেছে বা যা সৃষ্ট হয়েছে তাকে বোঝায়। “ভূতেষু” অর্থ সকল সৃষ্ট সত্তার মধ্যে। এখানে ভূত শব্দকে কেবল প্রচলিত অর্থে অশরীরী সত্তা হিসেবে বোঝা উচিত নয়। গীতার দার্শনিক ভাষায় এটি সমস্ত জীব ও সৃষ্ট সত্তাকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ পরম তত্ত্ব কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থান বা জীবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। তিনি সমস্ত অস্তিত্বের মধ্যেই উপস্থিত।

এরপর শ্লোকে এসেছে “বিভক্তমিব”। বিভক্ত অর্থ পৃথক বা ভাগ করা এবং “ইব” অর্থ যেন বা ন্যায়। এই “ইব” শব্দটির মধ্যেই শ্লোকটির অন্যতম গভীর রহস্য নিহিত রয়েছে। এখানে বলা হয়নি যে পরম তত্ত্ব সত্যিই বিভক্ত হয়ে গেছেন। বলা হয়েছে তিনি বিভক্তের ন্যায় অবস্থান করছেন। অর্থাৎ বাস্তবতার গভীর স্তরে তিনি অবিভক্ত, কিন্তু প্রকাশের স্তরে অসংখ্য জীব ও সত্তার মধ্যে পৃথক পৃথকভাবে প্রতীয়মান। এই ধারণাটি বোঝানোর জন্য সূর্যের প্রতিফলনের উপমা অত্যন্ত সুন্দর। একটি সূর্য অসংখ্য জলাধার, নদী বা পাত্রে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রতিটি জায়গায় সূর্যের আলাদা প্রতিচ্ছবি দেখা গেলেও সূর্য নিজে অসংখ্য ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় না। একইভাবে এক পরম চৈতন্য অসংখ্য জীবের মধ্যে পৃথক পৃথক চৈতন্যের মতো প্রকাশিত হলেও তার মৌলিক একত্ব নষ্ট হয় না।

“স্থিতম্” শব্দটি এসেছে “স্থা” ধাতু থেকে, যার অর্থ দাঁড়ানো, থাকা, অবস্থান করা বা প্রতিষ্ঠিত থাকা। এখানে এর অর্থ হলো পরম তত্ত্ব সকল সত্তার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত বা অবস্থানরত। এই অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থান দখল করে থাকার অর্থ নয়। বরং এর অর্থ হলো সমস্ত অস্তিত্বের গভীরে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে। যেমন মাটির তৈরি অসংখ্য পাত্রের মধ্যে পাত্রের আকৃতি ভিন্ন হলেও তাদের মূল উপাদান একই, তেমনই অসংখ্য জীবের বাহ্যিক পরিচয় ভিন্ন হলেও তাদের অস্তিত্বের অন্তরালে একটি গভীর ঐক্য রয়েছে।

শ্লোকের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো “ভূতভর্তৃ”। এটি “ভূত” এবং “ভর্তৃ” শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। “ভর্তৃ” এসেছে “ভৃ” ধাতু থেকে, যার অর্থ বহন করা, ধারণ করা, রক্ষা করা বা পালন করা। তাই ভূতভর্তৃ অর্থ সকল সৃষ্ট সত্তার ধারক ও পালনকর্তা। এখানে পরম তত্ত্বকে কেবল সৃষ্টিকর্তা হিসেবে দেখা হয়নি। তিনি সৃষ্টির অস্তিত্বকে ধারণ করেন। একটি বৃক্ষ যেমন মাটির উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনই সমগ্র জগতের অস্তিত্ব একটি গভীরতর ভিত্তির উপর নির্ভরশীল। সেই অস্তিত্বের ভিত্তিই এখানে ভূতভর্তৃ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

এরপর এসেছে “তজ্জ্ঞেয়ম্”। “জ্ঞেয়” শব্দটি এসেছে “জ্ঞা” ধাতু থেকে, যার অর্থ জানা বা উপলব্ধি করা। জ্ঞেয় অর্থ যা জানা উচিত। কিন্তু এখানে জ্ঞেয় বলতে কোনো সাধারণ তথ্য বা বাহ্যিক বিষয়কে বোঝানো হয়নি। পরম তত্ত্বকে জানা মানে তাঁর সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা নয়। বরং নিজের অস্তিত্বের গভীরে সেই সত্যকে উপলব্ধি করা। সাধারণ জ্ঞান আমাদের কোনো বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেয়, কিন্তু আধ্যাত্মিক জ্ঞান মানুষকে নিজের অস্তিত্বের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে সচেতন করে। তাই এই জ্ঞেয় তত্ত্বকে উপলব্ধি করা মানে নিজের সঙ্গে জগতের এবং জগতের সঙ্গে পরম সত্যের সম্পর্ককে গভীরভাবে উপলব্ধি করা।

শ্লোকের শেষ অংশে “গ্রসিষ্ণু” এবং “প্রভবিষ্ণু” দুটি শব্দ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রচলিত সংস্কৃত পাঠে “প্রসিষ্ণু” নয়, “গ্রসিষ্ণু” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। “গ্রসিষ্ণু” এসেছে “গ্রস্” ধাতু থেকে, যার অর্থ গ্রাস করা বা নিজের মধ্যে গ্রহণ করা। এখানে গ্রাস করার অর্থ নিষ্ঠুর ধ্বংস নয়। এর অর্থ হলো লয়। যে সমস্ত সৃষ্টি প্রকাশিত হয়েছে, একসময় তার নাম ও রূপের অবসান ঘটে এবং তা মূল অস্তিত্বে ফিরে যায়। এই লয়ের চূড়ান্ত আশ্রয়ও সেই পরম তত্ত্ব। অন্যদিকে “প্রভবিষ্ণু” শব্দটি “প্র” এবং “ভূ” ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। এর অর্থ উৎপত্তিদাতা বা প্রকাশের উৎস। অর্থাৎ যেখান থেকে সমস্ত সৃষ্টির প্রকাশ ঘটে এবং যেখানে সমস্ত সৃষ্টি শেষ পর্যন্ত লয় লাভ করে, সেই একই পরম তত্ত্ব সৃষ্টি ও লয়ের উভয় প্রান্তে অবস্থান করছেন।

এইভাবে শ্লোকটির মধ্যে সৃষ্টি, স্থিতি এবং লয়ের একটি পূর্ণ চক্র প্রকাশিত হয়েছে। প্রভবিষ্ণু হিসেবে তিনি সৃষ্টির উৎস, ভূতভর্তৃ হিসেবে তিনি সৃষ্টির ধারক এবং গ্রসিষ্ণু হিসেবে তিনি সৃষ্টির লয়ের আধার। এই তিনটি ধারণাকে একত্রে দেখলে বোঝা যায় যে পরম সত্য জগতের বাইরে কোনো দূরবর্তী স্রষ্টা মাত্র নন। তিনি সৃষ্টির অন্তরেও আছেন, সৃষ্টির অস্তিত্বকে ধারণও করছেন এবং সৃষ্টির পরিণতিতেও উপস্থিত। সৃষ্টি তাঁর থেকে প্রকাশিত হয়, তাঁর দ্বারা স্থিত থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মধ্যেই লীন হয়।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের “অবিভক্ত অথচ বিভক্তের ন্যায়” বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অদ্বৈত মতে ব্রহ্ম এক ও অবিভক্ত। জীবের বহুত্ব এবং জগতের বৈচিত্র্য অভিজ্ঞতার স্তরে সত্য বলে প্রতীয়মান হলেও পরম বাস্তবতার স্তরে ব্রহ্ম বিভক্ত হন না। যেমন একটি আকাশকে বহু ঘরের মধ্যে আলাদা আলাদা বলে মনে হয়, কিন্তু ঘরের দেওয়াল আকাশকে প্রকৃত অর্থে ভাগ করতে পারে না। তেমনই দেহ, মন, নাম ও রূপের সীমাবদ্ধতার কারণে চৈতন্যকে পৃথক পৃথক বলে মনে হলেও তার মৌলিক স্বরূপ এক। এই দৃষ্টিতে “বিভক্তমিব” শব্দের “ইব” অর্থাৎ যেন বা আপাতভাবে শব্দটি গভীর দার্শনিক তাৎপর্য বহন করে।

বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে এই শ্লোকের ব্যাখ্যায় ঈশ্বরের সঙ্গে জীব ও জগতের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঈশ্বর সকলের অন্তর্যামী এবং সকল সত্তা তাঁর উপর নির্ভরশীল। তাই ভূতভর্তৃ শব্দটি এখানে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ঈশ্বর কেবল জগতের বাহ্যিক স্রষ্টা নন, তিনি জগতের অন্তর্নিহিত ধারক ও নিয়ন্তা। অন্যদিকে দ্বৈত দর্শনে ঈশ্বর ও জীবের মধ্যে পার্থক্য স্বীকার করা হলেও ঈশ্বরের সর্বব্যাপিতা ও সকল সত্তার উপর তাঁর নির্ভরতার সত্য অস্বীকার করা হয় না। ফলে বিভিন্ন বেদান্তীয় ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও এই শ্লোকের কেন্দ্রীয় ধারণা হলো পরম সত্যের সর্বব্যাপী উপস্থিতি এবং সৃষ্টির উপর তাঁর মৌলিক নির্ভরতার সম্পর্ক।

সাহিত্যিক ও প্রতীকী দিক থেকেও শ্লোকটি অসাধারণ। অবিভক্ত ও বিভক্ত, সৃষ্টি ও লয়, উৎস ও পরিণতি এই বিপরীত ধারণাগুলিকে একই পরম তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই বৈপরীত্যই শ্লোকটিকে গভীর কাব্যিক শক্তি দিয়েছে। সমুদ্র ও তরঙ্গের উপমা এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সমুদ্র এক, কিন্তু তার উপর অসংখ্য তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। প্রতিটি তরঙ্গ আলাদা বলে মনে হয়, কিন্তু কোনো তরঙ্গই সমুদ্র থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়। তরঙ্গের জন্ম সমুদ্র থেকে, তার স্থিতি সমুদ্রের উপর এবং তার বিলয়ও সমুদ্রেই। একইভাবে অসংখ্য জীবের জন্ম, জীবন এবং লয়ের অন্তরালে একটি মৌলিক অস্তিত্বগত ঐক্যের কথা এই শ্লোক প্রকাশ করে।

এই শিক্ষা মানবজীবনের ক্ষেত্রেও গভীরভাবে প্রযোজ্য। মানুষ যখন নিজেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও বিচ্ছিন্ন সত্তা হিসেবে দেখে, তখন অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ ও স্বার্থপরতা সহজে জন্ম নিতে পারে। কিন্তু যদি মানুষ উপলব্ধি করে যে সকল জীবের অস্তিত্বের গভীরে একটি মৌলিক ঐক্য রয়েছে, তাহলে অন্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়। করুণা বৃদ্ধি পায়, সহমর্মিতা গভীর হয় এবং নিজের স্বার্থের বাইরে বৃহত্তর জীবনের কথা ভাবার ক্ষমতা জন্ম নেয়। এই অর্থে শ্লোকটি কেবল একটি অধিবিদ্যাগত সত্য ঘোষণা করে না, এটি মানুষের নৈতিক জীবনকেও রূপান্তরিত করার শক্তি রাখে।

মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও এই শ্লোক গভীর। মানুষ সাধারণত নিজের শরীর, নাম, পরিচয়, সম্পদ, সম্পর্ক এবং চিন্তাকে কেন্দ্র করে একটি সীমাবদ্ধ “আমি” নির্মাণ করে। গীতার এই শিক্ষা সেই সীমাবদ্ধ আত্মপরিচয়ের গভীরে প্রশ্ন তোলে। আমি কি কেবল আমার দেহ, আমার চিন্তা এবং আমার সামাজিক পরিচয়। নাকি আমার অস্তিত্বের আরও গভীরে এমন কোনো চৈতন্য রয়েছে যা এই সমস্ত পরিবর্তনশীল পরিচয়ের সাক্ষী। এই প্রশ্ন থেকেই আত্মজিজ্ঞাসার সূচনা হয় এবং মানুষ বাহ্যিক পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করে নিজের গভীরতর অস্তিত্বকে অনুসন্ধান করতে শেখে।

এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর শিক্ষা হলো বহুত্বের মধ্যে একত্বকে উপলব্ধি করা। আমরা পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ এবং নানা ধরনের অস্তিত্ব দেখতে পাই। তাদের রূপ, স্বভাব, ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রা ভিন্ন। কিন্তু গীতার দৃষ্টিতে এই বৈচিত্র্যকে চূড়ান্ত বিচ্ছিন্নতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বাহ্যিক রূপের স্তরে আমরা বিভক্ত, কিন্তু অস্তিত্বের গভীরে একটি ঐক্যের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই শ্লোকটি বলে অবিভক্ত হয়েও বিভক্তের ন্যায় অবস্থান করছেন।

সবশেষে বলা যায়, “অবিভক্তং চ ভূতেষু বিভক্তমিব চ স্থিতম্” কেবল একটি সংস্কৃত শ্লোকের পংক্তি নয়, এটি ভারতীয় দর্শনের এক গভীর অস্তিত্বতাত্ত্বিক উপলব্ধির প্রকাশ। “অবিভক্তম্” আমাদের পরম একত্বের কথা স্মরণ করায়, “ভূতেষু” সেই একত্বের সর্বব্যাপিতা প্রকাশ করে, “বিভক্তমিব” বহুত্বের আপাত প্রকৃতি বুঝিয়ে দেয়, “ভূতভর্তৃ” সমস্ত সত্তার উপর নির্ভরশীলতার সত্য প্রকাশ করে, “গ্রসিষ্ণু” লয়ের রহস্য নির্দেশ করে এবং “প্রভবিষ্ণু” সমস্ত প্রকাশের উৎসের দিকে আমাদের দৃষ্টি ফেরায়। তাই এই শ্লোকের অন্তর্নিহিত সত্যকে এক বাক্যে বলা যায়, যে এক পরম সত্তা অসংখ্য জীব ও জগতের বৈচিত্র্যের মধ্যে নিজেকে প্রকাশ করেও নিজে অবিভক্ত থাকেন, তিনিই সমস্ত অস্তিত্বের উৎস, ধারক এবং চূড়ান্ত আশ্রয়। বহুর মধ্যে সেই এককে এবং পরিবর্তনের মধ্যে সেই চিরন্তন সত্যকে উপলব্ধি করাই এই শ্লোকের গভীরতম আধ্যাত্মিক আহ্বান।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 22, 2026 August 22, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি