সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৩.২০ — প্রকৃতি ও পুরুষের অনাদিত্ব এবং বিকার ও গুণের উৎপত্তি

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
প্রকৃতিং পুরুষং চৈব বিদ্ধ্যনাদী উভাবপি। বিকারাংশ্চ গুণাংশ্চৈব বিদ্ধি প্রকৃতিসম্ভবান্।।২০।।
প্রকৃতিং পুরুষং চৈব বিদ্ধ্যনাদী উভাবপি। 
বিকারাংশ্চ গুণাংশ্চৈব বিদ্ধি প্রকৃতিসম্ভবান্।।২০।।

অনুবাদঃ প্রকৃতি ও পুরুষ উভয়ই অনাদি বলে জানবে। তাদের বিকার ও গুণসমূহ প্রকৃতি থেকেই উৎপন্ন বলে জানবে।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের বিংশতম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ প্রকৃতি ও পুরুষের এক গভীর দার্শনিক সত্য প্রকাশ করেছেন। শ্লোকটি হলো “প্রকৃতিং পুরুষং চৈব বিদ্ধ্যনাদী উভাবপি। বিকারাংশ্চ গুণাংশ্চৈব বিদ্ধি প্রকৃতিসম্ভবান্।” এর সহজ অর্থ হলো প্রকৃতি এবং পুরুষ উভয়কেই অনাদি বলে জানো এবং সমস্ত বিকার ও গুণ প্রকৃতি থেকেই উৎপন্ন হয়েছে বলে উপলব্ধি করো। এই সংক্ষিপ্ত শ্লোকের মধ্যে জগতের প্রকৃতি, মানুষের অস্তিত্ব, চৈতন্যের স্বরূপ এবং পরিবর্তনশীলতার রহস্য সম্পর্কে ভারতীয় দর্শনের একটি গভীর তত্ত্ব নিহিত রয়েছে।

“প্রকৃতি” শব্দটি সংস্কৃত “প্রকৃতি” থেকে এসেছে। এর সঙ্গে সংস্কৃত “কৃ” ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে, যার মধ্যে করা, সৃষ্টি করা, সম্পাদন করা এবং প্রকাশ করার ভাব রয়েছে। এই কারণে প্রকৃতি বলতে এমন এক মৌলিক শক্তি বা তত্ত্বকে বোঝানো হয় যার মাধ্যমে জগতের বিভিন্ন রূপ প্রকাশিত ও পরিবর্তিত হয়। গীতার দার্শনিক পরিসরে প্রকৃতি কেবল গাছপালা, নদী, পাহাড় বা দৃশ্যমান পৃথিবী নয়। দেহ, ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি, অহংকার, অনুভূতি এবং জগতের পরিবর্তনশীল সমস্ত প্রকাশ প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত। প্রকৃতি হলো পরিবর্তন ও প্রকাশের ক্ষেত্র। সে নিজে নানা রূপ ধারণ করে এবং তার মধ্যেই সৃষ্টি, বিকাশ, পরিবর্তন ও বিলয়ের প্রবাহ চলতে থাকে।

অন্যদিকে “পুরুষ” শব্দটি এই শ্লোকের অন্যতম গভীর শব্দ। সাধারণ বাংলায় পুরুষ বলতে মানুষ বা বিশেষভাবে একজন মানবকে বোঝানো হলেও গীতার এই প্রসঙ্গে পুরুষ শব্দটির অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনেক গভীর। ভারতীয় দর্শনে পুরুষ বলতে চৈতন্যস্বরূপ সত্তা, জ্ঞাতা, দ্রষ্টা এবং সাক্ষীকে বোঝানো হয়। একটি প্রচলিত ব্যুৎপত্তিগত ব্যাখ্যায় বলা হয় “পুরে শয়তে ইতি পুরুষঃ” অর্থাৎ যিনি পুর বা দেহরূপ নগরে অবস্থান করেন তিনি পুরুষ। তবে দার্শনিক অর্থে পুরুষকে কেবল দেহে অবস্থানকারী কোনো ব্যক্তি হিসেবে বোঝা যথেষ্ট নয়। পুরুষ হলো সেই চৈতন্য যার উপস্থিতিতে অভিজ্ঞতা সম্ভব হয় এবং যে দেহ, মন, চিন্তা ও অনুভূতির পরিবর্তনকে অবগত করে।

“অনাদি” শব্দটি এসেছে “অ” এবং “আদি” থেকে। আদি অর্থ শুরু বা সূচনা এবং অ অর্থ তার অনুপস্থিতি। তাই অনাদি অর্থ যার কোনো প্রথম সূচনা নেই। এখানে অনাদি বলতে শুধু অত্যন্ত প্রাচীন কিছু বোঝানো হয়নি। এর অর্থ হলো এমন এক অস্তিত্ব যার জন্য কোনো প্রথম কালগত মুহূর্ত নির্ধারণ করা যায় না। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন প্রকৃতি ও পুরুষ উভয়কেই অনাদি বলে জানতে হবে। এর মাধ্যমে তিনি অস্তিত্বের এমন একটি স্তরের দিকে নির্দেশ করছেন যেখানে সাধারণ কারণ ও কার্যের অনুসন্ধান আর একইভাবে প্রযোজ্য থাকে না।

শ্লোকে এরপর এসেছে “বিকার” শব্দটি। বিকার বলতে পরিবর্তন, রূপান্তর বা কোনো অবস্থার অন্য অবস্থায় পরিণত হওয়াকে বোঝায়। প্রকৃতির জগৎ মূলত পরিবর্তনের জগৎ। শিশুর দেহ যুবকে পরিণত হয়, যুবক বৃদ্ধ হয়, চিন্তা পরিবর্তিত হয়, অনুভূতি পরিবর্তিত হয়, ইচ্ছা জন্মায় এবং বিলীন হয়, সম্পর্কের রূপ বদলে যায় এবং বাহ্যিক জগতও ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়। এই সমস্ত পরিবর্তন প্রকৃতির বিকার হিসেবে বোঝা যায়। প্রকৃতি তাই স্থির নয়। তার মধ্যে ক্রমাগত রূপান্তর ঘটছে।

“গুণ” শব্দটির অর্থ সাধারণ ভাষায় ভালো বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম হলেও গীতার এই প্রসঙ্গে গুণ বলতে বিশেষ দার্শনিক অর্থ বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতির তিনটি মৌলিক গুণ হলো সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ। সত্ত্ব প্রকাশ করে স্বচ্ছতা, জ্ঞান, শান্তি ও সামঞ্জস্যের প্রবণতা। রজঃ প্রকাশ করে গতি, আকাঙ্ক্ষা, কর্মচাঞ্চল্য ও প্রবৃত্তির প্রবাহ। তমঃ প্রকাশ করে জড়তা, অজ্ঞতা, স্থবিরতা ও আচ্ছাদনের প্রবণতা। মানুষের চিন্তা, আচরণ, অনুভূতি এবং জীবনযাত্রার মধ্যেও এই তিন প্রবণতার বিভিন্ন প্রকাশ দেখা যায়। তাই গুণ এখানে নৈতিক প্রশংসা বা নিন্দার অর্থে নয়, বরং প্রকৃতির কার্যপ্রবাহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

“প্রকৃতিসম্ভবান্” শব্দটির অর্থ হলো প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন। “সম্ভব” শব্দের সঙ্গে “ভূ” ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে, যার অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা উৎপন্ন হওয়া। এই কারণে শ্লোকের দ্বিতীয় অংশে শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যে প্রকৃতির গুণ এবং বিকার প্রকৃতির থেকেই প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ যে পরিবর্তনশীল জগৎ আমরা অনুভব করি তার কার্যপ্রবাহ প্রকৃতির অন্তর্গত। গুণ প্রকৃতির মৌলিক প্রবণতা এবং বিকার সেই প্রকৃতির পরিবর্তনশীল প্রকাশ।

এই শ্লোকের গভীর দার্শনিক তাৎপর্য বুঝতে হলে প্রকৃতি ও পুরুষের পার্থক্য উপলব্ধি করা প্রয়োজন। প্রকৃতি হলো যা পরিবর্তিত হয় এবং পুরুষ হলো সেই চৈতন্যসত্তা যার মাধ্যমে পরিবর্তনকে জানা যায়। আমাদের দেহ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। মনও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এক মুহূর্তে আনন্দ, অন্য মুহূর্তে দুঃখ, কখনো রাগ, কখনো ভালোবাসা, কখনো ভয় এবং কখনো শান্তি অনুভূত হয়। চিন্তাও একইভাবে একের পর এক পরিবর্তিত হয়। কিন্তু আমরা এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে পারি। এখানেই একটি গভীর প্রশ্নের জন্ম হয়। যদি চিন্তা পরিবর্তিত হয় এবং আমি সেই চিন্তার পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারি, তাহলে আমি কি কেবল সেই চিন্তাই। যদি রাগ আসে এবং আমি বলতে পারি যে আমার মধ্যে রাগ এসেছে, তাহলে যে রাগকে লক্ষ্য করছে তার প্রকৃতি কী। গীতার দর্শন এই আত্মজিজ্ঞাসার পথেই মানুষকে নিয়ে যায়।

এই বিষয়টি একটি সহজ উপমার মাধ্যমে বোঝা যায়। একটি সিনেমার পর্দায় অসংখ্য দৃশ্য আসছে এবং চলে যাচ্ছে। কখনো সেখানে আনন্দ, কখনো দুঃখ, কখনো যুদ্ধ, কখনো ভালোবাসা এবং কখনো বিচ্ছেদ দেখা যাচ্ছে। দৃশ্যগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে কিন্তু সেই পরিবর্তনকে দেখার জন্য একটি সচেতন দর্শকও রয়েছে। একইভাবে মানুষের জীবনে অসংখ্য অভিজ্ঞতা আসে এবং চলে যায়। শৈশব চলে যায়, যৌবন আসে এবং তাও চলে যায়। আনন্দ আসে এবং চলে যায়। দুঃখ আসে এবং তাও একসময় পরিবর্তিত হয়। গীতার দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনশীল প্রবাহ প্রকৃতির সঙ্গে তুলনীয় এবং তার অন্তর্নিহিত চৈতন্যস্বরূপ দ্রষ্টাকে পুরুষের ধারণার মাধ্যমে বোঝা যায়। অবশ্য এই উপমাটি কেবল ধারণাটি সহজ করার জন্য।

সাংখ্য দর্শনের আলোকে প্রকৃতি ও পুরুষের সম্পর্ক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাংখ্য দর্শনে পুরুষ হলো চৈতন্যস্বরূপ এবং প্রকৃতি হলো জড় কিন্তু কার্যক্ষম মূলতত্ত্ব। প্রকৃতির মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ এই তিন গুণ বিদ্যমান। প্রকৃতির বিকাশের মধ্য দিয়ে জগতের বিভিন্ন স্তরের প্রকাশ ঘটে। এই দর্শনের মূল শিক্ষা হলো পরিবর্তনশীল প্রকৃতি এবং চৈতন্যস্বরূপ পুরুষকে অভিন্ন বলে মনে না করা। মানুষ যখন প্রকৃতির বিকারকে নিজের প্রকৃত স্বরূপ বলে মনে করে তখন বন্ধনের সৃষ্টি হয়। আর যখন সে প্রকৃতি ও চৈতন্যের পার্থক্য উপলব্ধি করতে শেখে তখন মুক্তির দিকে তার যাত্রা শুরু হয়।

অদ্বৈত বেদান্তের আলোকে এই শ্লোকের ব্যাখ্যা আরও সূক্ষ্ম। অদ্বৈত মতে চূড়ান্ত সত্য ব্রহ্ম এবং প্রকৃতি বা মায়াকে পরম স্বাধীন সত্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। চৈতন্যের চূড়ান্ত স্বরূপ এক ও অদ্বিতীয়। তাই প্রকৃতি ও পুরুষের পার্থক্যকে অদ্বৈত দর্শন তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যাখ্যা করে এবং শেষ পর্যন্ত সমস্ত ভেদের অন্তরালে এক অখণ্ড চৈতন্যসত্তার দিকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে জীবাত্মা এবং জড় প্রকৃতি উভয়ই পরমেশ্বরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের মধ্যে অবস্থান করে। ফলে একই গীতাশ্লোক ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন ধারায় বিভিন্ন সূক্ষ্ম ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।

এই শ্লোকের একটি গভীর মনোবৈজ্ঞানিক তাৎপর্যও রয়েছে। মানুষ প্রায়ই নিজের অনুভূতির সঙ্গে এমনভাবে একাত্ম হয়ে যায় যে অনুভূতিকেই নিজের পরিচয় মনে করতে শুরু করে। একজন ব্যক্তি যদি বলেন আমি দুঃখী, তাহলে দুঃখ যেন তার সম্পূর্ণ পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু যদি তিনি বলেন আমার মধ্যে দুঃখের অনুভূতি এসেছে, তাহলে অনুভূতি এবং সচেতন সত্তার মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি হয়। একইভাবে আমি রাগ নই, আমার মধ্যে রাগের একটি অবস্থা প্রকাশিত হয়েছে। আমি ভয় নই, আমার মধ্যে ভয়ের অনুভূতি এসেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে নিজের মানসিক অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করতে শেখায়। গীতার প্রকৃতি ও পুরুষের তত্ত্ব এই আত্মপর্যবেক্ষণের জন্য একটি গভীর দার্শনিক ভিত্তি প্রদান করে।

প্রতীকী অর্থে প্রকৃতি হলো পরিবর্তনশীল জীবন এবং পুরুষ হলো সেই জীবনের অন্তর্নিহিত সচেতন সাক্ষী। প্রকৃতির প্রতীক হতে পারে দেহ, মন, সমাজ, সম্পর্ক, কর্ম, আকাঙ্ক্ষা এবং সমগ্র পরিবর্তনশীল জগত। পুরুষের প্রতীক হতে পারে আত্মসচেতনতা, সাক্ষীভাব এবং চৈতন্য। বিকার প্রতীক হয়ে ওঠে জীবনের পরিবর্তনের এবং গুণ প্রতীক হয়ে ওঠে মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতির বিভিন্ন প্রবণতার। অনাদি প্রতীক হয়ে ওঠে সেই অস্তিত্বের রহস্যের যা কোনো সাধারণ শুরু দিয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না।

মানবজীবনে এই শিক্ষার ব্যবহার অত্যন্ত গভীর। যখন মানুষ বুঝতে শেখে যে তার দেহ পরিবর্তনশীল, মন পরিবর্তনশীল এবং অনুভূতিও পরিবর্তনশীল, তখন সে জীবনের সুখ ও দুঃখকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে পারে। দুঃখ এলে সে বুঝতে পারে যে দুঃখ একটি পরিবর্তনশীল অবস্থা। রাগ এলে সে বুঝতে পারে যে রাগ তার মধ্যে প্রকাশিত একটি বিকার। আকাঙ্ক্ষা এলে সে তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই সচেতনতা মানুষকে নিজের প্রবৃত্তির দাস হওয়া থেকে ধীরে ধীরে মুক্ত করতে পারে।

এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর শিক্ষা সম্ভবত এখানেই যে মানুষকে নিজের পরিচয় সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন করতে হবে। আমরা সাধারণত বলি আমার দেহ, আমার মন, আমার চিন্তা, আমার অনুভূতি এবং আমার ইচ্ছা। কিন্তু যদি এগুলোকে আমার বলা হয়, তাহলে সেই আমি কে যার সঙ্গে এগুলো সম্পর্কিত। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই আত্মজিজ্ঞাসার সূচনা হয়। প্রকৃতির পরিবর্তনশীল বিকার এবং পুরুষের চৈতন্যস্বরূপ অবস্থানের পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারলে মানুষ নিজের জীবন, দুঃখ, আকাঙ্ক্ষা ও পরিচয়কে আরও গভীরভাবে দেখতে শেখে।

সুতরাং “প্রকৃতিং পুরুষং চৈব বিদ্ধ্যনাদী উভাবপি” কেবল একটি প্রাচীন সংস্কৃত শ্লোক নয়। এটি মানুষের অস্তিত্ব সম্পর্কে একটি মৌলিক অনুসন্ধান। প্রকৃতি আমাদের পরিবর্তনশীল দেহ ও মনকে ধারণ করে, গুণ আমাদের প্রবৃত্তির বিভিন্ন রূপ প্রকাশ করে, বিকার আমাদের জীবনের পরিবর্তনকে প্রকাশ করে এবং পুরুষ আমাদের চৈতন্যস্বরূপ সত্তার দিকে দৃষ্টি ফেরায়। শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা হলো পরিবর্তনশীল জগতকে বুঝতে হবে কিন্তু তার সঙ্গে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় স্থাপন করা যাবে না। কারণ যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে পরিবর্তনশীল প্রকৃতির প্রবাহকে দেখতে শেখে এবং সেই প্রবাহের সাক্ষীস্বরূপ চৈতন্যকে অনুসন্ধান করে, তার কাছে আত্মজ্ঞান ও মুক্তির পথ ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হতে থাকে। এই কারণেই এই শ্লোকের প্রকৃত গভীরতা কেবল প্রকৃতি ও পুরুষের সংজ্ঞায় নয়, বরং মানুষের সেই চিরন্তন প্রশ্নে নিহিত যে আমি আসলে কে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 22, 2026 August 22, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি