ভগবদ্গীতা ১৩.২৩ — দেহস্থিত পরমাত্মা, উপদ্রষ্টা, অনুমন্তা ও মহেশ্বর
উপদ্রষ্টানুমস্তা চ ভর্তা ভোক্তা মহেশ্বরঃ।
পরমাত্মেতি চাপ্যুক্তো দেহহস্মিন্ পুরুষঃ পরঃ।।২৩।।
অনুবাদঃ এই শরীরে আর একজন পরম পুরষ রয়েছেন, যিনি হচ্ছেন উপদ্রষ্টা, অনুমন্তা, ভর্তা, ভোক্তা, মহেশ্বর এবং তাঁকে পরমাত্মাও বলা হয়।
ভগবদ্গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের তেইশতম শ্লোকটি মানুষের অস্তিত্ব, চেতনা এবং পরমাত্মার সম্পর্ক বোঝার জন্য অত্যন্ত গভীর একটি দার্শনিক বক্তব্য। শ্লোকে বলা হয়েছে, উপদ্রষ্টা অনুমন্তা চ ভর্তা ভোক্তা মহেশ্বরঃ পরমাত্মেতি চাপ্যুক্তো দেহেস্মিন্ পুরুষঃ পরঃ। অর্থাৎ এই দেহের মধ্যে অবস্থিত পরম পুরুষকে উপদ্রষ্টা, অনুমন্তা, ভর্তা, ভোক্তা, মহেশ্বর এবং পরমাত্মা বলা হয়। অল্প কয়েকটি শব্দের মধ্যেই শ্রীকৃষ্ণ পরম সত্তার বহুমাত্রিক পরিচয় তুলে ধরেছেন। তিনি কেবল দূরে অবস্থানকারী কোনো ঈশ্বরের কথা বলছেন না, বরং মানুষের অস্তিত্বের গভীরে বিরাজমান এমন এক চৈতন্যসত্তার কথা বলছেন, যিনি জীবনের সকল পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষ করেন, অস্তিত্বকে ধারণ করেন এবং সর্বোচ্চ নিয়ামক হিসেবে অবস্থান করেন।
শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ উপদ্রষ্টা। সংস্কৃত উপদ্রষ্টা শব্দটি উপ এবং দৃশ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। দৃশ ধাতুর অর্থ দেখা বা প্রত্যক্ষ করা এবং উপ শব্দের অর্থ নিকট বা সমীপে। সেই অর্থে উপদ্রষ্টা হলেন নিকট থেকে প্রত্যক্ষকারী বা সাক্ষী। এখানে সাধারণ অর্থে কোনো দৃশ্য দেখার কথা বলা হয়নি। মানুষের দেহ পরিবর্তিত হয়, মন পরিবর্তিত হয়, চিন্তা পরিবর্তিত হয়, অনুভূতি পরিবর্তিত হয় এবং জীবনের পরিস্থিতিও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলিকে যে চৈতন্য প্রত্যক্ষ করে তার উপস্থিতি এক ভিন্ন মাত্রার। মানুষ বলতে পারে আমার মনে আনন্দ এসেছে, আমার মনে দুঃখ এসেছে, আমার মধ্যে রাগ জেগেছে। এর অর্থ হল আনন্দ, দুঃখ ও রাগকে জানার মতো একটি সচেতন অবস্থান রয়েছে। গীতার উপদ্রষ্টা ধারণা সেই অন্তর্নিহিত সাক্ষী চৈতন্যের দিকেই ইঙ্গিত করে।
এরপর এসেছে অনুমন্তা শব্দটি। অনুমন্তা শব্দের সঙ্গে অনু এবং মন ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে। অনু অর্থ অনুসরণ বা অনুকূলতা এবং মন ধাতুর সঙ্গে চিন্তা ও মননের ধারণা যুক্ত। অনুমন্তা বলতে বোঝায় অনুমোদনকারী বা সম্মতিদাতা। এর গভীর অর্থ হলো মানুষের সমস্ত কর্ম ও অভিজ্ঞতা একটি বৃহত্তর অস্তিত্বব্যবস্থার মধ্যে সংঘটিত হয়। মানুষ ইচ্ছা করে, চিন্তা করে এবং কাজ করে, কিন্তু তার অস্তিত্বের জন্য তাকে অসংখ্য অদৃশ্য শক্তির উপর নির্ভর করতে হয়। দেহ, প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ এবং চেতনার সমন্বয় ছাড়া কোনো কর্ম সম্পূর্ণ হতে পারে না। এই বৃহত্তর অস্তিত্বব্যবস্থার অন্তর্নিহিত অনুমোদনকারী নীতি হিসেবেই পরমাত্মাকে অনুমন্তা বলা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ যে কোনো অন্যায় কাজ করলে ঈশ্বর ব্যক্তিগতভাবে সেই অন্যায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। বরং মানুষের কর্মক্ষমতার অন্তর্নিহিত ভিত্তি এবং সাক্ষীস্বরূপ উপস্থিতির দিকে এই শব্দটি নির্দেশ করে।
ভর্তা শব্দটির মূল ধাতু হল ভৃ। এর অর্থ ধারণ করা, বহন করা, রক্ষা করা এবং পোষণ করা। তাই ভর্তা অর্থ যিনি ধারণ করেন, যিনি অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখেন। মানুষের অহংকার প্রায়ই মনে করে যে সে নিজেই নিজের জীবনের সম্পূর্ণ কর্তা। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, মানুষ নিজের শ্বাস সৃষ্টি করে না, নিজের হৃদস্পন্দন সচেতনভাবে পরিচালনা করে না এবং শরীরের অসংখ্য জৈবিক প্রক্রিয়াকে নিজে নিয়ন্ত্রণ করে না। পৃথিবীর প্রকৃতি, সূর্যের আলো, জল, বায়ু এবং অসংখ্য প্রাকৃতিক নিয়মের উপর মানুষের জীবন নির্ভরশীল। এই অস্তিত্বকে ধারণকারী বৃহত্তর শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে ভর্তা শব্দটি। এর মধ্যে মানুষের সীমাবদ্ধতা এবং পরম সত্তার উপর তার নির্ভরতার একটি গভীর উপলব্ধি রয়েছে।
শ্লোকে ব্যবহৃত ভোক্তা শব্দটির সঙ্গে ভুজ ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে। ভুজ অর্থ ভোগ করা, গ্রহণ করা এবং অভিজ্ঞতা করা। তাই ভোক্তা বলতে কেবল আনন্দ উপভোগকারী বোঝায় না। জীবনের সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা এবং নানা অভিজ্ঞতার সঙ্গে যে চৈতন্যগত সম্পর্ক রয়েছে, ভোক্তা সেই অভিজ্ঞতার অধিষ্ঠাতার দিকটিও প্রকাশ করে। বিভিন্ন ভারতীয় দর্শন এই শব্দের ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে করেছে। কোথাও জীবাত্মাকে অভিজ্ঞতার ভোক্তা হিসেবে দেখা হয়েছে এবং পরমাত্মাকে তার অন্তর্যামী সাক্ষী হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আবার ভক্তিমূলক ব্যাখ্যায় পরমেশ্বরকে সমস্ত যজ্ঞ, কর্ম এবং ভক্তির পরম গ্রহণকারী হিসেবে দেখা হয়েছে। তাই ভোক্তা শব্দটির অর্থকে কেবল ইন্দ্রিয়সুখের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে শ্লোকটির গভীরতা নষ্ট হয়ে যায়।
মহেশ্বর শব্দটি মহা এবং ঈশ্বর এই দুই অংশ নিয়ে গঠিত। মহা অর্থ মহান বা সর্বোচ্চ এবং ঈশ্বর অর্থ অধীশ্বর, প্রভু বা নিয়ামক। তাই মহেশ্বর অর্থ মহান অধীশ্বর বা সর্বোচ্চ ঈশ্বর। উপদ্রষ্টা শব্দে যেখানে সাক্ষীসত্তার পরিচয় পাওয়া যায়, সেখানে মহেশ্বর শব্দে পাওয়া যায় সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের ধারণা। তিনি কেবল জীবনের ঘটনাগুলো দেখেন না, বরং সমগ্র অস্তিত্বের বৃহত্তর বিধান ও নিয়মের অধীশ্বর। এই কারণে গীতার ঈশ্বর কেবল কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা বাহ্যিক উপাসনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। তিনি একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী এবং অন্তরস্থিত।
পরমাত্মা শব্দটি পরম এবং আত্মা এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। পরম অর্থ সর্বোচ্চ, চূড়ান্ত বা শ্রেষ্ঠ এবং আত্মা অর্থ আত্মসত্তা, অন্তর্নিহিত সত্তা বা চৈতন্য। পরমাত্মা তাই সর্বোচ্চ আত্মসত্তা। এই ধারণা ভারতীয় দর্শনের অন্যতম গভীর ধারণা। মানুষ সাধারণত নিজের পরিচয় দেহ, নাম, পরিচয়, পেশা, সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে নির্ধারণ করে। কিন্তু গীতা প্রশ্ন করে, এই সবকিছুর পরিবর্তনের মধ্যেও যে আমি থাকার অনুভূতি বজায় থাকে, সেই আমি আসলে কে। দেহ পরিবর্তিত হয়, মন পরিবর্তিত হয়, চিন্তা পরিবর্তিত হয়, কিন্তু পরিবর্তনকে জানার যে চৈতন্য তার প্রকৃতি কী। এই অনুসন্ধান থেকেই আত্মা এবং পরমাত্মার ধারণা গভীর হয়ে ওঠে।
শ্লোকের শেষাংশে বলা হয়েছে পুরুষঃ পরঃ। পুরুষ শব্দটি ভারতীয় দর্শনে অত্যন্ত প্রাচীন ও বহুমাত্রিক একটি ধারণা। এর অর্থ চৈতন্যসত্তা, আত্মসত্তা অথবা পরম ব্যক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পর শব্দের অর্থ শ্রেষ্ঠ, ঊর্ধ্বতর বা পরম। তাই পুরুষঃ পরঃ বলতে বোঝানো হয়েছে পরম পুরুষ বা সর্বোচ্চ চৈতন্যসত্তা। এখানে দেহের মধ্যে অবস্থানকারী কোনো সাধারণ ব্যক্তিসত্তার কথা বলা হচ্ছে না। বরং এমন এক পরম সত্তার কথা বলা হচ্ছে যিনি দেহের অন্তরে অবস্থান করেও দেহের সীমাবদ্ধতার দ্বারা আবদ্ধ নন।
এই শ্লোকের একটি বিশেষ সৌন্দর্য হলো একই পরম সত্তাকে বিভিন্ন নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপদ্রষ্টা হিসেবে তিনি সাক্ষী, অনুমন্তা হিসেবে তিনি অন্তর্নিহিত অনুমোদনকারী, ভর্তা হিসেবে তিনি অস্তিত্বের ধারক, ভোক্তা হিসেবে তিনি অভিজ্ঞতার অধিষ্ঠাতা, মহেশ্বর হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ নিয়ামক এবং পরমাত্মা হিসেবে তিনি অন্তরের পরম আত্মসত্তা। নামগুলো আলাদা হলেও নির্দেশিত সত্যের কেন্দ্র এক। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে পরম সত্তাকে একমাত্র একটি ধারণা দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। তিনি একই সঙ্গে সাক্ষী, ধারক, নিয়ামক এবং অন্তর্যামী।
অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের একটি বিশেষ গভীরতা রয়েছে। অদ্বৈত দর্শনে আত্মা এবং ব্রহ্মনের চূড়ান্ত ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিতে পরমাত্মা কোনো সম্পূর্ণ পৃথক বাস্তবতা নন, বরং আত্মার প্রকৃত স্বরূপই পরম সত্যের সঙ্গে অভিন্ন। দেহ পরিবর্তিত হয়, মন পরিবর্তিত হয় এবং চিন্তার ধারাও পরিবর্তিত হয়, কিন্তু যে চৈতন্য এই পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষ করে তার স্বরূপ অপরিবর্তনীয়। এই উপলব্ধিই আত্মজ্ঞান এবং মুক্তির পথে নিয়ে যায়।
বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে জীব এবং ঈশ্বরের সম্পর্ককে নির্ভরতা ও অন্তর্যামিত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়। জীব ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল এবং ঈশ্বর জীবের অন্তরে অবস্থান করেন। কিন্তু ঈশ্বর জীবের সমান নন। এই দৃষ্টিতে পরমাত্মা হলেন অন্তর্যামী ঈশ্বর, যিনি জীবের মধ্যে অবস্থান করেও জীবের সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ নন। অন্যদিকে দ্বৈত দর্শনে জীবাত্মা ও পরমাত্মা পৃথক সত্তা। জীব নির্ভরশীল এবং পরমাত্মা স্বাধীন ও সর্বোচ্চ ঈশ্বর। এই ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেখায় যে শ্লোকটি ভারতীয় দর্শনের বহু ধারায় গভীর চিন্তার ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। উপদ্রষ্টা মানুষের মধ্যে আত্মপর্যবেক্ষণের প্রতীক। মানুষ যখন নিজের রাগ, ভয়, দুঃখ বা আকাঙ্ক্ষাকে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় না ভেবে পর্যবেক্ষণ করতে শেখে, তখন তার মধ্যে সাক্ষীভাবের সূচনা হয়। ভর্তা অস্তিত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতীক। মহেশ্বর মানুষের অহংকারকে সীমাবদ্ধ করে বৃহত্তর বিধানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পরমাত্মা মানুষকে নিজের অন্তর্গত গভীরতম সত্যের অনুসন্ধানে আহ্বান করে। এইভাবে শ্লোকটি কেবল ঈশ্বরতত্ত্ব নয়, আত্মপরিচয় এবং আত্মজিজ্ঞাসারও একটি গভীর শিক্ষা।
একটি সহজ উপমার মাধ্যমে বিষয়টি বোঝা যায়। একটি চলচ্চিত্রের কথা কল্পনা করা যাক। চলচ্চিত্রে আনন্দ আছে, দুঃখ আছে, যুদ্ধ আছে, প্রেম আছে এবং মৃত্যু আছে। দৃশ্যগুলো পরিবর্তিত হয়, কিন্তু পর্দা সব দৃশ্যকে ধারণ করে। একইভাবে মানুষের জীবনে সুখ, দুঃখ, সাফল্য, ব্যর্থতা, রাগ এবং ভালোবাসা আসে ও চলে যায়। মানুষের দেহ ও মনও পরিবর্তিত হয়। কিন্তু সেই পরিবর্তনকে জানার যে চৈতন্য তার দিকে দৃষ্টি দেওয়াই উপদ্রষ্টা ধারণার একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা হতে পারে। অবশ্য পরমাত্মাকে কেবল পর্দা বা দর্শকের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে তুলনা করা যায় না। এই উপমা কেবল ধারণাটিকে সহজভাবে উপলব্ধি করার একটি মাধ্যম।
শ্লোকটির ব্যবহারিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যদি নিজের সমস্ত অভিজ্ঞতাকে নিজের চূড়ান্ত পরিচয় মনে করে, তবে সুখে সে অহংকারী এবং দুঃখে সে ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু যদি সে বুঝতে শেখে যে তার মধ্যে এমন একটি সাক্ষীসত্তার সম্ভাবনা রয়েছে যা চিন্তা ও অনুভূতিকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে, তবে জীবনের ওঠানামার মধ্যে মানসিক স্থিরতা অর্জন করা সহজ হয়। তখন মানুষ বলতে পারে আমার মধ্যে দুঃখ এসেছে, কিন্তু আমি কেবল দুঃখ নই। আমার মধ্যে রাগ এসেছে, কিন্তু আমি কেবল রাগ নই। আমার চিন্তা পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু চিন্তার পরিবর্তনকে জানার চৈতন্যের প্রশ্নটি এখনও থেকে যায়। এই আত্মপর্যবেক্ষণ ধীরে ধীরে আত্মজিজ্ঞাসায় রূপ নিতে পারে।
এই কারণে শ্লোকটির সবচেয়ে গভীর প্রশ্ন হলো আমি কে। আমি কি কেবল এই দেহ। আমি কি কেবল মন। আমি কি আমার স্মৃতি, চিন্তা এবং আবেগের সমষ্টি। যদি এগুলো সব পরিবর্তনশীল হয়, তবে তাদের পরিবর্তনকে যে চৈতন্য জানে তার প্রকৃতি কী। গীতার দর্শন মানুষকে এই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। এই প্রশ্নের অনুসন্ধান বাহ্যিক জগতের জ্ঞান থেকে অন্তর্জগতের জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়।
সামগ্রিকভাবে ভগবদ্গীতার এই শ্লোকটি পরমাত্মার একটি বহুমাত্রিক পরিচয় তুলে ধরে। তিনি উপদ্রষ্টা হিসেবে জীবনের সাক্ষী, অনুমন্তা হিসেবে কর্মপ্রবাহের অন্তর্নিহিত অনুমোদনকারী, ভর্তা হিসেবে অস্তিত্বের ধারক, ভোক্তা হিসেবে অভিজ্ঞতার অধিষ্ঠাতা, মহেশ্বর হিসেবে সর্বোচ্চ অধীশ্বর এবং পরমাত্মা হিসেবে মানুষের অন্তরের পরম সত্তা। শ্লোকটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষকে কেবল তার পরিবর্তনশীল দেহ ও মনের মাধ্যমে বোঝা যায় না। তার অস্তিত্বের গভীরে রয়েছে চেতনা, আত্মপরিচয় এবং পরম সত্যের এক গভীর অনুসন্ধান। সেই অনুসন্ধানের পথেই উপদ্রষ্টা ধীরে ধীরে পরমাত্মার উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়। আর এই উপলব্ধির চূড়ান্ত তাৎপর্য হলো নিজের গভীরতম সত্তাকে জানা, নিজের সীমাবদ্ধ অহংকারকে অতিক্রম করা এবং অস্তিত্বের অন্তর্নিহিত পরম সত্যের সঙ্গে সম্পর্ক উপলব্ধি করা।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!