সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৩.২৪ — পুরুষ ও গুণসহ প্রকৃতির জ্ঞান এবং পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
য এবং বেত্তি পুরুষং প্রকৃতিং চ গুণৈঃ সহ। সর্বথা বর্তমানোহপি ন স…
য এবং বেত্তি পুরুষং প্রকৃতিং চ গুণৈঃ সহ। 
সর্বথা বর্তমানোহপি ন স ভূয়োহভিজায়তে।।২৪।।

অনুবাদঃ যিনি এভাবেই পুরুষকে এবং গুণাদি সহ জড় প্রকৃতিকে অবগত হন, তিনি জড় জগতে বর্তমান হয়েও পুনঃ জন্মগ্রহণ করেন না।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের চব্বিশতম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানবজীবনের এক গভীরতম সত্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। শ্লোকটি হলো “যশ্চ বেত্তি পুরুষং প্রকৃতিং চ গুণৈঃ সহ সর্বথা বর্তমানোऽপি ন স ভূয়োऽভিজায়তে।” এর সরল অর্থ হলো যে ব্যক্তি পুরুষকে এবং তিন গুণসহ প্রকৃতিকে যথার্থভাবে জানে, সে জীবনের যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, আর পুনরায় জন্মগ্রহণ করে না। কিন্তু এই বক্তব্যকে কেবল পুনর্জন্মের একটি ধর্মীয় ধারণা হিসেবে দেখলে শ্লোকটির প্রকৃত গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না। এর মধ্যে মানুষের আত্মপরিচয়, প্রকৃতির কার্যপ্রণালী, চৈতন্যের স্বরূপ, কর্মবন্ধন এবং মুক্তির এক গভীর দর্শন নিহিত রয়েছে।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “যঃ” যার অর্থ যে বা যিনি। তার পরেই এসেছে “বেত্তি” শব্দটি। “বেত্তি” শব্দটি সংস্কৃত বিদ্ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ জানা বা উপলব্ধি করা। এখানে জানা বলতে কেবল কোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা বোঝানো হয়নি। গীতার ভাষায় এই জানা হলো এমন এক গভীর উপলব্ধি, যা মানুষের নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দেয়। একজন মানুষ যদি বই পড়ে জানতে পারে যে শরীর পরিবর্তনশীল, তাহলে সেটি একটি বুদ্ধিগত জ্ঞান। কিন্তু যখন সে নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যেই উপলব্ধি করতে শুরু করে যে তার শরীর, মন, চিন্তা, আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন তার মধ্যে অন্য ধরনের জ্ঞান জন্ম নেয়। সেই জ্ঞান মানুষকে নিজের প্রকৃত পরিচয় অনুসন্ধান করতে সাহায্য করে।

শ্লোকের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “পুরুষ”। পুরুষ বলতে এখানে কেবল সাধারণ অর্থে মানুষ বোঝানো হয়নি। ভারতীয় দর্শনে পুরুষ হলো চৈতন্যস্বরূপ সাক্ষীসত্তা। শরীর পরিবর্তিত হয়, মন পরিবর্তিত হয়, চিন্তা আসে এবং চলে যায়, আনন্দ ও দুঃখের অনুভূতি পরিবর্তিত হয়, কিন্তু যে সত্তা এই সমস্ত পরিবর্তনকে জানে এবং প্রত্যক্ষ করে, পুরুষের ধারণা সেই সাক্ষীস্বরূপ চৈতন্যের দিকে নির্দেশ করে। মানুষ সাধারণত নিজের শরীরকে নিজের পরিচয় বলে মনে করে। সে বলে আমার শরীর, আমার মন, আমার চিন্তা, আমার অনুভূতি। কিন্তু এই ভাষার মধ্যেই একটি গভীর সত্য লুকিয়ে আছে। যখন মানুষ বলে আমার শরীর, তখন শরীর যেন তার অধিকারভুক্ত একটি বিষয়। যখন বলে আমার মন, তখন মনও যেন পর্যবেক্ষণের বিষয়। যখন বলে আমার চিন্তা, তখন চিন্তাও তার সামনে উপস্থিত একটি অভিজ্ঞতা। গীতার দর্শন এখান থেকেই প্রশ্ন তোলে যে শরীর, মন ও চিন্তাকে যে জানে, সেই জাননেওয়ালা সত্তা কে।

এর বিপরীতে শ্লোকে এসেছে “প্রকৃতি” শব্দটি। প্রকৃতি শব্দটি প্র এবং কৃ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর মধ্যে মূল স্বভাব, প্রাথমিক উপাদান ও সৃষ্টিশক্তির ধারণা রয়েছে। গীতার প্রেক্ষাপটে প্রকৃতি বলতে শুধু পাহাড়, নদী, বৃক্ষ, প্রাণী বা দৃশ্যমান জগতকে বোঝানো হয় না। দেহ, ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি, অহংকার এবং জগতের পরিবর্তনশীল কার্যপ্রবাহও প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ মানুষের যে অংশ পরিবর্তিত হয়, কাজ করে, অনুভব করে, চিন্তা করে এবং নানা অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়, তা প্রকৃতির পরিসরের মধ্যে পড়ে।

এই প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে “গুণৈঃ সহ” কথাটি। গুণ শব্দের সাধারণ অর্থ গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্য হলেও গীতার দর্শনে গুণ বলতে প্রকৃতির তিন মৌলিক প্রবণতা বোঝানো হয়েছে। এগুলো হলো সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ। সত্ত্ব প্রকাশ করে স্বচ্ছতা, জ্ঞান, শান্তি ও সাম্যকে। রজঃ প্রকাশ করে কর্মপ্রবণতা, আকাঙ্ক্ষা, অস্থিরতা, অর্জনের বাসনা ও আসক্তিকে। তমঃ প্রকাশ করে জড়তা, অজ্ঞতা, অলসতা ও আচ্ছন্নতাকে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে তার চিন্তা ও আচরণের মধ্যে কখনো স্বচ্ছতা ও শান্তি প্রবল হয়, কখনো আকাঙ্ক্ষা ও কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পায়, আবার কখনো জড়তা ও অজ্ঞতা তাকে আচ্ছন্ন করে। গীতার শিক্ষা হলো এই গুণগুলোর কার্যকলাপকে বুঝতে হবে এবং বুঝতে হবে যে এগুলোর পরিবর্তনশীল অবস্থাকে নিজের চূড়ান্ত পরিচয় মনে করা উচিত নয়।

শ্লোকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো “সর্বথা বর্তমানোऽপি”। এর অর্থ হলো সর্বপ্রকার অবস্থায় অবস্থান করলেও বা জীবনের নানা পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও। এই কথাটি গীতার মুক্তির ধারণাকে অত্যন্ত গভীর করে তোলে। মুক্তির জন্য মানুষের সংসার থেকে পালিয়ে যাওয়া আবশ্যক নয়। সংসারে থেকে কর্ম করা, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, দায়িত্ব পালন করা এবং জীবনের নানা সুখ দুঃখের মধ্য দিয়ে চলা সত্ত্বেও মানুষ অন্তরে মুক্ত থাকতে পারে। বাহ্যিকভাবে একজন ব্যক্তি কর্মের মধ্যে থাকতে পারেন, কিন্তু যদি তিনি বুঝতে পারেন যে প্রকৃতির গুণসমূহ তাদের নিজস্ব স্বভাব অনুযায়ী কাজ করছে এবং তিনি সেই সমস্ত পরিবর্তনের সাক্ষীস্বরূপ চৈতন্য, তাহলে কর্মের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়।

এই অবস্থার পরিণতি প্রকাশিত হয়েছে শ্লোকের শেষ অংশে “ন স ভূয়োऽভিজায়তে” কথার মাধ্যমে। এর অর্থ হলো সে আর পুনরায় জন্মগ্রহণ করে না। ভারতীয় আধ্যাত্মিক দর্শনে পুনর্জন্মের ধারণা কর্ম ও আসক্তির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। মানুষ যখন নিজেকে দেহ, মন, আকাঙ্ক্ষা, কর্ম ও কর্মফলের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে এক করে দেখে, তখন সে আসক্তির মধ্যে আবদ্ধ হয়। সেই আসক্তি কর্মকে প্রভাবিত করে এবং কর্ম আবার ভবিষ্যৎ অভিজ্ঞতার কারণ হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন মানুষ উপলব্ধি করে যে প্রকৃতি পরিবর্তনশীল এবং পুরুষ সেই পরিবর্তনের সাক্ষী, তখন তার আত্মপরিচয়ের ভিতরে একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনই মুক্তির পথ উন্মুক্ত করে।

সাংখ্য দর্শনের দৃষ্টিতে পুরুষ ও প্রকৃতি দুটি মৌলিক সত্য। প্রকৃতি পরিবর্তনশীল এবং পুরুষ চৈতন্যস্বরূপ সাক্ষী। মানুষের বন্ধনের মূল কারণ হলো পুরুষের সঙ্গে প্রকৃতির ভুল পরিচয় স্থাপন করা। মানুষ প্রকৃতির পরিবর্তনকে নিজের পরিবর্তন মনে করে এবং প্রকৃতির সুখ দুঃখকে নিজের চূড়ান্ত সুখ দুঃখ বলে গ্রহণ করে। প্রকৃতি ও পুরুষের প্রকৃত পার্থক্য উপলব্ধি হলে এই ভুল পরিচয় দূর হয়। তখন মানুষ বুঝতে পারে যে দেহের পরিবর্তন, মনের ওঠানামা এবং গুণের কার্যকলাপ প্রকৃতির মধ্যে ঘটছে। সাক্ষীস্বরূপ চৈতন্য তার দ্বারা আবদ্ধ নয়।

অদ্বৈত বেদান্তের আলোকে এই শিক্ষা আরও গভীর অর্থ লাভ করে। সেখানে আত্মা ও ব্রহ্মের চূড়ান্ত ঐক্যের কথা বলা হয়। ব্যক্তি যখন নিজের সত্য পরিচয়কে শরীর ও মনের সীমার মধ্যে আবদ্ধ না রেখে চৈতন্যস্বরূপ আত্মার মধ্যে উপলব্ধি করে, তখন তার মধ্যে দ্বৈততার বোধ ক্রমশ ক্ষীণ হয়। সে বুঝতে শুরু করে যে বাহ্যিক বৈচিত্র্যের পেছনে একটি মৌলিক চৈতন্যসত্য রয়েছে। এই উপলব্ধি অজ্ঞতার অবসান ঘটায় এবং মুক্তির দিকে নিয়ে যায়।

এই শ্লোকের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী অর্থও রয়েছে। পুরুষকে যদি সাক্ষী এবং প্রকৃতিকে একটি মঞ্চ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তাহলে মানুষের জীবন সেই মঞ্চে চলমান এক বিশাল নাটকের মতো। শরীর, মন, চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ, দুঃখ, সাফল্য ও ব্যর্থতা সবই সেই নাটকের বিভিন্ন দৃশ্য। তিন গুণ সেই নাটকের বিভিন্ন প্রবাহকে পরিচালনা করে। কিন্তু যে চৈতন্য এই সমস্ত দৃশ্যকে প্রত্যক্ষ করে, তার প্রকৃতি দৃশ্যগুলোর মতো পরিবর্তনশীল নয়। মানুষ যখন নিজেকে কেবল নাটকের একটি চরিত্র বলে মনে করে, তখন সে ভয়, আকাঙ্ক্ষা ও আসক্তির মধ্যে আবদ্ধ হয়। কিন্তু যখন সে নিজের মধ্যে সাক্ষীসত্তার উপস্থিতি উপলব্ধি করতে শুরু করে, তখন তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়।

একটি সিনেমার উপমা দিয়ে বিষয়টি সহজে বোঝা যায়। পর্দায় যুদ্ধ হতে পারে, আনন্দ হতে পারে, দুঃখ হতে পারে, মৃত্যু হতে পারে অথবা বিজয় হতে পারে। দর্শক সেই দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হতে পারেন, কিন্তু পর্দার ঘটনাগুলো দর্শকের অস্তিত্বকে বাস্তবে পরিবর্তন করে না। একইভাবে মানুষের দেহ ও মনে নানা অভিজ্ঞতা আসে এবং চলে যায়। রাগ আসে, আবার চলে যায়। দুঃখ আসে, আবার দূর হয়। আনন্দ আসে, আবার পরিবর্তিত হয়। চিন্তা আসে এবং মিলিয়ে যায়। গীতার শিক্ষা হলো মানুষ যেন এই পরিবর্তনশীল অভিজ্ঞতাগুলোর সঙ্গে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় স্থাপন না করে। সে যেন বুঝতে শেখে যে অভিজ্ঞতার পরিবর্তন এবং অভিজ্ঞতাকে জানার চৈতন্য এক বিষয় নয়।

এই শিক্ষা আধুনিক মানুষের জীবনেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একজন মানুষ যখন বলে আমি ব্যর্থ, তখন সে একটি নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতাকে নিজের সমগ্র পরিচয় বানিয়ে ফেলছে। কিন্তু যদি সে বলে আমার মধ্যে ব্যর্থতার অনুভূতি এসেছে, তাহলে সে অনুভূতিটিকে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করছে। একইভাবে আমি রাগী বলার পরিবর্তে আমার মধ্যে রাগের একটি প্রবণতা কাজ করছে বলা হলে মানুষ নিজের আবেগকে একটু দূর থেকে দেখতে পারে। যদিও আধুনিক মনোবিজ্ঞানের কোনো নির্দিষ্ট ধারণাকে গীতার পুরুষ ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি এক করে দেখা উচিত নয়, তবু আত্মপর্যবেক্ষণের এই দৃষ্টিভঙ্গি গীতার শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

এই শ্লোক আমাদের আত্মপরিচয় সম্পর্কে এক মৌলিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। আমি কি শুধু আমার শরীর। আমি কি আমার মন। আমি কি আমার চিন্তা। আমি কি আমার আবেগ। আমি কি আমার সাফল্য এবং ব্যর্থতা। যদি এগুলোর প্রত্যেকটি পরিবর্তিত হয়, তাহলে যে সত্তা এই পরিবর্তনগুলোকে জানতে পারে তার প্রকৃতি কী। এই প্রশ্নের অনুসন্ধানই আত্মজ্ঞান অনুসন্ধানের সূচনা। গীতার দৃষ্টিতে জ্ঞান মানে শুধু একটি দার্শনিক তত্ত্ব মুখস্থ করা নয়। সত্যিকার জ্ঞান তখনই অর্থবহ হয় যখন তা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মপরিচয় এবং জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ককে পরিবর্তন করে।

এই কারণে শ্লোকটির গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষকে তার নিজের অস্তিত্বের স্তরগুলোকে পৃথকভাবে দেখতে শেখানো। দেহ প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত। মন প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত। ইন্দ্রিয় প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত। চিন্তা ও আবেগও প্রকৃতির কার্যপ্রবাহের মধ্যে প্রকাশিত হয়। তিন গুণ সেই প্রকৃতির বিভিন্ন প্রবণতাকে পরিচালিত করে। কিন্তু পুরুষ হলো সেই চৈতন্যস্বরূপ সাক্ষী, যার কাছে এই সমস্ত পরিবর্তন প্রকাশিত হয়। এই পার্থক্য যখন কেবল বুদ্ধিতে নয়, জীবনের গভীর অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি হয়, তখন মানুষ ধীরে ধীরে আসক্তি ও অহংকারের বন্ধন অতিক্রম করতে পারে।

সুতরাং “যশ্চ বেত্তি পুরুষং প্রকৃতিং চ গুণৈঃ সহ” শুধু একটি শাস্ত্রীয় বাক্য নয়। এটি মানুষের নিজের দিকে ফিরে তাকানোর আহ্বান। এটি বলে প্রকৃতিকে জানো, নিজের মনকে জানো, নিজের প্রবণতাকে জানো, তিন গুণের কার্যকলাপকে চিনতে শেখো এবং একই সঙ্গে সেই চৈতন্যকে অনুসন্ধান করো যে এসবকিছুকে জানছে। যখন মানুষ প্রকৃতির পরিবর্তনকে নিজের চূড়ান্ত পরিচয় বলে মনে করা থেকে মুক্ত হয় এবং নিজের গভীরতর চৈতন্যসত্তাকে উপলব্ধি করতে শুরু করে, তখন তার কাছে জীবন ও মৃত্যুর অর্থও নতুনভাবে প্রকাশিত হয়।

এই শ্লোকের সারমর্ম তাই হলো প্রকৃতি পরিবর্তনশীল, তার মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ নানা রূপে কাজ করে এবং মানুষের শরীর, মন ও আচরণের মধ্যেও সেই পরিবর্তনের প্রকাশ ঘটে। কিন্তু পুরুষ সেই পরিবর্তনের সাক্ষীস্বরূপ চৈতন্য। যে ব্যক্তি পুরুষ ও গুণসহ প্রকৃতির প্রকৃত সম্পর্ক উপলব্ধি করে, সে বাহ্যিকভাবে সংসারে অবস্থান করলেও অন্তরে তার আত্মপরিচয়ের বন্ধন ছিন্ন করতে পারে। তার কাছে সুখ ও দুঃখ, লাভ ও ক্ষতি, সাফল্য ও ব্যর্থতা জীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে, তার চূড়ান্ত পরিচয় হয়ে ওঠে না। এই আত্মজ্ঞানই গীতার মুক্তির পথে অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই শ্লোকটির গভীরতম আহ্বান হলো নিজের পরিবর্তনশীল অভিজ্ঞতার মধ্যে অপরিবর্তনীয় চৈতন্যকে অনুসন্ধান করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিজের ভুল আত্মপরিচয় অতিক্রম করে নিজের প্রকৃত স্বরূপকে উপলব্ধি করা।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 22, 2026 August 22, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি