সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৩.২৬ — শ্রবণ, উপাসনা ও শ্রুতির আশ্রয়ে মৃত্যুকে অতিক্রম

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
অন্যে ত্বেবমজানন্তঃ শ্রুত্বান্যেভ্য উপাসতে। তেহপি চাতিতরন্ত্যেব মৃত্যুং শ্রুতিপরায়ণাঃ।।২৬।।
অন্যে ত্বেবমজানন্তঃ শ্রুত্বান্যেভ্য উপাসতে। 
তেহপি চাতিতরন্ত্যেব মৃত্যুং শ্রুতিপরায়ণাঃ।।২৬।।

অনুবাদঃ অন্য কেউ কেউ এভাবেই না জেনে অন্যদের কাছ থেকে শ্রবণ করে উপাসনা করেন। তাঁরাও শ্রবণ-পরায়ণ হয়ে মৃত্যুময় সংসার অতিক্রম করেন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের ছাব্বিশতম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের আধ্যাত্মিক মুক্তির একটি অত্যন্ত সহজ অথচ গভীর পথের কথা তুলে ধরেছেন। শ্লোকটি হলো “অন্যে ত্বেবমজানন্তঃ শ্রুত্বান্যেভ্য উপাসতে। তেহপি চাতিতরন্ত্যেব মৃত্যুং শ্রুতিপরায়ণাঃ।” এই শ্লোকে বলা হয়েছে যে কিছু মানুষ আত্মতত্ত্বকে নিজের বুদ্ধি দিয়ে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে না পারলেও জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সেই তত্ত্ব শুনে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং উপাসনার মাধ্যমে সেই সত্যের নিকটে অগ্রসর হয়। তারাও শ্রুত সত্যের প্রতি নিবেদিত থাকলে মৃত্যুকে অতিক্রম করতে পারে। এই বক্তব্যের মধ্যে মানুষের জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতা যেমন স্বীকার করা হয়েছে, তেমনি তার মুক্তির সম্ভাবনাকেও অত্যন্ত উদারভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “অন্যে”। অন্যে অর্থ অন্যরা বা অপরেরা। এখানে এমন কিছু মানুষের কথা বলা হচ্ছে যারা পূর্বে আলোচিত জ্ঞান, ধ্যান বা আত্মতত্ত্বের প্রত্যক্ষ উপলব্ধির পথ অবলম্বন করতে সক্ষম নয়। কিন্তু “অন্যে” শব্দের মধ্যে কোনো নিকৃষ্টতার ধারণা নেই। মানুষের স্বভাব, বুদ্ধি, মানসিক ক্ষমতা এবং আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি এক রকম নয়। কেউ যুক্তির মাধ্যমে সত্য অনুসন্ধান করে, কেউ ধ্যানের মাধ্যমে অন্তর্জগতের গভীরে প্রবেশ করে, আবার কেউ জ্ঞানী মানুষের কাছ থেকে শুনে সত্যের পথে অগ্রসর হয়। গীতা মানুষের এই বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে এবং প্রত্যেকের জন্য আধ্যাত্মিক অগ্রগতির সম্ভাবনা রেখে দেয়।

এরপর এসেছে “অজানন্তঃ” শব্দটি। এর মূল ধাতু হলো সংস্কৃত “জ্ঞা”, যার অর্থ জানা বা উপলব্ধি করা। এর সঙ্গে নিষেধবোধক “অ” যুক্ত হয়ে অজানন্তঃ অর্থ দাঁড়ায় যারা জানে না বা যারা প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেনি। কিন্তু এখানে না জানা বলতে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা বোঝানো হয় না। একজন মানুষ হয়তো আত্মা, প্রকৃতি, ক্ষেত্র এবং ক্ষেত্রজ্ঞের গভীর দার্শনিক ব্যাখ্যা বুঝতে সক্ষম নন, কিন্তু তাই বলে তিনি সত্যের সন্ধান থেকে বঞ্চিত নন। নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা অনেক সময় জ্ঞানেরই সূচনা। “আমি সব জানি না” এই উপলব্ধি মানুষের অহংকারকে কোমল করে এবং তাকে সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে।

এই অবস্থার পরেই এসেছে “শ্রুত্বা” শব্দটি। এর মূল ধাতু “শ্রু”, যার অর্থ শোনা। এই ধাতু থেকেই শ্রুতি, শ্রবণ এবং শ্রুতির মতো শব্দের উৎপত্তি। “শ্রুত্বা” অর্থ শুনে। কিন্তু গীতার এই শ্রবণ কেবল কানে কোনো শব্দ প্রবেশ করার বিষয় নয়। এখানে শ্রবণ হলো সত্যকে গ্রহণ করার একটি আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া। মানুষ নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পৃথিবীর সব সত্য জানতে পারে না। তাকে শিক্ষক, গুরু, জ্ঞানী, অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং ঐতিহ্যের কাছ থেকে শিখতে হয়। তাই সত্যের পথে শ্রবণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বার।

“অন্যেভ্যঃ” শব্দটি বোঝায় অন্যদের কাছ থেকে। অর্থাৎ তারা জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছ থেকে শুনে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক নীতি প্রকাশিত হয়েছে। মানুষ সব সত্য নিজে আবিষ্কার করতে বাধ্য নয়। যেমন একজন শিক্ষার্থী শিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করে, তেমনি একজন আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানীও জ্ঞানী ব্যক্তির কাছ থেকে আত্মতত্ত্ব শুনতে পারে। তবে এই শ্রবণ অন্ধ বিশ্বাসের সমার্থক নয়। সত্যকে শোনা, তা নিয়ে চিন্তা করা এবং নিজের জীবনে তার যথার্থতা উপলব্ধি করার মধ্য দিয়েই শ্রবণ অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এরপর এসেছে “উপাসতে” শব্দটি। এই শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত দিক অত্যন্ত সুন্দর। উপাসনা শব্দটি “উপ” এবং “আস” এই দুটি অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। “উপ” অর্থ নিকট বা কাছে এবং “আস” অর্থ বসা বা অবস্থান করা। সেই অর্থে উপাসনার একটি গভীর অন্তর্নিহিত ভাব হলো সত্যের নিকটে বসা বা সত্যের নিকটে নিজেকে স্থাপন করা। ফলে উপাসনা শুধু বাহ্যিক পূজা বা আচার নয়। যার প্রতি মানুষের চেতনা নিবদ্ধ হয়, যার নিকটে তার মন যেতে চায় এবং যার সত্যকে সে নিজের জীবনের কেন্দ্র করে তোলে, সেই হলো তার উপাসনার বিষয়। এই দৃষ্টিতে উপাসনা হলো মানুষের অন্তরের অভিমুখ পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।

শ্লোকের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে “তেহপি” অর্থ তারাও। এই দুটি শব্দের মধ্যেই গীতার এক অসাধারণ আশাবাদী দর্শন প্রকাশিত হয়েছে। যারা নিজেরা গভীর তত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারেনি, তাদের জন্যও মুক্তির দরজা বন্ধ নয়। তারা যদি সত্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে শোনে এবং সেই সত্যের প্রতি নিজেদের জীবনকে নিবেদিত করে, তারাও আধ্যাত্মিক মুক্তির পথে অগ্রসর হতে পারে। এখানে জ্ঞানের একচেটিয়া অধিকারকে অস্বীকার করে সত্যের প্রতি আন্তরিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

“অতিতরন্তি” শব্দটির মূল ধাতু “তৃ”, যার অর্থ পার হওয়া বা অতিক্রম করা। এর সঙ্গে “অতি” যুক্ত হয়ে অর্থ হয়েছে অতিক্রম করে যাওয়া বা পার হয়ে যাওয়া। এই শব্দটি শ্লোকের আধ্যাত্মিক গতিকে প্রকাশ করে। মানুষ কেবল কোনো জ্ঞান অর্জন করে থেমে থাকে না। তাকে এমন এক অবস্থায় যেতে হয় যেখানে অজ্ঞতা, ভয়, আসক্তি এবং জন্ম ও মৃত্যুর বন্ধন তার চেতনার উপর আগের মতো আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। তাই অতিতরন্তি শব্দের মধ্যে একটি যাত্রার ভাব রয়েছে। এটি সীমাবদ্ধতা থেকে অসীমতার দিকে যাওয়ার যাত্রা।

এরপর এসেছে “মৃত্যুম্” শব্দটি। সাধারণ অর্থে মৃত্যু হলো দেহজীবনের অবসান। সংস্কৃত “মৃ” ধাতুর সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু গীতার দার্শনিক পরিসরে মৃত্যু কেবল দেহের অবসান নয়। মৃত্যু এখানে জন্ম ও মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি, সংসারবন্ধন, অজ্ঞতা, অহংকার এবং পরিবর্তনশীল জগতের প্রতি আসক্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাই মৃত্যুকে অতিক্রম করার অর্থ শারীরিক দেহকে চিরস্থায়ী করে তোলা নয়। বরং আত্মার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করে সেই চেতনার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, যা জন্ম ও মৃত্যুর পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে।

শ্লোকটির শেষ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “শ্রুতিপরায়ণাঃ”। এটি শ্রুতি এবং পরায়ণ এই দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত। শ্রুতি শব্দের সঙ্গে শোনা বা শ্রবণের সম্পর্ক রয়েছে এবং বৈদিক ঐতিহ্যে এটি বিশেষভাবে বৈদিক জ্ঞানের প্রকাশকে বোঝায়। পরায়ণ অর্থ সম্পূর্ণভাবে কোনো কিছুর প্রতি নিবেদিত বা কোনো কিছুকে নিজের আশ্রয় ও গন্তব্য হিসেবে গ্রহণ করা। তাই শ্রুতিপরায়ণ অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি শ্রুত সত্যের প্রতি সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত। এখানে শুধু শোনার কথা বলা হয়নি। শোনা সত্যকে নিজের অন্তরের আশ্রয় করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই শব্দটির মধ্যে ভারতীয় জ্ঞানপরম্পরার একটি মৌলিক ধারণা নিহিত রয়েছে। আধ্যাত্মিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রবণ, মনন এবং গভীর আত্মস্থতার একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। প্রথমে সত্যকে শুনতে হয়। তারপর সেই সত্য নিয়ে চিন্তা করতে হয়। এরপর সেই সত্যকে জীবনের অন্তর্গত বাস্তবতায় পরিণত করতে হয়। তাই শ্রুতিপরায়ণ ব্যক্তি শুধু ধর্মীয় কথা শোনেন না। তিনি শোনা সত্যের প্রতি জীবনকে পরিচালিত করেন। তাঁর শ্রবণ ধীরে ধীরে বিশ্বাসে, বিশ্বাস সাধনায় এবং সাধনা উপলব্ধিতে রূপান্তরিত হয়।

এই শ্লোকের দার্শনিক তাৎপর্য এখানেই যে সত্য উপলব্ধির পথ একটিমাত্র নয়। মানুষের মানসিক গঠন, বুদ্ধিবৃত্তি এবং আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি ভিন্ন। কেউ জ্ঞানের মাধ্যমে সত্যে পৌঁছায়, কেউ ধ্যানের মাধ্যমে, কেউ কর্মের মাধ্যমে এবং কেউ শ্রবণ ও উপাসনার মাধ্যমে। গীতা এই বৈচিত্র্যকে অস্বীকার না করে বরং একটি বৃহত্তর সত্যের মধ্যে স্থাপন করেছে। সত্য এক হতে পারে, কিন্তু সেই সত্যের দিকে যাওয়ার পথ মানুষের জন্য বহুরূপী হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে “শ্রবণ” শব্দটির একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক অর্থও রয়েছে। মানুষ তার চারপাশ থেকে যা শোনে তা তার চিন্তা ও বিশ্বাসকে প্রভাবিত করে। কোন কথা আমরা গ্রহণ করছি, কার কাছ থেকে গ্রহণ করছি এবং কীভাবে তা অন্তরে ধারণ করছি, তার উপর আমাদের মানসিক জগত অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই গীতার শ্রবণ একটি সচেতন শ্রবণ। সত্যের কথা শুনতে হলে মনকে অহংকার, পূর্বধারণা এবং অন্ধ পক্ষপাত থেকে কিছুটা মুক্ত করতে হয়। যে মন সত্য শুনতে প্রস্তুত নয়, তার কাছে সত্য উচ্চারিত হলেও তা গভীরে প্রবেশ করে না।

এই শ্লোককে একটি নদী পার হওয়ার উপমা দিয়েও বোঝা যায়। একজন মানুষ নিজে সাঁতার জানে এবং নদী পার হয়ে যায়। আরেকজন অভিজ্ঞ নাবিকের সাহায্যে নৌকায় উঠে নদী পার হয়। দ্বিতীয় ব্যক্তি নিজে সাঁতার জানে না বলে তার গন্তব্য অসম্ভব হয়ে যায় না। সে একজন দক্ষ পথপ্রদর্শকের উপর আস্থা রেখে সঠিক পথে এগিয়ে যায়। তেমনি আত্মতত্ত্বের গভীর রহস্য নিজের বুদ্ধি দিয়ে উপলব্ধি করতে না পারলেও একজন মানুষ জ্ঞানীর কাছ থেকে সত্য শুনে সেই সত্যের প্রতি নিবেদিত হতে পারে। তার জন্যও মুক্তির পথ উন্মুক্ত।

আরেকটি সুন্দর উপমা হলো পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা। কেউ নিজে পথ চিনে পাহাড়ে ওঠে, কেউ মানচিত্র ব্যবহার করে ওঠে এবং কেউ একজন অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শকের সঙ্গে ওঠে। তাদের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একই। তেমনি মানুষের আধ্যাত্মিক পথ ভিন্ন হলেও সত্যের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে গন্তব্যের সম্ভাবনা একই থাকে। এখানে শ্রবণকে দুর্বলতার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়নি। বরং সঠিক ব্যক্তির কাছ থেকে সত্য গ্রহণ করার বিনয়কেও আধ্যাত্মিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

মানবজীবনের জন্য এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, মানুষকে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে শেখায়। দ্বিতীয়ত, সত্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে শোনার গুরুত্ব বোঝায়। তৃতীয়ত, জ্ঞানী ও সত্যনিষ্ঠ মানুষের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের মূল্য প্রকাশ করে। চতুর্থত, শুধু শোনা যথেষ্ট নয়, শোনা সত্যকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। পঞ্চমত, মুক্তি কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের একচেটিয়া অধিকার নয়। যে মানুষ আন্তরিকভাবে সত্যের দিকে নিজেকে পরিচালিত করতে পারে, তার জন্যও আত্মোন্নতির পথ উন্মুক্ত।

এই শ্লোকের ভাষাগত সৌন্দর্যও গভীরভাবে লক্ষণীয়। “অজানন্তঃ” দিয়ে শুরু হচ্ছে মানুষের সীমাবদ্ধতা। তারপর “শ্রুত্বা” এসে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যে জ্ঞানের প্রবেশের পথ খুলে দিচ্ছে। “উপাসতে” সেই জ্ঞানকে জীবনের সাধনায় রূপান্তরিত করছে। “শ্রুতিপরায়ণাঃ” সেই সাধনাকে দৃঢ় নিষ্ঠায় পরিণত করছে এবং শেষ পর্যন্ত “অতিতরন্তি” মানুষকে “মৃত্যু” অতিক্রমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যেন কয়েকটি শব্দের মধ্যেই মানুষের অন্তর্জীবনের একটি সম্পূর্ণ যাত্রাপথ অঙ্কিত হয়েছে। অজ্ঞতা থেকে শ্রবণ, শ্রবণ থেকে উপাসনা, উপাসনা থেকে নিবেদন এবং নিবেদন থেকে মুক্তি।

সবচেয়ে গভীরভাবে দেখলে এই শ্লোক মানুষের কাছে একটি বিনয়ী অথচ শক্তিশালী সত্য প্রকাশ করে। সব মানুষ সবকিছু নিজের বুদ্ধি দিয়ে জানতে পারে না। কিন্তু না জানা মানেই চিরকাল অজ্ঞ থাকা নয়। মানুষ শুনতে পারে, শিখতে পারে, চিন্তা করতে পারে এবং নিজের জীবনকে সত্যের দিকে ফিরিয়ে দিতে পারে। এখানে শ্রবণ কেবল জ্ঞান অর্জনের উপায় নয়, আত্মপরিবর্তনের সূচনা। আর উপাসনা কেবল বাহ্যিক আচার নয়, সত্যের নিকটে নিজের চেতনাকে স্থাপন করার সাধনা।

অতএব গীতার এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষ সত্যকে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করতে না পারলেও সত্যের প্রতি নিজেকে উন্মুক্ত করতে পারে। জ্ঞানীর কাছ থেকে সত্য শুনে, সেই সত্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করে এবং জীবনের অন্তরে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে মানুষ ধীরে ধীরে অজ্ঞতা ও আসক্তির সীমা অতিক্রম করতে পারে। “মৃত্যু অতিক্রম” তাই কেবল দেহের মৃত্যুকে জয় করা নয়। এটি অজ্ঞতা, অহংকার, ভয় এবং সংসারবন্ধনের ঊর্ধ্বে উঠে আত্মসত্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রতীক। এই কারণে শ্লোকটি শুধু আধ্যাত্মিক সাধকের জন্য নয়, প্রত্যেক মানুষের জন্য একটি গভীর আহ্বান। সত্যকে শোনো, সত্যকে গ্রহণ করো, সত্যের নিকটে নিজেকে স্থাপন করো এবং সেই সত্যকে জীবনের পথ করে নাও। তখন শ্রবণ আর কেবল শব্দ থাকে না, তা হয়ে ওঠে মুক্তির প্রথম পদক্ষেপ।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 22, 2026 August 22, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি