সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৩.২৮ — সকল জীবের মধ্যে সমভাবে বিরাজমান অবিনশ্বর পরমেশ্বরের দর্শন

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
সমং সর্বেষু ভূতেষু তিষ্ঠন্তং পরমেশ্বরম্।বিনশ্যৎস্ববিনশ্যন্তং যঃ পশ্যতি স পশ্যতি।।২৮।।
সমং সর্বেষু ভূতেষু তিষ্ঠন্তং পরমেশ্বরম্।
বিনশ্যৎস্ববিনশ্যন্তং যঃ পশ্যতি স পশ্যতি।।২৮।।

অনুবাদঃ ‍যিনি সর্বভূতে সমানভাবে অবস্থিত বিনাশশীল দেহের মধ্যেও অবিনাশী পরমাত্মাকে দর্শন করেন, তিনিই যথার্থ দর্শন করেন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অষ্টাবিংশতি অর্থাৎ ২৮তম শ্লোক মানবজীবনের অন্যতম গভীর আধ্যাত্মিক সত্যকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী ভাষায় প্রকাশ করেছে। শ্লোকটি হলো সমং সর্বেষু ভূতেষু তিষ্ঠন্তং পরমেশ্বরম্ বিনশ্যৎস্ববিনশ্যন্তং যঃ পশ্যতি স পশ্যতি। এর সরল অর্থ হলো যে ব্যক্তি সকল জীবের মধ্যে সমভাবে অবস্থানকারী পরমেশ্বরকে দেখতে পান এবং নশ্বর জীবসমূহের মধ্যেও অবিনশ্বর পরমেশ্বরকে উপলব্ধি করতে পারেন তিনিই প্রকৃতপক্ষে সত্যকে দেখতে পান। এই শ্লোকের বিশেষত্ব হলো এখানে চোখের সাধারণ দৃষ্টিকে প্রকৃত দর্শন বলা হয়নি। বরং এমন এক অন্তর্দৃষ্টির কথা বলা হয়েছে যা মানুষের বাহ্যিক পার্থক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গভীরতর সত্যকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়।

শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো সমং। এর মূল শব্দ সম এবং এর অর্থ সমান, অভিন্ন, ভারসাম্যপূর্ণ, পক্ষপাতহীন ও সমদর্শী। এখানে সমং বলতে বাহ্যিক অর্থে সকল জীবের একই রকম হওয়া বোঝানো হয়নি। মানুষ ও পশু এক নয়, জ্ঞানী ও অজ্ঞানী এক নয়, সৎ ও অসৎ কর্মও এক নয়। তবু এই সমস্ত বৈচিত্র্যের অন্তরালে যে পরমেশ্বর সমভাবে অবস্থান করছেন তাঁকে উপলব্ধি করাই এখানে সমদৃষ্টি। অর্থাৎ বাহ্যিক বৈচিত্র্যকে অস্বীকার না করেও অন্তর্নিহিত সত্যের ক্ষেত্রে এক গভীর ঐক্য উপলব্ধি করা হলো এই সমদৃষ্টির মূল কথা।

এরপর এসেছে সর্বেষু ভূতেষু। সর্ব শব্দের অর্থ সকল এবং ভূত শব্দটি সংস্কৃত ভূ ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা বিদ্যমান থাকা। তাই ভূত শব্দের অর্থ কেবল প্রচলিত অর্থে কোনো অদৃশ্য সত্তা নয়। এখানে ভূত বলতে সমস্ত অস্তিত্বশীল জীব বা সত্তাকে বোঝানো হয়েছে। সর্বেষু ভূতেষু অর্থ হলো সকল জীবের মধ্যে বা সমস্ত অস্তিত্বশীল সত্তার মধ্যে। এই শব্দবন্ধের মাধ্যমে শ্লোকটি ঈশ্বরের উপস্থিতিকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা জীবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। মানুষের দৃষ্টিতে জীবনের মধ্যে যত পার্থক্যই থাকুক না কেন পরম সত্যের উপস্থিতি সর্বত্র বিরাজমান।

তিষ্ঠন্তং শব্দটি এসেছে সংস্কৃত স্থা ধাতু থেকে যার অর্থ দাঁড়ানো, অবস্থান করা বা স্থিত থাকা। তিষ্ঠন্তং অর্থ যিনি অবস্থান করছেন বা যিনি স্থিত আছেন। এই শব্দটি শ্লোকটির আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে আরও গভীর করেছে। এখানে পরমেশ্বরকে কেবল দূরবর্তী কোনো সত্তা হিসেবে কল্পনা করা হয়নি। বলা হয়েছে তিনি সকল জীবের মধ্যে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ ঈশ্বরের অনুসন্ধান কেবল বাইরের কোনো দূরবর্তী জগতে নয় বরং জীবনের অন্তর্গত সত্যের মধ্যেও করতে হবে।

পরমেশ্বরম্ শব্দটি পরম এবং ঈশ্বর এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। পরম অর্থ সর্বোচ্চ, শ্রেষ্ঠ বা চূড়ান্ত এবং ঈশ্বর শব্দের সঙ্গে শাসন, অধিকার ও নিয়ন্ত্রণের ধারণা যুক্ত। তাই পরমেশ্বর অর্থ সর্বোচ্চ নিয়ন্তা, সর্বোচ্চ প্রভু বা পরম সত্য। শ্লোকে এই পরমেশ্বরকে সকল জীবের মধ্যে সমভাবে অবস্থানকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে ঈশ্বরের ধারণাটি এখানে কেবল কোনো বাহ্যিক দেবসত্তার ধারণা নয়। এটি অস্তিত্বের গভীরে বিরাজমান সর্বোচ্চ চৈতন্য ও নিয়ামক সত্যের ধারণা।

এরপর শ্লোকে একটি গভীর বৈপরীত্য সৃষ্টি করা হয়েছে বিনশ্যৎসু এবং অবিনশ্যন্তম্ শব্দের মাধ্যমে। বিনশ্যৎসু শব্দটি নশ্ ধাতুর সঙ্গে যুক্ত যার অর্থ ধ্বংস হওয়া বা বিলীন হওয়া। বিনশ্যৎসু অর্থ যারা নষ্ট হচ্ছে বা যারা নশ্বর তাদের মধ্যে। অন্যদিকে অবিনশ্যন্তম্ অর্থ যিনি বিনষ্ট হন না বা যা অবিনশ্বর। এই দুটি শব্দকে পাশাপাশি স্থাপন করে গীতা মানবজীবনের একটি মৌলিক সত্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি ফেরায়। বাহ্যিক জীবন পরিবর্তনশীল। দেহ জন্মগ্রহণ করে, বৃদ্ধি পায়, বার্ধক্যে পৌঁছায় এবং একদিন নষ্ট হয়ে যায়। সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়, সম্পদ আসে ও চলে যায়, ক্ষমতা পরিবর্তিত হয় এবং পৃথিবীর সমস্ত দৃশ্যমান রূপ একদিন বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু এই পরিবর্তনশীলতার মধ্যেও একটি অবিনশ্বর সত্যের অনুসন্ধান সম্ভব। সেই অবিনশ্বর সত্যকেই এখানে পরমেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে যঃ পশ্যতি এবং স পশ্যতি শব্দ দুটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্যতি শব্দটি দৃশ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত যার অর্থ দেখা। কিন্তু গীতার ভাষায় দেখা কেবল চোখ দিয়ে কোনো বস্তু প্রত্যক্ষ করা নয়। এখানে দেখা অর্থ উপলব্ধি করা, জ্ঞান দ্বারা সত্যকে প্রত্যক্ষ করা এবং অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে বাস্তবতার গভীরে পৌঁছানো। তাই যঃ পশ্যতি অর্থ যে ব্যক্তি এভাবে উপলব্ধি করেন এবং স পশ্যতি অর্থ তিনিই প্রকৃতপক্ষে দেখেন। এখানে পশ্যতি শব্দটির পুনরাবৃত্তি যেন একটি ঘোষণা। সাধারণ মানুষ যা দেখে তা বাহ্যিক রূপ। জ্ঞানী যা দেখেন তা সেই রূপের অন্তর্নিহিত সত্য।

মানুষের দৈনন্দিন জীবন মূলত বাহ্যিক পার্থক্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। আমরা কাউকে ধনী বলে দেখি, কাউকে দরিদ্র বলে দেখি, কাউকে আপন বলে দেখি, কাউকে পর বলে দেখি, কাউকে শক্তিশালী বলে দেখি এবং কাউকে দুর্বল বলে দেখি। এই পার্থক্যগুলো বাস্তব জগতের একটি স্তরে সত্য হলেও গীতার শিক্ষা হলো এই বাহ্যিক স্তরের মধ্যেই যেন আমাদের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ না থাকে। কারণ মানুষ যখন কেবল বাহ্যিক পরিচয়কে সত্যের শেষ সীমা মনে করে তখন অহংকার, হিংসা, ঘৃণা, ভয় এবং বিচ্ছিন্নতার জন্ম হয়। কিন্তু যখন সে উপলব্ধি করে যে সকল জীবনের গভীরে একটি পরম সত্যের উপস্থিতি রয়েছে তখন তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।

এই সমদৃষ্টি কখনো অন্যায়কে সমর্থন করার শিক্ষা নয়। একজন অপরাধীর অপরাধকে অপরাধ বলতেই হবে এবং একজন নিরপরাধ ব্যক্তির প্রতি অন্যায়কে অন্যায় বলতেই হবে। কিন্তু অপরাধের বিচার করার সময়ও মানুষের অন্তর্নিহিত মর্যাদাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার না করা সমদৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অর্থাৎ ন্যায়বিচার থাকবে কিন্তু ঘৃণা ও অমানবিকতা অপরিহার্য হবে না। এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সমাজজীবন পর্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের তাৎপর্য আরও গভীর। বাহ্যিকভাবে অসংখ্য জীব ও অসংখ্য দেহ দেখা গেলেও চূড়ান্ত সত্যের স্তরে আত্মা ও ব্রহ্মের ঐক্য উপলব্ধি করা হয়। অসংখ্য পাত্রে সূর্যের প্রতিবিম্ব আলাদা আলাদা দেখা যেতে পারে কিন্তু সূর্য এক। একইভাবে অসংখ্য দেহে চৈতন্যের প্রকাশ বহুরূপী হলেও পরম চৈতন্যের সত্য এক। এই দৃষ্টিতে শ্লোকটি বহুত্বের আড়ালে ঐক্য উপলব্ধির আহ্বান।

বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে জীব ও জগতকে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পূর্ণ অভিন্ন বলা হয় না। বরং ঈশ্বর সকল জীবের অন্তর্যামী এবং জীব ও জগত তাঁর সঙ্গে গভীর সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যমান। এই দৃষ্টিতে সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করা মানে অন্যের অস্তিত্বকে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সম্মান করা। দ্বৈত দর্শনে ঈশ্বর ও জীবের পার্থক্য বজায় থাকে। তবু ঈশ্বর সকল জীবের অন্তরে অবস্থান করেন এবং সকলের নিয়ন্তা হিসেবে বিরাজ করেন। দর্শনের বিভিন্ন ব্যাখ্যার মধ্যে মতভেদ থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে ঈশ্বরকে কেবল দূরের কোনো সত্তা হিসেবে নয় বরং জীবনের গভীরতার মধ্যেও উপলব্ধি করার আহ্বান এই শ্লোকে রয়েছে।

শ্লোকটির প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত সুন্দর। একটি ঘরে শত শত প্রদীপ জ্বলছে বলে কল্পনা করা যায়। প্রদীপগুলোর আকার ভিন্ন, পাত্র ভিন্ন, অবস্থান ভিন্ন এবং আলোয়ের তীব্রতাও ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু প্রত্যেক প্রদীপের মধ্যে আলো রয়েছে। যে ব্যক্তি কেবল প্রদীপের বাহ্যিক পাত্র দেখে সে পার্থক্য দেখবে। যে আলোকে দেখতে শেখে সে একটি গভীরতর ঐক্যের অনুভব লাভ করবে। একইভাবে মানুষের দেহ, মন, চরিত্র, কর্ম ও পরিচয় ভিন্ন হলেও তাদের অস্তিত্বের গভীরে পরম সত্যের অনুসন্ধান করা সম্ভব।

নদীর উপমাও এই দর্শনকে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে। বিভিন্ন নদীর নাম ভিন্ন, পথ ভিন্ন এবং প্রবাহ ভিন্ন। কিন্তু তারা সবাই বৃহত্তর জলরাশির সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষের জীবনও তেমনি বিচিত্র। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব পরিচয়, অভিজ্ঞতা ও কর্ম আছে। কিন্তু এই বৈচিত্র্যের গভীরে একটি বৃহত্তর অস্তিত্বগত সত্যের অনুসন্ধান করা যায়। এই অনুসন্ধানই মানুষকে নিজের সংকীর্ণ পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করতে সাহায্য করে।

এই শ্লোকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো নশ্বরতার মধ্যে অবিনশ্বরকে অনুসন্ধান করা। মানুষ সাধারণত মৃত্যুকে ভয় পায় কারণ সে নিজের অস্তিত্বকে দেহের সঙ্গে সম্পূর্ণ এক করে দেখে। কিন্তু গীতা বারবার মানুষকে দেহের পরিবর্তনশীলতার অতীত একটি গভীরতর সত্তার দিকে তাকাতে আহ্বান করে। দেহ নশ্বর হলেও সত্যের অনুসন্ধান নশ্বর নয়। জীবন পরিবর্তিত হলেও চেতনার প্রশ্ন থেকে যায়। এই প্রশ্নই মানুষকে আত্মজিজ্ঞাসা ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের পথে নিয়ে যেতে পারে।

এই কারণে পশ্যতি শব্দটির গুরুত্ব অসাধারণ। প্রকৃত দর্শন হলো এমন এক দৃষ্টি যা বাহ্যিক রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যে ব্যক্তি কেবল দেহ দেখে সে দেহ দেখে। যে ব্যক্তি চরিত্র দেখে সে চরিত্র দেখে। যে ব্যক্তি সামাজিক পরিচয় দেখে সে পরিচয় দেখে। কিন্তু যে ব্যক্তি নশ্বরতার মধ্যে অবিনশ্বর সত্যকে উপলব্ধি করে সে অস্তিত্বের গভীরতর মাত্রাকে দেখতে শুরু করে। তাই কৃষ্ণের ঘোষণা স পশ্যতি অর্থ তিনিই সত্যিকারভাবে দেখেন।

মানবজীবনে এই উপলব্ধির বাস্তব প্রভাবও গভীর। মানুষ যদি অন্যের মধ্যে পরম সত্যের উপস্থিতি উপলব্ধি করতে পারে তবে অহংকার কমতে পারে। অন্যের দুঃখের প্রতি করুণা বৃদ্ধি পেতে পারে। হিংসা ও ঘৃণার প্রবণতা কমতে পারে। নিজের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার দুর্বল হতে পারে। মানুষ তখন অন্যকে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে একটি বৃহত্তর অস্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখতে শেখে। এই উপলব্ধি মানুষের নৈতিক জীবনকে আরও গভীর করতে পারে।

সাহিত্যিক দিক থেকেও শ্লোকটি অসাধারণ। বিনশ্যৎসু এবং অবিনশ্যন্তম্ শব্দ দুটি পাশাপাশি রেখে নশ্বরতা ও অবিনশ্বরতার এক শক্তিশালী বৈপরীত্য তৈরি করা হয়েছে। একদিকে দেহের ধ্বংস, অন্যদিকে পরম সত্যের অবিনাশ। একদিকে জীবনের পরিবর্তন, অন্যদিকে অস্তিত্বের গভীরে স্থিত চিরন্তন সত্য। এই বৈপরীত্যই শ্লোকটির কাব্যিক শক্তি এবং দার্শনিক গভীরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, সমং সর্বেষু ভূতেষু তিষ্ঠন্তং পরমেশ্বরম্ বিনশ্যৎস্ববিনশ্যন্তং যঃ পশ্যতি স পশ্যতি শ্লোকটি মানুষের দৃষ্টিকে বাহ্যিকতা থেকে অন্তর্দৃষ্টির দিকে নিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দেয়। এখানে সমদৃষ্টি মানে সবাই একই রকম এমন ধারণা নয়। বরং বৈচিত্র্যের মধ্যেও পরম সত্যের উপস্থিতি উপলব্ধি করা। তিষ্ঠন্তং আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরমেশ্বর কেবল দূরে নন, জীবনের গভীরতায়ও বিরাজমান। বিনশ্যৎসু এবং অবিনশ্যন্তম্ আমাদের নশ্বরতার মধ্যেও অবিনশ্বর সত্যের অনুসন্ধান করতে শেখায়। আর স পশ্যতি ঘোষণা করে যে সত্যিকারের দেখা চোখের দেখা নয়, বরং জ্ঞানের চোখে দেখা।

এই শ্লোকের সারমর্ম তাই এক গভীর আধ্যাত্মিক আহ্বান। আমরা যেন কেবল মানুষের বাহ্যিক রূপ না দেখি, কেবল নিজের ও অন্যের পার্থক্য না দেখি, কেবল জন্ম ও মৃত্যুর পরিবর্তনশীল প্রবাহ না দেখি। বরং সেই পরিবর্তনশীলতার মধ্যেও যে চিরন্তন সত্যের উপস্থিতি অনুভব করা যায় তাকে উপলব্ধি করি। নশ্বর দেহের মধ্যে অবিনশ্বর সত্যকে দেখা, বহুত্বের মধ্যে গভীর ঐক্যকে দেখা এবং সকল জীবের অন্তরে পরমেশ্বরের উপস্থিতিকে অনুভব করাই এই শ্লোকের প্রকৃত শিক্ষা। এই দৃষ্টি অর্জিত হলে মানুষ শুধু পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখে না, নিজের অস্তিত্বকেও নতুনভাবে চিনতে শুরু করে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 22, 2026 August 22, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি