সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৩.৩২ — আত্মার অনাদিত্ব, অবিনশ্বরতা ও কর্মে অলিপ্ততা

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
অনাদিত্বান্নির্গুণত্বাৎ পরমাত্মায়মব্যয়ঃ।শরীরস্থোহপি কৌন্তেয় ন করোতি ন লিপ্যতে।।৩২।।
অনাদিত্বান্নির্গুণত্বাৎ পরমাত্মায়মব্যয়ঃ।
শরীরস্থোহপি কৌন্তেয় ন করোতি ন লিপ্যতে।।৩২।।

অনুবাদঃ ব্রহ্মভাব অবস্থায় জীব তখন দর্শন করেন যে, অব্যয় এই আত্মা অনাদি, নির্গুণ ও জড়া প্রকৃতির অতীত। হে কৌন্তেয়! জড় দেহে অবস্থান করলেও আত্মা কোন কিছু করে না এবং কোন কিছুতেই লিপ্ত হয় না।

গবদ্গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের বত্রিশতম শ্লোক আত্মা ও শরীরের সম্পর্ক, আত্মার অনাদি ও অবিনশ্বর স্বরূপ এবং কর্মের সঙ্গে আত্মার প্রকৃত সম্পর্ককে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর ভাষায় প্রকাশ করেছে। শ্লোকটি হলো অনাদিত্বান্নির্গুণত্বাৎ পরমাত্মায়মব্যয়ঃ। শরীরস্থোহপি কৌন্তেয় ন করোতি ন লিপ্যতে। অর্থাৎ হে কৌন্তেয়, পরমাত্মা অনাদি এবং নির্গুণ হওয়ার কারণে অব্যয়। তিনি শরীরে অবস্থান করেও কিছু করেন না এবং কোনো কর্মের দ্বারা লিপ্ত হন না। এই বক্তব্যের মধ্যে ভারতীয় দর্শনের আত্মতত্ত্ব, প্রকৃতিতত্ত্ব, কর্মতত্ত্ব এবং মুক্তিতত্ত্বের একটি গভীর সমন্বয় দেখা যায়।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ অনাদিত্বাৎ। অনাদি শব্দটি গঠিত হয়েছে অ এবং আদি এই দুটি অংশের সমন্বয়ে। আদি অর্থ শুরু বা প্রথম অবস্থান এবং অ উপসর্গটি এখানে না থাকার অর্থ প্রকাশ করে। ফলে অনাদি অর্থ যার কোনো আদি নেই। এর সঙ্গে ত্ব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে অনাদিত্ব শব্দের সৃষ্টি হয়েছে, যার অর্থ অনাদি হওয়ার অবস্থা বা ধর্ম। অনাদিত্বাৎ অর্থ অনাদি হওয়ার কারণে। এখানে অনাদি বলতে কেবল অত্যন্ত প্রাচীন কোনো সত্তাকে বোঝানো হয় না। কোনো বস্তু কোটি কোটি বছর পুরোনো হলেও তার একটি শুরু থাকতে পারে। কিন্তু অনাদি সেই সত্তাকে বোঝায় যার অস্তিত্বের কোনো সূচনাবিন্দু নির্ধারণ করা যায় না। তাই আত্মার অনাদিত্বের ধারণা তাকে সময়ের সাধারণ সীমার বাইরে স্থাপন করে।

এর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শব্দ নির্গুণত্বাৎ। নির্গুণ শব্দটি নির্ এবং গুণের সমন্বয়ে গঠিত। নির্ অর্থ থেকে মুক্ত বা বিহীন এবং গুণ বলতে এখানে সাধারণ ভালো বা মন্দ বৈশিষ্ট্য বোঝানো হচ্ছে না। গীতার দার্শনিক প্রেক্ষাপটে গুণ বলতে মূলত প্রকৃতির তিন গুণ সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃকে বোঝানো হয়েছে। নির্গুণ অর্থ সেই চৈতন্যসত্তা যা প্রকৃতির এই তিন গুণের দ্বারা আবদ্ধ বা পরিবর্তিত নয়। নির্গুণত্বাৎ অর্থ নির্গুণ হওয়ার কারণে। আত্মা যদি প্রকৃতির গুণত্রয়ের মতো পরিবর্তনশীল না হয়, তাহলে তার মধ্যে প্রকৃতির মতো বিকার, ক্ষয় এবং পরিবর্তনও ঘটতে পারে না। এই কারণেই শ্লোকটি অনাদিত্ব এবং নির্গুণত্বকে আত্মার অব্যয়ত্বের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

পরমাত্মা শব্দটি গঠিত হয়েছে পরম এবং আত্মা শব্দের সমন্বয়ে। পরম অর্থ সর্বোচ্চ, শ্রেষ্ঠ বা চূড়ান্ত এবং আত্মা অর্থ অন্তর্সত্তা, স্বসত্তা বা চৈতন্য। পরমাত্মা বলতে তাই সর্বোচ্চ আত্মসত্তা বা পরম চৈতন্যকে বোঝানো হয়। অয়ম শব্দের অর্থ এই। পরমাত্মায়ম অর্থ এই পরমাত্মা। এখানে যেন শ্রীকৃষ্ণ দূরবর্তী কোনো বিমূর্ত সত্তার কথা বলছেন না। তিনি এমন এক চৈতন্যের কথা বলছেন যা জীবনের অন্তর্গত এবং যার উপস্থিতির কারণেই মানুষ শরীর, মন, অনুভূতি ও চিন্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

এরপর এসেছে অব্যয় শব্দটি। অব্যয় শব্দের বিপরীত ধারণা হলো ব্যয় বা ক্ষয়। যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, পরিবর্তনের দ্বারা নিঃশেষিত হয় না এবং যার অস্তিত্ব ধ্বংসের অধীন নয়, তাকে অব্যয় বলা হয়। আত্মাকে অব্যয় বলার অর্থ হলো শরীরের মতো আত্মার জন্ম, বৃদ্ধি, পরিবর্তন এবং ক্ষয়ের কোনো সাধারণ প্রক্রিয়া নেই। শরীর শৈশব থেকে যৌবন এবং যৌবন থেকে বার্ধক্যে পরিবর্তিত হয়। মন এক মুহূর্তে আনন্দিত হয় এবং অন্য মুহূর্তে বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। চিন্তা পরিবর্তিত হয়, স্মৃতি পরিবর্তিত হয়, অনুভূতি পরিবর্তিত হয়। কিন্তু যে চৈতন্য এসব পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষ করে, গীতার আত্মতত্ত্ব সেই চৈতন্যকে পরিবর্তনের বিষয় নয় বরং পরিবর্তনের সাক্ষী হিসেবে দেখতে শেখায়।

শ্লোকের পরবর্তী অংশ শরীরস্থোহপি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শরীরস্থ অর্থ শরীরে অবস্থানকারী এবং অপি অর্থ যদিও বা তবুও। অর্থাৎ আত্মা শরীরে অবস্থান করলেও শরীরের সঙ্গে তার প্রকৃত পরিচয় এক নয়। মানুষ সাধারণত শরীরকে নিজের পরিচয় মনে করে। আমরা বলি আমার শরীর, আমার মন, আমার চিন্তা এবং আমার অনুভূতি। এই ভাষার মধ্যেই একটি গভীর দার্শনিক ইঙ্গিত রয়েছে। যদি শরীর আমার হয়, তবে আমি কেবল শরীর নই। যদি মন আমার হয়, তবে আমি কেবল মনও নই। যে সত্তা শরীর ও মনকে আমার বলে জানে এবং তাদের পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষ করে, গীতার দৃষ্টিতে সেই চৈতন্যসত্তাই আত্মা।

কৌন্তেয় শব্দটি অর্জুনের প্রতি একটি স্নেহপূর্ণ সম্বোধন। কুন্তীর পুত্র হওয়ার কারণে অর্জুনকে কৌন্তেয় বলা হয়েছে। এই সম্বোধনের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের বক্তব্য ব্যক্তিগত উপদেশের রূপ পেয়েছে। কিন্তু এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা কেবল অর্জুনের জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রেই শরীর এবং আত্মার পার্থক্য উপলব্ধি করা আত্মজিজ্ঞাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ন করোতি অর্থ করেন না। করোতি শব্দটি সংস্কৃত কৃ ধাতু থেকে এসেছে। কৃ ধাতুর অর্থ করা, সম্পাদন করা বা কার্য সম্পন্ন করা। কিন্তু আত্মা শরীরে অবস্থান করেও কিছু করেন না বলতে এই অর্থ গ্রহণ করা উচিত নয় যে শরীরের কোনো কাজই ঘটে না। শরীর কাজ করে, ইন্দ্রিয় তাদের নিজ নিজ বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, মন চিন্তা করে এবং বুদ্ধি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গীতার দর্শনে প্রকৃতিই এসব কার্যকলাপের প্রধান ক্ষেত্র। আত্মা নিজেকে কর্তা বলে প্রতিষ্ঠা করে না। মানুষের বন্ধনের একটি প্রধান কারণ হলো দেহ, মন এবং প্রকৃতির কর্মকে নিজের প্রকৃত আত্মস্বরূপের সঙ্গে এক করে দেখা।

এই বিষয়টির সঙ্গে ন লিপ্যতে শব্দটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। লিপ শব্দের অর্থ লেপন করা, মাখা বা লেগে যাওয়া। লিপ্যতে অর্থ লিপ্ত হয় বা লেগে যায়। ন লিপ্যতে অর্থ লিপ্ত হয় না। দার্শনিক অর্থে এর তাৎপর্য হলো কর্মের দ্বারা আত্মার প্রকৃত স্বরূপ কলুষিত হয় না। শরীর ও মন কর্মের ফল ভোগ করতে পারে, কিন্তু আত্মার চৈতন্যস্বরূপ কর্মের দ্বারা প্রকৃত অর্থে কলুষিত হয় না। এই ভাবটি বোঝানোর জন্য পদ্মপাতার উপমা অত্যন্ত সুন্দর। পদ্মপাতা জলের মধ্যে অবস্থান করেও জলে সম্পূর্ণভাবে ভিজে যায় না। তেমনি আত্মা শরীর ও সংসারের মধ্যে অবস্থান করেও তার প্রকৃত স্বরূপে সংসারের কর্ম ও পরিবর্তনের দ্বারা আবদ্ধ নয়।

এই শ্লোকের সঙ্গে সাংখ্য দর্শনের পুরুষ ও প্রকৃতির পার্থক্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সাংখ্য দর্শনে পুরুষ চৈতন্যস্বরূপ এবং প্রকৃতি কার্যশীল। প্রকৃতির মধ্যেই সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ বিদ্যমান এবং প্রকৃতিই পরিবর্তিত হয়ে নানা রূপ ধারণ করে। পুরুষ নিজে অক্রিয় সাক্ষীস্বরূপ। গীতার এই শ্লোকে সেই দার্শনিক ধারণার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামঞ্জস্য দেখা যায়। অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতেও আত্মা সাক্ষী চৈতন্য। শরীর কর্ম করে, ইন্দ্রিয় তাদের কাজ করে, মন চিন্তা করে এবং বুদ্ধি বিচার করে, কিন্তু আত্মা এই সমস্ত পরিবর্তনের সাক্ষী হিসেবে অবস্থান করে।

এই বক্তব্য মানবজীবনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ যখন বলে আমি ব্যর্থ, তখন সে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে নিজের সমগ্র অস্তিত্বকে এক করে ফেলছে। কিন্তু যদি সে বলে আমার একটি কাজে ব্যর্থতা এসেছে, তাহলে ব্যর্থতা এবং আত্মপরিচয়ের মধ্যে একটি পার্থক্য তৈরি হয়। একইভাবে কেউ যখন বলে আমি রাগ, তখন সে নিজের অস্তিত্বকে রাগের সঙ্গে অভিন্ন করে ফেলছে। কিন্তু যখন সে উপলব্ধি করে আমার মধ্যে রাগের অনুভূতি উঠেছে, তখন সে সেই অনুভূতিকে পর্যবেক্ষণ করার অবস্থানে যেতে পারে। গীতার সাক্ষী চৈতন্যের ধারণা এই পার্থক্যকে আরও গভীর আধ্যাত্মিক স্তরে নিয়ে যায়।

শ্লোকটি আমাদের সাফল্য ও ব্যর্থতার ক্ষেত্রেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি শেখায়। সাফল্য এলে মানুষ মনে করতে পারে সবকিছু আমিই করেছি। ব্যর্থতা এলে মনে করতে পারে আমি সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কিন্তু দেহ, শিক্ষা, পরিবেশ, সুযোগ, সামাজিক পরিস্থিতি, অন্য মানুষের সহযোগিতা এবং প্রকৃতির অসংখ্য উপাদান মানুষের কর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তাই অহংকার এবং আত্মঅবমূল্যায়ন উভয়ই আত্মপরিচয়ের সংকীর্ণতার ফল হতে পারে। আত্মার সাক্ষীস্বরূপ উপলব্ধি মানুষকে কর্ম থেকে পালাতে শেখায় না, বরং কর্মের মধ্যে থেকেও অহংকার ও অতিরিক্ত আসক্তি থেকে মুক্ত হতে শেখায়।

এই শ্লোকের একটি গভীর প্রতীকী অর্থ হলো সংসারের মধ্যে থেকেও সংসারের দ্বারা সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ না হওয়া। মানুষ সংসার করবে, কাজ করবে, সম্পর্ক গড়বে, দায়িত্ব পালন করবে এবং জীবনের নানা সুখ ও দুঃখের মুখোমুখি হবে। কিন্তু নিজের প্রকৃত পরিচয়কে যদি কেবল শরীর, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা, সাফল্য, ব্যর্থতা, আবেগ ও চিন্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে, তাহলে তার মধ্যে আসক্তি ও ভয় জন্মায়। আত্মার অব্যয় স্বরূপ উপলব্ধি করলে মানুষ বুঝতে পারে যে জীবনের পরিবর্তনশীল ঘটনাগুলো তার সম্পূর্ণ অস্তিত্ব নয়।

এই কারণে শ্লোকটির গভীরতম শিক্ষা কর্মবিমুখতা নয়, বরং কর্মের মধ্যেও আত্মস্বরূপের সচেতনতা। আত্মা কর্ম করে না এবং কর্মে লিপ্ত হয় না এই বক্তব্যকে কোনো নৈতিক দায়িত্ব অস্বীকার করার উপায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। ব্যক্তির দেহ, মন এবং প্রকৃতি স্তরে কর্মের ফল অবশ্যই রয়েছে। গীতার বক্তব্য হলো আত্মার পরম স্বরূপকে দেহের কর্ম এবং কর্মফলের সঙ্গে অভিন্ন করে দেখা উচিত নয়। এই পার্থক্যটি উপলব্ধি করাই আত্মজ্ঞান ও মুক্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ।

একটি আয়নার উপমা দিয়ে বিষয়টি আরও সহজভাবে বোঝা যায়। আয়নার সামনে কেউ হাসতে পারে, কেউ কাঁদতে পারে, কেউ রাগ করতে পারে এবং কেউ আনন্দ করতে পারে। আয়না সবকিছুর প্রতিবিম্ব ধারণ করে, কিন্তু প্রতিবিম্বের ঘটনাগুলো আয়নাকে বাস্তবে হাসায় না, কাঁদায় না বা রাগায় না। একইভাবে আত্মা শরীর, মন ও জীবনের অসংখ্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী। অভিজ্ঞতাগুলো পরিবর্তিত হয়, কিন্তু আত্মার চৈতন্যস্বরূপ সেই পরিবর্তনের দ্বারা প্রকৃত অর্থে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।

অতএব অনাদিত্বান্নির্গুণত্বাৎ পরমাত্মায়মব্যয়ঃ। শরীরস্থোহপি কৌন্তেয় ন করোতি ন লিপ্যতে এই শ্লোকটি মানুষের আত্মপরিচয়ের একটি মৌলিক প্রশ্নের সামনে আমাদের দাঁড় করায়। আমি কি কেবল এই পরিবর্তনশীল শরীর, নাকি শরীরের পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষকারী কোনো গভীরতর চৈতন্যসত্তা। আমি কি আমার চিন্তা, অনুভূতি, সাফল্য ও ব্যর্থতার সমষ্টি, নাকি এগুলোর সাক্ষীও বটে। গীতার উত্তর হলো মানুষের প্রকৃত আত্মস্বরূপ অনাদি, নির্গুণ এবং অব্যয়। সে শরীরে অবস্থান করলেও শরীরের কর্মের প্রকৃত কর্তা নয় এবং কর্মের কলুষে লিপ্ত হয় না।

সুতরাং এই শ্লোকের ভাষাগত সৌন্দর্য তার দার্শনিক গভীরতার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। অনাদি শব্দ মানুষকে সময়ের সীমার বাইরে নিয়ে যায়। নির্গুণ শব্দ তাকে প্রকৃতির পরিবর্তনশীল গুণের অতীত আত্মসত্তার দিকে নির্দেশ করে। পরমাত্মা শব্দ সর্বোচ্চ চৈতন্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। অব্যয় শব্দ সেই চৈতন্যের অক্ষয় স্বরূপ প্রকাশ করে। শরীরস্থ শব্দ জানায় যে আত্মা শরীরের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু শরীরের সমান নয়। ন করোতি এবং ন লিপ্যতে ঘোষণা করে যে আত্মার প্রকৃত স্বরূপ কর্মের দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত বা কলুষিত হয় না। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়েই মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে পারে যে জীবনের পরিবর্তনশীল অভিজ্ঞতার মধ্যে থেকেও তার অন্তরে এমন এক চৈতন্যসত্তার সন্ধান রয়েছে যা পরিবর্তনের সাক্ষী। আর সেই আত্মস্বরূপকে উপলব্ধি করাই এই শ্লোকের গভীরতম আধ্যাত্মিক আহ্বান।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 22, 2026 August 22, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি