ভগবদ্গীতা ১৩.৬ — ক্ষেত্রের উপাদান: পঞ্চমহাভূত, অহংকার, বুদ্ধি, ইন্দ্রিয় ও মন
মহাভূতান্যহঙ্কারো বুদ্ধিরব্যক্তমেব চ।
ইন্দ্রিয়াণি দশৈকং চ পঞ্চ চেন্দ্রিয়গোচরাঃ।।৬।।
অনুবাদঃ পঞ্চ-মহাভূত, অহঙ্কার, বুদ্ধি, অব্যক্ত, দশ ইন্দ্রিয় ও মন, ইন্দ্রিয়ের পাঁচটি বিষয়, ইচ্ছা, দ্বেষ, সুখ, দুঃখ, সংঘাত অর্থাৎ পঞ্চ মহাভূতের পরিণামরূপ দেহ, চেতনা ও ধৃতি- এই সমস্ত বিকারযুক্ত ক্ষেত্র সংক্ষেপে বর্ণিত হল।
এখানে শ্রীকৃষ্ণ “ক্ষেত্র” বা দেহ-প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান উল্লেখ করছেন। শ্লোকটির সরল অর্থ হলো—পঞ্চ মহাভূত, অহংকার, বুদ্ধি, অব্যক্ত, দশ ইন্দ্রিয়, এক মন এবং পাঁচ ইন্দ্রিয়গোচর বিষয়—এই সমস্তই ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এটি কেবল একটি তাত্ত্বিক তালিকা নয়; বরং মানুষের “আমি”-বোধ, জগতের অভিজ্ঞতা এবং আত্মপরিচয়ের প্রকৃতি বোঝার একটি দার্শনিক মানচিত্র।
“মহাভূতানি” শব্দটি গঠিত হয়েছে “মহা” ও “ভূত” থেকে। “মহা” অর্থ বৃহৎ, মহান বা ব্যাপক এবং “ভূত” শব্দটি সংস্কৃত √ভূ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা প্রকাশিত হওয়া। তাই মহাভূত বলতে বৃহৎ বা মৌলিক প্রকাশিত উপাদান বোঝায়। ভারতীয় দর্শনে পাঁচটি মহাভূত হলো—পৃথিবী, জল, অগ্নি বা তেজ, বায়ু এবং আকাশ। এগুলোকে আধুনিক বিজ্ঞানের রাসায়নিক মৌলের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়; বরং এগুলো প্রাচীন ভারতীয় দর্শনে স্থূল জগত ও অভিজ্ঞতার মৌলিক গঠনরূপ হিসেবে বিবেচিত। মানুষের শরীরও এই স্থূল প্রকৃতির অংশ। ফলে “মহাভূত” আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দেহ কোনো স্বাধীন, বিচ্ছিন্ন সত্তা নয়; দেহ প্রকৃতিরই একটি প্রকাশ।
এরপর এসেছে “অহঙ্কারো” বা “অহংকার”। শব্দটি “অহম্” অর্থাৎ “আমি” এবং “কার” অর্থাৎ করা বা নির্মাণের ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। আক্ষরিকভাবে অহংকারকে বলা যায় “আমি-ভাবের নির্মাণ”। বাংলায় অহংকার বলতে সাধারণত গর্ব, দম্ভ বা আত্মশ্লাঘা বোঝানো হয়, কিন্তু গীতার দর্শনে এর অর্থ অনেক গভীর। এখানে অহংকার হলো সেই তত্ত্ব, যার মাধ্যমে মানুষ দেহ, মন, কর্ম, অভিজ্ঞতা ও পরিচয়ের সঙ্গে একটি “আমি”-সম্পর্ক তৈরি করে। “আমি ডাক্তার”, “আমি ধনী”, “আমি গরিব”, “আমি সফল”, “আমি অপমানিত”, “আমি জয়ী”—এই সমস্ত পরিচয়ের পেছনে যে “আমি”-কেন্দ্রিক আত্মপরিচয় কাজ করে, সেটিই দার্শনিক অর্থে অহংকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই অহংকার শুধু দাম্ভিকতা নয়; একজন বিনয়ী মানুষও দার্শনিক অর্থে অহংকারের অধীন হতে পারেন, যদি তিনি দেহ-মন-ব্যক্তিত্বকেই নিজের সম্পূর্ণ সত্তা বলে মনে করেন।
“বুদ্ধির” শব্দটি এসেছে সংস্কৃত √বুধ্ ধাতু থেকে, যার অর্থ জাগ্রত হওয়া, জানা, উপলব্ধি করা বা বোধ লাভ করা। “বুদ্ধি” তাই কেবল সাধারণ বুদ্ধিমত্তা নয়; এটি বিচার, বিবেচনা, সিদ্ধান্ত ও সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ের শক্তি। ভারতীয় দর্শনে মন ও বুদ্ধির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য করা হয়। মন সাধারণত চিন্তা, অনুভূতি, আকাঙ্ক্ষা ও দ্বিধার সঙ্গে যুক্ত; অন্যদিকে বুদ্ধি বিচার করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যেমন মন বলতে পারে, “আমি এখনই এই কাজটি করতে চাই”, কিন্তু বুদ্ধি বলতে পারে, “এটি করলে ভবিষ্যতে ক্ষতি হতে পারে।” এই কারণে আত্মজ্ঞান ও আত্মসংযমের পথে বুদ্ধির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধি যত স্বচ্ছ ও বিবেকনির্ভর হয়, মানুষ তত সহজে মন ও ইন্দ্রিয়ের আকর্ষণকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
“অব্যক্তম্” শব্দটি গঠিত হয়েছে “অ” এবং “ব্যক্ত” থেকে। “ব্যক্ত” অর্থ প্রকাশিত বা স্পষ্ট, আর “অ-ব্যক্ত” অর্থ যা এখনও প্রকাশিত হয়নি বা অপ্রকাশিত। সাংখ্যদর্শনের প্রেক্ষাপটে অব্যক্ত বলতে প্রকৃতির অপ্রকাশিত বা মূল অবস্থাকে বোঝানো হয়, যেখান থেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রকাশিত হয়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অব্যক্ত অদৃশ্য বা অপ্রকাশিত হলেও সেটিকে আত্মা বা পরম চৈতন্যের সঙ্গে সরাসরি এক করা যায় না। গীতার দার্শনিক কাঠামোয় অব্যক্ত প্রকৃতির একটি স্তর; আত্মা বা ক্ষেত্রজ্ঞ তার থেকে স্বতন্ত্র।
এরপর বলা হয়েছে “ইন্দ্রিয়াণি দশৈকং চ”—অর্থাৎ দশটি ইন্দ্রিয় এবং একটি মন। ভারতীয় দর্শনে পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় হলো চক্ষু, কর্ণ, ঘ্রাণেন্দ্রিয়, জিহ্বা ও ত্বক; এগুলোর মাধ্যমে মানুষ রূপ, শব্দ, গন্ধ, স্বাদ ও স্পর্শ অনুভব করে। অন্যদিকে পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয় হলো বাক্, পাণি, পাদ, পায়ু ও উপস্থ—যেগুলোর মাধ্যমে কথা বলা, গ্রহণ করা, চলাফেরা, বর্জন ও প্রজননমূলক কাজ সম্পন্ন হয়। এই দশ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে “এক” অর্থাৎ মন যুক্ত হয়েছে। তাই এখানে মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার একটি পূর্ণ কাঠামো পাওয়া যায়। ইন্দ্রিয় বাইরের জগত থেকে তথ্য গ্রহণ করে, মন সেই তথ্যকে গ্রহণ ও সমন্বয় করে, বুদ্ধি তার বিচার করে এবং অহংকার সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে “আমি” ও “আমার”-এর সম্পর্ক তৈরি করে।
“পঞ্চ চেন্দ্রিয়গোচরাঃ” বলতে পাঁচটি ইন্দ্রিয়গোচর বিষয়কে বোঝানো হয়েছে—শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ও গন্ধ। “গোচর” শব্দের আক্ষরিক অর্থ যার মধ্যে গমন করা যায়; দার্শনিক অর্থে যা কোনো ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধির ক্ষেত্রের মধ্যে আসে। অর্থাৎ শব্দ কর্ণের বিষয়, স্পর্শ ত্বকের বিষয়, রূপ চোখের বিষয়, রস জিহ্বার বিষয় এবং গন্ধ নাকের বিষয়। এই পাঁচটি বিষয় মানুষের ইন্দ্রিয়জগতের প্রধান আকর্ষণ ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র। মানুষ যখন কোনো সুন্দর দৃশ্য দেখে, মধুর শব্দ শোনে, সুস্বাদু খাবার খায়, সুগন্ধ অনুভব করে বা কোনো কোমল বস্তুর স্পর্শ পায়, তখন ইন্দ্রিয় ও ইন্দ্রিয়গোচর বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সম্পর্ক থেকে মন আনন্দ বা আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করতে পারে এবং অহংকার সেই আকাঙ্ক্ষাকে “আমি চাই” বা “এটি আমার চাই” রূপ দিতে পারে।
এই শ্লোকটির গভীর তাৎপর্য বোঝার জন্য সাংখ্যদর্শনের সঙ্গে এর সম্পর্ক বোঝা প্রয়োজন। সাংখ্য দর্শন প্রকৃতি ও তার বিভিন্ন প্রকাশকে নির্দিষ্ট তত্ত্বে বিশ্লেষণ করে। প্রকৃতি থেকে বুদ্ধি, বুদ্ধি থেকে অহংকার এবং পরবর্তী স্তরে মন, ইন্দ্রিয়, সূক্ষ্ম বিষয় ও স্থূল মহাভূতের প্রকাশের একটি তাত্ত্বিক কাঠামো সাংখ্যে পাওয়া যায়। গীতা এই বিশ্লেষণকে গ্রহণ করলেও তার লক্ষ্য কেবল বিশ্বসৃষ্টির ব্যাখ্যা নয়; বরং “ক্ষেত্র” কী এবং “ক্ষেত্রজ্ঞ” কে—এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করা। অর্থাৎ গীতা আমাদের প্রথমে দেখায় যে শরীর, ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি, অহংকার এবং প্রকৃতির বিভিন্ন স্তরকে জানা যায়; তারপর প্রশ্ন তোলে—যে এগুলোকে জানে, সেই জ্ঞাতাটি কে?
এখানেই শ্লোকটির সবচেয়ে গভীর দার্শনিক তাৎপর্য প্রকাশ পায়। মানুষ সাধারণত বলে, “আমি শরীর”, “আমি মন”, “আমি দুঃখী”, “আমি সফল”, “আমি অপমানিত”। কিন্তু একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, আমরা শরীরের অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন, আমরা মনের চিন্তাকে লক্ষ্য করতে পারি, আমরা আবেগকে পর্যবেক্ষণ করতে পারি, এমনকি নিজের বুদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েও চিন্তা করতে পারি। তাহলে প্রশ্ন হয়—যে শরীরকে আমি জানি, যে মনকে আমি পর্যবেক্ষণ করি, যে বুদ্ধির সিদ্ধান্তকে আমি বিচার করি এবং যে অহংকারের “আমি”-ভাবকেও লক্ষ্য করতে পারি, সেই প্রকৃত “আমি” কে? গীতার ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ দর্শন এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই আত্মঅনুসন্ধানের পথ খুলে দেয়।
এই দৃষ্টিতে “মহাভূত” হলো আমাদের স্থূল অস্তিত্ব, “ইন্দ্রিয়” হলো জগতের সঙ্গে সংযোগের দরজা, “ইন্দ্রিয়গোচর” হলো সেই জগতের অভিজ্ঞতামূলক বিষয়, “মন” হলো অনুভূতি ও চিন্তার প্রবাহ, “বুদ্ধি” হলো বিচারশক্তি এবং “অহংকার” হলো সেই কেন্দ্র যা বলে—“আমি দেখছি”, “আমি করছি”, “আমি ভোগ করছি”, “এটি আমার।” মানুষ যখন এই সমস্ত উপাদানকে একত্র করে “আমি” বলে ধরে নেয়, তখন আসক্তি ও বন্ধনের সৃষ্টি হয়। কিন্তু যখন সে বুঝতে শেখে যে শরীর, ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি ও অহংকার—সবই পরিবর্তনশীল এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য, তখন তার মধ্যে একটি গভীর আত্মসচেতনতা জন্ম নেয়।
বাস্তব জীবনের একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা যায়। ধরা যাক, একজন মানুষ একটি অত্যন্ত দামি গাড়ি দেখল। প্রথমে তার চোখ গাড়িটিকে দেখল; তারপর মন গাড়িটির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করল; বুদ্ধি হিসাব করল সে গাড়িটি কিনতে পারবে কি না; অহংকার বলল, “আমার কাছে এই গাড়ি থাকলে সবাই আমাকে সফল মনে করবে”; এরপর “গাড়িটি আমার চাই”—এই আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলো। এখানে গাড়িটি নিজে মানুষের দুঃখের মূল কারণ নয়; বরং ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতা, মনের আকাঙ্ক্ষা এবং অহংকারের “আমার” ধারণা মিলেই আসক্তি তৈরি করেছে। একইভাবে কেউ অপমানজনক কথা বললে প্রথমে শব্দটি কর্ণেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে আসে, মন সেটিকে গ্রহণ করে, বুদ্ধি তার ব্যাখ্যা করে এবং অহংকার বলে—“আমাকে অপমান করা হয়েছে।” ফলে ক্রোধ জন্ম নেয়। কিন্তু যদি মানুষ নিজের অভিজ্ঞতাকে সাক্ষীর মতো পর্যবেক্ষণ করতে শেখে, তাহলে একই শব্দের প্রতি তার প্রতিক্রিয়া অনেকটা বদলে যেতে পারে।
এই কারণে শ্লোকটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মনোবৈজ্ঞানিক তাৎপর্যও রয়েছে। যদিও গীতার দর্শনকে আধুনিক মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা ঠিক নয়, তবু মানুষের অভিজ্ঞতাকে শরীর, ইন্দ্রিয়, মন, বিচারশক্তি ও আত্মপরিচয়ের বিভিন্ন স্তরে বিশ্লেষণ করার মধ্যে একটি আকর্ষণীয় সাদৃশ্য আছে। আধুনিক মানুষও নিজের শরীর, অনুভূতি, চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও সামাজিক পরিচয়ের দ্বারা নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে। কিন্তু গীতার প্রশ্ন হলো—এই সব পরিচয়ের পরিবর্তনের মধ্যেও যে সচেতনতা নিজের পরিবর্তনগুলোকে লক্ষ্য করে, তার প্রকৃতি কী? এই প্রশ্নই আত্মসচেতনতার গভীর স্তরে নিয়ে যায়।
সাহিত্যিক ও প্রতীকী অর্থেও শ্লোকটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। একে মানুষের অন্তর্জগতের একটি নাট্যমঞ্চ হিসেবে কল্পনা করা যায়। মহাভূত হলো সেই মঞ্চ, ইন্দ্রিয় হলো মঞ্চের জানালা, ইন্দ্রিয়গোচর বিষয় হলো মঞ্চে উপস্থিত দৃশ্য ও শব্দ, মন হলো অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্র, বুদ্ধি হলো বিচারক এবং অহংকার হলো সেই চরিত্র, যে বলে “এই নাটকের প্রধান চরিত্র আমি।” কিন্তু আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানে মানুষ যখন নিজের চিন্তা, আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও পরিচয়কে পর্যবেক্ষণ করতে শেখে, তখন সে বুঝতে শুরু করে যে সে কেবল নাটকের চরিত্র নয়; তার মধ্যে এমন একটি জ্ঞাতাসত্তার অনুসন্ধান সম্ভব, যে সমগ্র অভিজ্ঞতাকে প্রত্যক্ষ করে। এই অর্থে শ্লোকটি আত্মপরিচয়ের বাহ্যিক স্তর থেকে অন্তর্গত সত্যের দিকে যাত্রার প্রতীক।
অতএব “মহাভূতান্যহঙ্কারো বুদ্ধিরব্যক্তমেব চ। ইন্দ্রিয়াণি দশৈকং চ পঞ্চ চেন্দ্রিয়গোচরাঃ”—শ্লোকটি শুধু পঞ্চভূত, ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি ও অহংকারের একটি তালিকা নয়; এটি মানুষের অস্তিত্বকে বিশ্লেষণ করার একটি গভীর দার্শনিক পদ্ধতি। ভাষাগতভাবে প্রতিটি শব্দ মানুষের অস্তিত্বের একটি নির্দিষ্ট স্তর নির্দেশ করে; সাংখ্যদর্শনের দৃষ্টিতে এগুলো প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশ; মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে এগুলো অভিজ্ঞতার বিভিন্ন স্তর; সাহিত্যিক দৃষ্টিতে এগুলো মানুষের অন্তর্নাট্যের উপাদান; আর আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে এগুলো সেই সমস্ত বিষয়, যেগুলোকে অতিক্রম করে মানুষ নিজের প্রকৃত পরিচয় অনুসন্ধান করতে পারে। শ্লোকটির সবচেয়ে গভীর শিক্ষা তাই এই—মানুষ সাধারণত শরীর, ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি ও অহংকারের সমষ্টিকেই “আমি” মনে করে; কিন্তু গীতা তাকে এই সমস্ত উপাদানকে পৃথকভাবে চিনতে এবং তারপর প্রশ্ন করতে আহ্বান জানায়—“যে এই সবকিছুকে জানে, যে শরীরকে দেখে, মনকে দেখে, বুদ্ধিকে দেখে এবং অহংকারের ‘আমি’-ভাবকেও প্রত্যক্ষ করতে পারে, সেই প্রকৃত জ্ঞাতা কে?” এই প্রশ্নের মধ্যেই ক্ষেত্র থেকে ক্ষেত্রজ্ঞের দিকে, বাহ্যিক পরিচয় থেকে আত্মপরিচয়ের দিকে এবং জড় প্রকৃতি থেকে চৈতন্যের অনুসন্ধানের যাত্রা নিহিত।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!