ভগবদ্গীতা ১৪.১ — সর্বোত্তম পরম জ্ঞান ও পরম সিদ্ধিলাভের পথ
শ্রীভগবানুবাচ
পরং ভূয়ঃ প্রবক্ষ্যামি জ্ঞানানং জ্ঞানমুত্তমম্।
যজজ্ঞাত্বা মুনয়ঃ সর্বে পরাং সিদ্ধিমিতো গতাঃ।।১।।
অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন-পুনরায় আমি তোমাকে সমস্ত জ্ঞানের মধ্যে সর্বোত্তম জ্ঞান সম্বন্ধে বলব, যা জেনে মুনিগণ এই জড় জগৎ থেকে পরম সিদ্ধি লাভ করেছিলেন।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের সূচনাতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের সামনে এমন এক জ্ঞানের দ্বার উন্মুক্ত করেন, যে জ্ঞানকে তিনি সকল জ্ঞানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করেছেন। শ্লোকটি হলো পরং ভূয়ঃ প্রবক্ষ্যামি জ্ঞানানাং জ্ঞানমুত্তমম্ যজজ্ঞাত্বা মুনয়ঃ সর্বে পরাং সিদ্ধিমিতো গতাঃ। এর সরল অর্থ হলো, হে অর্জুন, আমি তোমাকে পুনরায় সেই পরম জ্ঞানের কথা বলব, যা সকল জ্ঞানের মধ্যে সর্বোত্তম। এই জ্ঞান উপলব্ধি করে সকল মুনি এই জগতের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে পরম সিদ্ধি লাভ করেছেন। কিন্তু এই বক্তব্যের গভীরে প্রবেশ করলে বোঝা যায়, কৃষ্ণ এখানে কোনো সাধারণ বিদ্যা বা তথ্যের কথা বলছেন না। তিনি এমন এক আত্মজ্ঞান প্রকাশ করতে চলেছেন, যা মানুষের নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে মৌলিক অজ্ঞতাকে দূর করে এবং তাকে প্রকৃতির বন্ধন অতিক্রম করে পরম সত্যের দিকে নিয়ে যায়।
পরম শব্দের অর্থ সর্বোচ্চ, শ্রেষ্ঠ এবং যার ঊর্ধ্বে আর কিছু নেই। ভূয়ঃ অর্থ পুনরায় বা আবার। প্রবক্ষ্যামি শব্দটি বলা বা প্রকাশ করার অর্থ বহন করে এবং এর মধ্যে এমন একটি জ্ঞান প্রকাশের ভাব রয়েছে যা শিষ্যের কল্যাণের জন্য গুরু নিজের মুখে তুলে ধরছেন। জ্ঞানানাং অর্থ জ্ঞানসমূহের মধ্যে এবং জ্ঞানমুত্তমম্ অর্থ সর্বোত্তম জ্ঞান। এইভাবে জ্ঞানানাং জ্ঞানমুত্তমম্ কথাটির মধ্যে একটি গভীর দার্শনিক ঘোষণা রয়েছে। পৃথিবীতে অসংখ্য ধরনের জ্ঞান রয়েছে। মানুষ প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে পারে, সমাজ সম্পর্কে জানতে পারে, ইতিহাস ও বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারে, শিল্প ও সাহিত্য সম্পর্কে জানতে পারে, কিন্তু এই সমস্ত জ্ঞানের মধ্যেও এমন একটি জ্ঞান রয়েছে যা অন্য সব জ্ঞানকে অর্থপূর্ণ করে তোলে। সেটি হলো নিজের প্রকৃত স্বরূপের জ্ঞান।
জ্ঞান শব্দটির মূল সংস্কৃত √জ্ঞা ধাতু, যার অর্থ জানা, উপলব্ধি করা বা চিনতে পারা। কিন্তু গীতার ভাষায় জ্ঞান কেবল কোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা নয়। জ্ঞান হলো সত্যকে তার প্রকৃত অবস্থায় উপলব্ধি করা। একজন মানুষ বহু গ্রন্থ পাঠ করতে পারেন, বহু শাস্ত্র মুখস্থ করতে পারেন এবং পৃথিবীর অসংখ্য বিষয় সম্পর্কে অসাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, কিন্তু যদি তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন, তবে তাঁর জ্ঞান এখনও পূর্ণতা লাভ করেনি। গীতার দৃষ্টিতে মানুষ নিজেকে সাধারণত দেহ, মন, ইন্দ্রিয়, সম্পর্ক, সামাজিক পরিচয়, সুখ, দুঃখ, সাফল্য এবং ব্যর্থতার সঙ্গে এক করে দেখে। এই আত্মপরিচয়ের সীমাবদ্ধতাই তাকে বন্ধনের মধ্যে রাখে। পরম জ্ঞান সেই ভুল পরিচয়ের আবরণ সরিয়ে মানুষকে তার গভীরতম সত্তার দিকে ফিরিয়ে নেয়।
শ্লোকের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে যজজ্ঞাত্বা মুনয়ঃ সর্বে পরাং সিদ্ধিমিতো গতাঃ। এখানে জ্ঞাত্বা শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ জেনে বা উপলব্ধি করে। শুধু শোনা নয়, শুধু বিশ্বাস করা নয়, শুধু মুখস্থ করাও নয়, বরং সত্যকে অন্তরে উপলব্ধি করা। এই উপলব্ধির ফলেই মুনিরা পরম সিদ্ধি লাভ করেছেন। মুনি শব্দের মধ্যে মননশীলতা, ধ্যান, আত্মঅনুসন্ধান এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টির ভাব নিহিত রয়েছে। মুনি সেই ব্যক্তি যিনি বাহ্যিক জগতের দৃশ্যমান ঘটনাগুলোর মধ্যেই নিজের অনুসন্ধান শেষ করেন না, বরং প্রশ্ন করেন এই সবকিছুর সাক্ষী কে, আমার প্রকৃত পরিচয় কী এবং পরিবর্তনশীল জগতের অন্তরালে কোন অপরিবর্তনীয় সত্য অবস্থান করছে।
পরম সিদ্ধি বলতে এখানে কেবল কোনো অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন বোঝানো হয়নি। সিদ্ধি অর্থ পূর্ণতা, সফলতা, চূড়ান্ত উপলব্ধি এবং আধ্যাত্মিক পরিণতি। মানুষের সাধারণ জীবনে পূর্ণতার ধারণা প্রায়ই বাহ্যিক অর্জনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। অর্থ, সম্মান, ক্ষমতা, জ্ঞান, সম্পর্ক কিংবা সামাজিক প্রতিষ্ঠাকে আমরা সাফল্যের মাপকাঠি মনে করি। কিন্তু গীতা মানুষের সামনে এক ভিন্ন ধরনের পূর্ণতার কথা তুলে ধরে। যে পূর্ণতা কোনো বাহ্যিক বস্তু অর্জনের ওপর নির্ভরশীল নয়, যে পূর্ণতা নিজের প্রকৃত স্বরূপকে জানার মধ্য দিয়ে আসে, সেই পূর্ণতাই এখানে পরম সিদ্ধি।
চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রেক্ষাপটে এই জ্ঞানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই অধ্যায়ে প্রকৃতির তিন গুণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ মানুষের মন, আচরণ এবং জীবনযাত্রাকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে। কখনো মানুষের মধ্যে জ্ঞান, শান্তি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়, কখনো কর্মপ্রবণতা, আকাঙ্ক্ষা ও অস্থিরতা তাকে পরিচালিত করে, আবার কখনো জড়তা, অন্ধকার ও অবসাদ তাকে আচ্ছন্ন করে। মানুষ যখন এই গুণগুলোর কার্যকলাপকে নিজের প্রকৃত স্বরূপ বলে মনে করে, তখন সে তাদের দ্বারা আবদ্ধ থাকে। কিন্তু জ্ঞানের মাধ্যমে সে বুঝতে শেখে যে গুণের পরিবর্তন এবং আত্মার প্রকৃতি এক বিষয় নয়। এই উপলব্ধিই তাকে গুণাতীত হওয়ার পথে নিয়ে যায়।
এই দৃষ্টিতে জ্ঞান হলো অন্ধকারের মধ্যে আলোর মতো। অন্ধকারে পথ থাকে, কিন্তু পথ দেখা যায় না। আলো জ্বলে উঠলে পথ নতুন করে সৃষ্টি হয় না, বরং যা আগে থেকেই ছিল তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আত্মজ্ঞানও তেমনই। আত্মজ্ঞান মানুষের মধ্যে কোনো নতুন আত্মাকে সৃষ্টি করে না। বরং অজ্ঞতার আবরণ সরিয়ে তার প্রকৃত স্বরূপকে প্রকাশ করে। মানুষ যখন বুঝতে পারে যে তার মনে রাগ এসেছে, কিন্তু সে নিজে কেবল রাগ নয়, তার মনে ভয় এসেছে, কিন্তু তার অস্তিত্ব কেবল ভয় নয়, তার জীবনে দুঃখ এসেছে, কিন্তু তার গভীরতম সত্তা কেবল দুঃখ নয়, তখন তার মধ্যে সাক্ষীভাবের জন্ম হয়। এই সাক্ষীভাব তাকে পরিবর্তনশীল অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্ম হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থেকে মুক্ত করে।
অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই জ্ঞান আত্মা ও ব্রহ্মের মৌলিক ঐক্যের উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়। অজ্ঞতার কারণে মানুষ নিজেকে সীমাবদ্ধ ব্যক্তি বলে মনে করে এবং দেহ ও মনের সঙ্গে নিজের পরিচয় এক করে ফেলে। জ্ঞানের মাধ্যমে সেই ভ্রান্ত পরিচয় দূর হলে আত্মার প্রকৃত চৈতন্যস্বরূপ প্রকাশিত হয়। সাংখ্য দর্শনের দৃষ্টিতে এই জ্ঞান পুরুষ ও প্রকৃতির পার্থক্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। প্রকৃতি পরিবর্তনশীল এবং পুরুষ চৈতন্যস্বরূপ। মানুষ যখন প্রকৃতির গুণের সঙ্গে নিজের পরিচয়কে এক করে ফেলে, তখন বন্ধন সৃষ্টি হয়। যখন সে উপলব্ধি করে যে পরিবর্তনশীল প্রকৃতি এবং চৈতন্যস্বরূপ দ্রষ্টা এক নয়, তখন মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। যোগদর্শনের দৃষ্টিতে এই জ্ঞান চিত্তের অস্থিরতা অতিক্রম করে দ্রষ্টার প্রকৃত স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভক্তির দৃষ্টিতে আবার এই জ্ঞান ঈশ্বর, জীব এবং জগতের সম্পর্ককে গভীরভাবে উপলব্ধি করার পথ।
এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত গভীর। এখানে জ্ঞান হলো আলো, অজ্ঞতা হলো অন্ধকার, মুনি হলো অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সাধক এবং সিদ্ধি হলো পূর্ণতার প্রতীক। মানুষের জীবনকে যদি একটি দীর্ঘ যাত্রার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে বাহ্যিক জ্ঞান তাকে পথের বিভিন্ন বিষয় চিনতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু আত্মজ্ঞান তাকে জানায় যাত্রীটি আসলে কে। এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ পৃথিবীকে যতই জানুক, যদি নিজের পরিচয় না জানে, তবে তার সমস্ত জ্ঞান এক অর্থে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নিজের স্বরূপের অনুসন্ধান শুরু হলেই জ্ঞান বাহ্যিক তথ্য থেকে অন্তর্দৃষ্টিতে পরিণত হয়।
একটি সহজ উপমা দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। আকাশের দিকে তাকালে আমরা মেঘ দেখি। কখনো মেঘ কালো, কখনো সাদা, কখনো ঘন, কখনো ক্ষণস্থায়ী। মেঘ আসে এবং চলে যায়, কিন্তু আকাশ তার কারণে প্রকৃতিগতভাবে পরিবর্তিত হয় না। মানুষের মনও তেমন। সুখ আসে, দুঃখ আসে, ভয় আসে, ক্রোধ আসে, আশা আসে, হতাশা আসে। কিন্তু যে চৈতন্য এই সমস্ত পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষ করে, সেই চৈতন্যকে যদি মানুষ নিজের গভীরতম পরিচয় হিসেবে উপলব্ধি করতে পারে, তবে জীবনের পরিবর্তন তাকে আগের মতো সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করতে পারে না। এই উপলব্ধির দিকেই গীতার পরম জ্ঞান মানুষকে আহ্বান করে।
এই শিক্ষার ব্যবহারিক মূল্যও অসীম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়। সাফল্য যেমন স্থায়ী নয়, তেমনি ব্যর্থতাও স্থায়ী নয়। প্রশংসা যেমন পরিবর্তিত হয়, অপমানও তেমনি পরিবর্তিত হয়। সম্পর্ক, সম্পদ, স্বাস্থ্য, সামাজিক অবস্থান এবং জীবনের পরিস্থিতি সবই পরিবর্তনশীল। মানুষ যখন এই পরিবর্তনশীল বিষয়গুলোর সঙ্গে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় স্থাপন করে, তখন প্রতিটি পরিবর্তন তার অস্তিত্বকে নাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আত্মজ্ঞান তাকে শেখায় যে পরিবর্তনের সাক্ষী হওয়া যায়। জীবনের ঘটনাকে অস্বীকার না করেও তাদের দ্বারা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত না হওয়ার একটি অন্তর্গত স্বাধীনতা অর্জন করা যায়।
শ্লোকটির ভাষার মধ্যেও একটি অসাধারণ আধ্যাত্মিক যাত্রা লুকিয়ে আছে। প্রথমে রয়েছে জ্ঞান, তারপর জ্ঞাত্বা এবং শেষে সিদ্ধি। অর্থাৎ সত্য সম্পর্কে শোনা থেকে সত্যকে জানা, সত্যকে জানা থেকে সত্যকে উপলব্ধি করা এবং উপলব্ধি থেকে পূর্ণতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া। এই ক্রমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বই পড়ে আগুন সম্পর্কে জানা এবং আগুনের উষ্ণতা অনুভব করা এক বিষয় নয়। একইভাবে আত্মা সম্পর্কে অসংখ্য আলোচনা জানা এবং আত্মস্বরূপকে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করা এক নয়। তাই গীতার জ্ঞান কেবল বুদ্ধির জ্ঞান নয়, এটি জীবনকে রূপান্তরিত করার জ্ঞান।
মানবজীবনের গভীরতম প্রশ্নগুলোর একটি হলো আমি কে। এই প্রশ্নের উত্তর মানুষ সাধারণত তার নাম, দেহ, পেশা, পরিবার, সামাজিক পরিচয় অথবা ব্যক্তিগত ইতিহাস দিয়ে দেয়। কিন্তু গীতার দৃষ্টিতে এগুলো মানুষের পরিবর্তনশীল পরিচয়। আজ যে দেহ, কাল তার রূপ বদলাবে। আজ যে মানসিক অবস্থা, কাল তা অন্যরকম হবে। আজ যে পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ, ভবিষ্যতে তা হয়তো থাকবে না। তাহলে এই সমস্ত পরিবর্তনের মধ্যে কোনটি আমার প্রকৃত পরিচয়। এই অনুসন্ধানই আত্মজ্ঞানকে জন্ম দেয়। আর এই কারণেই কৃষ্ণ এই জ্ঞানকে সকল জ্ঞানের মধ্যে উত্তম বলে ঘোষণা করেন।
পরম ভূয়ঃ প্রবক্ষ্যামি জ্ঞানানাং জ্ঞানমুত্তমম্ এই ঘোষণা তাই কেবল একটি শাস্ত্রীয় বাক্য নয়, এটি মানুষের অন্তর্জীবনের প্রতি এক গভীর আহ্বান। বাহ্যিক জগতকে জয় করার আগে নিজের অজ্ঞতাকে জয় করতে হবে। পৃথিবী সম্পর্কে জ্ঞান মানুষকে শক্তিশালী করতে পারে, কিন্তু নিজের প্রকৃত স্বরূপের জ্ঞান তাকে স্বাধীন করে। বাহ্যিক অর্জন মানুষকে সফল করতে পারে, কিন্তু আত্মজ্ঞান তাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। এই কারণেই মুনিরা এই জ্ঞান লাভ করে পরম সিদ্ধিতে পৌঁছেছেন বলে কৃষ্ণ ঘোষণা করেছেন।
শেষ পর্যন্ত এই শ্লোক আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জ্ঞানের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য কেবল জানা নয়, নিজেকে জানা। যে জ্ঞান মানুষকে অহংকারে আবদ্ধ করে, তা এখনও অসম্পূর্ণ। যে জ্ঞান মানুষকে নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করায়, সত্যের প্রতি বিনয়ী করে এবং পরিবর্তনশীল জগতের মধ্যে অপরিবর্তনীয় সত্যের সন্ধান দেয়, সেই জ্ঞানই ধীরে ধীরে পরম জ্ঞানে পরিণত হয়। পরম জ্ঞান মানুষকে জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে না, বরং জগতকে আরও স্বচ্ছ দৃষ্টিতে দেখতে শেখায়। তখন সুখে মানুষ অন্ধ হয় না, দুঃখে ভেঙে পড়ে না, সাফল্যে অহংকারে আবদ্ধ হয় না এবং ব্যর্থতায় নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে না। সে বুঝতে শেখে যে জীবনের সমস্ত পরিবর্তনের অন্তরালে এমন এক চৈতন্য রয়েছে যার উপলব্ধিই প্রকৃত স্বাধীনতার সূচনা। তাই জ্ঞানানাং জ্ঞানমুত্তমম্ কেবল সকল জ্ঞানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান নয়, এটি মানুষের নিজের কাছে ফিরে আসার জ্ঞান, অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আত্মসচেতনতার আলোয় উত্তরণের জ্ঞান এবং শেষ পর্যন্ত পরম সিদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক চিরন্তন আধ্যাত্মিক আহ্বান।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!