ভগবদ্গীতা ১৪.১৪ — সত্ত্বগুণের প্রাধান্য, মৃত্যুকালের চেতনা ও নির্মল উচ্চতর গতি
যদা সত্ত্বে প্রবৃদ্ধে তু প্রলয়ং যাতি দেহভৃৎ।
তদোত্তমবিদাং লোকানমলান্ প্রতিপদ্যতে।।১৪।।
অনুবাদঃ যখন সত্ত্বগুণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কালে দেহধারী জীব দেহত্যাগ করেন, তখন তিনি মহর্ষিদের নির্মল উচ্চতর লোকসমূহ লাভ করেন।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের চতুর্দশ শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মানবজীবনের একটি অত্যন্ত গভীর সত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যখন সত্ত্বগুণ প্রবল হয়ে ওঠে এবং সেই অবস্থায় দেহধারী জীবের দেহের অবসান ঘটে, তখন সেই জীব নির্মল উচ্চতর জ্ঞানসম্পন্ন সত্তাদের লোক বা অবস্থাকে প্রাপ্ত হয়। এই বক্তব্যের মধ্যে কেবল মৃত্যুর পর জীবের গতির কোনো ধর্মীয় ব্যাখ্যা নেই, এর মধ্যে মানুষের সমগ্র জীবনযাপন, চিন্তা, চরিত্র, চেতনা এবং অন্তর্জগতের পরিণতির একটি গভীর সূত্র নিহিত রয়েছে। মানুষের জীবনের শেষ মুহূর্তটি আসলে তার সমগ্র জীবনের মানসিক প্রবণতা ও চেতনার একটি পরিণত প্রকাশ। তাই মৃত্যুকালে সত্ত্বগুণের প্রাধান্য হঠাৎ সৃষ্টি হয় না। দীর্ঘদিনের জ্ঞানচর্চা, সত্যনিষ্ঠা, সংযম, পবিত্রতা, শান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চতর সত্যের প্রতি আকর্ষণের মধ্য দিয়ে মানুষের চেতনা ধীরে ধীরে সত্ত্বময় হয়ে ওঠে।
এই শ্লোকের কেন্দ্রীয় শব্দ হলো সত্ত্ব। সংস্কৃত সত্ত্ব শব্দের মধ্যে অস্তিত্ব, সত্য, স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতার ভাব নিহিত রয়েছে। গীতার দর্শনে সত্ত্ব প্রকৃতির তিন গুণের একটি। অপর দুটি হলো রজস এবং তমস। সত্ত্ব মানুষের চেতনায় জ্ঞান, শান্তি, স্বচ্ছতা, সাম্য ও পবিত্রতার বিকাশ ঘটায়। রজস মানুষকে আকাঙ্ক্ষা, কর্মচাঞ্চল্য, ভোগ এবং ফললাভের প্রবল বাসনার দিকে নিয়ে যায়। তমস মানুষকে অজ্ঞানতা, জড়তা, অলসতা, মোহ এবং অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। মানুষের মধ্যে এই তিনটি প্রবণতাই বিভিন্ন মাত্রায় সক্রিয় থাকে। কখনো জ্ঞান ও শান্তি প্রবল হয়, কখনো আকাঙ্ক্ষা ও অস্থিরতা, আবার কখনো জড়তা ও অজ্ঞতা। শ্রীকৃষ্ণ এখানে দেখাচ্ছেন যে জীবনের অন্তিম সময়ে কোন প্রবণতা চেতনাকে অধিকতর অধিকার করে আছে তার সঙ্গে জীবের পরবর্তী গতির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
সত্ত্বগুণ যখন প্রবৃদ্ধ হয় তখন মানুষের অন্তর্জগতে একটি বিশেষ পরিবর্তন দেখা দেয়। প্রবৃদ্ধ শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া, প্রসারিত হওয়া বা প্রবল হয়ে ওঠা। তাই সত্ত্বে প্রবৃদ্ধে বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা যেখানে সত্ত্বগুণ অন্য প্রবণতাগুলোর তুলনায় অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় মানুষের মন অধিক শান্ত হয়, বিচারবুদ্ধি অধিক স্বচ্ছ হয় এবং সত্য ও অসত্যের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মানুষ তখন কেবল নিজের ভোগ ও স্বার্থের মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। তার মধ্যে সহমর্মিতা, সংযম, দয়া, সত্যনিষ্ঠা এবং আত্মজিজ্ঞাসার বিকাশ ঘটে। তার কাছে জীবনের বাহ্যিক সাফল্যের তুলনায় অন্তরের শান্তি ও সত্যের উপলব্ধি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শ্লোকে প্রলয় শব্দটিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ অর্থে প্রলয় হলো বিলয় বা অবসান। এই প্রসঙ্গে তা দেহের অবসান অর্থাৎ মৃত্যুকে নির্দেশ করে। কিন্তু গীতার দর্শনে দেহের মৃত্যু আত্মার মৃত্যু নয়। দেহ পরিবর্তনশীল এবং নশ্বর। আত্মা তার তুলনায় গভীরতর ও নিত্য সত্তা। তাই দেহের অবসানকে সম্পূর্ণ বিনাশ হিসেবে দেখা হয় না। বরং এটি এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় গমনের একটি পর্যায়। দেহভৃৎ শব্দটিও এই ধারণাকে আরও স্পষ্ট করে। দেহভৃৎ অর্থ দেহধারী বা যে দেহ ধারণ করে আছে। শব্দটির মধ্যেই একটি সূক্ষ্ম দার্শনিক ইঙ্গিত রয়েছে যে মানুষ কেবল তার দেহ নয়। দেহ তার একটি বাহ্যিক উপাধি এবং দেহের পরিবর্তনের মধ্যেও জীবনের গভীরতর সত্তার যাত্রা অব্যাহত থাকে।
শ্লোকে উত্তমবিদাং লোকান্ অমলান্ কথাটিও অত্যন্ত গভীর। উত্তমবিদ বলতে উচ্চতর জ্ঞানসম্পন্ন বা উৎকৃষ্ট সত্যের জ্ঞানী সত্তাদের বোঝানো হয়েছে। লোক শব্দের অর্থ জগৎ, অস্তিত্বের ক্ষেত্র বা কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতার পরিসর। অমল অর্থ কলুষমুক্ত, নির্মল বা পবিত্র। ফলে উত্তমবিদাং লোকান্ অমলান্ বলতে নির্মল উচ্চতর জ্ঞানসম্পন্ন সত্তাদের জগৎ বা অবস্থাকে বোঝানো যায়। এটি বৈদিক বিশ্বতত্ত্বের দৃষ্টিতে একটি উচ্চতর লোক হিসেবে ব্যাখ্যাত হতে পারে। আবার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় এটিকে চেতনার উচ্চতর অবস্থার প্রতীক হিসেবেও দেখা যায়। অর্থাৎ মানুষের চেতনা যত নির্মল ও জ্ঞানময় হয় তার অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রও তত উচ্চতর হয়ে ওঠে।
অমল শব্দটির মধ্যেও একটি সুন্দর আধ্যাত্মিক প্রতীক রয়েছে। মল বলতে কলুষ, অশুদ্ধি বা আবরণ বোঝায়। অমল হলো সেই কলুষ থেকে মুক্ত অবস্থা। মানুষের মন কামনা, ক্রোধ, লোভ, মোহ, অহংকার, হিংসা এবং অজ্ঞতার দ্বারা আচ্ছন্ন হলে সত্যকে উপলব্ধি করা কঠিন হয়। কিন্তু মন যখন ধীরে ধীরে এই আবরণ থেকে মুক্ত হতে থাকে তখন তার প্রকৃত স্বচ্ছতা প্রকাশিত হয়। একটি পরিষ্কার আয়নায় যেমন মুখের প্রতিবিম্ব স্পষ্ট দেখা যায়, তেমনই নির্মল চিত্তে সত্যের প্রতিফলন অধিক স্পষ্ট হয়। এই কারণে সত্ত্বগুণের বিকাশকে চেতনার স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলনা করা যায়।
এই শ্লোকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক শিক্ষা হলো মানুষের মৃত্যুর সময়কার চেতনা তার সমগ্র জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষ জীবনের শেষ মুহূর্তে হঠাৎ করে যে চেতনার অধিকারী হয় তা সাধারণত তার দীর্ঘদিনের চিন্তা, কর্ম, অভ্যাস ও মানসিক প্রবণতার ফল। যে ব্যক্তি সারাজীবন সত্য, জ্ঞান, শান্তি, আত্মসংযম এবং পবিত্রতার অনুশীলন করেছে তার চিত্তে এই প্রবণতাগুলো গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। অন্যদিকে যে ব্যক্তি সারাজীবন অতিরিক্ত ভোগ, লোভ, ক্রোধ, প্রতিযোগিতা এবং অস্থিরতার মধ্যে থেকেছে তার চেতনা সেই প্রবণতার দ্বারা অধিক প্রভাবিত হতে পারে। তাই এই শ্লোক মূলত মৃত্যুর মুহূর্তকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কৌশল শেখাচ্ছে না। এটি শেখাচ্ছে কীভাবে সমগ্র জীবনকে এমনভাবে গড়ে তোলা যায় যাতে মানুষের অন্তর স্বাভাবিকভাবেই নির্মল ও শান্ত হয়ে ওঠে।
সাংখ্য দর্শনের দৃষ্টিতে সত্ত্ব প্রকৃতির একটি গুণ। সত্ত্ব জ্ঞান ও প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত, রজস গতি ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত এবং তমস অজ্ঞানতা ও জড়তার সঙ্গে যুক্ত। জীব যখন প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে তখন এই তিন গুণ তার মানসিক ও আচরণগত জীবনকে প্রভাবিত করে। গীতার শিক্ষা হলো সত্ত্বকে বিকশিত করা প্রয়োজন, কারণ সত্ত্ব চিত্তকে জ্ঞান ও আত্মোপলব্ধির জন্য প্রস্তুত করে। কিন্তু একই সঙ্গে গীতা আরও উচ্চতর একটি সত্যের দিকে নির্দেশ করে। সত্ত্বও প্রকৃতির অন্তর্গত। তাই চূড়ান্ত মুক্তির জন্য সত্ত্বসহ তিন গুণের অতীত আত্মস্বরূপ উপলব্ধি করতে হয়। এই দৃষ্টিতে সত্ত্ব হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাওয়ার পথ, কিন্তু আলোতেও শেষ পর্যন্ত অতিক্রম করতে হয় গুণাতীত সত্যের উপলব্ধির জন্য।
অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিকোণ থেকে এই শ্লোককে আরও গভীরভাবে দেখা যায়। আত্মা নিজে সত্ত্ব, রজস বা তমসের দ্বারা আবদ্ধ নয়। এই গুণগুলো প্রকৃতির অন্তর্গত। কিন্তু আত্মজ্ঞান লাভের জন্য চিত্তের নির্মলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অশান্ত ও অস্বচ্ছ মন আত্মসত্যকে সহজে উপলব্ধি করতে পারে না। সত্ত্বের বিকাশ মনকে এমন একটি স্বচ্ছ অবস্থায় নিয়ে যায় যেখানে আত্মজিজ্ঞাসা ও জ্ঞানচর্চা সহজ হয়। এই কারণে সত্ত্বকে মুক্তির শেষ গন্তব্য না বলে মুক্তির পথে একটি উৎকৃষ্ট প্রস্তুতি বলা যায়।
ভক্তির দৃষ্টিতেও এই শিক্ষা অত্যন্ত অর্থবহ। সত্ত্বময় চিত্তে অহংকার ও অস্থিরতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ফলে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি, আত্মসমর্পণ, প্রার্থনা ও প্রেম গভীর হতে পারে। যে মন সর্বদা বাহ্যিক আকাঙ্ক্ষায় ছুটে বেড়ায় সে সহজে অন্তরের ঈশ্বরচেতনার দিকে স্থির হতে পারে না। কিন্তু নির্মল ও শান্ত মন ঈশ্বরের প্রতি অধিক সহজে নিবিষ্ট হতে পারে। তাই সত্ত্বের বিকাশ আধ্যাত্মিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
এই শ্লোককে একটি হ্রদের উপমার মাধ্যমে সহজভাবে বোঝা যায়। যদি হ্রদের জল কাদায় পরিপূর্ণ থাকে তাহলে তার মধ্যে কোনো প্রতিবিম্ব স্পষ্ট দেখা যায় না। এই কাদা তমসের প্রতীক। আবার যদি প্রবল বাতাসে জল ক্রমাগত উত্তাল থাকে তাহলে আকাশের প্রতিচ্ছবিও স্থির থাকে না। এই অস্থিরতা রজসের প্রতীক। কিন্তু যখন জল শান্ত ও পরিষ্কার হয় তখন আকাশের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট দেখা যায়। এই শান্ত ও স্বচ্ছ জল সত্ত্বের প্রতীক। মানুষের মনও একইভাবে যখন অজ্ঞতার অন্ধকার ও আকাঙ্ক্ষার অস্থিরতা থেকে মুক্ত হয়ে স্বচ্ছ হয় তখন তার মধ্যে সত্যের প্রতিফলন স্পষ্ট হতে থাকে।
এই কারণে গীতার এই শ্লোক কেবল মৃত্যুর পর জীব কোথায় যাবে সেই প্রশ্নের উত্তর নয়। এটি আসলে জীবনের একটি গভীর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক নির্দেশনা। মানুষ যদি নিজের ভবিষ্যৎ চেতনার প্রকৃতি উন্নত করতে চায় তবে তাকে বর্তমান চেতনার পরিচর্যা করতে হবে। সত্য বলা, সংযম পালন করা, জ্ঞানচর্চা করা, অন্যের কল্যাণে কাজ করা, অহংকার ও লোভ নিয়ন্ত্রণ করা, মনকে পর্যবেক্ষণ করা এবং পরম সত্যের প্রতি মনকে নিবদ্ধ করা সত্ত্বের বিকাশে সহায়ক। অর্থাৎ মৃত্যুর প্রস্তুতি জীবনের শেষ দিনে শুরু হয় না। মৃত্যুর প্রস্তুতি শুরু হয় প্রতিদিনের চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়ে।
সাহিত্যিক ও প্রতীকী দৃষ্টিতেও শ্লোকটি অত্যন্ত সুন্দর। এখানে সত্ত্ব হলো আলো, তমস হলো অন্ধকার, রজস হলো অস্থির গতি এবং অমল হলো নির্মলতার প্রতীক। মানুষের অন্তর্জীবনকে যদি একটি দীর্ঘ যাত্রা হিসেবে দেখা হয় তবে তমস তাকে অন্ধকারে আবদ্ধ রাখে, রজস তাকে আকাঙ্ক্ষার নানা পথে ছুটিয়ে নিয়ে যায় এবং সত্ত্ব তাকে স্বচ্ছতার দিকে নিয়ে আসে। কিন্তু এই যাত্রার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কেবল কোনো উচ্চতর লোক লাভ করা নয়। এর গভীরতর উদ্দেশ্য হলো নিজের প্রকৃত স্বরূপকে উপলব্ধি করা।
এই শ্লোকের সর্বাপেক্ষা গভীর শিক্ষা হলো মানুষের গতি তার চেতনার গুণমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাহ্যিক সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি বা সামাজিক অবস্থান মানুষের অন্তরের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করে না। মানুষের সত্যিকারের উন্নতি ঘটে যখন তার চেতনা অশান্তি থেকে শান্তির দিকে, অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের দিকে, কলুষ থেকে নির্মলতার দিকে এবং স্বার্থপরতা থেকে বৃহত্তর সত্যের দিকে অগ্রসর হয়। সত্ত্বের বিকাশ সেই অন্তর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। মৃত্যুর সময় যে চেতনা প্রকাশিত হয় তা জীবনের দীর্ঘ অনুশীলনেরই প্রতিফলন। তাই এই শ্লোক আমাদের মৃত্যুকে ভয় করার শিক্ষা দেয় না। বরং এটি শেখায় জীবনকে এমনভাবে গড়ে তুলতে যাতে মৃত্যুর মুহূর্তেও অন্তর অন্ধকার, অস্থিরতা ও ভয়ের পরিবর্তে জ্ঞান, শান্তি ও নির্মলতার দিকে মুখ করে থাকে।
সর্বোপরি বলা যায়, যদা সত্ত্বে প্রবৃদ্ধে তু প্রলয়ং যাতি দেহভৃৎ এই শ্লোক মানুষের জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার গভীর সম্পর্ককে প্রকাশ করে। সত্ত্বের বিকাশ মানুষের অন্তরকে নির্মল করে, নির্মলতা জ্ঞানকে প্রস্ফুটিত করে এবং জ্ঞান চেতনাকে উচ্চতর সত্যের দিকে পরিচালিত করে। দেহের অবসান সেই যাত্রার সমাপ্তি নয়, বরং গীতার দৃষ্টিতে এক নতুন গতির সূচনা। উত্তমবিদদের নির্মল লোক তাই কেবল মৃত্যুর পর কোনো দূরবর্তী জগতের প্রতীক নয়, এটি জ্ঞান, পবিত্রতা ও উচ্চতর চেতনারও প্রতীক। মানুষের জীবনের প্রকৃত সাধনা হলো নিজের চেতনাকে ক্রমশ এমন পর্যায়ে উন্নীত করা যেখানে সত্যের প্রতি আকর্ষণ অজ্ঞতার চেয়ে শক্তিশালী, শান্তি অস্থিরতার চেয়ে গভীর এবং নির্মলতা সকল কলুষকে অতিক্রম করে। এই উপলব্ধিই শ্লোকটির ভাষাগত সৌন্দর্যকে দার্শনিক গভীরতার সঙ্গে যুক্ত করে এবং মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে জীবনের শেষ গন্তব্য নির্ধারিত হয় কেবল মৃত্যুর মুহূর্তে নয়, বরং প্রতিদিন আমরা আমাদের অন্তরে কী ধারণ করছি তার মধ্য দিয়েই।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!