সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৪.১৫ — রজোগুণে কর্মাসক্ত জন্ম ও তমোগুণে অজ্ঞানময় গতির তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
রজসি প্রলয়ং গত্বা কর্মসঙ্গিষু জায়তে। তথা প্রলীনস্তমসি মূঢ়যোনিষু জায়তে।।১৫।।
রজসি প্রলয়ং গত্বা কর্মসঙ্গিষু জায়তে। 
তথা প্রলীনস্তমসি মূঢ়যোনিষু জায়তে।।১৫।।

অনুবাদঃ রজোগুণে মৃত্যু হলে কর্মাসক্ত মনুষ্যকুলে জন্ম হয়, তেমনই তমোগুণে মৃত্যু হলে পশুযোনিতে জন্ম হয়।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের পঞ্চদশ শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মানুষের অন্তর্জগতের প্রবণতা, কর্মাসক্তি, অজ্ঞানতা এবং মৃত্যুর পরবর্তী গতির মধ্যে এক গভীর সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেছেন। শ্লোকটি হলো রজসি প্রলয়ং গত্বা কর্মসঙ্গিষু জায়তে। তথা প্রলীনস্তমসি মূঢ়যোনিষু জায়তে।। এখানে বলা হয়েছে যে রজোগুণে লীন অবস্থায় যে জীব দেহত্যাগ করে সে কর্মাসক্তদের মধ্যে জন্মগ্রহণ করে এবং তমোগুণে লীন অবস্থায় যে জীব দেহত্যাগ করে সে মূঢ় বা অজ্ঞানতাপূর্ণ যোনিতে জন্মগ্রহণ করে। এই বক্তব্যকে কেবল বাহ্যিক জন্মমৃত্যুর একটি সরল বিবরণ হিসেবে দেখলে এর গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা যায় না। প্রকৃতপক্ষে এই শ্লোক মানুষের চেতনার প্রবাহ, মানসিক সংস্কার, কর্মপ্রবণতা এবং ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের মধ্যে একটি গভীর কার্যকারণ সম্পর্ক নির্দেশ করে।

রজসি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত রজস্ শব্দ থেকে। রজস্ শব্দের মধ্যে গতি, অস্থিরতা, উদ্যম, আকাঙ্ক্ষা, আবেগ, কর্মচাঞ্চল্য এবং প্রবল ইচ্ছার ভাব নিহিত রয়েছে। গীতার গুণতত্ত্বে রজঃ এমন একটি শক্তি যা জীবকে ক্রমাগত কর্মের দিকে পরিচালিত করে। মানুষ কিছু অর্জন করতে চায়, নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে চায়, সম্পদ সংগ্রহ করতে চায়, সম্মান লাভ করতে চায়, অন্যকে অতিক্রম করতে চায় এবং নিজের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রূপ দিতে চায়। এই সমস্ত প্রবণতার মধ্যে রজোগুণের কার্যকলাপ দেখা যায়। রজঃ মানুষের মধ্যে শক্তি ও কর্মোদ্যম সৃষ্টি করতে পারে এবং জীবনের বহির্মুখী অগ্রগতির জন্য তা প্রয়োজনীয়ও হতে পারে। কিন্তু যখন এই কর্মপ্রবণতার সঙ্গে প্রবল আসক্তি যুক্ত হয় তখন রজঃ মানুষকে বন্ধনের দিকে নিয়ে যায়।

প্রলয়ং শব্দটির সঙ্গে সংস্কৃত লী ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে যার মূল ভাব লীন হওয়া, বিলীন হওয়া বা কোনো কিছুর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে মিশে যাওয়া। প্রলয়ং গত্বা অর্থ সেই অবস্থায় গিয়ে লীন হওয়া বা সেই অবস্থার প্রাধান্য নিয়ে দেহত্যাগ করা। এখানে প্রলয় শব্দটি কেবল মহাবিশ্বের ধ্বংস বা মহাপ্রলয় বোঝাচ্ছে না। বরং জীবের একটি দেহগত অস্তিত্বের অবসান এবং তার সঙ্গে যুক্ত চেতনার প্রবণতার পরবর্তী প্রকাশের দিকে ইঙ্গিত করছে। মানুষ জীবনের শেষ মুহূর্তে যে মানসিক প্রবণতা বহন করে তা হঠাৎ করে তৈরি হয় না। সমগ্র জীবনের চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা, অভ্যাস, কর্ম এবং আসক্তি তার চেতনার গভীরে যে সংস্কার সৃষ্টি করে মৃত্যুকালীন চেতনা সেই সংস্কারেরই একটি ঘনীভূত প্রকাশ।

গত্বা শব্দটি সংস্কৃত গম ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ যাওয়া। তাই রজসি প্রলয়ং গত্বা কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থ হলো রজোগুণের মধ্যে গিয়ে বা রজোগুণের প্রাধান্যযুক্ত অবস্থায় অবস্থান করে দেহত্যাগ করা। এই বক্তব্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সত্যও নিহিত রয়েছে। মানুষ প্রতিদিন যে চিন্তা করে এবং যে কর্ম বারবার সম্পাদন করে তার দ্বারা নিজের মানসিক প্রবণতাকে শক্তিশালী করে। একজন মানুষ যদি সারাজীবন অর্জন, প্রতিযোগিতা, সম্পদ, খ্যাতি এবং সাফল্যের আকাঙ্ক্ষায় নিমগ্ন থাকে তবে তার মন ধীরে ধীরে সেই আকাঙ্ক্ষার কাঠামোর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তার কর্ম কেবল বাহ্যিক আচরণ থাকে না বরং তার চেতনার অংশ হয়ে যায়।

কর্মসঙ্গিষু শব্দটি এই শ্লোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। কর্ম অর্থ কাজ বা ক্রিয়া এবং সঙ্গ অর্থ আসক্তি, সংযোগ বা কোনো কিছুর সঙ্গে গভীরভাবে আবদ্ধ থাকা। কর্মসঙ্গী বলতে তাই কেবল কর্মরত মানুষকে বোঝানো হয়নি। বরং এমন মানুষকে বোঝানো হয়েছে যার চেতনা কর্ম এবং কর্মফলের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। কর্ম করা গীতার মতে বন্ধনের কারণ নয়। কর্মফলের প্রতি অন্ধ আসক্তিই বন্ধনের অন্যতম কারণ। একজন মানুষ কর্তব্যবোধ থেকে কর্ম করতে পারে এবং কর্মকে বৃহত্তর কল্যাণের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আবার অন্য একজন একই কর্ম করতে পারে কিন্তু তার সমস্ত মানসিক শান্তি নির্ভর করতে পারে সাফল্য, অর্থ, প্রশংসা কিংবা নিজের অর্জনের ওপর। দ্বিতীয় অবস্থাটিই রজসিক কর্মাসক্তির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

জায়তে শব্দটি সংস্কৃত জন্ ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ জন্ম নেওয়া, উৎপন্ন হওয়া বা প্রকাশিত হওয়া। রজসি প্রলয়ং গত্বা কর্মসঙ্গিষু জায়তে অর্থাৎ রজোগুণের প্রাধান্যে দেহত্যাগকারী জীব কর্মাসক্ত পরিবেশে জন্মগ্রহণ করে। প্রচলিত বৈদিক ব্যাখ্যায় এর অর্থ হলো পরবর্তী জন্ম এমন পরিবার, পরিবেশ বা জীবনের মধ্যে ঘটে যেখানে কর্মপ্রবণতা ও আকাঙ্ক্ষা প্রবল। কিন্তু এর একটি গভীর দার্শনিক অর্থও রয়েছে। মানুষের যে মানসিক সংস্কার প্রবল হয় সে তার উপযোগী পরিবেশ ও অভিজ্ঞতার দিকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ জীবনের অভ্যন্তরীণ প্রবণতা ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে।

এরপর শ্লোকে বলা হয়েছে তথা প্রলীনস্তমসি। এখানে তমসি শব্দটি তমস্ থেকে এসেছে। তমস্ অর্থ অন্ধকার। কিন্তু গীতার দর্শনে এই অন্ধকার বাহ্যিক অন্ধকার নয়। এটি জ্ঞানের অন্ধকার, চেতনার অন্ধকার এবং আত্মসচেতনতার অভাব। তমোগুণের মধ্যে অলসতা, জড়তা, মোহ, বিভ্রান্তি, অজ্ঞানতা, অবিবেচনা এবং নিষ্ক্রিয়তার প্রবণতা থাকে। রজঃ মানুষকে অতিরিক্ত কর্মের দিকে ঠেলে দেয় আর তমঃ মানুষকে জড়তা ও অজ্ঞতার দিকে নিয়ে যায়। রজসিক মানুষ অতিরিক্তভাবে কিছু অর্জন করতে চায় আর তমসিক মানুষ অনেক সময় নিজের কর্তব্য ও সত্য উপলব্ধির প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করতে পারে না।

প্রলীনঃ তমসি অর্থ তমোগুণে সম্পূর্ণভাবে লীন হয়ে থাকা। একজন মানুষের জীবন যদি দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞানতা, অলসতা, মোহ, দায়িত্বহীনতা এবং আত্মবিস্মৃতির মধ্যে অতিবাহিত হয় তবে সেই প্রবণতাগুলি তার চেতনায় গভীর সংস্কার তৈরি করতে পারে। মৃত্যুর সময় সেই সংস্কারই তার চেতনার গতিকে প্রভাবিত করে। এই কারণেই গীতার শিক্ষা কেবল মৃত্যুর মুহূর্তকে নিয়ে নয়। বরং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষ কীভাবে নিজের মনকে গঠন করছে সেই বিষয়টিই এখানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

মূঢ়যোনিষু শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মূঢ় অর্থ মোহগ্রস্ত, অজ্ঞ, বিভ্রান্ত বা চেতনাগতভাবে আচ্ছন্ন। যোনি অর্থ জন্মস্থান, উৎপত্তিস্থান বা অস্তিত্বের একটি নির্দিষ্ট স্তর। মূঢ়যোনি তাই এমন জন্ম বা অস্তিত্বের প্রতীক যেখানে জ্ঞান ও আত্মসচেতনতা অপেক্ষাকৃতভাবে আচ্ছন্ন এবং প্রবৃত্তির প্রাধান্য বেশি। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় এটি নিম্নতর জীবযোনি বা অজ্ঞানতাপূর্ণ জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। আবার অন্তর্মুখী দার্শনিক ব্যাখ্যায় বলা যায় যে একজন মানুষ শারীরিকভাবে মানবজন্ম লাভ করেও মানসিকভাবে মূঢ় অবস্থায় থাকতে পারে যদি তার চেতনা জ্ঞান, বিবেক এবং আত্মসচেতনতার আলো থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে।

এই শ্লোকের দার্শনিক তাৎপর্য সাংখ্য দর্শনের আলোকে আরও পরিষ্কার হয়। সাংখ্য দর্শনে সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ প্রকৃতির তিনটি মৌলিক গুণ। জীবাত্মা নিজে গুণাতীত হলেও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এই গুণগুলির প্রভাবে আবদ্ধ বলে মনে হয়। রজঃ জীবকে ক্রিয়া ও আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে আবদ্ধ করে এবং তমঃ তাকে অজ্ঞানতা ও জড়তার মাধ্যমে আবদ্ধ করে। এই গুণগুলির ওঠানামার মধ্যেই মানুষের মানসিক ও আচরণগত জগৎ গড়ে ওঠে। তাই গীতার শিক্ষা হলো গুণকে চিনতে শেখা এবং ধীরে ধীরে গুণের বন্ধন অতিক্রম করে আত্মস্বরূপ উপলব্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়া।

বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের তাৎপর্য আরও গভীর। আত্মা প্রকৃতপক্ষে জন্ম ও মৃত্যুর অতীত। জন্ম এবং মৃত্যু দেহ ও উপাধির স্তরে ঘটে। কিন্তু অবিদ্যার কারণে জীব নিজেকে দেহ, মন, ইন্দ্রিয় এবং কর্মের সঙ্গে একাত্ম মনে করে। ফলে কর্মের সংস্কার ও মানসিক প্রবণতা তাকে এক অস্তিত্ব থেকে অন্য অস্তিত্বের দিকে পরিচালিত করে। এই অর্থে পুনর্জন্ম শুধু দেহ পরিবর্তনের ধারণা নয়। এটি সংস্কার ও চেতনার ধারাবাহিকতারও একটি প্রকাশ।

শ্লোকটির একটি গভীর মনোবৈজ্ঞানিক তাৎপর্য রয়েছে। মানুষের অভ্যাস তার মনকে গঠন করে এবং মন আবার তার ভবিষ্যৎ আচরণকে পরিচালিত করে। যে ব্যক্তি প্রতিদিন সাফল্য, অর্থ, প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক স্বীকৃতির চিন্তা করে তার মধ্যে সেই প্রবণতা ক্রমশ শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে যে ব্যক্তি দীর্ঘদিন অলসতা, উদাসীনতা, অজ্ঞতা এবং বাস্তবতা থেকে পালিয়ে থাকার মধ্যে থাকে তার চেতনায় তমসিক প্রবণতা দৃঢ় হতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গীতার গুণতত্ত্ব মানুষের মানসিক প্রবণতার একটি প্রাচীন অথচ গভীর বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

রজঃকে একটি প্রবল নদীর স্রোতের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সেই স্রোত মানুষকে অবিরাম সামনে নিয়ে যায় কিন্তু সবসময় তাকে সঠিক গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায় না। তমঃ হলো ঘন কুয়াশার মতো যা মানুষের সামনে থাকা পথকে অস্পষ্ট করে দেয়। আর সত্ত্ব হলো নির্মল আলোর মতো যা পথকে স্পষ্ট করে এবং মানুষকে নিজের অবস্থান ও গন্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে। রজঃ মানুষের মধ্যে শক্তি সৃষ্টি করে কিন্তু সেই শক্তি যদি জ্ঞানের দ্বারা পরিচালিত না হয় তবে তা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তমঃ মানুষকে বিশ্রাম দিতে পারে কিন্তু অতিরিক্ত হলে তা জড়তা ও অজ্ঞতায় পরিণত হয়। সত্ত্ব চেতনার মধ্যে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য সৃষ্টি করে।

এই শ্লোকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো মানুষকে নিজের অন্তর্জগতের দিকে তাকাতে শেখানো। আমরা কী করছি তার পাশাপাশি কেন করছি সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কর্ম করছি কর্তব্যবোধ থেকে, নাকি ফলের প্রতি আসক্ত হয়ে। আমরা বিশ্রাম নিচ্ছি প্রয়োজনের কারণে, নাকি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য। আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি জ্ঞান ও বিবেকের আলোকে, নাকি মোহ ও অজ্ঞতার কারণে। এই প্রশ্নগুলিই মানুষের অন্তর্গত গুণের প্রকৃতি বুঝতে সাহায্য করে।

অতএব রজসি প্রলয়ং গত্বা কর্মসঙ্গিষু জায়তে এবং তথা প্রলীনস্তমসি মূঢ়যোনিষু জায়তে এই শ্লোকের মূল শিক্ষা হলো মানুষের ভবিষ্যৎ তার বর্তমান চেতনার মধ্যেই বীজরূপে নিহিত থাকে। আকাঙ্ক্ষা কর্মকে পরিচালিত করে, কর্ম মানসিক সংস্কার সৃষ্টি করে, সংস্কার চেতনাকে গঠন করে এবং সেই চেতনা ভবিষ্যৎ জীবনের গতিকে প্রভাবিত করে। রজঃ মানুষকে কর্ম ও আকাঙ্ক্ষার বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং তমঃ তাকে অজ্ঞানতা ও জড়তার অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। তাই গীতার সাধনা কর্ম পরিত্যাগের শিক্ষা নয় এবং জগত থেকে পালিয়ে যাওয়ার শিক্ষাও নয়। বরং কর্মের মধ্যে থেকেও আসক্তি অতিক্রম করা, অজ্ঞানতার পরিবর্তে জ্ঞানকে গ্রহণ করা এবং অস্থিরতার পরিবর্তে অন্তরের স্বচ্ছতা অর্জন করাই এর প্রকৃত শিক্ষা। মানুষ যখন নিজের কর্মকে শুদ্ধ করে, নিজের আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করে, অজ্ঞানতার আবরণ সরিয়ে আত্মসচেতনতার দিকে অগ্রসর হয় তখন তার চেতনা ক্রমশ উচ্চতর স্তরের দিকে বিকশিত হয়। এইভাবেই শ্লোকটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানুষের প্রকৃত যাত্রা বাহ্যিক পৃথিবী জয় করার যাত্রা নয়। মানুষের প্রকৃত যাত্রা হলো নিজের চেতনাকে পরিশুদ্ধ করে সেই অন্তর্গত সত্যকে উপলব্ধি করা যেখানে রজসিক অস্থিরতা ও তামসিক অন্ধকারের ঊর্ধ্বে আত্মার স্বচ্ছ, শান্ত এবং মুক্ত স্বরূপ প্রকাশিত হয়।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 23, 2026 August 23, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি