সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৪.১৭ — সত্ত্ব থেকে জ্ঞান, রজস থেকে লোভ এবং তমস থেকে অজ্ঞান

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানং রজসো লোভ এব চ। প্রমাদমোহৌ তমসো ভবতোহজ্ঞানমেব চ।।১৭।।
সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানং রজসো লোভ এব চ। 
প্রমাদমোহৌ তমসো ভবতোহজ্ঞানমেব চ।।১৭।।

অনুবাদঃ সত্ত্বগুণ থেকে জ্ঞান, রজোগুণ থেকে লোভ এবং তমোগুণ থেকে অজ্ঞান, প্রমাদ ও মোহ উৎপন্ন হয়।

ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের সপ্তদশ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের অন্তর্জগতের এক গভীর সত্যকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী ভাষায় প্রকাশ করেছেন। শ্লোকটি হলো সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানং রজসো লোভ এব চ। প্রমাদমোহৌ তমসো ভবতোহজ্ঞানমেব চ।। অর্থাৎ সত্ত্ব থেকে জ্ঞানের উদ্ভব হয়, রজস থেকে লোভের সৃষ্টি হয় এবং তমস থেকে প্রমাদ, মোহ ও অজ্ঞানের প্রকাশ ঘটে। এই শ্লোকের মধ্যে মানুষের মানসিক প্রকৃতি, চেতনার বিভিন্ন স্তর, আকাঙ্ক্ষার স্বরূপ, বিভ্রান্তির কারণ এবং জ্ঞানের উদ্ভব সম্পর্কে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা নিহিত রয়েছে। এটি কেবল ধর্মীয় উপদেশ নয়, মানুষের নিজের মনকে বোঝার একটি সূক্ষ্ম আয়নাও বটে।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো সত্ত্বাৎ। সত্ত্ব শব্দটি সংস্কৃত সত্ত্ব থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে অস্তিত্ব, সত্যতা, স্বচ্ছতা, পবিত্রতা ও সামঞ্জস্যের ধারণা যুক্ত। সাংখ্য দর্শন এবং ভগবদ্গীতার ত্রিগুণ তত্ত্বে সত্ত্ব প্রকৃতির এমন একটি গুণ যা চেতনাকে নির্মল, শান্ত, স্থির ও আলোকিত করে। সত্ত্বের উপস্থিতিতে মানুষের মন অতিরিক্ত অস্থিরতা ও জড়তার প্রভাব থেকে কিছুটা মুক্ত হয়। ফলে বাস্তবতাকে পরিষ্কারভাবে দেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এখানে সত্ত্ব বলতে শুধু ভালো চরিত্র বা নৈতিকতার ধারণা বোঝানো হয় না। এর গভীর অর্থ হলো চেতনার এমন এক স্বচ্ছ অবস্থা যেখানে সত্যকে উপলব্ধি করার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এরপর এসেছে সংজায়তে শব্দটি। এই শব্দটি সংস্কৃত সম্ এবং জন ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। এর অর্থ জন্মায়, উৎপন্ন হয়, প্রকাশিত হয় বা উদ্ভূত হয়। শ্রীকৃষ্ণ যখন বলেন সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানম্ তখন তার অর্থ কেবল এই নয় যে সত্ত্ব বাইরে থেকে জ্ঞান এনে দেয়। বরং সত্ত্ব মানুষের অন্তরকে এমনভাবে নির্মল করে যে তার মধ্যে সুপ্ত জ্ঞান প্রকাশিত হতে পারে। যেমন স্বচ্ছ জলে আকাশের প্রতিবিম্ব পরিষ্কার দেখা যায়, তেমনি নির্মল মনে সত্যের উপলব্ধি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এখানে জ্ঞানকে কোনো বাহ্যিক বস্তু হিসেবে নয়, চেতনার স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পর্কিত এক গভীর উপলব্ধি হিসেবে দেখা হয়েছে।

জ্ঞান শব্দটি এসেছে সংস্কৃত জ্ঞা ধাতু থেকে যার অর্থ জানা, উপলব্ধি করা, চিনতে পারা এবং সত্যকে অবগত হওয়া। সাধারণ অর্থে জ্ঞান বলতে কোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য বা ধারণাকে বোঝানো হয়। কিন্তু গীতার প্রেক্ষাপটে জ্ঞান তার চেয়ে অনেক গভীর। এখানে জ্ঞান হলো বাস্তবতার প্রকৃতি সম্পর্কে যথার্থ উপলব্ধি। নিজের প্রকৃতি, জগতের প্রকৃতি, কর্মের প্রকৃতি এবং জীবনের গভীর সত্য সম্পর্কে যে স্বচ্ছ বোধ মানুষের মধ্যে জন্মায় সেটিই জ্ঞানের উচ্চতর অর্থ। তাই সত্ত্ব যখন বৃদ্ধি পায় তখন মানুষের মধ্যে শুধু তথ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় না, বরং সত্যকে সঠিকভাবে দেখার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

এর বিপরীতে শ্লোকে এসেছে রজসো শব্দটি। এটি রজস শব্দ থেকে এসেছে এবং সন্ধির কারণে রজসো রূপ ধারণ করেছে। রজসের সঙ্গে গতি, কর্ম, উত্তেজনা, আকাঙ্ক্ষা, অস্থিরতা এবং অর্জনের প্রবল ইচ্ছা জড়িত। রজোগুণ মানুষকে ক্রিয়াশীল করে। মানুষের উদ্যোগ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কর্মস্পৃহা এবং সৃষ্টিশীলতার মধ্যেও রজসের ভূমিকা থাকতে পারে। তাই রজসকে কেবল নেতিবাচক হিসেবে দেখলে গীতার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায় না। কিন্তু যখন কর্মের সঙ্গে প্রবল আসক্তি এবং ফল পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যুক্ত হয় তখন সেই রজস মানুষের মধ্যে লোভের জন্ম দিতে পারে।

লোভ শব্দটি এই শ্লোকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। লোভ হলো প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে আরও পাওয়ার অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা। প্রয়োজন এবং লোভ এক নয়। প্রয়োজন পূরণ হলে মানুষ থামতে পারে, কিন্তু লোভ সাধারণত পূরণের পরও নতুন আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করে। মানুষ যা পেয়েছে তার মূল্য উপলব্ধি না করে আরও বেশি পাওয়ার দিকে ছুটতে থাকে। অর্থ, ক্ষমতা, খ্যাতি, ভোগ, সম্মান অথবা অন্য যেকোনো কিছুর ক্ষেত্রে এই প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই রজসের অন্তর্নিহিত অস্থিরতা যখন অধিক পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয় তখন তা লোভের রূপ ধারণ করে।

শ্লোকের পরবর্তী অংশে এসেছে প্রমাদমোহৌ। প্রমাদ শব্দের মধ্যে অসতর্কতা, অবহেলা, কর্তব্য সম্পর্কে শৈথিল্য এবং সচেতনতার অভাবের ধারণা রয়েছে। প্রমাদ শুধু ভুল করা নয়। ভুলের পেছনে যে অসতর্কতা এবং চেতনার দুর্বলতা কাজ করে সেটিই প্রমাদের মূল বৈশিষ্ট্য। একজন মানুষ কোনো কাজের ক্ষতিকর ফল জানার পরও যদি অসচেতনতার কারণে সেই কাজ করে যেতে থাকে তবে তার মধ্যে প্রমাদের প্রবণতা দেখা যায়। অর্থাৎ প্রমাদ হলো সচেতনতার আলো থেকে দূরে সরে যাওয়া।

মোহ শব্দটি সংস্কৃত মুহ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর অর্থ বিভ্রান্তি, বিমূঢ়তা অথবা বাস্তবতাকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে না পারা। মোহের কারণে মানুষ অনিত্যকে নিত্য মনে করতে পারে, ক্ষণস্থায়ীকে স্থায়ী বলে ধরে নিতে পারে এবং নিজের নয় এমন কিছুকেও নিজের বলে আঁকড়ে ধরতে পারে। ভালোবাসা নিজে মোহ নয়। কিন্তু যখন ভালোবাসা এমন অন্ধ আসক্তিতে পরিণত হয় যে মানুষ সত্য, কর্তব্য এবং বাস্তবতাকে দেখতে অস্বীকার করে তখন সেই আসক্তি মোহে পরিণত হতে পারে। এই কারণে মোহ হলো শুধু আবেগ নয়, বরং বাস্তবতাকে ভুলভাবে উপলব্ধি করার একটি মানসিক অবস্থা।

এরপর এসেছে তমসো শব্দটি। তমস শব্দের আক্ষরিক অর্থ অন্ধকার। কিন্তু গীতার দর্শনে এই অন্ধকার কেবল বাহ্যিক অন্ধকার নয়। এটি চেতনার অন্ধকার। জড়তা, অলসতা, অচেতনতা, বিভ্রান্তি, উদাসীনতা এবং সত্য উপলব্ধির অক্ষমতা তমসের বিভিন্ন প্রকাশ। আলো যেমন কোনো বস্তুকে স্পষ্ট করে তোলে, তেমনি সত্ত্ব চেতনাকে স্বচ্ছ করে। আবার অন্ধকার যেমন সামনে থাকা বস্তুকে আড়াল করে, তেমনি তমস মানুষের সামনে থাকা সত্যকেও আচ্ছাদিত করে।

অজ্ঞানম্ শব্দটি গঠিত হয়েছে অ এবং জ্ঞান থেকে। অ এখানে নিষেধ বা অনুপস্থিতির ধারণা প্রকাশ করে। তাই অজ্ঞান অর্থ জ্ঞানের অনুপস্থিতি। কিন্তু গীতার দার্শনিক প্রেক্ষাপটে অজ্ঞান কেবল কোনো তথ্য না জানা নয়। মানুষ অনেক তথ্য জানলেও নিজের প্রকৃতি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকতে পারে। সে জীবনের অনিত্যতা বুঝতে না পারে, নিজের কর্মের প্রকৃতি উপলব্ধি না করতে পারে অথবা বাহ্যিক পরিচয়কেই নিজের সম্পূর্ণ সত্তা বলে মনে করতে পারে। এই গভীর আত্মবিস্মৃতিই অজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ।

শ্লোকটির মধ্যে তিনটি গুণ এবং তাদের ফলের একটি সুস্পষ্ট সম্পর্ক প্রকাশ পেয়েছে। সত্ত্বের সঙ্গে জ্ঞানের সম্পর্ক, রজসের সঙ্গে লোভের সম্পর্ক এবং তমসের সঙ্গে প্রমাদ, মোহ ও অজ্ঞানের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। এখানে মানুষের আচরণের চেয়ে তার চেতনার অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাহ্যিকভাবে একজন মানুষ একই কাজ করলেও তার অন্তরের উদ্দেশ্য ও মানসিক অবস্থা ভিন্ন হতে পারে। একজন ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কাজ করতে পারে, আরেকজন একই কাজ করতে পারে শুধু অন্যকে পরাজিত করার জন্য। কাজ একই হলেও অন্তর্গত গুণের প্রকাশ এক নয়।

এই শিক্ষাকে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীরভাবে বোঝা যায়। যখন মানুষের মন শান্ত, স্থির এবং মনোযোগী থাকে তখন সে কোনো বিষয়কে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কারভাবে দেখতে পারে। এই অবস্থার সঙ্গে সত্ত্বের ধারণার মিল রয়েছে। যখন মন ক্রমাগত লক্ষ্য, প্রতিযোগিতা, অর্জন এবং সাফল্যের চিন্তায় ব্যস্ত থাকে তখন তার মধ্যে অস্থিরতা বাড়ে এবং আরও পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে। এটি রজসের সঙ্গে তুলনীয়। আবার যখন মানুষ উদাসীন, অলস, বিভ্রান্ত বা বাস্তবতার মুখোমুখি হতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়ে তখন তার বিচারশক্তি দুর্বল হতে পারে। এই অবস্থার সঙ্গে তমসের ধারণার মিল দেখা যায়।

একটি সহজ উপমার মাধ্যমে বিষয়টি বোঝা যায়। মানুষের মনকে যদি একটি আয়নার সঙ্গে তুলনা করা হয় তবে সত্ত্ব হলো পরিষ্কার আয়না, রজস হলো ক্রমাগত কাঁপতে থাকা আয়না এবং তমস হলো ধুলায় ঢাকা আয়না। পরিষ্কার আয়নায় বাস্তবতার প্রতিবিম্ব স্পষ্ট দেখা যায়। কাঁপতে থাকা আয়নায় প্রতিবিম্ব থাকলেও তা স্থির থাকে না। আর ধুলায় ঢাকা আয়নায় প্রতিবিম্ব উপস্থিত থাকলেও তা স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। ঠিক তেমনি সত্ত্বের স্বচ্ছতায় জ্ঞান প্রকাশিত হয়, রজসের অস্থিরতায় আকাঙ্ক্ষা ও লোভ বৃদ্ধি পায় এবং তমসের আবরণে প্রমাদ, মোহ ও অজ্ঞান শক্তিশালী হয়।

এই শ্লোকের একটি বিশেষ দার্শনিক গুরুত্ব হলো এটি মানুষকে নিজের মানসিক অবস্থার পর্যবেক্ষক হতে শেখায়। কোনো মানুষকে চিরস্থায়ীভাবে সত্ত্বিক, রাজসিক বা তামসিক বলে চিহ্নিত করা এখানে মূল উদ্দেশ্য নয়। কারণ মানুষের মধ্যে তিনটি গুণই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাত্রায় কাজ করতে পারে। কোনো সময়ে মন জ্ঞান ও শান্তির দিকে আকৃষ্ট হতে পারে, কোনো সময়ে কর্ম ও আকাঙ্ক্ষায় অস্থির হতে পারে এবং কোনো সময়ে জড়তা ও উদাসীনতার মধ্যে ডুবে যেতে পারে। তাই এই শ্লোক অন্যকে বিচার করার জন্য নয়, নিজেকে জানার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্লোকটির শিক্ষা আরও গভীর। সত্ত্ব রজস ও তমসের তুলনায় উচ্চতর এবং স্বচ্ছ হলেও সত্ত্বও প্রকৃতির একটি গুণ। তাই আধ্যাত্মিক যাত্রার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য শুধু তমস থেকে বেরিয়ে রজসে যাওয়া বা রজস থেকে সত্ত্বে ওঠা নয়। গীতার বৃহত্তর শিক্ষায় শেষ পর্যন্ত তিন গুণের ঊর্ধ্বে ওঠার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সত্ত্ব হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর, কিন্তু আত্মস্বরূপ উপলব্ধির চূড়ান্ত অবস্থায় মানুষ গুণত্রয়ের সীমাকেও অতিক্রম করে।

সাহিত্য ও সংস্কৃতির দৃষ্টিতেও এই শ্লোক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের চরিত্রের মধ্যে জ্ঞান অনুসন্ধান, আকাঙ্ক্ষা এবং অজ্ঞতার যে সংঘাত দেখা যায় তা বিভিন্ন যুগের সাহিত্য ও দর্শনে নানা রূপে প্রকাশ পেয়েছে। সত্য সন্ধানী চরিত্রের মধ্যে সত্ত্বের প্রতীকী প্রকাশ দেখা যায়। ক্ষমতা, সম্পদ, খ্যাতি ও অর্জনের জন্য অস্থির চরিত্রের মধ্যে রজসের প্রবণতা দেখা যেতে পারে। আর যে চরিত্র বাস্তবতাকে অস্বীকার করে, নিজের ভুল দেখতে পায় না অথবা জড়তা ও বিভ্রান্তির মধ্যে বন্দী থাকে তার মধ্যে তমসের প্রতীকী প্রকাশ লক্ষ করা যায়।

এই শ্লোকের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো মানুষের বাহ্যিক জগতের পরিবর্তনের আগে তার অন্তর্জগতের প্রকৃতি বোঝা দরকার। মানুষ কীভাবে চিন্তা করে, কেন কিছু পেতে চায়, কেন পাওয়ার পরও তৃপ্ত হয় না, কেন কখনও সত্যকে স্পষ্টভাবে দেখতে পারে না এবং কেন কখনও নিজের ক্ষতিকর আচরণ সম্পর্কে সচেতন থেকেও তা পরিবর্তন করতে পারে না, এই শ্লোক তার গভীরে প্রবেশ করার একটি পথ দেখায়। জ্ঞান কেবল তথ্যের সঞ্চয় নয়, চেতনার স্বচ্ছতারও ফল। লোভ কেবল অর্থের প্রতি আকর্ষণ নয়, অতৃপ্ত অর্জনের মানসিক প্রবণতা। মোহ কেবল আবেগ নয়, বাস্তবতাকে বিকৃতভাবে আঁকড়ে ধরার প্রবণতা। আর অজ্ঞান কেবল না জানা নয়, নিজের প্রকৃত স্বরূপ ও জীবনের গভীর সত্য সম্পর্কে অচেতন থাকা।

সবকিছু মিলিয়ে ভগবদ্গীতার এই শ্লোক মানুষের অন্তর্জগতের এক অনন্ত সত্যকে প্রকাশ করে। সত্ত্ব যখন চেতনাকে নির্মল করে তখন জ্ঞান প্রকাশিত হয়। রজস যখন আকাঙ্ক্ষাকে অস্থির করে তখন লোভের জন্ম হয়। তমস যখন চেতনাকে আচ্ছন্ন করে তখন প্রমাদ, মোহ এবং অজ্ঞান মানুষের জীবনকে আবৃত করে। তাই এই শ্লোক কেবল তিনটি গুণের ফলাফল ব্যাখ্যা করে না, বরং মানুষকে নিজের মনকে দেখতে শেখায়। আমাদের মধ্যে কোন প্রবণতা বর্তমানে সক্রিয়, আমাদের আকাঙ্ক্ষা কোথা থেকে আসছে, আমাদের বিচার কেন কখনও পরিষ্কার আর কখনও বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং আমাদের চেতনা কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এই প্রশ্নগুলোর দিকে ফিরে তাকানোর আহ্বান জানায় এই শ্লোক। শেষ পর্যন্ত এর গভীর শিক্ষা হলো চেতনার স্বচ্ছতা যত বাড়ে সত্য তত স্পষ্ট হয় এবং মানুষ যত নিজের অন্তর্জগতকে চিনতে শেখে ততই অজ্ঞান, মোহ ও অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে নিজের গভীরতর সত্যের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 23, 2026 August 23, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি