ভগবদ্গীতা ১৪.২৫ — মান-অপমানে সমভাব, মিত্র-শত্রুতে সমদৃষ্টি ও গুণাতীত অবস্থার পরিচয়
মানাপমানয়োস্তুল্যস্তুল্যো মিত্রারিপক্ষয়োঃ।
সর্বারম্ভপরিত্যাগী গুণাতীতঃ স উচ্যতে।।২৫।।
অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে পান্ডব! যিনি প্রকাশ, প্রবৃত্তি ও মোহ আবির্ভূত হলে দ্বেষ করেন না এবং সেগুলি নিবৃত্ত হলেও আকাঙ্ক্ষা করেন না; যিনি উদাসীনের মতো অবস্থিত থেকে গুণসমূহের দ্বারা বিচলিত হন না, কিন্তু গুণসমূহ স্বীয় কার্যে প্রবৃত্ত হয়, এভাবেই জেনে অবস্থান করেন এবং তার দ্বারা চঞ্চলতা প্রাপ্ত হন না; যিনি আত্মস্বরূপে অবস্থিত এব্ং সুখ ও দুঃখে সম-ভাবাপন্ন; যিনি মাটির ঢেলা, পাথর ও স্বর্ণে সমদৃষ্টি-সম্পন্ন; যিনি প্রিয় ও অপ্রিয় বিষয়ে সম-ভাবাপন্ন; যিনি ধৈর্যশীল এবং নিন্দা, স্তুতি, মান ও অপমানে সম-ভাবাপন্ন; যিনি শত্রু ও মিত্র উভয়ের প্রতি সমভাব-সম্পন্ন এবং যিনি সমস্ত কর্মোদ্যম পরিত্যাগী- তিনিই গুণাতীত বলে কথিত হন।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের পঁচিশতম শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গুণাতীত মানুষের এক গভীর ও মহৎ পরিচয় তুলে ধরেছেন। শ্লোকটি হলো মানাপমানয়োস্তুল্যস্তুল্যো মিত্রারিপক্ষয়োঃ সর্বারম্ভপরিত্যাগী গুণাতীতঃ স উচ্যতে। অর্থাৎ যিনি মান ও অপমানকে সমানভাবে গ্রহণ করেন, বন্ধু ও শত্রুর পক্ষের প্রতিও সমদৃষ্টি রাখেন এবং সকল আসক্তিমূলক আরম্ভ বা অহংকারজাত কর্মপ্রবণতা পরিত্যাগ করেছেন, তাকেই গুণাতীত বলা হয়। এই সংক্ষিপ্ত শ্লোকের মধ্যে মানুষের মানসিক স্বাধীনতা, আত্মসংযম, সমদৃষ্টি, অহংকারমুক্ত কর্ম এবং আত্মজ্ঞান সম্পর্কে এক গভীর আধ্যাত্মিক দর্শন নিহিত রয়েছে।
মানাপমানয়োঃ শব্দের মধ্যে মান ও অপমান এই দুই বিপরীত অভিজ্ঞতা একত্রে এসেছে। মান অর্থ সম্মান, মর্যাদা, স্বীকৃতি এবং অন্যের চোখে নিজের মূল্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া। অপমান অর্থ অসম্মান, অবজ্ঞা, মর্যাদাহানি অথবা নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক মূল্যায়নের অভিজ্ঞতা। সাধারণ মানুষের মন এই দুইয়ের দ্বারা অত্যন্ত সহজে প্রভাবিত হয়। প্রশংসা পেলে মন আনন্দিত হয় এবং অপমান পেলে দুঃখ, ক্রোধ, লজ্জা অথবা প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। ফলে মানুষের মানসিক শান্তি নিজের হাতে থাকে না। অন্য মানুষের প্রশংসা তাকে আনন্দ দেয় এবং অন্যের নিন্দা তাকে অশান্ত করে। গীতার শিক্ষা হলো প্রকৃত আত্মমর্যাদা এমন হওয়া উচিত যা অন্যের প্রশংসা বা নিন্দার ওপর নির্ভরশীল নয়। গুণাতীত ব্যক্তি সম্মান পেলে অহংকারে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন না এবং অপমানিত হলেও নিজের অন্তর্নিহিত মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা হারান না।
তুল্য শব্দটি এই শ্লোকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। তুল্য অর্থ সমান, সমপর্যায়ের অথবা পক্ষপাতহীন। কিন্তু এখানে সমান বলতে বাহ্যিকভাবে সবকিছুকে অভিন্ন বলে মনে করা বোঝানো হয়নি। সম্মান ও অপমান বাস্তব জীবনে একই অভিজ্ঞতা নয় এবং বন্ধুও শত্রুর মতো নয়। বরং তুল্যতা বলতে বোঝানো হয়েছে অন্তরের স্থিরতা। সম্মান যেমন তার অহংকারকে অতিরিক্ত বাড়িয়ে তুলবে না, তেমনি অপমানও তার অন্তরকে ভেঙে দিতে পারবে না। এই সমতা অনুভূতিহীনতা নয়। এটি অনুভূতির ওপর আত্মসচেতনতার অধিকার প্রতিষ্ঠা। মানুষ অনুভব করবে, কিন্তু অনুভূতির দ্বারা সম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হবে না। এই অবস্থাই প্রকৃত মানসিক পরিপক্বতার পরিচয়।
মিত্রারিপক্ষয়োঃ শব্দের মধ্যে মিত্র এবং অরি এই দুটি বিপরীত ধারণা রয়েছে। মিত্র হলো বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী অথবা আপনজন এবং অরি হলো শত্রু বা বিরোধী। মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হলো নিজের আপনজনের প্রতি পক্ষপাত দেখানো এবং বিরোধী ব্যক্তির প্রতি কঠোর হওয়া। বন্ধুর ভুলকে সে অনেক সময় সহজে ক্ষমা করে দেয় অথচ শত্রুর একই ভুলকে বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। গীতার সমদৃষ্টির শিক্ষা এই ব্যক্তিগত পক্ষপাতকে অতিক্রম করার আহ্বান জানায়। এর অর্থ এই নয় যে বন্ধু ও শত্রুর আচরণে কোনো পার্থক্য নেই অথবা ন্যায় ও অন্যায়কে একইভাবে গ্রহণ করতে হবে। বরং এর অর্থ হলো বিচার করার সময় ব্যক্তিগত আসক্তি ও বিদ্বেষ যেন সত্যকে আচ্ছন্ন না করে। যে ব্যক্তি বন্ধুর প্রতি অন্ধ আসক্ত এবং শত্রুর প্রতি অন্ধ বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হয়ে সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে বিচার করতে পারেন, তার মধ্যেই সমদৃষ্টির বিকাশ ঘটে।
সর্বারম্ভপরিত্যাগী শব্দটি শ্লোকটির অন্যতম গভীর তাৎপর্য বহন করে। সর্ব অর্থ সমস্ত, আরম্ভ অর্থ উদ্যোগ বা কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কর্মে প্রবৃত্ত হওয়া এবং পরিত্যাগী অর্থ ত্যাগকারী। আক্ষরিক অর্থে এটি সমস্ত আরম্ভ ত্যাগকারীকে বোঝালেও গীতার বৃহত্তর দর্শনের আলোকে এর অর্থ কর্মবিমুখতা নয়। মানুষ যেন কোনো কাজ না করে বা জীবনের দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যায়, এমন শিক্ষা এখানে দেওয়া হয়নি। বরং ব্যক্তিগত অহংকার, কামনা, লাভের আকাঙ্ক্ষা, প্রতিপত্তির বাসনা এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যে কর্মপ্রবণতা সৃষ্টি হয়, সেই আসক্তিমূলক আরম্ভ ত্যাগ করাই এখানে মূল শিক্ষা। গীতার কর্মযোগের সঙ্গে এই ধারণার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গুণাতীত ব্যক্তি কাজ করেন কিন্তু কর্মের ফলের দ্বারা নিজের অস্তিত্বের মূল্য নির্ধারণ করেন না। তিনি কর্তব্য পালন করেন কিন্তু নিজের অহংকারকে কর্মের কেন্দ্র বানান না।
গুণাতীত শব্দের মধ্যেই এই শ্লোকের চূড়ান্ত দর্শন নিহিত রয়েছে। গুণ অর্থ প্রকৃতির মৌলিক প্রবণতা এবং অতীত অর্থ অতিক্রম করা। গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ে সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ নামে প্রকৃতির তিন গুণের কথা বলা হয়েছে। সত্ত্ব জ্ঞান, স্বচ্ছতা ও শান্তির সঙ্গে যুক্ত। রজঃ আকাঙ্ক্ষা, অস্থিরতা, কর্মচাঞ্চল্য ও ফললিপ্সার সঙ্গে যুক্ত। তমঃ অজ্ঞান, জড়তা, মোহ ও অবিবেকের সঙ্গে যুক্ত। সাধারণ মানুষ কখনো সত্ত্বের প্রভাবে শান্ত ও জ্ঞানময় হয়, কখনো রজঃ দ্বারা আকাঙ্ক্ষা ও অস্থিরতায় আক্রান্ত হয় এবং কখনো তমঃ দ্বারা অলসতা ও মোহে আচ্ছন্ন হয়। কিন্তু গুণাতীত ব্যক্তি ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেন যে এই সমস্ত পরিবর্তনশীল মানসিক অবস্থা তার চূড়ান্ত আত্মপরিচয় নয়। তিনি নিজের মধ্যে এমন এক চৈতন্যকে উপলব্ধি করেন যা এই পরিবর্তনগুলোর সাক্ষী।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে গুণাতীততা মানুষের গভীরতম স্বাধীনতার প্রতীক। যে ব্যক্তি নিজের সুখের জন্য অন্যের প্রশংসার ওপর নির্ভরশীল, সে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন নয়। যে ব্যক্তি নিজের শান্তির জন্য শত্রুর আচরণ পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকে, সেও স্বাধীন নয়। যে ব্যক্তি নিজের মূল্যকে সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে পরিমাপ করেন, তার আত্মপরিচয় অন্য মানুষের হাতে বন্দী। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজের অন্তর্নিহিত সত্তার মূল্য উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ধীরে ধীরে বাহ্যিক মূল্যায়নের দাসত্ব থেকে মুক্ত হন। তার কাছে সম্মান আনন্দদায়ক হতে পারে কিন্তু অপরিহার্য নয়। অপমান কষ্টদায়ক হতে পারে কিন্তু তার অস্তিত্বের ভিত্তি ধ্বংস করতে পারে না।
এই শিক্ষা আধুনিক জীবনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়ে মানুষের আত্মপরিচয় অনেকাংশে অন্যের মতামতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতজন প্রশংসা করল, কতজন সমর্থন করল, কতজন সমালোচনা করল অথবা কতজন প্রত্যাখ্যান করল, এসব বিষয় অনেকের মানসিক অবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই পরিস্থিতিতে মান ও অপমানের ক্ষেত্রে সমতার শিক্ষা মানুষের অন্তর্গত স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে পারে। প্রশংসা গ্রহণ করা যায় কিন্তু প্রশংসার ওপর নিজের আত্মমূল্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন নেই। সমালোচনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় কিন্তু সমালোচনার কারণে নিজের অস্তিত্বকে তুচ্ছ মনে করারও প্রয়োজন নেই।
এই শ্লোকের মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্যও অত্যন্ত গভীর। মানুষের মন সাধারণত আকর্ষণ ও বিকর্ষণের মধ্যে দোলায়মান থাকে। যা ভালো লাগে তাকে আঁকড়ে ধরতে চায় এবং যা অপছন্দ করে তাকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়। বন্ধু আকর্ষণের ক্ষেত্র এবং শত্রু বিকর্ষণের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। সম্মান আকর্ষণ সৃষ্টি করে এবং অপমান বিকর্ষণ সৃষ্টি করে। এই আকর্ষণ ও বিকর্ষণের কারণেই মন অস্থির থাকে। গুণাতীত ব্যক্তি এই প্রবণতাগুলোকে দমন করেন না বরং তাদের প্রকৃতি বুঝতে শেখেন। তিনি অনুভূতিকে প্রত্যক্ষ করেন এবং অনুভূতির সঙ্গে নিজের প্রকৃত সত্তাকে এক করে দেখেন না। ফলে তার মধ্যে ধীরে ধীরে এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও মানসিক স্থিরতা জন্ম নেয়।
বাস্তব জীবনে একজন প্রকৃত শিক্ষকের উদাহরণ এখানে বিশেষভাবে অর্থপূর্ণ। একজন শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের প্রশংসায় অতিরিক্ত অহংকারী না হন এবং সমালোচনায় নিজের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত না হন, তাহলে তিনি মান ও অপমানের ক্ষেত্রে সমতার একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। একইভাবে একজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক যদি পরিচিত মানুষের অপরাধকে ক্ষমা না করেন এবং অপরিচিত বা বিরোধী মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে বিচার না করেন, তাহলে তার মধ্যে মিত্র ও অরির প্রতি সমদৃষ্টির প্রকাশ ঘটে। আবার একজন কর্মী যদি কেবল পদোন্নতি, অর্থ বা প্রশংসার জন্য কাজ না করে নিজের কর্তব্যকে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন এবং ফলকে অহংকারের ভিত্তি না বানান, তাহলে তার কর্মের মধ্যে সর্বারম্ভপরিত্যাগীর ভাব প্রকাশ পায়।
দার্শনিক দৃষ্টিতে এই শ্লোক মানুষের আত্মপরিচয়ের একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে। আমি কে। আমি কি কেবল সেই ব্যক্তি যাকে অন্যরা প্রশংসা করে অথবা নিন্দা করে। আমি কি আমার সাফল্য, ব্যর্থতা, সামাজিক অবস্থান, সম্পদ, সম্পর্ক এবং মানসিক অবস্থার সমষ্টি। গীতার উত্তর হলো মানুষের প্রকৃত সত্তা এর চেয়েও গভীর। দেহ পরিবর্তিত হয়, মন পরিবর্তিত হয়, অনুভূতি পরিবর্তিত হয়, সামাজিক পরিচয় পরিবর্তিত হয় এবং জীবনের পরিস্থিতিও পরিবর্তিত হয়। কিন্তু এই সমস্ত পরিবর্তনকে যে চৈতন্য প্রত্যক্ষ করে, সেই আত্মস্বরূপের উপলব্ধিই গুণাতীততার দিকে নিয়ে যায়। তাই গুণাতীততা কোনো বাহ্যিক পোশাক বা সামাজিক পরিচয় নয়। এটি চেতনার একটি গভীর রূপান্তর।
সাহিত্যিক ও প্রতীকী অর্থেও এই শ্লোক অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মান মানুষের অহংকারের প্রতীক এবং অপমান সেই অহংকারে আঘাতের প্রতীক। মিত্র ব্যক্তিগত আসক্তির প্রতীক এবং অরি বিদ্বেষের প্রতীক। সর্বারম্ভ মানুষের অসংখ্য অহংকেন্দ্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এবং গুণাতীত সেই চেতনার প্রতীক যা আকর্ষণ ও বিকর্ষণ, লাভ ও ক্ষতি, সম্মান ও অপমানের দ্বন্দ্বকে অতিক্রম করে। এই অর্থে শ্লোকটি মানুষের অন্তরে একটি নীরব রাজ্য প্রতিষ্ঠার কথা বলে। বাইরের পৃথিবীকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু নিজের প্রতিক্রিয়াকে সচেতনভাবে পরিচালিত করা সম্ভব। এই অন্তর্গত সাম্যই মানুষের প্রকৃত শক্তি।
সুতরাং মানাপমানয়োস্তুল্যস্তুল্যো মিত্রারিপক্ষয়োঃ সর্বারম্ভপরিত্যাগী গুণাতীতঃ স উচ্যতে শ্লোকটি মূলত মানুষের বাহ্যিক জীবনকে নয়, তার অন্তর্জগতকে রূপান্তরিত করার শিক্ষা দেয়। এখানে সম্মান ও অপমানের ঊর্ধ্বে ওঠা মানে মানুষের মতামতকে অস্বীকার করা নয়, বরং নিজের আত্মমূল্যকে তাদের হাতে সমর্পণ না করা। বন্ধু ও শত্রুর ক্ষেত্রে সমদৃষ্টি মানে ভালো মন্দের পার্থক্য ভুলে যাওয়া নয়, বরং আসক্তি ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যকে দেখা। সর্বারম্ভপরিত্যাগ মানে কর্ম ত্যাগ নয়, বরং অহংকার ও ফলাসক্তি থেকে কর্মকে মুক্ত করা। আর গুণাতীততা হলো এমন এক আত্মিক অবস্থায় পৌঁছানো যেখানে প্রকৃতির পরিবর্তনশীল গুণসমূহ মানুষের চৈতন্যকে আর সহজে আবদ্ধ করতে পারে না। এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণের এই শিক্ষা কেবল প্রাচীন আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য নয়, আধুনিক মানুষের মানসিক শান্তি, নৈতিক বিচার, আত্মমর্যাদা এবং অন্তর্গত স্বাধীনতার জন্যও এক অনন্ত প্রাসঙ্গিক সত্য। যে মানুষ সম্মানে উন্মত্ত হয় না, অপমানে ভেঙে পড়ে না, বন্ধুত্বে অন্ধ হয় না, শত্রুতায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয় না এবং কর্মের ফলের মধ্যে নিজের অস্তিত্বের চূড়ান্ত মূল্য খোঁজে না, সে ধীরে ধীরে নিজের অন্তরের সেই স্বাধীন চৈতন্যকে উপলব্ধি করতে শুরু করে যাকে গীতা গুণাতীততার মহত্তম অবস্থান হিসেবে নির্দেশ করেছে।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!