ভগবদ্গীতা ১৪.২৭ — ব্রহ্ম, অমৃত, শাশ্বত ধর্ম ও একান্তিক সুখের পরম আশ্রয়
ব্রহ্মণো হি প্রতিষ্ঠাহমমৃতস্যাব্যয়স্য চ।
শাশ্বতস্য চ ধর্মস্য সুখস্যৈকান্তিকস্য চ।।২৭।।
অনুবাদঃ আমিই নির্বিশেষ ব্রহ্মের প্রতিষ্ঠা বা আশ্রয়। অব্যয় অমৃতের, শাশ্বত ধর্মের এবং ঐকান্তিক সুখের আমিই আশ্রয়।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের শেষাংশে উচ্চারিত এই গভীর শ্লোকটি মানুষের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের এক পরম সত্যকে প্রকাশ করে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, ব্রহ্মের প্রতিষ্ঠা আমি, অমৃতের প্রতিষ্ঠা আমি, অব্যয় সত্যের প্রতিষ্ঠা আমি, শাশ্বত ধর্মের প্রতিষ্ঠা আমি এবং একান্তিক সুখেরও প্রতিষ্ঠা আমি। এই একটি বক্তব্যের মধ্যে ব্রহ্মতত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব, অমরত্ব, শাশ্বত ধর্ম এবং পরম আনন্দের মতো বেদান্তের বহু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা একসূত্রে আবদ্ধ হয়েছে। এখানে কৃষ্ণ নিজেকে কেবল কোনো ব্যক্তিমানব হিসেবে উপস্থাপন করছেন না, বরং এমন এক পরম আশ্রয় হিসেবে প্রকাশ করছেন যার মধ্যে সকল চিরন্তন সত্য তাদের পূর্ণ ভিত্তি লাভ করে।
এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ব্রহ্মণো। ব্রহ্ম শব্দটির উৎস সংস্কৃত বৃহ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। বৃহ্ অর্থ বিস্তৃত হওয়া, বৃহৎ হওয়া বা সীমা অতিক্রম করে প্রসারিত হওয়া। সেই অর্থ থেকে ব্রহ্ম বলতে এমন এক সর্বব্যাপী ও সীমাতীত বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে যা সমস্ত সীমাবদ্ধ অস্তিত্বের অন্তরালে অবস্থান করে। ব্রহ্মণো হলো ব্রহ্ম শব্দের ষষ্ঠী বিভক্তির রূপ এবং এর অর্থ ব্রহ্মের। এরপর এসেছে হি শব্দটি, যার অর্থ নিশ্চয়ই, প্রকৃতপক্ষে বা সত্যিই। এই শব্দটি কৃষ্ণের বক্তব্যকে দৃঢ়তা প্রদান করেছে। প্রতিষ্ঠাহম্ শব্দটি প্রতিষ্ঠা এবং অহম্ এই দুই ধারণার সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিষ্ঠা অর্থ ভিত্তি, আশ্রয়, অবলম্বন বা অধিষ্ঠান এবং অহম্ অর্থ আমি। ফলে প্রতিষ্ঠাহম্ অর্থ দাঁড়ায় আমি প্রতিষ্ঠা বা আমি সেই পরম ভিত্তি যার উপর কোনো সত্য তার অস্তিত্ব লাভ করে।
প্রতিষ্ঠা শব্দটির মধ্যেই এই শ্লোকের অন্যতম গভীর দার্শনিক রহস্য নিহিত আছে। সংস্কৃত স্থা ধাতুর অর্থ দাঁড়ানো বা অবস্থান করা। তার সঙ্গে প্রতি উপসর্গের সংযোগে প্রতিষ্ঠার ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠা বলতে এমন একটি অবস্থান বা ভিত্তিকে বোঝানো যায় যেখানে কোনো কিছু স্থিত হয়। সাধারণ জীবনে একটি ভবন যেমন তার ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি আধ্যাত্মিক অর্থে ব্রহ্ম, অমৃতত্ব, শাশ্বত ধর্ম এবং পরম সুখের চূড়ান্ত সত্যও একটি পরম ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। কৃষ্ণ সেই পরম ভিত্তির কথাই ঘোষণা করছেন।
এরপর এসেছে অমৃতস্যাব্যয়স্য। অমৃত শব্দটি অ এবং মৃত এই দুই অংশের সমন্বয়ে গঠিত। মৃত অর্থ মৃত্যুর অধীন এবং অমৃত অর্থ মৃত্যুর অতীত। তাই অমৃত শব্দের আক্ষরিক অর্থ মৃত্যুহীন বা অমর। কিন্তু গীতার দর্শনে অমৃত কেবল কোনো পৌরাণিক পানীয় নয়। এটি এমন এক চেতনার প্রতীক যেখানে মানুষ নিজের প্রকৃত আত্মস্বরূপকে উপলব্ধি করে এবং জন্ম ও মৃত্যুর পরিবর্তনশীলতার অতীত সত্যকে অনুভব করে। যে ব্যক্তি নিজেকে কেবল শরীর হিসেবে দেখে তার কাছে মৃত্যু একটি চূড়ান্ত সমাপ্তি। কিন্তু যে ব্যক্তি আত্মাকে অবিনাশী সত্তা হিসেবে উপলব্ধি করে তার কাছে মৃত্যু অস্তিত্বের সম্পূর্ণ বিনাশ নয়। এই কারণেই অমৃত এখানে মুক্তি ও আত্মজ্ঞানকে নির্দেশ করে।
অব্যয় শব্দের অর্থ হলো যা ব্যয়প্রাপ্ত হয় না, যা ক্ষয় হয় না, যা তার প্রকৃত সত্তায় অবিনশ্বর। জগতের সমস্ত দৃশ্যমান বস্তু পরিবর্তনশীল। শরীর জন্মায় এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সম্পদ আসে এবং চলে যায়। সম্পর্কের রূপ পরিবর্তিত হয়। সভ্যতা গড়ে ওঠে এবং বিলীন হয়। এমনকি প্রকৃতির দৃশ্যমান রূপও অনবরত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনশীলতার মধ্যে মানুষ যে অপরিবর্তনীয় সত্যের অনুসন্ধান করে, অব্যয় সেই সত্যেরই প্রতীক। কৃষ্ণ নিজেকে সেই অব্যয় সত্যের প্রতিষ্ঠা হিসেবে প্রকাশ করছেন।
এরপর আসে শাশ্বতস্য চ ধর্মস্য। ধর্ম শব্দটি সংস্কৃত ধৃ ধাতু থেকে উদ্ভূত এবং ধৃ অর্থ ধারণ করা, ধরে রাখা বা সংরক্ষণ করা। তাই ধর্মের গভীর অর্থ কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের আচার বা পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যে নীতি কোনো সত্তাকে তার প্রকৃত স্বরূপে ধারণ করে রাখে, সেটিই তার ধর্ম। আগুনের ধর্ম দহন, জলের ধর্ম প্রবাহ এবং জীবনের ধর্ম চেতনা ও অস্তিত্বের প্রকাশ। মানুষের ক্ষেত্রেও এমন একটি অন্তর্নিহিত ধর্ম আছে যা তাকে সত্য, ন্যায়, প্রেম, আত্মসংযম এবং পরম সত্যের দিকে পরিচালিত করে। শাশ্বত ধর্ম বলতে সেই চিরন্তন নীতিকে বোঝানো হয়েছে যা কালের পরিবর্তনের সঙ্গে তার মূল সত্য হারায় না।
এই শাশ্বত ধর্মের সঙ্গে কৃষ্ণের সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্ম কোনো বিচ্ছিন্ন বাহ্যিক বিধান নয়। ধর্মের চূড়ান্ত ভিত্তি সেই পরম সত্যের মধ্যে অবস্থিত যা মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বরূপের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাই গীতার ধর্ম কেবল সামাজিক কর্তব্য পালন নয়, বরং নিজের প্রকৃত সত্তা উপলব্ধি করে সেই উপলব্ধির আলোকে জীবনযাপন করা। কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি এবং আত্মসংযমের মাধ্যমে মানুষ যখন নিজের অস্তিত্বকে পরম সত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে তখন তার জীবন শাশ্বত ধর্মের দিকে অগ্রসর হয়।
শ্লোকটির শেষ অংশ সুখস্যৈকান্তিকস্য চ বিশেষভাবে হৃদয়গ্রাহী। সুখ শব্দটি এখানে সাধারণ ইন্দ্রিয়সুখের অর্থে ব্যবহৃত নয়। ইন্দ্রিয়সুখ কোনো বাহ্যিক বস্তুর উপর নির্ভরশীল এবং তাই তা পরিবর্তনশীল। একটি বস্তু পেলে আনন্দ হয়, কিন্তু সেই বস্তু হারিয়ে গেলে আনন্দও হারিয়ে যায়। একান্তিক সুখ এর সম্পূর্ণ বিপরীত। একান্তিক অর্থ একান্ত, সম্পূর্ণ, নিরঙ্কুশ বা যার বাইরে আর কোনো নির্ভরতার প্রয়োজন নেই। একান্তিক সুখ হলো এমন আনন্দ যা বাহ্যিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল নয়। এটি আত্মস্বরূপ উপলব্ধি, ঈশ্বরচেতনা এবং পরম সত্যের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের মধ্যে উদ্ভূত আনন্দ।
মানুষের জীবনের অধিকাংশ আকাঙ্ক্ষা আসলে এই স্থায়ী সুখের অনুসন্ধান। মানুষ অর্থ চায় কারণ সে নিরাপত্তা ও আনন্দ চায়। সে সম্মান চায় কারণ সে নিজের মূল্য অনুভব করতে চায়। সে সম্পর্ক চায় কারণ সে ভালোবাসা ও পূর্ণতা অনুভব করতে চায়। কিন্তু বাহ্যিক কোনো বস্তুই স্থায়ী নয়। ফলে বাহ্যিক সুখের সঙ্গে দুঃখের সম্ভাবনাও অবিচ্ছেদ্য। গীতা মানুষের দৃষ্টি বাহ্যিক সুখ থেকে অন্তর্গত আনন্দের দিকে ফিরিয়ে দেয়। একান্তিক সুখ তখনই সম্ভব যখন সুখের উৎস কোনো পরিবর্তনশীল বস্তু নয়, বরং পরম সত্যের উপলব্ধি।
অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের অর্থ অত্যন্ত গভীর। অদ্বৈত দর্শনে ব্রহ্ম হলো একমাত্র পরম বাস্তবতা এবং আত্মা ও ব্রহ্মের গভীরতম সত্যে অভেদ রয়েছে। এই দৃষ্টিতে কৃষ্ণের বক্তব্যকে এমনভাবে বোঝা যায় যে তিনি সেই পরম ব্রহ্মস্বরূপ সত্যেরই প্রকাশ। ব্রহ্মজ্ঞান, অমৃতত্ব এবং পরমানন্দ পৃথক কোনো বস্তু নয়। পরম সত্যের উপলব্ধির মধ্যেই এগুলো একত্রে প্রকাশিত হয়।
বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে ঈশ্বরই পরম ব্রহ্ম এবং জীব ও জগত তাঁর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কযুক্ত বাস্তবতা। এই দৃষ্টিতে কৃষ্ণের বক্তব্য আরও প্রত্যক্ষভাবে ঈশ্বরের পরম আশ্রয়ত্ব প্রকাশ করে। ব্রহ্ম, অমৃতত্ব, শাশ্বত ধর্ম এবং পরম সুখ সবই পরমেশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তাঁর মধ্যেই তাদের পূর্ণতা। দ্বৈত দর্শনে আবার ঈশ্বর, জীব এবং জগতের মধ্যে চিরন্তন ভেদ স্বীকার করা হয়। সেই দৃষ্টিতে কৃষ্ণের বক্তব্য ঈশ্বরের সর্বোচ্চত্ব ও জীবের ঈশ্বরনির্ভরতার ঘোষণা। বিভিন্ন দর্শনের ব্যাখ্যা আলাদা হলেও একটি কেন্দ্রীয় সত্য এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মানুষ নিজের চূড়ান্ত আশ্রয়কে কোনো পরিবর্তনশীল বস্তুর মধ্যে খুঁজে পেতে পারে না।
এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থ বোঝার জন্য একটি বৃক্ষের উপমা অত্যন্ত কার্যকর। একটি বিশাল বৃক্ষের পাতা, ফুল এবং ফল আমরা দেখতে পাই। কিন্তু বৃক্ষের প্রকৃত স্থিতি নির্ভর করে তার অদৃশ্য মূলের উপর। মূল না থাকলে দৃশ্যমান সমস্ত সৌন্দর্য ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। তেমনি ব্রহ্ম, অমৃতত্ব, অব্যয়তা, শাশ্বত ধর্ম এবং একান্তিক সুখ যেন অস্তিত্বের বিভিন্ন প্রকাশ এবং কৃষ্ণের প্রতিষ্ঠা যেন সেই অদৃশ্য মূল যার মধ্যে এই সমস্ত সত্যের চূড়ান্ত আশ্রয় রয়েছে।
আরেকটি উপমা হতে পারে সমুদ্র ও তরঙ্গের। একটি তরঙ্গ জন্ম নেয়, কিছু সময় স্থায়ী হয় এবং পরে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু তরঙ্গের জন্ম ও বিলয় সমুদ্রকে ধ্বংস করে না। মানুষও জীবনের বিভিন্ন অবস্থায় আনন্দ, দুঃখ, সাফল্য, ব্যর্থতা, জন্ম এবং মৃত্যুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু তার গভীরে এমন একটি সত্যের অনুসন্ধান থাকে যা এই পরিবর্তনের অতীত। গীতার ভাষায় সেই গভীরতর সত্যের আশ্রয়েই অমৃতত্ব এবং পরম সুখের উপলব্ধি সম্ভব।
মনোবৈজ্ঞানিক দিক থেকেও এই শ্লোকের শিক্ষা গভীর। মানুষ যখন নিজের সম্পূর্ণ পরিচয়কে অর্থ, সাফল্য, সৌন্দর্য, সম্পর্ক বা সামাজিক মর্যাদার উপর প্রতিষ্ঠিত করে তখন সেই বাহ্যিক বিষয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তার মানসিক স্থিতিও পরিবর্তিত হয়। চাকরি হারালে আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়, সম্পর্ক ভেঙে গেলে মনে হয় জীবন অর্থহীন, সম্মান কমে গেলে আত্মমূল্যবোধ দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষ যদি নিজের অস্তিত্বের গভীরে একটি অপরিবর্তনীয় মূল্য ও চিরন্তন সত্যের সন্ধান পায় তবে বাহ্যিক পরিবর্তনের মধ্যেও একটি অন্তর্গত স্থিতি অর্জন করতে পারে। এই অন্তর্গত প্রতিষ্ঠাই গীতার প্রতিষ্ঠা ধারণার একটি মানবিক প্রকাশ।
এই শ্লোক তাই মানুষের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরে। আমি কোথায় প্রতিষ্ঠিত। যদি আমি অর্থে প্রতিষ্ঠিত হই তবে অর্থের পরিবর্তনের সঙ্গে আমার শান্তিও পরিবর্তিত হবে। যদি আমি প্রশংসায় প্রতিষ্ঠিত হই তবে নিন্দা আমাকে ভেঙে দেবে। যদি আমি শরীরকে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় মনে করি তবে বার্ধক্য ও মৃত্যুভয় আমাকে গ্রাস করবে। কিন্তু যদি আমার অস্তিত্বের ভিত্তি হয় পরম সত্যের অনুসন্ধান এবং আত্মস্বরূপের উপলব্ধি তবে পরিবর্তনশীল জীবনের মধ্যেও আমি এমন এক স্থিতি খুঁজে পেতে পারি যা বাহ্যিক পরিস্থিতির দ্বারা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়।
এই কারণেই শ্লোকটির প্রতিটি শব্দ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ব্রহ্ম আমাদের পরম সত্যের কথা বলে। অমৃত আমাদের মৃত্যুর অতীত সম্ভাবনার কথা বলে। অব্যয় আমাদের ক্ষয়হীন বাস্তবতার কথা বলে। শাশ্বত ধর্ম আমাদের চিরন্তন অস্তিত্বনীতির কথা বলে। একান্তিক সুখ আমাদের সেই পরম সত্য উপলব্ধির আনন্দের কথা বলে। আর প্রতিষ্ঠা এই সবকিছুকে একত্র করে একটি চূড়ান্ত আশ্রয়ের ধারণা দেয়।
সবশেষে বলা যায়, এই শ্লোক মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রার একটি সম্পূর্ণ মানচিত্রের মতো। মানুষ পরিবর্তনশীল জগতের মধ্যে জন্ম নিয়ে পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা লাভ করে এবং একসময় উপলব্ধি করে যে বাহ্যিক কোনো কিছুই তাকে সম্পূর্ণ স্থায়িত্ব দিতে পারে না। তখন তার অনুসন্ধান বাহির থেকে অন্তরের দিকে ফিরে আসে। সে জানতে চায় তার প্রকৃত স্বরূপ কী, জীবনের চূড়ান্ত সত্য কী, মৃত্যুর পরেও কী অবিনশ্বর থাকে এবং এমন কোনো আনন্দ আছে কি যা কখনো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। গীতার এই শ্লোক সেই অনুসন্ধানের উত্তরে বলে যে ব্রহ্ম, অমৃতত্ব, অব্যয়তা, শাশ্বত ধর্ম এবং একান্তিক সুখ বিচ্ছিন্ন কোনো সত্য নয়। এগুলোর চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠা সেই পরম সত্যে, যাকে কৃষ্ণ নিজের স্বরূপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তাই এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষের সত্যিকারের শান্তি তখনই আসে যখন সে অনিত্য আশ্রয়ের পরিবর্তে চিরন্তন সত্যে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে শেখে। সেই প্রতিষ্ঠার মধ্যেই জ্ঞান পূর্ণতা পায়, ধর্ম তার গভীর অর্থ লাভ করে, মৃত্যুভয় অতিক্রম করার পথ উন্মুক্ত হয় এবং মানুষের অন্তরে এমন এক আনন্দের উদয় হয় যা কোনো বাহ্যিক বস্তুর দান নয়, বরং পরম সত্যের উপলব্ধি থেকে উৎসারিত একান্তিক আনন্দ।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!