ভগবদ্গীতা ১৪.৩ — মহৎ প্রকৃতি, ঈশ্বরীয় গর্ভাধান ও জীবসৃষ্টির রহস্য
মম যোনির্মহদ্ ব্রহ্ম তস্মিন্ গর্ভং দধাম্যহম্।
সম্ভবঃ সর্বভূতানাং ততো ভবতি ভারত।।৩।।
অনুবাদঃ হে ভারত! প্রকৃতি সংজ্ঞক ব্রহ্ম আমার যোনিস্বরূপ এবং সেই ব্রহ্মে আমি গর্ভাধান করি, যার ফলে সমস্ত জীবের জন্ম হয়।
ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের তৃতীয় শ্লোকটি সৃষ্টির রহস্যকে এক অসাধারণ গভীর ও প্রতীকধর্মী ভাষায় প্রকাশ করেছে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, মহৎ প্রকৃতিই তাঁর সৃষ্টির যোনি বা মহাজাগতিক উৎপত্তিক্ষেত্র এবং সেই প্রকৃতির মধ্যে তিনি সৃষ্টির গর্ভ স্থাপন করেন। এর ফলেই হে ভারত, সমস্ত জীবের প্রকাশ ঘটে। এই কথার মধ্যে শুধু জীবজগতের জন্মের একটি ব্যাখ্যা নেই, বরং ঈশ্বর, প্রকৃতি, চেতনা, সম্ভাবনা এবং প্রকাশের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে তার একটি দার্শনিক রূপ উন্মোচিত হয়েছে। শ্লোকটির প্রতিটি শব্দ যেন সৃষ্টির এক একটি স্তরকে প্রকাশ করে এবং সবগুলো একত্রে মিলিত হয়ে মহাবিশ্বের অন্তর্নিহিত ঐক্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়।
শ্লোকটির শুরুতে রয়েছে মম শব্দটি। সংস্কৃত মদ্ সর্বনামের ষষ্ঠী একবচন রূপ মম অর্থ আমার। কিন্তু এখানে আমার কথাটি সাধারণ ব্যক্তিগত মালিকানার অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। শ্রীকৃষ্ণ পরমেশ্বরের অবস্থান থেকে কথা বলছেন। তাই মম দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে প্রকৃতি পরম সত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং তাঁর অধীন শক্তিরূপে কার্যকর। জগতের প্রকৃতি ঈশ্বর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনো স্বাধীন সত্তা নয়। তার অস্তিত্ব ও কার্যকারিতা পরম চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই একটি শব্দের মধ্যেই ঈশ্বর ও প্রকৃতির সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক ভিত্তি নিহিত রয়েছে।
এরপর এসেছে যোনি শব্দটি। সংস্কৃত যোনি শব্দের সাধারণ অর্থ গর্ভ, জন্মস্থান, উৎপত্তিস্থান, আশ্রয় বা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে কোনো কিছুর জন্ম ও বিকাশ ঘটে। গীতার এই প্রসঙ্গে যোনি শব্দটি কোনো সংকীর্ণ শারীরিক অর্থ বহন করে না। এখানে এটি মহাজাগতিক সৃষ্টিক্ষেত্রের প্রতীক। যে আধারের মধ্যে সৃষ্টির সম্ভাবনা ধারণ করা হয় এবং যেখান থেকে বহুরূপী জগতের প্রকাশ ঘটে সেটিই যোনি। তাই মম যোনিঃ বলতে বোঝানো হচ্ছে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত সেই মহাজাগতিক সৃষ্টিক্ষেত্র, যার মধ্যে অসংখ্য জীব ও জগতের প্রকাশের সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহদ্ ব্রহ্ম শব্দবন্ধ। মহৎ শব্দের অর্থ মহান, ব্যাপক, বিশাল বা মহত্তম। ব্রহ্ম শব্দটি বৃহ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর মধ্যে বিস্তার, ব্যাপ্তি ও বৃহত্তর অস্তিত্বের ধারণা রয়েছে। গীতার এই প্রসঙ্গে মহদ্ ব্রহ্মকে মহৎ প্রকৃতি বা মহাজাগতিক প্রকৃতির অর্থে বোঝা হয়। এই প্রকৃতি হলো সেই বিশাল সৃষ্টিক্ষেত্র যার মধ্যে নাম, রূপ ও জীবনের অসংখ্য সম্ভাবনা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। তাই মম যোনির্মহদ্ ব্রহ্ম এর অর্থ দাঁড়ায় মহৎ প্রকৃতিই আমার সৃষ্টির মহাজাগতিক উৎপত্তিক্ষেত্র। এখানে প্রকৃতি হলো প্রকাশের ক্ষেত্র এবং ঈশ্বরীয় চেতনা হলো সেই প্রকাশের গভীর প্রেরণাশক্তি।
তস্মিন্ শব্দের অর্থ তার মধ্যে বা সেই ক্ষেত্রে। এটি মহৎ প্রকৃতিকেই নির্দেশ করছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে সৃষ্টির সম্ভাবনা কোনো শূন্যতার মধ্যে প্রকাশিত হয় না। তার জন্য একটি ক্ষেত্র রয়েছে এবং সেই ক্ষেত্র হলো প্রকৃতি। যেমন একটি বীজের বিকাশের জন্য উর্বর মাটি প্রয়োজন, তেমনি জীবনের প্রকাশের জন্য প্রকৃতি হলো মহাজাগতিক ক্ষেত্র। এই তস্মিন্ শব্দটি তাই সৃষ্টি এবং সৃষ্টিক্ষেত্রের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে নির্দেশ করে।
গর্ভং শব্দের অর্থ গর্ভ, ভ্রূণ, অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা বা ভবিষ্যৎ প্রকাশের সুপ্ত অবস্থান। এই শব্দটি শ্লোকটির অন্যতম সুন্দর প্রতীক। একটি শিশুর মধ্যে যেমন ভবিষ্যৎ জীবনের সম্ভাবনা গর্ভে অবস্থান করে, তেমনি সমগ্র জীবজগতের অসংখ্য সম্ভাবনা প্রকৃতির মহাগর্ভে নিহিত থাকে। গর্ভ এখানে কেবল শারীরিক জন্মের প্রতীক নয়। এটি সেই সমস্ত সম্ভাবনার প্রতীক যা এখনও প্রকাশিত হয়নি কিন্তু প্রকাশের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। একটি ক্ষুদ্র বীজের মধ্যে যেমন একটি বিশাল বৃক্ষের সম্ভাবনা সুপ্ত থাকে, তেমনি মহাজাগতিক প্রকৃতির মধ্যে অসংখ্য জীব ও জগতের সম্ভাবনা নিহিত থাকে।
দধামি শব্দটি সংস্কৃত ধা ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ রাখা, স্থাপন করা, ধারণ করা বা প্রতিষ্ঠা করা। দধামি অর্থ আমি স্থাপন করি, আমি ধারণ করি বা আমি প্রতিষ্ঠা করি। কৃষ্ণ যখন বলেন তস্মিন্ গর্ভং দধাম্যহম্ তখন তিনি কোনো শারীরিক প্রক্রিয়ার কথা বলছেন না। এখানে ঈশ্বরীয় চেতনা ও সৃষ্টিশক্তির দ্বারা প্রকৃতির মধ্যে জীবনের সম্ভাবনা সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃতি নিজে সৃষ্টির উপাদান ধারণ করে থাকলেও তার মধ্যে প্রকাশের যে মহাজাগতিক শক্তি কাজ করে তা পরমেশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এইভাবে মম যোনির্মহদ্ ব্রহ্ম তস্মিন্ গর্ভং দধাম্যহম্ এর সামগ্রিক অর্থ দাঁড়ায় যে মহৎ প্রকৃতিই ঈশ্বরের সৃষ্টির মহাজাগতিক ক্ষেত্র এবং সেই প্রকৃতির মধ্যে ঈশ্বর সৃষ্টির গর্ভ বা সম্ভাবনাকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই সংযোগ থেকেই পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে সম্ভবঃ সর্বভূতানাং ততো ভবতি ভারত। সম্ভব শব্দটি সম্ উপসর্গ ও ভূ ধাতু থেকে গঠিত। ভূ অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা প্রকাশিত হওয়া। সম্ভব অর্থ উৎপত্তি, জন্ম, প্রকাশ বা অস্তিত্বে আবির্ভাব। সর্বভূতানাম্ অর্থ সমস্ত জীবের বা সমস্ত সৃষ্ট সত্তার। ততো অর্থ তা থেকে বা তার ফলে এবং ভবতি অর্থ হয়, প্রকাশিত হয় বা অস্তিত্ব লাভ করে। অর্থাৎ প্রকৃতির মধ্যে ঈশ্বরীয় সৃষ্টিশক্তির সংযোগের ফলেই সমস্ত জীবের প্রকাশ ঘটে।
এই শ্লোকের গভীর দার্শনিক তাৎপর্য এখানেই যে সৃষ্টি কেবল জড় পদার্থের আকস্মিক সমাবেশ নয় এবং কেবল চেতনার একটি বিচ্ছিন্ন প্রকাশও নয়। এখানে প্রকৃতি এবং চেতনার পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সৃষ্টির বহুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রকৃতি হলো প্রকাশের উপাদান ও ক্ষেত্র এবং পরম চৈতন্য হলো সেই প্রকাশের গভীর প্রেরণাশক্তি। প্রকৃতি ছাড়া প্রকাশের উপাদান থাকে না এবং ঈশ্বরীয় চেতনার সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়া সেই প্রকৃতির সৃষ্টিশীল অর্থ পূর্ণতা পায় না। এই কারণে শ্লোকটি সৃষ্টি সম্পর্কে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
সাংখ্য দর্শনের আলোকে প্রকৃতি হলো জগতের মূল উপাদানগত কারণ। প্রকৃতির মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এই তিন গুণের সাম্যাবস্থা থাকে এবং সেই সাম্যাবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে জগতের বিবর্তন শুরু হয়। গীতার এই শ্লোকে মহৎ প্রকৃতিকে সৃষ্টির ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করা হলেও গীতা সাংখ্যের বিশুদ্ধ কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এখানে ঈশ্বরীয় চেতনার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বেদান্তীয় দৃষ্টিতে প্রকৃতি হলো ঈশ্বরের শক্তি এবং ঈশ্বর হলেন সেই শক্তির অধিষ্ঠান। তাই বহুরূপী জগতের পেছনে একটি গভীর ঐক্য এবং এক সর্বব্যাপী চৈতন্যের উপস্থিতি উপলব্ধি করা যায়।
ভক্তির দৃষ্টিতে এই শ্লোক আরও হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে। এখানে কৃষ্ণ নিজেকে সমস্ত জীবনের মহাজাগতিক উৎস ও নিয়ন্তা হিসেবে প্রকাশ করছেন। প্রকৃতি তাঁর শক্তি এবং সমস্ত জীব সেই শক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত। ফলে জীব নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা হিসেবে দেখলে অস্তিত্বের গভীর সত্য থেকে দূরে সরে যায়। নিজের উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক উপলব্ধি করলে অহংকারের পরিবর্তে বিনয় এবং বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে ঐক্যবোধ জন্ম নিতে পারে।
এই শ্লোকের প্রতীকী তাৎপর্যও অত্যন্ত গভীর। যোনি এখানে মহাজাগতিক মাতৃগর্ভের প্রতীক। প্রকৃতি যেন এক অনন্ত জননী, যার গর্ভে অসংখ্য জীবন ধারণ করা হয়। গর্ভ হলো সুপ্ত সম্ভাবনার প্রতীক। দধামি হলো সেই সম্ভাবনাকে সক্রিয় করার প্রতীক। আর সম্ভব হলো সম্ভাবনার দৃশ্যমান প্রকাশ। এই প্রতীককে মানুষের অন্তর্জগতেও প্রয়োগ করা যায়। মানুষের মনও এক ধরনের সৃষ্টিক্ষেত্র। সেখানে চিন্তা, বিশ্বাস, আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের বীজ স্থাপিত হয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো আচরণ, চরিত্র ও জীবনযাত্রায় প্রকাশ পায়। তাই বাহ্যিক মহাবিশ্বের মতো মানুষের অন্তর্জগতেও সৃষ্টি প্রথমে সম্ভাবনা হিসেবে জন্ম নেয় এবং পরে প্রকাশিত হয়।
একটি বীজ ও বৃক্ষের উপমা এই শ্লোকের ভাবকে সহজে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। একটি ছোট বীজের মধ্যে একটি বিশাল বৃক্ষের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে প্রকাশ করার জন্য মাটি, জল, আলো, বায়ু ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। একইভাবে মহাজাগতিক প্রকৃতির মধ্যে অসংখ্য জীবনের সম্ভাবনা নিহিত থাকে এবং ঈশ্বরীয় সৃষ্টিশক্তির সঙ্গে সেই প্রকৃতির সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সেই সম্ভাবনা প্রকাশিত হয়। এই উপমা আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে কোনো প্রকাশিত বাস্তবতার পেছনে একটি অপ্রকাশিত সম্ভাবনা থাকে এবং সেই সম্ভাবনার পেছনে থাকে একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র।
মানবজীবনের ক্ষেত্রেও এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে সম্ভাবনার অসংখ্য বীজ রয়েছে। কিন্তু সব সম্ভাবনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিকশিত হয় না। মন, পরিবেশ, শিক্ষা, সাধনা, চিন্তা ও কর্ম সেই সম্ভাবনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন মানুষ যদি নিজের অন্তর্জগতকে সত্য, জ্ঞান, প্রেম ও আত্মসংযমের দ্বারা প্রস্তুত করে তবে তার মধ্যে থাকা উচ্চতর সম্ভাবনাগুলো প্রকাশিত হতে পারে। আবার ভয়, হিংসা, লোভ ও অজ্ঞতার দ্বারা মনকে পূর্ণ করলে সেই প্রবণতাগুলোই ক্রমে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই দিক থেকে গীতার শ্লোকটি আমাদের নিজের মনকেও একটি সৃষ্টিক্ষেত্র হিসেবে দেখতে শেখায়।
শ্লোকটির আরেকটি গভীর শিক্ষা হলো সকল জীবের অন্তর্নিহিত ঐক্য। সর্বভূতানাম্ শব্দটি শুধু মানুষের কথা বলে না। সমস্ত জীবসত্তা এই সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। ফলে কোনো জীবই অস্তিত্বের বৃহত্তর ধারার বাইরে নয়। মানুষ, পশু, পাখি, উদ্ভিদ এবং অন্যান্য জীব প্রত্যেকেই একই মহাজাগতিক সৃষ্টির ধারার অংশ। এই উপলব্ধি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, মমত্ববোধ এবং অহিংসার চেতনা জাগাতে পারে। যখন মানুষ বুঝতে পারে যে সমস্ত জীবন একই মহাজাগতিক উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত তখন অন্যের প্রতি নিষ্ঠুরতা নিজের অস্তিত্বের বৃহত্তর ঐক্যকেই অস্বীকার করার মতো হয়ে দাঁড়ায়।
এই শ্লোক তাই কেবল একটি সৃষ্টিতত্ত্ব নয়, এটি একটি আত্মজিজ্ঞাসাও। আমরা কোথা থেকে এসেছি, আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি কী, প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কী এবং আমাদের অন্তরে যে চেতনা রয়েছে তার উৎস কোথায় এই প্রশ্নগুলোর দিকে শ্লোকটি আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। জগতের বহুত্বের দিকে তাকিয়ে আমরা যদি কেবল বাহ্যিক রূপ দেখি তবে বিভেদই প্রধান হয়ে ওঠে। কিন্তু যদি সেই বহুত্বের অন্তর্নিহিত উৎসের দিকে তাকাই তবে একটি গভীর ঐক্য উপলব্ধি করা সম্ভব হয়।
সবশেষে বলা যায়, মম যোনির্মহদ্ ব্রহ্ম তস্মিন্ গর্ভং দধাম্যহম্ এই পংক্তির মধ্যে প্রকৃতি ও পরম চৈতন্যের এক গভীর সৃষ্টিসংলাপ প্রকাশিত হয়েছে। মম আমাদের ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কের কথা মনে করায়। যোনি আমাদের সৃষ্টির ক্ষেত্রের কথা জানায়। মহদ্ ব্রহ্ম আমাদের মহাজাগতিক প্রকৃতির বিশালতার সামনে দাঁড় করায়। গর্ভ আমাদের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার কথা বলে। দধামি ঈশ্বরীয় সৃষ্টিশক্তির সক্রিয়তার কথা প্রকাশ করে। সম্ভব এবং সর্বভূতানাম্ আমাদের দেখায় যে এই প্রক্রিয়ার ফলেই অসংখ্য জীবনের প্রকাশ ঘটে। তাই এই শ্লোকের গভীরতম বাণী হলো বহুরূপী জগতের অন্তরালে একটি ঐক্যবদ্ধ সৃষ্টিসূত্র রয়েছে। প্রকৃতি সেই সৃষ্টির ক্ষেত্র, চৈতন্য তার গভীর প্রেরণা এবং সমস্ত জীব সেই মহাসৃষ্টির প্রকাশ। এই উপলব্ধি মানুষকে নিজের ক্ষুদ্র অহংবোধ অতিক্রম করে প্রকৃতি, জীবজগৎ এবং পরম সত্তার সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্ক অনুভব করতে সাহায্য করে।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!