ভগবদ্গীতা ১৪.৬ — সত্ত্বগুণের নির্মলতা, সুখ ও জ্ঞানের আসক্তির বন্ধন
তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বা প্রকাশমনাময়ম্।
সুখসঙ্গেন বধ্নাতি জ্ঞানসঙ্গেন চানঘ।।৬।।
অনুবাদঃ হে নিষ্পাপ! এই তিনটি গুণের মধ্যে সত্ত্বগুণ নির্মল হওয়ার ফলে প্রকাশকারী ও পাপশূন্য এবং সুখ ও জ্ঞানের সঙ্গের দ্বারা জীবকে আবদ্ধ করে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের ষষ্ঠ শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রকৃতির তিন গুণের মধ্যে সত্ত্বগুণের এক গভীর ও সূক্ষ্ম স্বরূপ প্রকাশ করেছেন। শ্লোকটি হলো তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বাৎ প্রকাশমনাময়ম্ সুখসঙ্গেন বধ্নাতি জ্ঞানসঙ্গেন চানঘ। অর্থাৎ সত্ত্বগুণ তার নির্মলতার কারণে প্রকাশক ও অনাময়। কিন্তু হে অনঘ, এই সত্ত্বগুণও জীবকে সুখের প্রতি আসক্তি এবং জ্ঞানের প্রতি আসক্তির মাধ্যমে বন্ধনে আবদ্ধ করে। এই শ্লোকের সৌন্দর্য এখানেই যে এখানে বন্ধনের এমন একটি রূপের কথা বলা হয়েছে যা সাধারণ দৃষ্টিতে বন্ধন বলে মনে হয় না। মানুষ সাধারণত দুঃখ, অজ্ঞতা, লোভ, ক্রোধ, কামনা ও মোহকে বন্ধনের কারণ বলে মনে করে। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ দেখাচ্ছেন যে নির্মলতা, শান্তি, সুখ ও জ্ঞানও যদি আসক্তির বিষয় হয়ে ওঠে, তবে সেগুলিও জীবকে প্রকৃতির মধ্যে আবদ্ধ রাখতে পারে।
সত্ত্ব শব্দের মধ্যে সত্য, অস্তিত্ব, পবিত্রতা, সামঞ্জস্য ও স্বচ্ছতার ভাব নিহিত রয়েছে। সাংখ্য দর্শন এবং গীতার শিক্ষায় সত্ত্ব প্রকৃতির তিনটি মৌলিক গুণের একটি। রজোগুণ মানুষের মধ্যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা, কর্মচাঞ্চল্য ও ফললাভের বাসনা সৃষ্টি করে এবং তমোগুণ অজ্ঞতা, জড়তা, মোহ ও অবসাদের দিকে নিয়ে যায়। তার বিপরীতে সত্ত্ব মনকে শান্ত, স্বচ্ছ, হালকা ও জ্ঞানগ্রহণের উপযোগী করে। তাই সত্ত্বকে এমন এক মানসিক ও অস্তিত্বগত অবস্থার প্রতীক বলা যায় যেখানে চেতনার ওপর অজ্ঞতা ও অস্থিরতার আবরণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। মানুষের মন যখন সত্যনিষ্ঠা, সংযম, পবিত্রতা, দয়া, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অধ্যয়ন ও ধ্যানের দ্বারা পরিশুদ্ধ হয়, তখন তার মধ্যে সত্ত্বের প্রকাশ বৃদ্ধি পায়।
শ্লোকে নির্মলত্বাৎ শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্মল শব্দের মধ্যে কলুষতা থেকে মুক্ত হওয়ার ভাব রয়েছে। মনের মধ্যে যখন অতিরিক্ত কামনা, হিংসা, লোভ, ক্রোধ, অহংকার ও অস্থিরতা জমে থাকে, তখন মানুষ নিজের প্রকৃত অবস্থাকে স্পষ্টভাবে দেখতে পারে না। কিন্তু মন যখন নির্মল হয়, তখন চিন্তা পরিষ্কার হয় এবং বিচারবুদ্ধি সূক্ষ্ম হয়। যেমন পরিষ্কার আয়নায় মুখের প্রতিবিম্ব স্পষ্ট দেখা যায়, তেমনি নির্মল চেতনার মধ্যে জীবনের সত্যও তুলনামূলকভাবে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এই কারণেই কৃষ্ণ সত্ত্বকে প্রকাশকম্ বলেছেন। প্রকাশক অর্থ যা প্রকাশ করে, যা আলো দেয় এবং যা অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে। এখানে আলো বলতে বাহ্যিক আলো নয়, বরং জ্ঞানের আলো ও চেতনার স্বচ্ছতাকে বোঝানো হয়েছে।
সত্ত্বের সঙ্গে অনাময়ম্ শব্দটিও যুক্ত হয়েছে। অনাময় অর্থ ব্যাধি বা বিকার থেকে মুক্ত। এর অর্থ কেবল শারীরিক রোগমুক্তি নয়। গীতার প্রেক্ষাপটে এটি অন্তরের বিকার, মানসিক অস্থিরতা ও চেতনার কলুষতা থেকে মুক্তির ইঙ্গিত বহন করে। সত্ত্বপ্রধান মন সাধারণত শান্ত, সংযত ও স্থির হয়। এমন মন নিজের চিন্তাকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে, নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে এবং সত্যকে গ্রহণ করার জন্য উন্মুক্ত থাকে। সত্ত্ব তাই মানুষের আত্মিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা এখানেই আরও গভীর হয়ে ওঠে। তিনি বলেন বধ্নাতি। অর্থাৎ সত্ত্বও বন্ধন সৃষ্টি করে। প্রশ্ন হলো যে গুণ মনকে নির্মল করে, জ্ঞানকে প্রকাশ করে এবং শান্তি দেয়, সেটি আবার কীভাবে বন্ধনের কারণ হয়। এর উত্তর রয়েছে সুখসঙ্গেন এবং জ্ঞানসঙ্গেন এই দুই শব্দের মধ্যে। সুখের সঙ্গে সঙ্গ বা আসক্তি এবং জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গ বা আসক্তিই সত্ত্বের সূক্ষ্ম বন্ধনের কারণ। সুখ নিজে বন্ধন নয় এবং জ্ঞানও নিজে বন্ধন নয়। বন্ধনের কারণ হলো তাদের প্রতি আসক্তি।
মানুষ যখন কোনো সুখকর অভিজ্ঞতা লাভ করে, তখন সে স্বাভাবিকভাবেই সেই সুখকে ধরে রাখতে চায়। কিন্তু যখন সেই সুখের প্রতি গভীর আসক্তি জন্মায়, তখন সুখ স্বাধীনতার পরিবর্তে নির্ভরতার কারণ হয়ে ওঠে। একজন সাধক ধ্যানের মাধ্যমে গভীর শান্তি লাভ করতে পারেন। কিন্তু যদি তিনি সেই শান্তির অভিজ্ঞতার প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েন যে সেই অভিজ্ঞতাকেই নিজের চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করেন, তবে তার সাধনাও এক ধরনের বন্ধনে পরিণত হতে পারে। একইভাবে একজন মানুষ জ্ঞান অর্জন করে সত্যের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করতে পারেন। কিন্তু যদি সেই জ্ঞান তার মধ্যে অহংকার সৃষ্টি করে এবং সে মনে করতে শুরু করে যে সে অন্যদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী, তবে জ্ঞান তাকে মুক্ত না করে আরও সূক্ষ্মভাবে আবদ্ধ করতে পারে।
এখানে জ্ঞানসঙ্গেন শব্দটির গভীরতা উপলব্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃত জ্ঞান মানুষের অহংকার বাড়ায় না, বরং অহংকারকে ক্ষয় করে। প্রকৃত জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী করে, কারণ সে যত বেশি সত্যকে উপলব্ধি করে তত বেশি বুঝতে পারে যে ব্যক্তিগত জ্ঞান কত সীমিত। কিন্তু যখন জ্ঞান নিজের পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত করার উপায় হয়ে ওঠে, তখন জ্ঞান আর মুক্তির উপায় থাকে না। তখন জ্ঞান একটি সূক্ষ্ম অহংকারে পরিণত হয়। এই কারণেই গীতার শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের শিক্ষা নয়, জ্ঞানের প্রতিও আসক্তি অতিক্রম করার শিক্ষা।
সত্ত্বের এই সূক্ষ্ম বন্ধনকে বোঝার জন্য একটি স্বচ্ছ হ্রদের উপমা দেওয়া যায়। কাদায় পূর্ণ জল যেমন কিছুই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করতে পারে না, তেমনি তমোগুণে আচ্ছন্ন মন সত্যকে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। আবার প্রবল ঢেউয়ে উত্তাল জলও কোনো প্রতিবিম্বকে স্থিরভাবে ধারণ করতে পারে না, যা রজোগুণের অস্থিরতার সঙ্গে তুলনীয়। কিন্তু যখন জল পরিষ্কার ও শান্ত থাকে, তখন আকাশ, বৃক্ষ ও মানুষের প্রতিচ্ছবি সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। সত্ত্বগুণও মানুষের চেতনাকে তেমনই স্বচ্ছ করে। কিন্তু সেই স্বচ্ছ জলের সৌন্দর্যের প্রতি যদি মানুষ নিজেই আসক্ত হয়ে যায় এবং নদীর ওপারে যাওয়ার উদ্দেশ্য ভুলে যায়, তখন সেই সৌন্দর্যও তার যাত্রার প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দার্শনিকভাবে এই শ্লোক সাংখ্য দর্শনের একটি মৌলিক সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। প্রকৃতির তিন গুণই প্রকৃতির অন্তর্গত। সত্ত্ব রজস ও তমসের তুলনায় উৎকৃষ্ট ও নির্মল হলেও সেটি এখনও প্রকৃতিরই অংশ। আত্মা বা পুরুষ প্রকৃতির গুণসমূহের অতীত। কিন্তু জীব যখন প্রকৃতির গুণের সঙ্গে নিজের পরিচয় স্থাপন করে, তখন সে বন্ধনের অভিজ্ঞতা লাভ করে। তাই সত্ত্ব মানুষের চেতনাকে আত্মজ্ঞান লাভের জন্য প্রস্তুত করে ঠিকই, কিন্তু সত্ত্বের মধ্যেই চূড়ান্ত অবস্থান নয়। আত্মস্বরূপ উপলব্ধির জন্য শেষ পর্যন্ত গুণত্রয়কেও অতিক্রম করতে হয়।
অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতেও সত্ত্বের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সত্ত্বপ্রধান মন আত্মজ্ঞান গ্রহণের জন্য অধিক উপযোগী। কারণ অস্থির ও অশান্ত মন আত্মতত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারে না। কিন্তু সত্ত্বও প্রকৃতির অন্তর্গত হওয়ায় সেটিকে চূড়ান্ত আত্মস্বরূপ বলে গ্রহণ করা যায় না। সত্ত্ব হলো আত্মজ্ঞান লাভের জন্য একটি নির্মল মাধ্যম। যেমন একটি নৌকা নদী পার হতে সাহায্য করে, কিন্তু নদী পার হয়ে গেলে নৌকাটিকে মাথায় করে নিয়ে চলার প্রয়োজন হয় না, তেমনি সত্ত্ব জীবকে অজ্ঞতার তীর থেকে জ্ঞানের তীরে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্ত্বের পরিচয়ও অতিক্রম করতে হয়।
এই শ্লোক মানবজীবনের ক্ষেত্রেও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক। একজন মানুষ যদি অলসতা, অজ্ঞতা ও অন্ধ মোহের মধ্যে থাকে, তবে তার প্রথম প্রয়োজন হলো তমস থেকে বেরিয়ে আসা। এরপর তাকে রজসের অস্থিরতা ও অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করে সত্ত্বের শান্তি ও স্বচ্ছতার দিকে এগোতে হবে। কিন্তু আধ্যাত্মিক যাত্রার শেষ পর্যায়ে তাকে সত্ত্বের প্রতিও আসক্তি ত্যাগ করতে হবে। অর্থাৎ পথটি হলো অন্ধকার থেকে আলোতে, অস্থিরতা থেকে শান্তিতে এবং শান্তি থেকে গুণাতীত চৈতন্যের উপলব্ধিতে অগ্রসর হওয়া।
অনঘ শব্দের মাধ্যমে কৃষ্ণ অর্জুনকে যে সম্বোধন করেছেন তার মধ্যেও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। অনঘ অর্থ পাপ বা কলুষতামুক্ত। এই সম্বোধনের মধ্যে শুধু স্নেহ নয়, অর্জুনের অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক সম্ভাবনার প্রতি আস্থাও রয়েছে। কৃষ্ণ যেন বোঝাচ্ছেন যে সত্য উপলব্ধির জন্য মানুষের অন্তরকে নির্মল করতে হয়। জ্ঞান কেবল বুদ্ধির বিষয় নয়। হৃদয় ও চেতনার পরিশুদ্ধিও তার জন্য অপরিহার্য।
সাহিত্য ও প্রতীকের দৃষ্টিতে সত্ত্ব হলো আলোর প্রতীক। এটি প্রভাতের মতো, যেখানে রাতের অন্ধকার ধীরে ধীরে সরে যায় এবং চারদিকে স্বচ্ছতা জন্মায়। তমস যেখানে রাত্রির প্রতীক এবং রজস যেখানে ঝড়ের প্রতীক, সেখানে সত্ত্ব শান্ত প্রভাতের প্রতীক। কিন্তু গীতার চূড়ান্ত শিক্ষা হলো সূর্যের আলোতেও কোনো আসক্তি রাখা নয়। কারণ আত্মা নিজেই সেই চৈতন্য যার উপস্থিতিতে আলো ও অন্ধকার উভয়ই প্রকাশিত হয়।
এই শ্লোক আমাদের জীবনের একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করতে শেখায়। মানুষ কেবল দুঃখের দ্বারা আবদ্ধ হয় না। সুখও তাকে আবদ্ধ করতে পারে। মানুষ কেবল অজ্ঞতার দ্বারা আবদ্ধ হয় না। নিজের জ্ঞানের অহংকারও তাকে আবদ্ধ করতে পারে। মানুষ কেবল অশুভের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বন্ধনে পড়ে না। শুভের প্রতিও অতিরিক্ত আসক্তি তাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। তাই প্রকৃত স্বাধীনতা মানে শুধু খারাপকে ত্যাগ করা নয়। প্রকৃত স্বাধীনতা হলো ভালোকে গ্রহণ করা, ভালো দ্বারা নিজেকে পরিশুদ্ধ করা এবং শেষ পর্যন্ত ভালো ও মন্দ উভয়ের সীমাকে অতিক্রম করে নিজের প্রকৃত চৈতন্যস্বরূপকে উপলব্ধি করা।
এই কারণে তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বাৎ প্রকাশকমনাময়ম্ সুখসঙ্গেন বধ্নাতি জ্ঞানসঙ্গেন চানঘ শ্লোকটি শুধু সত্ত্বগুণের প্রশংসা নয়, বরং সত্ত্বের সীমাবদ্ধতারও এক অসাধারণ বিশ্লেষণ। সত্ত্ব মনকে নির্মল করে, জ্ঞানকে প্রকাশ করে, শান্তি এনে দেয় এবং আত্মিক উন্নতির পথ খুলে দেয়। কিন্তু সুখের প্রতি আসক্তি এবং জ্ঞানের প্রতি অহংকার সেই নির্মলতার মধ্যেও সূক্ষ্ম বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। তাই জীবনের সত্য সাধনা হলো সত্ত্বকে বিকশিত করা, মনকে নির্মল করা, জ্ঞান অর্জন করা, শান্তি লাভ করা এবং তারপর সেই সমস্ত অর্জনের প্রতিও আসক্তি ত্যাগ করা। যখন মানুষ সুখকে ভোগের বস্তু না করে সাক্ষী হয়ে অনুভব করে, জ্ঞানকে অহংকারের অলংকার না করে সত্য উপলব্ধির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে এবং প্রকৃতির সমস্ত গুণকে অতিক্রম করে নিজের চৈতন্যস্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই তার সামনে প্রকৃত মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। এই শ্লোকের গভীরতম বাণী তাই হলো নির্মল হও, জ্ঞানী হও, শান্ত হও, কিন্তু কোনো অবস্থাকেই নিজের চূড়ান্ত পরিচয় মনে করো না। কারণ আত্মার সত্য স্বরূপ কোনো গুণের মধ্যে আবদ্ধ নয়। আত্মা স্বভাবতই স্বাধীন, স্বচ্ছ, চিরন্তন এবং গুণাতীত।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!