সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৪.৭ — রজোগুণের তৃষ্ণা, আসক্তি ও কর্মবন্ধনের গভীর তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
রজো রাগাত্মকং বিদ্ধি তৃষ্ণাসঙ্গসমুদ্ভবম্। তন্নিবধ্নাতি কৌন্তেয় কর্মসঙ্গেন দেহিনম্।।৭।।
রজো রাগাত্মকং বিদ্ধি তৃষ্ণাসঙ্গসমুদ্ভবম্। 
তন্নিবধ্নাতি কৌন্তেয় কর্মসঙ্গেন দেহিনম্।।৭।।

অনুবাদঃ হে কৌন্তেয়! রজোগুণ অনুরাগাত্মক এবং তা তৃষ্ণা ও আসক্তি থেকে উৎপন্ন বলে জানবে এবং সেই রজোগুণই জীবকে সকাম কর্মের আসক্তির দ্বারা আবদ্ধ করে।

ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের সপ্তম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ প্রকৃতির তিন গুণের মধ্যে রজোগুণের প্রকৃতি এবং মানুষের জীবনে তার গভীর প্রভাব অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। শ্লোকটি হলো রজো রাগাত্মকং বিদ্ধি তৃষ্ণাসঙ্গসমুদ্ভবম্। তন্নিবধ্নাতি কৌন্তেয় কর্মসঙ্গেন দেহিনম্। এর সহজ অর্থ হলো, হে কৌন্তেয়, রজোগুণকে তুমি আকর্ষণ ও আসক্তির স্বরূপ বলে জানো। এটি তৃষ্ণা ও আসক্তি থেকে উৎপন্ন হয় এবং কর্মের প্রতি আসক্তির মাধ্যমে দেহধারী জীবকে আবদ্ধ করে। এই কয়েকটি শব্দের মধ্যে মানুষের মন, তার আকাঙ্ক্ষা, কর্মপ্রবণতা, ভোগের বাসনা এবং বন্ধনের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক সত্য প্রকাশিত হয়েছে।

রজোগুণ শব্দটির মূল সংস্কৃত রজস্। প্রাচীন সংস্কৃত ব্যবহারে রজসের সঙ্গে গতি, চাঞ্চল্য, উদ্দীপনা, ধূলি এবং অস্থিরতার ধারণা যুক্ত ছিল। সাংখ্য দর্শনে রজস প্রকৃতির তিনটি মৌলিক গুণের একটি। সত্ত্ব যেখানে জ্ঞান, স্বচ্ছতা ও সাম্যের প্রতীক এবং তমস যেখানে জড়তা, অন্ধকার ও স্থবিরতার প্রতীক, সেখানে রজস হলো গতি, পরিবর্তন, উদ্যোগ, আকাঙ্ক্ষা ও ক্রিয়াশীলতার শক্তি। তাই রজোগুণকে কেবল নেতিবাচক শক্তি হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যায় না। মানুষের কর্মপ্রেরণা, সৃষ্টিশীলতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও রজসের কার্যকারিতা রয়েছে। কিন্তু যখন এই কর্মশক্তি তৃষ্ণা ও আসক্তির দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন সেটিই মানুষের বন্ধনের কারণ হয়ে ওঠে।

শ্লোকে রজোগুণকে রাগাত্মক বলা হয়েছে। এখানে রাগ শব্দটির অর্থ ক্রোধ নয়। সংস্কৃত ভাষায় রাগের একটি গভীর অর্থ হলো আকর্ষণ, অনুরাগ, আসক্তি এবং কোনো বিষয়কে লাভ বা ভোগ করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা। আত্মক অর্থ যার স্বভাব বা প্রকৃতি এমন। সুতরাং রাগাত্মক অর্থ হলো যার প্রকৃতির মধ্যে আকর্ষণ ও আসক্তি নিহিত রয়েছে। এই অর্থে রজস মানুষের মনকে ক্রমাগত কোনো না কোনো বিষয়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়। মানুষ তখন বর্তমান অবস্থায় স্থির থাকতে পারে না। তার মনে জন্ম নেয় আরও কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, আরও কিছু অর্জন করার বাসনা এবং নিজের অবস্থাকে পরিবর্তন করার প্রবল তাগিদ।

এই প্রসঙ্গে তৃষ্ণা শব্দটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ অর্থে তৃষ্ণা হলো পিপাসা। কিন্তু গীতার দার্শনিক অর্থে তৃষ্ণা হলো এমন এক অন্তর্গত আকাঙ্ক্ষা যা মানুষকে মনে করায় যে বর্তমানে যা আছে তা যথেষ্ট নয় এবং আরও কিছু অর্জন না করা পর্যন্ত সে সম্পূর্ণ হতে পারবে না। একটি ইচ্ছা পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি ইচ্ছা জন্ম নেয়। একটি সাফল্যের পরে নতুন সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা আসে। একটি ভোগের পরে আরও ভোগের বাসনা জেগে ওঠে। এভাবেই তৃষ্ণা মানুষকে এক অন্তহীন চাওয়ার প্রবাহে নিয়ে যায়।

তৃষ্ণার সঙ্গে যুক্ত হয় সঙ্গ। সঙ্গ অর্থ সংযোগ, সম্পর্ক এবং আসক্তি। কোনো বস্তু বা ব্যক্তির প্রতি আকর্ষণ যখন এত গভীর হয় যে তার সঙ্গে আমাদের সুখ, নিরাপত্তা এবং আত্মপরিচয়কে যুক্ত করে ফেলি, তখন সেই আকর্ষণ আসক্তিতে পরিণত হয়। তখন মানুষ শুধু কোনো বস্তু চায় না, সে মনে করে সেই বস্তু না পেলে তার জীবন অসম্পূর্ণ। সে শুধু সাফল্য চায় না, সে মনে করতে শুরু করে যে সাফল্য ছাড়া তার নিজের কোনো মূল্য নেই। সে শুধু সম্মান চায় না, সম্মান হারানোর চিন্তাতেই তার অন্তর অশান্ত হয়ে ওঠে। এখানেই রজসের বন্ধন শুরু হয়।

শ্রীকৃষ্ণ এরপর বলেন, তন্নিবধ্নাতি। অর্থাৎ সেই রজোগুণ জীবকে আবদ্ধ করে। কীভাবে আবদ্ধ করে তার উত্তরও তিনি দিয়েছেন। কর্মসঙ্গেন। অর্থাৎ কর্মের প্রতি আসক্তির মাধ্যমে। এই বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে কর্মকে বন্ধনের একমাত্র কারণ বলা হয়নি। কর্মের সঙ্গে আসক্তিই বন্ধনের মূল কারণ। কর্ম করা মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম। মানুষ যতক্ষণ দেহধারী, ততক্ষণ কোনো না কোনোভাবে তাকে কর্ম করতে হয়। তাই কর্ম ত্যাগ করাই মুক্তির পথ নয়। বরং কর্মের ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ত্যাগ করাই মুক্তির দিকে যাওয়ার পথ।

একজন ছাত্র পরিশ্রম করে পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারে। পরিশ্রম করা তার কর্তব্য এবং উন্নতির আকাঙ্ক্ষাও স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সে মনে করতে শুরু করে যে প্রথম স্থান অর্জন করতেই হবে এবং তা না হলে তার জীবনের কোনো মূল্য নেই, তখন কর্মের সঙ্গে আসক্তি যুক্ত হয়। একজন ব্যবসায়ী উন্নতি করতে পারেন, সম্পদ সৃষ্টি করতে পারেন এবং সমাজে কর্মসংস্থানও তৈরি করতে পারেন। কিন্তু যখন অর্থ তার আত্মপরিচয়ের একমাত্র ভিত্তি হয়ে ওঠে এবং অর্থ হারানোর ভয় তার শান্তি কেড়ে নেয়, তখন রজস তাকে কর্মের মাধ্যমে আবদ্ধ করে। একজন শিল্পী সৃষ্টি করতে পারেন নিজের অন্তরের আনন্দ থেকে। কিন্তু যখন তার সমস্ত সৃষ্টিশীলতা কেবল প্রশংসা, খ্যাতি ও পুরস্কারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়, তখন সৃষ্টির আনন্দের পরিবর্তে ফলের প্রতি আসক্তি তার মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

এই কারণেই রজোগুণের প্রকৃতি বোঝার জন্য কর্ম ও কর্মাসক্তির পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি। কর্ম মানুষকে গড়ে তুলতে পারে, সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে এবং জীবনের অর্থপূর্ণ প্রকাশ ঘটাতে পারে। কিন্তু কর্মের ফলকে নিজের অস্তিত্বের একমাত্র মানদণ্ড বানালে সেই কর্মই বন্ধনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মানুষ তখন কাজ করে স্বাধীনভাবে নয়, বরং কোনো নির্দিষ্ট ফল পাওয়ার বাধ্যতামূলক আকাঙ্ক্ষা থেকে। ফল পাওয়া পর্যন্ত তার মনে অস্থিরতা থাকে এবং ফল পাওয়ার পরে নতুন ফলের আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়। ফলে তার জীবন এক অবিরাম চাওয়া ও পাওয়ার চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।

রজোগুণের এই প্রবাহকে একটি অশান্ত ঘোড়ার সঙ্গে তুলনা করা যায়। ঘোড়ার শক্তি আছে, গতি আছে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু সেই শক্তির যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ঘোড়ার গতি যাত্রীর জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। তেমনি রজসের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ কর্মশক্তি। এই শক্তি মানুষকে অলসতা থেকে মুক্ত করে, নতুন কিছু সৃষ্টি করতে অনুপ্রাণিত করে এবং জীবনে অগ্রগতির আকাঙ্ক্ষা জাগায়। কিন্তু যখন বিবেক ও আত্মজ্ঞান দ্বারা এই শক্তি পরিচালিত হয় না, তখন মানুষ নিজের আকাঙ্ক্ষারই দাস হয়ে পড়ে।

রজসকে আগুনের সঙ্গেও তুলনা করা যায়। আগুন মানুষের উপকার করে, খাদ্য রান্না করে, আলো দেয় এবং শীত দূর করে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন আগুন ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। রজোগুণও তেমন। নিয়ন্ত্রিত রজস কর্মশক্তি, সৃষ্টিশীলতা ও উন্নতির কারণ হতে পারে। কিন্তু তৃষ্ণা ও আসক্তির সঙ্গে যুক্ত রজস অশান্তি, প্রতিযোগিতা, ঈর্ষা, লোভ এবং মানসিক বন্ধনের জন্ম দিতে পারে।

সাংখ্য দর্শনের দৃষ্টিতে রজস প্রকৃতির অপরিহার্য শক্তি। প্রকৃতি স্থির নয়। তার মধ্যে ক্রমাগত পরিবর্তন ও কার্যকলাপ চলছে। এই গতিশীলতার পেছনে রজসের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু জীব যখন নিজের প্রকৃত সত্তাকে ভুলে প্রকৃতির গুণগুলোর সঙ্গে নিজেকে এক করে দেখে, তখন গুণের কার্যকলাপই তার নিজের কার্যকলাপ বলে মনে হয়। তখন আকাঙ্ক্ষা তার নিজের বলে মনে হয়, কর্মফল তার নিজের অস্তিত্বের মূল্য হয়ে দাঁড়ায় এবং সুখ ও দুঃখ বাহ্যিক ঘটনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়। গীতার শিক্ষা হলো গুণকে চিনতে শেখা এবং গুণের দ্বারা সম্পূর্ণভাবে পরিচালিত না হওয়া।

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সে নিজের প্রকৃত সত্তাকে বাহ্যিক পরিচয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। সে ভাবে আমি আমার সম্পদ, আমি আমার পদ, আমি আমার সাফল্য, আমি আমার সম্পর্ক, আমি আমার সামাজিক মর্যাদা। কিন্তু এসবই পরিবর্তনশীল। আজ যা আছে কাল তা নাও থাকতে পারে। আজ যে সাফল্য আনন্দ দেয় কাল সেটিই হয়তো নতুন আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেবে। তাই যে ব্যক্তি নিজের অস্তিত্বকে পরিবর্তনশীল ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করে, তার শান্তিও পরিবর্তনশীল হয়ে যায়।

এই শ্লোক সেই ভুল পরিচয়ের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই আসে যখন সে বুঝতে পারে যে কর্ম তার জীবনের একটি অংশ, কিন্তু কর্মফল তার সম্পূর্ণ পরিচয় নয়। সাফল্য তার কাছে আসতে পারে, ব্যর্থতাও আসতে পারে। প্রশংসা আসতে পারে, নিন্দাও আসতে পারে। লাভ হতে পারে, ক্ষতিও হতে পারে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই তার অন্তর্গত সত্তার সম্পূর্ণ সংজ্ঞা নয়। এই উপলব্ধিই ধীরে ধীরে অনাসক্তির জন্ম দেয়।

আধুনিক জীবনের ক্ষেত্রেও এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আজ মানুষ ক্রমাগত তুলনার মধ্যে বসবাস করছে। কে বেশি সফল, কে বেশি ধনী, কে বেশি পরিচিত, কে বেশি সম্মানিত, কে বেশি সুন্দর জীবনযাপন করছে, এই প্রশ্নগুলো মানুষের মনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই প্রবণতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। মানুষ অন্যের জীবনের বাহ্যিক সাফল্য দেখে নিজের জীবনকে অসম্পূর্ণ মনে করতে পারে। তখন তৃষ্ণা আরও বাড়ে এবং মানুষ ক্রমাগত এমন কিছু অর্জনের চেষ্টা করে যা হয়তো তার অন্তরের প্রকৃত প্রয়োজনও নয়।

এই অবস্থায় গীতার রজোগুণ বিশ্লেষণ একটি গভীর আত্মজিজ্ঞাসার আহ্বান জানায়। আমি কেন এই কাজটি করছি। আমি কি সত্যিই এটি চাই, নাকি অন্যের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য চাই। আমি কি উন্নতি করতে চাই, নাকি অন্যকে অতিক্রম করতে চাই। আমি কি সম্পদ সৃষ্টি করছি, নাকি সম্পদের মাধ্যমে নিজের মূল্য প্রমাণ করতে চাই। আমি কি কর্ম করছি কর্তব্যবোধ থেকে, নাকি ফল না পাওয়ার ভয়ে অস্থির হয়ে কর্ম করছি। এই প্রশ্নগুলো মানুষকে নিজের অন্তরের প্রকৃতি দেখতে সাহায্য করে।

রজোগুণকে অতিক্রম করার অর্থ কর্মহীন হয়ে যাওয়া নয়। বরং কর্মের মধ্যে থেকেও অন্তরের স্বাধীনতা অর্জন করা। মানুষ তার কর্তব্য পালন করবে, চেষ্টা করবে, সৃষ্টিশীল হবে, উন্নতি করবে এবং সমাজের জন্য কাজ করবে। কিন্তু কর্মের ফলকে নিজের অস্তিত্বের একমাত্র ভিত্তি করবে না। সে বুঝবে যে তার অধিকার প্রচেষ্টায় এবং তার অন্তরের শান্তি কোনো নির্দিষ্ট ফলাফলের হাতে সম্পূর্ণভাবে সমর্পিত নয়।

এই কারণেই এই শ্লোক কেবল রজোগুণের একটি সংজ্ঞা নয়। এটি মানুষের অন্তর্গত অস্থিরতার একটি গভীর ব্যাখ্যা। মানুষের মনে প্রথমে তৃষ্ণা জাগে। তৃষ্ণা তাকে কোনো বিষয়ের দিকে আকৃষ্ট করে। আকর্ষণ থেকে আসক্তি জন্ম নেয়। আসক্তি তাকে নির্দিষ্ট কর্মের দিকে চালিত করে। কর্মের ফলের সঙ্গে পরিচয় যুক্ত হয়। ফলের ওপর নির্ভর করে সুখ ও দুঃখ তৈরি হয়। আবার সেই সুখ ও দুঃখ নতুন আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়। এভাবেই জীবনের বন্ধনের চক্র চলতে থাকে।

শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা এই চক্রকে ভেঙে দেওয়ার জন্য কর্ম পরিত্যাগের কথা বলেন না। তিনি চেতনার পরিবর্তনের কথা বলেন। কর্ম থাকবে, কিন্তু কর্মের প্রতি অন্ধ আসক্তি থাকবে না। আকাঙ্ক্ষা থাকবে, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা মানুষকে পরিচালনা করবে না। সাফল্য আসবে, কিন্তু সাফল্য অহংকারের কারণ হবে না। ব্যর্থতা আসবে, কিন্তু ব্যর্থতা আত্মপরিচয়কে ধ্বংস করবে না। মানুষ কর্ম করবে, কিন্তু নিজের অন্তরের স্বাধীনতাকে কর্মফলের হাতে সমর্পণ করবে না।

অতএব রজো রাগাত্মকং বিদ্ধি তৃষ্ণাসঙ্গসমুদ্ভবম্ তন্নিবধ্নাতি কৌন্তেয় কর্মসঙ্গেন দেহিনম্ এই শ্লোকের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো মানুষের বন্ধনের মূল বাহ্যিক কর্মে নয়, বরং কর্মের সঙ্গে যুক্ত মানসিক আসক্তিতে। রজস মানুষের মধ্যে গতি সৃষ্টি করে, তৃষ্ণা তাকে চালিত করে, সঙ্গ তাকে কোনো বিষয়ের সঙ্গে বেঁধে ফেলে এবং কর্মসঙ্গ তাকে সেই বন্ধনের মধ্যে স্থির করে রাখে। কিন্তু আত্মজ্ঞান, বিবেক ও অনাসক্তির মাধ্যমে মানুষ এই বন্ধনকে অতিক্রম করতে পারে। তখন কর্ম আর শৃঙ্খল থাকে না, কর্ম হয়ে ওঠে সাধনা। আকাঙ্ক্ষা আর অশান্তির কারণ থাকে না, তা পরিণত হয় সচেতন প্রয়াসে। জীবন তখন বাহ্যিক অর্জনের পেছনে ছুটে চলার নাম থাকে না। জীবন হয়ে ওঠে অন্তরের স্বাধীনতা, সচেতন কর্ম এবং আত্মস্বরূপের উপলব্ধির এক গভীর যাত্রা।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 23, 2026 August 23, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি