সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৪.৮ — তমোগুণের অজ্ঞান, মোহ, প্রমাদ ও অলস্যের বন্ধন

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
তমস্ত্বজ্ঞানজং বিদ্ধি মোহনং সর্বদেহিনাম্।প্রমাদালস্যনিদ্রাভিস্তন্নিবধ্নাতি ভারত।।৮।।
তমস্ত্বজ্ঞানজং বিদ্ধি মোহনং সর্বদেহিনাম্।
প্রমাদালস্যনিদ্রাভিস্তন্নিবধ্নাতি ভারত।।৮।।

অনুবাদঃ হে ভারত! অজ্ঞানজাত তমোগুণকে সমস্ত জীবের মোহনকারী বলে জানবে। সেই তমোগুণ প্রমাদ, আলস্য ও নিদ্রার দ্বারা জীবকে আবদ্ধ করে।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের অষ্টম শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রকৃতির তৃতীয় গুণ তমোগুণের গভীর স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। শ্লোকটি হলো তমস্ত্বজ্ঞানজং বিদ্ধি মোহনং সর্বদেহিনাম্ প্রমাদালস্যনিদ্রাভিস্তন্নিবধ্নাতি ভারত। অর্থাৎ হে ভারত, তমোগুণকে অজ্ঞান থেকে উৎপন্ন বলে জানো। এই তমোগুণ সকল দেহধারী জীবকে মোহাচ্ছন্ন করে এবং প্রমাদ, আলস্য ও নিদ্রার দ্বারা তাদের আবদ্ধ করে রাখে। শ্লোকটি আকারে সংক্ষিপ্ত হলেও এর মধ্যে মানুষের মন, চেতনা, কর্ম, জ্ঞান এবং আত্মিক বন্ধনের একটি গভীর বিশ্লেষণ নিহিত রয়েছে। এখানে তমোগুণকে কেবল অলসতা বা ঘুমের সঙ্গে যুক্ত কোনো সাধারণ মানসিক প্রবণতা হিসেবে দেখা হয়নি। বরং মানুষের চেতনাকে আচ্ছন্ন করে তাকে নিজের প্রকৃত স্বরূপ ও জীবনের সত্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখে এমন এক গভীর শক্তি হিসেবে তমোগুণকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তমঃ শব্দের মূল অর্থ অন্ধকার। বাহ্যিক জগতে অন্ধকার যেমন দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে এবং কোনো বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখতে বাধা দেয়, তেমনি অন্তর্জগতে তমোগুণ মানুষের বিচারবুদ্ধি ও সত্যদৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে। এখানে অন্ধকার বলতে শুধু আলো না থাকার বিষয় বোঝানো হয় না। এটি জ্ঞানের অভাব, সত্য উপলব্ধির অক্ষমতা, জড়তা, উদাসীনতা এবং চেতনার অবদমিত অবস্থার প্রতীক। মানুষের অন্তরে যখন জ্ঞানের আলো দুর্বল হয়ে যায় তখন সে নিজের প্রকৃত অবস্থা, কর্তব্য এবং জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত হতে থাকে। তাই তমোগুণের সঙ্গে অন্ধকারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং প্রতীকী।

অজ্ঞানজম্ শব্দটির মধ্যেও শ্লোকটির মূল রহস্য নিহিত রয়েছে। অজ্ঞান অর্থ সত্য সম্পর্কে অবিদ্যা বা যথার্থ জ্ঞানের অভাব এবং জম্ অর্থ জন্মিত বা উৎপন্ন। অর্থাৎ তমোগুণের ভিত্তিতে রয়েছে অজ্ঞান। মানুষ যখন সত্যকে জানে না তখন তার মধ্যে ভুল ধারণা জন্মায়। ভুল ধারণা থেকে মোহ সৃষ্টি হয় এবং মোহ থেকে বাস্তবতার প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নষ্ট হতে থাকে। এই কারণে তমোগুণের প্রথম এবং গভীরতম প্রকাশ হলো অজ্ঞান। এখানে অজ্ঞান বলতে কেবল কোনো বিষয় না জানা বোঝানো হয় না। একজন শিক্ষিত মানুষও তমোগুণের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন যদি তিনি নিজের প্রকৃত স্বরূপ, কর্তব্য এবং জীবনের গভীর সত্য সম্পর্কে সচেতন না হন। বাহ্যিক জ্ঞান থাকা এবং আত্মসচেতন হওয়া এক বিষয় নয়।

মোহনম্ শব্দটি এসেছে মোহের ধারণা থেকে। মোহ হলো এমন এক মানসিক আবরণ যার কারণে মানুষ সত্যকে সত্যরূপে দেখতে পারে না। অন্ধকারে যেমন দড়িকে সাপ বলে মনে হতে পারে, তেমনি অজ্ঞানের অন্ধকারে মানুষ সাময়িক বিষয়কে চরম সত্য বলে মনে করতে পারে। অর্থ, ভোগ, ক্ষমতা, অহংকার, অলসতা অথবা বাহ্যিক সাফল্যকে জীবনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য বলে মনে হওয়াও মোহের একটি প্রকাশ। মোহের কারণে মানুষ যা ক্ষণস্থায়ী তাকে স্থায়ী মনে করে এবং যা সত্যিকারভাবে মূল্যবান তাকে উপেক্ষা করে। এই অর্থে তমোগুণ মানুষের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে না, বরং তার অন্তর্দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে।

সর্বদেহিনাম্ শব্দটি শ্লোকটির পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে। সর্ব অর্থ সকল এবং দেহী অর্থ দেহধারী জীব। অর্থাৎ তমোগুণের প্রভাব কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতির গুণ হিসেবে এটি সকল দেহধারী জীবের মধ্যে কোনো না কোনো মাত্রায় প্রকাশ পেতে পারে। মানুষের জীবনে কখনো সত্ত্ব প্রবল হয়, কখনো রজঃ প্রবল হয় এবং কখনো তমঃ প্রবল হয়ে ওঠে। তাই এই শ্লোককে অন্যকে বিচার করার জন্য নয়, বরং নিজের অন্তর্জগতকে পর্যবেক্ষণ করার জন্যও পড়া যায়। প্রশ্নটি হওয়া উচিত আমি কখন তমোগুণের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছি এবং কীভাবে সেই অবস্থা থেকে নিজেকে উত্তরণ করাতে পারি।

শ্রীকৃষ্ণ তমোগুণের কার্যপ্রকাশ বোঝাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেগুলো হলো প্রমাদ, আলস্য এবং নিদ্রা। প্রমাদ অর্থ অসতর্কতা, কর্তব্য সম্পর্কে উদাসীনতা এবং সচেতনতার অভাব। মানুষ অনেক সময় জানে কী করা উচিত, কিন্তু তবুও সে তা করে না। সে সময়ের মূল্য বোঝে, কিন্তু সময় নষ্ট করে। সে নিজের ভুল বুঝতে পারে, কিন্তু ভুল সংশোধনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে না। এই অবস্থাই প্রমাদের গভীর অর্থ প্রকাশ করে। প্রমাদ শুধু অজ্ঞতা নয়, বরং সচেতনতার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেই সচেতনতাকে কাজে না লাগানো।

আলস্য হলো কর্মশক্তির স্থবিরতা। মানুষের মধ্যে জ্ঞান থাকতে পারে, সামর্থ্য থাকতে পারে, সুযোগও থাকতে পারে, কিন্তু কাজ করার উদ্যম না থাকলে সেই সামর্থ্য বাস্তব ফল সৃষ্টি করতে পারে না। আলস্য মানুষকে ধীরে ধীরে তার সম্ভাবনা থেকে বিচ্ছিন্ন করে। একটি বীজের মধ্যে যেমন বিশাল বৃক্ষের সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা ছাড়া সেই সম্ভাবনা প্রকাশ পায় না, তেমনি মানুষের মধ্যেও জ্ঞান ও কর্মশক্তির সম্ভাবনা থাকলেও তমোগুণের আলস্য সেই সম্ভাবনাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে পারে।

নিদ্রা শব্দটিরও এখানে গভীর তাৎপর্য রয়েছে। স্বাভাবিক ঘুম শরীর ও মনের জন্য অপরিহার্য। তাই শ্লোকে নিদ্রা বলতে সাধারণ বিশ্রামকে নিন্দা করা হয়নি। এখানে তমোগুণের সঙ্গে যুক্ত নিদ্রা হলো অতিরিক্ত জড়তা এবং চেতনার নিষ্ক্রিয়তা। মানুষ যখন জীবনের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে, আত্মোন্নতির চিন্তা হারিয়ে ফেলে এবং দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয়তার মধ্যে নিমজ্জিত থাকে, তখন সেই অবস্থাকে তমোগুণের নিদ্রার প্রতীক হিসেবে বোঝা যায়। বাহ্যিকভাবে চোখ খোলা থাকলেও অন্তরে মানুষ ঘুমিয়ে থাকতে পারে। সে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উপলব্ধি করছে না, নিজের শক্তিকে ব্যবহার করছে না এবং সত্যের সন্ধান করছে না।

এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে একটি ধারাবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। অজ্ঞান থেকে মোহ জন্মায়, মোহ থেকে প্রমাদ সৃষ্টি হয়, প্রমাদ থেকে আলস্য বৃদ্ধি পায় এবং আলস্যের সঙ্গে চেতনার জড়তা ও নিদ্রা যুক্ত হয়। এইভাবে মানুষ নিজের মধ্যেই এমন একটি বন্ধন তৈরি করে যার শিকল বাইরে দেখা যায় না। এই কারণেই শ্লোকে বলা হয়েছে তন্নিবধ্নাতি অর্থাৎ তা জীবকে আবদ্ধ করে রাখে। তমোগুণের বন্ধন কোনো লোহার শিকলের মতো নয়। এটি মানুষের চিন্তা, অভ্যাস, প্রবণতা এবং মানসিক অবস্থার মধ্যে তৈরি হওয়া এক অদৃশ্য বন্ধন।

দার্শনিক দৃষ্টিতে এই শ্লোক প্রকৃতি এবং চেতনার সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতি তিন গুণের সমন্বয়ে প্রকাশিত। সত্ত্ব জ্ঞান ও স্বচ্ছতার সঙ্গে যুক্ত, রজঃ কর্ম ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত এবং তমঃ জড়তা ও অজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত। জীব যখন এই গুণগুলির প্রভাবে নিজের প্রকৃত স্বরূপকে ভুলে যায় তখন সে প্রকৃতির কার্যকলাপকেই নিজের সত্য পরিচয় বলে মনে করে। গীতার শিক্ষা হলো মানুষকে ধীরে ধীরে এই গুণগুলির কার্যপ্রণালী বুঝতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত গুণের বন্ধন অতিক্রম করতে হবে।

বেদান্তীয় দৃষ্টিতে তমোগুণ আত্মাকে অন্ধকার করে না, কারণ আত্মা নিজেই চৈতন্যস্বরূপ। বরং তমোগুণ মানুষের আত্মস্বরূপ উপলব্ধির ক্ষমতাকে আচ্ছন্ন করে। যেমন মেঘ সূর্যকে ধ্বংস করতে পারে না, কেবল মানুষের দৃষ্টিতে সূর্যের আলোকে আড়াল করে, তেমনি অজ্ঞান আত্মজ্ঞানকে ধ্বংস করে না, কিন্তু আত্মজ্ঞানকে উপলব্ধি করতে বাধা দেয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কারণ এর অর্থ হলো মানুষের অন্তরের আলো কখনো সত্যিকার অর্থে নিঃশেষ হয় না। অজ্ঞানের আবরণ দূর হলে সেই আলো আবার প্রকাশিত হতে পারে।

এই শ্লোকের একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক অর্থও রয়েছে। মানুষের আচরণ অনেক সময় তার অন্তর্গত চেতনার অবস্থার বহিঃপ্রকাশ। যখন মানুষ নিজের জীবন সম্পর্কে উদ্দেশ্যহীন হয়ে পড়ে, তখন তার মধ্যে কাজ পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা, অতিরিক্ত ঘুম, উদাসীনতা এবং উদ্যোগহীনতা দেখা দিতে পারে। গীতার ভাষায় এগুলোকে তমোগুণের প্রকাশ হিসেবে বোঝা যায়। এখানে উদ্দেশ্য কাউকে কোনো মানসিক অবস্থার জন্য দোষী করা নয়। বরং নিজের চেতনার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন হওয়াই মূল শিক্ষা।

সাহিত্য ও প্রতীকের দিক থেকেও তমোগুণ অত্যন্ত শক্তিশালী একটি ধারণা। আলো ও অন্ধকার মানবসভ্যতার প্রায় সব আধ্যাত্মিক ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যেই জ্ঞান ও অজ্ঞানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আলো মানে জাগরণ, সত্য, আশা এবং উপলব্ধি। অন্ধকার মানে অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি এবং অচেতনতা। গীতার তমঃ এই চিরন্তন প্রতীকের একটি গভীর দার্শনিক রূপ। এটি বাহ্যিক রাতের অন্ধকার নয়, বরং মানুষের অন্তরে এমন একটি রাত যেখানে সত্যের সূর্য উদিত হলেও মানুষ তার দিকে তাকাতে পারে না।

বাস্তব জীবনের দিকে তাকালে শ্লোকটির সত্যতা সহজেই উপলব্ধি করা যায়। একজন শিক্ষার্থী জানে যে তাকে পড়াশোনা করতে হবে, কিন্তু প্রতিদিন সে কাজটি আগামী দিনের জন্য রেখে দেয়। একজন মানুষ জানে যে তার কোনো অভ্যাস ক্ষতিকর, কিন্তু তা পরিবর্তনের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে না। কেউ নিজের ভুল বুঝতে পারলেও অহংকার বা উদাসীনতার কারণে তা সংশোধন করে না। আবার কেউ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলিকে এড়িয়ে গিয়ে কেবল আরাম ও বিনোদনের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখে। এই প্রতিটি অবস্থার মধ্যে তমোগুণের কোনো না কোনো প্রকাশ দেখা যেতে পারে।

একটি প্রদীপের উপমা দিয়ে বিষয়টি আরও সহজে বোঝা যায়। মানুষের অন্তর্নিহিত চেতনাকে যদি একটি প্রদীপের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে জ্ঞান সেই প্রদীপের আলো। তমোগুণ হলো সেই ধোঁয়া যা আলোকে আচ্ছন্ন করে। প্রদীপের আলো নিভে যায়নি, কিন্তু ধোঁয়ার কারণে তা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না। তেমনি মানুষের অন্তরে জ্ঞান ও আত্মসচেতনতার সম্ভাবনা থাকলেও অজ্ঞান, মোহ, প্রমাদ ও আলস্য সেই সম্ভাবনাকে আচ্ছন্ন করে রাখতে পারে। তাই আত্মিক উন্নতির অর্থ নতুন কোনো আলো সৃষ্টি করা নয়, বরং যে আলো অন্তরে রয়েছে তার ওপর জমে থাকা অন্ধকারের আবরণ সরিয়ে দেওয়া।

এই শ্লোক আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। মানুষকে সবসময় বাইরের কোনো শক্তি পরাজিত করে না। অনেক সময় নিজের অজ্ঞতা, উদাসীনতা এবং আলস্যই তার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে ওঠে। বাহ্যিক শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করা সহজ হতে পারে, কিন্তু নিজের অন্তরের জড়তার সঙ্গে যুদ্ধ করা অনেক কঠিন। কারণ বাহ্যিক শত্রুকে আমরা দেখতে পাই, কিন্তু তমোগুণের বন্ধন অনেক সময় আমাদের নিজের কাছেই অদৃশ্য থাকে।

তাই তমোগুণ থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ হলো আত্মসচেতনতা। নিজের মধ্যে কখন প্রমাদ আসছে, কখন আলস্য গ্রাস করছে, কখন অতিরিক্ত নিদ্রা বা জড়তা আমাদের কর্তব্য থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, তা উপলব্ধি করা প্রয়োজন। জ্ঞান অনুসন্ধান, সচেতন কর্ম, নিয়মিত আত্মপর্যালোচনা এবং জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর চিন্তা তমোগুণের অন্ধকারকে ধীরে ধীরে দুর্বল করতে পারে। গীতার বৃহত্তর শিক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে বলা যায়, মানুষকে প্রথমে তমসের জড়তা অতিক্রম করে কর্ম ও জ্ঞানের পথে জাগ্রত হতে হবে এবং পরবর্তীতে গুণত্রয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে।

শেষ পর্যন্ত তমস্ত্বজ্ঞানজং বিদ্ধি মোহনং সর্বদেহিনাম্ প্রমাদালস্যনিদ্রাভিস্তন্নিবধ্নাতি ভারত এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে অন্ধকারের প্রকৃত রূপ বাইরে নয়, মানুষের চেতনার মধ্যেই। তমোগুণ অজ্ঞান থেকে জন্ম নিয়ে মোহ সৃষ্টি করে এবং সেই মোহ মানুষকে প্রমাদ, আলস্য ও জড়তার বন্ধনে আবদ্ধ করে। ভাষাগতভাবে তমঃ হলো অন্ধকার, দার্শনিকভাবে এটি অজ্ঞানের প্রতীক, মনস্তাত্ত্বিকভাবে এটি চেতনার অবসাদ, সাহিত্যিকভাবে এটি অন্তরের রাত এবং আধ্যাত্মিকভাবে এটি আত্মস্বরূপ উপলব্ধির ওপর পড়ে থাকা এক আবরণ। কিন্তু এই অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়। জ্ঞানের আলো জ্বলে উঠলে মোহ দূর হতে পারে, সচেতনতা ফিরে আসতে পারে এবং মানুষ নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে পুনরায় উপলব্ধি করতে পারে। তাই এই শ্লোক কেবল তমোগুণের বর্ণনা নয়, এটি মানুষের আত্মজাগরণেরও একটি আহ্বান। যে মানুষ নিজের অজ্ঞতাকে চিনতে পারে, নিজের আলস্যকে অতিক্রম করতে পারে এবং নিজের চেতনাকে জাগ্রত রাখতে পারে, তার অন্তরেই ধীরে ধীরে অন্ধকারের অবসান হয়ে জ্ঞানের আলো উদিত হয়।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 23, 2026 August 23, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি