সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৪.৯ — সত্ত্বের সুখ, রজোগুণের কর্মাসক্তি ও তমোগুণের প্রমাদ

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
সত্ত্বং সুখে সঞ্জয়তি রজঃ কর্মণি ভারত। জ্ঞানমাবৃত্য তু তমঃ প্রমাদে সঞ্জয়ত্যুত।।৯।।
সত্ত্বং সুখে সঞ্জয়তি রজঃ কর্মণি ভারত। 
জ্ঞানমাবৃত্য তু তমঃ প্রমাদে সঞ্জয়ত্যুত।।৯।।

অনুবাদঃ হে ভারত! সত্ত্বগুণ জীবকে সুখে আবদ্ধ করে, রজোগুণ জীবকে সকাম কর্মে আবদ্ধ করে এবং তমোগুণ প্রমাদে আবদ্ধ করে।

ভগবদ্গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের নবম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ প্রকৃতির তিন গুণ সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ মানুষের জীবন ও চেতনার উপর কীভাবে প্রভাব বিস্তার করে তার এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শ্লোকটি হলো সত্ত্বং সুখে সঞ্জয়তি রজঃ কর্মণি ভারত। জ্ঞানমাবৃত্য তু তমঃ প্রমাদে সঞ্জয়ত্যুত।। অর্থাৎ হে ভারত, সত্ত্বগুণ মানুষকে সুখের সঙ্গে যুক্ত করে, রজোগুণ তাকে কর্মের সঙ্গে আবদ্ধ করে এবং তমোগুণ জ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে তাকে প্রমাদের সঙ্গে যুক্ত করে রাখে। অতি সংক্ষিপ্ত এই বাণীর মধ্যে মানুষের অন্তর্জগতের এমন একটি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ নিহিত রয়েছে, যা কেবল ধর্মীয় শিক্ষার বিষয় নয়, বরং মানুষের মন, আচরণ, আকাঙ্ক্ষা, জ্ঞান ও আত্মসচেতনতা বোঝার এক গভীর দার্শনিক সূত্র।

সত্ত্ব শব্দের মধ্যে অস্তিত্ব, সত্যতা, বিশুদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও আলোকময়তার ভাব নিহিত রয়েছে। ভারতীয় দর্শনে সত্ত্ব প্রকৃতির সেই গুণ যা চেতনাকে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ করে এবং জ্ঞান ও প্রশান্তির দিকে নিয়ে যায়। সত্ত্বের প্রভাবে মানুষের মন শান্ত হয়, বিচারবুদ্ধি পরিষ্কার হয় এবং সত্যকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন সত্ত্বং সুখে সঞ্জয়তি। সত্ত্ব মানুষকে সুখের সঙ্গে যুক্ত করে। এখানে সুখ বলতে কেবল ইন্দ্রিয়ের আনন্দ বোঝানো হয় না। অন্তরের প্রশান্তি, নির্মলতা, জ্ঞান থেকে উদ্ভূত আনন্দ এবং নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুভব করাও এই সুখের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু গীতার শিক্ষা আরও সূক্ষ্ম। সত্ত্বের সুখও এক ধরনের বন্ধন হতে পারে। কারণ মানুষ যখন শান্তি ও সুখের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে তখন সেই সুখের আকাঙ্ক্ষাও তাকে প্রকৃতির গুণের সঙ্গে আবদ্ধ করে রাখে। তাই সত্ত্ব অন্ধকারের তুলনায় উচ্চতর হলেও সেটিই চূড়ান্ত মুক্তি নয়।

রজঃ শব্দের মধ্যে গতি, আকর্ষণ, আবেগ, উদ্দীপনা ও কর্মপ্রবাহের ভাব রয়েছে। রজোগুণ মানুষকে স্থির থাকতে দেয় না। সে কিছু অর্জন করতে চায়, নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে চায়, অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চায় এবং ভবিষ্যতের কোনো ফল লাভের আশায় নিরন্তর কর্মে প্রবৃত্ত হয়। এই কারণেই বলা হয়েছে রজঃ কর্মণি। রজোগুণ মানুষকে কর্মের সঙ্গে যুক্ত করে। এখানে কর্মকে নেতিবাচক অর্থে দেখা হয়নি। কর্ম মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। সমাজ, সভ্যতা, বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা ও মানবকল্যাণের অগ্রগতির পেছনে কর্মশক্তির বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু রজোগুণের সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন কর্ম আর কর্তব্য থাকে না, বরং নিজের অস্তিত্বের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়। তখন মানুষ কাজের ফলের প্রতি আসক্ত হয় এবং একটি সাফল্যের পর আরেকটি সাফল্যের পেছনে ছুটতে থাকে। বাহ্যিকভাবে তার জীবন যত বেশি সক্রিয় হয়, অন্তরের অস্থিরতাও তত বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।

তমঃ শব্দের আক্ষরিক অর্থ অন্ধকার। ভারতীয় দর্শনে এটি জড়তা, অজ্ঞান, মোহ, অলসতা, অসচেতনতা, বিভ্রান্তি ও সত্যকে আচ্ছন্ন করার শক্তির প্রতীক। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন জ্ঞানমাবৃত্য তু তমঃ। অর্থাৎ তমোগুণ জ্ঞানকে আবৃত করে। এই বক্তব্য অত্যন্ত গভীর। তমস মানুষের জ্ঞানকে সবসময় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয় না। বরং জ্ঞানের উপর এমন একটি আবরণ সৃষ্টি করে যার ফলে মানুষ সত্য জানলেও সেই সত্য অনুযায়ী চলতে পারে না। একজন মানুষ জানে কোনো অভ্যাস তার জন্য ক্ষতিকর, তবু সে অভ্যাস ছাড়তে পারে না। সে জানে কোনো সিদ্ধান্ত ভুল, তবু নিজের ভুল স্বীকার করতে চায় না। সে জানে তার কর্তব্য কী, কিন্তু উদাসীনতা ও জড়তার কারণে তা পালন করে না। এই অবস্থাই তমোগুণের কার্যপ্রণালীর একটি বাস্তব উদাহরণ।

তমোগুণের সঙ্গে প্রমাদের সম্পর্ক আরও গভীর। প্রমাদ বলতে কেবল ভুল বোঝানো হয় না। প্রমাদ হলো এমন এক অসতর্ক ও অসচেতন অবস্থা যেখানে মানুষ নিজের জীবন, কর্তব্য, সত্য ও পরিণতি সম্পর্কে যথাযথ সচেতন থাকে না। একজন মানুষ যদি দীর্ঘদিন নিজের উন্নতি, সম্পর্ক, দায়িত্ব ও আত্মিক সম্ভাবনার প্রতি উদাসীন থাকে তাহলে সেই উদাসীনতা ধীরে ধীরে তার স্বভাবের অংশ হয়ে যেতে পারে। তমোগুণ সেই অবস্থাকে শক্তিশালী করে। ফলে মানুষ শুধু ভুল করে না, অনেক সময় সে বুঝতেই পারে না যে সে ভুল পথে এগিয়ে চলেছে। এই কারণে তমসকে অন্ধকারের সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত অর্থবহ। যেমন অন্ধকারে পথ সামনে থাকলেও তা দেখা যায় না, তেমনি তমসের আচ্ছাদনে সত্য সামনে উপস্থিত থাকলেও মানুষ তাকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে না।

এই শ্লোকের অন্যতম গভীর দিক হলো মানুষের বন্ধন সবসময় দুঃখের মাধ্যমে ঘটে না। সুখও বন্ধন হতে পারে, কর্মও বন্ধন হতে পারে এবং অজ্ঞতাও বন্ধনের কারণ হতে পারে। সত্ত্ব মানুষকে সুখের প্রতি আকৃষ্ট করে, রজঃ তাকে কর্মের প্রতি আকৃষ্ট করে এবং তমঃ তাকে প্রমাদের মধ্যে আবদ্ধ করে। অর্থাৎ মানুষের অন্তর্গত প্রবণতাই তার অভিজ্ঞতার প্রকৃতি নির্ধারণ করে। একই পরিস্থিতিতে থাকা দুইজন মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে, কারণ তাদের অন্তরে সক্রিয় গুণের মাত্রা ভিন্ন। একজন মানুষ জ্ঞান ও কর্তব্যবোধ থেকে কাজ করতে পারে, অন্যজন একই কাজ করতে পারে প্রশংসা, অর্থ বা সাফল্যের আকাঙ্ক্ষায়। বাহ্যিক কাজ একই হলেও অন্তর্গত প্রেরণা আলাদা। গীতার দৃষ্টিতে তাই শুধু মানুষ কী করছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কেন করছে এবং কোন মানসিক অবস্থায় করছে সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাংখ্য দর্শনের আলোকে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ প্রকৃতির মৌলিক তিন গুণ। সত্ত্ব প্রকাশ ও স্বচ্ছতার শক্তি, রজঃ গতি ও ক্রিয়ার শক্তি এবং তমঃ আচ্ছাদন ও জড়তার শক্তি। বাস্তব জীবনে এই তিনটি গুণ আলাদা আলাদা অবস্থায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে না। বরং তারা বিভিন্ন মাত্রায় পরস্পরের সঙ্গে মিশে মানুষের স্বভাব ও আচরণ গঠন করে। কখনো মানুষের মধ্যে সত্ত্ব প্রবল হয়, কখনো রজঃ এবং কখনো তমঃ। এই পরিবর্তনশীলতার কারণেই মানুষের মানসিক অবস্থা একরকম থাকে না। কোনো সময় সে গভীরভাবে চিন্তাশীল ও শান্ত, কোনো সময় প্রবল কর্মচঞ্চল এবং কোনো সময় অলস ও অসচেতন হয়ে পড়ে।

বেদান্তীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃকে চেতনার উপর প্রকৃতির বিভিন্ন প্রভাব হিসেবে বোঝা যায়। সত্ত্ব চেতনাকে প্রকাশ করার জন্য অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ মাধ্যমের মতো কাজ করে। রজঃ চেতনাকে ক্রিয়ামুখী করে এবং তমঃ চেতনাকে আচ্ছন্ন করে। একটি পরিষ্কার আয়নায় মুখ স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু ধুলোময় আয়নায় সেই প্রতিফলন অস্পষ্ট হয়ে যায়। একইভাবে সত্ত্বের আধিক্যে মানুষের অন্তর তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ হয় এবং সত্য উপলব্ধির সুযোগ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু গীতার চূড়ান্ত শিক্ষা হলো আত্মাকে কোনো গুণের সঙ্গে একাত্ম না করা। কারণ গুণের পরিবর্তন হচ্ছে প্রকৃতির মধ্যে, আত্মার প্রকৃত স্বরূপে নয়।

আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই শ্লোকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সত্ত্বকে মানসিক স্বচ্ছতা, স্থিরতা, আত্মসচেতনতা ও অন্তর্দৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা যায়। রজঃকে উচ্চ কর্মপ্রবণতা, অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, প্রতিযোগিতা ও বাহ্যিক সাফল্যের তাড়নার সঙ্গে তুলনা করা যায়। তমসকে উদাসীনতা, জড়তা, সিদ্ধান্তহীনতা, এড়িয়ে চলা ও অসচেতনতার সঙ্গে তুলনা করা যায়। অবশ্য এগুলো আধুনিক মনোবিজ্ঞানের সরাসরি সমার্থক নয়, বরং গীতার ধারণাকে আধুনিক মানসিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে বোঝার একটি তুলনামূলক উপায়। এই দৃষ্টিতে শ্লোকটি মানুষের অন্তর্গত মানসিক প্রবণতাকে পর্যবেক্ষণ করার এক শক্তিশালী শিক্ষা দেয়।

একজন ছাত্রের উদাহরণ নিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। তিনজন ছাত্র একই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রথম ছাত্র জ্ঞান অর্জনের আনন্দে পড়াশোনা করছে। সে বিষয়টি বুঝতে চায়, মনোযোগী এবং তুলনামূলকভাবে শান্ত। এখানে সত্ত্বের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। দ্বিতীয় ছাত্র প্রথম হতে চায়। সে অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে, বেশি নম্বর পেতে চায় এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চায়। এখানে রজোগুণ প্রবল। তৃতীয় ছাত্র পরীক্ষার গুরুত্ব জানে, কিন্তু পড়াশোনা বারবার পিছিয়ে দেয় এবং নিজের কর্তব্যের প্রতি উদাসীন থাকে। এখানে তমস ও প্রমাদের সম্পর্ক স্পষ্ট। তিনজনের বাহ্যিক পরিস্থিতি একই হলেও তাদের অন্তর্গত গুণের পার্থক্যের কারণে তাদের জীবনযাপন ও মানসিক অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মানুষের মনকে যদি একটি পথের সঙ্গে তুলনা করা হয় তাহলে সত্ত্ব হলো পরিষ্কার আলো, রজঃ হলো চলার শক্তি এবং তমঃ হলো ঘন কুয়াশা। আলো পথ দেখায়, গতি মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং কুয়াশা পথকে আড়াল করে। জীবনের জন্য আলো যেমন দরকার, তেমনি গতি ও কর্মও দরকার। কিন্তু কেবল গতি থাকলে মানুষ ভুল দিকেও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। আবার কেবল শান্তিতে স্থির থাকলে প্রয়োজনীয় কর্তব্য সম্পন্ন নাও হতে পারে। আর তমসের কুয়াশা থাকলে মানুষ পথই দেখতে পায় না। তাই গীতার শিক্ষা মানুষের জীবনে স্বচ্ছতা, যথাযথ কর্ম এবং অজ্ঞতার অতিক্রমকে এক বৃহত্তর আত্মিক যাত্রার অংশ হিসেবে দেখতে শেখায়।

এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত গভীর। সত্ত্ব হলো আলোর প্রতীক, রজঃ হলো গতির প্রতীক এবং তমঃ হলো অন্ধকারের প্রতীক। আলো সত্যকে প্রকাশ করে, গতি কর্মকে প্রকাশ করে এবং অন্ধকার সত্যকে আড়াল করে। কিন্তু গীতার দৃষ্টিতে আধ্যাত্মিক মুক্তি কেবল তমস থেকে সত্ত্বে পৌঁছানো নয়। সত্ত্ব নিঃসন্দেহে তমসের তুলনায় উচ্চতর এবং মুক্তির পথে সহায়ক, কিন্তু সত্ত্বের সুখের প্রতিও যদি আসক্তি জন্মায় তাহলে সেখানেও সূক্ষ্ম বন্ধন সৃষ্টি হতে পারে। তাই মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য তিন গুণের কার্যকলাপকে বুঝে তাদের দ্বারা নিজের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত না হতে দেওয়া।

শ্লোকটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো আত্মপর্যবেক্ষণ। মানুষের নিজের দিকে ফিরে তাকিয়ে প্রশ্ন করা প্রয়োজন যে তার জীবনে কোন গুণটি বর্তমানে বেশি সক্রিয়। সে কি শান্তি ও জ্ঞানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, নাকি নিরন্তর আকাঙ্ক্ষা ও কর্মের তাড়নায় ছুটছে, নাকি অজ্ঞতা ও উদাসীনতার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। এই আত্মজিজ্ঞাসাই গীতার শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে। কারণ শাস্ত্রের উদ্দেশ্য কেবল তত্ত্ব জানা নয়, নিজের চেতনার প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

সবশেষে বলা যায়, সত্ত্বং সুখে সঞ্জয়তি রজঃ কর্মণি ভারত। জ্ঞানমাবৃত্য তু তমঃ প্রমাদে সঞ্জয়ত্যুত এই শ্লোক মানুষের অন্তর্জগতের তিনটি মৌলিক প্রবাহকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ অসাধারণ গভীরতায় প্রকাশ করেছে। সত্ত্ব মানুষকে সুখ, স্বচ্ছতা ও জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়, রজঃ তাকে কর্ম, আকাঙ্ক্ষা ও অর্জনের প্রবাহে আবদ্ধ করে এবং তমঃ জ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে তাকে প্রমাদ, জড়তা ও অসচেতনতার মধ্যে নিমজ্জিত রাখে। এই তিনটি গুণ মানুষের জীবনকে নানা ভাবে পরিচালিত করলেও মানুষের প্রকৃত আত্মস্বরূপ তাদের ঊর্ধ্বে। তাই এই শ্লোকের অন্তর্নিহিত আহ্বান হলো নিজের মধ্যে সক্রিয় গুণগুলোকে চিনতে শেখা, তমসের অন্ধকার অতিক্রম করা, রজসের অস্থিরতাকে শুদ্ধ কর্মে রূপান্তর করা, সত্ত্বের স্বচ্ছতাকে ধারণ করা এবং শেষ পর্যন্ত তিন গুণের সীমা অতিক্রম করে আত্মস্বরূপের উপলব্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়া। এখানেই এই শ্লোকের ভাষাগত সৌন্দর্য, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, দার্শনিক তাৎপর্য এবং আধ্যাত্মিক মহিমা একসূত্রে মিলিত হয়েছে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 23, 2026 August 23, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি