সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৫.১২ — সূর্য, চন্দ্র ও অগ্নির তেজে পরমেশ্বরের ঐশ্বরিক প্রকাশ

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যদাদিত্যগতং তেজো জগদ্ ভাসয়তেহখিলম্।যচ্চন্দ্রমসি যচ্চাগ্নৌ তত্তেজো বিদ্ধি মামকম্।।১২।।
যদাদিত্যগতং তেজো জগদ্ ভাসয়তেহখিলম্।
যচ্চন্দ্রমসি যচ্চাগ্নৌ তত্তেজো বিদ্ধি মামকম্।।১২।।

অনুবাদঃ সূর্যের যে জ্যোতি এবং চন্দ্র ও অগ্নির যে জ্যোতি সমগ্র জগতকে উদ্ভাসিত করে, তা আমারই তেজ বলে জানবে।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পঞ্চদশ অধ্যায়ের দ্বাদশ শ্লোকটি প্রকৃতির দৃশ্যমান আলোকে কেন্দ্র করে এক গভীর আধ্যাত্মিক সত্যের সন্ধান দেয়। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, সূর্যের মধ্যে যে তেজ সমগ্র জগতকে আলোকিত করে, চন্দ্রের মধ্যে যে তেজ এবং অগ্নির মধ্যে যে তেজ রয়েছে, সেই তেজকে তাঁরই তেজ বলে জানতে। শ্লোকটি প্রথম দৃষ্টিতে সূর্য, চন্দ্র ও অগ্নির মহিমার কথা বললেও এর প্রকৃত বক্তব্য আরও গভীরে বিস্তৃত। এখানে বাহ্যিক আলোর মাধ্যমে অন্তরের আলোকে চিনতে শেখানো হয়েছে। প্রকৃতির দৃশ্যমান শক্তির মধ্য দিয়ে পরম সত্যের অদৃশ্য উপস্থিতিকে উপলব্ধি করার একটি আধ্যাত্মিক পথ এই শ্লোকের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

শ্লোকটির শুরুতেই রয়েছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদ যদাদিত্যগতং তেজো। এখানে আদিত্য শব্দের অর্থ সূর্য এবং গতং শব্দটি সংস্কৃত গম্ ধাতু থেকে এসেছে। গম্ ধাতুর মূল অর্থ যাওয়া, গমন করা, প্রবেশ করা বা কোনো স্থানে অবস্থান করা। তাই আদিত্যগতং বলতে সূর্যের মধ্যে অবস্থিত বা সূর্যের মধ্যে প্রকাশিত বোঝায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তেজঃ শব্দ। সংস্কৃত তেজস্ শব্দের সঙ্গে দীপ্তি, উজ্জ্বলতা, শক্তি, প্রখরতা, প্রতাপ এবং প্রকাশের ধারণা জড়িত। তেজ মানে শুধু আলো নয়। কোনো কিছুর যে শক্তি তাকে উজ্জ্বল, কার্যকর ও প্রভাবশালী করে তোলে, তাকেও তেজ বলা যায়। একজন জ্ঞানীর বুদ্ধির দীপ্তি যেমন এক ধরনের তেজ, একজন মহৎ মানুষের চরিত্রের প্রভাবও তেজের প্রকাশ হতে পারে। সেই অর্থে গীতার তেজ একটি বহুমাত্রিক শব্দ, যার মধ্যে বাহ্যিক আলো থেকে শুরু করে জ্ঞান, শক্তি ও আধ্যাত্মিক দীপ্তি পর্যন্ত নানা অর্থ একত্রিত হয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণ বলেন সেই তেজ জগদ্ ভাসয়তে অখিলম্ অর্থাৎ সমগ্র জগতকে আলোকিত করে। এখানে ভাসয়তে শব্দটি এসেছে ভাস্ ধাতু থেকে, যার অর্থ জ্বলা, দীপ্ত হওয়া, প্রকাশিত হওয়া এবং অন্য কিছুকে প্রকাশিত করা। এই শব্দটির মধ্যে একটি গভীর দার্শনিক অর্থ রয়েছে। আলো শুধু নিজে উজ্জ্বল হয় না, আলো অন্যকেও দৃশ্যমান করে। অন্ধকার ঘরে কোনো বস্তু থাকলেও আলো না থাকলে আমরা তাকে দেখতে পারি না। আলো এসে সেই বস্তুটিকে আমাদের কাছে প্রকাশ করে। তাই ভাসয়তে শব্দটি শুধু আলোকিত করার অর্থ বহন করে না। এটি প্রকাশ করার অর্থও বহন করে। শ্রীকৃষ্ণ যেন বোঝাচ্ছেন যে প্রকৃতির আলো আমাদের চোখের সামনে জগতকে প্রকাশ করে, কিন্তু সেই প্রকাশের গভীরে যে পরম শক্তি রয়েছে তাকেও চিনতে হবে।

এখানে অখিলম্ শব্দটির মধ্যেও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অখিল অর্থ সমগ্র, সম্পূর্ণ, কোনো অংশ বাদ না যাওয়া। সূর্যের আলো কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ নয়। তার আলো সমগ্র পৃথিবীকে স্পর্শ করে। গীতার ভাষায় এই সর্বব্যাপী প্রকাশ একটি বৃহত্তর সত্যের প্রতীক। পরম সত্য কোনো সীমিত স্থান, সময় বা মানুষের মধ্যে আবদ্ধ নয়। প্রকৃতির যে শক্তি মানুষের জীবনকে ধারণ করে, সেই শক্তির মধ্যেও তাঁর প্রকাশ রয়েছে। তাই ঈশ্বরকে কেবল কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা উপাসনালয়ে সীমাবদ্ধ করে দেখলে এই শ্লোকের ব্যাপকতা উপলব্ধি করা যায় না। কৃষ্ণ এখানে মানুষের দৃষ্টিকে সমগ্র প্রকৃতির দিকে প্রসারিত করছেন।

এরপর কৃষ্ণ বলেন যচ্চন্দ্রমসি যচ্চাগ্নৌ। অর্থাৎ চন্দ্রের মধ্যে যে তেজ এবং অগ্নির মধ্যে যে তেজ রয়েছে। সূর্য, চন্দ্র ও অগ্নিকে একসঙ্গে উল্লেখ করার মধ্যে অসাধারণ প্রতীকী সৌন্দর্য রয়েছে। সূর্য হলো প্রবল আলোর প্রতীক। তার মধ্যে রয়েছে শক্তি, জ্ঞান, প্রত্যক্ষতা এবং প্রকাশের ভাব। চন্দ্রের আলো সূর্যের তুলনায় কোমল। তাই চন্দ্র মানসিক প্রশান্তি, কোমলতা, অনুভূতি ও শান্তির প্রতীক হয়ে ওঠে। অন্যদিকে অগ্নি হলো রূপান্তর ও শক্তির প্রতীক। অগ্নি কোনো বস্তুকে যেমন গ্রহণ করে, তেমনি তাকে পরিবর্তনও করে। বৈদিক সংস্কৃতিতে অগ্নি যজ্ঞ, উৎসর্গ, শুদ্ধি ও দেবতার সঙ্গে মানুষের সংযোগেরও প্রতীক। ফলে সূর্য, চন্দ্র ও অগ্নি একত্রে মানুষের জীবনের জ্ঞান, অনুভূতি ও কর্মশক্তির একটি সুন্দর প্রতীকী রূপ নির্মাণ করে।

এই তিনটি শক্তির মধ্যেই কৃষ্ণ একই উৎসকে দেখতে বলছেন। মানুষের জীবনেও এই তিনটি শক্তির প্রয়োজন রয়েছে। জ্ঞান দরকার যাতে আমরা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারি। কোমলতা ও মানসিক প্রশান্তি দরকার যাতে জ্ঞান হৃদয়হীন হয়ে না যায়। আবার কর্মশক্তি দরকার যাতে উপলব্ধ সত্যকে জীবনে বাস্তবায়িত করা যায়। কেবল জ্ঞান থাকলেই জীবন পূর্ণ হয় না। কেবল অনুভূতি থাকলেও জীবন সঠিক পথে পরিচালিত হয় না। আবার কেবল কর্মশক্তি থাকলেও তা ভুল পথে চলে যেতে পারে। জ্ঞান, অনুভূতি ও কর্মের মধ্যে যে গভীর ঐক্য সৃষ্টি হয়, সেখানে মানুষের জীবন পরিণত হতে শুরু করে। শ্লোকটির প্রতীকী ব্যাখ্যায় সূর্য, চন্দ্র ও অগ্নিকে সেই মানবিক পরিপূর্ণতার তিনটি প্রকাশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

শ্লোকটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্ভবত তত্তেজো বিদ্ধি মামকম্। অর্থাৎ সেই তেজকে আমার তেজ বলে জানো। এখানে বিদ্ধি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত বিদ্ ধাতু থেকে। বিদ্ অর্থ জানা, উপলব্ধি করা বা সত্যকে চিনতে পারা। কিন্তু এখানে শুধু তথ্যগত জ্ঞান বোঝানো হয় না। কৃষ্ণ অর্জুনকে কেবল এই তথ্য মুখস্থ করতে বলছেন না যে সূর্যের আলো তাঁর। তিনি বলছেন সেই সত্যকে উপলব্ধি করতে। অর্থাৎ সূর্যের আলো দেখলে তার পেছনের উৎসের কথা স্মরণ করা, প্রকৃতির শক্তি অনুভব করলে তার অন্তর্নিহিত ঐক্য উপলব্ধি করা এবং দৃশ্যমান জগতের মধ্য দিয়ে অদৃশ্য সত্যের সন্ধান করা।

শেষ শব্দ মামকম্ এই উপলব্ধিকে আরও গভীর করে। মামকম্ অর্থ আমার বা আমারই। কিন্তু এখানে এটি সাধারণ মালিকানার অর্থে ব্যবহৃত নয়। কৃষ্ণ যেন বলছেন, সূর্য, চন্দ্র ও অগ্নির মধ্যে যে দীপ্তি প্রকাশিত হচ্ছে তা পরম সত্তার শক্তির প্রকাশ। অর্থাৎ প্রকৃতির শক্তি ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো স্বাধীন বাস্তবতা নয়। এটি ঈশ্বরীয় শক্তির প্রকাশ। এই ভাবটি ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন ধারায় বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অদ্বৈত বেদান্তে এই প্রকাশকে ব্রহ্মের সর্বব্যাপী সত্যের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে জগত ও জীবের সঙ্গে ঈশ্বরের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের আলোকে এই বক্তব্যকে বোঝা যায়। দ্বৈত দর্শনে ঈশ্বর ও জগতের পার্থক্য বজায় রেখেও প্রকৃতির সমস্ত শক্তির চূড়ান্ত উৎস হিসেবে ঈশ্বরকে স্বীকার করা হয়।

এই শ্লোকের সঙ্গে উপনিষদীয় আলোকতত্ত্বেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাহ্যিক আলো আমাদের চোখকে জগত দেখায়। কিন্তু আরও গভীর প্রশ্ন হলো, যে চেতনা সেই আলোকে উপলব্ধি করে তাকে কী আলোকিত করে। চোখ দেখে, কিন্তু চোখের দেখা সম্পর্কে সচেতন কে। মন চিন্তা করে, কিন্তু মনের চিন্তাকে জানে কে। এই প্রশ্ন মানুষকে বাহ্যিক আলো থেকে অন্তরের চৈতন্যের দিকে নিয়ে যায়। সূর্যের আলো তাই এখানে শুধু প্রকৃতির একটি ভৌত ঘটনা নয়। এটি মানুষের আত্মঅনুসন্ধানের একটি দ্বার। বাহ্যিক আলো থেকে অন্তরের জ্যোতিতে পৌঁছানোর পথ এই শ্লোকের অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক শিক্ষা।

এই কারণে তেজ শব্দটিকে শুধু পদার্থগত শক্তির অর্থে সীমাবদ্ধ করলে শ্লোকটির গভীরতা নষ্ট হয়। মানুষের মধ্যেও তেজ আছে। একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষের চরিত্রে তেজ থাকতে পারে। একজন জ্ঞানীর চিন্তায় তেজ থাকতে পারে। একজন সাহসী মানুষের সিদ্ধান্তে তেজ থাকতে পারে। একজন সাধকের অন্তরে আত্মিক তেজ থাকতে পারে। কোনো মানুষের উপস্থিতি যদি অন্যের মধ্যে সত্য, সাহস ও জাগরণের অনুভূতি সৃষ্টি করে, তাহলেও সেখানে এক ধরনের তেজ প্রকাশিত হয়। এই তেজ বাহ্যিক আলো নয়, কিন্তু তার কাজ অনেকটা আলোর মতো। এটি অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে এবং মানুষের সামনে একটি নতুন পথ প্রকাশ করে।

একটি সহজ উপমা দিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা যায়। একটি ঘরে অসংখ্য মূল্যবান বস্তু রয়েছে। কিন্তু ঘরটি অন্ধকার হওয়ায় কোনো কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আলো জ্বালানোর পর ঘরের কোনো বস্তু নতুন করে সৃষ্টি হলো না। বরং যা আগে থেকেই সেখানে ছিল তা প্রকাশিত হলো। জ্ঞানও অনেক সময় ঠিক এইভাবে কাজ করে। জ্ঞান আমাদের সামনে সবকিছু নতুন করে সৃষ্টি করে না। বরং আমাদের চোখের সামনে থাকা সত্যকে দেখতে শেখায়। তাই ভাসয়তে শব্দের মধ্যে শুধু আলো দেওয়া নয়, সত্যকে প্রকাশ করার একটি গভীর অর্থ রয়েছে।

মানবজীবনে এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক সময় জীবনের বাহ্যিক সাফল্য, সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা পরিচয়ের মধ্যে আলো খুঁজি। কিন্তু কৃষ্ণের শিক্ষা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে নিয়ে যায়। তিনি প্রকৃতির সহজ ও পরিচিত দৃশ্যের মধ্যেই পরম সত্যের স্মরণ করিয়ে দেন। সকালে সূর্যের আলো দেখা, রাতে চন্দ্রের প্রশান্তি অনুভব করা কিংবা অগ্নির উষ্ণতা উপলব্ধি করা প্রতিদিনের সাধারণ অভিজ্ঞতা। কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি সেই সাধারণ অভিজ্ঞতাকেই গভীর করে তুলতে পারে। তখন সূর্যের আলো শুধু আলো থাকে না। তা হয়ে ওঠে ঈশ্বরীয় শক্তির স্মারক। চন্দ্রের কোমলতা শুধু রাতের সৌন্দর্য থাকে না। তা হয়ে ওঠে অন্তরের প্রশান্তির প্রতীক। অগ্নি শুধু তাপ ও আলো দেয় না। তা হয়ে ওঠে কর্ম, শুদ্ধি ও রূপান্তরের প্রতীক।

এই শ্লোক তাই জগতকে অস্বীকার করার শিক্ষা দেয় না। বরং জগতকে নতুন চোখে দেখার শিক্ষা দেয়। ঈশ্বরকে খুঁজতে হলে সবকিছু থেকে দূরে সরে যেতে হবে এমন নয়। কখনও কখনও ঈশ্বরকে অনুভব করার জন্য আমাদের শুধু দেখার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হয়। একই সূর্যকে একজন মানুষ কেবল একটি নক্ষত্র হিসেবে দেখতে পারে। আর একজন সাধক সেই সূর্যের আলোতে সৃষ্টির গভীর রহস্যের আভাস পেতে পারেন। একই অগ্নিকে কেউ কেবল তাপের উৎস হিসেবে দেখতে পারে। অন্য কেউ তার মধ্যে রূপান্তর ও শুদ্ধির প্রতীক দেখতে পারে। পার্থক্য বস্তুতে নয়। পার্থক্য দৃষ্টিতে।

এই অর্থে গীতার পঞ্চদশ অধ্যায়ের দ্বাদশ শ্লোক আমাদের একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক দৃষ্টি অর্জনের আহ্বান জানায়। বাহ্যিক আলো থেকে অন্তরের আলোতে, দৃশ্যমান শক্তি থেকে অদৃশ্য উৎসে এবং প্রকৃতির বৈচিত্র্য থেকে অস্তিত্বের ঐক্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াই এই শ্লোকের গভীর শিক্ষা। সূর্য, চন্দ্র ও অগ্নি তিনটি আলাদা প্রকাশ হলেও তাদের তেজকে কৃষ্ণ একই পরম উৎসের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে জগতের অসংখ্য প্রকাশের অন্তরালে একটি গভীর ঐক্য কাজ করছে।

সবশেষে বলা যায়, যদাদিত্যগতং তেজো শ্লোকটি প্রকৃতপক্ষে আলো সম্পর্কে একটি শ্লোক হলেও এর শেষ গন্তব্য আলো নয়, চেতনা। তেজ এখানে বাহ্যিক দীপ্তি থেকে অন্তরের জ্ঞান পর্যন্ত বিস্তৃত। ভাসয়তে শুধু আলোকিত করা নয়, সত্যকে প্রকাশ করা। বিদ্ধি শুধু জানা নয়, উপলব্ধি করা। আর মামকম্ শুধু আমার বলা নয়, সমস্ত প্রকাশমান শক্তির পরম উৎসের দিকে ইঙ্গিত করা। তাই সূর্যের আলো দেখার সময় যদি মানুষের মনে সত্যের কথা জাগে, চন্দ্রের প্রশান্তি যদি অন্তরে শান্তি সৃষ্টি করে এবং অগ্নির দীপ্তি যদি কর্ম ও শুদ্ধির প্রেরণা জাগায়, তবে এই শ্লোকের শিক্ষা জীবন্ত হয়ে ওঠে। বাহ্যিক জ্যোতি তখন ধীরে ধীরে অন্তরের জ্যোতির দিকে নিয়ে যায়। আর মানুষ উপলব্ধি করতে শুরু করে যে জগতকে আলোকিত করা সেই মহাতেজ কেবল আকাশের সূর্যে নয়, প্রকৃতির প্রতিটি শক্তিতে এবং শেষ পর্যন্ত নিজের অন্তরের চৈতন্যেও এক গভীর রহস্যময় উপস্থিতি হিসেবে প্রকাশিত।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি