সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৫.১৩ — পৃথিবী ধারণ, উদ্ভিদের পুষ্টি ও জীবনের অন্তর্নিহিত ঈশ্বরীয় শক্তি

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
গামাবিশ্য চ ভূতানি ধারয়াম্যহমোজসা। পুষ্ণামি চৌষধীঃ সর্বাঃ সোমো ভূত্বা রসাত্মকঃ।।১৩।।
গামাবিশ্য চ ভূতানি ধারয়াম্যহমোজসা। 
পুষ্ণামি চৌষধীঃ সর্বাঃ সোমো ভূত্বা রসাত্মকঃ।।১৩।।

অনুবাদঃ আমি পৃথিবীতে প্রবিষ্ট হয়ে আমার শক্তির দ্বারা সমস্ত জীবদের ধারণ করি এবং রসাত্মক চন্দ্ররূপে ধান, যব আদি ওষধি পুষ্ট করছি।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পঞ্চদশ অধ্যায়ের ত্রয়োদশ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বিশ্বব্যাপী উপস্থিতির এমন এক গভীর পরিচয় দিয়েছেন, যেখানে ঈশ্বরকে কেবল কোনো দূরবর্তী অলৌকিক সত্তা হিসেবে নয়, বরং পৃথিবী, জীবজগৎ, উদ্ভিদ, খাদ্য এবং জীবনের পুষ্টির মধ্যেও অনুভব করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। শ্লোকটি হলো “গামাবিশ্য চ ভূতানি ধারয়াম্যহমোজসা। পুষ্ণামি চৌষধীঃ সর্বাঃ সোমো ভূত্বা রসাত্মকঃ।” সহজ বাংলায় এর অর্থ হলো, আমি পৃথিবীতে প্রবেশ করে আমার শক্তির দ্বারা সমস্ত জীবকে ধারণ করি এবং রসময় সোমরূপে অবস্থান করে সমস্ত উদ্ভিদ ও শস্যকে পুষ্ট করি। কয়েকটি শব্দের মধ্যে কৃষ্ণ এখানে সৃষ্টি, জীবন, প্রকৃতি, পুষ্টি এবং ঈশ্বরের পারস্পরিক সম্পর্কের এক বিস্ময়কর দর্শন তুলে ধরেছেন।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো গাম্। সংস্কৃত গো শব্দের একটি অর্থ পৃথিবী এবং এই শ্লোকে গাম্ বলতে পৃথিবীকেই বোঝানো হয়েছে। কিন্তু পৃথিবী এখানে কেবল মাটি বা একটি ভৌগোলিক গ্রহ নয়। পৃথিবী হলো সমস্ত জীবনের আশ্রয়। মানুষ, পশু, পাখি, বৃক্ষ এবং অসংখ্য জীব এই পৃথিবীর ওপর নির্ভর করে অস্তিত্ব লাভ করে। তাই গাম্ শব্দের মধ্যে শুধু একটি বস্তুগত পৃথিবীর ধারণা নেই। এর মধ্যে রয়েছে জীবনধারণের ভিত্তি এবং অস্তিত্বের আশ্রয়ের ধারণা।

এরপর এসেছে আবিশ্য শব্দটি। সংস্কৃত বিশ্ ধাতুর অর্থ প্রবেশ করা বা ভিতরে যাওয়া। এর সঙ্গে আ উপসর্গ যুক্ত হয়ে আবিশ্য শব্দের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ দাঁড়ায় প্রবেশ করে, ভিতরে অবস্থান করে বা পরিব্যাপ্ত হয়ে। এই একটি শব্দ শ্লোকটির দর্শনকে গভীর করে তোলে। কৃষ্ণ বলছেন না যে তিনি পৃথিবীর বাইরে দাঁড়িয়ে পৃথিবীকে পরিচালনা করছেন। তিনি বলছেন তিনি পৃথিবীতে প্রবেশ করে আছেন। অর্থাৎ ঈশ্বরের উপস্থিতি জগতের বাইরে যেমন কল্পনা করা যায়, তেমনি জগতের অন্তরেও তাঁকে উপলব্ধি করা যায়। পৃথিবীর অস্তিত্ব, তার ভারসাম্য এবং তার জীবনধারণকারী শক্তির মধ্যেও সেই পরম সত্তার প্রকাশ রয়েছে।

ভূতানি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভূ ধাতু থেকে। ভূ ধাতুর অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা জন্ম নেওয়া। ভূত বলতে তাই বোঝায় যে অস্তিত্ব লাভ করেছে। ভূতানি হলো সেই অস্তিত্বশীল সত্তাগুলির বহুবচন। এই শ্লোকে এর দ্বারা জীবজগৎ বা সমস্ত জীবসত্তাকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কৃষ্ণের বক্তব্য কেবল মানুষের জন্য নয়। পৃথিবীর সমগ্র জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত। জীবনের যে বৈচিত্র্য আমরা দেখি, তার অন্তরালে একটি ঐক্য রয়েছে। বাহ্যিকভাবে জীবেরা আলাদা হলেও তাদের অস্তিত্ব একটি বৃহত্তর জীবনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

ধারয়ামি শব্দটি এসেছে ধৃ ধাতু থেকে। ধৃ মানে ধারণ করা, ধরে রাখা, রক্ষা করা বা স্থির রাখা। এই ধাতুর সঙ্গে ধারণ, ধারক এবং ধর্মের মতো শব্দের ভাবগত সম্পর্ক রয়েছে। কৃষ্ণ যখন বলেন ধারয়ামি, তখন তিনি বোঝাচ্ছেন যে তিনি সমস্ত জীবকে ধারণ করেন। এখানে ধারণ করার অর্থ কেবল কোনো বস্তু হাতে ধরে রাখা নয়। এর অর্থ হলো অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা। যে শক্তির কারণে পৃথিবীর জীবজগৎ অস্তিত্ব বজায় রাখে, সেই জীবনধারণকারী শক্তিকেই কৃষ্ণ নিজের শক্তি হিসেবে প্রকাশ করছেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওজসা শব্দটি। ওজস শব্দের অর্থ শক্তি, বল, সামর্থ্য, প্রাণশক্তি বা তেজ। ওজসা অর্থ শক্তির দ্বারা। তাই ধারয়াম্যহমোজসা অর্থ দাঁড়ায় আমি আমার শক্তির দ্বারা সমস্ত জীবকে ধারণ করি। এই বক্তব্যের মধ্যে একটি গভীর বিশ্বদর্শন রয়েছে। জীবনের অস্তিত্ব কেবল বাহ্যিক উপাদানের সমষ্টি নয়। তার পেছনে একটি কার্যকর শক্তি রয়েছে। কৃষ্ণ সেই অন্তর্নিহিত জীবনধারণকারী শক্তির সঙ্গে নিজের পরিচয় স্থাপন করছেন।

শ্লোকের পরবর্তী অংশে এসেছে পুষ্ণামি শব্দটি। এটি পুষ্ ধাতু থেকে এসেছে এবং এর অর্থ পুষ্ট করা, লালন করা, বৃদ্ধি ঘটানো বা বিকশিত করা। ধারয়ামি এবং পুষ্ণামির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ধারয়ামি মানে জীবনকে ধারণ করা বা টিকিয়ে রাখা। পুষ্ণামি মানে সেই জীবনকে পুষ্ট করে বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটানো। অর্থাৎ কৃষ্ণ শুধু জীবনের অস্তিত্ব রক্ষা করার কথা বলছেন না। তিনি জীবনের বিকাশের কথাও বলছেন। এই দুটি শব্দ একত্রে দেখলে বোঝা যায় যে জীবন কেবল টিকে থাকার নাম নয়। জীবনকে বিকশিত হতে হয়, প্রসারিত হতে হয় এবং তার সম্ভাবনাকে প্রকাশ করতে হয়।

পুষ্ণামির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঔষধীঃ শব্দটি। সংস্কৃত ঔষধি শব্দটি আধুনিক অর্থে কেবল ওষুধ বোঝায় না। এর মধ্যে উদ্ভিদ, শস্য, ভেষজ এবং মানুষের জীবনধারণে সহায়ক উদ্ভিদজগতের ধারণাও রয়েছে। একটি ছোট বীজ মাটিতে পড়ে অঙ্কুরিত হয়, গাছ হয়ে ওঠে এবং পরে সেই গাছ মানুষের খাদ্য, পশুর খাদ্য কিংবা চিকিৎসার উপাদান হয়ে ওঠে। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রকৃতির পুষ্টিদায়ী শক্তি কাজ করছে। কৃষ্ণ সেই পুষ্টিদায়ী শক্তিকেও নিজের প্রকাশ হিসেবে দেখিয়েছেন।

এরপর আসে সোমো ভূত্বা রসাত্মকঃ। এই অংশটি শ্লোকটির সবচেয়ে কাব্যিক এবং দার্শনিক অংশগুলোর একটি। সোম বৈদিক সাহিত্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা। বৈদিক ঐতিহ্যে সোমের সঙ্গে পবিত্র যজ্ঞীয় পানীয় এবং পরবর্তী ভাবনায় চন্দ্রের সম্পর্ক রয়েছে। গীতার এই প্রসঙ্গে সোমকে চন্দ্ররূপে ব্যাখ্যা করা হয় এবং চন্দ্রের রসদায়ী ও পোষণকারী শক্তির সঙ্গে উদ্ভিদের বিকাশের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। তবে এই বক্তব্যকে আধুনিক বিজ্ঞানের সরল সূত্র হিসেবে না দেখে প্রাচীন ভারতীয় ধর্মদর্শনের ভাষায় প্রকৃতি ও জীবনের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা হিসেবে বোঝা অধিক যথাযথ।

রসাত্মক শব্দটির গভীরতা আরও বিস্ময়কর। রস শব্দের অর্থ স্বাদ, তরল নির্যাস, সারাংশ বা জীবনের পুষ্টিদায়ী সত্তা। কিন্তু ভারতীয় দর্শন ও সাহিত্যচিন্তায় রসের অর্থ আরও বিস্তৃত। রস মানে শুধু কোনো ফলের স্বাদ নয়। আনন্দ, অনুভূতি, অভিজ্ঞতার সারাংশ এবং জীবনের আস্বাদও রসের অন্তর্ভুক্ত। সেই কারণে রসাত্মক অর্থ হতে পারে রসস্বরূপ, রসে পূর্ণ অথবা যার প্রকৃতিই রস। শ্লোকের শেষ শব্দ হিসেবে রসাত্মক আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবন শুধু অস্তিত্বের যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়। জীবনের মধ্যে অনুভব আছে, আনন্দ আছে, সৌন্দর্য আছে এবং একটি গভীর সারাংশ আছে।

এই শ্লোককে একসঙ্গে দেখলে একটি সুন্দর ধারাবাহিকতা চোখে পড়ে। প্রথমে রয়েছে পৃথিবী। পৃথিবীর মধ্যে রয়েছে জীবজগৎ। জীবজগৎকে ধারণ করার শক্তি রয়েছে। তারপর সেই শক্তিই জীবনের পুষ্টির কারণ হয়ে ওঠে। উদ্ভিদ সেই পুষ্টির বাহক। আর উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে রস। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে জীবন, জীবন থেকে পুষ্টি এবং পুষ্টি থেকে রসের যে ধারাবাহিকতা, কৃষ্ণ তার অন্তর্নিহিত ঐক্যকে নিজের প্রকাশ হিসেবে দেখিয়েছেন।

মানবজীবনের ক্ষেত্রেও এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক সময় মনে করি আমাদের জীবন আমাদের নিজস্ব ক্ষমতার ফল। একজন মানুষ বলে আমি উপার্জন করি, আমি খাদ্য উৎপাদন করি, আমি আমার জীবন পরিচালনা করি। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায় মানুষের অস্তিত্বের পেছনে কত অসংখ্য শক্তি কাজ করছে। আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তার জন্য প্রয়োজন মাটি, জল, সূর্যের আলো, বায়ু, উদ্ভিদ এবং অসংখ্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। আমাদের জীবন তাই একা নয়। আমরা প্রকৃতির একটি বিশাল সম্পর্কের মধ্যে অবস্থান করছি। গীতার এই শ্লোক সেই আন্তঃনির্ভরতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের অহংকারকে নম্র করে। একজন মানুষ যখন উপলব্ধি করে যে তার জীবনের প্রতিটি স্তরে অন্য অসংখ্য শক্তির অবদান রয়েছে, তখন তার মধ্যে কৃতজ্ঞতা জন্মায়। যে অন্ন আমরা খাই, যে মাটিতে আমরা দাঁড়াই, যে গাছ আমাদের ফল দেয় এবং যে প্রকৃতি আমাদের জীবনকে ধারণ করে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি হয়। এই অর্থে শ্লোকটি শুধু ঈশ্বরতত্ত্বের শিক্ষা নয়। এটি প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধের শিক্ষাও দেয়।

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই শ্লোকের আরেকটি গভীর দিক হলো ঈশ্বরের অন্তর্নিহিত উপস্থিতির ধারণা। অদ্বৈত ভাবনায় পরম সত্য জগতের অন্তরেও প্রকাশিত এবং জগতের সীমার দ্বারা আবদ্ধ নয়। বিশিষ্টাদ্বৈত ভাবনায় ঈশ্বর জীব ও জগতের অন্তর্যামী এবং ধারক। ভক্তির দৃষ্টিতে আবার পৃথিবী, খাদ্য, উদ্ভিদ এবং জীবনধারণের প্রতিটি শক্তিকে ঈশ্বরের করুণা হিসেবে অনুভব করা যায়। দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও একটি সাধারণ সত্য এখানে প্রকাশিত হয়। জীবন থেকে ঈশ্বরকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা নয়, বরং জীবনের মধ্যেই ঈশ্বরীয় উপস্থিতিকে অনুভব করা।

এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত সুন্দর। পৃথিবী এখানে আশ্রয়ের প্রতীক। আবিশ্য ঈশ্বরের অন্তর্নিহিত উপস্থিতির প্রতীক। ধারয়ামি জীবনকে ধারণ করার প্রতীক। ওজসা অন্তর্নিহিত শক্তির প্রতীক। পুষ্ণামি বিকাশ ও পুষ্টির প্রতীক। ঔষধী প্রকৃতির জীবনদায়ী ক্ষমতার প্রতীক। আর রসাত্মক জীবনকে শুধু টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে তাকে অনুভব ও আস্বাদ করার প্রতীক। একটি গাছের কথা ভাবলে এই প্রতীকী অর্থ আরও স্পষ্ট হয়। গাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে। মাটি তাকে ধরে রাখে। জল তাকে পুষ্ট করে। আলো তার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পরে সেই গাছ ফল দেয়। সেই ফলের মধ্যে আবার জীবনের রস সঞ্চিত হয়। গীতার ভাষায় এই সমগ্র জীবনচক্রের অন্তর্নিহিত ঐক্যের মধ্যেই ঈশ্বরের প্রকাশ অনুভূত হতে পারে।

সাহিত্যিক দৃষ্টিতেও শ্লোকটি অসাধারণ। কয়েকটি শব্দের মধ্যে কৃষ্ণ যেন একটি সম্পূর্ণ মহাজাগতিক দৃশ্য এঁকে দিয়েছেন। পৃথিবী রয়েছে, পৃথিবীর মধ্যে জীব রয়েছে, জীবনকে ধারণ করার শক্তি রয়েছে, উদ্ভিদ রয়েছে, পুষ্টি রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত রয়েছে রস। এই রসই জীবনের সৌন্দর্যকে সম্পূর্ণ করে। ভারতীয় সাহিত্যতত্ত্বে রস যে অনুভূতির গভীরতম আস্বাদ, সেই বৃহত্তর অর্থের সঙ্গে এই শব্দের একটি চমৎকার ভাবগত সম্পর্ক রয়েছে।

আধুনিক পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে এই শ্লোকের শিক্ষা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। পরিবেশ ধ্বংস, মাটির অবক্ষয়, জলদূষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার যুগে মানুষ যদি প্রকৃতিকে কেবল ব্যবহারযোগ্য সম্পদ হিসেবে দেখে, তাহলে জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু গীতার এই দৃষ্টিতে পৃথিবী কেবল সম্পদ নয়। পৃথিবী জীবনধারণের আশ্রয়। উদ্ভিদ কেবল পণ্য নয়। তারা জীবনের পুষ্টির অংশ। প্রকৃতি কেবল মানুষের ভোগের বস্তু নয়। প্রকৃতির মধ্যেই জীবনকে ধারণ ও পুষ্ট করার এক বিশাল ব্যবস্থা কাজ করছে। এই উপলব্ধি মানুষের মধ্যে সংযম, কৃতজ্ঞতা এবং দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, এই শ্লোকের প্রকৃত সৌন্দর্য তার সরলতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা গভীরতায়। কৃষ্ণ বলছেন তিনি পৃথিবীতে প্রবেশ করে জীবকে ধারণ করেন, শক্তির দ্বারা জীবনকে টিকিয়ে রাখেন, উদ্ভিদকে পুষ্ট করেন এবং রসময় সোমরূপে প্রকৃতির জীবনধারণকারী শক্তির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এখানে ঈশ্বর আকাশের দূরবর্তী কোনো ধারণা নন। তিনি মাটির দৃঢ়তায়, জীবনের স্থায়িত্বে, উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে, খাদ্যের পুষ্টিতে এবং জীবনের রসে অনুভূত হতে পারেন। তাই গীতার এই শ্লোক আমাদের শুধু ঈশ্বরকে খুঁজতে শেখায় না। এটি আমাদের দেখার চোখও বদলে দেয়। যে পৃথিবীকে আমরা প্রতিদিন পায়ের নিচে অনুভব করি, যে খাদ্য আমরা প্রতিদিন গ্রহণ করি, যে গাছ আমাদের চারপাশে নীরবে বেড়ে ওঠে এবং যে জীবনকে আমরা নিজের বলে মনে করি, তার প্রতিটি স্তরের গভীরে একটি বৃহত্তর ঐক্য কাজ করছে। সেই ঐক্যকেই শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নিজের প্রকাশ হিসেবে নির্দেশ করেছেন। পৃথিবীকে ধারণ করা, জীবনকে পুষ্ট করা এবং অস্তিত্বের মধ্যে রস সঞ্চার করা এই তিনের মধ্যেই তাই এই শ্লোকের এক গভীর আধ্যাত্মিক সত্য প্রকাশিত হয়েছে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি