সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৫.১৯ — পুরুষোত্তমের জ্ঞান, মোহমুক্তি ও সর্বভাবের ভক্তির তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যো মামেবমসংমূঢ়ো জনাতি পুরুষোত্তমম্। স সর্ববিদ্ ভজতি মাং সর্বভাবেন ভারত।।১৯।।
যো মামেবমসংমূঢ়ো জনাতি পুরুষোত্তমম্। 
স সর্ববিদ্ ভজতি মাং সর্বভাবেন ভারত।।১৯।।

অনুবাদঃ হে ভারত! যিনি নিঃসন্দেহে আমাকে পুরুষোত্তম বলে জানেন, তিনি সর্বজ্ঞ এবং তিনি সর্বতোভাবে আমাকে ভজনা করেন।

ভগবদ্গীতার পঞ্চদশ অধ্যায়ের ঊনবিংশ শ্লোকটি মানুষের আত্মিক জাগরণের একটি অত্যন্ত গভীর সত্য প্রকাশ করে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, যে ব্যক্তি তাঁকে এইভাবে মোহমুক্ত হয়ে পুরুষোত্তম হিসেবে জানতে পারে, সে সর্বতত্ত্বজ্ঞ হয়ে সমস্ত ভাব দিয়ে তাঁকে ভজনা করে। শ্লোকটির সংস্কৃত পাঠ হলো, “যো মামেবমসংমূঢ়ো জানাতি পুরুষোত্তমম্। স সর্ববিদ্ ভজতি মাং সর্বভাবেন ভারত।” এই কয়েকটি শব্দের মধ্যে মানুষের অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞান, জ্ঞান থেকে উপলব্ধি এবং উপলব্ধি থেকে ভক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক যাত্রা লুকিয়ে আছে।

এই শ্লোকের শুরুতেই এসেছে “যঃ” শব্দটি। এর অর্থ যে ব্যক্তি বা যিনি। এরপর রয়েছে “মাম্” অর্থাৎ আমাকে এবং “এবম্” অর্থাৎ এইভাবে। “এবম্” শব্দটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পূর্ববর্তী শ্লোকগুলিতে বর্ণিত তত্ত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। পঞ্চদশ অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ প্রথমে ক্ষর ও অক্ষর পুরুষের কথা বলেন এবং তারপর তাঁদের অতীত যে পরম পুরুষ, তাঁকে পুরুষোত্তম বলে অভিহিত করেন। ফলে এখানে কৃষ্ণকে পুরুষোত্তম হিসেবে জানা বলতে কেবল একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিকে জানা বোঝায় না। এর অর্থ হলো তাঁকে অস্তিত্বের পরম সত্য এবং সর্বোচ্চ পুরুষ হিসেবে উপলব্ধি করা।

“অসংমূঢ়” শব্দটি এই শ্লোকের অন্যতম গভীর শব্দ। এটি গঠিত হয়েছে অ এবং সংমূঢ় এই দুই অংশের সমন্বয়ে। সংমূঢ় শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত √মুহ্ ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে। এই ধাতুর অর্থ মোহগ্রস্ত হওয়া, বিভ্রান্ত হওয়া বা বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণায় আবদ্ধ হওয়া। তার সঙ্গে অ উপসর্গ যুক্ত হলে অর্থ দাঁড়ায় মোহমুক্ত বা বিভ্রান্তিহীন। কিন্তু এখানে মোহমুক্ত হওয়া মানে কেবল বুদ্ধিমান হওয়া নয়। একজন মানুষ অনেক তথ্য জানতে পারেন, কিন্তু নিজের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্ত থাকতে পারেন। তিনি সম্পদ, ক্ষমতা, সাফল্য কিংবা শরীরকে নিজের চূড়ান্ত পরিচয় বলে মনে করতে পারেন। গীতার দৃষ্টিতে এই ভুল পরিচয়ই এক ধরনের মোহ। তাই অসংমূঢ় মানুষ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি পরিবর্তনশীল জগতের মধ্যেও অপরিবর্তনীয় সত্যকে অনুসন্ধান করতে শেখেন।

এরপর এসেছে “জানাতি” শব্দটি। এটি সংস্কৃত √জ্ঞা ধাতু থেকে এসেছে এবং এর অর্থ জানা, উপলব্ধি করা বা চিনতে পারা। বাংলার জ্ঞান, জ্ঞাত এবং বিজ্ঞান শব্দের সঙ্গেও এই ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু গীতার প্রেক্ষাপটে এই জানা কেবল তথ্যগত জানা নয়। কোনো বই পড়ে একটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা এক ধরনের জ্ঞান। কিন্তু সেই সত্য নিজের চেতনার মধ্যে উপলব্ধি করা তার চেয়ে অনেক গভীর। কৃষ্ণ এখানে যে জ্ঞানের কথা বলছেন তা এমন জ্ঞান, যা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তন করে এবং তার জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। তাই পুরুষোত্তমকে জানা মানে কেবল পুরুষোত্তম শব্দের অর্থ মুখস্থ করা নয়, বরং সেই পরম সত্যকে জীবনের গভীরে উপলব্ধি করা।

এই উপলব্ধির কেন্দ্র হলো “পুরুষোত্তম” শব্দটি। পুরুষোত্তম গঠিত হয়েছে পুরুষ এবং উত্তম এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে। পুরুষ শব্দের বহুস্তরীয় অর্থ রয়েছে। গীতার দর্শনে পুরুষ কেবল মানবদেহের পুরুষ মানুষকে বোঝায় না। এটি চৈতন্যসত্তা, আত্মতত্ত্ব এবং মহাজাগতিক সত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দার্শনিক ধারণা। প্রাচীন ব্যাখ্যায় পুরুষকে দেহরূপী পুরের মধ্যে অবস্থানকারী সত্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তম শব্দের অর্থ সর্বোচ্চ, শ্রেষ্ঠ বা সর্বোপরি। ফলে পুরুষোত্তমের আক্ষরিক অর্থ হলো সর্বোচ্চ পুরুষ বা শ্রেষ্ঠ পুরুষ। কিন্তু গীতার দর্শনে এর অর্থ আরও গভীর। এখানে পুরুষোত্তম হলেন সেই পরম পুরুষ যিনি ক্ষর ও অক্ষর উভয়ের অতীত এবং যাঁর মধ্যে অস্তিত্বের সর্বোচ্চ সত্য প্রতিষ্ঠিত।

পুরুষোত্তম ধারণাটি বোঝার জন্য পঞ্চদশ অধ্যায়ের পূর্ববর্তী আলোচনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষর হলো পরিবর্তনশীল জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত সত্তা এবং অক্ষর হলো অবিনাশী সত্তার ধারণা। কৃষ্ণ এই দুইয়ের অতীত এক উত্তম পুরুষের কথা বলেন। সেই কারণে পুরুষোত্তম ধারণার মধ্যে সর্বোচ্চতা এবং পরমত্বের ভাব রয়েছে। বৈষ্ণব দর্শনে পুরুষোত্তম হলেন পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে তিনি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ঈশ্বর, যাঁর সঙ্গে জীব ও জগতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দ্বৈত দর্শনে তিনি সর্বোচ্চ ঈশ্বর এবং জীব তাঁর থেকে স্বতন্ত্র ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল। অদ্বৈত দর্শনের বৃহত্তর ব্যাখ্যায় পুরুষোত্তম ধারণা পরম ব্রহ্মের দিকে নির্দেশ করে। দর্শনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা ভিন্ন হলেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে পুরুষোত্তম সাধারণ অস্তিত্বের কোনো সীমাবদ্ধ স্তর নয়, বরং সর্বোচ্চ সত্যের প্রতীক।

শ্লোকের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “সর্ববিদ্”। সর্ব অর্থ সমস্ত এবং বিদ্ অর্থ জ্ঞাতা বা যিনি জানেন। আক্ষরিক অর্থে সর্ববিদ্ হলেন সর্বজ্ঞ। কিন্তু এখানে এর অর্থ পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষুদ্র তথ্য জানা নয়। একজন ব্যক্তি হাজার হাজার তথ্য জানলেও অস্তিত্বের মূল সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ থাকতে পারেন। গীতার অর্থে সর্ববিদ্ সেই ব্যক্তি যিনি পরম তত্ত্ব উপলব্ধি করার ফলে জীবনের বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সম্পর্ক দেখতে পারেন। তিনি বুঝতে পারেন কোনটি স্থায়ী এবং কোনটি পরিবর্তনশীল, কোনটি বাহ্যিক এবং কোনটি অন্তর্গত, কোনটি সাময়িক এবং কোনটি পরম। তাই পুরুষোত্তমকে জানা মানুষের দৃষ্টিকে একটি সামগ্রিকতা দেয়।

এরপর আসে “ভজতি” শব্দটি। এটি সংস্কৃত √ভজ্ ধাতু থেকে এসেছে। এই ধাতুর মধ্যে ভাগ করা, অংশ নেওয়া, সেবা করা, আশ্রয় গ্রহণ করা এবং ভক্তি করার মতো বিভিন্ন অর্থ নিহিত রয়েছে। এই ধাতুর সঙ্গেই ভক্তি শব্দটির সম্পর্ক রয়েছে। তাই ভজতি শব্দকে শুধু পূজা করা হিসেবে অনুবাদ করলে এর গভীরতা কমে যায়। এখানে ভজনা মানে পরম সত্যকে জীবনের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করা, তাঁর আশ্রয় নেওয়া, তাঁর সেবা করা এবং নিজের জীবনকে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত করা। এই কারণেই গীতায় জ্ঞান ও ভক্তি পরস্পরের বিরোধী নয়। যথার্থ জ্ঞান যখন হৃদয়ে পৌঁছায়, তখন তা ভক্তিতে পরিণত হয়।

এই ভাবকে আরও গভীর করে “সর্বভাবেন” শব্দটি। সর্ব অর্থ সমস্ত এবং ভাব অর্থ অস্তিত্ব, অনুভূতি, মানসিক অবস্থা, অন্তর্ভাব বা চেতনার অবস্থা। সর্বভাবেন অর্থ সমস্ত ভাব দিয়ে, সর্বান্তঃকরণে বা নিজের সমগ্র সত্তা দিয়ে। অর্থাৎ কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি যেন জীবনের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশে সীমাবদ্ধ না থাকে। শুধু মুখে ঈশ্বরের নাম নেওয়া নয়, শুধু কোনো বিশেষ সময়ে উপাসনা করা নয়, বরং চিন্তা, অনুভূতি, কর্ম, মূল্যবোধ এবং জীবনদৃষ্টিকে পরম সত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। এখানে ভক্তি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনে পরিণত হয়।

এই শ্লোকের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো “জানাতি” এবং “ভজতি” শব্দের সম্পর্ক। প্রথমে মানুষ জানে এবং পরে ভজনা করে। অর্থাৎ সত্যিকারের জ্ঞান মানুষের জীবনকে পরিবর্তন করে। যদি কোনো জ্ঞান মানুষের চিন্তা ও আচরণে কোনো পরিবর্তন না আনে, তাহলে সেই জ্ঞান এখনও তার অস্তিত্বের গভীরে পৌঁছায়নি। পুরুষোত্তমকে সত্যভাবে উপলব্ধি করলে মানুষের মধ্যে সেই উপলব্ধির প্রতি শ্রদ্ধা ও নিবেদন জন্ম নেয়। তখন ভক্তি অন্ধ আবেগ থাকে না। তা হয়ে ওঠে উপলব্ধ সত্যের স্বাভাবিক প্রকাশ।

মানবজীবনের দৃষ্টিতেও এই শ্লোক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ প্রায়ই নিজের পরিচয়কে বাহ্যিক বিষয়ের সঙ্গে এক করে ফেলে। কেউ নিজের সম্পদকে নিজের পরিচয় মনে করেন। কেউ পেশাকে নিজের পরিচয় মনে করেন। কেউ সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতা বা সাফল্যকে নিজের অস্তিত্বের মাপকাঠি বানান। কিন্তু এগুলো সবই পরিবর্তনশীল। অর্থ হারাতে পারে, ক্ষমতা চলে যেতে পারে, সাফল্য ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে এবং শরীরও একদিন পরিবর্তিত হবে। যে মানুষ এই পরিবর্তনশীল বিষয়গুলোর মধ্যে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় খুঁজে পান, তিনি সহজেই মোহের শিকার হন। অসংমূঢ় মানুষ সেই ব্যক্তি যিনি বুঝতে পারেন যে জীবনের বাহ্যিক পরিচয়ই মানুষের চূড়ান্ত সত্য নয়।

একজন ছাত্র পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে সে ভাবতে পারে যে তার জীবনই ব্যর্থ। কিন্তু মোহমুক্ত দৃষ্টি তাকে বুঝতে সাহায্য করে যে একটি পরীক্ষার ফল তার সমগ্র অস্তিত্বের মূল্য নির্ধারণ করে না। একজন ব্যক্তি অর্থ হারালে তার মনে হতে পারে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু গভীরতর দৃষ্টি তাকে বুঝতে শেখায় যে সম্পদ জীবনের একটি অংশ, সমগ্র জীবন নয়। একইভাবে ক্ষমতা, প্রশংসা, জনপ্রিয়তা এবং সামাজিক মর্যাদা মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু এগুলোর কোনোটিই মানুষের চূড়ান্ত আত্মপরিচয় নয়। এই সত্য উপলব্ধির মধ্যেই অসংমূঢ়তার সূচনা।

এই দিক থেকে পুরুষোত্তম শব্দটি আধুনিক মানুষের জন্যও গভীর অর্থ বহন করে। আজ মানুষ তথ্যের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, কিন্তু জীবনের অর্থের প্রশ্নে অনেক সময় বিভ্রান্ত। প্রযুক্তি মানুষকে অসংখ্য তথ্য দিয়েছে, কিন্তু তথ্য সবসময় প্রজ্ঞা দেয় না। মানুষ কীভাবে আরও বেশি অর্জন করবে তা শিখেছে, কিন্তু কেন অর্জন করবে সেই প্রশ্নের উত্তর সবসময় পায়নি। পুরুষোত্তম ধারণা সেই গভীর প্রশ্নের সামনে মানুষকে দাঁড় করায়। পরিবর্তনশীল জগতের বাইরে কি কোনো চূড়ান্ত সত্য আছে। মানুষের জীবনের কি কোনো পরম কেন্দ্র আছে। গীতার উত্তর হলো সেই পরম সত্যকে উপলব্ধি করাই মানুষের আত্মিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

শ্লোকটির মধ্যে তাই একটি সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক পথরেখা দেখা যায়। প্রথমে আসে মোহ থেকে মুক্তি। তারপর আসে তত্ত্বজ্ঞান। সেই জ্ঞানের বিষয় হয়ে ওঠেন পুরুষোত্তম। পুরুষোত্তমকে উপলব্ধি করলে মানুষের দৃষ্টি সামগ্রিক হয় এবং সে সর্ববিদ্ হয়ে ওঠে। এরপর সেই জ্ঞান হৃদয়ে রূপান্তরিত হয়ে ভক্তিতে প্রকাশ পায়। আর সেই ভক্তি আংশিক নয়, সর্বভাবেন অর্থাৎ সমগ্র সত্তা দিয়ে নিবেদিত হয়। এই ধারাটি মানুষের অন্তর্জীবনের এক গভীর রূপান্তরকে প্রকাশ করে।

শ্রীকৃষ্ণের “ভারত” সম্বোধনের মধ্যেও একটি তাৎপর্য রয়েছে। অর্জুন কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। কৃষ্ণ যেন তাঁকে তাঁর বৃহত্তর পরিচয় এবং কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। মানুষও নিজের জীবনকে শুধু ব্যক্তিগত লাভ ক্ষতির সংকীর্ণ পরিসরে দেখলে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছোট হয়ে যায়। কিন্তু যখন সে নিজের জীবনকে বৃহত্তর সত্য, কর্তব্য এবং অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করে দেখতে শেখে, তখন তার জীবন নতুন অর্থ পায়।

সবশেষে বলা যায়, গীতা ১৫.১৯ এর মূল শিক্ষা হলো মানুষের বাহ্যিক জ্ঞানকে অন্তর্দৃষ্টিতে এবং অন্তর্দৃষ্টিকে জীবন্ত ভক্তিতে রূপান্তরিত করা। “অসংমূঢ়” আমাদের মোহ থেকে মুক্ত হতে শেখায়। “জানাতি” আমাদের সত্যকে জানতে শেখায়। “পুরুষোত্তম” আমাদের সেই সর্বোচ্চ সত্যের পরিচয় দেয়। “সর্ববিদ্” আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টির কথা বলে। “ভজতি” জ্ঞানকে জীবনে রূপান্তরিত করার শিক্ষা দেয়। আর “সর্বভাবেন” মনে করিয়ে দেয় যে সত্যিকারের আত্মিক উপলব্ধি জীবনের একটি অংশে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা মানুষের চিন্তা, অনুভূতি, কর্ম এবং সমগ্র অস্তিত্বকে স্পর্শ করে। এই কারণে শ্লোকটি শুধু ঈশ্বরকে জানার কথা বলে না, বরং জানার পর কীভাবে বাঁচতে হয় সেই প্রশ্নেরও উত্তর দেয়। মোহ থেকে জ্ঞান, জ্ঞান থেকে উপলব্ধি এবং উপলব্ধি থেকে পূর্ণ আত্মনিবেদনের যে যাত্রা, গীতা ১৫.১৯ সেই যাত্রাকেই অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর ভাষায় প্রকাশ করেছে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি