Related

Share

ভগবদ্গীতা ১৫.৬ — পরম ধাম, আত্মজ্যোতি ও পুনরাগমনহীন মুক্তির তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
Posted on August 24, 2026
ন তদ্ ভাসয়তে সূর্যো ন শশাঙ্কো ন পাবকঃ।যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম…
ন তদ্ ভাসয়তে সূর্যো ন শশাঙ্কো ন পাবকঃ।
যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম।।৬।।

অনুবাদঃ সূর্য, চন্দ্র, অগ্নি বা বিদ্যুৎ আমার সেই পরম ধামকে আলোকিত করতে পারে না। সেখানে গেলে আর জড় জগতে ফিরে আসতে হয় না।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পঞ্চদশ অধ্যায়ের ষষ্ঠ শ্লোকটি মানুষের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের এক গভীরতম সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। শ্রীকৃষ্ণ এখানে এমন এক পরম অবস্থানের কথা বলেছেন, যেখানে সূর্যের আলো প্রয়োজন হয় না, চন্দ্রের আলো প্রয়োজন হয় না, এমনকি অগ্নির আলোও প্রয়োজন হয় না। কারণ সেই পরম ধাম নিজেই আলোকের উৎস। সেখানে পৌঁছালে জীব আর ফিরে আসে না। তাই এই শ্লোককে কেবল কোনো অতীন্দ্রিয় লোকের বর্ণনা হিসেবে দেখলে এর গভীরতা সম্পূর্ণ উপলব্ধি করা যায় না। এর মধ্যে মানুষের আত্মপরিচয়, জ্ঞান, মুক্তি, ঈশ্বরচেতনা এবং জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে একটি গভীর দার্শনিক বক্তব্য নিহিত রয়েছে।

শ্লোকটি হলো “ন তদ্ ভাসয়তে সূর্যো ন শশাঙ্কো ন পাবকঃ। যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম।। ” এখানে শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, সেই পরম ধামকে সূর্য আলোকিত করতে পারে না, চন্দ্রও পারে না এবং অগ্নিও পারে না। যেখানে গিয়ে আর ফিরে আসতে হয় না, সেটিই তাঁর পরম ধাম। প্রথম দর্শনে এই বক্তব্য কিছুটা রহস্যময় মনে হতে পারে। কারণ আমরা যে জগতকে চিনি, সেখানে আলো ছাড়া কোনো কিছু দেখা সম্ভব নয়। সূর্য আমাদের পৃথিবীকে আলোকিত করে। চন্দ্র রাতের অন্ধকারকে কোমল আলোয় ভরিয়ে দেয়। আগুন আলো দেয় এবং অন্ধকার দূর করে। তাহলে এমন কোনো ধাম কীভাবে সম্ভব যেখানে সূর্য, চন্দ্র কিংবা আগুনের প্রয়োজন নেই। গীতার উত্তর হলো, সেই ধাম বাহ্যিক আলোর ওপর নির্ভরশীল নয়। তার প্রকৃতিই স্বপ্রকাশ।

এই শ্লোকের কেন্দ্রীয় শব্দগুলোর মধ্যে “ধাম” বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃত ধাম শব্দটি মূলত ধা ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। ধা ধাতুর মধ্যে ধারণ করা, স্থাপন করা, রাখা এবং অবস্থান করানোর অর্থ রয়েছে। এই মূল ভাব থেকেই ধাম শব্দে আবাস, অবস্থান, আশ্রয় এবং দিব্য প্রকাশের ধারণা এসেছে। তাই গীতায় ধাম বলতে শুধু কোনো সাধারণ স্থান বা ভৌগোলিক অঞ্চল বোঝানো হয় না। এটি এমন এক পরম আশ্রয়কে নির্দেশ করে যেখানে অস্তিত্ব তার সর্বোচ্চ সত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। ভক্তির দৃষ্টিতে এটি ভগবানের দিব্য আবাস। দার্শনিক দৃষ্টিতে এটি পরম সত্যের উপলব্ধির ক্ষেত্র। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে এটি এমন এক চেতনার অবস্থান যেখানে জীব তার সীমাবদ্ধ পরিচয় অতিক্রম করে পরম সত্যের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।

“তদ্ধাম” শব্দটি তৎ এবং ধামের মিলিত রূপ। তৎ অর্থ সেই এবং ধাম অর্থ পরম আবাস বা অবস্থান। অর্থাৎ তদ্ধাম মানে সেই ধাম। এরপর এসেছে “পরমং” শব্দটি। পরম অর্থ সর্বোচ্চ, চূড়ান্ত, শ্রেষ্ঠ এবং যার ওপরে আর কিছু নেই। আর “মম” অর্থ আমার। ফলে “তদ্ধাম পরমং মম” এর সরল অর্থ দাঁড়ায় সেই আমার পরম ধাম। কিন্তু এই সরল অর্থের ভেতরেই রয়েছে একটি গভীর ঈশ্বরতত্ত্ব। কৃষ্ণ কেবল কোনো দূরবর্তী অজানা স্থানের কথা বলছেন না। তিনি বলছেন এটি তাঁরই পরম ধাম। অর্থাৎ জীবনের চূড়ান্ত আশ্রয়কে তিনি নিজের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

শ্লোকের শুরুতে রয়েছে “ন তদ্ ভাসয়তে”। ভাসয়তে শব্দটি ভাস্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। ভাস্ অর্থ আলো দেওয়া, জ্বলা, প্রকাশিত হওয়া কিংবা উজ্জ্বল হওয়া। এখানে ভাসয়তে অর্থ আলোকিত করে বা প্রকাশ করে। কৃষ্ণ বলছেন, সূর্য সেই পরম ধামকে আলোকিত করে না। এর অর্থ এই নয় যে সেখানে অন্ধকার রয়েছে। বরং এর অর্থ হলো সেখানে এমন এক আলো রয়েছে যার জন্য সূর্যের মতো কোনো বাহ্যিক আলোর প্রয়োজন নেই। সাধারণ জগতে আলো বাইরে থেকে আসে। আধ্যাত্মিক সত্যের ক্ষেত্রে আলো ভিতর থেকেই প্রকাশিত হয়। এই পার্থক্যটি শ্লোকটির দার্শনিক গভীরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এরপর এসেছে সূর্য শব্দটি। সূর্য মানুষের পরিচিত জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী আলোকদাতা। প্রতীকী অর্থে সূর্য জাগতিক জ্ঞান, দৃশ্যমানতা, শক্তি এবং প্রকাশের প্রতীক। মানুষ যা দেখে, যা বোঝে এবং যা অনুভব করে তার অনেকটাই বাহ্যিক আলোর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কৃষ্ণের বক্তব্য হলো, পরম সত্যকে উপলব্ধি করার জন্য বাহ্যিক আলো যথেষ্ট নয়। সূর্য পৃথিবীকে আলোকিত করতে পারে, কিন্তু আত্মার চূড়ান্ত সত্যকে প্রকাশ করতে পারে না।

“শশাঙ্ক” শব্দটি চন্দ্রের একটি কাব্যিক নাম। শশ অর্থ খরগোশ এবং অঙ্ক অর্থ চিহ্ন। প্রাচীন ভারতীয় কল্পনায় চাঁদের গায়ে খরগোশের মতো একটি চিহ্ন দেখা যায় বলে চন্দ্রকে শশাঙ্ক বলা হয়েছে। এখানে সূর্যের পাশাপাশি চন্দ্রের উল্লেখ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সূর্য প্রত্যক্ষ আলোর প্রতীক এবং চন্দ্র কোমল ও প্রতিফলিত আলোর প্রতীক। বাহ্যিক জগতের আলো প্রত্যক্ষ হোক বা প্রতিফলিত হোক, কোনো আলোই পরম ধামের প্রকৃত প্রকাশের কারণ নয়।

এরপর এসেছে পাবক শব্দটি। পাবক অর্থ অগ্নি। ভারতীয় সংস্কৃতিতে অগ্নি কেবল আলো ও তাপের উৎস নয়। অগ্নি শুদ্ধিরও প্রতীক। যজ্ঞে অগ্নি দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন বহন করে বলে মনে করা হয়। অগ্নি পরিবর্তনের প্রতীকও। কাঠকে পুড়িয়ে ছাইয়ে পরিণত করা থেকে শুরু করে যজ্ঞীয় রূপান্তর পর্যন্ত অগ্নির মধ্যে পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী প্রতীক রয়েছে। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন, সেই অগ্নিও পরম ধামকে আলোকিত করতে পারে না। অর্থাৎ প্রকৃতির শক্তিশালী আলোক ও রূপান্তরকারী উপাদানগুলোরও একটি সীমা রয়েছে।

এই তিনটি শব্দকে একসঙ্গে দেখলে শ্লোকটির ভাব আরও পরিষ্কার হয়। সূর্য, চন্দ্র এবং অগ্নি এখানে জাগতিক আলোর তিনটি প্রতীক। কৃষ্ণ একে একে এই তিনটিকেই অতিক্রম করে এমন এক পরম আলোর কথা বলছেন। এটি কোনো সাধারণ আলো নয়। এটি চেতনার আলো। এটি আত্মজ্ঞান। এটি পরম সত্যের স্বপ্রকাশ। তাই এই শ্লোকের আলোকে কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় পড়লে এর আধ্যাত্মিক অর্থ অধরা থেকে যায়।

এরপর শ্লোকের দ্বিতীয় অংশে এসেছে “যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে”। গত্বা শব্দটি গম্ ধাতু থেকে এসেছে। গম্ অর্থ যাওয়া, গমন করা এবং কোনো গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু আধ্যাত্মিক সাহিত্যে গমন সবসময় শারীরিক স্থান পরিবর্তন বোঝায় না। কখনও এটি চেতনার পরিবর্তন বোঝায়। মানুষ যখন অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের দিকে যায়, আসক্তি থেকে অনাসক্তির দিকে যায় এবং সীমাবদ্ধ আত্মপরিচয় থেকে পরম সত্যের উপলব্ধির দিকে অগ্রসর হয়, তখন সেই গমন মূলত অন্তরের গমন।

নিবর্তন্তে শব্দের মধ্যে ফিরে আসার ধারণা রয়েছে। তার সঙ্গে ন যুক্ত হয়ে অর্থ দাঁড়ায় আর ফিরে আসে না। গীতার দর্শনে এই প্রত্যাবর্তন না করা মুক্তির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জন্ম, মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের সংসারচক্র থেকে মুক্ত হয়ে যে পরম সত্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়, সেটিই এখানে প্রত্যাবর্তনহীন অবস্থার প্রতীক। তাই এই বাক্যকে শুধু মৃত্যুর পরে কোনো বিশেষ স্থানে যাওয়ার ধারণা হিসেবে দেখলে এর দার্শনিক বিস্তার সীমিত হয়ে যায়। এটি অজ্ঞতা থেকে এমন এক মুক্তির কথাও বলে যেখানে মানুষ আর আগের অচেতন অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না।

“পরম” শব্দটি এই বক্তব্যকে আরও গভীর করে। পরম মানে সর্বোচ্চ, চূড়ান্ত এবং যার ঊর্ধ্বে আর কোনো স্তর নেই। সাধারণ জীবনে মানুষ এক সাফল্য অর্জনের পর আরেকটি সাফল্যের দিকে এগিয়ে যায়। একটি আনন্দ পাওয়ার পর আরও আনন্দের সন্ধান করে। একটি জ্ঞান অর্জনের পর আরও জ্ঞানের সন্ধান করে। কিন্তু পরম এমন একটি ধারণা যেখানে অনুসন্ধানের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে। আর কিছু পাওয়ার বাকি থাকে না। তাই পরম ধাম হলো অস্তিত্বের এমন একটি চূড়ান্ত আশ্রয় যেখানে জীবের অনুসন্ধান তার সর্বোচ্চ পরিণতিতে পৌঁছে।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের একটি গভীর ব্যাখ্যা হতে পারে পরম ব্রহ্মের উপলব্ধি। ব্রহ্ম কোনো বাহ্যিক আলো দ্বারা প্রকাশিত হয় না। বরং সমস্ত জ্ঞান এবং সমস্ত প্রকাশের অন্তর্নিহিত ভিত্তি হলো সেই চৈতন্য। মানুষের চোখ আলো দিয়ে পৃথিবীকে দেখে। কিন্তু চোখকে দেখার ক্ষমতা দেয় যে চৈতন্য, সেটিকে আবার কোনো বাহ্যিক আলো দিয়ে প্রকাশ করতে হয় না। এই দৃষ্টিতে পরম ধাম হলো সেই স্বপ্রকাশ চৈতন্যের উপলব্ধি।

ভক্তি দর্শনে এর ব্যাখ্যা কিছুটা ভিন্ন। সেখানে পরম ধাম হলো ভগবানের দিব্য আবাস। জীবের চূড়ান্ত গন্তব্য হলো ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ এবং তাঁর সঙ্গে প্রেমময় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা। এখানে “মম” শব্দটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষ্ণ বলছেন এটি আমার পরম ধাম। অর্থাৎ ভক্তের কাছে মুক্তি কেবল কোনো নিরাকার অবস্থায় বিলীন হয়ে যাওয়া নয়। বরং ভগবানের সঙ্গে সম্পর্কের চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠাও হতে পারে। এই কারণে গীতার এই শ্লোক ভক্তি ও জ্ঞান উভয় ধারার জন্যই গভীর তাৎপর্য বহন করে।

এই শ্লোকের একটি সুন্দর মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও করা যায়। মানুষ তার পরিচয় গড়ে তোলে বাইরের জগতের নানা বিষয় দিয়ে। সে ভাবে তার পরিচয় তার সম্পদ, সাফল্য, সামাজিক মর্যাদা, অন্যের প্রশংসা এবং অর্জনের মধ্যে নিহিত। এগুলো এক ধরনের বাহ্যিক আলো। কিন্তু বাহ্যিক আলো পরিবর্তনশীল। আজ যে মানুষ সম্মানিত, কাল সে সমালোচিত হতে পারে। আজ যে সাফল্য আনন্দ দেয়, কিছুদিন পর সেটিই সাধারণ হয়ে যেতে পারে। আজ যে সম্পর্ক নিরাপত্তা দেয়, সময়ের সঙ্গে তার রূপ বদলাতে পারে। কৃষ্ণের পরম ধামের ধারণা আমাদের এমন এক অন্তর্গত আশ্রয়ের দিকে তাকাতে শেখায় যা বাহ্যিক পরিবর্তনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল নয়।

এই কারণে শ্লোকটি আধুনিক জীবনেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আজ মানুষ তথ্যের মধ্যে বাস করে, কিন্তু তথ্যের আধিক্য সবসময় জ্ঞান তৈরি করে না। মানুষ চারপাশে অসংখ্য আলো দেখতে পায়, কিন্তু অন্তরের অন্ধকার অনেক সময় থেকেই যায়। প্রযুক্তির আলো আমাদের ঘর আলোকিত করতে পারে, পর্দার আলো আমাদের চোখ আলোকিত করতে পারে, জ্ঞানের আলো আমাদের মস্তিষ্ককে তথ্য দিতে পারে, কিন্তু নিজের অস্তিত্বের গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে হলে অন্য এক ধরনের আলো প্রয়োজন। সেই আলো হলো আত্মজ্ঞান ও ঈশ্বরচেতনার আলো।

একটি সহজ উপমা দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। একটি অন্ধকার ঘরে আমরা একটি প্রদীপ জ্বালাই। প্রদীপ ঘরকে আলোকিত করে এবং ঘরের বস্তুগুলোকে দৃশ্যমান করে। কিন্তু যদি এমন কোনো আলো থাকে যা নিজেই তার প্রকাশের কারণ, তাকে আলোকিত করার জন্য আর কোনো প্রদীপের দরকার হয় না। গীতার পরম ধামের ধারণাটি অনেকটা তেমন। পরম সত্যকে অন্য কোনো বাহ্যিক আলো দিয়ে প্রকাশ করতে হয় না। বরং সেই পরম সত্যই সমস্ত জ্ঞান, প্রকাশ এবং চেতনার গভীরতম ভিত্তি।

এই শ্লোক তাই আমাদের একটি গভীর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। আমরা যে আলো দিয়ে পৃথিবীকে দেখি, সেই আলোকে কে প্রকাশ করে। আমরা যে জ্ঞান দিয়ে সত্যকে বুঝতে চাই, সেই জ্ঞানকে উপলব্ধি করার ক্ষমতার উৎস কোথায়। আমরা যে বাহ্যিক সাফল্যের মধ্যে স্থায়িত্ব খুঁজি, তার বাইরে কি এমন কোনো আশ্রয় আছে যা পরিবর্তনশীল নয়। গীতার উত্তর হলো সেই পরম সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

“ন তদ্ ভাসয়তে সূর্যো ন শশাঙ্কো ন পাবকঃ” তাই মূলত অন্ধকারের কথা নয়। এটি এমন এক আলোর কথা যা কোনো সূর্য, চন্দ্র বা অগ্নির ওপর নির্ভর করে না। এটি মানুষের অন্তরের সেই চিরন্তন সত্যের প্রতীক, যা বাহ্যিক জগতের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় না। “যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে” আমাদের জানায় যে এই উপলব্ধিই মুক্তির পথ। আর “তদ্ধাম পরমং মম” ঘোষণা করে যে সেই পরম আশ্রয়ই কৃষ্ণের সঙ্গে সম্পর্কিত চূড়ান্ত সত্য।

সবশেষে বলা যায়, এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষের প্রকৃত গন্তব্য বাহ্যিক জগতের অসংখ্য আলোর মধ্যে হারিয়ে যাওয়া নয়। বরং সেই অন্তর্গত ও পরম আলোর সন্ধান করা, যার সামনে সূর্য, চন্দ্র এবং অগ্নির আলোও সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। বাহ্যিক আলো আমাদের চোখকে সাহায্য করে, কিন্তু আত্মার সত্যকে উপলব্ধি করায় অন্তরের জ্ঞান। সেই জ্ঞান যখন পরম সত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন জীব আর অস্থায়ী আশ্রয়ের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় না। সে পৌঁছে যায় এমন এক চূড়ান্ত আশ্রয়ে, যাকে গীতা বলছে কৃষ্ণের পরম ধাম। এখানেই এই শ্লোকের ভাষাগত সৌন্দর্য, দার্শনিক গভীরতা এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়েছে।

Make Your Business Online By The Best No—Code & No—Plugin Solution In The Market.

30 Day Money-Back Guarantee

Say goodbye to your low online sales rate!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
Published at: August 24, 2026 August 24, 2026

More insight about ভগবদ্গীতা ১৫.৬ — পরম ধাম, আত্মজ্যোতি ও পুনরাগমনহীন মুক্তির তত্ত্ব

More insight about ভগবদ্গীতা ১৫.৬ — পরম ধাম, আত্মজ্যোতি ও পুনরাগমনহীন মুক্তির তত্ত্ব