ভগবদ্গীতা ১৫.৯ — মন ও ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বিষয়ভোগ ও জগতের অভিজ্ঞতার তত্ত্ব
শ্রোত্রং চক্ষুঃ স্পর্শনং চ রসনং ঘ্রাণমেব চ।
অধিষ্ঠায় মনশ্চায়ং বিষয়ানুপসেবতে।।৯।।
অনুবাদঃ এই জীব চক্ষু, কর্ণ, ত্বক, জিহ্বা, নাসিকা ও মনকে আশ্রয় করে ইন্দ্রিয়ের বিষয়সমূহ উপভোগ করে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পঞ্চদশ অধ্যায়ের নবম শ্লোক মানুষের ইন্দ্রিয়, মন এবং জগতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে অত্যন্ত গভীরভাবে ব্যাখ্যা করে। শ্লোকটি হলো “শ্রোত্রং চক্ষুঃ স্পর্শনং চ রসনং ঘ্রাণমেব চ। অধিষ্ঠায় মনশ্চায়ং বিষয়ানুপসেবতে।” এর সহজ অর্থ হলো এই জীব শ্রবণেন্দ্রিয়, চক্ষু, স্পর্শেন্দ্রিয়, রসনেন্দ্রিয়, ঘ্রাণেন্দ্রিয় এবং মনকে আশ্রয় করে বিভিন্ন ইন্দ্রিয়বিষয়কে অনুভব ও উপভোগ করে। কিন্তু এই বক্তব্যের মধ্যে কেবল মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের পরিচয় নেই। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে মানুষ কীভাবে জগতকে অনুভব করে, কীভাবে সেই অনুভূতি মনের মধ্যে প্রবেশ করে এবং কীভাবে সেই অনুভূতি ধীরে ধীরে আকাঙ্ক্ষা, আসক্তি ও জীবনের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয় তার এক গভীর দার্শনিক ব্যাখ্যা।
শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো শ্রোত্রং। শ্রোত্র শব্দটি সংস্কৃত শ্রু ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। শ্রু অর্থ শোনা বা শ্রবণ করা। সেই অর্থে শ্রোত্র হলো যার মাধ্যমে শব্দ গ্রহণ করা হয়। বাংলায় আমরা একে কান বা শ্রবণেন্দ্রিয় বলি। কিন্তু গীতার দৃষ্টিতে শ্রোত্র শুধু শরীরের একটি অঙ্গ নয়। এটি জ্ঞান গ্রহণের একটি দরজা। মানুষ যা শোনে তার মধ্য দিয়ে তার চিন্তা গঠিত হয়। একজন মানুষের কাছে কোন কথা পৌঁছাবে এবং সে কোন কথা গ্রহণ করবে তা তার জীবনদর্শনকে প্রভাবিত করতে পারে। ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে শ্রবণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গুরু ও শিষ্যের মধ্যে জ্ঞানের প্রবাহ বহু যুগ ধরে শ্রবণের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। তাই শ্রোত্র কেবল শব্দ শোনার ক্ষমতা নয়, সত্য গ্রহণের একটি সম্ভাব্য পথও বটে।
এরপর এসেছে চক্ষুঃ। চক্ষু হলো চোখ এবং দর্শনের ইন্দ্রিয়। মানুষের বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো দৃষ্টি। আমরা মানুষকে দেখি, প্রকৃতিকে দেখি, ঘটনা দেখি এবং বিভিন্ন দৃশ্য আমাদের মনে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কিন্তু চোখের দেখা এবং মনের উপলব্ধি এক জিনিস নয়। একই দৃশ্য একজন মানুষের মনে আনন্দ সৃষ্টি করতে পারে, অন্য একজনের মনে দুঃখ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে চোখ কেবল দৃশ্য গ্রহণ করে, কিন্তু সেই দৃশ্যের অর্থ নির্মাণে মন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণে গীতার আলোচনায় চক্ষু কেবল বাহ্যিক দর্শনের প্রতীক নয়, মানুষের উপলব্ধির একটি প্রবেশদ্বার হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
স্পর্শনং শব্দটি সংস্কৃত স্পৃশ ধাতু থেকে এসেছে। স্পৃশ অর্থ স্পর্শ করা বা ছোঁয়া। স্পর্শন বলতে স্পর্শের অনুভূতি বা স্পর্শেন্দ্রিয়কে বোঝানো হয়েছে। মানুষের শরীর উষ্ণতা, শীতলতা, কোমলতা, কঠোরতা এবং বিভিন্ন ধরনের স্পর্শ অনুভব করে। কিন্তু স্পর্শের তাৎপর্য শুধু শারীরিক অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্পর্শ মানুষের সম্পর্ক ও অনুভূতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। একটি স্নেহময় স্পর্শ, একটি পরিচিত পরিবেশের অনুভূতি কিংবা কোনো বস্তুর পরিচিত স্পর্শ মানুষের মনে স্মৃতি ও আবেগ জাগিয়ে তুলতে পারে। তাই স্পর্শ মানুষের বাহ্যিক জগতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
রসনং শব্দটি রসনা শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর ভিত্তিতে রয়েছে রস শব্দটি। রসের অর্থ স্বাদ, আস্বাদন বা সারাংশ। রসনা হলো যে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে রস অনুভূত হয়। সাধারণ অর্থে এটি জিহ্বা বা স্বাদগ্রহণের ইন্দ্রিয়কে বোঝায়। কিন্তু সংস্কৃত ভাষায় রসের অর্থ আরও বিস্তৃত। ভারতীয় নন্দনতত্ত্বে রস বলতে শিল্প ও সাহিত্যের গভীর অনুভূতিও বোঝানো হয়। ফলে রসনা শব্দের মধ্যে শুধু খাদ্যের স্বাদ গ্রহণের ধারণা নেই, জীবনের অভিজ্ঞতাকে আস্বাদনের একটি বৃহত্তর ধারণাও নিহিত রয়েছে। মানুষ যেমন খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করে, তেমনি জীবনের সুখ, দুঃখ, আনন্দ, সৌন্দর্য এবং অভিজ্ঞতারও এক ধরনের রস অনুভব করে।
ঘ্রাণম শব্দটি সংস্কৃত ঘ্রা ধাতু থেকে উদ্ভূত। ঘ্রা অর্থ গন্ধ গ্রহণ করা বা শোঁকা। ঘ্রাণ হলো গন্ধ অনুভব করার ক্ষমতা। মানুষের নাসিকা বিভিন্ন গন্ধ গ্রহণ করে এবং সেই গন্ধ অনেক সময় মনের গভীরে থাকা স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে। কোনো ফুলের গন্ধ, বৃষ্টির মাটির গন্ধ কিংবা কোনো পরিচিত পরিবেশের গন্ধ বহু পুরোনো স্মৃতিকে হঠাৎ মনে ফিরিয়ে আনতে পারে। এই দিক থেকে ঘ্রাণ শুধু একটি ইন্দ্রিয়গত অনুভূতি নয়, স্মৃতি ও অনুভূতির সঙ্গেও তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
শ্লোকে এরপর এসেছে অধিষ্ঠায় শব্দটি। এটি অধি এবং স্থা ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থা অর্থ অবস্থান করা বা স্থিত হওয়া। অধি যুক্ত হলে আশ্রয় করা, অধিষ্ঠান করা বা কোনো কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ধারণা প্রকাশ পায়। অধিষ্ঠায় অর্থ আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে। এখানে জীব ইন্দ্রিয় ও মনকে আশ্রয় করে জগতের বিষয়সমূহের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করছে। এই শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে যে জীব নিজে কেবল চোখ নয়, কান নয়, জিহ্বা নয় কিংবা মনও নয়। জীব এই উপকরণগুলোর মাধ্যমে জগতকে অনুভব করে।
মনশ্চ শব্দে মন এবং চ শব্দের সমন্বয় রয়েছে। মন শব্দটি সংস্কৃত মন ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। মন অর্থ চিন্তা করা, ভাবা বা মনন করা। মন মানুষের অভ্যন্তরীণ জগতের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। চোখ দেখে, কান শোনে, নাক গন্ধ গ্রহণ করে, জিহ্বা স্বাদ গ্রহণ করে এবং শরীর স্পর্শ অনুভব করে। কিন্তু এই বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতাগুলোকে একত্র করে একটি অর্থপূর্ণ অভিজ্ঞতায় পরিণত করার ক্ষেত্রে মন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই গীতার এই শ্লোকে পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের পাশাপাশি মনকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে এসেছে বিষয়ানুপসেবতে। বিষয় শব্দের অর্থ হলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু বা ইন্দ্রিয়ের ক্ষেত্র। মানুষের পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়ের সঙ্গে পাঁচ ধরনের বিষয় যুক্ত। শ্রোত্রের বিষয় শব্দ, চক্ষুর বিষয় রূপ, স্পর্শেন্দ্রিয়ের বিষয় স্পর্শ, রসনার বিষয় রস এবং ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের বিষয় গন্ধ। উপসেবতে শব্দটি উপ এবং সেব ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রসঙ্গ অনুযায়ী এর অর্থ গ্রহণ করা, ব্যবহার করা, আশ্রয় করা বা উপভোগ করা। সুতরাং বিষয়ানুপসেবতে বলতে বোঝানো হয়েছে জীব ইন্দ্রিয় ও মনকে আশ্রয় করে ইন্দ্রিয়বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং সেগুলো অনুভব বা উপভোগ করে।
এই শ্লোকের গভীরতা বুঝতে হলে মানুষের অভিজ্ঞতার একটি ধারাকে বোঝা প্রয়োজন। বাইরের জগতে কোনো বিষয় উপস্থিত থাকে। ইন্দ্রিয় সেই বিষয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। তারপর সেই তথ্য মনের কাছে পৌঁছায়। মন সেই তথ্যকে গ্রহণ করে, সাজায় এবং তার সঙ্গে অনুভূতি ও অর্থ যুক্ত করে। ফলে একটি সাধারণ বাহ্যিক ঘটনা মানুষের অন্তরে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। একটি সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়লেই শুধু সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ হয় না। মন যখন সেই দৃশ্যকে গ্রহণ করে এবং তার সঙ্গে অর্থ ও অনুভূতি যুক্ত করে তখনই তা মানুষের জীবনের একটি অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
এই কারণেই গীতার এই শ্লোক মানুষের আত্মপরিচয় সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। আমি কি শুধু যা দেখি তাই। আমি কি যা শুনি তাই। আমি কি আমার ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি। নাকি ইন্দ্রিয় ও মনের অভিজ্ঞতার অতীতেও আমার একটি গভীরতর পরিচয় রয়েছে। গীতার আধ্যাত্মিক দর্শন মানুষকে এই গভীর প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়। জীব দেহ ও ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে জগতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলেও তার প্রকৃত সত্তা কেবল ইন্দ্রিয় বা মন নয়। আত্মা ইন্দ্রিয় ও মনের অভিজ্ঞতার সাক্ষীস্বরূপ।
আধুনিক জীবনেও এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বর্তমান মানুষ প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দৃশ্য, শব্দ, তথ্য, স্বাদ, গন্ধ ও স্পর্শের মধ্যে বসবাস করে। চোখ ক্রমাগত নানা দৃশ্য গ্রহণ করছে। কান অসংখ্য শব্দ শুনছে। মন নানা তথ্য ও অনুভূতির মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বাহ্যিক বিষয়ের পরিমাণ যত বাড়ছে, মনকে সচেতনভাবে পরিচালনা করার প্রয়োজনও তত বাড়ছে। কারণ ইন্দ্রিয় যা গ্রহণ করে তা সব সময় নিরপেক্ষভাবে মনের মধ্যে থাকে না। কোনো দৃশ্য আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। কোনো শব্দ রাগ সৃষ্টি করতে পারে। কোনো স্মৃতি গন্ধের মাধ্যমে ফিরে আসতে পারে। কোনো স্বাদ আবার নতুন আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলতে পারে। এভাবেই ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে মানসিক আকর্ষণ ও আসক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এই কারণে গীতার শিক্ষা ইন্দ্রিয়কে অস্বীকার করার শিক্ষা নয়। মানুষ চোখ দিয়ে দেখবে, কান দিয়ে শুনবে, জিহ্বা দিয়ে স্বাদ নেবে এবং শরীর দিয়ে স্পর্শ অনুভব করবে। এগুলো জীবনের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সমস্যা তখনই সৃষ্টি হয় যখন মানুষ ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতাকেই নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় মনে করতে শুরু করে। তখন বাহ্যিক বিষয় তার মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। গীতার আধ্যাত্মিক শিক্ষা মানুষকে বরং সচেতন হতে শেখায়। ইন্দ্রিয় থাকবে, বিষয় থাকবে, অভিজ্ঞতাও থাকবে, কিন্তু মানুষ যেন বুঝতে পারে যে সে সেই অভিজ্ঞতার অন্ধ দাস নয়।
একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। একজন মানুষ একটি সুস্বাদু খাবার দেখল। তার চোখ খাবারটির রূপ গ্রহণ করল। নাক তার গন্ধ অনুভব করল। জিহ্বা তার স্বাদ গ্রহণ করল। মন সমস্ত অনুভূতিকে একত্র করে বলল যে খাবারটি আকর্ষণীয়। তারপর সেই আকর্ষণ থেকে খাবারটি পাওয়ার ইচ্ছা জন্ম নিল। এখানেই বোঝা যায় যে বস্তুটি একা মানুষের বন্ধনের কারণ নয়। ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বস্তুটি আসে, কিন্তু মনের সঙ্গে তার সম্পর্ক থেকেই আকর্ষণ ও আসক্তির জন্ম হতে পারে। একইভাবে কোনো অপছন্দের বস্তু থেকে বিরাগও তৈরি হতে পারে।
সাংখ্য দর্শনের দৃষ্টিতে মন ও ইন্দ্রিয় প্রকৃতির অন্তর্গত এবং পুরুষ হলো চৈতন্যস্বরূপ। বেদান্তের দৃষ্টিতে আত্মা হলো সাক্ষীচৈতন্য, আর দেহ, ইন্দ্রিয় ও মন হলো অভিজ্ঞতার উপকরণ। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গীতার শ্লোকটি মানুষের আত্মপরিচয়কে আরও গভীর করে। মানুষ যদি মনে করে আমি আমার চোখ, আমি আমার কান, আমি আমার মন, তাহলে সে পরিবর্তনশীল উপকরণের সঙ্গে নিজের পরিচয় স্থাপন করছে। কিন্তু যদি সে উপলব্ধি করতে পারে যে চোখ দেখে, কান শোনে, মন চিন্তা করে এবং আমি সেই সমস্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী, তাহলে তার আত্মসচেতনতার একটি নতুন স্তর উন্মুক্ত হয়।
এই শ্লোক তাই শুধু ইন্দ্রিয়ের তালিকা নয়। এটি মানুষের সমগ্র অভিজ্ঞতার একটি সূক্ষ্ম মানচিত্র। শ্রোত্র আমাদের শোনার দ্বার। চক্ষু আমাদের দেখার দ্বার। স্পর্শ আমাদের অনুভবের দ্বার। রসনা আমাদের আস্বাদনের দ্বার। ঘ্রাণ আমাদের গন্ধ ও স্মৃতির দ্বার। মন এই সব অভিজ্ঞতাকে একত্র করে। আর জীব এই ইন্দ্রিয় ও মনকে আশ্রয় করে জগতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। কিন্তু আত্মা সেই সমস্ত অভিজ্ঞতার গভীরে অবস্থানকারী চৈতন্যস্বরূপ সাক্ষী।
অতএব, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পঞ্চদশ অধ্যায়ের নবম শ্লোক আমাদের শেখায় যে মানুষ কেবল বাহ্যিক জগতের ভোক্তা নয়, সে তার অভিজ্ঞতার একজন সচেতন পর্যবেক্ষকও হতে পারে। ইন্দ্রিয় জগতকে আমাদের সামনে নিয়ে আসে, মন সেই জগতকে অর্থ দেয় এবং আত্মসচেতনতা আমাদের সেই অভিজ্ঞতার প্রকৃতি বুঝতে সাহায্য করে। যখন মানুষ ইন্দ্রিয়কে ব্যবহার করে কিন্তু ইন্দ্রিয়ের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, যখন মনকে ব্যবহার করে কিন্তু মনের প্রতিটি আকাঙ্ক্ষাকে নিজের সত্য বলে মনে করে না, তখনই তার মধ্যে প্রকৃত স্বাধীনতার সূচনা হয়। এই অর্থে শ্লোকটির গভীরতম শিক্ষা হলো ইন্দ্রিয় জগতকে গ্রহণ করে, মন তাকে অভিজ্ঞতায় রূপ দেয়, কিন্তু আত্মা সেই সমগ্র অভিজ্ঞতার নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!