ভগবদ্গীতা ১৬.১৭ — আত্মম্ভরিতা, ধনমানের অহংকার ও প্রদর্শনমূলক ধর্মাচরণের আসুরী প্রবণতা
আত্মসম্ভাবিতাঃ স্তব্ধা ধনমানমদান্বিতাঃ।
যজন্তে নামযজ্ঞৈস্তে দম্ভেনাবিধিপূর্বকম্।।১৭।।
অনুবদাঃ সেই আত্মভিমানী, অনম্র এবং ধন ও মানে মদান্বিত ব্যক্তিরা অবিধিপূর্বক দম্ভ সহকারে নামমাত্র যজ্ঞের অনুষ্ঠান করে।
ভগবদ্গীতার ষোড়শ অধ্যায়ের সপ্তদশ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের আসুরিক প্রবৃত্তির একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীর দিক তুলে ধরেছেন। শ্লোকটি হলো “আত্মসম্ভাবিতাঃ স্তব্ধা ধনমানমদান্বিতাঃ। যজন্তে নামযজ্ঞৈস্তে দম্ভেনাবিধিপূর্বকম্।” এই শ্লোকে এমন মানুষের চরিত্র ও মানসিকতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যারা নিজেদের মহত্ত্ব সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, অহংকারে কঠিন, ধনসম্পদ ও সামাজিক সম্মানের মোহে মত্ত এবং সেই অহংকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানও ব্যবহার করে। ফলে তাদের ধর্মাচরণ আর আত্মশুদ্ধি ও ঈশ্বরনিবেদনের পথ থাকে না, বরং আত্মপ্রদর্শন ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।
শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো আত্মসম্ভাবিতাঃ। সংস্কৃত আত্ম শব্দের অর্থ নিজের সত্তা বা নিজেকে এবং সম্ভাবিত শব্দের মধ্যে সম্মানিত, মর্যাদাপূর্ণ বা মহৎ বলে বিবেচিত হওয়ার ভাব নিহিত রয়েছে। আত্মসম্ভাবিতাঃ বলতে তাই এমন মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যে নিজেকেই নিজের কাছে অত্যন্ত মহৎ ও সম্মানযোগ্য বলে মনে করে। এখানে সুস্থ আত্মসম্মানের কথা বলা হয়নি। একজন মানুষ নিজের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অহংকারে অন্ধ হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। আত্মসম্মান মানুষকে সুস্থ ও মর্যাদাবান করে, কিন্তু আত্মম্ভরিতা মানুষকে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যে ব্যক্তি নিজের সামান্য সাফল্যকেও নিজের অসাধারণ শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ মনে করে, তার মধ্যে আত্মসম্ভাবিতার প্রবণতা দেখা দেয়। সে অন্যের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার আগেই নিজের মনে নিজেকে সম্মানিত ও মহিমান্বিত করে বসে।
এর পরেই এসেছে স্তব্ধাঃ শব্দটি। বাংলায় স্তব্ধ শব্দ শুনলে সাধারণত নীরব, বাকরুদ্ধ বা বিস্ময়ে স্থির হয়ে যাওয়ার অর্থ মনে আসে। কিন্তু সংস্কৃত স্তব্ধ শব্দটি এই শ্লোকে ভিন্ন অর্থ বহন করছে। এর মধ্যে রয়েছে অনমনীয়তা, উদ্ধত ভাব এবং অহংকারের কারণে অন্তরের কঠিন হয়ে যাওয়ার ধারণা। অহংকারী ব্যক্তি সহজে নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে না, অন্যের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে চায় না এবং নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে পারে না। সে নিজের মতকে চূড়ান্ত সত্য মনে করে। এই মানসিক কঠোরতাই স্তব্ধতার গভীর অর্থ। প্রকৃত জ্ঞান মানুষের মধ্যে বিনয় সৃষ্টি করে, কিন্তু অল্প জ্ঞান যখন অহংকারের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন মানুষকে মানসিকভাবে স্তব্ধ ও অনমনীয় করে তুলতে পারে।
এরপর শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন ধনমানমদান্বিতাঃ। এই যৌগিক শব্দের মধ্যে ধন, মান, মদ এবং অন্বিত এই কয়েকটি ভাব একত্রিত হয়েছে। ধন বলতে সম্পদ ও বস্তুগত ঐশ্বর্য বোঝায়। মান বলতে সম্মান, মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিপত্তি বোঝায়। মদ বলতে এখানে সাধারণ আনন্দ বোঝানো হয় না, বরং সম্পদ ও সম্মান থেকে জন্ম নেওয়া অহংকার এবং আত্মমত্ততাকে বোঝানো হয়েছে। অন্বিত অর্থ যুক্ত বা পরিপূর্ণ। সুতরাং ধনমানমদান্বিতাঃ বলতে এমন মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যে ধনসম্পদ, সামাজিক মর্যাদা এবং সেই ধন ও মর্যাদা থেকে জন্ম নেওয়া অহংকারে পরিপূর্ণ।
এখানে গীতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো ধন নিজে দোষ নয় এবং সম্মানও নিজে দোষ নয়। মানুষের জীবনে সম্পদ প্রয়োজন এবং সামাজিক সম্মানও স্বাভাবিকভাবে কাম্য হতে পারে। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন মানুষ ধন ও সম্মানকে নিজের প্রকৃত পরিচয়ের সঙ্গে এক করে ফেলে। তখন সে বলতে শুরু করে, আমার ধন আছে তাই আমি শ্রেষ্ঠ, আমার পদ আছে তাই আমি বড়, মানুষ আমাকে সম্মান করে তাই আমার মূল্য অন্যদের চেয়ে বেশি। ধন তখন আর একটি সম্পদ থাকে না, তা অহংকারের ভিত্তি হয়ে ওঠে। সম্মান তখন আর সামাজিক সম্পর্কের একটি স্বাভাবিক অংশ থাকে না, তা আত্মপরিচয়ের নেশায় পরিণত হয়। এই নেশাকেই শ্রীকৃষ্ণ মদ বলেছেন।
শ্লোকের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো যজন্তে। এর মূল ধাতু হলো যজ্। এই ধাতুর সঙ্গে যজ্ঞ, উপাসনা, পূজা এবং নিবেদনের ধারণা যুক্ত। যজন্তে অর্থ তারা যজ্ঞ করে বা উপাসনামূলক কর্ম সম্পাদন করে। কিন্তু এখানেই শ্লোকটির গভীরতা প্রকাশ পায়। শ্রীকৃষ্ণ বলেননি যে এই মানুষগুলো ধর্মীয় কাজ করে না। বরং তারা ধর্মীয় কাজ করে। তারা যজ্ঞ করে, অনুষ্ঠান করে, পূজা করে। কিন্তু তাদের সমস্যাটি কর্মের বাহ্যিক রূপে নয়, কর্মের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যে।
এরপর এসেছে নামযজ্ঞৈঃ শব্দটি। নাম এবং যজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত এই পদটির অর্থ দাঁড়ায় নামমাত্র যজ্ঞ বা এমন যজ্ঞ যার প্রকৃত অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য অনুপস্থিত। যজ্ঞের প্রকৃত তাৎপর্য হলো নিজের কিছু বৃহত্তর সত্যের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা। সেখানে নিজের অহংকার ক্ষীণ হয় এবং বৃহত্তর কল্যাণের প্রতি মন প্রসারিত হয়। কিন্তু নামযজ্ঞে বাহ্যিক অনুষ্ঠানটি থেকে যেতে পারে, অথচ তার অন্তর্নিহিত আত্মনিবেদন হারিয়ে যেতে পারে। তখন যজ্ঞ হয়ে ওঠে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের মর্যাদা, ক্ষমতা, ঐশ্বর্য বা ধর্মীয় পরিচয় প্রদর্শন করতে চায়।
এই কারণেই শ্লোকে দম্ভেন শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দম্ভ অর্থ ভণ্ডামি, আত্মপ্রদর্শন, কৃত্রিম মহত্ত্ব প্রকাশ এবং লোকদেখানো ধর্মাচরণ। একজন মানুষ দান করতে পারেন এবং তার উদ্দেশ্য হতে পারে নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করা। আবার একই দান কেউ করতে পারেন নিজের নাম প্রচার করার জন্য। বাহ্যিকভাবে দুটি কাজ একই রকম মনে হতে পারে, কিন্তু অন্তরের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথম ক্ষেত্রে আছে নিবেদন, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আছে আত্মপ্রদর্শন। গীতার আলোচনায় এই দ্বিতীয় প্রবণতাই দম্ভ।
শ্লোকের শেষ শব্দগুচ্ছ হলো অবিধিপূর্বকম্। অবিধি অর্থ বিধি বা যথাযথ নিয়ম ও নির্দেশের অনুপস্থিতি। এখানে শুধু বাহ্যিক আচারবিধি অমান্য করার কথা বোঝালে শ্লোকটির গভীরতা অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। এর অন্তর্নিহিত অর্থ আরও বিস্তৃত। যে ধর্মীয় কর্মের উদ্দেশ্য আত্মশুদ্ধি, কর্তব্যবোধ, শ্রদ্ধা, নিবেদন ও বৃহত্তর কল্যাণ, সেই উদ্দেশ্য যদি হারিয়ে যায় এবং তার পরিবর্তে আত্মপ্রচার ও অহংকার প্রবেশ করে, তবে কর্মটি তার প্রকৃত ধর্মীয় চরিত্র হারাতে শুরু করে।
এই শ্লোকের দার্শনিক তাৎপর্য এখানেই যে শ্রীকৃষ্ণ ধর্মের বাহ্যিক রূপের চেয়ে অন্তরের অবস্থাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন। একই কাজ দুই ব্যক্তি করতে পারেন, কিন্তু তাদের মানসিক উদ্দেশ্য ভিন্ন হলে সেই কাজের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যও ভিন্ন হয়ে যায়। একজন যজ্ঞ করতে পারেন ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মনিবেদনের অনুভূতি থেকে। অন্যজন একই যজ্ঞ করতে পারেন নিজের সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য। বাহ্যিকভাবে উভয়ের আচরণ একই হলেও অন্তর্নিহিত চেতনা এক নয়। গীতার দৃষ্টিতে এই অন্তর্নিহিত চেতনাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেদান্তীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই শ্লোককে দেখলে এর সঙ্গে আত্মপরিচয়ের একটি গভীর সমস্যা যুক্ত হয়ে যায়। মানুষ যখন নিজের প্রকৃত সত্তাকে না জেনে দেহ, সম্পদ, পদ, ক্ষমতা এবং সামাজিক পরিচয়কে নিজের প্রকৃত পরিচয় বলে মনে করে, তখন অহংকার জন্ম নেয়। আমার ধন ধীরে ধীরে হয়ে যায় আমি ধনী। আমার পদ হয়ে যায় আমি গুরুত্বপূর্ণ। আমার সম্মান হয়ে যায় আমি শ্রেষ্ঠ। এইভাবে বাহ্যিক বিষয়ের সঙ্গে আত্মপরিচয় একীভূত হলে মানুষ নিজের প্রকৃত অন্তর্গত মূল্যকে ভুলে যায়। তখন ধর্মও আত্মজ্ঞান অর্জনের পথ না হয়ে নিজের নির্মিত পরিচয়কে শক্তিশালী করার উপায় হয়ে ওঠে।
সাংখ্যের গুণতত্ত্বের আলোকে দেখলেও এই মানসিকতা মূলত রজোগুণের অস্থিরতা ও অহংকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ধন অর্জন, সামাজিক মর্যাদা লাভ, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন এবং অন্যের চোখে নিজেকে বড় করে তোলার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে প্রবল কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু সেই কর্মচাঞ্চল্যের কেন্দ্রে যদি আত্মশুদ্ধি না থাকে, তবে তা ধীরে ধীরে আসক্তি ও অহংকারের জন্ম দেয়। এই কারণেই গীতা শুধু মানুষ কী করছে তা জানতে চায় না, কেন করছে সেই প্রশ্নও সামনে আনে।
আধুনিক জীবনে এই শ্লোকের প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত গভীর। আজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দান, সামাজিক সেবা এবং নৈতিক কাজের অনেক কিছুই প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্য হওয়া নিজে কোনো অপরাধ নয়। সমস্যা তখনই হয়, যখন কাজের উদ্দেশ্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। কেউ যদি অন্যের সাহায্য করেন এবং অন্য মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য সেই কাজের কথা জানান, সেখানে একটি ইতিবাচক সামাজিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কিন্তু যদি মূল উদ্দেশ্য হয় নিজের মহত্ত্ব প্রচার করা, তাহলে সেই কাজের মধ্যে দম্ভ প্রবেশ করতে পারে। একইভাবে কেউ বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে পারেন ভক্তি থেকে, আবার কেউ একই অনুষ্ঠান করতে পারেন নিজের সামাজিক প্রভাব প্রদর্শনের জন্য। বাহ্যিক আয়োজন দেখে সবসময় অন্তরের সত্য বোঝা যায় না।
এই কারণে শ্লোকটি আমাদের প্রত্যেককে আত্মপরীক্ষার আহ্বান জানায়। আমরা যখন কোনো ভালো কাজ করি, তখন নিজেদের কাছে প্রশ্ন করা দরকার যে কাজটি আমরা কেন করছি। আমরা কি সত্যিই অন্যের কল্যাণ চাই, নাকি নিজের সম্পর্কে একটি সুন্দর ধারণা তৈরি করতে চাই। আমরা কি ঈশ্বরকে স্মরণ করছি, নাকি ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করে নিজের পরিচয়কে বড় করছি। আমরা কি ধর্মের মাধ্যমে নিজের অহংকারকে ক্ষয় করছি, নাকি ধর্মকেই নিজের অহংকারের অলংকার বানিয়ে ফেলছি। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের ধর্মাচরণের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করতে পারে।
একটি সহজ উপমা দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। একটি প্রদীপ নীরবে আলো দেয়। তার কাজ হলো অন্ধকার দূর করা। কিন্তু যদি সেই প্রদীপ আলো দেওয়ার পাশাপাশি বারবার ঘোষণা করতে থাকে যে সে কত উজ্জ্বল, তাহলে তার আলো দেওয়ার সঙ্গে আত্মপ্রদর্শনের একটি অতিরিক্ত প্রবণতা যুক্ত হয়ে যায়। একইভাবে ধর্মীয় কাজের প্রকৃত সৌন্দর্য হলো তা মানুষের অহংকারকে ক্ষয় করবে এবং অন্তরকে প্রসারিত করবে। যদি ধর্মীয় কাজের পরে মানুষের মনে আরও বেশি শ্রেষ্ঠত্ববোধ জন্মায়, তবে সেই ধর্মাচরণের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।
এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর শিক্ষা হলো সত্যিকারের যজ্ঞে আমি ছোট হয় এবং বৃহত্তর সত্য বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু দম্ভের যজ্ঞে আমি আরও বড় হয়ে উঠি এবং ধর্মকে ব্যবহার করি নিজের মহত্ত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য। প্রকৃত যজ্ঞ আত্মনিবেদন সৃষ্টি করে, আর নামমাত্র যজ্ঞ আত্মপ্রদর্শন সৃষ্টি করতে পারে। প্রকৃত ধর্ম মানুষকে বিনয়ী করে, আর দম্ভপূর্ণ ধর্ম মানুষকে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি আরও অন্ধ করে তুলতে পারে।
সুতরাং ভগবদ্গীতার এই শ্লোককে শুধু প্রাচীন বৈদিক যজ্ঞের সমালোচনা হিসেবে দেখলে এর গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না। এটি মানুষের অহংকার, সম্পদের মোহ, সামাজিক মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা, আত্মপ্রবঞ্চনা এবং ধর্মীয় প্রদর্শনের একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ। আত্মসম্ভাবিতা মানুষকে নিজের কৃত্রিম মহত্ত্বে আবদ্ধ করে, স্তব্ধতা তাকে বিনয় ও শিক্ষাগ্রহণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, ধন ও মানের মদ তাকে বাহ্যিক সাফল্যের নেশায় আচ্ছন্ন করে এবং দম্ভ তার ধর্মাচরণকেও আত্মপ্রচারের উপায়ে পরিণত করে। শ্রীকৃষ্ণ তাই আমাদের বাহ্যিক ধর্মাচরণের চেয়ে অন্তরের শুদ্ধতার দিকে তাকাতে শেখান।
শেষ পর্যন্ত এই শ্লোকের শিক্ষা একটি গভীর আত্মজিজ্ঞাসায় এসে মিলিত হয়। মানুষ যা কিছু পবিত্র কাজ করে, তার প্রকৃত মূল্য শুধু কাজটির বাহ্যিক রূপে নয়, সেই কাজের পেছনে থাকা চেতনার মধ্যে নিহিত। যেখানে বিনয় আছে, সেখানে ধর্ম জীবন্ত। যেখানে আত্মনিবেদন আছে, সেখানে যজ্ঞ সত্য। যেখানে অহংকার ও দম্ভ প্রধান হয়ে ওঠে, সেখানে ধর্মের বাহ্যিক রূপ থাকলেও তার অন্তরের আলো ম্লান হয়ে যেতে পারে। তাই সত্যিকারের আধ্যাত্মিকতা হলো নিজেকে বড় করে তোলা নয়, নিজের অহংকারকে অতিক্রম করে বৃহত্তর সত্য, কল্যাণ ও ঈশ্বরচেতনার কাছে নিজেকে নিবেদন করা। यही এই শ্লোকের ভাষাগত, দার্শনিক, আধ্যাত্মিক ও মানবিক গভীরতম শিক্ষা।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!