সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৭.১১ — সাত্ত্বিক যজ্ঞ, নিষ্কাম কর্ম ও কর্তব্যবোধের আধ্যাত্মিক তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
অফলাকাঙ্ক্ষিভির্যজ্ঞো বিধিদিষ্টো য ইজ্যতে।যষ্টব্যমেবেতি মনঃ সমাধায় স সাত্ত্বিকঃ।।১১।
অফলাকাঙ্ক্ষিভির্যজ্ঞো বিধিদিষ্টো য ইজ্যতে।
যষ্টব্যমেবেতি মনঃ সমাধায় স সাত্ত্বিকঃ।।১১।

।অনুবাদঃ ফলের আকাঙ্ক্ষা রহিত ব্যক্তিগণ কর্তৃক শাস্ত্রের বিধি অনুসারে, অনুষ্ঠান করা কর্তব্য এভাবেই মনকে একাগ্র করে যে যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়, তা সাত্ত্বিক যজ্ঞ।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের একাদশ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ সাত্ত্বিক যজ্ঞের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, তার মধ্যে ভারতীয় দর্শনের এক গভীর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সত্য নিহিত রয়েছে। শ্লোকটি হলো অফলাকাঙ্ক্ষিভির্যজ্ঞো বিধিদিষ্টো য ইজ্যতে যষ্টব্যমেবেতি মনঃ সমাধায় স সাত্ত্বিকঃ। অর্থাৎ যে যজ্ঞ বা কর্তব্যকর্ম কোনো ব্যক্তিগত ফলের আকাঙ্ক্ষা না করে শাস্ত্রবিধি অনুসারে সম্পাদিত হয় এবং যে ব্যক্তি নিজের মনকে এই দৃঢ় বোধে স্থির করেন যে যজ্ঞ করা তাঁর কর্তব্য, সেই যজ্ঞ সাত্ত্বিক বলে পরিচিত। এই শ্লোককে কেবল একটি ধর্মীয় আচারের নির্দেশ হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না। এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা মানুষের সমগ্র কর্মজীবন, নৈতিক চেতনা এবং আত্মিক বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে যজ্ঞ কেবল অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার কোনো বাহ্যিক অনুষ্ঠান নয়। যজ্ঞ হলো নিজের সামর্থ্য, শ্রম, জ্ঞান, সময়, সম্পদ এবং কর্মকে বৃহত্তর কল্যাণের উদ্দেশ্যে নিবেদন করার এক গভীর মানসিকতা।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো অফলাকাঙ্ক্ষী। শব্দটি গঠিত হয়েছে অ, ফল এবং আকাঙ্ক্ষী এই ভাবগুলোর সমন্বয়ে। অ দ্বারা না বা বিহীন বোঝানো হয়েছে, ফল বলতে কর্মের পরিণাম বা প্রাপ্তি বোঝায় এবং আকাঙ্ক্ষী বলতে প্রত্যাশাকারী বা কামনাকারী বোঝায়। ফলে অফলাকাঙ্ক্ষী অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি নিজের কর্মের ফলের প্রতি ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষায় আবদ্ধ নন। তবে এখানে ফলের সম্পূর্ণ অস্বীকারের কথা বলা হয়নি। মানুষ কর্ম করবে এবং কর্মের স্বাভাবিক ফলও আসবে। কিন্তু সেই ফল যেন কর্মের একমাত্র উদ্দেশ্য না হয়ে ওঠে, সেটিই মূল শিক্ষা। মানুষ যখন প্রত্যেক কাজের আগে হিসাব করতে শুরু করে যে এর বিনিময়ে সে কী পাবে, তখন তার কর্ম ধীরে ধীরে স্বার্থের দ্বারা পরিচালিত হয়। আর যখন সে উপলব্ধি করে যে কিছু কাজ করা দরকার কারণ সেগুলো ন্যায়সঙ্গত, কল্যাণকর এবং কর্তব্যসঙ্গত, তখন তার কর্মের মধ্যে এক ধরনের অন্তর্গত স্বাধীনতা জন্ম নেয়।

শ্লোকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো যজ্ঞ। যজ্ঞ শব্দের উৎস সংস্কৃত যজ্ ধাতু। এই ধাতুর মধ্যে পূজা করা, উপাসনা করা, অর্পণ করা এবং পবিত্র উদ্দেশ্যে নিবেদন করার ভাব রয়েছে। বৈদিক যুগে যজ্ঞ ছিল দেবতার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট বিধি অনুসারে অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার একটি পবিত্র অনুষ্ঠান। কিন্তু গীতার দর্শনে যজ্ঞের অর্থ বহুগুণ বিস্তৃত হয়েছে। মানুষের প্রত্যেক নিঃস্বার্থ কর্তব্যই বৃহত্তর অর্থে যজ্ঞ হয়ে উঠতে পারে। একজন শিক্ষক যখন নিজের জ্ঞানকে ছাত্রদের উন্নতির জন্য নিবেদন করেন, একজন চিকিৎসক যখন মানুষের সেবাকে নিজের কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেন, একজন মানুষ যখন নিজের শ্রম সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করেন কিংবা কেউ যখন নিজের সামর্থ্য দিয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান, তখন সেই কর্মের মধ্যেও যজ্ঞের চেতনা প্রকাশ পেতে পারে। যজ্ঞের গভীরতম প্রতীক তাই অর্পণ। নিজের মধ্যে যা আছে তাকে বৃহত্তর কোনো সত্য, কর্তব্য বা কল্যাণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা।

শ্লোকে ব্যবহৃত বিধিদিষ্ট ভাবটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিধি অর্থ নিয়ম, নির্দেশ, কর্তব্যবিধান এবং শাস্ত্রসম্মত পদ্ধতি। অর্থাৎ সাত্ত্বিক যজ্ঞ শুধু ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই সম্পূর্ণ হয় না। সেই কর্ম নৈতিক শৃঙ্খলা ও যথাযথ পদ্ধতির মধ্যেও সম্পন্ন হতে হবে। ভালো কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও যদি পদ্ধতিটি অন্যায় হয়, তবে সেই কর্মকে নিখুঁত সাত্ত্বিক কর্ম বলা যায় না। উদ্দেশ্য এবং পদ্ধতির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা দরকার। গীতা এখানে আমাদের শেখায় যে পবিত্র উদ্দেশ্যকে পবিত্র কর্মপদ্ধতির মধ্য দিয়েই প্রকাশ করতে হয়।

ইজ্যতে শব্দটি যজ্ ধাতু থেকে এসেছে এবং এর অর্থ যজ্ঞ করা হয়, পূজা করা হয় বা নিবেদন করা হয়। এর সঙ্গে যষ্টব্যম্ শব্দটি যুক্ত হয়ে শ্লোকটির কর্তব্যবোধকে আরও স্পষ্ট করে। যষ্টব্যম্ অর্থ যজ্ঞ করা উচিত বা যজ্ঞ করা কর্তব্য। এখানে কর্মের ফলের প্রতি মনোযোগ না দিয়ে কর্মটির নিজস্ব কর্তব্যগত মূল্যকে সামনে আনা হয়েছে। এই ভাবের সঙ্গে মনঃ সমাধায় কথাটিও গভীরভাবে যুক্ত। মনকে স্থির করা বলতে বোঝানো হয়েছে নিজের চিত্তকে দৃঢ়ভাবে এই উপলব্ধির মধ্যে স্থাপন করা যে এটি আমার কর্তব্য এবং তাই আমি এটি করব। মানুষের মন স্বাভাবিকভাবেই ফল, প্রশংসা, লাভ, স্বীকৃতি এবং ব্যক্তিগত সাফল্যের দিকে ছুটে যায়। সেই মনকে কর্তব্যের ওপর স্থির করতে পারাই সাত্ত্বিক কর্মচেতনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

শ্লোকের শেষ শব্দ সাত্ত্বিক এসেছে সত্ত্ব থেকে। ভারতীয় সাংখ্য ও গীতার দর্শনে সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ প্রকৃতির তিন গুণ। সত্ত্বের সঙ্গে জড়িত স্বচ্ছতা, জ্ঞান, শান্তি, সামঞ্জস্য, বিশুদ্ধতা এবং অন্তর্গত স্থিরতা। রজঃ প্রবল আকাঙ্ক্ষা, অস্থিরতা, কর্মচাঞ্চল্য এবং ফলের প্রতি আসক্তির সঙ্গে যুক্ত। তমঃ জড়তা, অজ্ঞতা এবং অবিবেচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই কারণে যে কর্মে ব্যক্তিগত লোভ ও অহংকার অপেক্ষাকৃত কম, যে কর্ম নৈতিক শৃঙ্খলার মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং যে কর্ম কর্তব্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়, তাকে সাত্ত্বিক বলা হয়েছে।

এই শ্লোকের গভীরতম দর্শন হলো কর্মের মূল্য শুধু বাহ্যিক কাজের মধ্যে নিহিত নয়, কর্মের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যের মধ্যেও নিহিত। একই কাজ দুই ব্যক্তি করতে পারেন, কিন্তু তাঁদের মানসিক উদ্দেশ্য ভিন্ন হতে পারে। একজন দান করতে পারেন নিজের নাম প্রচারের জন্য এবং অন্যজন নীরবে দান করতে পারেন কোনো প্রশংসা বা প্রতিদানের আশা না করে। বাহ্যিকভাবে দুজনেই দান করেছেন, কিন্তু তাঁদের কর্মচেতনার মধ্যে গভীর পার্থক্য রয়েছে। একজনের কর্মের সঙ্গে আত্মপ্রচার জড়িত, অন্যজনের কর্মে আত্মনিবেদনের প্রবণতা রয়েছে। গীতার সাত্ত্বিক যজ্ঞের ধারণার সঙ্গে দ্বিতীয় মানসিকতাই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই শিক্ষা মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একজন শিক্ষার্থী যদি শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করে, তবে তার মন স্বাভাবিকভাবেই ফলাফলের সঙ্গে আবদ্ধ থাকবে। কিন্তু সে যদি জ্ঞান অর্জনকে নিজের বিকাশের একটি কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশোনা করে, তাহলে তার শিক্ষার অভিজ্ঞতা আরও গভীর হতে পারে। একজন কর্মী যদি শুধু পদোন্নতি এবং বেতন বৃদ্ধির জন্য কাজ করেন, তবে তাঁর মানসিক শান্তি অনেকাংশে বাহ্যিক ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। কিন্তু যদি তিনি নিজের কাজকে নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করাকে একটি কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে কর্মের মধ্যেই তিনি এক ধরনের অন্তর্গত মূল্য খুঁজে পেতে পারেন। এর অর্থ এই নয় যে সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। বরং অর্থ হলো সাফল্য যেন মানুষের কর্মের একমাত্র ভিত্তি না হয়ে ওঠে।

এখানে নিষ্কাম কর্মের ধারণার সঙ্গেও শ্লোকটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নিষ্কাম কর্ম মানে কর্মহীনতা নয় এবং কোনো লক্ষ্য ছাড়াই কাজ করা নয়। এর অর্থ হলো কর্ম করা কিন্তু কর্মফলের প্রতি এমন আসক্ত না হওয়া যাতে নিজের মানসিক স্বাধীনতা নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করবে, কর্মের ফলের জন্য স্বাভাবিক প্রত্যাশাও থাকবে, কিন্তু নিজের আত্মমূল্যকে শুধু ফলাফলের সঙ্গে এক করে দেখবে না। এই অবস্থায় কর্ম একটি বোঝা না হয়ে সাধনার রূপ নিতে পারে।

মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতেও এই শিক্ষার তাৎপর্য গভীর। মানুষ যখন প্রতিটি কাজের জন্য বাহ্যিক স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকে, তখন তার আনন্দ এবং আত্মবিশ্বাস অন্যের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন কর্মের মধ্যে নিজের মূল্যবোধ এবং কর্তব্যবোধের উপস্থিতি থাকে, তখন অন্তর্গত প্রেরণা শক্তিশালী হয়। এই অর্থে গীতার সাত্ত্বিক যজ্ঞ এমন এক কর্মচেতনার প্রতীক যেখানে বাহ্যিক পুরস্কারের চেয়ে অন্তরের সত্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ তখন অন্যের প্রশংসার জন্য নয়, নিজের বিবেকের কাছে সত্য থাকার জন্য কাজ করে।

যজ্ঞের প্রতীকী অর্থ আরও বিস্তৃত। যজ্ঞ মানে অর্পণ। জীবনের প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে কোনো না কোনো দায়িত্ব যুক্ত থাকে। মানুষ পরিবার থেকে ভালোবাসা পায়, সমাজ থেকে শিক্ষা ও সুযোগ পায়, প্রকৃতি থেকে জীবনধারণের উপকরণ পায় এবং পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে জ্ঞান ও সংস্কৃতি উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করে। তাই নিজের প্রাপ্তিকে বৃহত্তর কল্যাণে ফিরিয়ে দেওয়ার মানসিকতাও এক ধরনের যজ্ঞ। এই দৃষ্টিতে শিক্ষকতার মধ্যে যজ্ঞ আছে, সেবার মধ্যে যজ্ঞ আছে, জ্ঞানচর্চার মধ্যে যজ্ঞ আছে এবং মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার মধ্যেও যজ্ঞ আছে।

শ্লোকটির আরেকটি গভীর দিক হলো অহংকারের রূপান্তর। মানুষ যখন বলে আমি এই কাজটি করেছি এবং এর জন্য আমার স্বীকৃতি চাই, তখন কর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের অহংকার অবস্থান করে। কিন্তু যখন সে উপলব্ধি করে যে তার প্রতিভা, শ্রম, জ্ঞান এবং সামর্থ্য বৃহত্তর অস্তিত্বের কাছ থেকে পাওয়া এক ধরনের দায়িত্ব, তখন কর্মের মানসিকতা বদলে যায়। তখন সে নিজের কর্মকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে না দেখে একটি অর্পণ হিসেবে দেখতে শেখে। এই পরিবর্তনই আধ্যাত্মিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

সাত্ত্বিক যজ্ঞ তাই কেবল ধর্মীয় আচরণের একটি ধরন নয়। এটি একটি জীবনদর্শন। এই জীবনদর্শন মানুষকে শেখায় যে কর্ম থেকে পালিয়ে যাওয়া মুক্তির পথ নয়। বরং কর্মের মধ্যে থেকেই নিজের আসক্তি, অহংকার এবং স্বার্থপরতাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করতে হয়। কর্ম করতে হবে নিষ্ঠার সঙ্গে, ন্যায়ের সঙ্গে এবং মনকে স্থির রেখে। নিজের সর্বোত্তম সামর্থ্য দিয়ে কাজ করতে হবে, কিন্তু কর্মের ফলকে নিজের অস্তিত্বের একমাত্র মানদণ্ড বানানো যাবে না।

এই শ্লোকের আলোকে মানুষের জীবনের একটি মৌলিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় আমি কেন কাজ করছি। অর্থের জন্য, প্রশংসার জন্য, ক্ষমতার জন্য, সামাজিক মর্যাদার জন্য, নাকি সত্যিই কোনো কর্তব্যবোধ থেকে। এই প্রশ্নের উত্তর মানুষের নিজের অন্তর্জগতকে প্রকাশ করে। যখন মানুষ নিজের কাছে সৎভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে শেখে, তখন তার কর্মের প্রকৃত চরিত্রও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত এই শ্লোক আমাদের এমন এক কর্মদর্শনের দিকে নিয়ে যায় যেখানে কর্তব্য এবং আত্মনিবেদন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। অফলাকাঙ্ক্ষী মন মানুষকে ব্যক্তিগত লোভ থেকে মুক্ত করে, যজ্ঞের ধারণা তাকে বৃহত্তর কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করে, বিধি তাকে নৈতিক শৃঙ্খলা দেয়, যষ্টব্যম্ তাকে কর্তব্যের দৃঢ়তা দেয় এবং মনঃ সমাধায় তাকে অন্তরের স্থিরতার দিকে নিয়ে যায়। এই সবকিছুর সমন্বিত প্রকাশই সাত্ত্বিকতা। তাই শ্লোকটির গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষ কর্ম করবে সম্পূর্ণ নিষ্ঠায়, নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে এবং সৎ উদ্দেশ্যে, কিন্তু কর্মের ফলকে নিজের অহংকারের খাদ্য বানাবে না। নিজের জন্য যা করা যায় তার চেয়ে বৃহত্তর কিছু করার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত মহত্ত্ব নিহিত। যখন কর্ম ব্যক্তিগত লাভের সীমা অতিক্রম করে কর্তব্য, সেবা এবং অর্পণের রূপ ধারণ করে, তখন সেই কর্ম শুধু বাহ্যিক কাজ থাকে না, তা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার এক আধ্যাত্মিক সাধনায় পরিণত হয়। এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণের এই বাণী আজও মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, কর্মজীবন, নৈতিকতা এবং আত্মিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। সত্যিকার সাত্ত্বিক কর্ম হলো সেই কর্ম যেখানে হাত কাজ করে, বুদ্ধি পথ নির্দেশ করে, মন কর্তব্যে স্থির থাকে এবং হৃদয় ফলের পরিবর্তে সত্য ও কল্যাণের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি