সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৭.১২ — রাজসিক যজ্ঞ, ফলাকাঙ্ক্ষা ও আত্মপ্রদর্শনের আধ্যাত্মিক তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
অভিসন্ধায় তু ফলং দম্ভার্থমপি চৈব যৎ। ইজ্যতে ভরতশ্রেষ্ঠ তং যজ্ঞং বিদ্ধি রাজসম্।।১২।।
অভিসন্ধায় তু ফলং দম্ভার্থমপি চৈব যৎ। 
ইজ্যতে ভরতশ্রেষ্ঠ তং যজ্ঞং বিদ্ধি রাজসম্।।১২।।

অনুবাদঃ হে ভরতশ্রেষ্ঠ! কিন্তু ফল কামনা করে দম্ভ প্রকাশের জন্য যে যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়, তাকে রাজসিক যজ্ঞ বলে জানবে।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের দ্বাদশ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ যজ্ঞের রাজসিক প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মানুষের কর্মের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। শ্লোকটি হলো অভিসন্ধায় তু ফলং দম্ভার্থমপি চৈব যৎ। ইজ্যতে ভরতশ্রেষ্ঠ তং যজ্ঞং বিদ্ধি রাজসম্। হে ভরতশ্রেষ্ঠ, যে যজ্ঞ কোনো নির্দিষ্ট ফল লাভের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এবং দম্ভ বা আত্মপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়, সেই যজ্ঞকে রাজসিক বলে জেনে রাখো। এই শ্লোকের সৌন্দর্য এখানেই যে শ্রীকৃষ্ণ শুধু মানুষ কী কাজ করছে তা দেখছেন না, বরং সেই কাজের পেছনে তার মন কোন উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত হচ্ছে সেটিকেই কর্মের প্রকৃতি নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরছেন।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো অভিসন্ধায়। এটি অভিসন্ধা ভাব থেকে এসেছে এবং এর মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে মানসিকভাবে স্থির করার অর্থ নিহিত রয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তি যখন কোনো কর্ম করার আগেই তার বিনিময়ে কী লাভ করবে তা নির্ধারণ করে নেয়, তখন তার মন কর্মের চেয়ে ফলের দিকে বেশি নিবদ্ধ হয়ে পড়ে। এরপর এসেছে ফলং শব্দটি, যার সাধারণ অর্থ ফল বা কর্মের পরিণতি। কিন্তু এখানে ফল বলতে কেবল অর্থ বা বস্তুগত লাভ বোঝায় না। যশ, সম্মান, সামাজিক মর্যাদা, প্রশংসা, ক্ষমতা, স্বর্গলাভ কিংবা নিজের পুণ্যের প্রচারও ফলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। মানুষের কর্ম তখন আর নিছক কর্তব্য থাকে না। কর্ম হয়ে ওঠে প্রত্যাশিত প্রাপ্তির একটি মাধ্যম।

শ্লোকের আরেকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শব্দ হলো দম্ভার্থম্। দম্ভ অর্থ আত্মপ্রদর্শন, নিজের মহত্ত্ব প্রকাশের প্রবণতা, বাহ্যিক আড়ম্বর এবং অন্যের চোখে নিজেকে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠা করার আকাঙ্ক্ষা। অর্থাৎ কেউ যদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দান বা যজ্ঞ করেন শুধুমাত্র নিজের পবিত্রতা, সম্পদ, মর্যাদা কিংবা ধর্মপরায়ণতা অন্যের কাছে প্রদর্শন করার জন্য, তাহলে সেই কর্মের মধ্যে রাজসিকতার উপস্থিতি রয়েছে। এখানে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্য প্রকাশ পায়। মানুষ কখনো কখনো ভালো কাজকেও নিজের অহংকারের অলংকারে পরিণত করে। সে অন্যের কল্যাণের জন্য কিছু করে, কিন্তু একই সঙ্গে মনে মনে চায় সবাই জানুক যে সেই ভালো কাজটির কর্তা সে নিজেই। তখন কর্মের কেন্দ্র আর বৃহত্তর কল্যাণ থাকে না, কেন্দ্র হয়ে ওঠে নিজের পরিচয় ও নিজের প্রশংসা।

ইজ্যতে শব্দটি যজ্ ধাতু থেকে এসেছে এবং এর মধ্যে যজ্ঞ করা, পূজা করা, উপাসনা করা ও নিবেদন করার অর্থ নিহিত রয়েছে। যজ্ঞ শব্দটির মধ্যেও একই ধাতুর ভাব রয়েছে। বৈদিক ঐতিহ্যে যজ্ঞ ছিল দেবতার উদ্দেশ্যে আহুতি ও নিবেদনের একটি পবিত্র প্রক্রিয়া। কিন্তু গীতায় যজ্ঞের অর্থ আরও গভীর ও বিস্তৃত। যজ্ঞ কেবল অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার অনুষ্ঠান নয়। বৃহত্তর কোনো সত্য, আদর্শ, সমাজ, ঈশ্বর বা কল্যাণের উদ্দেশ্যে নিজের শক্তি, সময়, শ্রম ও সম্পদ উৎসর্গ করার ভাবও যজ্ঞের মধ্যে নিহিত। তাই যজ্ঞের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে মানুষ কী উৎসর্গ করছে তার পাশাপাশি কেন উৎসর্গ করছে তার ওপর।

এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণ যজ্ঞের রাজসিক প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাহ্যিক আচারকে নয়, অন্তরের উদ্দেশ্যকে সামনে এনেছেন। একই ধরনের যজ্ঞ দুই ব্যক্তি সম্পাদন করতে পারেন, কিন্তু তাদের অন্তরের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। একজন কর্তব্যবোধ ও ঈশ্বরার্পণের মানসিকতা নিয়ে যজ্ঞ করতে পারেন। অন্যজন একই যজ্ঞ করতে পারেন ধন, সম্মান, ক্ষমতা বা সামাজিক মর্যাদা লাভের জন্য। বাহ্যিকভাবে তাদের কর্ম একই রকম হলেও অন্তর্গত চেতনা এক নয়। গীতার দৃষ্টিতে এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কর্মের প্রকৃত গুণ অনেক সময় কর্মের দৃশ্যমান আকারে নয়, বরং কর্মের অন্তর্নিহিত অভিপ্রায়ে প্রকাশ পায়।

রাজসিক শব্দটি এসেছে রজস থেকে। গীতার গুণতত্ত্বে সত্ত্ব, রজস ও তমস এই তিনটি গুণ প্রকৃতির মৌলিক প্রবণতাকে প্রকাশ করে। রজসের মধ্যে গতি, আকাঙ্ক্ষা, কর্মপ্রবণতা, অস্থিরতা, অর্জনের বাসনা এবং ভোগের আকর্ষণ রয়েছে। তাই রাজসিক মানুষ অলস নয়। বরং সে অনেক সময় অত্যন্ত সক্রিয়, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং কর্মক্ষম। কিন্তু তার কর্মশক্তির কেন্দ্র যদি হয়ে ওঠে আমি কী পাব, মানুষ আমাকে কীভাবে দেখবে এবং আমি কতটা সফল বলে পরিচিত হব, তাহলে সেই কর্মশক্তি তাকে অন্তরের স্বাধীনতার দিকে না নিয়ে আরও গভীর আসক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই শ্লোকের গভীর দার্শনিক শিক্ষা এখানেই। মানুষ কোনো কাজ করছে কি না, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সে কেন কাজ করছে। একই দান একজন মানুষের মধ্যে করুণা ও উদারতা প্রকাশ করতে পারে এবং অন্য একজনের মধ্যে আত্মপ্রদর্শন ও সামাজিক মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারে। একই জ্ঞান একজনের মধ্যে বিনয় সৃষ্টি করতে পারে এবং অন্যজনের মধ্যে অহংকার বাড়াতে পারে। একই ধর্মীয় অনুষ্ঠান একজনের মধ্যে আত্মশুদ্ধির পথ হতে পারে এবং অন্যজনের জন্য নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের মাধ্যম হতে পারে। তাই বাহ্যিক কর্ম দেখে মানুষের অন্তর্গত অবস্থাকে সম্পূর্ণ বোঝা যায় না।

এই সত্যকে আধুনিক জীবনের উদাহরণ দিয়েও বোঝা যায়। ধরুন, একজন ব্যক্তি একটি বিদ্যালয়ে বিপুল অর্থ দান করলেন। তিনি চান না তার নাম কোথাও প্রকাশিত হোক। তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। অন্যদিকে আরেকজন ব্যক্তি একই পরিমাণ অর্থ দান করলেন এবং শর্ত দিলেন যে বিদ্যালয়ের প্রধান স্থানে তার নাম বড় করে লিখতে হবে, সংবাদমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশ করতে হবে এবং সমাজে সবাইকে জানাতে হবে যে তিনিই এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান দাতা। দুই ব্যক্তির বাহ্যিক কাজ একই হলেও তাদের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য আলাদা। প্রথমটির মধ্যে আত্মনিবেদনের প্রবণতা আছে, আর দ্বিতীয়টির মধ্যে ফল ও আত্মপ্রদর্শনের আকাঙ্ক্ষা প্রবল। এই দ্বিতীয় প্রবণতাই রাজসিক যজ্ঞের প্রকৃত অর্থকে স্পষ্ট করে।

এই শিক্ষা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা যজ্ঞের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক জীবনে মানুষ যে কাজই করুক না কেন, তার মধ্যে এই প্রশ্নটি প্রযোজ্য। কেউ সমাজসেবা করছেন কেন, কেউ দান করছেন কেন, কেউ ধর্ম পালন করছেন কেন, কেউ জ্ঞান অর্জন করছেন কেন, কেউ মানুষের উপকার করছেন কেন। যদি প্রতিটি কাজের অন্তরে থাকে প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার বাসনা অথবা কোনো নির্দিষ্ট লাভের প্রত্যাশা, তাহলে সেই কর্মের মধ্যে রাজসিকতার প্রবণতা থাকতে পারে। অন্যদিকে কর্ম যদি কর্তব্যবোধ, অন্তরের পবিত্রতা এবং বৃহত্তর কল্যাণের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়, তাহলে তার প্রকৃতি ভিন্ন হয়ে ওঠে।

এই শ্লোক মানুষের অহংকারের একটি সূক্ষ্ম রূপও প্রকাশ করে। সাধারণত আমরা অহংকার বলতে নিজেকে বড় মনে করাকে বুঝি। কিন্তু দম্ভের আরও সূক্ষ্ম রূপ হলো নিজের ভালো কাজকে নিজের পরিচয়ের অংশ করে ফেলা। ব্যক্তি তখন মনে করতে শুরু করে যে আমি দাতা, আমি ধর্মপরায়ণ, আমি সমাজসেবী, আমি জ্ঞানী, আমি অন্যদের চেয়ে ভালো। তখন ভালো কাজটি আর আত্মশুদ্ধির মাধ্যম থাকে না। বরং তা অহংকারকে আরও শক্তিশালী করার উপায় হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় বাহ্যিক পবিত্রতা থাকলেও অন্তরের বন্ধন দূর হয় না।

গীতার দৃষ্টিতে ফলের প্রতি অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষাও মানুষের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে। যে ব্যক্তি কাজ করার আগে থেকেই ফলের সঙ্গে নিজের মানসিক শান্তিকে বেঁধে ফেলে, তার সুখ নির্ভর করতে থাকে ফল পাওয়া না পাওয়ার ওপর। ফল পেলে আনন্দ, ফল না পেলে হতাশা। প্রশংসা পেলে আত্মতৃপ্তি, সমালোচনা পেলে অশান্তি। এভাবে ব্যক্তি নিজের অন্তরের ভার অন্য মানুষের হাতে এবং বাহ্যিক ফলাফলের হাতে তুলে দেয়। রাজসিক কর্মের এই দিকটি মানুষের মানসিক অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

প্রতীকী দৃষ্টিতে এই শ্লোক অত্যন্ত গভীর। যজ্ঞ সাধারণত ত্যাগের প্রতীক। মানুষ নিজের কিছু বৃহত্তর কিছুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছে। কিন্তু রাজসিক যজ্ঞে সেই ত্যাগের বাহ্যিক রূপের মধ্যে ভোগের আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে থাকতে পারে। ব্যক্তি কিছু দিচ্ছে, কিন্তু বিনিময়ে কিছু চাইছে। সে অর্থ দিচ্ছে, কিন্তু সম্মান চায়। সে শ্রম দিচ্ছে, কিন্তু প্রশংসা চায়। সে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করছে, কিন্তু সামাজিক মর্যাদা চায়। সে সেবা করছে, কিন্তু ক্ষমতা ও প্রভাব চায়। ফলে যজ্ঞের বাহ্যিক কাঠামো থাকলেও তার অন্তরের চেতনা হয়ে ওঠে এক ধরনের বিনিময়।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে শ্লোকটি আসলে আত্মপরীক্ষার একটি শক্তিশালী শিক্ষা। মানুষকে নিজের কাছে প্রশ্ন করতে শেখানো হচ্ছে যে আমি যা করছি তা কি সত্যিই উৎসর্গ, নাকি তার মধ্যে কোনো গোপন প্রত্যাশা রয়েছে। আমি কি ভালো কাজ করছি কারণ ভালো কাজটি নিজেই ভালো, নাকি মানুষ আমাকে ভালো বলুক বলে। আমি কি দান করছি কারণ অন্যের প্রয়োজন আছে, নাকি আমার নাম ছড়িয়ে পড়ুক বলে। আমি কি ধর্ম পালন করছি আত্মশুদ্ধির জন্য, নাকি নিজের ধার্মিক পরিচয় প্রদর্শনের জন্য। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মানুষকে তার নিজের অন্তর্জগতের সঙ্গে পরিচিত করতে পারে।

তবে রাজসিকতাকে সম্পূর্ণ অন্ধকার বা নিষ্ক্রিয়তার সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। রজসের মধ্যে শক্তি ও কর্মপ্রবণতা রয়েছে। মানুষের উন্নতি, উদ্যোগ, সৃষ্টিশীলতা এবং কর্মশক্তির ক্ষেত্রেও রজসের ভূমিকা আছে। কিন্তু সেই শক্তি যখন ফললোভ, প্রতিযোগিতা, অহংকার ও আত্মপ্রদর্শনের দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন তা বন্ধনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই গীতার শিক্ষা কর্মশক্তিকে ধ্বংস করার শিক্ষা নয়। বরং কর্মশক্তিকে পরিশুদ্ধ করার শিক্ষা। কাজ থাকবে, উদ্যোগ থাকবে, কিন্তু কাজের অন্তরে ধীরে ধীরে ফলের প্রতি আসক্তি ও আত্মপ্রদর্শনের প্রবণতা কমে আসবে।

এই শ্লোকের সঙ্গে মানবজীবনের একটি চিরন্তন সত্য গভীরভাবে যুক্ত। মানুষ প্রায়ই নিজের কাজের বিচার করে তার বাহ্যিক সাফল্য দিয়ে, কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে কর্মের মূল্য নির্ধারিত হয় তার অন্তর্গত চেতনা দিয়েও। একজন মানুষ অনেক কিছু করতে পারেন এবং তবুও অন্তরে অশান্ত থাকতে পারেন, কারণ তার সমস্ত কর্মের কেন্দ্র হতে পারে নিজের অর্জন। আবার অন্য একজন সামান্য কাজ করেও গভীর শান্তি অনুভব করতে পারেন, কারণ তার কর্মে ব্যক্তিগত দাবির পরিবর্তে কর্তব্য ও নিবেদনের ভাব রয়েছে।

সুতরাং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার এই শ্লোক কেবল একটি প্রাচীন ধর্মীয় আচারের শ্রেণিবিভাগ নয়। এটি মানুষের মন, কর্ম, আকাঙ্ক্ষা ও অহংকারের একটি গভীর বিশ্লেষণ। অভিসন্ধায় শব্দটি আমাদের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন করে, ফলং আমাদের প্রত্যাশার কথা মনে করিয়ে দেয়, দম্ভার্থম্ আমাদের আত্মপ্রদর্শনের বিপদ দেখায়, যজ্ঞং আমাদের প্রকৃত উৎসর্গের অর্থ স্মরণ করিয়ে দেয় এবং রাজসম্ আমাদের জানায় যে কর্মের অন্তরে রজোগুণ কীভাবে কাজ করতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, এই শ্লোকের মূল শিক্ষা হলো বাহ্যিকভাবে পবিত্র কাজ করাই যথেষ্ট নয়, সেই কাজের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যকেও পবিত্র করতে হয়। কর্ম যদি ফলের আকাঙ্ক্ষা ও দম্ভের দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে তা রাজসিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আর কর্ম যখন ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত লাভ ও আত্মপ্রদর্শনের ঊর্ধ্বে উঠে কর্তব্য, আত্মশুদ্ধি, নিবেদন ও বৃহত্তর কল্যাণের দিকে অগ্রসর হয়, তখন কর্মের প্রকৃত আধ্যাত্মিক মূল্য প্রকাশ পেতে শুরু করে। এই কারণে শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি আমাদের শুধু কী করতে হবে তা শেখান না, বরং নিজের অন্তরের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করতে শেখান, আমি যা করছি তা আসলে কার জন্য এবং কেন করছি। এই প্রশ্নের সৎ উত্তরই মানুষের কর্মকে বাহ্যিক আচরণ থেকে সত্যিকারের আত্মসাধনার পথে নিয়ে যেতে পারে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি