ভগবদ্গীতা ১৭.১৬ — মানসিক তপস্যা, মনঃপ্রসাদ ও অন্তরের পবিত্রতার আধ্যাত্মিক তত্ত্ব
মনঃপ্রসাদঃ সৌম্যত্বং মৌনমাত্মবিনিগ্রহঃ।
ভাবসংশুদ্ধিরিত্যেতৎ তপো মানসমুচ্যতে।।১৬।।
অনুবাদঃ চিত্তের প্রসন্নতা, সরলতা, মৌন, আত্মনিগ্রহ ও ব্যবহারে নিষ্কপটতা-এগুলিকে মানসিক তপস্যা বলা হয়।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের ষোড়শ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের তপস্যার এমন একটি গভীর রূপের কথা বলেছেন, যা বাহ্যিক আচারের চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম এবং অন্তর্মুখী। শ্লোকটি হলো “মনঃপ্রসাদঃ সৌম্যত্বং মৌনমাত্মবিনিগ্রহঃ ভাবসংশুদ্ধিরিত্যেতৎ তপো মানসমুচ্যতে”। এর সরল অর্থ হলো মনের প্রসন্নতা, সৌম্যতা, মৌন, আত্মসংযম এবং অন্তরের ভাবের পবিত্রতাকেই মানসিক তপস্যা বলা হয়। এই সংক্ষিপ্ত শ্লোকের মধ্যে মানুষের চরিত্র গঠন, আত্মশুদ্ধি, মানসিক শান্তি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির এক বিস্তৃত দর্শন নিহিত রয়েছে। এখানে তপস্যা বলতে কেবল শরীরকে কষ্ট দেওয়া বা কোনো কঠিন সাধনা বোঝানো হয়নি। বরং মানুষের নিজের মনকে পরিশুদ্ধ করা, আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা, আচরণকে কোমল করা এবং অন্তরের উদ্দেশ্যকে নির্মল করে তোলাকেই প্রকৃত সাধনা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো মনঃপ্রসাদ। মন শব্দটি মানুষের চিন্তা, অনুভূতি, আকাঙ্ক্ষা এবং অন্তর্জগতকে নির্দেশ করে, আর প্রসাদ অর্থ প্রসন্নতা, স্বচ্ছতা ও শান্ত অবস্থা। তাই মনঃপ্রসাদ হলো এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে মন অকারণ অস্থিরতা, বিদ্বেষ, অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা এবং অশান্তির দ্বারা আচ্ছন্ন থাকে না। এখানে প্রসন্নতা বলতে কেবল আনন্দিত থাকা বোঝানো হয় না। জীবনে দুঃখ, ব্যর্থতা বা প্রতিকূলতা এলেও যার মন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে না এবং যে নিজের অন্তরের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে, তার মধ্যেই মনঃপ্রসাদের প্রকাশ ঘটে। শান্ত জল যেমন আকাশের প্রতিচ্ছবি পরিষ্কারভাবে ধারণ করতে পারে, তেমনি শান্ত মনও সত্যকে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছভাবে উপলব্ধি করতে পারে। অশান্ত মন নিজের ভয়, ক্রোধ, আকাঙ্ক্ষা ও পূর্বধারণার মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে দেখে, কিন্তু প্রশান্ত মন বাস্তবতাকে অধিক নিরপেক্ষভাবে গ্রহণ করার সুযোগ পায়।
এরপর এসেছে সৌম্যত্ব। সৌম্য শব্দের সঙ্গে সোমের সম্পর্ক রয়েছে এবং এর মধ্যে শীতলতা, কোমলতা, শান্তি ও মাধুর্যের ভাব নিহিত আছে। সৌম্যত্ব বলতে এমন একটি চরিত্রগত গুণকে বোঝানো হয়েছে যার মধ্যে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা, নিষ্ঠুরতা বা আক্রমণাত্মক প্রবণতা নেই। তবে সৌম্য হওয়া দুর্বল হওয়া নয়। প্রকৃত সৌম্যতা হলো শক্তি থাকা সত্ত্বেও অকারণে সেই শক্তির কঠোর প্রকাশ না করা। একজন মানুষ জ্ঞানী হয়েও অহংকারী না হয়ে কোমল হতে পারেন, ক্ষমতাবান হয়েও অন্যকে অপমান না করে সম্মান করতে পারেন এবং নিজের অবস্থান দৃঢ় রেখেও অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারেন। এই সৌম্যতা মানুষের অন্তরের শান্তির বাহ্যিক প্রকাশ। মন যদি সত্যিই শান্ত হয়, তবে তার প্রভাব সাধারণত মানুষের ভাষা, আচরণ এবং অন্যের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যেও প্রকাশ পায়।
শ্লোকে মৌনের কথাও বলা হয়েছে। সাধারণ অর্থে মৌন মানে কথা না বলা। কিন্তু এখানে মৌনের অর্থ আরও গভীর। মানুষের মুখ বন্ধ থাকলেও তার মন প্রচণ্ড শব্দে পূর্ণ থাকতে পারে। তাই প্রকৃত মৌন কেবল বাক্যের অনুপস্থিতি নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় বাক্য, উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিক্রিয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ থেকে নিজেকে সংযত রাখার ক্ষমতা। কখন কথা বলতে হবে এবং কখন নীরব থাকা অধিক কল্যাণকর, এই বিচারবোধই মৌনের প্রকৃত তাৎপর্য। অনেক সম্পর্ক অতিরিক্ত কথার কারণে নষ্ট হয় এবং অনেক বিরোধ একটি মুহূর্তের অসংযত বাক্য থেকে জন্ম নেয়। তাই নীরব থাকা কখনো কখনো কাপুরুষতা নয়, বরং গভীর আত্মসংযমের প্রকাশ। যে ব্যক্তি প্রতিটি উত্তেজনার তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে বাধ্য বোধ করেন না, তিনি নিজের মনকে পরিচালনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করেছেন।
এরপর আসে আত্মবিনিগ্রহ। আত্মবিনিগ্রহের অর্থ নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের মধ্যে রাগ, লোভ, আকাঙ্ক্ষা, ভয়, অহংকার এবং প্রতিশোধের মতো নানা প্রবল মানসিক প্রবণতা কাজ করে। এগুলো মানুষের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার অংশ হলেও এগুলোর দ্বারা সম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হওয়া আত্মসংযমের অভাব প্রকাশ করে। কেউ অপমান করলেই সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশোধ নেওয়া, আকাঙ্ক্ষা জাগলেই তা পূরণ করতে ছুটে যাওয়া কিংবা রাগের মুহূর্তে এমন কথা বলা যার জন্য পরে অনুশোচনা হয়, এগুলো হলো প্রবৃত্তির দ্বারা পরিচালিত হওয়ার উদাহরণ। আত্মবিনিগ্রহ শেখায় যে আবেগকে অস্বীকার করতে হবে না, কিন্তু আবেগের দাস হওয়া যাবে না। রাগ আসতে পারে, কিন্তু রাগের নির্দেশে কাজ করা বাধ্যতামূলক নয়। আকাঙ্ক্ষা জন্মাতে পারে, কিন্তু প্রতিটি আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতেই হবে এমন নয়। এই ব্যবধান তৈরি করার ক্ষমতাই আত্মসংযমের শক্তি।
সবশেষে এসেছে ভাবসংশুদ্ধি, যা শ্লোকটির অন্যতম গভীরতম ধারণা। ভাব অর্থ অন্তরের চিন্তা, অনুভূতি, উদ্দেশ্য এবং মানসিক প্রবণতা। সংশুদ্ধি অর্থ সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধি। ফলে ভাবসংশুদ্ধি হলো মানুষের অন্তরের উদ্দেশ্যকে নির্মল করে তোলা। একজন মানুষ বাইরে থেকে ভালো কাজ করলেও তার উদ্দেশ্য যদি সম্পূর্ণ স্বার্থপরতা, প্রতারণা বা অহংকার দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে তার অন্তরের ভাব পুরোপুরি শুদ্ধ বলা যায় না। একই কাজ দুই ব্যক্তি করতে পারেন, কিন্তু একজনের উদ্দেশ্য হতে পারে সত্যিকারের কল্যাণ এবং অন্যজনের উদ্দেশ্য হতে পারে নিজের প্রশংসা অর্জন করা। বাহ্যিক কাজ একই হলেও অন্তরের মান আলাদা। তাই গীতা মানুষের কর্মের পাশাপাশি কর্মের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যকেও গুরুত্ব দিয়েছে। ভাবসংশুদ্ধি মানুষকে নিজের কাছে সত্যবাদী হতে শেখায়।
এই পাঁচটি গুণকে একত্রে দেখলে শ্লোকটির প্রকৃত সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট হয়। মনঃপ্রসাদ হলো অন্তরের শান্তি, সৌম্যত্ব হলো সেই শান্তির আচরণগত প্রকাশ, মৌন হলো বাক্যের ক্ষেত্রে সেই শান্তির সংযত প্রকাশ, আত্মবিনিগ্রহ হলো নিজের প্রবৃত্তির উপর সচেতন কর্তৃত্ব এবং ভাবসংশুদ্ধি হলো এই সমস্ত সাধনার অন্তর্নিহিত নৈতিক ভিত্তি। অর্থাৎ মানসিক তপস্যা কোনো বিচ্ছিন্ন গুণের সমষ্টি নয়। এগুলো একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মন শান্ত হলে আচরণ কোমল হতে পারে। আচরণ কোমল হলে বাক্য সংযত হয়। বাক্য সংযত হলে আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়। আত্মসংযম বৃদ্ধি পেলে অন্তরের উদ্দেশ্যকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়। এইভাবে একটি গুণ অন্য গুণকে শক্তিশালী করে এবং মানুষের ব্যক্তিত্ব ধীরে ধীরে অন্তর থেকে পরিবর্তিত হতে থাকে।
দার্শনিক দৃষ্টিতে এই শ্লোক মানুষের আত্মপরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে আমাদের দাঁড় করায়। মানুষ কি তার ক্ষণস্থায়ী আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিক্রিয়ার সমষ্টি, নাকি তার মধ্যে এমন একটি সচেতন সত্তা রয়েছে যে নিজের মনকেও পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আত্মবিনিগ্রহের ধারণা দ্বিতীয় সম্ভাবনার দিকে নির্দেশ করে। মানুষ কেবল রাগ করে না, সে নিজের রাগকে দেখতে পারে। সে কেবল আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে না, সে নিজের আকাঙ্ক্ষাকে বিচারও করতে পারে। এই আত্মপর্যবেক্ষণই আত্মশুদ্ধির সূচনা। বেদান্তীয় চিন্তার আলোকে মনকে শুদ্ধ ও স্থির করা আত্মজ্ঞান লাভের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যোগদর্শনের আলোকে এটি চিত্তের বিক্ষেপ কমিয়ে মনকে অধিক স্থিতিশীল করার পথ হিসেবে বোঝা যায়। নৈতিক দর্শনের দিক থেকে ভাবসংশুদ্ধি মানুষের কর্মের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে।
প্রতীকী অর্থেও শ্লোকটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মনঃপ্রসাদকে স্বচ্ছ জলের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেখানে অস্থিরতা কমলে সত্যের প্রতিফলন স্পষ্ট হয়। সৌম্যত্বকে চাঁদের কোমল আলোর সঙ্গে তুলনা করা যায়, যা কোনো কিছু জোর করে পরিবর্তন না করেও পরিবেশে প্রশান্তির অনুভূতি সৃষ্টি করে। মৌন হলো অন্তরের দরজার মতো, যার মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। আত্মবিনিগ্রহকে লাগামধরা রথের সঙ্গে তুলনা করা যায়। শক্তিশালী ঘোড়াকে ধ্বংস করা নয়, বরং তাকে সঠিক পথে পরিচালনা করাই রথীর কাজ। তেমনি মানুষের প্রবল আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা নয়, বরং সেগুলোকে সচেতনতার অধীনে নিয়ে আসাই আত্মসংযমের উদ্দেশ্য। ভাবসংশুদ্ধিকে স্বচ্ছ আয়নার সঙ্গে তুলনা করা যায়। অন্তর যত নির্মল হয়, মানুষ তত স্পষ্টভাবে নিজের উদ্দেশ্য ও কর্মকে দেখতে পারে।
বাস্তব জীবনে এই শ্লোকের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কেউ যদি আমাদের অপমান করে এবং আমরা সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুক্ষণ থামি, নিজের আবেগকে পর্যবেক্ষণ করি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী শান্তভাবে উত্তর দিই, তাহলে সেখানে আত্মবিনিগ্রহের প্রকাশ ঘটে। কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজক মন্তব্য দেখে সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক উত্তর না দিয়ে নীরব থাকা বা ভেবেচিন্তে কথা বলা মৌনের আধুনিক প্রয়োগ হতে পারে। একজন শিক্ষক যদি ভুল করা শিক্ষার্থীকে অপমান না করে কোমলভাবে সংশোধন করেন, সেখানে সৌম্যত্ব প্রকাশ পায়। কেউ যদি অন্যের কল্যাণে কাজ করেন কিন্তু তার বিনিময়ে প্রশংসা বা স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য অস্থির না হন, তাহলে তার মধ্যে ভাবসংশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ দেখা যায়। আবার জীবনে কঠিন পরিস্থিতি এলেও যে ব্যক্তি নিজের ভেতরের শান্তিকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলেন না, তার মধ্যে মনঃপ্রসাদের শক্তি প্রকাশিত হয়।
এই শ্লোকের অন্যতম বড় শিক্ষা হলো তপস্যাকে জীবনের সাধারণ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করা। তপস্যা শুধু নির্জন সাধনা, কঠোর উপবাস বা বাহ্যিক কষ্টের বিষয় নয়। একজন মানুষ পরিবারে থেকেও তপস্যা করতে পারেন, কর্মক্ষেত্রে থেকেও তপস্যা করতে পারেন, সমাজের মধ্যে থেকেও তপস্যা করতে পারেন। তিনি কীভাবে কথা বলেন, কীভাবে রাগ নিয়ন্ত্রণ করেন, কীভাবে অন্যের সঙ্গে আচরণ করেন, নিজের ইচ্ছাকে কীভাবে পরিচালনা করেন এবং নিজের কাজের অন্তরের উদ্দেশ্যকে কতটা নির্মল রাখেন, তার মধ্যেই মানসিক তপস্যার প্রকৃত পরীক্ষা ঘটে।
অতএব “মনঃপ্রসাদঃ সৌম্যত্বং মৌনমাত্মবিনিগ্রহঃ ভাবসংশুদ্ধিরিত্যেতৎ তপো মানসমুচ্যতে” কেবল একটি ধর্মীয় শ্লোক নয়, এটি মানুষের অন্তর্জীবনকে পরিশুদ্ধ করার একটি গভীর জীবনদর্শন। এর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বাহ্যিক সাফল্য যতই বড় হোক, অন্তরের অশান্তি থাকলে মানুষের জীবন পূর্ণতা পায় না। সত্যিকারের উন্নতি তখনই শুরু হয় যখন মানুষ নিজের মনকে শান্ত করতে শেখে, আচরণে কোমলতা আনে, কথায় সংযম রাখে, নিজের প্রবৃত্তিকে পরিচালনা করে এবং অন্তরের উদ্দেশ্যকে নির্মল করে। এই দৃষ্টিতে মানসিক তপস্যা হলো নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং নিজের অন্তরকে ধীরে ধীরে পরিশুদ্ধ ও সুসংহত করে তোলার এক সচেতন যাত্রা। মানুষের প্রকৃত শক্তি তার কতটা জয় করার ক্ষমতা রয়েছে তাতে নয়, বরং নিজের মনকে কতটা শান্ত, সংযত, কোমল ও নির্মল রাখতে পারে তার মধ্যেই নিহিত। এই অন্তরশুদ্ধির পথেই শ্রীকৃষ্ণের বর্ণিত মানসিক তপস্যার গভীরতম সত্য প্রকাশিত হয়।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!