সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৭.১৯ — তামসিক তপস্যা, আত্মপীড়ন ও অন্যের ক্ষতির অশুভ উদ্দেশ্যের আধ্যাত্মিক তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
মূঢ়গ্রাহেণাত্মনো যৎ পীড়য়া ক্রিয়তে তপঃ।পরস্যোৎসাদনার্থং বা তত্তামসমুদাহৃতম্।।১৯।।
মূঢ়গ্রাহেণাত্মনো যৎ পীড়য়া ক্রিয়তে তপঃ।
পরস্যোৎসাদনার্থং বা তত্তামসমুদাহৃতম্।।১৯।।

অনুবাদঃ মূঢ়োচিত আগ্রহের দ্বারা নিজেকে পীড়া দিয়ে অথবা অপরের বিনাশের জন্য যে তপস্যা করা হয়, তাকে তামসিক তপস্যা বলা হয়।

ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের উনিশতম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ তপস্যার এমন একটি রূপের কথা বলেছেন যা বাহ্যিকভাবে কঠোর হলেও অন্তর্গতভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন। শ্লোকটি হলো মূঢ়গ্রাহেণাত্মনো যৎ পীড়য়া ক্রিয়তে তপঃ। পরস্যোৎসাদনার্থং বা তত্তামসমুদাহৃতম্। অর্থাৎ যে তপস্যা মূঢ়তাপূর্ণ জেদ ও অবিবেকের দ্বারা নিজের দেহকে কষ্ট দিয়ে করা হয় অথবা অন্যের ধ্বংস ও পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে করা হয়, তাকে তামসিক তপস্যা বলা হয়েছে। এই বক্তব্যের মধ্যে ভারতীয় দর্শনের একটি অত্যন্ত গভীর নৈতিক শিক্ষা নিহিত রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ এখানে তপস্যার বাহ্যিক কঠোরতাকে তার মহত্ত্বের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেননি। বরং তপস্যার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য, মানসিক ভিত্তি এবং তার দ্বারা সৃষ্ট ফলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে এই শ্লোক শুধু তপস্যা সম্পর্কে একটি ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং মানুষের মন, উদ্দেশ্য, আত্মশাসন, অহংকার, অজ্ঞতা এবং অন্যের প্রতি তার আচরণ সম্পর্কে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ।

এই শ্লোকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ শব্দগুলোর একটি হলো মূঢ়গ্রাহ। মূঢ় শব্দটি সংস্কৃত √মুহ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর মধ্যে মোহ, অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও সত্যকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে না পারার ভাব রয়েছে। গ্রাহ শব্দটি √গ্রহ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত যার অর্থ ধরা, গ্রহণ করা বা আঁকড়ে ধরা। এই দুটি ভাব একত্র হলে মূঢ়গ্রাহ বলতে এমন এক মানসিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে মানুষ অজ্ঞতা বা ভুল ধারণাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে। এখানে শুধু অজ্ঞতা বোঝানো হয়নি। বরং এমন এক অজ্ঞতা বোঝানো হয়েছে যা নিজের ভুলকে সংশোধন করতে চায় না। মানুষ যখন কোনো ভুল বিশ্বাসকে এত দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করে যে নিজের কষ্টকেও সেই বিশ্বাসের সত্যতার প্রমাণ বলে মনে করতে শুরু করে, তখন সেই অবস্থাই মূঢ়গ্রাহের কাছাকাছি চলে যায়। এই দৃষ্টিতে শব্দটি মানুষের অন্ধ মতাগ্রহ, জেদ এবং বিবেকহীন আত্মনিষ্ঠার একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রতিচ্ছবি।

এরপর এসেছে আত্মনঃ পীড়য়া। আত্মনঃ অর্থ নিজের বা নিজের দেহের এবং পীড়য়া অর্থ পীড়ার দ্বারা বা কষ্ট দিয়ে। তপস্যার ক্ষেত্রে এই অংশটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ তপস্যার প্রকৃত অর্থ কেবল কষ্ট সহ্য করা নয়। তপ শব্দের মূল সংস্কৃত ধাতু √তপ্ যার প্রাথমিক অর্থ উত্তপ্ত হওয়া, তাপ দেওয়া বা দহন করা। আধ্যাত্মিক অর্থে তপস্যা হলো এমন সাধনা যার মাধ্যমে মানুষ নিজের অশুদ্ধতা, আসক্তি, দুর্বলতা ও প্রবৃত্তিকে সংযত করে অন্তরের শুদ্ধতার দিকে অগ্রসর হয়। আগুন যেমন অশুদ্ধ বস্তু দহন করে, তেমনি তপস্যা মানুষের অন্তরের অশুদ্ধতাকে দহন করার প্রতীক। কিন্তু যখন তপস্যা আত্মশুদ্ধির পরিবর্তে আত্মনির্যাতনে পরিণত হয়, তখন তার প্রকৃতি বদলে যায়। নিজের শরীরকে কষ্ট দেওয়া নিজে কোনো আধ্যাত্মিক মহত্ত্বের নিশ্চয়তা নয়। যদি সেই কষ্টের মধ্যে জ্ঞান, সংযম, নম্রতা ও আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে তা তামসিক হয়ে উঠতে পারে।

এই জায়গাতেই আত্মসংযম ও আত্মপীড়নের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য প্রকাশিত হয়। আত্মসংযমের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে নিজের প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করা। একজন মানুষ যখন নিজের ইন্দ্রিয়, আকাঙ্ক্ষা ও আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে অধিক সচেতন ও স্বাধীন হতে চায়, তখন তার সংযম আত্মোন্নতির পথে সহায়ক হয়। কিন্তু আত্মপীড়নের ক্ষেত্রে মানুষ কখনও কখনও নিজের ওপর অকারণ কঠোরতা আরোপ করে এবং সেই কষ্টকেই সাধনার প্রমাণ মনে করে। সেখানে আত্মশুদ্ধির পরিবর্তে আত্মনির্যাতন জন্ম নেয়। গীতার শিক্ষা হলো মানুষের লক্ষ্য নিজেকে ধ্বংস করা নয়, বরং নিজের অজ্ঞতা ও অহংকারকে অতিক্রম করা। তাই যে তপস্যা শরীরকে কষ্ট দেয় কিন্তু চেতনাকে শুদ্ধ করে না, তার বাহ্যিক কঠোরতা যতই বেশি হোক, তা আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের নিশ্চয়তা দেয় না।

শ্লোকটির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরস্যোৎসাদনার্থম্। পরস্য অর্থ অন্যের এবং উৎসাদনার্থম্ অর্থ ধ্বংস, পতন বা সর্বনাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ যদি কোনো সাধনা, ব্রত, তপস্যা বা ধর্মীয় আচরণের উদ্দেশ্য হয় অন্য ব্যক্তির ক্ষতি করা, তার পতন ঘটানো বা তাকে ধ্বংস করা, তাহলে সেই সাধনা তামসিক। এই বক্তব্যের মধ্যে আধ্যাত্মিক শক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে একটি গভীর সতর্কতা রয়েছে। জ্ঞান, সাধনা, তপস্যা কিংবা ধর্মীয় পরিচয় মানুষের চেতনাকে উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা। কিন্তু যদি এগুলো অহংকার, ঘৃণা, প্রতিহিংসা কিংবা ধ্বংসের অস্ত্র হয়ে ওঠে, তাহলে বাহ্যিকভাবে তা যতই পবিত্র বলে মনে হোক, তার অন্তর্গত প্রকৃতি তামসিক।

তামস শব্দের অর্থ অন্ধকার এবং ভারতীয় দর্শনে তমস প্রকৃতির সেই গুণ যা অজ্ঞতা, মোহ, জড়তা, অবিবেক ও চেতনাগত অন্ধকারের সঙ্গে যুক্ত। তাই তামসিক তপস্যা বলতে কেবল একটি খারাপ সাধনা বোঝানো হচ্ছে না। এর গভীরে রয়েছে এমন এক চেতনা যেখানে জ্ঞানের আলো দুর্বল হয়ে গেছে এবং অন্ধ জেদ মানুষের কর্মকে পরিচালিত করছে। একজন মানুষ যখন নিজের কষ্টকে মহত্ত্বের প্রমাণ মনে করে, নিজের ভুলকে প্রশ্ন করতে অস্বীকার করে অথবা নিজের সাধনার শক্তিকে অন্যের ক্ষতির জন্য ব্যবহার করে, তখন তার মধ্যে তমসের প্রাধান্য প্রকাশ পায়।

এই শ্লোকের দার্শনিক তাৎপর্য এখানেই যে এটি কর্মের বাহ্যিক রূপের পরিবর্তে কর্মের অন্তর্নিহিত চেতনাকে মূল্যায়ন করতে শেখায়। একই কাজ ভিন্ন উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হলে তার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। কেউ উপবাস করতে পারে আত্মসংযম ও শুদ্ধতার জন্য, আবার কেউ উপবাস করতে পারে নিজের অহংকার প্রদর্শনের জন্য। কেউ কঠোর সাধনা করতে পারে আত্মজ্ঞান অর্জনের জন্য, আবার কেউ একই সাধনাকে ব্যবহার করতে পারে অন্যকে পরাজিত করার মানসিকতায়। বাহ্যিক কাজ একই হলেও অন্তরের গুণ ভিন্ন। গীতার দর্শনে সেই অন্তর্গত গুণই কর্মের প্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

সাংখ্য দর্শনের আলোকে তামস হলো প্রকৃতির সেই শক্তি যা চেতনাকে আবৃত করে এবং মানুষকে সত্য উপলব্ধি থেকে দূরে রাখে। সত্ত্ব যেখানে স্বচ্ছতা ও জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায় এবং রজস যেখানে আকাঙ্ক্ষা ও অস্থিরতার সঙ্গে সম্পর্কিত, সেখানে তমস মানুষকে মোহ ও অবিবেকের মধ্যে আবদ্ধ করে। এই কারণে তামসিক তপস্যা আসলে এমন এক সাধনা যেখানে সাধনার বাহ্যিক রূপ থাকলেও তার অন্তর্গত চেতনা আলোর দিকে অগ্রসর হয় না। বেদান্তীয় দৃষ্টিতেও বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আত্মা স্বরূপত শুদ্ধ ও চৈতন্যময় হলেও অবিদ্যার কারণে মানুষ নিজেকে দেহ, মন, অহংকার ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একাত্ম করে দেখে। ফলে দেহকে কষ্ট দেওয়া এবং আত্মাকে উপলব্ধি করা এক জিনিস হয়ে যায় না। আত্মজ্ঞান মানুষের অন্তরে স্বাধীনতা ও সমত্ব সৃষ্টি করে, আর অজ্ঞতা মানুষকে নিজের ও অন্যের প্রতি বন্ধন এবং সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।

মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে মূঢ়গ্রাহ শব্দটি আরও গভীর অর্থ বহন করে। মানুষের মনে এমন প্রবণতা দেখা যায় যেখানে সে নিজের কোনো বিশ্বাসকে এত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে যে বিপরীত প্রমাণ উপস্থিত হলেও সেই বিশ্বাস থেকে সরে আসতে চায় না। কখনও কখনও মানুষ নিজের কষ্টের পরিমাণ দিয়েই নিজের বিশ্বাসের সত্যতা বিচার করে। সে মনে করতে পারে যে যেহেতু সে একটি বিশ্বাসের জন্য এত কষ্ট সহ্য করছে, তাই সেই বিশ্বাস অবশ্যই সত্য। কিন্তু কষ্ট কোনো বিশ্বাসের সত্যতার প্রমাণ নয়। কোনো ধারণার জন্য নিজেকে যত বেশি কষ্ট দেওয়া হয়, সেই ধারণা তত বেশি সত্য হয়ে যায় না। এই জায়গায় গীতার শিক্ষা অত্যন্ত আধুনিক হয়ে ওঠে। সত্যকে বিচার করতে প্রয়োজন বিবেক, জ্ঞান ও আত্মসমালোচনা। অন্ধ জেদকে সাধনা মনে করা আত্মোন্নতির পথ নয়।

সাহিত্যিক ও প্রতীকী দৃষ্টিতেও এই শ্লোক অত্যন্ত শক্তিশালী। তপস্যা সাধারণত আগুনের সঙ্গে তুলনীয়। আগুন যেমন শুদ্ধ করে, তেমনি ধ্বংসও করতে পারে। একইভাবে তপস্যাও মানুষের অন্তরকে শুদ্ধ করতে পারে, আবার অজ্ঞতার হাতে পড়লে অহংকার ও ধ্বংসের কারণ হতে পারে। একটি ছুরি চিকিৎসকের হাতে জীবন রক্ষা করতে পারে এবং অপরাধীর হাতে জীবন ধ্বংস করতে পারে। ছুরিটি নিজে নৈতিক বা অনৈতিক নয়। ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য তার কার্যকারিতাকে ভিন্ন অর্থ দেয়। তেমনি তপস্যার বাহ্যিক কঠোরতা নিজে তার আধ্যাত্মিক মহত্ত্বের নিশ্চয়তা নয়। উদ্দেশ্য ও চেতনার গুণই তার প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে।

এই শিক্ষা আধুনিক জীবনেও গভীরভাবে প্রযোজ্য। মানুষ আজ নিজের ওপর অসংখ্য ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। কেউ সাফল্যের জন্য নিজের শরীর ও মনকে অমানবিকভাবে নিপীড়ন করে। কেউ নিজের মতবাদকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে অন্যের মতামতকে সহ্য করতে পারে না। কেউ ধর্মীয় বা নৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে অন্যকে হেয় করে। কেউ আবার প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাকে ন্যায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এসব ক্ষেত্রেই গীতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমি যা করছি তা কি আমাকে অধিক জ্ঞানী, সংযত, নির্মল ও সহানুভূতিশীল করছে, নাকি আমাকে আরও কঠোর, অন্ধ, অহংকারী ও ধ্বংসাত্মক করে তুলছে। এই আত্মজিজ্ঞাসাই তামসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

সপ্তদশ অধ্যায়ের পূর্ববর্তী শ্লোকগুলোর সঙ্গে এই শ্লোকের সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে সাত্ত্বিক তপস্যা এমন সাধনা যা শ্রদ্ধা, সংযম ও কর্তব্যবোধ থেকে সম্পন্ন হয়। রাজসিক তপস্যায় সম্মান, মর্যাদা, প্রদর্শন ও ব্যক্তিগত লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রবল থাকে। আর তামসিক তপস্যায় দেখা যায় অজ্ঞতা, জেদ, আত্মপীড়ন এবং অন্যের ক্ষতির প্রবণতা। এর মাধ্যমে গীতা বোঝায় যে কোনো কাজের বাহ্যিক রূপ একা তার প্রকৃতি নির্ধারণ করে না। মানুষের অন্তরের গুণ, উদ্দেশ্য এবং চেতনার অবস্থাই তার কর্মকে সাত্ত্বিক, রাজসিক অথবা তামসিক করে তোলে।

এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা তাই হলো কষ্টের পরিমাণ নয়, চেতনার বিশুদ্ধতাই সাধনার প্রকৃত মানদণ্ড। কঠোর হওয়া মহৎ হওয়ার সমার্থক নয়। কষ্ট সহ্য করা সত্যের প্রমাণ নয়। ধর্মীয় আচরণ করলেই মানুষ নৈতিক হয়ে যায় না। সাধনা তখনই সত্যিকারের আত্মোন্নতির পথ হয়ে ওঠে যখন তা মানুষকে অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের দিকে, অহংকার থেকে নম্রতার দিকে, আসক্তি থেকে স্বাধীনতার দিকে এবং ঘৃণা থেকে কল্যাণবোধের দিকে নিয়ে যায়। যে সাধনা নিজের অজ্ঞতা ও অহংকারকে পুষ্ট করে অথবা অন্যের ধ্বংস কামনা করে, তা বাহ্যিকভাবে যতই কঠিন বা ধর্মীয় বলে মনে হোক, তার অন্তর্গত প্রকৃতি তামসিক।

অতএব মূঢ়গ্রাহেণাত্মনো যৎ পীড়য়া ক্রিয়তে তপঃ। পরস্যোৎসাদনার্থং বা তত্তামসমুদাহৃতম্ এই শ্লোক আমাদের শেখায় যে সত্যিকারের তপস্যা হলো নিজের শরীরকে কষ্ট দেওয়া নয়, বরং নিজের অজ্ঞতা, অহংকার, জেদ, আসক্তি ও ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তিকে অতিক্রম করা। সত্যিকারের সাধনা মানুষকে সংকীর্ণ করে না, তাকে প্রসারিত করে। তাকে নিষ্ঠুর করে না, করুণাময় করে। তাকে অন্ধ করে না, জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে। তাই তপস্যার প্রকৃত সার্থকতা কষ্টে নয়, রূপান্তরে। যে সাধনার ফলে মানুষ নিজের মধ্যে আলো আবিষ্কার করে এবং সেই আলো অন্যের জীবনেও কল্যাণের কারণ হয়ে ওঠে, সেই সাধনাই আত্মোন্নতির প্রকৃত পথ। আর যে সাধনা অন্ধকারকে গভীর করে, নিজের প্রতি নিষ্ঠুরতা বাড়ায় এবং অন্যের পতন কামনা করে, গীতার বিচারে সেটিই তামসিক তপস্যার প্রকৃত পরিচয়।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি