ভগবদ্গীতা ১৭.২ — শ্রদ্ধার তিন প্রকৃতি: সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক বিশ্বাসের গভীর তত্ত্ব
শ্রীভগবানুবাচ
ত্রিবিধা ভবতি শ্রদ্ধা দেহিনাং সা স্বভাবজা।
সাত্ত্বিকী রাজসী চৈব তামসী চেতি তাং শৃণু।।২।।
অনুবাদঃ শ্রীভগবান বললেন-দেহীদের স্বভাব-জনিত শ্রদ্ধা তিন প্রকার- সাত্ত্বিকী, রাজসী ও তামসী। এখন সেই সম্বন্ধে শ্রবণ কর।
ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের দ্বিতীয় শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের অন্তর্জগতের এক অত্যন্ত গভীর সত্যকে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন
এই শ্লোকের সরল অর্থ হলো দেহধারী মানুষের শ্রদ্ধা তিন প্রকার এবং সেই শ্রদ্ধা তার স্বভাবজাত। সেই শ্রদ্ধা সাত্ত্বিক, রাজসিক এবং তামসিক রূপে প্রকাশিত হয়। কিন্তু এই বক্তব্যকে কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের শ্রেণিবিভাগ হিসেবে দেখলে শ্লোকটির প্রকৃত গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না। এখানে মানুষের বিশ্বাস, মানসিক প্রকৃতি, চরিত্র, কর্মপ্রবণতা, মূল্যবোধ এবং আধ্যাত্মিক অভিযাত্রার মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তারই একটি সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এই কারণে শ্রদ্ধা শব্দটি এই শ্লোকের কেন্দ্রবিন্দু এবং এর অর্থ সাধারণ বিশ্বাস বা সম্মানের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।
শ্রদ্ধা শব্দের মধ্যে মানুষের অন্তরের একটি গভীর গ্রহণশক্তি নিহিত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যখন কোনো সত্য, আদর্শ, মূল্যবোধ, সাধনা বা জীবনদৃষ্টিকে শুধু বাহ্যিকভাবে স্বীকার করে না বরং অন্তর থেকে তা গ্রহণ করে এবং তার জীবনকে সেই বিশ্বাসের দ্বারা পরিচালিত করে, তখন সেই অবস্থাকে শ্রদ্ধা বলা যায়। বিশ্বাস কোনো বিষয়কে সত্য বলে মেনে নিতে পারে, কিন্তু শ্রদ্ধার মধ্যে বিশ্বাসের সঙ্গে হৃদয়ের আস্থা, সম্মান, মূল্যায়ন এবং অনুসরণের প্রবণতাও যুক্ত থাকে। তাই মানুষের শ্রদ্ধা আসলে তার অন্তরের দিকনির্দেশক শক্তি। একজন মানুষ জীবনে কোন বিষয়কে সর্বোচ্চ মূল্য দেয়, কাকে অনুসরণ করে, কোন আদর্শের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত হয় এবং কোন সত্যকে নিজের জীবনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে, তার মধ্যেই তার শ্রদ্ধার প্রকৃতি প্রকাশিত হয়।
শ্লোকে বলা হয়েছে এই শ্রদ্ধা স্বভাবজা। স্বভাব অর্থ নিজের অন্তর্গত প্রকৃতি এবং জা অর্থ জন্মগ্রহণকারী বা উৎপন্ন। অর্থাৎ মানুষের শ্রদ্ধা তার অন্তর্নিহিত মানসিক প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মানুষ যে পরিবেশে জন্মায়, যে শিক্ষা গ্রহণ করে, যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায় এবং যে মানসিক প্রবণতাকে ক্রমাগত লালন করে, সেগুলো তার অন্তর্জগতকে গঠন করে। সেই অন্তর্জগত থেকেই তার শ্রদ্ধার বিষয় এবং তার শ্রদ্ধার ধরন তৈরি হয়। তাই একই বিষয়ের প্রতি দুই মানুষের শ্রদ্ধা থাকলেও তাদের শ্রদ্ধার প্রকৃতি এক নাও হতে পারে। একজন সত্য ও আত্মোন্নতির জন্য কোনো আদর্শকে গ্রহণ করতে পারে, অন্যজন একই আদর্শকে ব্যক্তিগত সম্মান বা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। বাহ্যিক আচরণ একই হলেও অন্তরের উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়ায় তাদের শ্রদ্ধার প্রকৃতিও ভিন্ন হয়ে যায়।
এই পার্থক্য বোঝানোর জন্য গীতা সত্ত্ব, রজস এবং তমস এই তিন গুণের কথা বলে। সত্ত্বের মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছতা, জ্ঞান, পবিত্রতা, সাম্য, সংযম এবং সত্যের প্রতি আকর্ষণ। যে শ্রদ্ধা মানুষের অন্তরকে জ্ঞান, সত্য, কল্যাণ, আত্মসংযম এবং আত্মোন্নতির দিকে পরিচালিত করে, তাকে সাত্ত্বিক শ্রদ্ধা বলা যায়। সাত্ত্বিক শ্রদ্ধার মানুষ কোনো বিষয়কে অন্ধভাবে গ্রহণ করে না। তার মধ্যে সত্য অনুসন্ধানের প্রবণতা থাকে। সে নিজের উন্নতির পাশাপাশি অন্যের কল্যাণকেও মূল্যবান মনে করে। তার শ্রদ্ধা তাকে অন্তরের শান্তি, বিবেকের স্বচ্ছতা এবং জীবনের গভীর অর্থ অনুসন্ধানের দিকে নিয়ে যায়। এই শ্রদ্ধা বাহ্যিক প্রদর্শনের চেয়ে অন্তরের পবিত্রতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
রাজসিক শ্রদ্ধার প্রকৃতি ভিন্ন। রজসের মধ্যে রয়েছে গতি, আকাঙ্ক্ষা, কর্মচাঞ্চল্য, উচ্চাভিলাষ এবং ফললাভের প্রবল বাসনা। রাজসিক মানুষ কোনো আদর্শ, ব্যক্তি, ধর্মীয় আচরণ বা কর্মকে শ্রদ্ধা করতে পারে, কিন্তু তার অন্তরে প্রায়ই অর্জন, সম্মান, ক্ষমতা, সাফল্য বা ব্যক্তিগত লাভের আকাঙ্ক্ষা সক্রিয় থাকে। তার কর্মশক্তি প্রবল হতে পারে এবং সে অনেক বড় কাজও করতে পারে, কিন্তু তার অন্তরের শান্তি অনেক সময় ফলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সে যা করে তার বিনিময়ে স্বীকৃতি, মর্যাদা বা সাফল্য প্রত্যাশা করতে পারে। তাই রাজসিক শ্রদ্ধা সম্পূর্ণ নিষ্ফল নয়, কারণ এর মধ্যে শক্তি ও কর্মপ্রবণতা রয়েছে, কিন্তু এর সঙ্গে আসক্তি ও অস্থিরতা যুক্ত থাকায় এটি মানুষকে সহজেই অহংকার এবং ফলের বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে।
তামসিক শ্রদ্ধা আরও ভিন্ন প্রকৃতির। তমসের সঙ্গে অন্ধকার, অজ্ঞতা, জড়তা, বিভ্রান্তি, ভয় এবং অবিবেচনার সম্পর্ক রয়েছে। তামসিক শ্রদ্ধায় মানুষ কোনো বিষয়কে গভীরভাবে অনুসন্ধান না করে অন্ধভাবে আঁকড়ে ধরতে পারে। কুসংস্কার, অন্ধ অনুকরণ, অজ্ঞতা, ভয় কিংবা হিংসার দ্বারা পরিচালিত বিশ্বাস তামসিক প্রবণতার প্রকাশ হতে পারে। এখানে বিশ্বাস থাকতে পারে, কিন্তু সেই বিশ্বাসকে সত্যের আলোয় পরীক্ষা করার আগ্রহ দুর্বল হতে পারে। ফলে শ্রদ্ধা তখন আত্মোন্নতির পরিবর্তে মানুষকে সংকীর্ণতা, বিভ্রান্তি এবং বন্ধনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এই তিন ধরনের শ্রদ্ধার আলোচনার মধ্যে গীতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা রয়েছে। মানুষ শুধু তার বাহ্যিক কাজ দ্বারা পরিচিত হয় না। তার কাজের অন্তর্গত উদ্দেশ্য এবং বিশ্বাসের প্রকৃতিও তাকে সংজ্ঞায়িত করে। একই দান একজন মানুষ নিঃস্বার্থভাবে করতে পারে, আবার অন্য একজন দান করতে পারে নিজের নাম প্রচার করার জন্য। একই ধর্মীয় আচার একজন ব্যক্তি আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে পালন করতে পারে, আবার অন্য কেউ তা সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য করতে পারে। বাহ্যিক আচরণ একই হলেও অন্তরের শ্রদ্ধা ও উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়ায় সেই কর্মের মানসিক প্রকৃতিও ভিন্ন হয়ে যায়। এই কারণেই গীতার দৃষ্টিতে মানুষের অন্তর্জগতের বিশুদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই শ্লোকের দার্শনিক তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে ওঠে যখন আমরা এটিকে গীতার ত্রিগুণ তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। প্রকৃতির মধ্যে সত্ত্ব, রজস এবং তমস এই তিন গুণ ক্রিয়াশীল। মানুষের চিন্তা, অনুভূতি, কর্ম, আকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বাসের মধ্যেও এই গুণগুলোর বিভিন্ন প্রকাশ দেখা যায়। তবে একজন মানুষকে চিরস্থায়ীভাবে সাত্ত্বিক, রাজসিক বা তামসিক বলে চিহ্নিত করা এই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়। একজন মানুষের মধ্যে তিন গুণই বিভিন্ন মাত্রায় থাকতে পারে এবং তার জীবনযাপন, চিন্তা, সাধনা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে এই গুণগুলোর প্রাধান্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই স্বভাবজা শব্দটি মানুষের অপরিবর্তনীয় ভাগ্যকে বোঝায় না। বরং তার বর্তমান অন্তর্গত প্রকৃতি কীভাবে তার শ্রদ্ধাকে প্রভাবিত করছে, সেটিই এখানে মূল বিষয়।
এই দৃষ্টিতে শ্রদ্ধা মানুষের অন্তর্জগতের একটি আয়না। মানুষ কাকে শ্রদ্ধা করে তা তার মূল্যবোধের পরিচয় দেয়। সে কী ধরনের আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয় তা তার চেতনার অবস্থাকে প্রকাশ করে। সে কোন সত্যের জন্য ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয় তা তার চরিত্রের গভীরতা প্রকাশ করে। তাই নিজেকে জানার একটি পথ হলো নিজের শ্রদ্ধাকে পরীক্ষা করা। আমরা কীকে সর্বোচ্চ মূল্যবান মনে করি। আমরা কোন বিষয়ের জন্য সময় ও শক্তি ব্যয় করি। আমরা কাদের অনুসরণ করি। আমরা কোন আদর্শকে সত্য বলে গ্রহণ করি। আমাদের বিশ্বাস কি জ্ঞান ও বিবেক দ্বারা পরিচালিত, নাকি ভয়, লোভ, অহংকার ও অন্ধ অনুকরণ দ্বারা পরিচালিত। এই প্রশ্নগুলো নিজের কাছে করলে আমাদের অন্তর্জগতের প্রকৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।
সাহিত্য ও মানবচরিত্র বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও এই ধারণার গভীর তাৎপর্য রয়েছে। একটি চরিত্র কী করে তার চেয়ে সে কেন করে তা অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ বাহ্যিকভাবে মহান কাজ করতে পারে, কিন্তু যদি তার অন্তরে কেবল অহংকার ও খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা থাকে, তবে তার কর্মের অন্তর্গত প্রকৃতি ভিন্ন। আবার কোনো মানুষ নীরবে এমন কাজ করতে পারে যার মধ্যে কোনো বাহ্যিক জাঁকজমক নেই, কিন্তু তার অন্তরে সত্য, প্রেম এবং কল্যাণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থাকতে পারে। এই কারণে মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব তার বাহ্যিক প্রদর্শনে নয়, বরং তার অন্তরের মূল্যবোধে নিহিত।
এই শ্লোককে একটি প্রতীকী দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়। শ্রদ্ধা মানুষের অন্তরের কম্পাসের মতো। কম্পাস যেমন পথের দিক নির্দেশ করে, শ্রদ্ধাও তেমনি মানুষের জীবনকে একটি নির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত করে। সাত্ত্বিক শ্রদ্ধা আলো ও স্বচ্ছতার দিকে নিয়ে যায়। রাজসিক শ্রদ্ধা গতি ও অর্জনের দিকে নিয়ে যায়। তামসিক শ্রদ্ধা অন্ধকার ও বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই জীবনের প্রশ্ন শুধু এই নয় যে আমাদের শ্রদ্ধা আছে কি না। আসল প্রশ্ন হলো আমাদের শ্রদ্ধা কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এই শ্লোকের একটি বিশেষ সৌন্দর্য হলো এখানে মানুষের বিচার করার চেয়ে আত্মপর্যবেক্ষণের সুযোগ বেশি। আমরা সহজেই অন্যের বিশ্বাসকে বিচার করতে পারি এবং তাকে ভালো বা মন্দ বলে চিহ্নিত করতে পারি। কিন্তু গীতার এই শিক্ষা প্রথমে নিজের দিকে তাকাতে শেখায়। আমার শ্রদ্ধার মধ্যে কতটা সত্যের অনুসন্ধান রয়েছে। কতটা ব্যক্তিগত লাভের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। কতটা অজ্ঞতা বা অন্ধ অনুকরণ রয়েছে। আমি যাকে শ্রদ্ধা করি তার প্রকৃতি কি আমাকে আরও মুক্ত, আরও জ্ঞানী, আরও সংযত এবং আরও কল্যাণমুখী করে তুলছে, নাকি আমাকে আরও অহংকারী, আসক্ত এবং সংকীর্ণ করে তুলছে। এই আত্মজিজ্ঞাসাই শ্লোকটির প্রকৃত সাধনামূলক দিক।
সবশেষে বলা যায়, ত্রিবিধা ভবতি শ্রদ্ধা দেহিনাং সা স্বভাবজা এই শ্লোকটি মানুষের বিশ্বাসের একটি সাধারণ শ্রেণিবিভাগ নয়। এটি মানুষের অন্তর্জগতের একটি গভীর মানচিত্র। শ্রদ্ধা মানুষের হৃদয়ের সেই শক্তি যা তাকে কোনো সত্য, আদর্শ বা মূল্যবোধের দিকে আকর্ষণ করে। তার স্বভাব সেই শ্রদ্ধার প্রকৃতিকে প্রভাবিত করে এবং সেই শ্রদ্ধা আবার তার চরিত্র ও জীবনকে গড়ে তোলে। সাত্ত্বিক শ্রদ্ধা মানুষকে জ্ঞান, সত্য, পবিত্রতা ও কল্যাণের দিকে উন্নীত করে। রাজসিক শ্রদ্ধা তাকে কর্ম, আকাঙ্ক্ষা ও অর্জনের পথে চালিত করে, কিন্তু ফলের আসক্তির বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। তামসিক শ্রদ্ধা অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও অন্ধতার দ্বারা মানুষকে আবদ্ধ করতে পারে। তাই এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষকে শুধু কী বিশ্বাস করে তা নয়, কেন বিশ্বাস করে এবং সেই বিশ্বাস তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা দেখতে শেখা। যে শ্রদ্ধা মানুষকে সত্যের দিকে নিয়ে যায়, তার হৃদয়কে নির্মল করে, তার কর্মকে কল্যাণময় করে এবং তাকে নিজের সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠতে সাহায্য করে, সেই শ্রদ্ধাই শেষ পর্যন্ত আত্মোন্নতির পথ হয়ে ওঠে। মানুষের জীবনের প্রকৃত পরিবর্তন তখনই শুরু হয় যখন সে বাইরের জগতকে পরিবর্তন করার আগে নিজের অন্তরের শ্রদ্ধার প্রকৃতিকে চিনতে শেখে এবং অন্ধ বিশ্বাসকে জ্ঞানের আলোয়, আসক্তিকে সংযমে এবং সংকীর্ণতাকে সত্য ও কল্যাণের বিস্তৃত চেতনার মধ্যে রূপান্তরিত করতে শুরু করে।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!