সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৭.২১ — রাজসিক দান, প্রত্যুপকারের আকাঙ্ক্ষা ও ফলপ্রত্যাশার আধ্যাত্মিক তত্ত্ব

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যত্তু প্রত্যুপকারার্থং ফলমুদ্দিশ্য বা পুনঃ।দীয়তে চ পরিক্লিষ্টং তদ্দানং রাজসং স্মৃতম্।।২১।।…
যত্তু প্রত্যুপকারার্থং ফলমুদ্দিশ্য বা পুনঃ।
দীয়তে চ পরিক্লিষ্টং তদ্দানং রাজসং স্মৃতম্।।২১।।

অনুবাদঃ যে দান প্রত্যুপকারের আশা করে অথবা ফল লাভের উদ্দেশ্যে এবং অনুতাপ সহকারে করা হয়, সেই দানকে রাজসিক বলা হয়। অশুচি স্থানে, অশুভ সময়ে, অযোগ্য পাত্রে, অনাদরে এবং অবজ্ঞা সহকারে যে দান করা হয়, তাকে তামসিক দান বলা হয়।

ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের একবিংশ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ দানের এমন একটি রূপের কথা বলেছেন, যা বাহ্যিকভাবে মহৎ কর্ম বলে মনে হলেও অন্তরের উদ্দেশ্য ও মানসিক প্রবণতার কারণে রাজসিক বলে বিবেচিত হয়। শ্লোকটি হলো “যৎ তু প্রত্যুপকারার্থং ফলমুদ্দিশ্য বা পুনঃ। দীয়তে চ পরিক্লিষ্টং তদ্দানং রাজসং স্মৃতম্।” এই শ্লোকের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, এখানে কেবল দান করার বাহ্যিক আচরণকে বিচার করা হয়নি, বরং দানের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য, মানসিক অবস্থা, প্রত্যাশা এবং দাতার চেতনার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মানুষের জীবনে দেওয়া একটি অত্যন্ত মহৎ প্রবৃত্তি। মানুষ যখন নিজের সম্পদ, সময়, শ্রম, জ্ঞান কিংবা ভালোবাসার কিছু অংশ অন্যের কল্যাণে উৎসর্গ করে, তখন তার মধ্যে উদারতা প্রকাশ পায়। কিন্তু সেই দেওয়ার মধ্যে যদি প্রত্যুপকারের প্রত্যাশা প্রবেশ করে, যদি কোনো নির্দিষ্ট ফল লাভের আকাঙ্ক্ষা থাকে অথবা দিতে গিয়ে অন্তরে কষ্ট ও অনিচ্ছা জন্ম নেয়, তখন সেই দান আর সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ থাকে না। গীতা সেই মানসিক অবস্থাকেই রাজসিক দান হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো যৎ, যার অর্থ যে বা যা। এরপর এসেছে তু, যার অর্থ কিন্তু বা পক্ষান্তরে। এর মাধ্যমে আগের শ্লোকে বর্ণিত সাত্ত্বিক দানের সঙ্গে এই দানের একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করা হয়েছে। সাত্ত্বিক দানে মানুষ কর্তব্যবোধ থেকে দান করে এবং প্রত্যুপকারের আশা রাখে না। তার বিপরীতে রাজসিক দানে দাতার মনে কোনো না কোনো প্রত্যাশা সক্রিয় থাকে। শ্লোকের প্রত্যুপকারার্থম্ শব্দটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রত্যুপকার অর্থ হলো পাল্টা উপকার বা বিনিময়ে উপকার লাভ করা এবং অর্থম্ অর্থ উদ্দেশ্য বা জন্য। ফলে প্রত্যুপকারার্থম্ অর্থ দাঁড়ায় প্রত্যুপকার পাওয়ার উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ আমি কাউকে সাহায্য করছি, কিন্তু আমার অন্তরে একটি অদৃশ্য হিসাব রয়ে যাচ্ছে যে ভবিষ্যতে এই মানুষটি আমার উপকার করবে। বাইরে থেকে এটি দান বলে মনে হলেও ভিতরে এটি এক ধরনের লেনদেনে পরিণত হয়। এখানে দেওয়ার সঙ্গে পাওয়ার একটি অদৃশ্য সম্পর্ক তৈরি হয়।

শ্লোকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ফলম্। ফল শব্দের সাধারণ অর্থ ফল, পরিণাম বা ফলাফল। কিন্তু ভারতীয় দর্শনে ফলের অর্থ আরও ব্যাপক। কোনো কর্মের প্রত্যাশিত পরিণতি, পুরস্কার, সম্মান, সুবিধা কিংবা পুণ্যলাভের আকাঙ্ক্ষাও ফলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাই ফলমুদ্দিশ্য বলতে বোঝায় কোনো নির্দিষ্ট ফলকে সামনে রেখে বা কোনো প্রত্যাশিত ফল লাভের উদ্দেশ্যে। একজন মানুষ যদি দান করেন এই আশায় যে তার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, মানুষ তাকে সম্মান করবে, তার নাম প্রচারিত হবে অথবা ভবিষ্যতে সে কোনো সুবিধা লাভ করবে, তাহলে তার দানের মধ্যে ফলের আকাঙ্ক্ষা প্রবেশ করেছে। এমনকি কেউ যদি দান করেন এই প্রত্যাশায় যে এর মাধ্যমে তিনি কোনো বিশেষ পুণ্যফল অর্জন করবেন, তাহলেও দানের সঙ্গে ফলের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। গীতার দৃষ্টিতে এই ফলকেন্দ্রিক মানসিকতা রাজসিকতার অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

শ্লোকের দীয়তে শব্দটি দা ধাতু থেকে এসেছে এবং এর অর্থ দেওয়া হয়। এই শব্দটি মনে করিয়ে দেয় যে দানের বাহ্যিক কাজটি এখানে অস্বীকার করা হয়নি। মানুষ সত্যিই কিছু দিচ্ছে। কিন্তু গীতার শিক্ষা হলো বাহ্যিক কর্মের পাশাপাশি সেই কর্মের অন্তর্নিহিত মানসিক অবস্থাকেও দেখতে হবে। একই বস্তু একজন মানুষ দুই ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে দিতে পারেন। একজন দিতে পারেন নিঃস্বার্থভাবে, অন্যজন দিতে পারেন ভবিষ্যৎ সুবিধার প্রত্যাশায়। বাহ্যিকভাবে দুজনের কাজ একই হলেও তাদের চেতনার প্রকৃতি এক নয়। এই কারণে গীতার কর্মদর্শনে কর্মের সঙ্গে অভিপ্রায়ের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিক্লিষ্টম্ শব্দটি এই শ্লোকের আরেকটি গভীর শব্দ। এটি ক্লিশ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত, যার অর্থ কষ্ট পাওয়া, পীড়িত হওয়া বা ক্লেশ অনুভব করা। পরিক্লিষ্ট অর্থ হলো কষ্টসহকারে, অনিচ্ছার সঙ্গে অথবা মানসিক ভার নিয়ে। এখানে এমন একজন দাতার চিত্র পাওয়া যায় যিনি বাইরে থেকে দিচ্ছেন, কিন্তু অন্তরে তার মধ্যে অনিচ্ছা রয়েছে। তিনি হয়তো ভাবছেন যে না দিলে মানুষ তাকে খারাপ বলবে, তাই বাধ্য হয়ে দিচ্ছেন। অথবা দেওয়ার পর তার মনে অনুতাপ জন্ম নিচ্ছে যে তিনি কেন এতটা দিলেন। এই ধরনের দানে বস্তুটি অন্যের হাতে চলে গেলেও দাতার মন সেই দানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। তার মনে দানের পরও একটি অস্বস্তি বা মানসিক হিসাব অবশিষ্ট থাকে। এই মানসিক অবস্থাই পরিক্লিষ্টতার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

দান শব্দটি এসেছে দা ধাতু থেকে এবং এর মৌলিক অর্থ দেওয়া। কিন্তু ভারতীয় চিন্তাধারায় দান শুধু অর্থ বা বস্তু দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অন্নদান, জ্ঞানদান, আশ্রয়দান, সময়দান, শ্রমদান এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও বৃহত্তর অর্থে দানের অন্তর্ভুক্ত। তবে গীতার এই আলোচনার বিশেষত্ব হলো এখানে দানের পরিমাণ বা বাহ্যিক মূল্যকে প্রধান করা হয়নি। প্রধান করা হয়েছে দানের অন্তরের উদ্দেশ্যকে। একজন মানুষ অল্প কিছু দিয়ে যদি সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবে অন্যের কল্যাণ চান, তার দানের অন্তর্নিহিত মূল্য অনেক গভীর হতে পারে। আবার বিপুল সম্পদ দান করেও যদি কেউ কেবল নিজের খ্যাতি, প্রতিপত্তি বা ভবিষ্যৎ লাভের হিসাব করেন, তাহলে সেই দানের মধ্যে রাজসিকতার উপস্থিতি থাকতে পারে।

রাজস শব্দটি রজঃ থেকে এসেছে। সাংখ্য ও গীতার দর্শনে সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ হলো প্রকৃতির তিন গুণ। সত্ত্ব প্রকাশ করে স্বচ্ছতা, জ্ঞান, সাম্য ও নির্মলতা। রজঃ প্রকাশ করে কর্মপ্রবণতা, আকাঙ্ক্ষা, চাঞ্চল্য, আসক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ফললাভের তাগিদ। তমঃ প্রকাশ করে অজ্ঞানতা, জড়তা, অবিবেচনা ও অন্ধকার। এই দৃষ্টিতে রাজসিক দান এমন এক দান যেখানে দেওয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা, ফলের প্রত্যাশা, প্রতিদানের বাসনা অথবা অহংকার জড়িয়ে থাকে। রাজসিক মানুষ নিষ্ক্রিয় নয়। বরং সে অত্যন্ত সক্রিয় হতে পারে। কিন্তু তার কর্মের সঙ্গে ব্যক্তিগত লাভ ও প্রত্যাশার সম্পর্ক শক্তিশালী থাকে।

এই কারণে রাজসিক দানকে বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো মানুষ কেন দেয়। এই প্রশ্নটি বাহ্যিকভাবে খুব সাধারণ হলেও দর্শনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গভীর। আমি কি অন্যের প্রয়োজন দেখে দিচ্ছি, নাকি তার কাছ থেকে ভবিষ্যতে কিছু পাওয়ার জন্য দিচ্ছি। আমি কি সত্যিই অন্যের কল্যাণ চাই, নাকি মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য সাহায্য করছি। আমি কি দানের পর সম্পূর্ণভাবে তা ছেড়ে দিতে পারি, নাকি মনে মনে হিসাব রাখতে থাকি যে আমি কত দিয়েছি। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দানের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে। গীতার এই শিক্ষা আমাদের বাহ্যিক কর্ম থেকে অন্তরের দিকে ফিরে তাকাতে শেখায়।

আধুনিক জীবনে এই শ্লোকের প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত গভীর। কোনো ব্যক্তি যদি ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার আশায় কাউকে অর্থসাহায্য করেন, সেখানে প্রত্যুপকারের আকাঙ্ক্ষা কাজ করছে। কেউ যদি কোনো প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেন এবং বিনিময়ে নিজের নাম প্রচার করতে চান, সেখানে ফলের প্রত্যাশা আছে। কেউ যদি সামাজিক সম্মান হারানোর ভয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও দান করেন, সেখানে পরিক্লিষ্টতার প্রবণতা দেখা যায়। আবার কেউ যদি কোনো বন্ধুকে সাহায্য করেন এবং মনে মনে অপেক্ষা করেন যে প্রয়োজনের সময় সেই বন্ধুও সমানভাবে তার পাশে দাঁড়াবে, তাহলেও দানের মধ্যে প্রত্যুপকারের মানসিকতা প্রবেশ করেছে। এসব উদাহরণের অর্থ এই নয় যে পারস্পরিক সহযোগিতা নিজেই নিন্দনীয়। বরং গীতা আমাদের সেই সহযোগিতার অন্তর্নিহিত মানসিক প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন হতে আহ্বান জানায়।

রাজসিক দানের একটি সুন্দর উপমা হতে পারে অদৃশ্য খাতার উপমা। একজন মানুষ কাউকে কিছু দিলেন এবং তার নিজের মনের মধ্যে একটি খাতা খুলে রাখলেন। সেখানে লেখা থাকল আমি তোমাকে এত দিলাম, তাই একদিন তোমাকেও আমাকে এত দিতে হবে। বস্তুটি তার হাত থেকে বেরিয়ে গেলেও মানসিকভাবে সেটি তার কাছেই রয়ে গেল। সে আসলে সম্পূর্ণভাবে দেয়নি, কারণ তার প্রত্যাশা এখনও সেই দানের সঙ্গে বাঁধা। সত্যিকারের নিঃস্বার্থতার দিকে অগ্রসর হওয়ার অর্থ হলো সেই অদৃশ্য খাতাটি ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া। দেওয়া এবং দেওয়ার পর নিজের অধিকারবোধকে ছেড়ে দেওয়ার মধ্যেই দানের আধ্যাত্মিক গভীরতা নিহিত।

এই শ্লোকের সঙ্গে কর্মযোগের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কর্মযোগ মানুষকে কর্ম করতে বলে, কিন্তু কর্মের ফলের প্রতি আসক্ত না হতে শিক্ষা দেয়। রাজসিক দানের সমস্যা হলো এখানে কর্মের সঙ্গে ফলের আকাঙ্ক্ষা যুক্ত থাকে। মানুষ দান করে কিন্তু দানের ফলকে নিজের মানসিক অধিকারের অংশ মনে করে। ফলে তার কর্ম তাকে মুক্ত করার পরিবর্তে আরও বেশি আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার সঙ্গে বেঁধে ফেলতে পারে। নিঃস্বার্থতার পথে অগ্রসর হওয়া মানে কর্ম থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং কর্মের মধ্যে থাকা অবস্থায় ফলের প্রতি আসক্তি কমিয়ে আনা। তাই দানের প্রকৃত আধ্যাত্মিক রূপ কেবল কিছু দেওয়া নয়, বরং দেওয়ার পর নিজের অহং ও প্রত্যাশাকেও ধীরে ধীরে মুক্ত করা।

সাহিত্য ও প্রতীকের দিক থেকেও এই শ্লোক অত্যন্ত গভীর। দান সাধারণত উদারতা, মহত্ত্ব এবং মানবতার প্রতীক। কিন্তু গীতা সেই প্রতীকের ভিতরে একটি সূক্ষ্ম প্রশ্ন স্থাপন করে। বাহ্যিক উদারতা কি সবসময় অন্তরের উদারতার প্রমাণ। একজন মানুষ অনেক কিছু দিতে পারেন, কিন্তু যদি তার মন প্রতিদানের হিসাব ধরে রাখে, তাহলে তার বস্তুগত উদারতার সঙ্গে মানসিক মুক্তির দূরত্ব থেকে যেতে পারে। অন্যদিকে একজন মানুষ সামান্য কিছু দিয়েও যদি সম্পূর্ণ আন্তরিকতা নিয়ে দেন, তাহলে তার দানের আধ্যাত্মিক মূল্য অনেক গভীর হতে পারে। এইভাবে শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে দানের মহত্ত্ব তার পরিমাণে নয়, বরং তার চেতনার বিশুদ্ধতায় নিহিত।

শেষ পর্যন্ত এই শ্লোক মানুষের নিজের অন্তরকে পরীক্ষা করার একটি আয়না। এটি আমাদের অন্যের দান বিচার করার চেয়ে নিজের দানের উদ্দেশ্যকে বিচার করতে শেখায়। আমি যখন দিই তখন আমার ভিতরে কী থাকে। প্রত্যাশা থাকে কি না। প্রতিদানের হিসাব থাকে কি না। প্রশংসার আকাঙ্ক্ষা থাকে কি না। দানের পর অনুতাপ জন্মায় কি না। এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়াই শ্লোকটির প্রকৃত সাধনা। কারণ মানুষের বাহ্যিক হাত যত সহজে কিছু অন্যের হাতে তুলে দিতে পারে, অন্তরের অধিকারবোধ তত সহজে ছেড়ে দিতে পারে না।

এই শ্লোকের সারমর্ম তাই অত্যন্ত গভীর। দান তখনই কেবল বস্তু হস্তান্তর থেকে আত্মিক উদারতার দিকে অগ্রসর হয়, যখন তার সঙ্গে প্রত্যাশার বন্ধন শিথিল হয়। প্রত্যুপকারের আকাঙ্ক্ষা দানকে লেনদেনে পরিণত করে, ফলের প্রত্যাশা দানকে আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং অনিচ্ছা দানের অন্তর্গত আনন্দকে ক্ষীণ করে দেয়। রাজসিক দান তাই মানুষের এমন এক মানসিক অবস্থার প্রতীক যেখানে সে দিতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু এখনও সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিতে শেখেনি। গীতার গভীর আহ্বান হলো মানুষ যেন ধীরে ধীরে সেই হিসাবমুক্ত অবস্থার দিকে অগ্রসর হয়, যেখানে দান কেবল অন্যের হাতে কোনো বস্তু তুলে দেওয়া নয়, বরং নিজের অহং, প্রত্যাশা এবং অধিকারবোধের একটি অংশও মুক্ত করে দেওয়া। তখন দান বাহ্যিক কর্মের সীমা অতিক্রম করে অন্তরের সাধনায় পরিণত হয়। এই দৃষ্টিতে “যৎ তু প্রত্যুপকারার্থং ফলমুদ্দিশ্য বা পুনঃ। দীয়তে চ পরিক্লিষ্টং তদ্দানং রাজসং স্মৃতম্” শুধু দানের শ্রেণিবিভাগ নয়, বরং মানুষের হৃদয়ের প্রকৃতি বোঝার এক গভীর দার্শনিক শিক্ষা। মানুষ কী দেয় তার চেয়ে কেন দেয়, এবং দেওয়ার পর তার অন্তর কতটা মুক্ত থাকে, সেই প্রশ্নের মধ্যেই এই শ্লোকের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি