ভগবদ্গীতা ১৭.২৮ — অশ্রদ্ধাপূর্ণ কর্ম, “অসৎ” ও নিষ্ফল কর্মের আধ্যাত্মিক তত্ত্ব
অশ্রদ্ধয়া হুতং দত্তং তপস্তপ্তং কৃতং চ যৎ।
অসদিত্যুচ্যতে পার্থ ন চ তৎ প্রেত্য নো ইহ।।২৮।।
অনুবাদঃ হে পার্থ! অশ্রদ্ধা সহকারে হোম, দান বা তপস্যা যা কিছু অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বলা হয় ‘অসৎ’। সেই সমস্ত ক্রিয়া ইহলোকে ও পরলোকে ফলদায়ক হয় না।
ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের শেষ শ্লোকটি মানুষের কর্মজীবনের এক অত্যন্ত গভীর সত্যকে প্রকাশ করে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, অশ্রদ্ধার সঙ্গে যে যজ্ঞ করা হয়, যে দান দেওয়া হয়, যে তপস্যা করা হয় এবং যে কোনো কর্ম সম্পাদিত হয়, তাকে অসৎ বলা হয়। সেই কর্মের প্রকৃত ফল না এই জীবনে পাওয়া যায়, না মৃত্যুর পর। শ্লোকটির মূল শিক্ষা বাহ্যিক আচরণের চেয়ে মানুষের অন্তরের অবস্থাকে অধিক গুরুত্ব দেয়। মানুষ কী করছে তার পাশাপাশি কেন করছে, কোন মানসিকতা নিয়ে করছে এবং তার কর্মের পেছনে সত্যের প্রতি কতখানি নিষ্ঠা রয়েছে, সেটিই কর্মের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে।
শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ অশ্রদ্ধয়া। অশ্রদ্ধয়া অর্থ শ্রদ্ধাহীনভাবে। শ্রদ্ধা শব্দের মধ্যে গভীর আস্থা, সত্যের প্রতি সম্মান, অন্তরের নিষ্ঠা এবং কোনো মহৎ আদর্শের প্রতি নিজেকে সমর্পণের ভাব নিহিত রয়েছে। শ্রদ্ধা কেবল অন্ধ বিশ্বাস নয়। শ্রদ্ধা হলো এমন এক অন্তর্গত অবস্থান যেখানে মানুষ কোনো সত্যকে নিজের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সেই সত্যের প্রতি আন্তরিক থাকে। তার বিপরীতে অশ্রদ্ধা হলো অন্তরের সেই সংযোগের অভাব। মানুষ তখন কাজটি করে, কিন্তু কাজটির অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য তার হৃদয়কে স্পর্শ করে না। ফলে কর্মটি বাহ্যিকভাবে সম্পূর্ণ হলেও তার মধ্যে জীবন্ত অর্থ থাকে না।
শ্লোকে হুতং শব্দটি যজ্ঞে আহুতি দেওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। হুত শব্দটি সংস্কৃত হু ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত, যার অর্থ অর্পণ করা বা আহুতি দেওয়া। কিন্তু এর অন্তর্নিহিত অর্থ আরও বিস্তৃত। মানুষ যখন নিজের কোনো প্রিয় বা মূল্যবান বস্তু উচ্চতর কোনো উদ্দেশ্যের কাছে সমর্পণ করে, তখন সেই অর্পণের মধ্যেও হুতের ভাব প্রকাশিত হয়। অর্পণের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই আসে যখন তার মধ্যে আন্তরিকতা থাকে। শ্রদ্ধাহীন অর্পণ তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বাহ্যিকভাবে আহুতি দেওয়া হলেও অন্তরের মধ্যে যদি সমর্পণের অনুভূতি না থাকে, তবে সেই যজ্ঞের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ক্ষীণ হয়ে যায়।
দত্তং শব্দটি এসেছে দান বা দেওয়ার ধারণা থেকে। দান মানুষের উদারতা, সহমর্মিতা এবং আত্মকেন্দ্রিকতার সীমা অতিক্রম করার ক্ষমতার প্রতীক। কিন্তু শুধু কিছু দেওয়াই দানের পূর্ণ অর্থ নয়। দানের মধ্যে যদি অহংকার, খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা, প্রতিদানের আশা অথবা অন্যকে নিজের কাছে ঋণী করার বাসনা থাকে, তবে তার বাহ্যিক মহত্ত্বের আড়ালে স্বার্থ কাজ করতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তি অল্প কিছু দিয়েও যদি আন্তরিকভাবে অন্যের উপকার করতে চান, তবে সেই সামান্য দানের মধ্যেও গভীর মানবিকতা প্রকাশ পেতে পারে। তাই গীতার দৃষ্টিতে দানের পরিমাণের পাশাপাশি দাতার অন্তরের অবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তপস্তপ্তং শব্দের মধ্যেও গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ রয়েছে। তপ শব্দটি তপ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত, যার মূল ভাব উত্তাপ, দহন এবং আত্মশুদ্ধির সঙ্গে যুক্ত। তপস্যা মানে কেবল শরীরকে কষ্ট দেওয়া নয়। প্রকৃত তপস্যা হলো নিজের প্রবৃত্তি, ইন্দ্রিয়, আকাঙ্ক্ষা ও দুর্বলতাকে সংযত করে নিজেকে উচ্চতর সত্যের দিকে পরিচালিত করা। কেউ কঠোর সাধনা করেও যদি মনে মনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে গর্ব করে, তবে সেই সাধনা আত্মশুদ্ধির পরিবর্তে অহংকারের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে কেউ যদি নিজের রাগ, লোভ, হিংসা ও স্বার্থপরতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আন্তরিকভাবে সাধনা করে, তবে তার তপস্যা বাহ্যিকভাবে সাধারণ হলেও অন্তরে গভীর পরিবর্তন আনতে পারে।
কৃতং শব্দটি এসেছে কৃ ধাতু থেকে, যার অর্থ করা, সম্পাদন করা বা সৃষ্টি করা। এখানে কৃতং চ যৎ বলতে শুধু ধর্মীয় কোনো বিশেষ কাজ বোঝানো হয় না। এর মধ্যে মানুষের সামগ্রিক কর্মজীবনের একটি বিস্তৃত ধারণা রয়েছে। মানুষ যে কাজই করুক, সেই কাজের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ও মানসিকতা তার মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। এই কারণে শ্লোকটির শিক্ষা যজ্ঞ, দান ও তপস্যার সীমা অতিক্রম করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একজন শিক্ষক যখন পড়ান, একজন চিকিৎসক যখন সেবা করেন, একজন শ্রমিক যখন কাজ করেন, একজন শিল্পী যখন সৃষ্টি করেন অথবা একজন মানুষ যখন পরিবারের জন্য কোনো ত্যাগ স্বীকার করেন, তখন সেই কর্মের অন্তর্নিহিত চেতনা তার কর্মকে গভীর অর্থ দিতে পারে।
এই শ্লোকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর একটি হলো অসৎ। অসৎ শব্দটি অ এবং সৎ এই দুই অংশে গঠিত। সৎ শব্দের সঙ্গে অস্তিত্ব, সত্য, কল্যাণ এবং মূল্যবান বাস্তবতার ধারণা যুক্ত। তার বিপরীতে অসৎ বলতে এমন কিছু বোঝানো হয় যা সত্যনিষ্ঠতা, কল্যাণ ও যথার্থ মূল্য থেকে বিচ্ছিন্ন। এখানে অসৎ শব্দের অর্থ কেবল অস্তিত্বহীন নয়। শ্রদ্ধাহীন কর্ম বাস্তবে সংঘটিত হতে পারে, তার বাহ্যিক ফলও দেখা যেতে পারে, কিন্তু তার মধ্যে যে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সত্য থাকা উচিত তা অনুপস্থিত থাকে। এই কারণেই তাকে অসৎ বলা হয়।
মানুষের জীবনে বাহ্যিকতা এবং অন্তরের সত্যের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়, এই শ্লোক সেই সমস্যার দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কেউ ধর্মীয় আচরণ করতে পারে, কিন্তু তার হৃদয়ে ধর্মীয় চেতনা নাও থাকতে পারে। কেউ দান করতে পারে, কিন্তু তার উদ্দেশ্য হতে পারে নিজের নাম প্রচার করা। কেউ তপস্যা করতে পারে, কিন্তু তার অন্তরে অন্যদের প্রতি অবজ্ঞা থাকতে পারে। কেউ মহৎ কাজ করতে পারে, কিন্তু তার উদ্দেশ্য যদি কেবল নিজের স্বার্থসিদ্ধি হয়, তবে সেই কর্মের অন্তর্গত মূল্য প্রশ্নের মুখে পড়ে। গীতার শিক্ষা হলো, ধর্মের বাহ্যিক কাঠামো থাকলেই ধর্মের প্রাণ উপস্থিত হয় না। সেই প্রাণ হলো শ্রদ্ধা, সত্যনিষ্ঠা এবং অন্তরের বিশুদ্ধতা।
এই কারণে শ্রদ্ধাকে অন্ধ বিশ্বাস হিসেবে বোঝা উচিত নয়। শ্রদ্ধা মানুষের চিত্তকে সত্যের দিকে স্থাপন করে। এটি এমন এক অন্তর্গত আস্থা যা মানুষকে নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে সাহায্য করে। শ্রদ্ধা থাকলে কর্ম আর শুধু কর্তব্য থাকে না, তা সাধনায় পরিণত হয়। একজন শিক্ষক যদি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে শিক্ষার্থীর জীবনকে সুন্দর করে তোলা তার একটি মহৎ দায়িত্ব, তবে তার প্রতিদিনের পাঠদান একটি অর্থপূর্ণ সাধনা হয়ে উঠতে পারে। একজন চিকিৎসক যদি রোগীর সেবাকে কেবল পেশা হিসেবে না দেখে মানবসেবার একটি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন, তবে তার কাজের অন্তর্গত তাৎপর্য আরও গভীর হয়। একজন সাধারণ মানুষও যদি নিজের প্রতিদিনের কাজকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেন, তবে সেই সাধারণ কর্মও তার চরিত্র গঠনের একটি পথ হয়ে উঠতে পারে।
শ্লোকটির শেষ অংশে বলা হয়েছে, অশ্রদ্ধায় করা কর্মের ফল না ইহলোকে আছে, না প্রেত্য। ইহ অর্থ এই জগৎ বা এই জীবন। প্রেত্য অর্থ এই জীবন অতিক্রম করার পরে বা মৃত্যুর পর। এই দুটি শব্দের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ কর্মের মূল্যকে দুই স্তরে বিচার করেছেন। শ্রদ্ধাহীন কর্মের বাহ্যিক কোনো সাময়িক ফল থাকতে পারে, কিন্তু তার গভীর কল্যাণকর ও আধ্যাত্মিক ফল থাকে না। কারণ যে কর্মের ভিতরে সত্যনিষ্ঠা নেই, তা মানুষের অন্তরকে প্রকৃত অর্থে উন্নত করতে পারে না। কর্মের আসল ফল শুধু বাহ্যিক অর্জন নয়। কর্ম মানুষের চরিত্র গঠন করে, মনকে পরিবর্তিত করে এবং তার চেতনার গতিপথ নির্ধারণ করে। শ্রদ্ধাহীন কর্ম সেই অন্তর্গত উন্নতির পথকে শক্তিশালী করতে পারে না।
এই শিক্ষা কর্মযোগের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। কর্মযোগ মানুষকে কর্ম থেকে পালিয়ে যেতে বলে না। বরং কর্মকে সঠিক চেতনার সঙ্গে সম্পাদন করতে শেখায়। কর্ম তখনই সাধনার রূপ পায় যখন তার মধ্যে কর্তব্যবোধ, সত্যনিষ্ঠা, আত্মসংযম এবং উচ্চতর উদ্দেশ্য থাকে। শুধু কাজ করলেই কর্মযোগ হয় না। কর্মের মধ্যে যে চেতনা প্রবাহিত হয়, সেটিই তাকে যোগের পথে নিয়ে যায়। তাই বলা যায়, কর্ম হলো বাহ্যিক প্রকাশ আর শ্রদ্ধা হলো সেই কর্মের অন্তর্গত প্রাণ।
মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতেও এই শ্লোক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন এমন কোনো কাজ করে যার প্রতি তার অন্তরে কোনো বিশ্বাস নেই, তখন তার বাহ্যিক জীবন এবং অন্তর্জীবনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। সে কাজ করতে পারে, কিন্তু কাজের মধ্যে আনন্দ বা অর্থ খুঁজে পায় না। ধীরে ধীরে কাজ যান্ত্রিক হয়ে যেতে পারে। বিপরীতে যখন মানুষ নিজের কাজের মধ্যে সত্যিকারের অর্থ খুঁজে পায়, তখন তার কর্মের সঙ্গে তার অন্তর একাত্ম হয়। সে শুধু কাজটি সম্পন্ন করে না, কাজটির মধ্যে নিজের একটি অংশও প্রকাশ করে। এই অর্থে শ্রদ্ধা মানুষের কর্মজীবনে অর্থবোধ সৃষ্টি করে।
এই শ্লোককে একটি প্রদীপের সঙ্গে তুলনা করা যায়। একটি প্রদীপের পাত্র থাকতে পারে, তেল থাকতে পারে, সলতে থাকতে পারে, কিন্তু আগুন না থাকলে সেই প্রদীপ আলো দিতে পারে না। একইভাবে মানুষের জীবনে যজ্ঞ থাকতে পারে, দান থাকতে পারে, তপস্যা থাকতে পারে এবং অসংখ্য কর্ম থাকতে পারে, কিন্তু শ্রদ্ধা না থাকলে সেই কর্মের অন্তরের আলো জ্বলে না। শ্রদ্ধা সেই আগুন যা কর্মকে প্রাণ দেয়। বাহ্যিক আচরণ কর্মের শরীর হলে শ্রদ্ধা তার প্রাণ। শরীর থাকলেই জীবন হয় না, প্রাণের উপস্থিতিই তাকে জীবন্ত করে।
এই কারণেই ভগবদ্গীতার এই শ্লোক শুধু ধর্মীয় আচার সম্পর্কে একটি নির্দেশ নয়, বরং মানুষের সমগ্র জীবন সম্পর্কে একটি গভীর দার্শনিক শিক্ষা। মানুষ কী দিচ্ছে, কী অর্পণ করছে, কীভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কীভাবে নিজের কর্ম সম্পাদন করছে, তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই অন্তরের শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। জীবনের মহত্ত্ব শুধু বড় কাজের মধ্যে নয়। একটি ছোট কাজও মহৎ হয়ে উঠতে পারে যদি তা সত্য, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। আবার একটি বড় কাজও অন্তঃসারশূন্য হয়ে যেতে পারে যদি তার মধ্যে থাকে কেবল প্রদর্শন, অহংকার, ভয় অথবা স্বার্থ।
অতএব অশ্রদ্ধয়া হুতং দত্তং তপস্তপ্তং কৃতং চ যৎ এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষের কর্মের প্রকৃত মূল্য তার বাহ্যিক আকারে নয়, তার অন্তর্গত চেতনার মধ্যে নিহিত। শ্রদ্ধা কর্মকে সত্যের সঙ্গে যুক্ত করে, দানকে উদারতায় পরিণত করে, তপস্যাকে আত্মশুদ্ধির পথে নিয়ে যায় এবং সাধারণ কর্মকে সাধনায় উন্নীত করে। আর অশ্রদ্ধা সেই অন্তর্গত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কর্মকে কেবল বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত করে। তাই শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আমরা জীবনে কত কাজ করেছি, কত দিয়েছি, কত ত্যাগ করেছি অথবা কত বড় কাজ করেছি, তার চেয়ে গভীর প্রশ্ন হলো আমরা সেগুলো কোন হৃদয় নিয়ে করেছি। কারণ সত্যিকারের সৎ কর্ম সেই কর্ম, যার মধ্যে সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্তরের সততা এবং কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা জীবন্ত থাকে। সেই শ্রদ্ধাই কর্মকে অর্থ দেয়, সেই সত্যনিষ্ঠাই কর্মকে পবিত্র করে এবং সেই অন্তরের আলোই মানুষকে বাহ্যিক সাফল্যের সীমা অতিক্রম করে জীবনের প্রকৃত অর্থের দিকে নিয়ে যায়।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!