সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৭.৪ — সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক উপাসনা এবং শ্রদ্ধার অন্তর্গত প্রকৃতি

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যজন্তে সাত্ত্বিকা দেবান্ যক্ষরক্ষাংসি রাজসাঃ।প্রেতান্ ভূতগণাংশ্চান্যে যজন্তে তামসা জনাঃ।।৪।।
যজন্তে সাত্ত্বিকা দেবান্ যক্ষরক্ষাংসি রাজসাঃ।
প্রেতান্ ভূতগণাংশ্চান্যে যজন্তে তামসা জনাঃ।।৪।।

অনুবাদঃ সাত্ত্বিক ব্যক্তিরা দেবতাদের পূজা করে, রাজসিক ব্যক্তিরা যক্ষ ও রাক্ষসদের পূজা করে এবং তামসিক ব্যক্তিরা ভূত ও প্রেতাত্মাদের পূজা করে।

ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের চতুর্থ শ্লোকটি মানুষের অন্তর্জগত, শ্রদ্ধা, উপাসনা এবং চেতনার প্রকৃতি সম্পর্কে এক গভীর দার্শনিক সত্য প্রকাশ করে। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, যাঁদের প্রকৃতি সাত্ত্বিক তাঁরা দেবতাদের উপাসনা করেন, যাঁরা রাজসিক তাঁরা যক্ষ ও রাক্ষসদের উপাসনা করেন এবং যাঁরা তামসিক তাঁরা প্রেত ও বিভিন্ন ভূতসত্তার উপাসনা করেন। প্রথম দর্শনে এই শ্লোকটি যেন বিভিন্ন ধরনের উপাসক ও উপাস্যের একটি শ্রেণিবিভাগ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে বিচার করলে বোঝা যায়, এর প্রকৃত বিষয় কোনো বাহ্যিক ধর্মীয় আচরণ নয়। এর মূল বিষয় মানুষের অন্তরের গুণ এবং সেই গুণের দ্বারা তার বিশ্বাস, আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ ও জীবনের অভিমুখ কীভাবে নির্ধারিত হয়।

শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ যজন্তে। এটি সংস্কৃত যজ্ ধাতু থেকে এসেছে এবং এর মধ্যে যজ্ঞ করা, পূজা করা, শ্রদ্ধা নিবেদন করা, উপাসনা করা এবং কোনো উচ্চতর শক্তির কাছে নিজেকে অর্পণ করার অর্থ নিহিত রয়েছে। এই শব্দটি শুধু বাহ্যিক পূজার কাজকে নির্দেশ করে না। মানুষ তার মন, সময়, শ্রম, আবেগ এবং জীবনের শক্তি যে বিষয়ের কাছে সবচেয়ে বেশি নিবেদন করে, গভীর অর্থে সেই বিষয়ই তার উপাস্যের রূপ ধারণ করে। তাই উপাসনা বলতে কেবল দেবমন্দিরে প্রার্থনা করাকে বোঝালে শ্লোকটির গভীরতা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। একজন মানুষ অর্থকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানাতে পারে, কেউ ক্ষমতাকে, কেউ খ্যাতিকে, কেউ ইন্দ্রিয়সুখকে আবার কেউ সত্য, জ্ঞান, প্রেম ও আত্মজ্ঞানকে জীবনের সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। এই অর্থে প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এক ধরনের উপাসনা বিদ্যমান।

সাত্ত্বিক শব্দটি এসেছে সত্ত্ব থেকে। সত্ত্ব ভারতীয় দর্শনে স্বচ্ছতা, পবিত্রতা, জ্ঞান, সাম্য, স্থিরতা এবং আলোকময়তার প্রতীক। যে মানুষের চেতনা সত্ত্বগুণ দ্বারা অধিক প্রভাবিত, তার মধ্যে সত্যের প্রতি আকর্ষণ, আত্মসংযম, জ্ঞানলাভের আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যের কল্যাণের প্রতি মনোভাব বৃদ্ধি পায়। তাই শ্রীকৃষ্ণ সাত্ত্বিক মানুষের উপাসনার বিষয় হিসেবে দেবতাদের উল্লেখ করেছেন। দেবতা শব্দটি সংস্কৃত দিব্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর মধ্যে দীপ্তি, আলো ও উজ্জ্বলতার ধারণা রয়েছে। প্রতীকী অর্থে দেবতা তাই জ্ঞান, আলো, মহত্ত্ব, শৃঙ্খলা এবং উচ্চতর চেতনার প্রতীক হিসেবেও বোঝা যেতে পারে। সাত্ত্বিক মানুষ যে শক্তির প্রতি আকৃষ্ট হয় তা তার নিজের চেতনার নির্মলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এর বিপরীতে রাজসিক শব্দটি এসেছে রজঃ থেকে। রজোগুণ হলো গতি, আকাঙ্ক্ষা, কর্মচাঞ্চল্য, প্রতিযোগিতা, ভোগ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অর্জনের প্রবল তাগিদের সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজসিক মানুষ সাধারণত স্থির থাকতে পারে না। সে কিছু অর্জন করতে চায়, কিছু পেতে চায়, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এবং নিজের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে। এই কারণে শ্লোকে যক্ষ ও রাক্ষসের উপাসনার সঙ্গে রাজসিক প্রকৃতির সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। যক্ষকে সম্পদ, ঐশ্বর্য ও সঞ্চিত শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা যায় এবং রাক্ষসকে প্রবল শক্তি, ভোগপ্রবণতা, আধিপত্য এবং নিয়ন্ত্রণহীন আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। এই ব্যাখ্যায় শ্রীকৃষ্ণ মানুষের বাহ্যিক উপাসনার পাশাপাশি তার অন্তর্গত আকাঙ্ক্ষার প্রকৃতিও তুলে ধরছেন।

তামসিক শব্দটি এসেছে তমঃ থেকে। তমঃ অর্থ অন্ধকার এবং দর্শনের ভাষায় এটি অজ্ঞানতা, জড়তা, মোহ, বিভ্রান্তি, অলসতা ও চেতনার আচ্ছন্নতাকে নির্দেশ করে। তামসিক মানুষের মানসিক জগতে যখন জ্ঞান ও স্বচ্ছতার অভাব প্রবল হয়, তখন ভয়, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং অশান্ত প্রবৃত্তি সহজেই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। শ্লোকে প্রেত ও ভূতগণের উপাসনার সঙ্গে এই তামসিক প্রবণতার সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। প্রেত শব্দটি মূলত যে চলে গেছে বা যে প্রস্থান করেছে সেই ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভূত শব্দটি আবার ভূ ধাতু থেকে এসেছে এবং এর মৌলিক অর্থ অস্তিত্ব লাভ করা বা যে অস্তিত্বশীল হয়েছে। কিন্তু প্রসঙ্গভেদে ভূত শব্দটি অতিপ্রাকৃত সত্তাকেও বোঝায়। ফলে এই অংশটি একদিকে প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তব অর্থ বহন করলেও অন্যদিকে মানুষের অচেতন ভয়, অজ্ঞানতা এবং অন্ধকারময় প্রবৃত্তির প্রতীক হিসেবেও পাঠ করা যায়।

এই শ্লোকের গভীর তাৎপর্য এখানেই যে মানুষ তার অন্তরের প্রকৃতি অনুযায়ী জগতকে দেখে এবং তার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মানুষের শ্রদ্ধা তার চেতনার একটি প্রকাশ। যে ব্যক্তি সত্যকে ভালোবাসে, তার মন সত্যের দিকে ধাবিত হয়। যে ব্যক্তি জ্ঞানকে সর্বোচ্চ মূল্য দেয়, সে জ্ঞান অনুসন্ধান করে। যে ব্যক্তি অর্থ ও ক্ষমতাকে জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য বলে মনে করে, তার চিন্তা ও কর্ম সেই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আবার যে ব্যক্তি ভয়, অজ্ঞানতা বা অন্ধ আসক্তির দ্বারা পরিচালিত হয়, তার জীবনেও সেই অন্ধকারের ছাপ পড়ে। তাই শ্লোকটি আমাদের বাইরের উপাসনার দিকে তাকানোর আগে নিজের অন্তরের দিকে তাকাতে শেখায়।

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই শ্লোক মানুষের মূল্যবোধ ও চেতনার সম্পর্ককে অত্যন্ত গভীরভাবে প্রকাশ করে। মানুষ কেবল সেই জিনিসকেই অনুসরণ করে না যা সে পছন্দ করে, বরং সে যে জিনিসকে মূল্যবান বলে মনে করে তার দ্বারা ধীরে ধীরে নিজের চরিত্রও গঠন করে। কোনো বিষয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের আকর্ষণ চিন্তাকে প্রভাবিত করে, চিন্তা আচরণকে প্রভাবিত করে, আচরণ অভ্যাসে পরিণত হয় এবং অভ্যাস চরিত্র নির্মাণ করে। তাই মানুষ যা শ্রদ্ধা করে তার মধ্যে তার ভবিষ্যৎ চরিত্রের সম্ভাবনাও লুকিয়ে থাকে। এই কারণে গীতার শিক্ষা কেবল উপাসনার পদ্ধতি নিয়ে নয়, মানুষের আত্মগঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও।

মনোবৈজ্ঞানিক অর্থেও শ্লোকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের মন তার আকাঙ্ক্ষার দ্বারা ক্রমাগত একটি নির্দিষ্ট দিকে গড়ে ওঠে। যে ব্যক্তি সারাক্ষণ সম্পদ, প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক মর্যাদার চিন্তায় নিমগ্ন থাকে, তার মানসিক জগতেও সেই বিষয়গুলির আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। যে ব্যক্তি সত্য, জ্ঞান, সৌন্দর্য, প্রেম ও আত্মসংযমকে জীবনের মূল্য হিসেবে গ্রহণ করে, তার মনও ধীরে ধীরে সেই গুণগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। অর্থাৎ মানুষ শুধু তার বিশ্বাসকে বহন করে না, তার বিশ্বাসও ধীরে ধীরে মানুষটিকে গড়ে তোলে।

সাহিত্যিক ও প্রতীকী দৃষ্টিকোণ থেকেও এই শ্লোকের ব্যঞ্জনা গভীর। দেবতা এখানে আলোর প্রতীক, যক্ষ সম্পদের প্রতীক, রাক্ষস প্রবল শক্তি ও ভোগের প্রতীক, প্রেত অতীতের অশান্তির প্রতীক এবং ভূত অজ্ঞাত ভয় ও অচেতন প্রবৃত্তির প্রতীক হিসেবে পাঠ করা যায়। মানুষের অন্তরে যেমন আলো আছে তেমনি অন্ধকারও আছে, যেমন জ্ঞান আছে তেমনি অজ্ঞানতাও আছে, তেমনি সংযম আছে তেমনি প্রবল আকাঙ্ক্ষাও আছে। গীতার গুণত্রয়ের ধারণা মানুষের এই বহুমাত্রিক অন্তর্জগতকে বোঝার একটি দার্শনিক কাঠামো প্রদান করে।

বাস্তব জীবনে এই সত্যের অসংখ্য উদাহরণ দেখা যায়। এমন একজন মানুষকে কল্পনা করা যায় যিনি সারাজীবন কেবল অর্থ, ক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের জন্য ছুটছেন। তার কাছে সাফল্যের অর্থ হলো অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকা। তার জীবন রাজসিক প্রবণতার একটি উদাহরণ হতে পারে। আবার এমন একজন মানুষ আছেন যিনি জ্ঞান অর্জন করেন, নিজের ইন্দ্রিয় ও আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখেন এবং নিজের সামর্থ্য দিয়ে অন্যের উপকার করতে চান। তার মধ্যে সাত্ত্বিক প্রবণতা স্পষ্ট। আবার এমন কেউ যদি অন্ধ ভয়, কুসংস্কার, ঘৃণা ও অজ্ঞানতার দ্বারা পরিচালিত হন, তবে তার মধ্যে তামসিক প্রবণতার প্রকাশ দেখা যেতে পারে। তবে এখানে মনে রাখা জরুরি যে কোনো মানুষকে চিরস্থায়ীভাবে সাত্ত্বিক, রাজসিক বা তামসিক বলে নির্ধারণ করা গীতার উদ্দেশ্য নয়। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই তিনটি গুণ বিভিন্ন মাত্রায় উপস্থিত এবং সাধনা, চিন্তা, কর্ম, পরিবেশ ও জীবনযাপনের মাধ্যমে তাদের প্রাধান্য পরিবর্তিত হতে পারে।

এই কারণেই শ্লোকটি একটি গভীর আত্মজিজ্ঞাসায় পরিণত হয়। আমরা কীকে জীবনের সর্বোচ্চ মূল্য দিচ্ছি। আমাদের সময় কোথায় ব্যয় হচ্ছে। আমাদের চিন্তা কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। আমরা কি সত্য ও জ্ঞানকে অনুসরণ করছি, নাকি কেবল সম্পদ, ক্ষমতা ও ভোগের পেছনে ছুটছি। আমরা কি ভয় ও অজ্ঞানতার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছি, নাকি আমাদের চেতনা ক্রমশ আলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের নিজের অন্তর্গত গুণ সম্পর্কে অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারে।

শ্লোকটির সবচেয়ে গভীর শিক্ষা হলো মানুষের উপাস্য তার অন্তর্জগতের একটি আয়না। মানুষ যাকে সর্বোচ্চ মূল্য দেয়, তার জীবন ধীরে ধীরে সেই মূল্যবোধের আকৃতি ধারণ করে। সাত্ত্বিক চেতনা মানুষকে আলো, জ্ঞান, সাম্য ও পবিত্রতার দিকে নিয়ে যায়। রাজসিক চেতনা তাকে কর্ম, আকাঙ্ক্ষা, অর্জন ও ভোগের দিকে চালিত করে। তামসিক চেতনা তাকে অজ্ঞানতা, মোহ, ভয় ও জড়তার দিকে টেনে নিয়ে যায়। তাই এই শ্লোকের প্রকৃত শিক্ষা অন্যের উপাসনাকে বিচার করা নয়, বরং নিজের শ্রদ্ধার প্রকৃতি পরীক্ষা করা।

সবশেষে বলা যায়, যজন্তে সাত্ত্বিকা দেবান্ যক্ষরক্ষাংসি রাজসাঃ প্রেতান্ ভূতগণাংশ্চান্যে যজন্তে তামসা জনাঃ এই শ্লোকটি মানুষের বাহ্যিক ধর্মাচরণকে অতিক্রম করে তার অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে। এটি জানায় যে মানুষের শ্রদ্ধা তার চেতনার প্রতিফলন এবং তার চেতনা আবার তার জীবনের দিক নির্ধারণ করে। মানুষ যা পূজা করে, যে মূল্যকে সর্বোচ্চ স্থান দেয় এবং যে আদর্শের কাছে নিজের জীবনকে নিবেদন করে, শেষ পর্যন্ত তার চরিত্রও সেই আদর্শের দ্বারা গঠিত হয়। তাই শ্রীকৃষ্ণের এই শিক্ষা আমাদের সামনে এক অনন্ত আত্মজিজ্ঞাসা উপস্থিত করে। আমাদের প্রকৃত উপাস্য কে এবং আমাদের অন্তর কোন দিকে এগিয়ে চলেছে। এই প্রশ্নের মধ্যেই শ্লোকটির ভাষাগত সৌন্দর্য, দার্শনিক গভীরতা, মনস্তাত্ত্বিক সত্য এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য একত্রিত হয়ে মানুষের আত্মপরিচয়ের এক গভীর দর্পণ হয়ে ওঠে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি