সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৭.৬ — দেহপীড়ন, আত্মসংযমের বিকৃতি ও সর্বজীবে ঈশ্বরের উপস্থিতি

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
কর্ষয়ন্তঃ শরীরস্থং ভূতগ্রামমচেতসঃ। মাং চৈবান্তঃশরীরস্থং তান্ বিদ্ধ্যাসুরনিশ্চয়ান্।।৬।।
কর্ষয়ন্তঃ শরীরস্থং ভূতগ্রামমচেতসঃ। 
মাং চৈবান্তঃশরীরস্থং তান্ বিদ্ধ্যাসুরনিশ্চয়ান্।।৬।।

অনুবাদঃ দম্ভ ও অহঙ্কারযুক্ত এবং কামনা ও আসক্তির প্রভাবে বলান্বিত হয়ে যে সমস্ত অবিবেকী ব্যক্তি তাদের দেহস্থ ভূতসমূহকে এবং অন্তরস্থ পরমাত্মাকে ক্লেশ প্রদান করে শাস্ত্রবিরুদ্ধ ঘোর তপস্যার অনুষ্ঠান করে, তাদেরকে নিশ্চিতভাবে আসুরিক বলে জানবে।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের ষষ্ঠ শ্লোক মানুষের সাধনা, শরীর, চেতনা এবং ঈশ্বরের মধ্যকার গভীর সম্পর্ককে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষায় প্রকাশ করেছে। শ্লোকটি হল

এর সহজ অর্থ হল যারা অজ্ঞানতাবশত শরীরের মধ্যে অবস্থানকারী জীবসমষ্টিকে কষ্ট দেয় এবং সেই শরীরের অন্তরে অবস্থানকারী আমাকেও কষ্ট দেয়, তাদের অসুরসুলভ সংকল্পসম্পন্ন বলে জেনে রাখো। কিন্তু এই অর্থের গভীরে প্রবেশ করলে বোঝা যায় যে এখানে কেবল শারীরিক নির্যাতনের কথা বলা হয়নি। এর মধ্যে মানুষের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মসংযমের প্রকৃতি, অহংকারের বিপদ, দেহের প্রতি দায়িত্ব এবং সর্বজীবের অন্তরে ঈশ্বরীয় উপস্থিতির এক গভীর দর্শন নিহিত রয়েছে।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হল কর্ষয়ন্তঃ। সংস্কৃত কর্ষ ধাতুর মধ্যে টেনে নেওয়া, ক্ষীণ করা, কষ্ট দেওয়া এবং অবসন্ন করার ভাব রয়েছে। কর্ষয়ন্তঃ বলতে বোঝায় যারা ক্ষীণ করে, যারা পীড়িত করে অথবা যারা কষ্টের মাধ্যমে দুর্বল করে। এখানে শব্দটি এমন এক ধরনের কঠোরতাকে নির্দেশ করছে যা আত্মশুদ্ধির পরিবর্তে দেহকে অযথা যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে। গীতার দৃষ্টিতে আত্মসংযম এবং আত্মপীড়ন এক বিষয় নয়। ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করা, কামনা সংযত করা, শৃঙ্খলিত জীবনযাপন করা এবং সত্য ও ধর্মের পথে নিজেকে পরিচালিত করা আত্মসংযমের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু নিজের শরীরকে অহংকার, অজ্ঞতা অথবা ভুল ধারণার কারণে অকারণে কষ্ট দেওয়া আত্মসংযম নয়। বরং তা নিজের অস্তিত্বের প্রতি এক ধরনের অজ্ঞতাপূর্ণ নিষ্ঠুরতা হয়ে উঠতে পারে।

শরীরস্থং শব্দটি শরীর এবং স্থিত হওয়ার ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর অর্থ শরীরে অবস্থিত। এখানে শরীরকে কেবল জড় পদার্থ হিসেবে দেখা হয়নি। শরীরের মধ্যে জীবন আছে, প্রাণ আছে, অনুভূতি আছে এবং চেতনার প্রকাশ আছে। তাই শরীরকে পীড়িত করার অর্থ কেবল একটি বাহ্যিক বস্তুকে কষ্ট দেওয়া নয়। নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধারকে কষ্ট দেওয়া। গীতার দর্শনে শরীর আত্মা নয়, কিন্তু শরীর আত্মসাধনার একটি প্রয়োজনীয় মাধ্যম। এই কারণে শরীরের প্রতি আসক্তি যেমন অজ্ঞতা, তেমনি শরীরের প্রতি অকারণ ঘৃণাও জ্ঞানের লক্ষণ নয়। দেহকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে, সংযত রাখতে হবে এবং ধর্ম ও আত্মজ্ঞান অর্জনের উপযোগী রাখতে হবে।

ভূতগ্রাম শব্দটি এই ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করে। ভূত বলতে যা অস্তিত্ব লাভ করেছে অথবা জীবসত্তাকে বোঝানো হয় এবং গ্রাম বলতে সমষ্টি বা গোষ্ঠী বোঝানো হয়। ভূতগ্রাম অর্থ জীবসমষ্টি। মানুষের শরীর একক ও বিচ্ছিন্ন কোনো সত্তা নয়। তার মধ্যে জীবনের বহুমাত্রিক প্রকাশ রয়েছে। তাই শরীরকে অজ্ঞতাপূর্ণভাবে পীড়িত করা জীবনের প্রতি অসম্মানের একটি রূপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষ নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন কোনো দর্শক নয়। সে নিজের শরীর, মন, প্রাণ, অনুভূতি এবং চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

শ্লোকটির আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হল অচেতসঃ। চেতস শব্দের সঙ্গে মন, বোধ, চেতনা এবং বিবেচনাশক্তির সম্পর্ক রয়েছে। তার সঙ্গে অ নিষেধসূচক ভাব যুক্ত হলে অচেতস অর্থ হয় বিবেকহীন, অজ্ঞান অথবা যথার্থ উপলব্ধি থেকে বিচ্যুত। এখানে কৃষ্ণ সমস্যাটিকে শুধু বাহ্যিক আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি আচরণের পেছনে থাকা চেতনার বিচার করেছেন। একজন মানুষ কঠোর সাধনা করতে পারেন, দীর্ঘ সময় উপবাস করতে পারেন অথবা নিজের জীবনকে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন। কিন্তু তার অন্তরে যদি অহংকার, আত্মপ্রদর্শন, হিংসা কিংবা অজ্ঞানতা থাকে, তাহলে কেবল বাহ্যিক কঠোরতার কারণে সেই সাধনাকে মহৎ বলা যায় না। গীতার কাছে সাধনার প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় সাধকের চেতনা ও উদ্দেশ্য দ্বারা।

এরপর শ্লোকে এসেছে মাং চৈবান্তঃশরীরস্থং। অর্থাৎ শরীরের অন্তরে অবস্থিত আমাকেও। এই অংশটি শ্লোকটির আধ্যাত্মিক গভীরতাকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যায়। কৃষ্ণ এখানে নিজের অবস্থানকে কেবল বাহ্যিক ঈশ্বর হিসেবে প্রকাশ করছেন না। তিনি বলছেন যে তিনি শরীরের অন্তরেও অবস্থান করছেন। গীতার বৃহত্তর দর্শনে পরমাত্মা সকল জীবের অন্তরে অবস্থান করেন। তাই যে ব্যক্তি জীবনের প্রতি নিষ্ঠুর হয়, সে কেবল বাহ্যিক জীবনের প্রতি নিষ্ঠুর হচ্ছে না, বরং সেই জীবনের অন্তর্গত ঈশ্বরীয় উপস্থিতিকেও উপেক্ষা করছে।

এখানে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম সত্য প্রকাশিত হয়েছে। ঈশ্বরকে যদি সর্বব্যাপী হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তাহলে নিজের শরীরের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হয়। নিজের শরীরকে ভালোবাসা এবং শরীরের প্রতি আসক্ত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। দেহকে ঈশ্বরের উপলব্ধির মাধ্যম হিসেবে সম্মান করা এক বিষয় এবং দেহকে অহংকারের কেন্দ্র বানানো আরেক বিষয়। গীতা দ্বিতীয়টির বিরোধিতা করে, কিন্তু প্রথমটির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে না।

তান্ বিদ্ধ্যাসুরনিশ্চয়ান্ অংশে কৃষ্ণ এই ধরনের মানুষের মানসিক প্রকৃতির একটি গভীর মূল্যায়ন করেছেন। আসুরনিশ্চয় অর্থ অসুরসুলভ সংকল্প। এখানে অসুর বলতে শুধু কোনো পৌরাণিক সত্তাকে বোঝানো হয়নি। গীতার দর্শনে অসুরিক প্রবণতা মানুষের অন্তরের এমন একটি মানসিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে অহংকার, অজ্ঞানতা, হিংসা, আত্মপ্রদর্শন এবং সত্য থেকে বিচ্যুত দৃঢ়তা কাজ করে। নিশ্চয় শব্দের মধ্যে দৃঢ় সিদ্ধান্তের ভাব আছে। তাই আসুরনিশ্চয় বলতে এমন দৃঢ় সংকল্প বোঝায় যা দৃঢ় হলেও জ্ঞানভিত্তিক নয়। মানুষ ভুল পথেও অত্যন্ত দৃঢ় হতে পারে। কিন্তু দৃঢ়তা নিজে সত্যের প্রমাণ নয়। সংকল্পের মূল্য নির্ভর করে সেই সংকল্প কোন চেতনা ও কোন উদ্দেশ্যের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তার ওপর।

এই শ্লোকের অন্যতম গভীর শিক্ষা হল কঠোরতা কখনো নিজে আধ্যাত্মিকতার প্রমাণ নয়। একজন মানুষ খুব অল্প আহার করে, খুব কম ঘুমায়, দীর্ঘ সময় ধ্যান করে কিংবা নিজের ইন্দ্রিয়কে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বলেই তার সাধনা মহৎ হয়ে যায় না। প্রশ্ন হল এই কঠোরতার উদ্দেশ্য কী। যদি তা আত্মজ্ঞান, সংযম, সত্য, করুণা এবং ঈশ্বরচেতনা বৃদ্ধি করে, তবে তার আধ্যাত্মিক মূল্য থাকতে পারে। কিন্তু যদি তা অহংকার, আত্মপ্রদর্শন অথবা নিজের প্রতি নিষ্ঠুরতার জন্ম দেয়, তাহলে সেই কঠোরতা আত্মশুদ্ধির পরিবর্তে আত্মবিনাশের পথে নিয়ে যেতে পারে।

একটি সহজ উপমা দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। একটি প্রদীপ আলো দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। প্রদীপের শিখাকে স্থির রাখতে তেল প্রয়োজন। কেউ যদি মনে করে প্রদীপের তেল যত দ্রুত শেষ করা যাবে, আলো তত বেশি পবিত্র হবে, তাহলে সে নিজের অজ্ঞতার কারণেই প্রদীপটিকে নিভিয়ে ফেলবে। শরীরও অনেকটা সেই প্রদীপের মতো। শরীর আত্মা নয়, কিন্তু আত্মসাধনার জন্য শরীর একটি প্রয়োজনীয় মাধ্যম। তাই শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কিন্তু অকারণে ধ্বংস করা যাবে না। শরীরের দাস হওয়া যেমন ভুল, শরীরের শত্রু হয়ে ওঠাও তেমনি ভুল।

এই শিক্ষা বাস্তব জীবনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একজন শিক্ষার্থী যদি নিয়মিত পড়াশোনা করে, যথাযথ বিশ্রাম নেয়, নিজের সময়কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রয়োজনীয় ইন্দ্রিয়সংযম বজায় রাখে, তাহলে সে আত্মশাসনের পথে চলছে। কিন্তু যদি সে মনে করে যে ঘুম না খেয়ে, না খেয়ে থেকে অথবা নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে সফল হওয়াই শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণ, তাহলে তার কঠোরতা জ্ঞাননির্ভর নয়। একইভাবে একজন সাধক যদি শরীরকে আত্মার শত্রু মনে করে অকারণে পীড়িত করেন, তাহলে তিনি শরীর ও আত্মার সম্পর্ককে অসমভাবে উপলব্ধি করছেন।

এই শ্লোক মনোবৈজ্ঞানিক দিক থেকেও গভীর। মানুষের মধ্যে নিজের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হওয়ার একটি প্রবণতা থাকতে পারে। নিজের দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ও মানবিক প্রয়োজনকে অস্বীকার করে কেউ যদি নিজেকে ক্রমাগত শাস্তি দিতে থাকে, তাহলে তা আত্মউন্নতির পরিবর্তে আত্মঅস্বীকৃতিতে পরিণত হতে পারে। গীতার শিক্ষা হল নিজের দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়, আবার নিজের অস্তিত্বকে ঘৃণা করাও নয়। বরং জ্ঞান ও বিবেকের সাহায্যে নিজেকে উন্নত করা।

দার্শনিকভাবে এই শ্লোক দেহ ও আত্মার সম্পর্ককে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখতে শেখায়। দেহ পরিবর্তনশীল, আত্মা চিরন্তন। কিন্তু আত্মার উপলব্ধির পথে দেহকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যায় না। দেহ হল কর্মের ক্ষেত্র, সাধনার ক্ষেত্র এবং আত্মজিজ্ঞাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই দেহের প্রতি সঠিক মনোভাব হল না অতিরিক্ত আসক্তি এবং না অকারণ ঘৃণা। বরং জ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার ও সংযম।

এই শ্লোকের প্রতীকী অর্থ আরও বিস্তৃত। শরীর এখানে মানুষের পার্থিব অস্তিত্বের প্রতীক। কর্ষয়ন্তঃ এখানে নিজের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে মানুষের অজ্ঞতাপূর্ণ সংগ্রামের প্রতীক। অচেতসঃ প্রতীক এমন চেতনার যা বাহ্যিক আচরণকে দেখে কিন্তু অন্তর্নিহিত সত্যকে দেখতে পারে না। আর অন্তঃশরীরস্থং কৃষ্ণের উপস্থিতি প্রতীক এই চিরন্তন সত্যের যে জীবনের গভীরে এক ঐশ্বরিক উপস্থিতি রয়েছে। ফলে নিজের প্রতি সম্মান, অন্যের প্রতি করুণা এবং জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধার সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায়।

গীতার এই শিক্ষা আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। আত্মসংযম মানুষকে নিজের ওপর প্রভুত্ব করতে শেখায়, কিন্তু আত্মপীড়ন মানুষকে নিজের সঙ্গেই যুদ্ধ করতে শেখায়। আত্মসংযমের মধ্যে জ্ঞান আছে, আত্মপীড়নের মধ্যে অজ্ঞতা থাকতে পারে। আত্মসংযমে অহংকার কমে, আত্মপীড়নে অহংকারও জন্ম নিতে পারে। কেউ মনে করতে পারে যে সে অন্যদের চেয়ে বেশি কঠোর, তাই সে বেশি পবিত্র। এই ধরনের আত্মগর্বই সাধনাকে আধ্যাত্মিকতার পথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে।

সুতরাং কর্ষয়ন্তঃ শরীরস্থং ভূতগ্রামমচেতসঃ পদবন্ধের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হল মানুষ যেন সাধনার নামে নিজের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে না দাঁড়ায়। শরীরকে ভোগের বস্তু বানানো যেমন জ্ঞান নয়, তেমনি শরীরকে অজ্ঞতার কারণে যন্ত্রণার বস্তু বানানোও জ্ঞান নয়। প্রকৃত সাধনা হল শরীরকে শুদ্ধ রাখা, মনকে সংযত করা, চেতনাকে প্রসারিত করা এবং অন্তর্নিহিত ঈশ্বরীয় সত্যকে উপলব্ধি করা।

সবশেষে বলা যায়, এই শ্লোক মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের একটি গভীর ভারসাম্যের শিক্ষা। কর্ষয়ন্তঃ আমাদের অজ্ঞতাপূর্ণ আত্মপীড়নের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে। শরীরস্থং আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শরীরের মধ্যে জীবন অবস্থান করছে। ভূতগ্রামম্ আমাদের ব্যক্তিগত অস্তিত্বকে জীবনের বৃহত্তর সমষ্টির সঙ্গে যুক্ত করে। অচেতসঃ জানিয়ে দেয় যে বাহ্যিক কঠোরতার চেয়ে চেতনার বিশুদ্ধতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাং চৈবান্তঃশরীরস্থং প্রকাশ করে যে জীবনের অন্তরে ঈশ্বরীয় উপস্থিতি রয়েছে। আর আসুরনিশ্চয় দেখিয়ে দেয় যে ভুল সংকল্পে দৃঢ় থাকা কোনো মহত্ত্ব নয়। এই কারণে গীতার এই শ্লোক শেষ পর্যন্ত আমাদের শেখায় যে সত্যিকারের তপস্যা শরীরকে ধ্বংস করার মধ্যে নয়, বরং শরীর, মন ও চেতনাকে এমনভাবে শুদ্ধ করার মধ্যে যেখানে অহংকারের পরিবর্তে বিনয়, হিংসার পরিবর্তে করুণা, অজ্ঞতার পরিবর্তে জ্ঞান এবং আত্মপীড়নের পরিবর্তে আত্মসংযম প্রতিষ্ঠিত হয়। এই উপলব্ধিই মানুষকে বাহ্যিক কঠোরতা থেকে অন্তরের সত্যের দিকে এবং আত্মনিগ্রহ থেকে আত্মজ্ঞান ও ঈশ্বরচেতনার দিকে নিয়ে যায়।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি