ভগবদ্গীতা ১৭.৭ — আহার, যজ্ঞ, তপস্যা ও দানের ত্রিবিধ প্রকৃতি এবং মানুষের অন্তর্গত গুণ
আহারস্তপি সর্বস্য ত্রিবিধো ভবতি প্রিয়ঃ।
যজ্ঞস্তপস্তথা দানং তেষাং ভেদমিমং শৃণু।।৭।।
অনুবাদঃ সকল মানুষের আহারও তিন প্রকার প্রীতিকর হয়ে থাকে। তেমনই যজ্ঞ, তপস্যা এবং দানও ত্রিবিধ। এখন তাদের এই প্রভেদ শ্রবণ কর।
ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের সপ্তম শ্লোকটি মানুষের জীবনকে বোঝার জন্য এক অসাধারণ দার্শনিক দরজা খুলে দেয়। শ্লোকটি হলো “আহারস্ত্বপি সর্বস্য ত্রিবিধো ভবতি প্রিয়ঃ। যজ্ঞস্তপস্তথা দানং তেষাং ভেদমিমং শৃণু।” এর সরল অর্থ হলো সকল মানুষের কাছেই আহার তিন প্রকারের প্রিয় হয়ে থাকে এবং যজ্ঞ, তপস্যা ও দানও তিন প্রকারের হয়ে থাকে। তাদের সেই পার্থক্য শোনো। কিন্তু এই সরল অর্থের অন্তরালে মানুষের শরীর, মন, চরিত্র, কর্ম, আত্মসংযম এবং আধ্যাত্মিক প্রবণতা সম্পর্কে একটি গভীর দর্শন নিহিত রয়েছে। এই শ্লোকের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ বোঝাতে চান যে মানুষের বাহ্যিক জীবন তার অন্তর্গত প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মানুষ কী গ্রহণ করে, কী ভালোবাসে, কীভাবে উপাসনা করে, কেন তপস্যা করে এবং কোন উদ্দেশ্যে দান করে তার মধ্য দিয়েই তার চেতনার প্রকৃতি প্রকাশ পায়।
এই শ্লোকের প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো আহার। সংস্কৃত আহার শব্দটি আ এবং হৃ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত। হৃ ধাতুর মধ্যে বহন করা, গ্রহণ করা এবং নিজের দিকে নিয়ে আসার ভাব রয়েছে। আ উপসর্গ সেই গ্রহণের ভাবকে নিজের দিকে নিয়ে আসার অর্থ প্রদান করে। তাই ব্যুৎপত্তিগত দৃষ্টিতে আহার বলতে বোঝায় যা নিজের মধ্যে গ্রহণ করা হয়। সাধারণ অর্থে আহার বলতে খাদ্য বোঝানো হলেও এর গভীরতর অর্থ অনেক বিস্তৃত। মানুষ শুধু মুখ দিয়ে খাদ্য গ্রহণ করে না। চোখ দিয়ে দৃশ্য গ্রহণ করে, কান দিয়ে শব্দ গ্রহণ করে, মন দিয়ে চিন্তা গ্রহণ করে, বুদ্ধি দিয়ে ধারণা গ্রহণ করে এবং পরিবেশ ও সঙ্গের মাধ্যমে নানা সংস্কার গ্রহণ করে। এই অর্থে মানুষের সমগ্র জীবনই এক ধরনের আহার প্রক্রিয়া। আমরা প্রতিদিন যা দেখি, শুনি, পড়ি, চিন্তা করি এবং যাদের সঙ্গে সময় কাটাই, সেগুলোও আমাদের অন্তর্জগতে প্রবেশ করে আমাদের চরিত্রকে ধীরে ধীরে গঠন করে।
শ্লোকে আহারের সঙ্গে ত্রিবিধ শব্দটি যুক্ত হয়েছে। ত্রিবিধ অর্থ তিন প্রকার। গীতার দর্শনে এই তিন প্রকার হলো সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ। সত্ত্ব প্রকাশ করে স্বচ্ছতা, নির্মলতা, জ্ঞান, ভারসাম্য ও প্রশান্তিকে। রজঃ প্রকাশ করে আকাঙ্ক্ষা, অস্থিরতা, কর্মচাঞ্চল্য, প্রতিযোগিতা ও ফললাভের প্রবল ইচ্ছাকে। তমঃ প্রকাশ করে অজ্ঞানতা, জড়তা, অবহেলা, অন্ধতা ও অবক্ষয়ের প্রবণতাকে। এই তিনটি গুণকে মানুষের তিনটি স্থায়ী শ্রেণি হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এগুলো মানুষের চেতনার বিভিন্ন প্রবণতা। একই মানুষের জীবনের বিভিন্ন সময়ে এই তিন গুণের বিভিন্ন মাত্রা প্রকাশিত হতে পারে। ফলে ত্রিবিধ আহারের শিক্ষা মূলত আত্মপর্যবেক্ষণের শিক্ষা।
শ্লোকে প্রিয় শব্দটিও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রিয় অর্থ পছন্দনীয়, আনন্দদায়ক, আকর্ষণীয় বা মনোরম। মানুষের রুচি তার অন্তর্গত প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। মানুষ যে বিষয়ের প্রতি স্বাভাবিকভাবে আকৃষ্ট হয় তা তার মানসিক প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এখানেও একটি সূক্ষ্ম সত্য রয়েছে। মানুষ শুধু যা পছন্দ করে তা গ্রহণ করে না, বরং যা বারবার গ্রহণ করে ধীরে ধীরে তার প্রতিও আকর্ষণ তৈরি হয়। অভ্যাস রুচিকে গঠন করে এবং রুচি আবার অভ্যাসকে শক্তিশালী করে। এইভাবে গ্রহণ, রুচি, অভ্যাস ও চরিত্রের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এই কারণেই গীতার আহার ধারণাকে কেবল খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে শ্লোকটির গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না। খাদ্য অবশ্যই এর প্রত্যক্ষ অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু তার সঙ্গে মানুষের মানসিক ও ইন্দ্রিয়গত গ্রহণও প্রতীকীভাবে যুক্ত হতে পারে। একজন মানুষ যদি প্রতিদিন হিংসা, ক্রোধ, লোভ, বিদ্বেষ ও অশান্তির বিষয় নিজের মনে প্রবেশ করায়, তাহলে তার মানসিক পরিবেশও সেই প্রবণতাগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। বিপরীতে সত্য, জ্ঞান, সৌন্দর্য, সহমর্মিতা, সংযম ও নির্মল চিন্তার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখলে তার অন্তর্জগত অন্যভাবে গঠিত হতে পারে। তাই গীতার আহার ধারণা আমাদের একটি গভীর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। আমরা প্রতিদিন আমাদের শরীর ও মনের মধ্যে আসলে কী প্রবেশ করাচ্ছি।
শ্লোকটির দ্বিতীয় অংশে যজ্ঞ, তপস্যা এবং দানের কথা বলা হয়েছে। যজ্ঞ শব্দটি যজ ধাতু থেকে এসেছে। এর মধ্যে পূজা, উপাসনা, সম্মান এবং নিবেদনের ভাব রয়েছে। যজ্ঞের প্রকৃত তাৎপর্য তাই কেবল কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগুনের মধ্যে দ্রব্য অর্পণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যজ্ঞের গভীরতম অর্থ হলো নিজের কোনো কিছু বৃহত্তর উদ্দেশ্যের জন্য নিবেদন করা। একজন শিক্ষক যখন জ্ঞান দিয়ে অন্যের জীবন আলোকিত করেন, একজন চিকিৎসক যখন রোগীর সেবা করেন, একজন গবেষক যখন মানবকল্যাণের জন্য জ্ঞান অনুসন্ধান করেন কিংবা একজন মানুষ যখন নিজের শ্রম সমাজের কল্যাণে উৎসর্গ করেন, তখন সেখানেও নিবেদনের সেই যজ্ঞভাব প্রকাশ পেতে পারে। কিন্তু একই কাজ যদি কেবল নিজের খ্যাতি, অর্থ বা মর্যাদা লাভের জন্য করা হয়, তাহলে তার অন্তর্গত গুণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। তাই গীতা বাহ্যিক কাজের পাশাপাশি কাজের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যকেও গুরুত্ব দেয়।
তপস্যা শব্দটি তপ ধাতু থেকে এসেছে। তপের মূল ভাব হলো তাপ, উত্তাপ বা নিজেকে উত্তপ্ত করা। সেখান থেকে তপস্যার অর্থ হয়েছে আত্মশুদ্ধির জন্য সাধনা, সংযম ও শৃঙ্খলা। তপস্যা মানে কেবল শরীরকে কষ্ট দেওয়া নয়। সত্য কথা বলা, ইন্দ্রিয়কে সংযত রাখা, ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা, অহংকারকে দমন করা, মনকে শুদ্ধ রাখা এবং নিজের দুর্বলতার বিরুদ্ধে সচেতনভাবে সংগ্রাম করাও তপস্যার অংশ। তপস্যার উদ্দেশ্য নিজের শরীরকে ধ্বংস করা নয়, বরং নিজের নিম্নতর প্রবৃত্তিকে উচ্চতর চেতনার অধীন করা। তাই তপস্যা আসলে আত্মরূপান্তরের একটি পথ।
দান শব্দটি দা ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ দেওয়া। দান মানে নিজের কোনো সম্পদ, সময়, জ্ঞান, শ্রম বা সামর্থ্য অন্যের কল্যাণে প্রদান করা। কিন্তু গীতার দর্শনে দানের মূল্য শুধু কতটা দেওয়া হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। কেন দেওয়া হয়েছে এবং দানের সময় দাতার অন্তরের অবস্থা কেমন ছিল সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ বিপুল অর্থ দান করেও যদি কেবল নিজের নাম প্রচার করতে চান, তবে তার দানের অন্তর্গত উদ্দেশ্য একরকম। আবার কেউ সামান্য কিছু দিয়েও যদি গভীর সহমর্মিতা ও নিঃস্বার্থতার পরিচয় দেন, তবে তার দানের মানসিক প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই কারণেই গীতা দানের বাহ্যিক পরিমাণের চেয়ে তার অন্তর্গত গুণকে অধিক গুরুত্ব দেয়।
শ্লোকে ভেদ শব্দটি এসেছে। ভেদ শব্দের মূলের মধ্যে পৃথক করা বা পার্থক্য নির্ণয়ের ভাব রয়েছে। এখানে ভেদ মানে মানুষকে স্থায়ীভাবে ভালো ও খারাপ বলে ভাগ করা নয়। বরং একই কাজের অন্তর্গত গুণগত পার্থক্য বোঝানো। একজন মানুষ দান করতে পারেন কর্তব্যবোধ থেকে, আরেকজন দান করতে পারেন প্রশংসা পাওয়ার জন্য। দুজনের বাহ্যিক কাজ একই হলেও তাদের অন্তর্গত চেতনা এক নয়। একজন মানুষ তপস্যা করতে পারেন আত্মশুদ্ধির জন্য, অন্যজন নিজের শক্তি প্রদর্শনের জন্য কঠোর আচরণ করতে পারেন। বাহ্যিক রূপে মিল থাকলেও উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণে তাদের প্রকৃতি আলাদা হয়ে যায়। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝাই গীতার ভেদবোধের মূল উদ্দেশ্য।
এই শ্লোকের একটি গভীর দার্শনিক শিক্ষা হলো মানুষের বাহ্যিক জীবন তার অন্তর্গত চেতনার প্রতিবিম্ব। মানুষ যা গ্রহণ করে তা তার শরীর ও মনকে প্রভাবিত করে। সে যে উদ্দেশ্যে কাজ করে তা তার কর্মকে অর্থ দেয়। সে নিজেকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা তার চরিত্র গঠন করে এবং সে অন্যকে যেভাবে দেয় তা তার হৃদয়ের বিস্তার প্রকাশ করে। এই কারণে আহার, যজ্ঞ, তপস্যা এবং দানকে পাশাপাশি রাখা হয়েছে। আহার মানুষের গ্রহণের প্রতীক, যজ্ঞ তার নিবেদনের প্রতীক, তপস্যা তার আত্মসংযমের প্রতীক এবং দান তার আত্মবিস্তারের প্রতীক। এই চারটি একত্রে মানুষের জীবনকে একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করে।
মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতেও শ্লোকটির গভীর তাৎপর্য রয়েছে। মানুষের অভ্যাস তার মনকে প্রভাবিত করে এবং মন আবার অভ্যাসকে শক্তিশালী করে। যে বিষয় মানুষ বারবার গ্রহণ করে তার প্রতি তার আকর্ষণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এভাবে গ্রহণ রুচি তৈরি করে, রুচি অভ্যাস তৈরি করে, অভ্যাস চরিত্র গঠন করে এবং চরিত্র জীবনযাত্রাকে পরিচালিত করে। তাই আহার শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়। এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব নির্মাণের একটি অংশ। আধুনিক জীবনে এই শিক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আজ মানুষ শুধু খাদ্য গ্রহণ করে না, প্রতিদিন অসংখ্য ছবি, শব্দ, সংবাদ, ভিডিও, মতামত এবং সামাজিক প্রভাবও গ্রহণ করে। ফলে নিজের মানসিক আহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে।
এই শ্লোককে একটি সুন্দর উপমার মাধ্যমে বোঝা যায়। মানুষের মনকে যদি একটি বাগান ধরা হয়, তাহলে আহার হলো সেই বাগানে প্রবেশ করা বীজ। যে বীজ প্রতিদিন বপন করা হবে, একদিন না একদিন তার কোনো না কোনো ফল প্রকাশ পাবে। সত্য ও জ্ঞানের বীজ থেকে এক ধরনের চরিত্র গড়ে উঠতে পারে, আর লোভ, হিংসা ও বিদ্বেষের বীজ থেকে অন্য ধরনের চরিত্র জন্ম নিতে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু আমরা কী খাচ্ছি তা নয়। প্রশ্ন হলো আমরা আমাদের অস্তিত্বের মধ্যে কী প্রবেশ করাচ্ছি।
এই শ্লোকের আধ্যাত্মিক শিক্ষা আরও গভীর। এটি মানুষকে অন্যকে বিচার করার আগে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করতে শেখায়। আমি কী খেতে ভালোবাসি, আমি কী ধরনের চিন্তা পছন্দ করি, আমি কোন ধরনের সঙ্গ উপভোগ করি, আমি কেন ধর্মীয় কাজ করি, কেন তপস্যা করি, কেন দান করি, আমি কি প্রশংসার জন্য কাজ করি নাকি কর্তব্যবোধ থেকে কাজ করি, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মানুষের অন্তর্গত প্রকৃতিকে চিনতে সাহায্য করতে পারে। গীতার শিক্ষা তাই কেবল আচরণ পরিবর্তনের শিক্ষা নয়। এটি চেতনার পরিবর্তনের শিক্ষা।
“আহারস্ত্বপি সর্বস্য ত্রিবিধো ভবতি প্রিয়ঃ” শেষ পর্যন্ত আমাদের একটি মৌলিক আত্মজিজ্ঞাসার দিকে নিয়ে যায়। মানুষ তার জীবনকে যা দিয়ে পূর্ণ করে, ধীরে ধীরে তারই দ্বারা গঠিত হয়। খাদ্য শরীরকে গঠন করে, চিন্তা মনকে গঠন করে, কর্ম চরিত্রকে গঠন করে, সংযম ব্যক্তিত্বকে পরিশুদ্ধ করে এবং দান হৃদয়কে প্রসারিত করে। তাই জীবনের প্রকৃত সাধনা শুধু বাইরে কী করছি তা নয়, বরং ভিতরে কী তৈরি করছি সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা। এই শ্লোক আমাদের শেখায় যে মানুষের চেতনা তার রুচিতে প্রকাশ পায়, রুচি তার অভ্যাসে প্রকাশ পায়, অভ্যাস তার কর্মে প্রকাশ পায় এবং কর্ম শেষ পর্যন্ত তার চরিত্রকে প্রকাশ করে।
সুতরাং এই শ্লোকের সারকথা হলো মানুষের জীবন একটি গ্রহণ ও রূপান্তরের ধারাবাহিকতা। আমরা যা গ্রহণ করি তা আমাদের মধ্যে প্রবেশ করে, আমরা যা ভালোবাসি তা আমাদের প্রবণতাকে শক্তিশালী করে, আমরা যে কর্ম করি তা আমাদের চরিত্রকে নির্মাণ করে, আমরা যে সংযম পালন করি তা আমাদের অন্তরকে শুদ্ধ করে এবং আমরা যা অন্যকে দিই তা আমাদের হৃদয়ের প্রকৃত বিস্তার প্রকাশ করে। তাই গীতার এই শিক্ষা শুধু খাদ্যের বিচার নয়, এটি সমগ্র জীবনের আহার বিচার। মানুষ কী গ্রহণ করছে, কী ভালোবাসছে, কেন কাজ করছে, নিজেকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং অন্যের জন্য কী রেখে যাচ্ছে, এই প্রশ্নগুলোর মধ্য দিয়েই তার অন্তরের প্রকৃতি ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয়। এই উপলব্ধিই “আহারস্ত্বপি সর্বস্য ত্রিবিধো ভবতি প্রিয়ঃ” শ্লোকটিকে একটি সাধারণ খাদ্যবিষয়ক বক্তব্য থেকে মানুষের আত্মপরিচয়, চরিত্রগঠন ও আত্মশুদ্ধির এক গভীর আধ্যাত্মিক দর্শনে পরিণত করেছে।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!