সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ১৭.৯ — রাজসিক আহার, ইন্দ্রিয়তৃপ্তির আকাঙ্ক্ষা ও দুঃখ-রোগের সম্পর্ক

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
কট্বম্ললবণাত্যুষ্ণতীক্ষ্মরুক্ষবিদাহিনঃ। আহারা রাজসস্যেষ্টা দুঃখশোকাময়প্রদাঃ।।৯।।
কট্বম্ললবণাত্যুষ্ণতীক্ষ্মরুক্ষবিদাহিনঃ। 
আহারা রাজসস্যেষ্টা দুঃখশোকাময়প্রদাঃ।।৯।।

অনুবাদঃ যে সমস্ত আহার অতি তিক্ত, অতি অম্ল, অতি লবণাক্ত, অতি উষ্ণ, অতি তীক্ষ্ম, অতি শুষ্ক, অতি প্রদাহকর এবং দুঃখ, শোক ও রোগপ্রদ, সেগুলি রাজসিক ব্যক্তিদের প্রিয়।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের নবম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে তার অন্তর্নিহিত মানসিক প্রকৃতি ও প্রবৃত্তির একটি গভীর পরিচয় তুলে ধরেছেন। শ্লোকটি হলো কট্বম্ললবণাত্যুষ্ণতীক্ষ্ণরূক্ষবিদাহিনঃ আহারা রাজসস্যেষ্টা দুঃখশোকাময়প্রদাঃ। এর সরল অর্থ হলো যেসব খাদ্য অত্যন্ত কটু, অম্ল, লবণাক্ত, অতিরিক্ত উষ্ণ, তীক্ষ্ণ, রুক্ষ এবং দাহ সৃষ্টি করে, সেসব খাদ্য রাজসিক প্রকৃতির মানুষের কাছে প্রিয় এবং এগুলো দুঃখ, শোক ও রোগের কারণ হতে পারে। কিন্তু এই বক্তব্যকে কেবল খাদ্যের স্বাদ বা খাদ্যাভ্যাসের একটি সাধারণ নির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করলে শ্লোকটির প্রকৃত গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না। এর মধ্যে মানুষের ইন্দ্রিয়, আকাঙ্ক্ষা, ভোগপ্রবণতা, মানসিক অস্থিরতা এবং জীবনের ভারসাম্য সম্পর্কে একটি গভীর দর্শন নিহিত রয়েছে।

শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদ কট্বম্ললবণাত্যুষ্ণতীক্ষ্ণরূক্ষবিদাহিনঃ। এটি একটি দীর্ঘ সমাসবদ্ধ সংস্কৃত পদ, যার মধ্যে খাদ্যের বিভিন্ন গুণ পরপর যুক্ত হয়েছে। কটু বলতে তিক্ত বা ঝাঁঝালো স্বাদ বোঝায়। অম্ল অর্থ টক। লবণ অর্থ নোনতা বা লবণাক্ত। অত্যুষ্ণ অর্থ অত্যন্ত গরম। তীক্ষ্ণ অর্থ প্রখর, তীব্র বা ঝাঁঝালো। রূক্ষ অর্থ শুষ্ক বা স্নিগ্ধতাহীন। বিদাহিন অর্থ যা দাহ বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এখানে কেবল খাদ্যের স্বাদ বর্ণনা করা হয়নি। খাদ্যের স্বাদ, তাপ, তীব্রতা, শুষ্কতা এবং শরীরের ওপর তার অনুভূত প্রতিক্রিয়া একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ এই শব্দমালার মধ্য দিয়ে এমন খাদ্যের একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি হয়েছে যা ইন্দ্রিয়কে প্রবলভাবে উত্তেজিত করে।

এরপর এসেছে আহারা শব্দটি। আহার অর্থ খাদ্য, তবে ভারতীয় দর্শনের বিস্তৃত অর্থে আহার কেবল মুখ দিয়ে গ্রহণ করা বস্তু নয়। মানুষ চোখ দিয়ে দৃশ্য গ্রহণ করে, কান দিয়ে শব্দ গ্রহণ করে, মন দিয়ে চিন্তা গ্রহণ করে এবং হৃদয়ে নানা অনুভূতি ধারণ করে। এই বিস্তৃত অর্থে মানুষের সমগ্র জীবনই এক ধরনের আহার প্রক্রিয়া। সে যা গ্রহণ করে, ধীরে ধীরে তার চেতনা ও চরিত্রে তার ছাপ পড়ে। তাই গীতার খাদ্যতত্ত্বকে একটি বৃহত্তর জীবনতত্ত্ব হিসেবেও দেখা যায়।

রাজসস্য ইষ্টাঃ শব্দবন্ধটি এই শ্লোকের মূল দার্শনিক দিকটি প্রকাশ করে। রাজসস্য এসেছে রজস্ থেকে। রজস্ হলো প্রকৃতির সেই গুণ যা গতি, আকাঙ্ক্ষা, কর্মচাঞ্চল্য, আবেগ, প্রতিযোগিতা এবং ভোগের প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইষ্ট অর্থ প্রিয় বা পছন্দনীয়। ফলে রাজসস্য ইষ্টাঃ অর্থ রাজসিক প্রকৃতির মানুষের কাছে প্রিয়। এখানে রাজসিক বলতে কোনো ব্যক্তিকে নৈতিকভাবে খারাপ বলা হচ্ছে না। রজস্ মানুষের কর্মশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানুষকে কাজ করতে, এগিয়ে যেতে, সৃষ্টি করতে এবং অর্জন করতে রজস্ শক্তি দেয়। কিন্তু যখন রজস্ ভারসাম্য হারায়, তখন কর্মপ্রবণতা অস্থিরতায়, আকাঙ্ক্ষা আসক্তিতে এবং ভোগপ্রবণতা অশান্তিতে পরিণত হতে পারে।

এই কারণেই শ্লোকটির শেষাংশ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। দুঃখশোকাময়প্রদাঃ শব্দের মধ্যে দুঃখ, শোক, আময় এবং প্রদানের ধারণা একত্রিত হয়েছে। দুঃখ অর্থ কষ্ট বা যন্ত্রণা। শোক অর্থ মানসিক বেদনা বা বিষাদ। আময় অর্থ রোগ বা ব্যাধি। প্রদ অর্থ প্রদানকারী বা উৎপাদক। অর্থাৎ অতিরিক্ত তীব্র ও উত্তেজক আহার এমন পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে যেখানে শরীর অস্বস্তি অনুভব করে, মন অশান্ত হয় এবং জীবনে দুঃখের সৃষ্টি হয়। এখানে একটি গভীর কারণ ও ফলের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। যে বস্তু প্রথমে আনন্দ দেয়, সেটিই যদি সংযমহীনভাবে গ্রহণ করা হয়, তবে পরবর্তীতে কষ্টের কারণ হতে পারে।

এই শিক্ষা শুধু খাদ্যের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের জীবনের বহু ক্ষেত্রেই একই সত্য প্রযোজ্য। মানুষ অনেক সময় যা অত্যন্ত আনন্দদায়ক মনে করে, তার প্রতি অতিরিক্ত আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ভোগ, অতিরিক্ত প্রশংসার আকাঙ্ক্ষা, অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা, অতিরিক্ত ক্ষমতার বাসনা কিংবা অতিরিক্ত ইন্দ্রিয়সুখ প্রথমে মানুষকে আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু ধীরে ধীরে এগুলো তার মানসিক স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে। তখন মানুষ আনন্দকে উপভোগ করে না, বরং আনন্দের জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। গীতার রাজসিকতার ধারণার গভীরে এই মনস্তাত্ত্বিক সত্যটি নিহিত রয়েছে।

শ্লোকটির খাদ্যবর্ণনাকে তাই একটি প্রতীকী ভাষা হিসেবেও দেখা যায়। কটু হতে পারে জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতীক। অম্ল হতে পারে অতিরিক্ত উত্তেজনার প্রতীক। লবণ হতে পারে ভোগের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের প্রতীক। অত্যুষ্ণ হতে পারে উত্তপ্ত আবেগের প্রতীক। তীক্ষ্ণ হতে পারে আক্রমণাত্মক মনোভাবের প্রতীক। রূক্ষ হতে পারে কোমলতা ও সংবেদনশীলতার অভাবের প্রতীক। বিদাহিন হতে পারে এমন অভিজ্ঞতার প্রতীক যা বাইরে থেকে আকর্ষণীয় হলেও অন্তরে দহন সৃষ্টি করে। এইভাবে খাদ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের মানসিক ও নৈতিক জীবনের বিভিন্ন প্রবণতার রূপক হয়ে ওঠে।

গীতার ত্রিগুণ তত্ত্বের আলোকে এই শ্লোকের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। সত্ত্ব মানুষের মধ্যে স্বচ্ছতা, শান্তি, সাম্য ও জ্ঞানের প্রবণতা সৃষ্টি করে। রজস সৃষ্টি করে গতি, আকাঙ্ক্ষা, কর্মপ্রবণতা ও উত্তেজনা। তমস সৃষ্টি করে জড়তা, অজ্ঞতা, অলসতা ও স্থবিরতা। এই শ্লোকে রাজসিক আহারের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রজসের তীব্রতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। যে মন নিজেই অস্থির, সে অনেক সময় বাহ্যিক জগতেও তীব্রতা খোঁজে। তাই খাদ্যের তীব্র স্বাদ এবং রাজসিক মানসিকতার মধ্যে একটি প্রতীকী সামঞ্জস্য রয়েছে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে শ্লোকটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো তীব্রতা এবং কল্যাণ এক বিষয় নয়। কোনো কিছু যত বেশি তীব্র, তা তত বেশি উপকারী হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইন্দ্রিয়কে আনন্দ দেওয়া এবং জীবনের প্রকৃত মঙ্গল সাধন করাও একই বিষয় নয়। মানুষকে তাই নিজের পছন্দের প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন হতে হয়। আমি কোনো কিছু পছন্দ করছি কেন, আমার আকাঙ্ক্ষা কোথা থেকে আসছে, আমার ভোগ আমাকে স্বাধীন করছে নাকি নির্ভরশীল করছে এবং সাময়িক আনন্দের পরে তার ফল কী হচ্ছে, এই প্রশ্নগুলোই শ্লোকটির অন্তর্নিহিত আত্মজিজ্ঞাসার অংশ।

এই কারণে রাজসিক আহারের আলোচনা শেষ পর্যন্ত আত্মসংযমের আলোচনায় পরিণত হয়। গীতার দৃষ্টিতে সংযম মানে জীবন থেকে আনন্দকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া নয়। সংযমের প্রকৃত অর্থ হলো আনন্দের প্রতি সচেতন থাকা এবং আনন্দের দ্বারা পরিচালিত না হওয়া। জিহ্বা কোনো স্বাদ পছন্দ করতেই পারে, ইন্দ্রিয় কোনো অভিজ্ঞতার প্রতি আকৃষ্ট হতেই পারে, মন কোনো অর্জনের আকাঙ্ক্ষা করতেই পারে। কিন্তু মানুষ যদি সচেতন থাকে এবং নিজের প্রবৃত্তিকে বিচার করার ক্ষমতা ধরে রাখে, তাহলে সে আকাঙ্ক্ষার দাস না হয়ে আকাঙ্ক্ষাকে পরিচালনা করতে পারে।

শ্লোকটির মধ্যে তাই একটি সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা রয়েছে। মানুষ যা বারবার গ্রহণ করে, তার সঙ্গে ধীরে ধীরে তার অভ্যাস গড়ে ওঠে। যে ব্যক্তি ক্রমাগত তীব্র স্বাদ খোঁজে, তার কাছে সাধারণ স্বাদ একসময় নিরস মনে হতে পারে। একইভাবে যে ব্যক্তি ক্রমাগত উত্তেজনা খোঁজে, তার কাছে শান্ত পরিবেশ একসময় বিরক্তিকর মনে হতে পারে। যে ব্যক্তি ক্রমাগত সাফল্য ও প্রশংসার পেছনে ছুটে, তার কাছে স্বাভাবিক জীবন অপর্যাপ্ত বলে মনে হতে পারে। এইভাবে বাহ্যিক উত্তেজনা ধীরে ধীরে অন্তর্গত অভ্যাসে পরিণত হয়। গীতার রাজসিকতার ধারণা এই চক্রটিকে বোঝার একটি দার্শনিক কাঠামো প্রদান করে।

শ্লোকটির সাহিত্যিক সৌন্দর্যও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কটু, অম্ল, লবণ, অত্যুষ্ণ, তীক্ষ্ণ, রূক্ষ এবং বিদাহিন শব্দগুলো পরপর উচ্চারিত হলে ভাষার মধ্যেই এক ধরনের তীব্রতা অনুভূত হয়। তারপর এই তীব্রতার বিপরীতে আসে দুঃখ, শোক ও আময়। যেন প্রথমে জিহ্বার আনন্দ, তারপর শরীরের প্রতিক্রিয়া এবং শেষ পর্যন্ত জীবনের কষ্টকে একই ধারায় দেখানো হয়েছে। এই বিন্যাস শ্লোকটিকে শুধু একটি দার্শনিক বক্তব্য নয়, বরং একটি গভীর সাহিত্যিক অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে।

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেও শ্লোকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধ্যাত্মিক জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনকে ক্রমশ স্বচ্ছ, স্থির ও অন্তর্মুখী করা। অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় উত্তেজনা মনকে বাহ্যিক বিষয়ের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। তাই রাজসিক আহার এখানে এমন এক জীবনযাপনের প্রতীক হতে পারে যেখানে মানুষ ক্রমাগত বাহ্যিক অভিজ্ঞতার তীব্রতা বাড়িয়ে চলেছে। এর বিপরীতে সাত্ত্বিকতার আদর্শ মানুষকে সাম্য, সংযম, স্বচ্ছতা এবং অন্তরের শান্তির দিকে নিয়ে যায়।

তবে এই শ্লোককে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দিষ্ট খাদ্যবিধি হিসেবে সরাসরি গ্রহণ করা উচিত নয়। এর মূল প্রসঙ্গ হলো মানুষের প্রকৃতি এবং প্রকৃতির তিন গুণের সঙ্গে তার জীবনযাপনের সম্পর্ক। এখানে কোনো নির্দিষ্ট খাদ্য প্রত্যেক মানুষের জন্য একই ফল সৃষ্টি করবে এমন সরল বৈজ্ঞানিক দাবি করা হচ্ছে না। বরং খাদ্যের প্রকৃতি এবং মানুষের মানসিক প্রবণতার মধ্যে একটি আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে সংযম, সচেতনতা এবং অতিরিক্ততার পরিণতি সম্পর্কে সতর্কতা।

সবশেষে বলা যায়, কট্বম্ললবণাত্যুষ্ণতীক্ষ্ণরূক্ষবিদাহিনঃ পদটি বাহ্যত তীব্র ও দাহকারী খাদ্যের বর্ণনা হলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ অনেক বিস্তৃত। এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রকৃতি, ইন্দ্রিয়ের টান, ভোগের প্রতি আসক্তি এবং সাময়িক আনন্দের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পার্থক্যকে সামনে নিয়ে আসে। রাজসিক মানুষ তীব্রতার প্রতি আকৃষ্ট হয়, কারণ রজসের প্রকৃতিই হলো গতি, আকাঙ্ক্ষা ও উত্তেজনা। কিন্তু অতিরিক্ত রজস মানুষকে শান্তির পরিবর্তে অস্থিরতা এবং তৃপ্তির পরিবর্তে আরও আকাঙ্ক্ষার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা খাদ্যকে শুধু ভালো বা মন্দ বলে বিচার করা নয়, বরং মানুষ কী গ্রহণ করছে, কেন গ্রহণ করছে এবং সেই গ্রহণ তার শরীর, মন ও চেতনার ওপর কী প্রভাব ফেলছে তা সচেতনভাবে উপলব্ধি করা। সাময়িক আনন্দ যদি সংযম হারায়, তবে তা দুঃখের কারণ হতে পারে। আর সচেতনতা, সাম্য ও সংযম মানুষের ভোগকে পরিণত করতে পারে কল্যাণের পথে। এই অর্থে গীতার এই শ্লোক আমাদের শুধু খাদ্য সম্পর্কে শিক্ষা দেয় না, বরং আমাদের শেখায় কীভাবে নিজের আকাঙ্ক্ষাকে দেখতে হয়, কীভাবে ইন্দ্রিয়ের টানকে বুঝতে হয় এবং কীভাবে বাহ্যিক ভোগের মধ্যেও অন্তরের শান্তিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হয়। শেষ পর্যন্ত এর শিক্ষা এক গভীর সত্যের দিকে নিয়ে যায় যে প্রকৃত সুখ কেবল তীব্র অনুভূতির মধ্যে নয়, বরং সচেতনতা, সাম্য এবং সংযমের মধ্যে নিহিত।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 24, 2026 August 24, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি