ভগবদ্গীতা ১৮.২৪ — কামনা, অহংকার ও অতিরিক্ত আয়াস: রাজসিক কর্মের প্রকৃতি
যত্তু কামেপ্সুনা কর্ম সাহঙ্কারেণ বা পুনঃ।
ক্রিয়তে বহুলায়াসং তদ্ রাজসমুদাহৃতম।।২৪।।
অনুবাদঃ কিন্তু ফলের আকাঙ্ক্ষাযুক্ত ও অহঙ্কারযুক্ত হয়ে বহু কষ্টসাধ্য করে যে কর্মের অনুষ্ঠান হয়, সেই কর্ম রাজসিক বলে অভিহিত হয়।
ভগবদ্গীতার অষ্টাদশ অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের কর্মকে তার অন্তর্নিহিত মানসিক প্রবণতা ও চেতনার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে রাজসিক কর্মের একটি অত্যন্ত গভীর পরিচয় দিয়েছেন। শ্লোকে বলা হয়েছে, যৎ তু কামেপ্সুনা কর্ম সাহঙ্কারেণ বা পুনঃ ক্রিয়তে বহুলায়াসং তদ্ রাজসমুদাহৃতম্। অর্থাৎ যে কর্ম কামনা লাভের আকাঙ্ক্ষায়, অহংকারের সঙ্গে এবং প্রচুর আয়াস ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়, তাকে রাজসিক কর্ম বলা হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত শ্লোকের মধ্যে মানুষের কর্মপ্রবণতা, কামনা, অহংকার, মানসিক অস্থিরতা এবং কর্মফলের প্রতি আসক্তির একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ নিহিত রয়েছে। এখানে শ্রীকৃষ্ণ কেবল মানুষ কী কাজ করছে তা বিচার করেননি, বরং কেন সেই কাজ করছে এবং কোন মানসিক অবস্থায় করছে, সেটিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
শ্লোকটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো কামেপ্সুনা। কামেপ্সু শব্দটি কাম এবং ঈপ্সু এই দুই ভাবের সমন্বয়ে গঠিত। কাম অর্থ ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, অভিলাষ বা কামনা এবং ঈপ্সু অর্থ কোনো কিছু লাভ করতে ইচ্ছুক বা প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষায় আগ্রহী। সুতরাং কামেপ্সু বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যার কর্মের পেছনে কোনো বিশেষ কামনা বা প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা সক্রিয় রয়েছে। এখানে কামনা বলতে শুধু ইন্দ্রিয়সুখ বোঝানো হয় না। অর্থ, ক্ষমতা, সম্মান, খ্যাতি, সাফল্য, সামাজিক মর্যাদা, প্রতিপত্তি কিংবা অন্যকে অতিক্রম করার আকাঙ্ক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। মানুষ যখন কোনো কাজের মূল্যকে তার অন্তর্নিহিত কর্তব্য বা কল্যাণের মধ্যে না দেখে প্রধানত নিজের কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের মধ্যে দেখতে শুরু করে, তখন সেই কর্মের মধ্যে রাজসিক প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
এরপর এসেছে সাহঙ্কারেণ শব্দটি। এর মধ্যে অহঙ্কারের ভাব রয়েছে। অহঙ্কার শব্দটি অহম্ এবং কার ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। অহম্ অর্থ আমি এবং কার অর্থ করা বা নির্মাণ করা। দার্শনিক অর্থে অহঙ্কার হলো সেই মানসিক পরিচয় যার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে কর্মের কর্তা হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বলে আমি করছি, আমি অর্জন করছি, আমার সাফল্য, আমার ক্ষমতা এবং আমার কৃতিত্ব। অহঙ্কার মানেই সবসময় প্রকাশ্য দাম্ভিকতা নয়। অনেক সময় এটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মানুষের অন্তরে কাজ করে। একজন মানুষ বাইরে বিনয়ী হলেও যদি তার সমস্ত কর্মের কেন্দ্রে নিজের কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকে, তবে সেখানেও অহঙ্কারের কার্যকলাপ থাকতে পারে। এই অহঙ্কার কর্মকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করে যে কর্মের সাফল্য নিজের অস্তিত্বের সাফল্য এবং কর্মের ব্যর্থতা নিজের অস্তিত্বের ব্যর্থতা বলে মনে হতে থাকে।
শ্লোকে বহুলায়াসম্ শব্দটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বহুল অর্থ প্রচুর বা অধিক এবং আয়াস অর্থ পরিশ্রম, কষ্ট, শ্রম, ক্লেশ বা প্রচেষ্টা। তাই বহুলায়াসম্ অর্থ প্রচুর আয়াসপূর্ণ বা অতিরিক্ত শ্রমসাপেক্ষ। কিন্তু এখানে শুধু শারীরিক পরিশ্রম বোঝানো হয়নি। মানসিক চাপ, অস্থিরতা, উৎকণ্ঠা, প্রতিযোগিতার তীব্রতা, সাফল্য অর্জনের জন্য অতিরিক্ত ছুটে চলা এবং ফল লাভের জন্য অবিরাম চেষ্টা করাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। রাজসিক কর্মের একটি লক্ষণ হলো মানুষের কর্মশক্তি ক্রমাগত বাইরের কোনো ফলের দিকে ছুটতে থাকে। সে থামতে পারে না, কারণ তার মনে হয় এখনও কিছু পাওয়া বাকি, এখনও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করা বাকি এবং এখনও অন্যদের অতিক্রম করা বাকি।
এইভাবে কামনা, অহঙ্কার এবং অতিরিক্ত আয়াস একত্রিত হয়ে রাজসিক কর্মের একটি মানসিক কাঠামো তৈরি করে। প্রথমে মানুষের মনে কোনো আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। সে ভাবে এই বস্তু, এই সম্মান, এই অর্থ, এই সাফল্য বা এই অবস্থান আমাকে পেতেই হবে। এরপর অহঙ্কার সেই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বলে আমিই এটি অর্জন করব এবং আমার সামর্থ্য প্রমাণ করব। তারপর শুরু হয় প্রবল প্রচেষ্টা। মানুষ তার সময়, শক্তি, মনোযোগ এবং সামর্থ্য সেই ফলের দিকে নিবদ্ধ করে। ফল যত দূরে থাকে, তার অস্থিরতাও তত বাড়তে পারে। ফল লাভের পরে কিছু সময়ের জন্য আনন্দ এলেও আবার নতুন আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়। ফলে কামনা, কর্ম, অর্জন এবং নতুন কামনার একটি অবিরাম চক্র সৃষ্টি হয়।
এই কারণেই গীতার দৃষ্টিতে রাজসিক কর্মকে শুধু কর্মব্যস্ততা দিয়ে বোঝা যায় না। একজন মানুষ অনেক কাজ করছেন বলেই তার কর্ম রাজসিক হবে এমন নয়। পরিশ্রম নিজে কোনো দোষ নয়। বরং নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রম মানুষের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। মূল বিষয় হলো সেই পরিশ্রমের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কী। একজন চিকিৎসক রোগীর সেবা করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উন্নতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করতে পারেন। একজন কৃষক মানুষের খাদ্যের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করতে পারেন। একজন গবেষক সত্য অনুসন্ধানের জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে পারেন। এই কর্মগুলোর বাহ্যিক পরিশ্রম অনেক বেশি হলেও কেবল পরিশ্রমের আধিক্যের কারণে এগুলোকে রাজসিক বলা যাবে না। যদি কর্মের মধ্যে কর্তব্যবোধ, কল্যাণবোধ এবং ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির অভাব থাকে, তবে তার প্রকৃতি ভিন্ন হতে পারে।
অন্যদিকে একজন ব্যক্তি একই ধরনের কাজ করতে পারেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে। তিনি যদি মনে করেন আমাকে সবার চেয়ে বড় হতে হবে, আমাকে সবাইকে পরাজিত করতে হবে, আমাকে আমার ক্ষমতা প্রমাণ করতেই হবে এবং আমাকে যেকোনো মূল্যে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে হবে, তবে সেই কর্মের মধ্যে রাজসিকতার প্রবল উপস্থিতি দেখা যায়। এখানে কাজের বাহ্যিক রূপের চেয়ে কর্মের পেছনের চেতনা গুরুত্বপূর্ণ। এই শিক্ষা গীতার কর্মতত্ত্বের অন্যতম গভীর দিক। একই কাজ ভিন্ন মানসিকতার কারণে ভিন্ন গুণের প্রকাশ হতে পারে।
সাংখ্য দর্শনের আলোকে রাজসিক কর্মকে আরও গভীরভাবে বোঝা যায়। সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতির তিনটি মৌলিক গুণের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ। সত্ত্বের সঙ্গে জ্ঞান, স্বচ্ছতা, সাম্য ও শান্তির সম্পর্ক রয়েছে। রজঃ এর সঙ্গে গতি, আকাঙ্ক্ষা, কর্মপ্রবণতা, অস্থিরতা ও আসক্তির সম্পর্ক রয়েছে। তমঃ এর সঙ্গে জড়তা, অজ্ঞান, অবিবেচনা ও স্থবিরতার সম্পর্ক রয়েছে। রজঃ মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড কর্মশক্তি সৃষ্টি করে। এটি মানুষকে উদ্যমী ও সক্রিয় করে তোলে। কিন্তু সেই কর্মশক্তি যখন কামনা ও অহঙ্কারের দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন তা মানুষকে অন্তরের শান্তির দিকে না নিয়ে আরও বেশি আকাঙ্ক্ষা ও অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
বেদান্তীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এই শ্লোকের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। বেদান্তের আলোচনায় কর্মের সঙ্গে কর্তার ধারণার সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন মনে করে আমিই সবকিছুর কর্তা এবং কর্মের ফলও আমারই প্রাপ্য, তখন সে কর্মফলের সঙ্গে নিজের পরিচয়কে জড়িয়ে ফেলে। ফলে কর্মের সাফল্য তাকে অহঙ্কারী করে এবং ব্যর্থতা তাকে হতাশ করে। সে বাহ্যিক জগতের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজের অন্তরের অবস্থাকেও ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে দেয়। কর্মযোগের শিক্ষা এই বন্ধনকে অতিক্রম করার পথ দেখায়। কর্ম ত্যাগ করা নয়, বরং কর্মের সঙ্গে অহঙ্কার ও ফলাসক্তির বন্ধন শিথিল করাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজসিক কর্মের প্রতীকী অর্থও অত্যন্ত গভীর। কামনা মানুষের অন্তহীন চাহিদার প্রতীক। মানুষ মনে করে একটি নির্দিষ্ট বস্তু বা সাফল্য অর্জন করলে তার অভাব পূর্ণ হবে। কিন্তু একটি কামনা পূর্ণ হলে আরেকটি কামনা জন্ম নেয়। অহঙ্কার মানুষের মিথ্যা কর্তা ভাবের প্রতীক। সে মনে করে সবকিছু তার ব্যক্তিগত শক্তি ও সামর্থ্যের ফল। আর বহুলায়াস অস্থির জীবনের প্রতীক, যেখানে বাইরে প্রচুর গতি থাকলেও ভিতরে শান্তি কমে যেতে পারে। এই তিনটি একত্রিত হয়ে এমন এক জীবনচিত্র তৈরি করে যেখানে মানুষ ক্রমাগত ছুটছে কিন্তু কোথায় যাচ্ছে সে সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছে না।
আধুনিক জীবনের দিকে তাকালেও এই শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা সহজেই উপলব্ধি করা যায়। একজন ছাত্র যদি জ্ঞান অর্জনের আনন্দে পড়াশোনা করে, তার মানসিকতা একরকম। কিন্তু যদি সে কেবল অন্য সবাইকে পরাজিত করে প্রথম হওয়ার জন্য পড়ে, তাহলে তার কর্মের মধ্যে রাজসিক প্রবণতা থাকতে পারে। একজন ব্যবসায়ী মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ন্যায়সংগত লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবসা করতে পারেন। আবার অন্য একজন কেবল প্রতিযোগীকে ধ্বংস করে বাজারে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবসা করতে পারেন। বাহ্যিকভাবে দুজনেই ব্যবসা করছেন, কিন্তু অন্তর্নিহিত চেতনা ভিন্ন। এই পার্থক্যটিই গীতার কর্ম বিশ্লেষণের গভীরতা প্রকাশ করে।
রাজসিক কর্মকে একটি অশান্ত ঘোড়ার সঙ্গে তুলনা করা যায়। ঘোড়াটির শক্তি প্রচণ্ড এবং তার গতি অত্যন্ত বেশি। কিন্তু যদি তার সামনে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশ না থাকে এবং তার লাগাম নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে তার শক্তি তাকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে না নিয়ে গিয়ে বিপদের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তেমনি মানুষের কর্মশক্তিও অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু কামনা ও অহঙ্কার দ্বারা পরিচালিত হলে সেই শক্তি অস্থিরতা ও বন্ধনের কারণ হতে পারে। আর যখন সেই একই শক্তি জ্ঞান, কর্তব্যবোধ, সংযম ও আসক্তিহীনতার দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন তা মানুষের উন্নতির শক্তিতে পরিণত হয়।
এই শ্লোক আমাদের আত্মপরীক্ষার একটি গভীর পথও দেখায়। আমরা প্রত্যেকে প্রতিদিন অসংখ্য কাজ করি। কিন্তু প্রতিটি কাজের আগে নিজেকে প্রশ্ন করা প্রয়োজন যে আমি কেন এই কাজটি করছি। আমি কি কর্তব্যবোধ থেকে কাজ করছি, নাকি প্রশংসা পাওয়ার জন্য। আমি কি সেবার জন্য কাজ করছি, নাকি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার জন্য। আমি কি সত্যিই প্রয়োজনের কারণে চেষ্টা করছি, নাকি আমার অহঙ্কার আমাকে থামতে দিচ্ছে না। আমি কি কাজের মধ্যেই মূল্য খুঁজে পাচ্ছি, নাকি শুধু ফল লাভের অপেক্ষায় আছি। এই আত্মজিজ্ঞাসা মানুষের কর্মকে আরও সচেতন ও পরিশুদ্ধ করতে পারে।
রাজসিক কর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো কর্মের পরিমাণ নয়, কর্মের চেতনা। বেশি কাজ করা মহৎ হওয়ার প্রমাণ নয় এবং কম কাজ করা সবসময় তামসিকতার লক্ষণ নয়। মানুষের কর্মকে বিচার করতে হলে তার উদ্দেশ্য, মানসিকতা, আসক্তি এবং কর্তার অহঙ্কারকে বিবেচনা করতে হয়। কামনা যখন কর্মকে চালিত করে, অহঙ্কার যখন কর্তার পরিচয়কে শক্ত করে এবং অতিরিক্ত আয়াস যখন মনকে অস্থির করে তোলে, তখন সেই কর্ম রাজসিক প্রকৃতি লাভ করে।
অতএব এই শ্লোক কেবল প্রাচীন ধর্মীয় শিক্ষার একটি অংশ নয়। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কর্মজীবন, সম্পর্ক, সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা এবং মানসিক অস্থিরতার একটি গভীর বিশ্লেষণ। এর শিক্ষা হলো মানুষের কর্মশক্তিকে ধ্বংস করা নয়, বরং সেই শক্তিকে শুদ্ধ করা। কামনার অস্থিরতা থেকে কর্তব্যের স্থিরতার দিকে, অহঙ্কারের কর্তা ভাব থেকে বিনয়ের দিকে এবং ফলের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে কর্মের অন্তর্নিহিত মূল্যবোধের দিকে অগ্রসর হওয়াই এই শিক্ষার গভীর তাৎপর্য। মানুষ যখন বুঝতে শেখে যে তার মূল্য কেবল তার অর্জিত ফলের মধ্যে নয়, বরং তার কর্মের সততা, উদ্দেশ্য এবং চেতনার মধ্যেও নিহিত, তখন তার কর্ম ধীরে ধীরে অন্তরের স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়।
সার্বিকভাবে বলা যায়, কামেপ্সুনা, সাহঙ্কারেণ, বহুলায়াসম্ এবং রাজসম্ এই কয়েকটি শব্দের মধ্যেই রাজসিক কর্মের সম্পূর্ণ দর্শন নিহিত রয়েছে। কামনা মানুষকে ফলের দিকে টানে, অহঙ্কার তাকে নিজের কর্তা ভাবের মধ্যে আবদ্ধ করে এবং অতিরিক্ত আয়াস তাকে অস্থিরতার মধ্যে নিক্ষেপ করে। এই প্রবাহ যখন কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করে, তখন তা রাজসিক কর্মে পরিণত হয়। কিন্তু মানুষের কর্মশক্তি নিজে কোনো বন্ধন নয়। সেই শক্তিকে কোন চেতনা পরিচালনা করছে সেটিই মূল বিষয়। তাই এই শ্লোকের গভীরতম শিক্ষা হলো মানুষকে কর্ম থেকে পালাতে বলা নয়, বরং নিজের কর্মের অন্তর্নিহিত প্রেরণাকে চিনতে শেখানো। যখন কর্ম কামনা ও অহঙ্কারের পরিবর্তে জ্ঞান, কর্তব্য, সংযম ও আসক্তিহীনতার দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন কর্ম আর কেবল বাহ্যিক সাফল্য অর্জনের মাধ্যম থাকে না। তা মানুষের আত্মশুদ্ধি, অন্তরের শান্তি এবং উচ্চতর জীবনের পথে অগ্রসর হওয়ার একটি শক্তিশালী উপায় হয়ে ওঠে।
বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।
30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!