সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ৭.১২ | সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক ভাবের উৎস এবং ঈশ্বরের সর্বব্যাপী সত্তা

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যে চৈব সাত্ত্বিকা ভাবা রাজসাস্তামসাশ্চ যে। মত্ত এবেতি তান্ বিদ্ধি ন ত্বহং…
যে চৈব সাত্ত্বিকা ভাবা রাজসাস্তামসাশ্চ যে। 
মত্ত এবেতি তান্ বিদ্ধি ন ত্বহং তেষু তে ময়ি।।১২।।

অনুবাদঃ সমস্ত সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক ভাবসমূহ আমার থেকেই উৎপন্ন বলে জানবে। আমি সেই সকলের অধীন নই, কিন্তু তারা আমার শক্তির অধীন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তম অধ্যায়ের দ্বাদশ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের জীবন, প্রকৃতি এবং পরম সত্যের সম্পর্ককে এক গভীর দার্শনিক ভাষায় প্রকাশ করেছেন। শ্লোকটি হলো “যে চৈব সাত্ত্বিকা ভাবা রাজসাস্তামসাশ্চ যে। মত্ত এবেতি তান্ বিদ্ধি ন ত্বহং তেষু তে ময়ি।” এর সহজ অর্থ হলো, জগতের মধ্যে যে সকল সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক ভাব বা প্রকাশ দেখা যায়, সেগুলিকে আমার থেকেই উৎপন্ন বলে জানবে। কিন্তু আমি তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নই। বরং তারা আমার মধ্যেই অবস্থিত। এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃতি, মন, আত্মা এবং ঈশ্বর সম্পর্কে এক গভীর সত্য নিহিত রয়েছে।

এই শ্লোকের মূল শব্দগুলোর মধ্যে ভাব শব্দটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সংস্কৃত ভাব শব্দটি ভূ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা প্রকাশিত হওয়া। তাই এখানে ভাব বলতে শুধু আবেগ বা অনুভূতি বোঝায় না। মানুষের মানসিক প্রবণতা, আচরণ, চিন্তার ধরন, কর্মপ্রবণতা এবং প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশকেও ভাব বলা যায়। মানুষের মধ্যে কখনো শান্তি, জ্ঞান, স্বচ্ছতা ও সংযম প্রকাশ পায়, কখনো আকাঙ্ক্ষা, কর্মচাঞ্চল্য ও প্রতিযোগিতার প্রবণতা দেখা যায়, আবার কখনো অলসতা, অজ্ঞতা, মোহ ও জড়তা প্রবল হয়ে ওঠে। গীতার ভাষায় এই ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ প্রকৃতির তিন গুণের অধীন।

সত্ত্ব, রজস ও তমস হলো প্রকৃতির তিন মৌলিক গুণ। সত্ত্বের মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছতা, জ্ঞান, শান্তি, পবিত্রতা ও সামঞ্জস্য। রজসের মধ্যে রয়েছে গতি, আকাঙ্ক্ষা, কর্মপ্রবণতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ফললাভের আকর্ষণ। তমসের মধ্যে রয়েছে অন্ধকার, জড়তা, অজ্ঞতা, অলসতা ও মোহ। মানুষের জীবনে এই তিন গুণ কখনো পৃথকভাবে এবং কখনো পরস্পরের সঙ্গে মিশ্রভাবে প্রকাশিত হয়। একজন মানুষ এক মুহূর্তে অত্যন্ত শান্ত ও জ্ঞাননিষ্ঠ হতে পারেন, পরক্ষণেই কোনো আকাঙ্ক্ষায় অস্থির হয়ে উঠতে পারেন এবং অন্য সময় সম্পূর্ণ উদাসীন ও অলস হয়ে যেতে পারেন। এই পরিবর্তনশীল অবস্থাগুলিই বোঝায় যে এগুলো মানুষের চূড়ান্ত আত্মপরিচয় নয়।

এই জায়গাতেই শ্রীকৃষ্ণের বক্তব্য অত্যন্ত গভীর হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “মত্ত এব”, অর্থাৎ আমার থেকেই। এখানে মত্ত শব্দটি মাত্ থেকে এসেছে এবং তার অর্থ আমার থেকে বা আমাকে কারণ করে। কৃষ্ণ জানাচ্ছেন যে সত্ত্ব, রজস ও তমসের সমস্ত প্রকাশের অন্তরে রয়েছে তাঁর শক্তি। অর্থাৎ প্রকৃতি কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বিচ্ছিন্ন শক্তি নয়। জগতের সমস্ত গুণগত প্রকাশের একটি পরম আশ্রয় রয়েছে। মানুষের জ্ঞান, কর্মশক্তি, আকাঙ্ক্ষা, শান্তি, দুর্বলতা কিংবা জড়তার মধ্যেও সেই মহাশক্তির প্রকাশ ঘটছে।

কিন্তু শ্লোকটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্ভবত “ন ত্বহং তেষু”। অর্থাৎ আমি তাদের মধ্যে নই। এখানে কৃষ্ণ প্রকৃতির তিন গুণকে অস্বীকার করছেন না। তিনি বরং জানাচ্ছেন যে তিনি এই গুণগুলোর দ্বারা সীমাবদ্ধ নন। সত্ত্ব তাঁর প্রকাশের একটি দিক হতে পারে, কিন্তু তিনি কেবল সত্ত্ব নন। রজস ও তমসও তাঁর শক্তির অধীন, কিন্তু তিনি রজস বা তমসের সমষ্টিও নন। অর্থাৎ ঈশ্বর থেকে কোনো কিছু প্রকাশিত হওয়া এবং ঈশ্বর নিজে সেই প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়।

এর পরেই আসে “তে ময়ি”, অর্থাৎ তারা আমার মধ্যে। এই কয়েকটি শব্দের মধ্যে ঈশ্বর ও জগতের সম্পর্কের একটি গভীর সূত্র রয়েছে। সমস্ত গুণ, সমস্ত প্রকাশ এবং সমস্ত পরিবর্তন পরম সত্তার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু পরম সত্তা কোনো একটি পরিবর্তনশীল প্রকাশের উপর নির্ভরশীল নন। যেমন সমুদ্রের মধ্যে অসংখ্য তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। কোনো তরঙ্গ শান্ত, কোনো তরঙ্গ উত্তাল এবং কোনো তরঙ্গ প্রায় স্থির। কিন্তু প্রতিটি তরঙ্গের আশ্রয় সমুদ্র। কোনো একটি তরঙ্গকে সমুদ্রের সম্পূর্ণতা বলা যায় না। তেমনি সত্ত্ব, রজস ও তমস প্রকৃতির বিভিন্ন তরঙ্গের মতো এবং পরম সত্তা তাদের সকলের আশ্রয়।

এই সত্য মানুষের আত্মপরিচয়ের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ প্রায়ই নিজের মানসিক অবস্থাকেই নিজের পরিচয় মনে করে। সে বলে, আমি রাগী, আমি অলস, আমি উচ্চাকাঙ্ক্ষী, আমি দুর্বল অথবা আমি ব্যর্থ। কিন্তু গীতার দৃষ্টিতে এগুলো আত্মার চূড়ান্ত পরিচয় নয়। বরং বলা যায়, আমার মধ্যে এখন রাগ প্রকাশিত হয়েছে, আমার মধ্যে তমস প্রবল হয়েছে অথবা আমার মধ্যে রজসের প্রাবল্য দেখা দিয়েছে। এই সামান্য ভাষাগত পরিবর্তনের মধ্যেই গভীর আত্মজ্ঞান রয়েছে। কারণ যে ব্যক্তি নিজের রাগকে দেখতে পারে, সে কেবল রাগ নয়। যে ব্যক্তি নিজের অলসতাকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে, সে কেবল অলসতা নয়। পর্যবেক্ষণকারী চেতনা পরিবর্তনশীল মানসিক অবস্থার তুলনায় গভীরতর।

এই দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক মনোবিজ্ঞানের সঙ্গেও একটি অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। মানুষের চিন্তা, আবেগ ও আচরণ পরিবর্তনশীল। আজ যে মানুষ হতাশ, আগামীকাল সে আশাবাদী হতে পারে। আজ যে ব্যক্তি অত্যন্ত কর্মচঞ্চল, অন্যদিন সে ক্লান্ত ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে। যদি প্রতিটি পরিবর্তনশীল অবস্থাকেই নিজের স্থায়ী পরিচয় মনে করা হয়, তবে মানুষ নিজের মধ্যেই বন্দী হয়ে যায়। কিন্তু যদি সে বুঝতে পারে যে তার মধ্যে বিভিন্ন প্রবণতা আসছে এবং যাচ্ছে, তবে সে নিজের মানসিক অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করতে শেখে। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই আত্মসংযম এবং আত্মরূপান্তরের পথ শুরু হয়।

তবে গীতার শিক্ষা শুধু তমস থেকে বেরিয়ে রজসে যাওয়া এবং রজস থেকে সত্ত্বে ওঠার মধ্যেই শেষ হয় না। সত্ত্ব অবশ্যই তমস ও রজসের তুলনায় অধিক স্বচ্ছ ও জ্ঞানমুখী। কিন্তু সত্ত্বও প্রকৃতির একটি গুণ। তাই চূড়ান্ত আধ্যাত্মিক উপলব্ধি হলো তিন গুণের ঊর্ধ্বে ওঠা। তমস মানুষকে অন্ধকারে রাখে, রজস তাকে আকাঙ্ক্ষার গতিতে আবদ্ধ করে এবং সত্ত্ব তাকে জ্ঞান ও শান্তির দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু আত্মস্বরূপ উপলব্ধি হলে মানুষ বুঝতে পারে যে তার প্রকৃত সত্তা এই তিন পরিবর্তনশীল গুণেরও অতীত।

এই ধারণাটি বোঝাতে আলো এবং আকাশের উপমা দেওয়া যেতে পারে। মেঘ কখনো আকাশকে ঢেকে দেয়, কখনো আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং কখনো আকাশে উজ্জ্বল সূর্যালোক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মেঘের আসা যাওয়ায় আকাশের অস্তিত্ব নষ্ট হয় না। তেমনি মানুষের মনের মধ্যে তমসের অন্ধকার, রজসের অস্থিরতা কিংবা সত্ত্বের স্বচ্ছতা আসতে পারে এবং চলে যেতে পারে। চেতনার গভীরতম স্তরকে যদি আকাশের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে গুণগুলো হলো সেই আকাশে চলমান মেঘের মতো। তারা পরিবর্তিত হয়, কিন্তু তাদের পরিবর্তনের সাক্ষী যে চেতনা, তার প্রকৃতি ভিন্ন।

দার্শনিকভাবে এই শ্লোক সাংখ্যের প্রকৃতিতত্ত্বকে ঈশ্বরতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করে। প্রকৃতির তিন গুণ জগতের পরিবর্তনশীল প্রকাশকে ব্যাখ্যা করে, কিন্তু কৃষ্ণ সেই প্রকৃতিরও পরম আশ্রয় হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করছেন। অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই বক্তব্য আরও গভীর অর্থ ধারণ করে। পরম ব্রহ্ম গুণের অতীত। জগতের বহুবিধ প্রকাশ আপেক্ষিক স্তরে গুণের মাধ্যমে দেখা যায়, কিন্তু চূড়ান্ত সত্য কোনো নির্দিষ্ট গুণের দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। ভক্তির দৃষ্টিতে আবার এই শ্লোক মানুষকে নিজের অহংকার থেকে মুক্ত করে। মানুষের শক্তি, জ্ঞান ও কর্মক্ষমতার অন্তরেও একটি বৃহত্তর ঐশ্বরিক শক্তির উপস্থিতি রয়েছে। ফলে মানুষের মধ্যে আত্মসমর্পণ, কৃতজ্ঞতা ও ঈশ্বরনির্ভরতার বোধ জাগে।

সাহিত্যিক ও প্রতীকী দৃষ্টিতেও শ্লোকটি অসাধারণ। এখানে একটি গভীর বৈপরীত্য রয়েছে। কৃষ্ণ বলেন, সবই তাঁর থেকে এসেছে, কিন্তু তিনি তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। আবার তিনি বলেন, তারা তাঁর মধ্যে অবস্থিত। এই বক্তব্যকে একটি বৃহৎ বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা যায়। বৃক্ষের অসংখ্য পাতা, ফুল ও ফল রয়েছে। প্রতিটি অংশ বৃক্ষের জীবনশক্তির প্রকাশ, কিন্তু একটি পাতা কখনো পুরো বৃক্ষকে ধারণ করতে পারে না। একইভাবে জগতের প্রতিটি গুণ ও প্রকাশ পরম শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও কোনো একটি প্রকাশকে পরম সত্যের সম্পূর্ণ রূপ বলে ধরে নেওয়া যায় না।

বাস্তব জীবনে এই শিক্ষা অত্যন্ত কার্যকর। যখন নিজের মধ্যে অলসতা দেখা দেয়, তখন নিজেকে অলস মানুষ বলে চিহ্নিত না করে বোঝা যায় যে তমসের প্রভাব বেড়েছে। যখন প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও অস্থিরতা দেখা দেয়, তখন বোঝা যায় রজস সক্রিয় হয়েছে। যখন মন শান্ত, পরিষ্কার ও জ্ঞানগ্রহণে প্রস্তুত থাকে, তখন সত্ত্বের প্রকাশ ঘটেছে। এই উপলব্ধি মানুষকে নিজের প্রতি সচেতন করে। সে নিজের দুর্বলতার সঙ্গে একাত্ম না হয়ে তাকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং ধীরে ধীরে নিজের জীবনকে পরিশুদ্ধ করতে পারে।

শ্রীকৃষ্ণের এই বক্তব্য তাই কেবল একটি ধর্মীয় উপদেশ নয়। এটি মানুষের অস্তিত্বকে বোঝার একটি গভীর পদ্ধতি। মানুষ তার মনের প্রতিটি অনুভূতি নয়, তার প্রতিটি আকাঙ্ক্ষা নয়, তার প্রতিটি ব্যর্থতা নয় এবং তার প্রতিটি সাফল্যও নয়। এগুলো তার জীবনে প্রকাশিত পরিবর্তনশীল অবস্থা। এগুলোর অন্তরে প্রকৃতির গুণ কাজ করে এবং সেই প্রকৃতিরও একটি পরম আশ্রয় রয়েছে। যখন মানুষ এই সত্য উপলব্ধি করতে শুরু করে, তখন তার আত্মপরিচয় বাহ্যিক ও পরিবর্তনশীল অবস্থা থেকে সরে গভীরতর চেতনার দিকে অগ্রসর হয়।

সবশেষে বলা যায়, এই শ্লোকের সারমর্ম একটি গভীর সত্যে এসে মিলিত হয়। জগতের সমস্ত গুণগত প্রকাশ পরম শক্তি থেকে উদ্ভূত, কিন্তু পরম সত্য কোনো একটি প্রকাশের মধ্যে আবদ্ধ নয়। সত্ত্ব আমাদের স্বচ্ছতার দিকে নিয়ে যায়, রজস আমাদের কর্মের দিকে চালিত করে এবং তমস আমাদের জড়তা ও অজ্ঞতার মধ্যে আবদ্ধ করে। কিন্তু মানুষের চূড়ান্ত পরিচয় এই তিন গুণের কোনো একটির সঙ্গে এক নয়। সমস্ত পরিবর্তনের অন্তরে যে অপরিবর্তনীয় চেতনা, সেই চেতনার সন্ধানই আত্মজিজ্ঞাসার প্রকৃত উদ্দেশ্য। তাই এই শ্লোক যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা আমাদের সাময়িক মানসিক অবস্থা নই। আমাদের মধ্যে যে ভাবগুলি আসে ও যায়, সেগুলিকে চিনতে শেখা এবং তাদের অতীত যে গভীর সত্য, তার দিকে অগ্রসর হওয়াই জীবনের এক মহৎ আধ্যাত্মিক যাত্রা।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 16, 2026 August 16, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি