সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ৭.১৮ | জ্ঞানী ভক্তের শ্রেষ্ঠত্ব ও ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মীয়তার গভীর রহস্য

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
উদারাঃ সর্ব এবৈতে জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্। অস্থিতঃ স হি যুক্তাত্মা মামেবানুত্তমাং…
উদারাঃ সর্ব এবৈতে জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্। 
অস্থিতঃ স হি যুক্তাত্মা মামেবানুত্তমাং গতিম্।।১৮।।

অনুবাদঃ এই সকল ভক্তেরা সকলেই নিঃসন্দেহে মহাত্মা, কিন্তু যে জ্ঞানী আমার তত্ত্বজ্ঞানে অধিষ্ঠিত, আমার মতে তিনি আমার আত্মস্বরূপ। আমার অপ্রাকৃত সেবায় যুক্ত হয়ে তিনি সর্বোত্তম গতিস্বরূপ আমাকে লাভ করেন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তম অধ্যায়ের অষ্টাদশ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেন—“উদারাঃ সর্ব এবৈতে জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্। আস্থিতঃ স হি যুক্তাত্মা মামেবানুত্তমাং গতিম্।” এর সরল অর্থ হলো, “এঁরা সকলেই উদার; কিন্তু জ্ঞানী আমার আত্মাই—এটাই আমার অভিমত। কারণ তিনি যুক্তচিত্ত হয়ে আমাকেই সর্বোচ্চ গতি বা পরম গন্তব্য হিসেবে আশ্রয় করেছেন।” এই শ্লোকের গভীরতা বুঝতে হলে এর আগের দুটি শ্লোকের প্রসঙ্গ মনে রাখা জরুরি। সপ্তম অধ্যায়ের ষোড়শ শ্লোকে কৃষ্ণ চার ধরনের ভক্তের কথা বলেছেন—আর্ত, অর্থার্থী, জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানী। যে দুঃখে পড়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করে সে আর্ত; যে ধন, সাফল্য বা কাম্য বস্তু লাভের জন্য ঈশ্বরের কাছে যায় সে অর্থার্থী; যে পরম সত্যকে জানতে চায় সে জিজ্ঞাসু; আর যে ঈশ্বরকেই জীবনের চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপলব্ধি করে সে জ্ঞানী। সপ্তদশ শ্লোকে কৃষ্ণ জ্ঞানীকে বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠ বলেছেন, কারণ জ্ঞানী নিত্য ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁকে ভালোবাসে। অষ্টাদশ শ্লোকে সেই বিশেষত্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন—“জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্”, অর্থাৎ “জ্ঞানী আমার আত্মাই—এটাই আমার মত।”

“উদার” শব্দটি সংস্কৃত “উদার” থেকে এসেছে এবং এর সাধারণ অর্থ মহান, মহৎ, প্রশস্তচিত্ত বা উচ্চমনা। এখানে “উদার” কেবল দানশীল মানুষকে বোঝায় না; বরং যে ব্যক্তি নিজের সংকীর্ণ স্বার্থের সীমা অতিক্রম করে ঈশ্বরের দিকে ফিরে এসেছে, তার অন্তরের মহত্ত্বকে বোঝায়। কৃষ্ণ তাই বলেন, “সর্ব এবৈতে”—“এঁরা সকলেই উদার।” অর্থাৎ আর্ত, অর্থার্থী, জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানী—প্রত্যেকেই ঈশ্বরের দিকে মুখ ফিরিয়েছে বলেই তাদের মধ্যে একটি আধ্যাত্মিক মহত্ত্ব আছে। এই বক্তব্যের মধ্যে কৃষ্ণের অসাধারণ উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। তিনি ভক্তির প্রাথমিক স্তরকে অবজ্ঞা করেন না। কেউ যদি দুঃখের সময় ঈশ্বরকে ডাকে, কেউ যদি প্রয়োজনের সময় ঈশ্বরের সাহায্য চায়, কিংবা কেউ যদি কৌতূহল থেকে ঈশ্বরকে জানতে চায়—কৃষ্ণ প্রত্যেকের ঈশ্বরমুখী হওয়াকেই মূল্যবান বলে স্বীকার করছেন। কিন্তু এর পরেই “তু”—অর্থাৎ “কিন্তু”—শব্দটি এসে একটি গভীর পার্থক্য তৈরি করেছে: “জ্ঞানী তু”—“কিন্তু জ্ঞানী বিশেষ।”

“জ্ঞানী” শব্দটি সংস্কৃত √জ্ঞা ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ জানা, উপলব্ধি করা, চিনতে পারা বা সত্যকে অনুধাবন করা। তাই গীতার জ্ঞানী কেবল বহু শাস্ত্র পড়েছে বা অনেক তথ্য জানে এমন ব্যক্তি নয়। তথ্য জানা এবং জ্ঞান উপলব্ধি করা এক বিষয় নয়। কেউ যদি জানে যে ঈশ্বর আছেন, সেটি বিশ্বাস বা ধারণা হতে পারে; কেউ যদি ঈশ্বরের প্রকৃতি সম্পর্কে শাস্ত্র পড়ে, সেটি তাত্ত্বিক জ্ঞান হতে পারে; কিন্তু যখন মানুষ নিজের অস্তিত্বের গভীরে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করে এবং তাঁর বাইরে কোনো পৃথক চূড়ান্ত সত্যকে আর খুঁজে পায় না, তখন সে গীতার অর্থে জ্ঞানীর দিকে অগ্রসর হয়। অর্থাৎ জ্ঞান এখানে কেবল মস্তিষ্কের তথ্য নয়, চেতনার রূপান্তর। জ্ঞানী ব্যক্তি ঈশ্বর সম্পর্কে শুধু “জানে” না; তার জীবন, দৃষ্টি ও সত্তা সেই জ্ঞানের দ্বারা পরিবর্তিত হয়।

এই শ্লোকের সবচেয়ে গভীর শব্দসমষ্টি হলো “আত্মৈব”—“আত্মা” ও “এব” মিলিয়ে যার অর্থ “আত্মাই”। সংস্কৃত “আত্মন্” শব্দের অর্থ অত্যন্ত বিস্তৃত—নিজস্ব সত্তা, অন্তঃসত্তা, প্রাণ, চৈতন্য, স্বরূপ বা Self। প্রসঙ্গভেদে আত্মা বলতে ব্যক্তিসত্তা, জীবসত্তা বা পরম আত্মস্বরূপ বোঝানো হতে পারে। “এব” শব্দটি জোর দেয়—“ই”, “ঠিক সেই”, “একমাত্র”। তাই “জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্” কথাটিকে আক্ষরিকভাবে বলা যায়—“জ্ঞানী আমার আত্মাই—এটাই আমার মত।” এখানে কৃষ্ণ জ্ঞানীকে শুধু “আমার প্রিয়” বলছেন না; তার সঙ্গে নিজের এক গভীর অন্তরঙ্গ সম্পর্কের কথা বলছেন। এটি এমন এক আধ্যাত্মিক অবস্থার ইঙ্গিত, যেখানে জ্ঞানীর চেতনা ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো স্বতন্ত্র কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে আর প্রতিষ্ঠা করতে চায় না।

“মে মতम्” অর্থ “আমার মত” বা “আমার অভিমত”। “মত” শব্দটি সংস্কৃত √মন্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত, যার অর্থ চিন্তা করা, মনন করা বা মনে করা। তাই কৃষ্ণ এখানে নিজের একটি গভীর মূল্যায়ন প্রকাশ করছেন—তিনি বলছেন, তাঁর দৃষ্টিতে জ্ঞানীর প্রকৃত মর্যাদা কী। এই কারণে বাক্যটি কেবল দার্শনিক তত্ত্ব নয়; এর মধ্যে ঈশ্বরের পক্ষ থেকে জ্ঞানী ভক্তের প্রতি এক গভীর স্বীকৃতি ও ভালোবাসা রয়েছে।

পরের অংশ “আস্থিতঃ স হি যুক্তাত্মা মামেবানুত্তমাং গতিম্” এই বক্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করে। “আস্থিতঃ” শব্দটি √স্থা ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ দাঁড়ানো, অবস্থান করা বা কোনো কিছুর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। “যুক্তাত্মা” গঠিত হয়েছে “যুক্ত” ও “আত্মা” থেকে; “যুক্ত” শব্দটি √যুজ্ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ যোগ করা, সংযুক্ত করা বা একত্র করা। সুতরাং “যুক্তাত্মা” হলো সেই ব্যক্তি যার অন্তঃসত্তা বা চিত্ত ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত বা ঈশ্বরনিষ্ঠ। জ্ঞানী এমন একজন, যার মন বারবার বাহ্যিক আকাঙ্ক্ষার দিকে ছুটে যায় না; তার চেতনার কেন্দ্র পরম সত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। “মামেব” অর্থ “আমাকেই” বা “একমাত্র আমাকেই”, আর “অনুত্তমা গতি” অর্থ এমন সর্বোচ্চ গন্তব্য যার ঊর্ধ্বে আর কোনো গন্তব্য নেই। “গতি” শব্দটি √গম্ ধাতু থেকে এসেছে, যার মূল অর্থ যাওয়া; সেখান থেকে পথ, গমন, গন্তব্য বা চূড়ান্ত প্রাপ্তির অর্থ এসেছে। তাই “মামেবানুত্তমাং গতিম্” বলতে বোঝায়—“আমাকেই একমাত্র সর্বোচ্চ গন্তব্য হিসেবে।”

এই অর্থে শ্লোকটি মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রার একটি চমৎকার চিত্র তুলে ধরে। প্রথমে মানুষ দুঃখে পড়ে ঈশ্বরকে ডাকে—“আমাকে বাঁচাও”; তারপর প্রয়োজনের সময় বলে—“আমার ইচ্ছা পূর্ণ করো”; এরপর জিজ্ঞাসু হয়ে প্রশ্ন করে—“সত্য কী, ঈশ্বর কে, আমি কে?” কিন্তু জ্ঞানীর অবস্থায় এসে প্রশ্নটির প্রকৃতি বদলে যায়। তখন সে ঈশ্বরকে আর কোনো বস্তু লাভের মাধ্যম হিসেবে দেখে না; ঈশ্বরই তার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হয়ে ওঠেন। তার আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে “ঈশ্বরের কাছ থেকে কিছু পাওয়া” থেকে “ঈশ্বরকেই পাওয়া”-র দিকে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনই গীতার আধ্যাত্মিক বিবর্তনের অন্যতম গভীর শিক্ষা।

এই শ্লোকের দার্শনিক ব্যাখ্যা বিভিন্ন বেদান্তীয় ধারায় কিছুটা ভিন্ন। অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে “জ্ঞানী আমার আত্মা” কথাটি আত্মা ও ব্রহ্মনের চূড়ান্ত অভিন্নতার উপলব্ধির দিকে নির্দেশ করতে পারে। জ্ঞানী উপলব্ধি করেন যে তাঁর গভীরতম আত্মস্বরূপ কোনো সীমাবদ্ধ অহং নয়; পরম চৈতন্যই তার প্রকৃত স্বরূপ। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে জীব ও ঈশ্বর সম্পূর্ণ অভিন্ন নয়; জীব ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল এবং তাঁর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের মধ্যে অবস্থান করে। সেই দৃষ্টিতে “জ্ঞানী আমার আত্মা” বলতে ঈশ্বরের সঙ্গে জ্ঞানীর গভীরতম অন্তরঙ্গতা ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বোঝানো হয়। দ্বৈত দর্শনে জীব ও ঈশ্বর চিরতরে পৃথক; তাই এখানে আত্মগত অভিন্নতার পরিবর্তে ঈশ্বরের প্রতি জ্ঞানীর সম্পূর্ণ আত্মনিবেদন, অন্তরঙ্গ ভক্তি ও ঈশ্বরনিষ্ঠাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ ব্যাখ্যার পার্থক্য থাকলেও সব ধারাতেই একটি বিষয় স্পষ্ট—জ্ঞানীর চেতনা সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরমুখী।

মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতেও শ্লোকটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ মানুষ প্রায়ই জীবনের কেন্দ্র হিসেবে নিজের চাহিদা, নিরাপত্তা, সাফল্য, অর্থ, সামাজিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে স্থাপন করে। দুঃখে সে ঈশ্বরকে স্মরণ করে, প্রয়োজনে ঈশ্বরকে আহ্বান করে। কিন্তু আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান যত গভীর হয়, প্রশ্নটি তত বদলে যায়—“আমি কী পাব?” থেকে “আমি কে?” এবং শেষে “আমার অস্তিত্বের পরম সত্য কী?” এই পরিবর্তনকে অহংকেন্দ্রিকতা থেকে সত্যকেন্দ্রিকতার যাত্রা বলা যায়। জ্ঞানীর কাছে ঈশ্বর কোনো বাহ্যিক উপায় নন; ঈশ্বরই জীবনের অর্থ ও চূড়ান্ত কেন্দ্র।

সাহিত্যিক ও প্রতীকী অর্থেও “সর্ব এবৈতে” এবং “জ্ঞানী তু” অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রাকে চারটি ধাপে কল্পনা করা যায়—দুঃখ, কামনা, অনুসন্ধান ও উপলব্ধি। আর্ত মানুষ বলে, “আমাকে রক্ষা করো”; অর্থার্থী বলে, “আমাকে দাও”; জিজ্ঞাসু বলে, “আমাকে জানাও”; আর জ্ঞানী বলে, “তুমিই আমার পরম সত্য।” এই যাত্রা আসলে মানুষের অন্তর্জগতের বিবর্তনের প্রতীক। প্রথমে মানুষ ঈশ্বরকে নিজের জীবনের জন্য চায়; পরে উপলব্ধি করে যে ঈশ্বরের উপস্থিতিই তার জীবনের প্রকৃত অর্থ। এখানেই ভক্তি জ্ঞানে পরিণত হয় এবং জ্ঞান আবার গভীর ভক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বাস্তব জীবনের একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যায়। একজন মানুষ বিপদে পড়ে প্রার্থনা করল—“হে ঈশ্বর, আমার সমস্যা দূর করো।” এটি আর্ত ভক্তির স্বাভাবিক প্রকাশ। আরেকজন অর্থনৈতিক সংকটে প্রার্থনা করল—“আমাকে কাজ বা অর্থের ব্যবস্থা করে দাও।” এটি অর্থার্থীর মানসিকতা। অন্য একজন প্রশ্ন করতে শুরু করল—“সাফল্য কী, ব্যর্থতা কী, জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?” এটি জিজ্ঞাসুর মন। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরে কেউ যদি উপলব্ধি করে যে তার অস্তিত্বের মূল্য কেবল চাকরি, অর্থ, পরিচয় বা সাফল্যের ওপর নির্ভর করে না এবং পরম সত্যের সন্ধানই জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য, তবে সে জ্ঞানীর পথে এগোয়। এই পার্থক্যটি একটি উপমার সাহায্যে আরও স্পষ্ট করা যায়: চারজন মানুষ সমুদ্রের কাছে গেল। প্রথমজন ডুবে যাচ্ছিল, তাই বলল, “আমাকে বাঁচাও”; দ্বিতীয়জন বলল, “সমুদ্র থেকে আমি মুক্তা চাই”; তৃতীয়জন জিজ্ঞেস করল, “সমুদ্র কত গভীর?” আর চতুর্থজন সমুদ্রের অসীমতার সামনে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করল যে তার সমস্ত প্রশ্নের চেয়েও সমুদ্র বৃহৎ। জ্ঞানীর ঈশ্বর-সম্পর্ক এই চতুর্থ অবস্থার প্রতীক—সে ঈশ্বরকে নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বস্তু হিসেবে নয়, অস্তিত্বের অসীম সত্য হিসেবে উপলব্ধি করে।

অতএব, “উদারাঃ সর্ব এবৈতে জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্” শ্লোকাংশের সারমর্ম হলো—ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসার প্রতিটি পথই মূল্যবান। দুঃখ, প্রয়োজন, কৌতূহল—এসবও মানুষকে ঈশ্বরের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই কৃষ্ণ সকল ভক্তকেই “উদার” বলেছেন। কিন্তু জ্ঞানীর বিশেষত্ব হলো, তার কাছে ঈশ্বর আর কোনো বাহ্যিক প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম নন; ঈশ্বরই তার পরম সত্য, পরম প্রেম ও পরম গন্তব্য। “জ্ঞানী আমার আত্মাই”—এই উক্তিতে তাই একদিকে জ্ঞানীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধির গভীরতা, অন্যদিকে ঈশ্বর ও ভক্তের চূড়ান্ত অন্তরঙ্গতা প্রকাশ পেয়েছে। ভাষাগতভাবে এটি জ্ঞান, আত্মা, যোগ ও গতি—এই কয়েকটি মৌলিক ভারতীয় দার্শনিক ধারণাকে একত্র করেছে; দার্শনিকভাবে এটি আত্মপরিচয়, ঈশ্বরস্বরূপ ও মুক্তির প্রশ্নকে সামনে আনে; আর প্রতীকীভাবে এটি মানুষের অন্তর্জগতের এক মহাযাত্রা—“আমার জন্য ঈশ্বর” থেকে “ঈশ্বরই আমার পরম সত্য”-এর দিকে উত্তরণ। এই কারণেই শ্লোকটির গভীরতম শিক্ষা হতে পারে: ঈশ্বরকে নিজের সমস্যার সমাধানের জন্য খোঁজা ভক্তির সূচনা, কিন্তু ঈশ্বরকেই নিজের জীবনের সর্বোচ্চ সত্য ও গন্তব্য হিসেবে উপলব্ধি করা জ্ঞানের পরিণতি।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 16, 2026 August 16, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি