সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ৭.২১ | বিভিন্ন দেবতার উপাসনা, অচল শ্রদ্ধা ও ঈশ্বরের সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণ

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
যো যো যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি। তস্য তস্যাচলাং শ্রদ্ধাং তামেব বিদধাম্যহম্।।২১।।
যো যো যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি। 
তস্য তস্যাচলাং শ্রদ্ধাং তামেব বিদধাম্যহম্।।২১।।

অনুবাদঃ পরমাত্মরূপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। যখনই কেউ দেবতাদের পূজা করতে ইচ্ছা করে, তখনই আমি সেই সেই ভক্তের তাতেই অচলা শ্রদ্ধা বিধান করি।

ভগবদ্গীতার সপ্তম অধ্যায়ের একবিংশ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেন—“যো যো যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি। তস্য তস্যাচলাং শ্রদ্ধাং তামেব বিদধাম্যহম্।” অর্থাৎ, “যে যে ভক্ত যে যে দেবতার রূপকে শ্রদ্ধার সঙ্গে উপাসনা করতে ইচ্ছা করে, আমি সেই সেই ভক্তের সেই সেই উপাস্যরূপের প্রতি অচল শ্রদ্ধা স্থাপন করি।” এই শ্লোকটি আপাতদৃষ্টিতে বিভিন্ন দেবতার উপাসনা সম্পর্কে একটি ধর্মতাত্ত্বিক বক্তব্য হলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ আরও গভীর; এখানে মানুষের আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাস, ভক্তি, উপাসনা, মানসিক প্রবণতা এবং ঈশ্বরের সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণ—এই সমস্ত বিষয়ের একটি সূক্ষ্ম সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে।

শ্লোকটির প্রথম শব্দ “যো যো”—সংস্কৃত “যঃ যঃ”-এর রূপ, যার অর্থ “যে যে” বা “যে-যে ব্যক্তি”। একই শব্দের পুনরুক্তি এখানে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কোনো নির্দিষ্ট একজন ভক্তকে বোঝায় না; বরং প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব মানসিক প্রবণতা, সংস্কার, বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা অনুসারে যে উপাসনার পথ গ্রহণ করে, তাকে নির্দেশ করে। এরপর এসেছে “যাং যাং”, অর্থাৎ “যে যে” বা “যেরূপ যেরূপ”। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে “তনুং” শব্দটি। সংস্কৃত “তনু” শব্দের সঙ্গে √তন্ ধাতুর সম্পর্ক রয়েছে, যার মূল অর্থ প্রসারিত করা, বিস্তার করা বা প্রকাশ করা। “তনু” সাধারণত দেহ, শরীর, অবয়ব বা রূপ বোঝায়; কিন্তু এই শ্লোকে এর অর্থ কেবল মানুষের শরীর নয়, বরং কোনো দেবতার বিশেষ প্রকাশিত রূপ বা উপাস্যস্বরূপ। অর্থাৎ অসীম ও নিরাকার পরম সত্যকে মানুষ যখন কোনো নির্দিষ্ট দেবরূপ, প্রতিমা বা উপাস্যরূপের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে চায়, তখন সেই প্রকাশিত রূপকে “তনু” বলা হয়েছে।

“ভক্তঃ” শব্দটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সংস্কৃত √ভজ্ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ ভাগ করা, অংশ নেওয়া, গ্রহণ করা, সেবা করা বা উপাসনা করা। সেই অর্থে “ভক্ত” শুধু এমন একজন ব্যক্তি নন যিনি কোনো দেবতার কাছে প্রার্থনা করেন; বরং ভক্ত হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নিজের চেতনা, অনুভূতি ও জীবনকে কোনো উপাস্য সত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করেন এবং নিজেকে তার কাছে নিবেদন করেন। তাই ভক্তির গভীরে রয়েছে সম্পর্ক, আত্মসমর্পণ ও অন্তরের সংযোগ। এই দৃষ্টিতে ভক্তি কেবল বাহ্যিক ধর্মীয় আচরণ নয়; এটি মানুষের চেতনার একটি বিশেষ অভিমুখ।

এরপর এসেছে “শ্রদ্ধয়া” শব্দটি, যা পুরো শ্লোকের অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা। “শ্রদ্ধা” সংস্কৃত “শ্রদ্ধা” শব্দ থেকে এসেছে এবং ঐতিহ্যগত ব্যাখ্যায় “শ্রদ্” ও √ধা—এই দুই উপাদানের সঙ্গে এর সম্পর্ক স্থাপন করা হয়; √ধা অর্থ স্থাপন করা বা রাখা। সেই দৃষ্টিতে শ্রদ্ধা হলো হৃদয় ও চেতনার কোনো সত্য, মূল্য বা আদর্শের মধ্যে নিজেকে স্থাপন করা। বাংলা ভাষায় শ্রদ্ধা বলতে বিশ্বাস, আস্থা, নিষ্ঠা, ভক্তিপূর্ণ প্রত্যয় বা গভীর আস্থাবোধ বোঝায়। তবে গীতার “শ্রদ্ধা”কে নিছক অন্ধবিশ্বাস হিসেবে বোঝা ঠিক নয়। শ্রদ্ধা হলো এমন এক অন্তর্গত বিশ্বাস ও মানসিক অভিমুখ, যার ফলে মানুষের মন কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ বা উপাস্যের দিকে স্থির হয়। মানুষ যে বিষয়কে সত্য, মূল্যবান বা পবিত্র বলে গ্রহণ করে, তার প্রতি তার চিন্তা, আবেগ ও কর্ম ক্রমশ সংগঠিত হতে থাকে।

“অর্চিতুম্” শব্দটি এসেছে √অর্চ্ ধাতু থেকে, যার অর্থ পূজা করা, সম্মান করা, বন্দনা করা বা উপাসনা করা। “অর্চনা” শব্দটিরও মূল এখানেই। “অর্চিতুম্” অর্থ “উপাসনা করতে” বা “পূজা করতে”। কিন্তু এখানে পূজাকে শুধু ফুল, ধূপ, প্রদীপ বা কোনো বাহ্যিক আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে শব্দটির গভীরতা কমে যায়। অর্চনা হলো কোনো কিছুকে নিজের চেতনার কাছে শ্রদ্ধা ও সম্মানের কেন্দ্রে স্থাপন করা। অর্থাৎ মানুষ যখন কোনো দেবরূপকে উপাসনা করে, তখন আসলে সে তার মনকে সেই প্রতীকের দিকে নিবদ্ধ করছে।

“ইচ্ছতি” এসেছে √ইষ্ ধাতু থেকে, যার অর্থ চাওয়া, কামনা করা, আকাঙ্ক্ষা করা বা অনুসন্ধান করা। “ইচ্ছতি” অর্থ “সে চায়” বা “সে ইচ্ছা করে”। এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় লক্ষণীয়—শ্রীকৃষ্ণ বলেননি যে ভক্ত ইতিমধ্যেই উপাসনা করছে; তিনি বলেছেন যে ভক্ত উপাসনা করতে “ইচ্ছা” করে। অর্থাৎ বাহ্যিক উপাসনার পূর্বে রয়েছে অন্তরের আকাঙ্ক্ষা। মানুষের আধ্যাত্মিক জীবন শুরু হয় তার অন্তরের আকাঙ্ক্ষা থেকে; সে কী খুঁজছে, কীকে সত্য বলে গ্রহণ করছে এবং কোন আদর্শের দিকে তার মন আকৃষ্ট হচ্ছে—এই বিষয়গুলো তার পরবর্তী সাধনার পথ নির্ধারণ করে।

এরপর আসে “তস্য তস্য”, অর্থাৎ “সেই সেই ব্যক্তির”। “তস্য” অর্থ “তার” এবং এর পুনরুক্তি বোঝাচ্ছে—যে ব্যক্তি যে রূপকে গ্রহণ করেছে, তার ক্ষেত্রে সেই নির্দিষ্ট উপাসনার প্রতি তার নিজস্ব শ্রদ্ধা স্থাপিত হয়। এর পরে “অচলাম্” শব্দটি এসেছে। “অচল” গঠিত হয়েছে “অ” এবং “চল” থেকে; “চল” অর্থ চলমান বা পরিবর্তনশীল এবং “অচল” অর্থ যা নড়ে না, স্থির, দৃঢ় বা অবিচল। অতএব “অচলাং শ্রদ্ধাম্” অর্থ “অচল বা দৃঢ় শ্রদ্ধা”। এখানে সাময়িক আবেগের কথা বলা হচ্ছে না; এমন এক বিশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে যা মানুষের মনে স্থির হয়ে যায় এবং তাকে তার নির্বাচিত উপাসনার পথে অবিচল রাখে।

সবশেষে এসেছে “তামেব বিদধাম্যহম্”—“সেই শ্রদ্ধাকেই আমি স্থাপন করি”। “বিদধামি” এসেছে “বি + √ধা” থেকে। √ধা অর্থ রাখা, স্থাপন করা বা প্রতিষ্ঠা করা; “বিদধামি” অর্থ “আমি স্থাপন করি”, “আমি বিধান করি” বা “আমি প্রতিষ্ঠিত করি”। আর “অহম্” অর্থ “আমি”—এখানে বক্তা স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। এই “আমি”কে শুধু ঐতিহাসিক ব্যক্তি কৃষ্ণের ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে না দেখে গীতার সামগ্রিক দর্শনের আলোকে পরমেশ্বর বা পরম সত্যের ঈশ্বরীয় সত্তা হিসেবেও বোঝা যায়। অর্থাৎ মানুষের উপাসনার নির্বাচন এবং সেই উপাসনায় তার স্থিরতার পেছনেও একটি বৃহত্তর ঈশ্বরীয় বিধান কাজ করছে—এই ধারণাই এখানে প্রকাশিত।

সুতরাং পুরো শ্লোকটির আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায়—“যে যে ভক্ত যে যে দেবরূপকে শ্রদ্ধার সঙ্গে উপাসনা করতে ইচ্ছা করে, আমি সেই সেই ভক্তের সেই সেই উপাস্যরূপের প্রতি অচল শ্রদ্ধা স্থাপন করি।” কিন্তু এর প্রাসঙ্গিক অর্থ বুঝতে হলে আগের ও পরের শ্লোকের সঙ্গে একে পড়তে হয়। সপ্তম অধ্যায়ের ২০ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে যে কামনায় জ্ঞান আচ্ছন্ন হলে মানুষ বিভিন্ন দেবতার আশ্রয় গ্রহণ করে। ২১ নম্বর শ্লোকে কৃষ্ণ সেই অবস্থার একটি গভীরতর ব্যাখ্যা দেন—মানুষ যে দেবরূপকে উপাসনা করতে চায়, সেই উপাসনার প্রতি তার শ্রদ্ধার স্থিতিও পরমেশ্বরের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তী ২২ নম্বর শ্লোকে বলা হয় যে সেই ভক্ত তার শ্রদ্ধা অনুসারে উপাসনা করে এবং কাম্য ফল লাভ করে, কিন্তু সেই ফলের বিধানও শেষ পর্যন্ত পরমেশ্বরের কাছ থেকেই আসে। ফলে তিনটি শ্লোককে একত্রে পড়লে একটি ধারাবাহিকতা দেখা যায়—মানুষের আকাঙ্ক্ষা, নির্দিষ্ট উপাসনার নির্বাচন, সেই উপাসনার প্রতি দৃঢ় শ্রদ্ধা, উপাসনা, তার ফল এবং সর্বশেষে পরমেশ্বরের নিয়ন্ত্রণ।

দার্শনিকভাবে এই শ্লোকের একটি গভীর তাৎপর্য হলো—মানুষের ধর্মীয় অভিজ্ঞতা বহুরূপী হলেও তার অন্তর্নিহিত ঈশ্বরীয় ভিত্তি এক। মানুষ বিভিন্ন দেবতার বিভিন্ন রূপে পরম সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে। কারও কাছে শিব, কারও কাছে বিষ্ণু, কারও কাছে দেবী, কারও কাছে সূর্য বা অন্য কোনো দেবরূপ তার আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র হতে পারে। মানুষের মন বিমূর্ত অসীমকে সহজে ধারণ করতে পারে না; তাই অসীম সত্য একটি উপলব্ধিযোগ্য প্রতীক বা রূপের মাধ্যমে তার কাছে ধরা দেয়। “তনু” শব্দটি এই অর্থে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—অসীমের সীমিত ও উপলব্ধিযোগ্য প্রকাশ।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই বহুরূপের অন্তরালে রয়েছে এক অদ্বিতীয় ব্রহ্ম। বিভিন্ন দেবতা ও উপাসনার রূপ ব্যবহারিক স্তরে সত্য হলেও পরম উপলব্ধিতে সমস্ত রূপের অন্তরালে যে এক অদ্বৈত সত্য রয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত। বিশিষ্টাদ্বৈত দৃষ্টিতে বিভিন্ন দেবতার প্রতি মানুষের ভক্তিও পরম ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণাধীন; ঈশ্বর অন্তর্যামী হিসেবে মানুষের ভক্তির পথের সঙ্গে যুক্ত। দ্বৈত দর্শনে ঈশ্বর ও জীবের পার্থক্য বজায় রেখে বলা যায় যে মানুষের উপাসনা ও তার ফলের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক ঈশ্বর। অর্থাৎ বিভিন্ন বেদান্তীয় ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—মানুষের ভক্তি ও তার ফলকে ঈশ্বরীয় বিধান থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যায় না।

মনোবৈজ্ঞানিক দিক থেকেও “শ্রদ্ধা” শব্দটির অসাধারণ গুরুত্ব রয়েছে। মানুষ যে বিষয়কে গভীরভাবে বিশ্বাস করে, তার মন ধীরে ধীরে সেই বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিন্তা, আচরণ ও অভ্যাস গড়ে তোলে। একটি বিশ্বাস যদি মানুষের মনে অচল হয়ে যায়, তাহলে তা তার সিদ্ধান্ত, মূল্যবোধ, সম্পর্ক ও জীবনযাপনের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে। এই অর্থে শ্লোকটি একটি গভীর মানবিক সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে—মানুষ তার জীবনে যা সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করে, শেষ পর্যন্ত তার জীবন সেই মূল্যবোধেরই প্রতিফলন হয়ে ওঠে। কেউ জ্ঞানকে সর্বোচ্চ মূল্য দিলে তার জীবন জ্ঞানসন্ধানী হয়; কেউ অর্থকে সর্বোচ্চ মূল্য দিলে তার জীবন অর্থকেন্দ্রিক হয়; কেউ সত্যকে শ্রদ্ধা করলে তার চরিত্র সত্যনিষ্ঠতার দিকে এগোয়; আর কেউ ঈশ্বরকে জীবনের পরম সত্য হিসেবে গ্রহণ করলে তার জীবন আধ্যাত্মিকতার দিকে পরিচালিত হতে পারে।

প্রতীকী অর্থে “তনু” হলো অসীমের উপলব্ধিযোগ্য রূপ, “ভক্ত” হলো সেই রূপের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকারী মানবচেতনা, “শ্রদ্ধা” হলো চেতনার কেন্দ্র, “অর্চনা” হলো সেই কেন্দ্রে মনকে নিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া এবং “অচল” হলো সেই চেতনার স্থিতি। আর “বিদধামি অহম্” বোঝায় যে মানুষের অন্তর্গত শক্তি ও বিশ্বাসের পেছনেও একটি বৃহত্তর ঈশ্বরীয় বিধান কাজ করে। এই দৃষ্টিতে শ্লোকটি কেবল মন্দিরে পূজা করার বিষয় নয়; এটি মানুষের সমগ্র মানসিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা।

একটি সহজ উপমা দিয়ে বিষয়টি বোঝানো যায়। যেমন একটি সাদা আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে বিভিন্ন রঙে প্রকাশিত হয়, তেমনি মানুষের উপলব্ধিতে এক পরম সত্য বিভিন্ন দেবরূপ ও প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। রূপগুলি ভিন্ন, উপাসনার পদ্ধতি ভিন্ন, মানুষের মানসিক প্রবণতা ভিন্ন; কিন্তু সেই সমস্ত অভিজ্ঞতার গভীরে একটি বৃহত্তর ঐক্যের সন্ধান রয়েছে। আবার মানুষের জীবনের দিক থেকেও বলা যায়, একজন মানুষ যে আদর্শকে হৃদয়ের গভীরে স্থাপন করে, তার জীবন ধীরে ধীরে সেই আদর্শের আকৃতি ধারণ করে। তাই শ্লোকটি আমাদের শুধু “কাকে পূজা করি” এই প্রশ্ন করতে শেখায় না; বরং আরও গভীর প্রশ্ন করতে শেখায়—“আমার হৃদয়ে কোন বিশ্বাসটি অচল হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?”

সব মিলিয়ে, “যো যো যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি” শ্লোকটির মূল শিক্ষা হলো মানুষের ভক্তির রূপ বহুবিধ হলেও তার অন্তর্গত বিশ্বাস, আকাঙ্ক্ষা ও সাধনার সঙ্গে পরমেশ্বরের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। “তনু” আমাদের শেখায় যে অসীম সত্য মানুষের কাছে নানা রূপে প্রকাশিত হতে পারে; “ভক্ত” শেখায় যে ধর্ম কেবল আচরণ নয়, একটি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক; “শ্রদ্ধা” শেখায় যে মানুষের জীবন তার গভীরতম বিশ্বাস দ্বারা গঠিত হয়; “অচল” শেখায় যে স্থির বিশ্বাস মানুষের চেতনাকে শক্তিশালী করে; আর “বিদধামি অহম্” স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানুষের ব্যক্তিগত সাধনার পেছনেও একটি বৃহত্তর ঈশ্বরীয় বিধান কাজ করছে। তাই এই শ্লোকের গভীরতম প্রশ্ন হতে পারে—“তুমি কোন দেবরূপকে পূজা করছ?”—এর চেয়েও গভীর হলো—“তোমার হৃদয়ে কোন সত্যকে তুমি অচল শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছ?” কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কেবল যাকে উপাসনা করে তার দ্বারা নয়, বরং যাকে সে গভীরতম শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে নিজের চেতনার কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত করে, তার দ্বারাই নিজের জীবনকে গড়ে তোলে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 16, 2026 August 16, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি