সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ৭.২৬ | অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ঈশ্বরের সর্বজ্ঞতা ও পরম চৈতন্য

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
বেদাহং সমতীতানি বর্তানাননি চার্জুন। ভবিষ্যাণি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন।।২৬।।
বেদাহং সমতীতানি বর্তানাননি চার্জুন। 
ভবিষ্যাণি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন।।২৬।।

অনুবাদঃ হে অর্জুন! পরমেশ্বর ভগবানরূপে আমি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত। আমি সমস্ত জীব সম্বন্ধে জানি, কিন্তু আমাকে কেউ জানে না।

“বেদাহং সমতীতানি বর্তমানানি চার্জুন। ভবিষ্যাণি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন।” ভগবদ্গীতার সপ্তম অধ্যায়ের এই শ্লোকটি মানুষের জ্ঞান, সময়, অস্তিত্ব এবং পরম সত্য সম্পর্কে এক গভীর দার্শনিক উপলব্ধির দ্বার খুলে দেয়। এর সরল অর্থ হলো, হে অর্জুন, অতীতের সমস্ত সত্তা, বর্তমানের সমস্ত সত্তা এবং ভবিষ্যতে যে সমস্ত সত্তার অস্তিত্ব হবে, তাদের আমি জানি, কিন্তু আমাকে প্রকৃত অর্থে কেউ জানে না। প্রথম দৃষ্টিতে এটি ঈশ্বরের সর্বজ্ঞতার ঘোষণা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু গভীরভাবে উপলব্ধি করলে বোঝা যায়, এই শ্লোকের অন্তরে রয়েছে জ্ঞাতা ও জ্ঞেয়ের সম্পর্ক, সময়ের প্রকৃতি, মানুষের সীমাবদ্ধতা এবং পরম চৈতন্যের অসীমতার এক অনুপম দর্শন।

এই শ্লোকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো “বেদাহং”। সংস্কৃত “বেদাহং” গঠিত হয়েছে “বিদ্” ধাতু এবং “অহম্” শব্দের সমন্বয়ে। “বিদ্” ধাতুর অর্থ জানা, উপলব্ধি করা বা জ্ঞান লাভ করা এবং “অহম্” অর্থ আমি। তাই “বেদাহং” অর্থ আমি জানি। তবে এখানে জানা বলতে সাধারণ কোনো তথ্য জানা বোঝানো হয় না। এটি এমন এক জ্ঞানের ইঙ্গিত দেয় যা অস্তিত্বের গভীর সত্যকে ধারণ করে। সংস্কৃত “বিদ্” ধাতু থেকেই বিদ্যা, বেদ, বেদিত এবং বেদ্য প্রভৃতি শব্দের উৎপত্তি। ফলে “বেদাহং” শব্দটির মধ্যে কেবল জ্ঞানের ধারণা নয়, জ্ঞানের মূল উৎস এবং সর্বজ্ঞ চৈতন্যের ধারণাও নিহিত রয়েছে।

এরপর এসেছে “সমতীতানি” শব্দটি। এর অর্থ সম্পূর্ণরূপে অতিক্রান্ত বা অতীত হয়ে যাওয়া। এখানে অতীতকে শুধু সময়ের একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়নি। মানুষের কাছে অতীত হলো এমন এক জগৎ যা আর প্রত্যক্ষভাবে ফিরে পাওয়া যায় না। আমরা অতীতকে স্মৃতির মাধ্যমে জানি। কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আমরা তাকে মনে রাখি, তার ব্যাখ্যা করি এবং কখনো কখনো তার জন্য অনুশোচনা করি। কিন্তু এই শ্লোকের দৃষ্টিতে অতীত কোনো হারিয়ে যাওয়া অঞ্চল নয়। পরম জ্ঞাতার কাছে যা অতীত হয়ে গেছে, সেটিও সম্পূর্ণভাবে জ্ঞাত। মানুষের স্মৃতির সীমা যেখানে শেষ হয়, পরম জ্ঞানের সেখানে কোনো সীমা নেই।

“বর্তমানানি” শব্দটি বর্তমান বা চলমান অস্তিত্বকে বোঝায়। এটি এমন সব কিছুর কথা বলে যা এখন ঘটছে, এখন আছে বা অস্তিত্বের প্রকাশমান অবস্থায় রয়েছে। মানুষের কাছে বর্তমান হলো এক ক্ষণস্থায়ী অভিজ্ঞতা। আমরা একটি মুহূর্তকে বর্তমান বলার সঙ্গে সঙ্গেই তা অতীতে পরিণত হয়। বর্তমান তাই মানুষের অভিজ্ঞতায় অত্যন্ত ক্ষণভঙ্গুর। কিন্তু পরম জ্ঞানের দৃষ্টিতে বর্তমানও সেই সর্বব্যাপী জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।

এরপর এসেছে “ভবিষ্যাণি”। এই শব্দটি “ভূ” ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর মধ্যে হয়ে ওঠার ধারণা রয়েছে। ভবিষ্যৎ অর্থ যা এখনও হয়নি কিন্তু হবে। মানুষের কাছে ভবিষ্যৎ মূলত অনুমান, আশা, আশঙ্কা এবং সম্ভাবনার বিষয়। আমরা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিকল্পনা করি, কিন্তু তার নিশ্চয়তা জানি না। কৃষ্ণের বক্তব্যের গভীরতা এখানেই যে তিনি অতীত ও বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎকেও জ্ঞানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অর্থাৎ যে সময় মানুষের কাছে এখনও অজ্ঞাত, পরম জ্ঞাতার কাছে সেটিও অজ্ঞাত নয়।

“ভূতানি” শব্দটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি এসেছে “ভূ” ধাতু থেকে, যার অর্থ হওয়া বা অস্তিত্ব লাভ করা। “ভূত” অর্থ যা হয়েছে, যা অস্তিত্ব লাভ করেছে বা যা সৃষ্ট হয়েছে। প্রসঙ্গ অনুযায়ী “ভূতানি” বলতে সমস্ত জীবসত্তা বা সমস্ত সৃষ্ট অস্তিত্বকে বোঝানো হয়েছে। লক্ষ করার মতো বিষয় হলো, ভবিষ্যৎ এবং ভূত উভয় শব্দের গভীরে “হয়ে ওঠা” ধারণাটি রয়েছে। যা একদিন ভবিষ্যৎ ছিল তা বর্তমান হয় এবং পরে অতীত হয়ে যায়। অস্তিত্ব যেন এক অবিরাম পরিবর্তনের প্রবাহ। কিন্তু কৃষ্ণ নিজেকে সেই পরিবর্তনশীল প্রবাহের মধ্যে আবদ্ধ কোনো সাধারণ সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করছেন না। তিনি সেই প্রবাহের সর্বজ্ঞ জ্ঞাতা।

শ্লোকটির সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ হলো “মাং তু বেদ ন কশ্চন”। এর অর্থ আমাকে কিন্তু কেউ জানে না। এখানে “তু” শব্দটি একটি গভীর বৈপরীত্য তৈরি করেছে। একদিকে বলা হচ্ছে, আমি সমস্ত জীবকে জানি। অন্যদিকে বলা হচ্ছে, আমাকে কেউ জানে না। সাধারণ মানুষের জ্ঞান এবং ঈশ্বরীয় জ্ঞানের মধ্যে এই ব্যবধানই শ্লোকটির মূল দর্শন। মানুষ জগতকে জানে, মানুষ অন্য মানুষকে জানে, মানুষ প্রকৃতিকে জানে, মানুষ বিজ্ঞান ও ইতিহাসকে জানে। কিন্তু যে সত্তা জানছে, সেই জ্ঞাতার প্রকৃত স্বরূপ কী, এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া অনেক কঠিন।

এইখানেই শ্লোকটি একটি গভীর দার্শনিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে সমস্ত কিছুকে আমরা জানি, সেগুলো সাধারণত আমাদের কাছে জ্ঞেয়। কিন্তু জ্ঞাতাকে কি একইভাবে একটি জ্ঞেয় বস্তুর মতো জানা যায়। আমি যদি একটি গাছকে দেখি, গাছটি আমার কাছে জ্ঞেয় এবং আমি জ্ঞাতা। কিন্তু যদি আমি নিজেকেই জানার চেষ্টা করি, তখন প্রশ্ন ওঠে, যে আমি জানছি, সেই আমিকে কে জানছে। এই প্রশ্ন থেকেই ভারতীয় দর্শনে জ্ঞাতা, জ্ঞান এবং জ্ঞেয়ের গভীর অনুসন্ধান শুরু হয়।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে এই শ্লোকের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পরম সত্য বা ব্রহ্মকে সাধারণ কোনো বস্তুর মতো জানা যায় না, কারণ ব্রহ্মই জ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি এবং চৈতন্যের স্বরূপ। কোনো বস্তুকে জানার জন্য জ্ঞাতা ও জ্ঞেয়ের মধ্যে একটি পার্থক্য থাকে। কিন্তু আত্মা বা পরম চৈতন্যকে যদি জ্ঞেয় বস্তু হিসেবে ধরতে চাই, তাহলে সেই পার্থক্যটি আর আগের মতো থাকে না। তাই আত্মজ্ঞান কেবল কোনো নতুন তথ্য অর্জন নয়, বরং নিজের প্রকৃত স্বরূপের উপলব্ধি।

বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনের আলোকে এই শ্লোককে দেখলে ঈশ্বরকে সর্বজ্ঞ, সর্বনিয়ন্তা এবং সমস্ত জীবের অন্তর্যামী হিসেবে উপলব্ধি করা যায়। জীব ঈশ্বরকে জানতে পারে, তাঁকে ভালোবাসতে পারে এবং তাঁর কৃপায় ঈশ্বরের সত্য উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু সীমাবদ্ধ জীব নিজের সামর্থ্যে ঈশ্বরের অসীম স্বরূপকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারে না। দ্বৈত দর্শনে ঈশ্বর ও জীবের পার্থক্য আরও স্পষ্ট। ঈশ্বর সর্বজ্ঞ ও স্বাধীন, আর জীব সীমিত জ্ঞানের অধিকারী ও ঈশ্বরের ওপর নির্ভরশীল। তাই ঈশ্বর জীবকে সম্পূর্ণভাবে জানেন, কিন্তু জীব ঈশ্বরের অসীমতাকে সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করতে পারে না।

এই শ্লোকের মধ্যে সময় সম্পর্কেও এক গভীর দর্শন রয়েছে। মানুষ সময়ের মধ্যে বাস করে। তার কাছে গতকাল, আজ এবং আগামীকাল আলাদা। অতীত তার স্মৃতি, বর্তমান তার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ তার অনুমান। কিন্তু পরম জ্ঞানের দৃষ্টিতে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ একই সর্বব্যাপী জ্ঞানের মধ্যে অবস্থিত। এই কারণে ঈশ্বরকে কেবল সময়ের প্রবাহে অবস্থানকারী কোনো সত্তা হিসেবে দেখলে শ্লোকটির গভীরতা ধরা যায় না। বরং এখানে ঈশ্বরকে এমন এক পরম জ্ঞাতা হিসেবে উপলব্ধি করা হয়েছে যার জ্ঞানের পরিসর সময়ের তিন অবস্থাকেই ধারণ করে।

মানুষের জীবনের দিকে তাকালেও এই শ্লোকটির গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায়। মানুষ অতীতের ভুল নিয়ে অনুশোচনা করে, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয় এবং বর্তমানকে অনেক সময় সেই স্মৃতি ও আশঙ্কার মধ্যে হারিয়ে ফেলে। কেউ অতীতের একটি ব্যর্থতাকে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় মনে করে, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে এত ভয় পায় যে বর্তমানের সম্ভাবনাকে দেখতে পায় না। এই শ্লোক আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের দৃষ্টি সীমিত। আমরা পুরো জীবনের সম্পূর্ণ পরিণতি দেখতে পাই না। তাই বিনয়, সচেতনতা এবং বিশ্বাস মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

একটি চলচ্চিত্রের উপমা দিয়ে বিষয়টি সহজে বোঝা যায়। চলচ্চিত্রের একটি চরিত্র যখন গল্পের মধ্যে থাকে, তখন সে কেবল নিজের বর্তমান দৃশ্যটিই অনুভব করে। তার কাছে পরের দৃশ্য অজানা এবং আগের দৃশ্য কেবল স্মৃতি। কিন্তু দর্শক পুরো গল্পটি দেখতে পারে। মানুষের অবস্থাও অনেকটা সেই চরিত্রের মতো। আমরা জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশের মধ্যে অবস্থান করে সিদ্ধান্ত নিই, পরিকল্পনা করি এবং ভবিষ্যৎ অনুমান করি। কিন্তু গীতার দৃষ্টিতে পরম জ্ঞান এমন এক বিস্তৃত অবস্থান থেকে সমস্ত অস্তিত্বকে জানে, যেখানে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ অজ্ঞাত নয়।

তবে “আমাকে কেউ জানে না” কথাটিকে এমনভাবে বোঝা উচিত নয় যে ঈশ্বরকে কখনোই উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। গীতার বৃহত্তর শিক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে এর গভীর অর্থ হলো, সীমাবদ্ধ মানববুদ্ধি নিজের শক্তিতে পরম অসীমতাকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারে না। ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা সম্ভব, আত্মসত্যকে উপলব্ধি করা সম্ভব, কিন্তু অসীমকে সীমিত ধারণার মধ্যে সম্পূর্ণ বন্দী করা সম্ভব নয়। সমুদ্রকে একটি পাত্রে তুলে আনা যায় না, যদিও সেই পাত্রে সমুদ্রের জল স্পর্শ করা সম্ভব। একইভাবে মানুষের হৃদয় ও চেতনা পরম সত্যের উপলব্ধি লাভ করতে পারে, কিন্তু পরম সত্যকে একটি সীমিত ধারণার মধ্যে সম্পূর্ণ আবদ্ধ করতে পারে না।

সাহিত্যিক এবং প্রতীকী দৃষ্টিতেও শ্লোকটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। অতীত এখানে স্মৃতির প্রতীক, বর্তমান সচেতনতার প্রতীক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতীক। সমস্ত ভূত বা জীবসত্তা পরিবর্তনশীল জীবনের প্রতীক। আর কৃষ্ণের সর্বজ্ঞতা সেই চৈতন্যের প্রতীক যা পরিবর্তনের মধ্যেও পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকে। মানুষের মন যেখানে কখনো অতীতে ফিরে যায় এবং কখনো ভবিষ্যতের দিকে ছুটে যায়, সেখানে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি মানুষকে এমন এক চৈতন্যের সন্ধান দেয় যা এই সমস্ত পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষ করতে পারে।

এই শ্লোক আধুনিক মানুষের জন্যও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। আজ মানুষ অসংখ্য তথ্যের অধিকারী। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জ্ঞানের পরিধি অভূতপূর্বভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু তথ্যের পরিমাণ যতই বাড়ুক, মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক প্রশ্নগুলো থেকে যায়। আমি কে, চেতনা কী, জীবনের উদ্দেশ্য কী, মৃত্যুর অর্থ কী এবং পরম সত্য কী, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কেবল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া যায় না। তাই এই শ্লোক আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে তথ্যের জ্ঞান এবং আত্মজ্ঞানের মধ্যে গভীর পার্থক্য রয়েছে।

সবশেষে বলা যায়, “বেদাহং সমতীতানি বর্তমানানি চার্জুন। ভবিষ্যাণি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন” কেবল ঈশ্বরের সর্বজ্ঞতার ঘোষণা নয়। এটি মানুষের জ্ঞানের সীমা উপলব্ধি করার শিক্ষা, সময়ের প্রকৃতি বোঝার শিক্ষা এবং পরম চৈতন্যের অসীমতার সামনে বিনয়ী হওয়ার আহ্বান। মানুষ অতীতকে স্মরণ করে, বর্তমানকে অনুভব করে এবং ভবিষ্যৎকে অনুমান করে। কিন্তু পরম জ্ঞানের দৃষ্টিতে এই তিন কালই এক বৃহত্তর সত্যের মধ্যে অবস্থিত। যে চেতনা সমস্ত পরিবর্তনশীল সত্তাকে জানে, তাকে কোনো সীমিত ধারণার মধ্যে সম্পূর্ণ আবদ্ধ করা যায় না। তাই এই শ্লোকের অন্তর্নিহিত আহ্বান হলো জ্ঞানের অহংকার থেকে জ্ঞানের বিনয়ের দিকে, বাহ্যিক তথ্য থেকে আত্মঅনুসন্ধানের দিকে এবং সীমিত দৃষ্টির অন্ধকার থেকে পরম সত্যের উপলব্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়া। এর গভীরতম বাণী যেন এই যে, আমরা জগতকে যতই জানি না কেন, সত্যিকারের জ্ঞান তখনই শুরু হয় যখন আমরা উপলব্ধি করি যে জ্ঞানেরও একটি সীমা আছে এবং সেই সীমার ওপারেই রয়েছে অনন্ত চৈতন্যের রহস্য।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 16, 2026 August 16, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি