সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

ভগবদ্গীতা ৭.২৯ | জরা-মরণ থেকে মুক্তি, ব্রহ্মজ্ঞান ও অধ্যাত্মতত্ত্বের উপলব্ধি

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
তারিখে পোস্ট করা হয়েছে
জরামরণমোক্ষায় মামাশ্রিত্য যতন্তি যে। তে ব্রক্ষ তদ্ বিদুঃ কৃৎস্নমধ্যাত্নং কর্ম চাখিলম্।।২৯।।
জরামরণমোক্ষায় মামাশ্রিত্য যতন্তি যে। 
তে ব্রক্ষ তদ্ বিদুঃ কৃৎস্নমধ্যাত্নং কর্ম চাখিলম্।।২৯।।

অনুবাদঃ যে সমস্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি জরা ও মৃত্যু থেকে মুক্তি লাভের জন্য আমাকে আশ্রয় করে যত্ন করেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে ব্রক্ষভূত, কেন না তাঁরা অধ্যাত্মতত্ত্ব ও কর্মতত্ত্ব সব কিছু সম্পূর্ণরূপে অবগত।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তম অধ্যায়ের ঊনত্রিশতম শ্লোকটি মানুষের অস্তিত্বের এক গভীরতম প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, যারা জরা ও মরণ থেকে মুক্তিলাভের উদ্দেশ্যে তাঁকে আশ্রয় করে সাধনা করেন, তারা ব্রহ্মকে জানেন, সমগ্র অধ্যাত্মকে উপলব্ধি করেন এবং কর্মের সম্পূর্ণ তত্ত্বও জানতে পারেন। শ্লোকটি তাই কেবল মৃত্যুর পর মুক্তি লাভের কথা বলে না। এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো মানুষের অনিত্য অস্তিত্বের মধ্য থেকে নিত্য সত্যের সন্ধান করা এবং নিজের প্রকৃত স্বরূপকে উপলব্ধি করা।

শ্লোকটির সূচনা হয়েছে জরা ও মরণ এই দুটি গভীর শব্দ দিয়ে। জরা শব্দের মধ্যে রয়েছে জীর্ণতা, ক্ষয় এবং বার্ধক্যের ধারণা। জন্মের পর শরীর ক্রমশ পরিবর্তিত হয় এবং একসময় তার শক্তি ও সৌন্দর্য ক্ষয় হতে থাকে। মরণ সেই পরিবর্তনশীলতার চূড়ান্ত প্রকাশ। ভারতীয় দর্শনের দৃষ্টিতে জরা ও মরণ কেবল জীবনের দুটি শারীরিক ঘটনা নয়, এগুলো সমগ্র জাগতিক অস্তিত্বের অনিত্যতার প্রতীক। যা জন্মগ্রহণ করেছে তা পরিবর্তিত হবে এবং যা পরিবর্তিত হয় তা একদিন বিলুপ্ত হবে। মানুষ যতই সম্পদ, সৌন্দর্য, ক্ষমতা বা সামাজিক পরিচয় অর্জন করুক না কেন, দেহের এই অনিবার্য নিয়ম থেকে কেউ মুক্ত নয়।

এই অনিত্যতার উপলব্ধির পর আসে মোক্ষের ধারণা। মোক্ষ শব্দটি সংস্কৃত মুচ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর মূল অর্থ হলো বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া। কিন্তু গীতার মোক্ষ কেবল শারীরিক মৃত্যুর পরে কোনো দূরবর্তী জগতে পৌঁছানোর ধারণা নয়। মোক্ষ হলো অজ্ঞান, অহংকার, আসক্তি, কামনা এবং কর্মফলের বন্ধন অতিক্রম করে নিজের প্রকৃত সত্তাকে উপলব্ধি করা। মানুষ যখন নিজেকে কেবল শরীর, মন, পরিচয় এবং পার্থিব সাফল্যের সমষ্টি বলে মনে করে, তখন তার মধ্যে জন্ম, বার্ধক্য ও মৃত্যুর ভয় প্রবল হয়। কিন্তু যখন সে উপলব্ধি করতে শুরু করে যে পরিবর্তনশীল দেহের গভীরে একটি চৈতন্যসত্তা রয়েছে, তখন তার অস্তিত্ববোধের ভিতরেই এক নতুন স্বাধীনতার সূচনা হয়।

এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণ বলেন মামাশ্রিত্য। এর অর্থ আমাকে আশ্রয় করে। আশ্রয় শব্দের মধ্যে শুধু নির্ভরতার ধারণা নেই। এর মধ্যে রয়েছে শরণ গ্রহণ, বিশ্বাস, আত্মসমর্পণ এবং নিজের সীমাবদ্ধ অহংকারের ঊর্ধ্বে কোনো পরম সত্যকে গ্রহণ করা। গীতার প্রেক্ষাপটে কৃষ্ণের আমি শব্দটি কেবল একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তির পরিচয় বহন করে না। এটি পরমেশ্বর এবং পরম সত্যের দিকেও নির্দেশ করে। তাই মামাশ্রিত্য অর্থ হলো পরম সত্যকে জীবনের চূড়ান্ত আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করা। মানুষ যখন নিজের সীমিত শক্তির ওপর একমাত্র নির্ভরতা ছেড়ে সত্য, ঈশ্বর ও আত্মস্বরূপের দিকে ফিরে যায়, তখন তার আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু হয়।

তবে ঈশ্বরের আশ্রয় গ্রহণ মানে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকা নয়। শ্লোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ব্যবহৃত হয়েছে যতন্তি শব্দটি। এর অর্থ তারা চেষ্টা করে, সাধনা করে এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা চালায়। অর্থাৎ মুক্তির পথে বিশ্বাস যেমন প্রয়োজন, তেমনি সাধনাও অপরিহার্য। শুধু ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করলেই মানুষের অন্তরের অজ্ঞান দূর হয় না। আত্মসংযম, জ্ঞানচর্চা, ধ্যান, ভক্তি, নৈতিক জীবন এবং নিষ্কাম কর্মের মাধ্যমে মানুষকে নিজের চেতনার পরিবর্তন ঘটাতে হয়। শরণাগতি এবং সাধনা তাই পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। প্রকৃত আশ্রয় মানুষকে কর্মবিমুখ করে না, বরং আরও সচেতন ও সত্যনিষ্ঠ করে তোলে।

এরপর শ্লোকে বলা হয়েছে তে ব্রহ্ম তদ্বিদুঃ। যারা এইভাবে সাধনা করেন তারা ব্রহ্মকে জানেন। ব্রহ্ম শব্দটি বৃহ্ ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত, যার মধ্যে বৃদ্ধি, বিস্তার এবং মহত্ত্বের ধারণা রয়েছে। দর্শনের ভাষায় ব্রহ্ম হলো সেই সীমাহীন পরম বাস্তবতা যা সমস্ত অস্তিত্বের গভীরতম ভিত্তি। এখানে ব্রহ্মকে জানা মানে কেবল কোনো ধর্মীয় মতবাদ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা নয়। এটি এমন এক প্রত্যক্ষ উপলব্ধি যেখানে মানুষ অস্তিত্বের অন্তর্নিহিত ঐক্য ও পরম সত্যকে নিজের চেতনার মধ্যে অনুভব করতে পারে। এই জ্ঞান বইয়ের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ এবং জীবনবোধকে পরিবর্তন করে।

শ্লোকের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো অধ্যাত্ম। অধ্যাত্ম অর্থ আত্মাকে কেন্দ্র করে যে তত্ত্ব, জ্ঞান বা উপলব্ধি। মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো আমি কে। আমি কি কেবল এই শরীর, আমার চিন্তা, আমার স্মৃতি, আমার পেশা এবং আমার সামাজিক পরিচয়। নাকি এসবের গভীরে এমন কোনো চৈতন্যসত্তা রয়েছে যা এই সমস্ত পরিবর্তনের সাক্ষী। অধ্যাত্মের অনুসন্ধান মূলত এই প্রশ্নের অনুসন্ধান। বাহ্যিক জগতকে জানার পাশাপাশি নিজের অন্তর্জগতকে জানা এবং নিজের প্রকৃত স্বরূপের সন্ধান করাই অধ্যাত্মের গভীর উদ্দেশ্য।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে কৃৎস্নমধ্যাত্মম্ অর্থাৎ সমগ্র অধ্যাত্মের কথা বলেছেন। কৃৎস্ন শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ বা সমগ্র। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে আত্মতত্ত্বের জ্ঞান আংশিক কোনো উপলব্ধি নয়। মানুষকে নিজের অস্তিত্বের গভীরে প্রবেশ করতে হবে এবং দেহ, মন, বুদ্ধি, অহংকার ও চৈতন্যের পারস্পরিক সম্পর্ককে বুঝতে হবে। নিজের প্রকৃত পরিচয় উপলব্ধি না করলে বাহ্যিক জ্ঞান যতই বিস্তৃত হোক, মানুষের অস্তিত্বগত প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধান হয় না।

এরপর এসেছে কর্ম শব্দটি। কর্ম এসেছে কৃ ধাতু থেকে, যার অর্থ করা বা সম্পাদন করা। সাধারণ অর্থে কর্ম হলো কাজ। কিন্তু গীতার দর্শনে কর্মের অর্থ অনেক বিস্তৃত। মানুষের চিন্তা, বাক্য এবং শারীরিক কাজ সবই কর্মের অংশ হতে পারে। কর্মের সঙ্গে উদ্দেশ্য, আসক্তি এবং ফলের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন নিজের কাজকে কেবল ব্যক্তিগত লাভের জন্য করে এবং ফলের সঙ্গে নিজের পরিচয়কে যুক্ত করে, তখন কর্ম তার জন্য বন্ধনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু যখন কর্তব্যবোধ, নিষ্কামতা এবং ঈশ্বরনিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা হয়, তখন সেই কর্মই আত্মশুদ্ধির পথ হয়ে উঠতে পারে।

কর্ম চাখিলম্ অর্থাৎ সমগ্র কর্মতত্ত্ব জানার কথা শ্লোকের শেষাংশে বলা হয়েছে। এখানে কর্মকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি। ব্রহ্মজ্ঞান, আত্মজ্ঞান এবং কর্মজ্ঞান পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। মানুষ যখন পরম সত্যকে উপলব্ধি করে এবং নিজের প্রকৃত সত্তাকে চিনতে পারে, তখন তার কর্মের প্রকৃতিও পরিবর্তিত হয়। সে তখন কেবল নিজের জন্য কাজ করে না। তার কর্ম কর্তব্য, সেবা, ন্যায় এবং বৃহত্তর কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওঠে। ফলে কর্ম তাকে আরও গভীর বন্ধনে আবদ্ধ না করে মুক্তির পথে এগিয়ে দিতে পারে।

এই শ্লোকের দার্শনিক তাৎপর্য অদ্বৈত বেদান্তের আলোতেও অত্যন্ত গভীর। অদ্বৈত দর্শনের মতে পরম সত্য ব্রহ্ম এবং আত্মার প্রকৃত স্বরূপের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো বিভেদ নেই। মানুষের বন্ধনের মূল কারণ হলো অজ্ঞতা এবং দেহের সঙ্গে নিজের প্রকৃত পরিচয়কে এক করে ফেলা। মানুষ যখন বলে আমি দেহ, তখন দেহের জন্ম, বার্ধক্য এবং মৃত্যুকে নিজের অস্তিত্বের চূড়ান্ত সত্য বলে মনে হয়। কিন্তু আত্মজ্ঞান উদিত হলে সে বুঝতে পারে যে দেহ পরিবর্তনশীল হলেও আত্মস্বরূপ চৈতন্য সেই পরিবর্তনের সাক্ষী। এই উপলব্ধিই মৃত্যুভয়ের গভীরতম শিকড়কে স্পর্শ করে।

ভক্তির দৃষ্টিতে আবার মামাশ্রিত্য শব্দটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভক্তের কাছে মুক্তির পথ কেবল কঠিন বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান নয়। এটি প্রেম, বিশ্বাস এবং শরণাগতির পথ। মানুষ যখন নিজের অহংকারকে নরম করে ঈশ্বরের ওপর আস্থা স্থাপন করে, তখন তার অন্তরে এক ধরনের গভীর শান্তি জন্মায়। কিন্তু সেই ভক্তিও নিষ্ক্রিয় নয়। যতন্তি শব্দটি মনে করিয়ে দেয় যে সত্যিকারের ভক্তি মানুষের জীবনকে পরিবর্তন করে এবং তাকে সাধনা ও নৈতিক কর্মের পথে নিয়ে যায়।

মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতেও শ্লোকটির গভীর তাৎপর্য রয়েছে। মানুষের ভেতরের অনেক ভয় আসলে পরিবর্তন ও বিলুপ্তির ভয়। আমরা যৌবন ধরে রাখতে চাই, প্রিয়জনকে ধরে রাখতে চাই, সম্পদ ও পরিচয় ধরে রাখতে চাই এবং নিজের অস্তিত্বকে স্থায়ী করতে চাই। কিন্তু সময় আমাদের সবকিছুর পরিবর্তন ঘটায়। ফলে অনিত্য জগতে স্থায়িত্বের সন্ধান করতে গিয়ে মানুষ ক্রমাগত উদ্বেগের মধ্যে পড়ে। গীতার শিক্ষা এই উদ্বেগকে অস্বীকার করে না। বরং অনিত্যতার সত্যকে স্বীকার করে তার গভীরে নিত্য সত্যের অনুসন্ধান করতে বলে।

সাহিত্যিক ও প্রতীকী অর্থেও জরা ও মরণ অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতীক। জরা শুধু শরীরের বার্ধক্য নয়, পুরোনো অহংকার, পুরোনো ধারণা এবং পুরোনো মানসিকতার ক্ষয়কেও বোঝাতে পারে। মরণ কখনো কখনো পুরোনো আত্মপরিচয়ের বিলুপ্তির প্রতীক। একজন মানুষ যখন নিজের সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা ত্যাগ করে এবং নতুন চেতনার জন্ম দেয়, তখন তার ভেতরে এক অর্থে পুরোনো সত্তার মৃত্যু ঘটে। সেই মৃত্যুর মধ্য দিয়েই নতুন উপলব্ধির জন্ম হয়। এই অর্থে মোক্ষ হলো কোনো বাহ্যিক স্থান অর্জন নয়, বরং চেতনার একটি গভীর মুক্ত অবস্থা।

বাস্তব জীবনের একটি সহজ উদাহরণ এই বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে। একজন মানুষ যদি তার সৌন্দর্য, যৌবন, সম্পদ এবং সামাজিক মর্যাদাকেই নিজের সম্পূর্ণ পরিচয় মনে করে, তাহলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ভয় বাড়তে পারে। শরীর বদলালে তার আত্মবিশ্বাসও নষ্ট হতে পারে। কিন্তু সে যদি ধীরে ধীরে উপলব্ধি করে যে মানুষের মূল্য কেবল বাহ্যিক রূপ বা সামাজিক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নয়, তাহলে তার জীবনবোধ বদলাতে শুরু করে। সে নিজের অন্তরের জ্ঞান, চরিত্র, চেতনা এবং সত্যের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে শেখে। এই পরিবর্তনই জরা ও মরণের ভেতর থেকে মোক্ষের দিকে যাত্রার একটি মানবিক প্রতিচ্ছবি।

এই শ্লোক তাই মূলত তিনটি মৌলিক প্রশ্নের দিকে মানুষকে নিয়ে যায়। পরম সত্য কী, আমি কে এবং আমি কীভাবে কাজ করব। ব্রহ্ম আমাদের অস্তিত্বের চূড়ান্ত সত্যের দিকে নির্দেশ করে। অধ্যাত্ম আমাদের নিজের প্রকৃত সত্তার দিকে ফিরিয়ে দেয়। কর্ম আমাদের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আমাদের কাজের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পরিণতি বুঝতে সাহায্য করে। এই তিনটি প্রশ্নের সমন্বিত উপলব্ধিই গীতার আধ্যাত্মিক দর্শনকে পূর্ণতা দেয়।

সবশেষে বলা যায়, জরামরণমোক্ষায় মামাশ্রিত্য যতন্তি যে এই অংশটি মানুষের জীবনের অনিত্যতা থেকে চিরন্তন সত্যের দিকে যাত্রার এক গভীর আহ্বান। জরা আমাদের ক্ষয়ের কথা মনে করায়। মরণ আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করায়। মোক্ষ সেই সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে ওঠার আকাঙ্ক্ষা জাগায়। মামাশ্রিত্য আমাদের পরম আশ্রয়ের কথা শেখায়। যতন্তি আমাদের সাধনার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দেয়। আর ব্রহ্ম, অধ্যাত্ম ও কর্ম আমাদের অস্তিত্বের তিনটি গভীর স্তরকে উন্মোচিত করে। এই শ্লোকের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো মৃত্যুকে অস্বীকার করে অমৃতত্বের সন্ধান নয়, বরং মৃত্যুর অনিবার্যতাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে নিজের নিত্যস্বরূপের সন্ধান করা। মানুষের প্রকৃত মুক্তি তখনই সম্ভব, যখন সে পরিবর্তনশীল দেহের মধ্যে থেকেও অপরিবর্তনীয় সত্যকে খুঁজে পায়, কর্মের মধ্যে থেকেও আসক্তির বন্ধন অতিক্রম করে এবং নিজের সীমিত অহংকারের পরিবর্তে পরম সত্যকে জীবনের চূড়ান্ত আশ্রয় হিসেবে উপলব্ধি করে।

বাজারে সেরা কোন প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে আপনার ব্যবসা অনলাইন করুন।

30 দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি

আপনার কম অনলাইন বিক্রয় হার বিদায় বলুন!

Heron Kumar Sikder
Written by Heron Kumar Sikder
এ প্রকাশিত: August 16, 2026 August 16, 2026

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি

শিরোনাম সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি